১. শূর্পণখার নাসা-কর্ণ ছেদন করানো।
বাংলা: অরণ্যকাণ্ড, সর্গ ১৮। শূর্পণখা রামের কাছে প্রেম নিবেদন করে। রাম তাকে লক্ষ্মণের কাছে পাঠান। লক্ষ্মণ তখন রামের সামনেই ক্রুদ্ধ হয়ে খড়্গ দিয়ে শূর্পণখার নাক কান কেটে দেন। রক্তাক্ত শূর্পণখা চিৎকার করে চলে যায়।
সংস্কৃত: অরণ্যকাণ্ড ১৮.২০। ততঃ স লক্ষ্মণঃ ক্রুদ্ধো রামস্য পরিপশ্যতঃ। কর্ণনাসং চ সংহৃত্য বিসসর্জ সুদুর্মুখীম্।
২. বালীকে গাছের আড়াল থেকে হত্যা করা।
বাংলা: কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড, সর্গ ১৭। রাম বালীকে বলেন, তুমি ভাইয়ের স্ত্রীকে হরণ করেছো তাই বধযোগ্য। অথচ রাম নিজে বালীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধ না করে বৃক্ষের আড়াল থেকে বাণ মারেন।
সংস্কৃত: কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড ১৭.১৮। কিং ত্বামন্যং ধর্মমবেক্ষমাণং কিং নু লব্ধং তব মাং নিহত্য। অধর্মযুক্তং যৎ কৃতং কিল ত্বয়া তচ্চাপি রাম ব্যাহতং মমৈব।
৩. অগ্নিপরীক্ষার পর গর্ভবতী সীতাকে বনবাস দেওয়া।
বাংলা: উত্তরকাণ্ড, সর্গ ৪৫। রাবণ বধের পর অযোধ্যায় ফিরে রাম রাজা হন। প্রজাদের মধ্যে অপবাদ ওঠে যে সীতা রাবণের ঘরে ছিলেন। লোকনিন্দার ভয়ে রাম গর্ভবতী সীতাকে লক্ষ্মণের মাধ্যমে বাল্মীকি মুনির আশ্রমের কাছে গঙ্গার তীরে নির্জন বনে পরিত্যাগ করান।
সংস্কৃত: উত্তরকাণ্ড ৪৫.১০। পৌরাপবাদভীতেন রামেণ তু মহাত্মনা। ত্যক্তা সীতা জনস্থানে লক্ষ্মণেন মহাবলাৎ।
৪. শম্বুককে তপস্যার জন্য হত্যা করা।
বাংলা: উত্তরকাণ্ড, সর্গ ৭৬। রামের রাজ্যে এক ব্রাহ্মণের ছেলে অকালে মারা যায়। ব্রাহ্মণ এসে অভিযোগ করেন যে রাজার কোনো অধর্মের কারণেই এমন হয়েছে। নারদ বলেন, শূদ্র হয়ে তপস্যা করার কারণে এই অনর্থ। রাম খোঁজ করে শম্বুক নামে এক শূদ্রকে তপস্যারত দেখেন। শম্বুক বলেন তিনি স্বর্গ চেয়ে তপস্যা করছেন। তখন রাম খড়্গ দিয়ে শম্বুকের মাথা কেটে ফেলেন।
সংস্কৃত: উত্তরকাণ্ড ৭৬.১১। ততো দৃষ্ট্বা শূদ্রযোনিং তপস্যন্তং মহাতপাঃ। অসিনা শিতধারেণ শিরশ্চিচ্ছেদ রাঘবঃ।
৫. সীতার জন্য কান্না।
বাংলা: অরণ্যকাণ্ড, সর্গ ৬০-৬৪। সীতাহরণের পর রাম বনে বনে সীতাকে খুঁজে কাঁদতে থাকেন। লক্ষ্মণ বলেন, তোমার মতো বীর [*] কাঁদে না।
সংস্কৃত: অরণ্যকাণ্ড ৬৩.৮। ন রুদন্তি তথা শূরা ন চাপি পরিদেবয়ে। ন চ ত্বদ্বিধমাপন্নং শোকঃ স্পৃশতি মাধব।
৬. সমুদ্রের কাছে তিন দিন উপবাস ও ক্রোধ।
বাংলা: যুদ্ধকাণ্ড, সর্গ ২১। লঙ্কা যাওয়ার জন্য সমুদ্র পথ না দিলে রাম তিন দিন উপবাস করে সমুদ্রের তীরে শুয়ে থাকেন। তারপর ক্রোধে ব্রহ্মাস্ত্র দিয়ে সমুদ্র শুকিয়ে ফেলতে চান।
সংস্কৃত: যুদ্ধকাণ্ড ২১.২। তত্র ত্রিরাত্রং শয়িতো রামো ধর্মভৃতাং বরঃ। প্রাঞ্জলিঃ প্রাগ্শিরাঃ শেতে সাগরং সরিতাং পতিম্।
* বাল্মীকি রামায়ণ অনুযায়ী রামের কাছে থাকা অস্ত্রের পূর্ণ তালিকা:
১. দণ্ডচক্র ২. ধর্মচক্র ৩. কালচক্র ৪. বিষ্ণুচক্র ৫. ইন্দ্রচক্র ৬. বজ্র ৭. শৈব শূল ৮. ব্রহ্মশির ৯. ঐষীক ১০. মোদকী গদা ১১. শিখরী গদা ১২. ধর্মপাশ ১৩. কালপাশ ১৪. বরুণপাশ ১৫. শুষ্ক অশনি ১৬. আর্দ্র অশনি ১৭. পৈনাক অস্ত্র ১৮. নারায়ণ অস্ত্র ১৯. আগ্নেয় অস্ত্র ২০. শিখর অস্ত্র ২১. বায়ব্য অস্ত্র ২২. হযশির অস্ত্র ২৩. ক্রৌঞ্চ অস্ত্র ২৪. শক্তি অস্ত্র ২৫. কঙ্কাল অস্ত্র ২৬. মুষল অস্ত্র ২৭. কাপাল অস্ত্র ২৮. কিঙ্কিণী অস্ত্র ২৯. নন্দন অস্ত্র ৩০. খড়্গ ৩১. প্রস্বাপন অস্ত্র ৩২. প্রশমন অস্ত্র ৩৩. সৌর অস্ত্র ৩৪. দারুণ অস্ত্র ৩৫. মানব অস্ত্র ৩৬. মোহন অস্ত্র ৩৭. তামস অস্ত্র ৩৮. সৌমন অস্ত্র ৩৯. সম্বর্ত অস্ত্র ৪০. মৌসল অস্ত্র ৪১. সত্য অস্ত্র ৪২. মায়াময় অস্ত্র ৪৩. তেজঃপ্রভ অস্ত্র ৪৪. সোম অস্ত্র ৪৫. শিশির অস্ত্র ৪৬. ত্বাষ্ট্র অস্ত্র ৪৭. দারুণ শীতেষু ৪৮. শিতেষু ৪৯. মানবাস্ত্র ৫০. বৈষ্ণব ধনু ৫১. অক্ষয় তূণীর যুগল ৫২. ব্রহ্মদত্ত খড়্গ ৫৩. ইন্দ্রের দিব্য রথ ৫৪. অগ্নিসন্নিভ কবচ ৫৫. আদিত্যসঙ্কাশ শর
(১ থেকে ৪৯ পর্যন্ত অস্ত্র বিশ্বামিত্র দেন। ৫০ থেকে ৫২ অগস্ত্য মুনি দেন। ৫৩ থেকে ৫৫ ইন্দ্র পাঠান।)
No comments:
Post a Comment