ঈশপের জোঁকের গল্পটা তো আমরা সবাই জানি! জোঁক-ভর্তি নদী সাঁতরে পার হতে হবে। একজন যখন পার হচ্ছে, পাড়ে দাঁড়ানো লোকজনেরা এই বেকুবকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। কারণ গা-ভর্তি জোঁক অথচ সে একটাকেও ফেলার চেষ্টা করছে না। নিদেনপক্ষে মুখে একটা 'হুশ কুত্তা' বা 'হুশ জোঁক' শব্দও উচ্চারণ করছে না!
সবার হইচই যখন আকাশে উঠল তখন সে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, লাভ কী! একটা ফেললে আরেকটা সেই জায়গায় আসবে—নতুন করে রক্ত খাওয়া শুরু করবে! তারচেয়ে যেগুলো ঝুলছে, থাকুক—রক্ত খেয়ে এদের পেট ঢোল হয়ে আছে। আর রক্ত খাওয়ার জায়গা নাই...! আমাদের দেশে ঈশপ এসেছিলেন কিনা এ তথ্য নাই কিন্তু তাঁর জোঁকগুলো দান করে গেছেন!
রাড্ডা হাসপাতাল নিয়ে যেটা হলো সেটা এখনকার দেশের একটা চিত্র মাত্র!
পুলিশের এটা বলার কোন সুযোগ নেই যে তারা জানে না!
হেভি এক্সেভেটর লোকবল নিয়ে যখন গুড়িয়ে দিতে আসছে তখন সামনে পুলিশের গাড়ি দেখা গেছে যেন পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!ওখানকার ওসির বক্তব্য খুবই মাই ডিয়ার টাইপের ছিল!
'বৈধ কাগজপত্র-থাকা লোকজনেরা জায়গা বুঝে নিচ্ছে'। এই অপদার্থকে কেউ জিজ্ঞেস করেনি, বৈধ ভাবে রাতের বেলা কে-কোথায় জায়গা দখল নেয়! এই ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার কোন শাস্তি না, তার কাঁধের বল্টুগুলো (তকমা) খুলে ফেলা প্রয়োজন!
আর ওই এলাকার সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলছেন:
হানিফ (সন্ত্রাসী) আমার মামাশ্বশুরের ছেলে আমার নামে প্রভাব খাটান কিনা জানি না।
বিভিন্ন প্রকারে ঘুরেফিরে এই সংসদ সদস্যের নাম উঠে এসেছে! এর 'ছেনেহের হাত' ব্যতীত এই কর্ম সাধন সম্ভব না!
পরদিন ছিল শিশুদের টিকা দেওয়ার দিন। কী অবলীলায়ই-না এরা টিকাগুলো নষ্ট করেছে!
অদম্য এঁরা! তারপরও থেমে থাকেনি টিকাদান কর্মসূচি!
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকে কেবল বহিষ্কার করতে হবে এমনই না জড়িত প্রমাণ হলে গ্রেফতার করতে হবে!
এরা সব তছনছ করেছে। হারিয়ে গেছে রেজিষ্টার খাতা। সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল শিশু-রোগীদের নাম।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গারির কাছ থেকে ১০ টাকার কাগজ ১০ হাজার টাকায় কিনতে চাইছে!
...
শেখ হাসিনার সময় যেমন গুম [১] শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল তেমনি এখন দখল-চাঁদাবাজ, প্রায় শিল্পের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আসলে প্রকৃতি শুন্যস্থান পছন্দ করে না!
কিছু নমুনা:
মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হবে!
চাঁদা না-দেওয়ায় ঘাসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে! সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা গেছে!
একজন সিনিয়র সিটিজনের প্রাইভেট পার্ট চেপে ধরার যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তা অকল্পনীয়!
যুবদল নেতা বলছে, ইউএনও-কে নগ্ন করে পেটাবে:
কী কনফিডেন্ট! বিএনপির এক পান্ডার শখ জেগেছে সে আস্ত মানুষকে পোড়াবে।
তাও আবার বলছে কল রেকর্ড করে রাখ!
একজন বাপকে ব্যানার টাঙিয়ে তাঁর চোখের সামনে ধর্ষিতা মেয়ের জন্য বিচার চাইতে হয়!
এই এমপি সাহেবের কথা শুনে এক চোখে জল অন্য চোখে পানি চলে আসল।
বাদ যাচ্ছে না রোগির এম্বুল্যান্সও! একটা জায়গা এখনও বাকী আছে, কবরস্থান!
চাঁদাবাজির কারণে লোকজন স্ট্রোক করে মারাও যাচ্ছে!
শিল্পপতি, হকার কেউ বাদ নাই!
সালমান মুক্তাদিরকে বিভিন্ন কারণে অনেকে অপছন্দ করতে পারেন, এই কাতারে আমি নিজেও কিন্তু সে ভিন্ন আলোচনা।
কিন্তু তার প্রোপার্টি ভাংচুর হয়েছে এটা তো সত্য। এখন সে জিডি করেছে কি করেনি এটা অহেতুক আলাপ! এই দেশের কোথাও ক্রাইম হবে, পুলিশ দেখবে। কেউ ইচ্ছা করে ক্রাইম-সিন সাজালে সেটাও পুলিশ খুঁজে বের করবে।
তার স্টুডিও ভাংচুরের পর আগ বাড়িয়ে বিএনপির নামে যেটা বলেছে এটা অন্যায় সেটা নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা হতে পারত কিন্তু রাষ্ট্র মনে হয় ঝাপিয়ে পড়েছে। আমরা পূর্বে এমনটা দেখেছি, লিমনের এক পা'র বিরুদ্ধে রাষ্ট্র গোটা দেশকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল [২]!
রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাহেদ আলম নামের এই লোক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলছে, বেশ! আইনে কুলালে মামলা করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু এই লোক বলছে, হান্ড্রেড বিলিয়ন ডলারের মামলা করতে। এই মাটন-হেডের কী জানা আছে হান্ড্রেড বিলিয়নে কত টাকা হয়—আমাদের গোটা দেশের বাজেট কত বিলিয়ন ডলার?
সূত্র:
১.
গুম...: https://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%AE?m=1
No comments:
Post a Comment