Search

Sunday, February 28, 2010

আমাদের সূর্য-সন্তান, লহ মোর সালাম!

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, পরে উচ্চতর শিক্ষাদানের সঙ্গেও যুক্ত হয়। কবি নজরুলের কারণেও বিখ্যাত রাণীর দিঘীর পাড়ে অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি একদা গ্রেটার কুমিল্লার গর্ব, এখনও।

কোথাও গেলে প্রথমেই আমাকে টানে পুরনো স্থাপনাগুলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খানিকটা আঁচ করা সম্ভব হয় তখনকার মানুষগুলো কতটা এগিয়ে ছিলেন।


এর প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর আনন্দ মোহন রায়। আমি কুমিল্লাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ, মূর্তি নামের ভাস্কর্যটি এখনও অটুট আছে।


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শহীদদের স্মরণে প্রতীকটির কারুকাজ দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় কী!


গুটিকয়েক শহীদদের নাম।



স্বাধীনতা সৌধ নামের এই স্থাপনার গায়ে অসংখ্য অশ্লীল ছবি, কথা! আমার তোলা অসংখ্য কুৎসিত ছবি থেকে বেছে বেছে খানিকটা সহনীয় ছবি এখানে যোগ করলাম। কখনও ছবি এমন জান্তব হয় উপরের এই ছবিটা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। আমি যখন ওখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন মনে হচ্ছিল পেশাবের ছিটা আমার গায়ে এসে পড়ছে!

আমার মাথায় কেবল ঘুরপাক খায় আসলে সূর্য-সন্তান কারা? যাঁরা এখানে শুয়ে আছেন, তাঁরা? উঁহু। যারা এই ছবিগুলো, কথা এখানে লিখেছে, তারা? উঁহু, আমার মনে হয় না। কারণ ভুল ইতিহাস নিয়ে বড়ো হওয়া এই প্রজন্মকে খুব একটা দোষ আমি দেই না।
তাহলে কারা? এই ব্যস্ততম রাস্তার মাঝ দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। এটা কারও-না-কারও চোখে পড়েনি এ আমি বিশ্বাস করি না! তাছাড়া এই ভিক্টোরিয়া কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েই আছেন সিকি-আধুলী (আমার আবার সহকারী, সহযোগী অধ্যাপক এইসব মনে থাকে না) পরফেসর (!) সাহেবরা! এইসব সূর্য-সন্তানরা আসলে ভাবেননি এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। কারণ তারা যে সূর্য-সন্তান, আমাদের দেশের সেরা সন্তান!

ডিসেম্বর, হালের ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে যে কান্নাটা আমরা কেঁদেছি, ওই কান্নার পানি সরে না গেলে দেশে অকাল বন্যা বয়ে যেত এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নাই। আজ ১৬ ফাল্গুন যার চালু নাম ২৮ ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারি মাস প্রায় শেষ, আগামী বছরের ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি মাসে জাতি বিনম্র শ্রদ্ধার নামে আবারও কাঁদার জন্য প্রস্ত্তত হবে, ইনশাল্লাহ। কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে...।

2 comments:

thaba said...

আমার গ্রামের বাড়ী... তাজউদ্দীনের দেশ! খুবই অবাক লাগে যে পুরো এলাকায়(থানা বলবো না উপজেলা?) এখনো একটা শহীদদের স্মরনে কোন সৌধ নেই! অনেক চিল্লাচিল্লি করার পর একটা সৌধ বানাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো(?)। সেটা চলে গেল স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হাতে। যে যায়গায় স্থাপনাটা হবে সেই জমি শকুনেরা দখন করে ফেলেছে অনেক আগেই(এরা আ-লীগ, জাতীয়তাবাদী-জামাত-মুক্তিযোদ্ধা সংসদ)। আর আমি সেই স্থাপনার হতভাগ্য স্থপতি। ছয় বিঘা জায়গার দেড় বিঘা অবশিষ্ট আছে আর তার থেকে আমি পেলাম ছয় কাঠার মতো সৌধ ডিজাইন করার জন্য। বাকি জায়গা ব্যাবহৃত হবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে সপিং কমপ্লেক্স বানাবার কাজ

ভাগ্যভাল সেলুকাস মরে গেছে! নইলে তাকে নিয়ে স্কয়ার-ল্যাব এইড-অ্যাপলোর ত্রিমুখী যুদ্ধ শুরু হয়ে যেত!

আলী মাহমেদ - ali mahmed said...

যে দেশের মানুষ তার সেরা সন্তানদের সম্মান জানাতে জানে না তাদের মত অভাগা আর কেউ নাই :( @thaba

WhatsApp