Search

Thursday, May 7, 2026

অসভ্য, ইতর, দানব এক রাষ্ট্র—আমেরিকা!

১. সেকাল:

আদিবাসী নিধন, জমি দখল ১৪৯২-১৯২৪:  বর্তমান আমেরিকান মহাদেশে, ১৪৯২ সালে ইউরোপীয়দের আসার আগে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি। ১৯০০ সালে মার্কিন আদমশুমারিতে টেকে মাত্র ২,৩৭,১৯৬ জন! এর জন্য অবশ্য অন্য কারণও ছিল। ইউরোপীয়দের আনা ইনফুয়েঞ্জা, গুটি বসন্ত, হাম, দুর্ভিক্ষ...!

অভিযোগ, জীবাণু যুদ্ধ ১৭৬৩: ব্রিটিশ কমান্ডার জেফরি অ্যামহার্স্টের নির্দেশে Fort Pitt থেকে গুটি বসন্ত হাসপাতালের ২টা কম্বল আর ১টা রুমাল আদিবাসীদের উপহার দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল মহামারি ছড়ানো। Captain Ecuyer এর ডায়েরিতে লেখা আছে:

“I hope it will have the desired effect”।

ফলে ওহাইও উপত্যকায় লেনাপে-শনি গোত্রে গুটি বসন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৩৭ সালে মিসৌরি নদীতে একই কায়দায় ম্যান্ডান গোত্রের ৯৯% মানুষ মেরে ফেলা হয়।

Indian Removal Act ১৮৩০: প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন আইন পাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেরোকি, চিকাসো, চক্টো, ক্রিক, সেমিনোল, এই ৫ জাতিকে মিসিসিপি নদীর পূর্ব থেকে জোর করে ওকলাহোমায় সরানো হয়।  

Trail of Tears ১৮৩৮-১৮৩৯: ৪৬,০০০ আদিবাসীকে ৫,০৪৫ মাইল বিভিন্ন রূটে হাঁটানো হয়। চেরোকিদের একেক দল হাঁটে ৮০০ থেকে ১২০০ মাইল! খাবার নেই, কম্বল নেই, অসহনীয় শীত! চারদিকে শুধু পানি! পথের ৪টা দলের ৩১০৩ জন রওয়ানা দেয় আর পৌঁছায় ২২৭৩। ৮৩০ জন নৌকায় শীতে, রোগে মারা যায়। এভাবে ৫ জাতি মিলে পথে মারা যায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ মানুষ। চেরোকি জাতির একাই মরে ৪,০০০।

California Genocide ১৮৪৬-১৮৭৩: সোনার খনি আবিষ্কারের পর কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার ঘোষণা দেয়, আদিবাসীর মাথার স্কাল্প আনলে ৫ ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে। ১৮৫০-১৮৬০ এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার আদিবাসী ১,৫০,০০০ থেকে ৩০,০০০-এ নামে।  

Wounded Knee Massacre ২৯ ডিসেম্বর ১৮৯০: দক্ষিণ ডাকোটায় মার্কিন ৭ম অশ্বারোহী বাহিনী লাকোটা শিবির ঘিরে ফেলে। প্রায় ৩০০ নিরস্ত্র লাকোটা নারী-পুরুষ-শিশুকে Hotchkiss কামান দিয়ে হত্যা করা হয়। মেডেল অফ অনার পায় ২০ জন সৈন্য। 

Richard Henry Pratt ১৮৭৯ সালে Carlisle Indian School খোলে। ৬০ হাজারের বেশি আদিবাসী শিশুকে পরিবার থেকে কেড়ে ৪০০-এর অধিক স্কুলে নেওয়া হয়। চুল কাটা, নাম বদল, মারধর এমনকি  ওদের নিজস্ব ভাষাও নিষিদ্ধ করা হয়। দিনে ৮ ঘন্টা কাজ করানো ততো আর পালালে শাস্তি। যক্ষ্মা-নিউমোনিয়ায় হাজার-হাজার শিশু মারা যায়।
US Interior ২০২২ রিপোর্ট: ৫৩টা স্কুলে ৫০০-এর অধিক কবর পাওয়া যায়। Canada তে ৬,০০০-এর বেশী শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল আদিবাসী পরিচয় মুছে ফেলা। এই ছবি Carlisle School ১৮৮৪ সালের  ইউনিফর্ম পরা শত-শত শিশু, যাদের বাবা-মা জানতও না তারা বাঁচবে, না মরবে!

একাল: ১৯২৪ সালে নাগরিকত্ব পায় আদিবাসীরা। কিন্তু আজও রিজার্ভেশনের ৩০% বাড়িতে পানি নাই। পাইন রিজ রিজার্ভেশনে বেকারত্ব ৮০%, আত্মহত্যার হার জাতীয় গড়ের ৪ গুণ।

২. সেকাল: দাসপ্রথা, জিম ক্রো, কারাবন্দি শ্রম ১৬১৯-২০২৪ :

১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়ায় প্রথম আফ্রিকান দাস আমদানী করা হয়। ১৮০৮ পর্যন্ত ৪ লাখের বেশী আফ্রিকানকে জোরপূর্বক ধরে আনা হয়, জাহাজে গাদাগাদি করে। ১৫-২০% পথেই মারা যায়!  

প্ল্যান্টেশন ইকোনমি: ১৮৬০ সালে আমেরিকার মোট সম্পদের ৬০% ছিল দক্ষিণের ৪০ লাখ দাস। তুলা রপ্তানি আমেরিকার মোট রপ্তানির ৫৯%। ১টা তুলার গাঁট সমান ৪০০ ঘন্টা 'দাস শ্রম'।  

নির্যাতনের যন্ত্র: Negro Castration pliers, চাবুক, iron collar, thumb screw নির্যাতনের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হত। দাস পালালে পায়ের গোড়ালি কেটে ফেলা হত। পরিবার থেকে আলাদা করে নিলামে বিক্রি করা হত।  

গৃহযুদ্ধ ১৮৬১-১৮৬৫: ৬ লাখ ২০ হাজার সৈন্য মরে। ১৩তম সংশোধনী ১৮৬৫: দাসপ্রথা বাতিল, কিন্তু লেখা থাকে 'except as a punishment for crime'।  

জিম ক্রো ১৮৭৭-১৯৬৫: 'Separate but equal' আইন। আলাদা স্কুল, হাসপাতাল, বাস, পানির কল, কবরস্থান। ভোট দিতে গেলে পোল ট্যাক্স, লিটারেসি টেস্ট।  

লিঞ্চিং ১৮৮২-১৯৬৮: Tuskegee Institute রেকর্ড: ৪,৭৪৩ জনকে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে, পুড়িয়ে মারা হয়। শেতাঙ্গ পরিবার পিকনিক করতে আসত। ছবি তুলে পোস্টকার্ড ছাপাত 'Lynching of...'!  

Tuskegee Syphilis Study ১৯৩২-১৯৭২:

এই ছবির ডিটেইল:  

US Public Health Service এর ডাক্তার একজন কালো শেয়ারক্রপারের হাত থেকে রক্ত নিচ্ছে। পাশে মাথায় কাপড় বাঁধা মহিলা আর টুপি পরা পুরুষ দাঁড়িয়ে দেখছে। ডাক্তার হাসছে! এই ছবি ১৯৫০ এর দশকে তোলা। Macon County, Alabama। National Archives-এ সংরক্ষিত।

এদের বলা হয়েছিল, খারাপ রক্ত বা 'bad blood-এর ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হবে। আসলে ওদের মধ্যে ৩৯৯ জনের সিফিলিস ছিল। ২০১ জন ছিল কন্ট্রোল গ্রুপ, সিফিলিস নেই।  

১৯৪৭ সালে পেনিসিলিন আসে। সিফিলিসের ১০০% কার্যকর ওষুধ। কিন্তু ১৯৭২ পর্যন্ত ৪০ বছর এদের দেওয়া হয়নি! শুধু রক্ত নিত, স্পাইনাল ট্যাপ করত, দেখত মানুষ কেমন করে ধুঁকে-ধুঁকে মরে।  

লোভ দেখানো: ফ্রি খাবার, ফ্রি যাতায়াত, দাফনের খরচ দেবে বলেছিল। গরিব শেয়ারক্রপাররা রাজি হয়। Informed consent বলে কিছু ছিল না। অনেকে জানতই না যে তার সিফিলিস আছে। ২৮ জন সরাসরি সিফিলিসে এবং ১০০-এর অধিক বিভিন্ন জটিলতায় মারা যায়। ৪০ জনের বউ সংক্রমিত হয়। ১৯টা শিশু জন্মগত সিফিলিস নিয়ে জন্মায়— অন্ধ, বিকলাঙ্গ, মৃত।

১৯৭২ সালে Peter Buxtun নামে এক USPHS কর্মী Associated Press-কে জানায়। Jean Heller রিপোর্ট করে। শুরু হয় তোলপাড়। ৩ মাসের মধ্যে স্টাডি বন্ধ।

১৯৭৪ সালে আমেরিকা ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। জীবিতদের জনপ্রতি ৩৭,৫০০ ডলার। ১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউসে ৫ জন বেঁচে থাকা ভিকটিমের কাছে ক্ষমা চান। বলেন:

“The United States government did something that was wrong — deeply, profoundly, morally wrong”।

একাল: কারাবন্দি শ্রম: আমেরিকায় বিশ্বের ২৫% কয়েদি। কালো মানুষ জনসংখ্যার ১৩% কিন্তু জেলখানায় এই হার ৩৮%। California, Texas, Arizona তে কয়েদিরা ঘণ্টায় ৮ সেন্ট থেকে ১.৪৫ ডলারে কাজ করে। দমকল, ফার্নিচার, লাইসেন্স প্লেট বানায়। বছরে ১১ বিলিয়ন ডলারের শিল্প। ১৩তম সংশোধনীর ফাঁক দিয়ে দাসপ্রথা চলছে।

৩. ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯৫৫-১৯৭৫  

প্রেক্ষাপট: ফ্রান্স চলে যাওয়ার পর আমেরিকা দক্ষিণ ভিয়েতনামে কমিউনিজম ঠেকাতে যুদ্ধে নামে।  

মৃতের সংখ্যা: ভিয়েতনাম সরকারের হিসাবে ২০ লাখ বেসামরিক জনগণ এবং ১১ লাখ সৈন্য, মোট ৩১ লাখ ভিয়েতনামি মারা যায়। আমেরিকার সৈন্য মারা যায় ৫৮,২২০ জন। 

এই ম্যাপ US Air Force এর নিজস্ব ডাটা থেকে তৈরি, কালো বিন্দু মানেই একেকটা বোমা।

বোমাবর্ষণ, ১৯৬৫-১৯৭৩ আনুমানিক ১ কোটি টন (অনেক জায়গায় বলা হয়, ৭.৭ মিলিয়ন)! ভিয়েতনামে ৭৫ লাখ টন, লাওসে ২০ লাখ টন, কম্বোডিয়ায় ৫ লাখ টন বোমা ফেলা হয়। হিসাব করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোট বোমার ৩ গুণের বেশী। লাওস বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষিত দেশ, মাথাপিছু ০.৬৬ টন। ৩০% বোমা ফাটেনি! ৮ কোটি অবিস্ফোরিত বোমা এখনও মাটিতে পড়ে আছে।

১৯৭৫ থেকে প্রতি বছর শত-শত বেসামরিক মানুষ মারা যায় যার মধে ৪০% শিশু। Ho Chi Minh Trail ধ্বংসের নামে লাওস-কম্বোডিয়ার গ্রাম-জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করা হয়।

সেকাল-একাল: ১৯৭২: B-52 দিয়া কার্পেট বম্বিং। ২০২৪: MQ-9 Reaper ড্রোন দিয়ে Signature Strike। পদ্ধতি বদলেছে কিন্তু নীতি একই, আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু।

Agent Orange ১৯৬১-১৯৭১: Operation Ranch Hand। ৮ কোটি লিটার রাসায়নিক বিষ স্প্রে করা হয় জঙ্গল ধ্বংস করতে। ডাইঅক্সিন ছিল। ভিয়েতনাম রেড ক্রস মতে, ৩০ লাখ মানুষ আক্রান্ত, ১৫ লাখ জন্মগত ত্রুটি। আজও ৩য়-৪র্থ প্রজন্মের শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মায়। আমেরিকান সৈন্য ২ লাখ আক্রান্ত।  

Napalm: জেলি পেট্রোল বোমা। মানুষের গায়ে লাগলে ১,২০০ ডিগ্রি তাপে পুড়ে হাড় পর্যন্ত গলে যায়। নিক উটের ছবি 'Napalm Girl', ১৯৭২ সালে ৯ বছরের কিম ফুক নগ্ন হয়ে দৌড়াচ্ছে।

My Lai Massacre ১৬ মার্চ, ১৯৬৮: Search and Destroy+ My Lai 

এই ছবি ভিয়েতনামের লাখো গ্রামের প্রতিচ্ছবি। বন্দুকের নলের সামনে।বাবার কোলে মৃত সন্তান।

'Body Count' নীতিতে Free Fire Zone ঘোষণা করে বেসামরিক গ্রামে হামলা চালানো হত। Zippo Raid: ঘরবাড়ি পোড়ানো, ধান-কুয়া সব ধ্বংস। 

১৬ মার্চ ১৯৬৮, My Lai গ্রামে Lt. Calley এর কোম্পানি ৫০৪ জন বেসামরিক নারী-শিশু-বৃদ্ধকে হত্যা করে। নারী ধর্ষণ, শিশুকে গুলি, গর্ভবতীর পেটে বেয়নেট চার্জ। ইচ্ছাকৃত অঙ্গচ্ছেদ।
Calley নিজের হাতে এবং তার আদেশে ৫০৪ জন নিরস্ত্র বেসামরিক নারী-শিশু-বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়। Ronald Haeberle এর তোলা ছবি এবং Hugh Thompson এর হেলিকপ্টার ক্রু সাক্ষ্য দেয় Calley খাদে বাচ্চাদের গুলি করেছিল।  
পরে লেফটেন্যান্ট ক্যালি বলেছিল:
"We weren't in My Lai to kill human beings, really. We were there to kill ideology that is carried by—I don't know. Pawns. Blanks. Pieces of flesh."
—১৯৭১ সালে আদালতে।

তার বিচার ও শাস্তি!  যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছিল কিন্তু মাত্র ৩ দিন পর প্রেসিডেন্ট নিক্সন হস্তক্ষেপ করে জেল থেকে বের করে Fort Benning এ House Arrest দেন।  এরপর শুরু হয় সাজা কমানো: ২০ বছর থেকে ১০ বছর, ১০ বছর থেকে ৩.৫ বছর শাস্তি নামিয়ে আনা হয়!  
সর্বশেষ ৩.৫ বছর হাউস অ্যারেস্টের পর প্যারোলে মুক্তি।  বাকি ২৫ জন অফিসার/ সৈন্য, সবার বিরুদ্ধে চার্জ ড্রপ বা খালাস। 

Operation Phoenix ১৯৬৭-১৯৭২: CIA প্রোগ্রাম। সন্দেহভাজন ৮১,৭৪০ জন ভিয়েতকংকে ধরে। ২৬,৩৬৯ জনকে হত্যা, বাকিদের টর্চার।  

৪. বিদেশে হস্তক্ষেপ + ড্রোন যুদ্ধ + নজরদারি ১৯৫৩-২০২৪  

ইরান ১৯৫৩ Operation Ajax: গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেক তেল জাতীয়করণ করেন। CIA+ MI6 ক্যু করে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে বসায়। SAVAK নামের গোপন পুলিশ ২৫ বছর টর্চার চালায়।  

গুয়াতেমালা ১৯৫৪ Operation PBSuccess: প্রেসিডেন্ট আর্বেঞ্জ United Fruit Company-এর ৫ লাখ একর জমি কৃষকদের দিতে চান। CIA ক্যু করে। পরের ৩৬ বছরের গৃহযুদ্ধে ২ লাখ মায়া আদিবাসী মরে।  

ইন্দোনেশিয়া ১৯৬৫-১৯৬৬: জেনারেল সুহার্তো ক্ষমতা নেয়। CIA কমিউনিস্ট সন্দেহে ৫,০০০ জনের লিস্ট দেয়। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষকে জবাই এবং গুলি করে মারা হয়। টাইম ম্যাগাজিন লেখে 'The West’s best news for years'।  

চিলি ১৯৭৩: সালভাদর আলেন্দে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট। হেনরি কিসিঞ্জার বলেন,

“I don’t see why we need to stand by and watch a country go communist due to the irresponsibility of its people”। 

১১ সেপ্টেম্বর পিনোশে ক্যু করে। Estadio Nacional স্টেডিয়ামে ৪০,০০০ জনকে আটক, টর্চার করা হয় এবং ৩,২০০ জনকে গুম! 

ইরাক ২০০৩-২০১১: 'Weapons of Mass Destruction, অজুহাত দিয়ে আমেরিকা সহযোগীদের নিয়ে আক্রমণ করে।


পরে অবশ্য স্বীকার করে WMD নাই!

Lancet জরিপ ২০০৬: ৬ লাখ ৫৪ হাজার ইরাকি মারা যায়। Brown University ২০২৩: যুদ্ধের খরচ ২.২ ট্রিলিয়ন, সুদসহ ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যে তেলের জন্য যুদ্ধ—Halliburton, ExxonMobil তেলের কন্ট্রাক্ট পায়।

লিবিয়া ২০১১: ন্যাটো বোমা মারে। পরে গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়। দেশ ছিন্নভিন্ন  হয়ে যায়। ২০১৭ সালের CNN ভিডিও: ত্রিপোলিতে খোলা বাজারে মানুষ বিক্রি হচ্ছে, ৪০০ ডলার জনপ্রতি। দাসপ্রথা আবার ফিরে আসে।  

ড্রোন প্রোগ্রাম ২০০২-২০২৫: বুশ ৫৭টা স্ট্রাইক, ওবামা ৫৪২টা, ট্রাম্প ২,২৪৩টা। Bureau of Investigative Journalism: পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, আফগানিস্তানে ১৪,০০০-এর অধিক মানুষ মারা যায়। যার মধ্যে ৯১০-২,২০০ বেসামরিক। 'Signature Strike' নীতি: সামরিক বয়সী পুরুষ দেখলেই সন্দেহ, বোমা মারো।

২০১১ সালে ইয়েমেনে ১৬ বছরের আমেরিকান নাগরিক আব্দুল রহমান আল-আওলাকিকে ড্রোনে মারে, বাপ আনোয়ার আল-আওলাকির জন্য।  

NSA নজরদারি: Edward Snowden ২০১৩ ফাঁস করে, PRISM প্রোগ্রাম। Google, Facebook, Apple, Microsoft-এর সার্ভারে সরাসরি ঢোকে NSA। দিনে ৫ বিলিয়ন ফোন কল রেকর্ড। মেটাডেটা জমা রাখে। 'USA Freedom Act 2015' করে নজরদারি বৈধ করে।   

ফিলিপাইন ১৮৯৯-১৯০২: স্পেনের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ২ লাখ ফিলিপিনো মারে।


ফিলিপাইনে প্রয়োগ করা হয় নৃশংস  Water Cure টর্চার।  

হিরোশিমা-নাগাসাকি ৬-৯ আগস্ট ১৯৪৫: ২ লাখ বেসামরিক মরে। আমেরিকা সহ ৯ দেশ এই বোমার অধিকারী অথচ এই গ্রহের একমাত্র দেশ আমেরিকা, যে পরমাণু বোমা ব্যবহার করেছে।  

কোরিয়া যুদ্ধ ১৯৫০-১৯৫৩: উত্তর কোরিয়ায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টন বোমা। ২০% জনসংখ্যা মরে।  

কম্বোডিয়া ১৯৬৯-১৯৭৩: গোপন বোমাবর্ষণ 'Operation Menu'।


৫ লাখ বেসামরিক মানুষ মারা যায়। 'খেমার রুজ' উত্থানের রাস্তা তৈরি হয়।  

আফগানিস্তান ২০০১-২০২১: ২০ 

৩০ আগস্ট ২০২১: ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ! নাইট ভিশনে তোলা এই ছবি, Maj. Gen. Chris Donahue আফগানিস্তান ছাড়া শেষ মার্কিন সৈন্য। ২০ বছর, ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, ২,৪৬১ US সৈন্য, ৪৬,০০০+ আফগান বেসামরিক মৃত্যুর পর আবশেষে আমেরিকা বিদায় নেয়। 
তালেবান আবার কাবুলে। শুরু যেভাবে, শেষ সেভাবে! অন্ধকারে, তাড়াহুড়ায়। ফল, তালেবান আবার ক্ষমতায়!

সাইগন ১৯৭৫ বনাম কাবুল ২০২১: ইতিহাসের রিপিট টেলিকাস্ট!

৪৬ বছরের ব্যবধান। যুদ্ধ ২০ বছর। শত্রু আলাদা, পরিণতি এক। ২৯ এপ্রিল ১৯৭৫ সাইগনে CIA বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে Huey হেলিকপ্টার মানুষ তুলে। ১৫ আগস্ট ২০২১ কাবুলে US Embassy থেকে Chinook হেলিকপ্টার কর্মী সরায়। দুইবারই সরকারি বয়ান “সব নিয়ন্ত্রণে”।

দুইবারই রাজধানী পতন। দুইবারই মিত্রদের ফেলে রেখে বিদায়। ভিয়েতনামে ১.১ ট্রিলিয়ন, আফগানিস্তানে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার খরচের পরও শত্রুই ক্ষমতায়। পার্থক্য শুধু হেলিকপ্টারের মডেল। নীতি একই; ঢুকতে বোমা, বের হতে হেলিকপ্টার।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরাক ১৯৯০-২০০৩ UN রিপোর্ট: ৫ লাখ শিশু মরে। ম্যাডেলিন অলব্রাইট ১৯৯৬ সালে CBS-কে বলেন 'we think the price is worth it'। ইরান, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, উত্তর কোরিয়া—ওষুধ, খাবার আটকে রাখা।   

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষ ১৯৭৪: PL-480 গম আটকে দেওয়া। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা হয়। ব্রহ্মপুত্র-পদ্মা ভাঙে। আমন ধান নষ্ট। সাথে ১৯৭৩ এর তেল সংকট। চালের দাম ৩ গুণ বাড়ে। আগস্ট থেকে দুর্ভিক্ষ শুরু। 

PL-480 Food Aid: আমেরিকার 'Food for Peace' প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের জুলাইয়ে ২ লাখ টন গম চায়। চুক্তি হয়।  

কিন্তু আমেরিকা শর্ত জুড়ে দেয়: কিসিঞ্জার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে নির্দেশ দেয়, বাংলাদেশ কিউবায় পাট রপ্তানি বন্ধ না-করলে গম দেওয়া হবে না। কিউবা তখন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে।

জাহাজ আটকে দেওয়া: ৩০,০০০ টন গম নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা মাঝপথে আটকে দেয়। সাফ কথা, আগে কিউবায় পাট বেচা বন্ধ করো, তারপর গম ছাড়ব। ১৯৭৪ জুলাই থেকে অক্টোবর ৩ মাস গম আটক থাকে। এই ৩ মাসেই দুর্ভিক্ষ পিক করে। অক্টোবরে বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে কিউবায় পাট রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। নভেম্বরে গম আসে। ততদিনে মানুষ মরা শুরু করছে।

মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাব ২৭,০০০। কিন্তু বেসরকারি গবেষণা, সাংবাদিক, Amartya Sen এর হিসাব: ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ মানুষ মারা যায়; অনাহার, কলেরা, ডায়রিয়ায়।  

Amartya Sen, তাঁর বই Poverty and Famines ১৯৮১-তে লিখেছেন: ১৯৭৪ এর দুর্ভিক্ষ 'man-made'। খাবার ছিল, কিন্তু বণ্টন হয় নাই। আমেরিকার গম আটকানো সেটাকে আরও ভয়াবহ করে।

এই সমস্ত ইতর রাষ্ট্রদেরকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না! কেন হয় না! ব্রিটেন-ভর্তি চুরির মাল! ভিড় করে-থাকা মানুষদের মধ্যে কেউ-একজন চার্লসকে চেঁচিয়ে বলুক না, তুই, 'কোহিনূর চোরা' []!

যাক, এই ছেলেটা সটান দাঁড়িয়ে বলেছে, তোমরা ইতর:


সূত্র:
১. কোহিনূর চোরা... : https://www.ali-mahmed.com/2022/09/blog-post_10.html?m=1

No comments:

WhatsApp