Search

Saturday, July 26, 2008

সমুদ্র গুপ্ত, কেন অভিমান করে বললেন না, যাব না?

রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। আর আমাদের চুতিয়া দেশে কবি-শিল্পীদের মরার আগে প্রমাণ দিয়ে যেতে হয় আমরা জাতি হিসাবে কী আবেগপ্রবন, সচেতন, সভ্য।
মুক্তচিন্তার পত্রিকায় তেলতেলে উপ-সম্পাদক কানসাট নিয়ে ১০১ লাইনের অখাদ্য কবিতা লেখে, কবিতার জন্য তখন সমুদ্র গুপ্তদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা নিবোর্ধ পাঠক তা গিলতে বাধ্য হই। একজন সমুদ্র গুপ্ত, মায় পত্রিকায়ও চাকুরির পান না।


একজন সমুদ্র গুপ্তকে ৫৫-৫৬ বছর বয়সে ফেরিওয়ালা হতে হয়। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা না, ওষুধের ফেরিওয়ালা। জীবনের তাগিদে। আরেকটু গুছিয়ে বললে ওষুধের হকার, প্রচলিত 'ক্যাম্বেসার'।
পেট থেকে কান্না এসে জমে চোখে। হায় পেট-হায় জীবন! এই একটা জায়গায় প্রতিভার কী-ই বা দাম! কবির কান্না চশমার মোটা কাচেঁর আড়ালে হারিয়ে যায়। ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে কাউকেই খুজেঁ পাওয়া যায় না কেউ কবির হাত ধরতে পারে।

আমার মাথায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে। কিন্তু এই অসভ্য ইচ্ছাটাও জাগে, যদি দেখে যেতে পারতাম সমুদ্র গুপ্ত একজন চালু হকারের মত বাঁদর নাচিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। লোকজন গোল হয়ে বাঁদরের তামাশা দেখছে, আমিও। দেখছি বানরটাকে, দেখছি সমুদ্র গুপ্তকে, দেখছি নিজের পশুত্বটাকে। বেশ হত, অন্তত এই দৃশ্য দেখার পর আর আমি কখনই নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতাম না। খোদার কসম।

আমাদের চাওয়াটা তো খুব বেশি না, যে মিরোশ্লাফ হোলুবের মত সমুদ্র গুপ্তকে মোটা অংকের স্কলারশীপ দেয়া হবে, বছরের পর বছর ধরে। হোলুব ১ বছরে ১টা কবিতা লিখবেন যে কবিতা ঘষামাজা করতে করতে লাগবে আরও বছরখানেক। মানলাম আমাদের সীমাবদ্ধতা কিন্তু ১৫ কোটি মানুষের দেশে কেন সমুদ্র গুপ্তকে ফেরিওয়ালা হতে হবে? একজন রুদ্র বসার জন্য ১টা চেয়ার পাবে না, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে লিখতে হারিয়ে যাবে! কেন?

এই বিচিত্র দেশে আমরা অপেক্ষা করি, কখন এঁরা মুমূর্ষু হবেন তখন আমাদের যাবতীয় দরদ উথলে পড়বে। তখন আমরা ঘটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি, পত্রিকায় পত্রিকায় সাহায্যের আবেদন করি, কনসার্ট করি। শালার দেশ!

সমুদ্র গুপ্ত, আপনার কেন এই করুণা নেয়া, দেশে কী চ্যারেটি, সরকারি হাসপাতালের অভাব ছিল? কেন তীব্র অভিমান নিয়ে না বলতে পারলেন না, যাব না?
কেন আপনার অচল কবিতাকে নতুন করে লিখলেন না: ...আমি তাদের কাছাকাছি থাকি না, যাদের ঘামের গন্ধে গা গুলায়…।

Wednesday, July 23, 2008

এইডস, বাঁচতে হলে জানতে হবে।

এই 'ভদ্দরনোক' একজন যাদুকর ছিলেন। 
হুডিনি, কপারফিল্ড, জুয়েল আইচ এর কাছে নস্যি! ইনি দিব্যি ঘুরে বেড়াতেন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে , প্রাইভেট কোর্ট বসিয়ে যাকে খুশি তাকে বিচার করতেন। কর্মকান্ডগুলো করতেন মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে কিন্তু কেউ তাঁকে দেখতে পেত না!

এই যেমন, তাঁর একমুখ আউলা-ঝাউলা দাড়ি। দাড়ি দূরের কথা, দাড়ি যেখানে গজিয়েছিল, মুখ-মুখমন্ডল; সেই মুখমন্ডল লেগে থাকত যে শরীরে, সেই শরীর! আর ওই গোটা শরীর নিয়ে দিব্যি দাবড়ে বেড়িয়েছেন দেশময় কিন্তু এই দেশের চৌকশ পুলিশ বাহিনী তার শরীর দূরে থাক দাড়িটিও খুঁজে পেত না। গোপন কেশের কথা না-হয় নাই বললাম...।
এটা আসলে যাদু, স্রেফ যাদু।

ইনি আমাদের বঙ্গাল ভাই। আপনারা চাইলে নিজ দায়িত্বে বাংলা ভাইও বলতে পারেন। তবে ইনাকে একবার আটকানো হয়ছিল। এই বঙ্গাল ভাইয়ের জেলখানায় বিভিন্ন মহাপুরুষদের সঙ্গে উঠা-বসা ছিল, উঠ-বস না (রিমেম্বার, আপনারা উঠবস শুনে আবার অন্য কিছু ভাবলেন না, বাট আ য়্যাম নট শিয়্যুর। 'হৈলেও হৈতারে'।)।
যাই হোক, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি চিন্তা করলেন কি পেশা বেছে নেবেন? লেখক হয়ে লাভ নাই, লেখালেখি করে এই দেশে ভাত দূরের কথা রুটিও মেলে না। ফাও গালি মেলে!

শোনা কথা, একটা ওয়েব-সাইটে নাকি এসেছিলেন চাকরির জন্য। ওই ওয়েব-সাইটটা চালান আবার একজন বিদেশী। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিল তিনি বিদেশী হয়ে এসেছেন আমাদের বাংলা উদ্ধার করতে, ত্রাণকর্তা। ক্রমশ সবার ভুল ভাঙ্গল!
ওই ব্লগাধিপতির সঙ্গে কথাবার্তা ছিল নিম্নরূপ-
বঙ্গাল ভাই: হা-ডু-ডু, হালু-হালু, আপনে ভালু?
ওই ব্লগাধিপতি: কথা নাম্বার এক, আমি হা-ডু-ডু খেলা পারি না। কথা নাম্বার দুই, আমি হালু-আলু খাই না। আর আমি ভালু না। আমার শরীরে আপনার মত লোমও নাই যে...।
বঙ্গাল ভাই: 'আচ্ছা-আচ্ছা'। আলু না, পুছ করলাম ভালু আছেন কিনা?
ব্লগাধিপতি: আপনি এভাবে বাংলা বলছেন কেন? হয় শুদ্ধ করে বাংলা বলেন নইলে ইংরাজি।
বঙ্গাল ভাই (উষ্মা নিয়ে): ইংরাজী মুরতাদের ভাষা, মুরতাদের ভাষা বললে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয়। এস্তেঞ্জার পর শিরীষ কাগজ ব্যবহার করতে হয়। এইটা বড় কষ্ট, তাই আমি মুরতাদের ভাষায় কথা বলি না। যাক, বাংলা যখন বুঝতে পারেন, বাঁচলাম। একটা চাকরি চাইছিলাম।
ব্লগাধিপতি (বিস্মিত হয়ে): এখানে আপনি কী চাকরি করবেন?
বঙ্গাল ভাই: আমার নাম শোনেন নাই, আমি বঙ্গালভাই। পাবলিকদের ছহীহ বংলা শিখাব।
ব্লগাধিপতি: দু:খিত, আমার এই সাইটে বাংলা জানা লোকদের অভাব নাই।

এরপর... বঙ্গাল ভাই যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গিয়েছিলেন, বোমা মেরে এই ওয়েব-সাইটের সমস্ত নরমতার (সফটওয়্যার মুরতাদের ভাষা বলে তিনি এটা উচ্চারণ করেননি) এলোমেলো করে দেবেন।
অবশেষে নিরুপায় বঙ্গালভাই পীর হয়ে গেলেন, পীর হতে নাকি কোন যোগ্যতা লাগে না—কোন পরীক্ষাও দিতে হয় না! কী মজা!
তো, পীর হয়ে প্রতি নিঃশ্বাসে হাক মাওলা-হাক মাওলা বলেন! লোকজনের সব সমস্যার সমাধান দেন!
সবচেয়ে বেশি নামডাক হলো, বঙ্গাল হুজুরের দোয়ায় শতশত সন্তান প্রত্যাশী মহিলার (পুরুষদের হওয়ার নিয়ম নাই) সন্তান হল। সিস্টেমটা কী জানা যায়নি কিন্তু হুজুরের দোয়া বিফলে যায় কমই! আর বাচ্চাগুলোও মাশাল্লাহ! বাচ্চাগুলোর চেহারাও হয় বঙ্গাল হুজুরের মত, বঙ্গানুরানি!

কী কারণে জানা যায়নি হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাইয়ের মনে একদিন ভয় ঢুকল। আল্লার ভয় না, এইডসের ভয়! সম্ভবত কারও কাছে শুনেছিলেন এইডস হলে বাঁচার উপায় নাই। বাঁচতে হলে জানতে হবে। পীর সাহেবরা আপামর জনতার সব রোগের চিকিত্সা করেন কিন্তু নিজের চিকিত্সা করান ডাক্তার দিয়ে! বঙ্গাল হুজুরেরও ডাক্তারের কাছে না-গিয়ে উপায়ই বা কী! বাঁচতে হলে জানতে হবে।

ডাক্তার: আপনি কি কোন নেশায় আসক্ত? সুঁই ব্যবহার করেন?
বঙ্গাল ভাই: ('হামোশ' কুতুয়া বলতে গিয়ে রাগ চেপে) নাহ, আমার কেবল একটাই নেশা। চার্জারে বোমা রাখা আর সুযোগ পেলে তা ফাটিয়ে দেয়া।
ডাক্তার (বিভ্রান্ত চোখে) : নিজের রেকটা...(সেন্সর) ফাটালে বেঁচে থাকেন কেমন করে!
বঙ্গাল ভাই (অমায়িক হেসে): আরে, না-না, ওখানে রাখি কিন্তু ফাটাই অন্যখানে। আমার বিষয়টা একটু 'গোফনিয়'। কাছে আসেন কানে-কানে বলি।
ডাক্তার (ভয়ে-ভয়ে) : কে জানে এর চার্জারের বোমাটা না এক্ষুনি ফেটে যায়।
সব শুনে ডাক্তার সাহেব বঙ্গাল ভাইকে বললেন, আপনি কনড...ব্যবহার করেন, যেটা প্রত্যেক দায়িত্ববান পুরুষ বিশেষ সময়ে ব্যবহার করে, এইডস থেকে বাঁচার এটাই উপায়।

হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাই অপার আনন্দে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফিরে এলেন এবং কনড... ব্যবহার করে এখন দস্তরমতো দায়িত্ববান পুরুষ! বাঁচতে হলে জানতে হয়।

কিন্তু হায়! বিকট একটা সমস্যা দেখা দিল, ;‘দায়িত্ববান পুরুষ’ বঙ্গাল ভাই হুজুরের দোয়া এখন আর কাজ করে না, মহিলাদের সন্তান হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হয়ে গেল এই বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ নাই। কারণ...

*সত্যর চেয়ে পাজি আর নাই। কখনও বাস্তব কল্পনাকেও হার মানায়! ভারতের একটি উপাসনালয়ের ধর্মগুরুরা অবিকল এমন একটা সমস্যায় পড়েছিলেন। বিশাল একটা গোত্রকে আহত করা সমীচীন মনে করিনি বলে স্থান-কাল-পাত্র উল্লেখ করলাম না।

**অংশবিশেষ ছাপা হয়েছিল শুভ'র ব্লগিং বইয়ে।  

Tuesday, July 22, 2008

প্রকৃতির আকাশ বনাম আমাদের আকাশ

আমাদের পরিবারের প্রিয় একজন মানুষের ইচ্ছায়, পোষা একটা ময়না ছিল আমাদের।
এক সময় আমার মনে হলো, আরে, আমি এটা করছিটা কি! ময়নাটার বিশাল আকাশ ছিনিয়ে তাকে ছোট্ট একটা খাঁচায় আটকে ফেলেছি। মানুষ হিসাবে করছি ক্ষমতার অপচয়!
কষ্টে-দুঃখে আমার উদভ্রান্ত অবস্থা। নিজেকে পোকা-পোকা মনে হচ্ছিল। এ অন্যায়-এ অন্যায়! আমি নিজের চোখে চোখ রাখতে সাহস পাচ্ছিলাম না।

সিদ্ধান্ত নিলাম, ময়নাটাকে ছেড়ে দেব তার আকাশ তাকে ফিরিয়ে দেব। হায়, সময়কে কে ফিরিয়ে দেয়, না দিতে পারে? আমার সুহৃদরা নিষেধ করলেন, এখন যদি ময়নাটাকে ছেড়ে দেয়া হয়, অন্যায়ের মাত্রাটা বাড়বে বৈ কমবে না। অনেক কটা বছর খাঁচায় আটকে ময়নাটা অনেকখানি ভুলে গেছে তার সহজাত প্রবৃত্তি। সারভাইভ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে, কাক ঠুকরে মেরে ফেলবে নিশ্চিত।

ওই সময় তাদের এ পরামর্শ আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছিল। ময়নাটার দিকে তাকাই আর নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হয়, ক্রমশ আমি মানুষ থেকে পশুতে রূপান্তরিত হই। কখনও কখনও ময়নাটার প্রতি তীব্র রাগ হতো, কি হয় তোর মরে গেলে, মরে গিয়ে আমাকে উদ্ধার কর না, বাপ। কিন্ত আমার মুখে ছাই দিয়ে ময়নাটাও বেঁচে রইল বছরের পর বছর ধরে। আমার সহ্য হচ্ছিল না। একদিন খাঁচাটা খুলে দিলাম। ময়নাটা কিন্ত পালাবার চেষ্টাও করেনি। জবুথবু হয়ে কি এক চোখে তাকিয়ে থাকে। জানি না কি ছিল তার চোখে? হয়তো এমন, দীর্ঘ দিনের মমতার হাতটা কি তুমি ছেড়ে দেবে, পারবে?

এক সময় ময়নাটা মরে গেল। কেঁদেছিলাম, প্রিয়জন হারানোর শোকে। চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল, থেকে থেকে। বুকটা কেমন ভারী হয়ে ছিল নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। হায়রে অমানুষ মানুষ, বিচিত্র এক প্রাণী বটে!
চোখের জলে ভাসতে ভাসতে মাটি খুড়ছিলাম মাটি দিয়ে ঢেকে দেব বলে। যারা এই কান্ডটা জেনেছেন, তাদের কী তীব্র শ্লেষ, ইশ-শ, পাখিকে আবার কবর দেয়, ব্যাটা মুরতাদ!
আমি জিজ্ঞেস করি, ভালমানুষদের, কি গো, ভালা মাইনষের ছেইলেরা, আপনার সব জায়গায় ধর্মকে টেনে নিয়ে আসেন কেন? টয়লেটে একজন যাবে এখানেও দোয়া পড়বে হবে, আজিব!

যে প্রাণটা আমার সঙ্গে বছরের পর বছর থেকেছে, আমাকে দেখলেই মায়াভরা কন্ঠে শিষ বাজিয়েছে, নাম ধরে ডেকেছে, মৃত্যুর পর তাকে আমি ফেলে দেব আর কাক ঠুকরে ঠুকরে খাবে। আমি নির্বিকারচিত্তে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব! না হে, ভালমানুষের সন্তানেরা, আমি আপনাদের মতো ভালমানুষ হতে চাই না গো ।

ক-দিন পুর্বেও একটা অ্যাড দেখাত টিভিতে। এ দেশের কিছু সেলিব্রেটি টাইপের মানুষ আসতেন, বিপাশা, বাপ্পা আরও কে কে জানি। খুব পোজ নিয়ে বলতেন, 'আমি কোন দিন কোন শিশুর গায়ে হাত তুলিনি, আপনারাও শিশুর গায়ে হাত তুলবেন না'। তাদের আবেদন, সদিচ্ছাটা উত্তম।

কিন্তু এদের এই ফাজলামী দেখে আমার রাগে গা জ্বলে যেত। আমার প্রশ্ন, এখানে যাদের বেছে বেছে আনা হচ্ছে এরা কি শিশুর গায়ে হাত না তোলার দলে? নাকি কেউ সেলিব্রেটি হয়ে গেলেই কি এরা একেকজন চলমান মহাপুরুষ বনে যান? ভাবখানা এমন, উদরে এরা এক পেট আবর্জনার বদলে সুস্বাদু হালুয়া নিয়ে ঘুরে বেড়ান! যেন সেলিব্রিটি মাত্রই মার গর্ভ থেকে দেশ-দশ নিয়ে মাথা ঘামানো শুরু করে দেন!

হুম, ভাগ্যিস আমার সেলিব্রেটি হওয়ার যোগ্যতা নাই, বাই এনি চান্স, আমাকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিলে আমি বলতাম, হুঁ, আমি শিশুর গায়ে কখনও না কখনও হাত তুলেছি। ভয়াবহ ভুল করেছি। যাদের প্রতি এ অন্যায়টা করেছি তাদের কাছে করজোরে মাফ চাই এবং এ ভুল আমি আর করবো না।

Saturday, July 19, 2008

রোপণ করছি একেকটা বিষবৃক্ষ!

বয়স্ক মানুষটাকে লাথি মারা হল- যে এই কান্ডটা করল তাকে এখনও ধরা হয়নি, কেন? এর উত্তর আমাদের কারও কাছে নাই।
তর্কের খাতিরে না-হয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজাকার বিস্মৃত হলাম কিন্তু একজন বয়স্ক মানুষকে জনসমক্ষে লাথি মারা যায়, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে কোটি কোটি মানুষ তা প্রত্যক্ষ করে এবং এর জন্য আইনের কোন বাঁধা নাই- আইন তার কেশাগ্রও ছুতেঁ পারে না। তাইলে এই দেশে কোন অপরাধের জন্য কারাগারের প্রয়োজন নাই (লিংক)।

এই প্রজন্মের এতে কোন সমস্যা নাই , সমস্যা হবে পরবর্তী প্রজন্মের। আজ যে গাছটা আমরা লাগাবো এতে ফল তো আর সঙ্গে সঙ্গে ধরবে না, খানিকটা সবুর না করে উপায় কী!

সুরুয মিয়া। (লিংক) একজন মুক্তিযোদ্ধা আত্মহত্যা করেন ১৬ ডিসেম্বর।
একজন মানুষের তার নিজের চেয়ে প্রিয় আর কিছু এ গ্রহে নাই। সেই মানুষটা যখন তার নিজের প্রাণটা নষ্ট করে ফেলেন, নিজ হাতে- কতটা কষ্টে, কত বেদনায়, এটা এই আমাদের কখনই জানা হবে না!
কিন্তু এই আত্মঘাতি মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবে না এটা যখন প্রশাসন থেকে জানানো হয় তখন প্রশাসনকে আমরা খুব করে কষে গালি দিতে পারি। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা ভাবি না প্রশাসনের এমন ভাবনার উত্স কী! কোন নিতল থেকে উঠে আসে এমন ভাবনা?
প্রশাসন বলতে আমরা যা বুঝি, আসলে কোন রোবট তো আর না। গুটিকয়েক মানুষই থাকেন সিদ্ধান্তে।

ইউ, এন ও নামের যে মানুষটা এই সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তিনি তার বালকবেলায়, কিশোরবেলায় দেখেছেন ফট করে গুলি করে একজন নেতাকে মেরে ফেলা হয়, সরকারি হেফাজতে জেলখানায় জাতীয় নেতাদের মেরে ফেলা যায়, যুদ্ধাপরাধিদের আস্ফালন- এইসবের জন্য এদের কোন বিচার হয় না। ওই বালকটি পরবর্তীতে ইউ, এন, ও হয়ে আত্মঘাতি মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবে না এমন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন- এতে দোষের কী আছে!

আজ যে প্রজন্ম দেখছে প্রকাশ্যে একজন বয়স্ক মানুষকে তার সন্তানসম একজন লাথি মারছে, তাদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ আগামীতে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করবে এটা কোটি কোটি মানুষ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রত্যক্ষ করবে, নির্বিকারচিত্তে। ধর্ষণ যখন অবধারিত…!

Monday, July 14, 2008

মিশন পসিবল

আমাদের দেশে ফি বছর বন্যা হওয়াটা বড় জরুরী। নইলে আমরা যে কী মানবদরদী এটা প্রমাণ হবে কেমন করে! বন্যা হয় বলেই না এটা আমরা হাতেনাতে দেখিয়ে দিতে পারি একেকজন কেমন হাজী মহসীন! হেলিকপ্টারে করে কয়েক বসত্মা ত্রাণ না দিলে মানবতা যে আমাদের পগারপার হয়! এটা আমরা শিখেছি আমাদের মহান নেতাদের কাছ থেকে। ত্রাণের বিস্কুট খায় নেতাদের পোষা ঘোড়া। আর ত্রাণের টিন এদের পশ্চাদদেশ ব্যতীত কোথায় লাগানো হয়নি?

রাজনীতিবিদদের স্টাইলই আলাদা। এই দেখুন না, যমুনা ব্রীজের জন্য বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা ‘যমুনা সেতু সারচার্জ’ দিলাম আমরা আহাম্মক পাবলিকরা, আর অন্যত্র মারামারি হলো এটা কার সেতু এটা নিয়ে! প্রত্যেকেই ডুয়েল লড়লেন, এঁদের দাবী এরাই নাকি এই সেতু করেছেন। সবই আমরা জানলাম, কেবল জানা হলো না, এঁরা এঁদের কোন তালুকটা বিক্রি করে করে ক-টাকা অমুক্ত হস্তে দিয়েছেন, এটা।

তো, বন্যা এলেই শুরু হয় মানব দরদীদের ত্রাণ কর্মকান্ড। কী সব একেকটা ফটোসেশন! আজকালকার ক্যামেরা, মুন্ডুটা ঘুরিয়ে ক্যামেরার দিকে না এনে তাকালে মুন্ডুর রেহাই নেই, ক্যামেরারও!
আজকাল পত্রিকাওয়ালারাও বছর ধরে ত্রাণ বিতরণ করে আসছেন। মহতী উদ্যেগ সন্দেহ নেই। যারা টাকা দান করছেন তাদের নাম ছাপানো হয়, বেশ। কিন্তু পত্রিকাওয়ালারা বিস্মৃত হন এখানে এদের ভূমিকা কেবল সমন্বয়কারীর। নিজেদের পত্রিকায় নিজেদের ঢোল এমন বাজিয়ে ফেলে, অন্য কেউ ঢোল ফাটিয়ে ফেলার আগেই। নিয়ম করে, ফলাও করে, ওই পত্রিকার গুণগান। ‘... মুইরে বাচাই দিলে’- ‘আফনেরা ইতান দিয়া পুতের কাম করছুইন’। ‘পোত্তম আলো থ্যাকি পোত্তম ইলিপ পাইনো’।
কীসব টাচী বাতচিত- ফাও কী সব দুর্ধর্ষ ছবি! কই ত্রাণ, কই মাথা! ওই যে বললাম, ফটোসেশন! আমার বোধগম্য হয় না, ত্রাণ দিতে গেলে ফটোসেশন করার প্রয়োজনটা কোথায়?

দেখাবার অভিলাষ। এটা সম্ভবত আমরা শিখেছি এ দেশের তথাকথিত ধর্মভীরুদের কাছ থেকে। ক্রমশ বাড়ছে এদের পাঞ্জাবীর ঝুল, দাড়ির চুল, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তসবীর দানা। বাজারে হাঁটতে হাঁটতে তসবীহ টিপছেন, বা মুখে থুথু ভরিয়ে মিসওয়াক নামে দাঁত খুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। উনি যে কত আল্লাওয়ালা লোক এটা আমাদেরকে না বোঝানো পযন্ত কারো নিস্কৃতি নেই! ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ধর্ম উদ্ধার করতে। ৩ মাসের চিল্লায় বেরিয়ে পড়বেন, কিন্তু ৩ দিনের জন্য বলে দেখুন না, ত্রাণ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে। দেখুন, ক-জনকে পাওয়া যায়!

শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে, এই হার ক্রমশ বাড়ছেই! ক-জন মিলে একটা নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। আসলে এইভাবে বিচ্ছিন্ন করে প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই চালানো যায় না। প্রকৃতির সন্তানরা লড়বে প্রকৃতির বিরুদ্ধে সমানে সমানে। বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত লড়াইয়ে প্রকৃতি নিশ্চয়ই ধিক্কার দেয় তার হেরে যাওয়া, অপুষ্ট সন্তনদের প্রতি। আর এই ধারণা আমাদের মাথা থেকে কবে বের হবে? ত্রাণ নামের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে কেউ কারও মাথা কিনে নিচ্ছে না। এটা বন্যাকবলিতদের অধিকার। এঁরাও পরোক্ষ ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছেন।

যাই হোক, বন্যার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের ছিল, থাকে? আমার মনে হয় না। বন্যার বিরুদ্ধে যেটা করা প্রয়োজন ছিল, সেটা হচ্ছে পুরোদস্তর যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আমি চোখ বন্ধ করে চাইতাম সেনাবাহিনীকে, সশস্ত্রবাহিনীকে। জানি-জানি, অনেকে চোখ সরু করে তাকাচ্ছেন। কেন যেন আমাদের একটা বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে যুদ্ধ ব্যতীত সেনাবাহিনী ব্যারাকের বাইরে থাকতে পারবে না। প্রাণ গেলে যাক, তাতে কী! এ তো স্রেফ ক্ষমতার অপচয়! এমন ভাবনাটা কেন, যেন এরা অন্য গ্রহের কেউ! যেন এদের কারো সঙ্গে আমাদের কারো প্রাণের সম্পর্ক নাই।

অন্যরূপও আছে। সেনাবাহিনীর লোকজনরা কতটা সচেষ্ট এটাও ভাবার বিষয়। থাইল্যান্ডে সম্প্রতী সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, হাসিমুখে থাকার জন্য, কারণ সহজেই অনুমেয়।

কে মাথার দিব্যি দিয়েছে, মানুষের বিরুদ্ধেই কেবল যুদ্ধ হয়, মানুষের জন্য অকল্যাণকর কিছুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বারণ! বাস্তবতা হচ্ছে, বন্যাকে, বন্যার্তদেরকে মোকাবেলা করার জন্য যে ট্রেনিং প্রয়োজন এটা সিভিলিয়ানদের নাই।

একজন ফোন করে আমার কাছে দোয়া চাইলেন। কারণটা জানতে চাইলে তিনি বললেন, ভাইরে, ত্রাণ দিতে যাইতাছি। এই মানুষটাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি। আল্লার কসম, একে সামলাতে ৪ জন লাগবে।এই মানুষটার পাজারোর এসি খারাপ ছিল বলে মাত্র ৬০ মাইল আসতে আসতেই প্রাণ বেরিয়ে যায় এমন অবস্থা। তো, এই বান... নাকি ত্রাণ দেবে। শারীরিক ফিটনেসটা কেন জরুরী এটা বলার অবকাশ নেই!

এই যে ক্রিকেট টীম কমান্ডো ট্রেনিং নিচ্ছে, এতে কি লাভ এ নিয়ে মাথা ঘামাতে ঘামাতে বুদ্ধিজীবী ভায়াদের টিকে থাকা অল্প চুল যায় যায় প্রায়। ক্ষতিটা কী হে বাপু? আজ মজার একটা জিনিস নোটিশ করলাম, ক্রিকেটারদের কমান্ডো ট্রেনিং চলাকালীন সময়ে নিউজ কাভার করতে গেছেন বিভিন্ন পত্রিকার ৩৭ জন সাংবাদিক। এদের যখন বলা হল, ‘চাইলে আপনারাও ট্রেনিং নেয়ার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তাতে ক্রিকেটাররাও সঙ্গ পাবেন’। ইস্ট্রাকটরের এই আহ্বানে ৩৭ জন সাংবাদিকের কেউ, আমাদের সোনার সন্তানেরা, মহতী সাংবাদিক ভাইয়েরা মোটেও আগ্রহ দেখালেন না। অন্তত চেষ্টা করা, এই ভাবনাটাও এদের মাথায় খেলা করেছিল কী!

আসলে নাগরিক আমরা, বড্ডো নাগরিক হয়ে গেছি। ফাস্ট ফুড খাওয়া স্টমাক আর ফ্ল্যাটের এক চিলতে জানালা দিয়ে বিশাল আকাশ দেখা, এসি রুমে বসে বসে কলমবাজী করার বাইরে খুব একটা নড়াচড়া করতে আমাদের ভাল লাগে না। তারচে বড় কথা হচ্ছে, আমাদের কেবল প্রয়োজন চড়া দামে বিক্রি করার মত তথ্য- আমরা একেকজন চলমান তথ্যবাজ! এর বাইরে ভাবার অবকাশ কই! আমরা এটা কখনই বুঝতে চাইব না, আমরা বুঝতে চাই না, একজন দুর্ধর্ষ তথ্যবাজ আর একজন মানবিক মানুষের অনেক তফাত!

ওয়েল, বলছিলাম, মিশন পসিবলের কথা। মিশন পসিবল, প্রকৃতির বিরুদ্ধে প্রকৃতির সাহসী সন্তানদের যুদ্ধ। ন্যূনতম প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট রেখে ব্যবহার করা হবে সশস্ত্রবাহিনী এবং তাদের সব ধরনের লজিস্টিক, অত্যাধুনিক ইক্যুপমেন্ট, সমস্ত হেলিকপ্টার, স্পীড বোট। নখদর্পনে থাকবে এই দেশের প্রতি ইঞ্চির ম্যাপ। প্রয়োজনে মাউসের এক ক্লিকেই যেন জানা যেতে পারে বন্যা উপদ্রুত এলাকার আপডেট; ঠিক কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। ধরা যাক, সাপের কামড়ের প্রতিষেধক, এটা যে এক্ষণ বড়ো প্রয়োজন। একটা টিম এটা চাওয়া মাত্রই হেলিকপ্টার উড়ে গিয়ে দিয়ে আসবে।
সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপশি, যে সমস্ত মোল্লারা গাট্টি-বোঁচকা নিয়ে ধর্মপ্রচার করেন এদের অংশগ্রহন করানো যেতে পারে। বন্যায় যেখানে সৃষ্টির সেরা জীব নরকযন্ত্রণা ভোগ করছে সেখানে ধর্মপ্রচার আপাতত কিছুদিনের জন্য মুলতবি রাখলে ১টা আসমান ছিটকে পড়বে না নিশ্চয়ই! এমনিতে সিভিলিয়ানরা, যারা এই মিশনে অংশগ্রহন করবেন, অংশগ্রহনে এদের পযাপ্ত র্ট্রেনিং, অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে দুর্দান্ত কাজে আসবে।

আগে থেকেই ফান্ড আলাদা করে রাখা হবে। কোত্থেকে ফান্ড আসবে? আইডিয়া চাইলে সে দেয়া যাবে নে। এমনিতে প্রত্যেকবার ফান্ড উঠানো শুরু হয় বন্যা শুরু হবার পর, রয়েসয়ে। এটা পরবর্তীতে ঠিক কতটা কাজে লাগে আমার জানা নাই- অন্তত মৃত মানুষের কোন কাজে লাগে বলে তো মনে হয় না!

মিশন পসিবলের যুদ্ধ শুরুর আগে মস্তিষ্কে একটামাত্র তথ্যই কেবল ঘুরপাক খাবে, একজনকেও মরতে দেয়া যাবে না; একজনকেও না। বাই এনি চান্স, কেউ মারা গেলে এটা হবে ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা পুরা টিমের ব্যর্থতা। সামরিক কায়দায় বাজবে বিউগল, ধর্মীয় কায়দায় হবে মানুষটার দাফন, মানবিক কায়দায় ওই টিমের সমস্ত লোকজনরা মাথা নীচু করে রাখবেন খানিকক্ষণ- এটা যে তাদের ব্যর্থতা!

মিশন পসিবল। একটি স্বপ্নের নাম। আফসোস, আমাদের দেশে স্বপ্নবাজদের বড়ো অভাব। আর আমরা নিজেরা তো স্বপ্ন দেখাই ভুলে গছি...”।

*এই পোস্টে খানিকটা সংশোধনী হবে। প্রায় হুবহু এই লেখাটা অন্য একটা ওয়েব-সাইটে দেয়ার পর মাহবুব সুমন খানিকটা ভুল ধরিয়ে দেন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা।
তিনি লেখেন: "আমাদের তথাকথিত মেধাবী সেনাবাহিনীরতো ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট এর কোনো রকম ট্রেনিং নাই। ...
তবে দুর্যোগে আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি থাকে না এটা মনে হয় পুরুপুরি ঠিক না।"
আমার বক্তব্য ছিল: "ভাল একটা পয়েন্ট বলেছেন। আমি খানিকটা শুধরে নিচ্ছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিক বলেছেন এদের ডিজাষ্টার ম্যানেজমেন্ট-এর ট্রেনিং নাই।
আমি মনে করি, একজন মানুষকে কত দ্রুত মেরে ফেলা যায় এই ট্রেনিং-এর চেয়ে, একজন মানুষকে কত দ্রুত বাঁচানো যায় এই ট্রেনিং সহজ। এদের শিখতে সময় লাগার কথা না।
শিখবে।

ডিজাষ্টার ম্যানেজমেন্ট কেন জরুরী এর উদাহরণ দেয়া যায়। আমেরিকার মত দেশ, সব আছের দেশ। অথচ ক্যাটরিনা যখন আঘাত করল তখন নিউ অর্লিন্সে মানুষ চিকিৎসার অপ্রতুলতায় অসহায়ভাবে মরছিল। তখন পাশের বন্দরে uss bataan জাহাজটি ছিল। যে জাহাজে ছিল ৬টি অপারেটিং রুম এবং ৬০০ হসপিটাল বেড। কিন্তু ওই জাহাজকে কোন কাজেই লাগানো হয়নি। এই জাহাজের ১২০০ নাবিক বসে বসে মশা মারছিল। এটাও ডিজাষ্টার ম্যানেজমেন্ট না-থাকার কুফল।

এদের এখানে প্রকৃতিক বিপর্যয় হয় কালেভদ্রে কিন্তু আমাদের তো নিয়ম করে। অন্তত মিনিমাম প্রস্তুতি যদি আমাদের না থাকে তাহলে বেদনার শ্বাস ফেলে বলতেই হয়, আমাদের প্রাণ, কেজি দরের প্রাণ!

এমনিতে এও সত্য, আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর মহাশয়গণ তো আবার গরম মেজাজের লোক। ত্রানের সঙ্গে ফাউ বেত পেলে ওই ত্রান পিষ্টকখন্ড মনে হবে। এখানে উল্লেখ করা যায় থাই সেনাবাহিনীকে একবার বলা হয়েছিল, হাসিমুখে থাকার জন্য। যেন জনগণ তাদের সঙ্গে একাত্ম বোধ করে। আইডিয়া খারাপ না।

এমনিতে আমাদের সেনাবাহিনী আবার বিচিত্র কারণে বৈদেশে জাতিসংঘ মিশনে অতুলনীয় কাজ দেখান। সিয়েরো লিওন-এর জনগণ তো আমাদের সেনাসদস্যদের কর্মকান্ডে মুগ্ধ হয়ে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসাবে বাংলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আল্লা জানে, নিজেদের দেশের জনগণ দেখলে কেন এদের মিজাজ খারাপ হয়।
..............
লিখেছিলাম, প্রস্তুতি থাকে না। এটা আক্ষরিক অর্থে গ্রহন করার প্রয়োজন নাই।
যেটুকু থাকে তাকে প্রস্তুতি বলা চলে না। গত বন্যা বা এর আগে ঠিক মনে নাই। ওই সময় ওর-স্যালাইনের তীব্র সঙ্কট। অনেক জায়গায় একেকটা স্যালাইন ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল। স্যালাইনের অভাবে ছোট-ছোট বাচ্চা মারা যাচ্ছিল।
এই নিয়ে গা করা অবকাশ আমাদের কই! ওষুধ কোম্পানীগুলো, এর সঙ্গে জড়িত লোকজনের সেকি আনন্দ! ‘ইশকুল খুইলাছে মাওলা’ টাইপের- হরিলুট শুরু হয়ে গিয়েছিল। সরকারী অধিকাংশ হাসপাতালে স্যালাইন ছিল না। সরকারকে এটা কী আমার মত অগাবগার বলে দিতে হবে, বন্যার পর স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যায়?

কেবল সরকারকেই দোষ দেই না। আমরা আম-পাবলিকও কম যাই না। এমনিতে প্রতি শ্বাসে আল্লার নাম নিতে নিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্য়োগের পর চিড়া, গুড়ে, স্যালাইনের দাম কেন বেড়ে যায়, এটা কার কাছে জানতে চাইব?
বিচিত্র দেশ! জিনিসপত্রের দাম লাগামছাড়া হয় রমজান মাসে-সিয়ামের মাসে। সবচেয়ে বেশি ঘুষ চালাচালি হয় রমজান মাসে।
এসবে আমাদের কোন বিকার নাই।
বড় ধর্মভীরু আমরা। এমনিতে পান থেকে চুন খসলেই ধর্ম গেল রে বলে রব উঠে- আকাশলোকের বাসিন্দার পর্যন্ত ঘুম ভেঙ্গে যায়।

সশস্ত্রবাহিনীর কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছিলাম। এই কারণে না যে, এদের প্রতি আমি বিশেষ মমতায় মাখামাখি হয়ে আছি। এদের ট্রেনিং-এর অনেক কিছুই এখানে কাজে লাগবে বিধায়।
পৃথিবীর অনেক দেশে বেসামরিক লোকজন বিভিন্ন মেয়াদে সামরিক ট্রেনিং নেয়। কেউ কাজে, কেউ শখ করে। পরবর্তীতে এই ট্রেনিং বিভিন্ন কাজে লাগে। দেশের জন্য, তার নিজের জন্য।
আমাদের দেশেও এটা চালু করা গেলে মন্দ হয় না। ফাঁকতালে সশস্ত্রবাহিনীর বাড়তি আয় হবে। তবে সমস্যাও আছে। টাকার জন্য হয়তো আমার মত সাধারণরা বাদ পড়ব। কিন্তু ঠিকই গালকাটা রমজান, পেটকাটা রব্বান ট্রেনিং নিয়ে ভজকট করে ফেলবে- আগে যে ভুলভাল করত, এখন আর করবে না! কী মোলায়েম করে গাল কাটা যায়, পেট কাটা যায় এটা রপ্ত করে ফেলবে। কে জানে, হয়তো বা অজান্তেই আমাদের মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবে, ভাইয়ের হাতে যাদু আছে।

মুশকিল হচ্ছে, সশস্ত্রবাহিনীর লোকজনরা ব্যারাক থেকে বের হওয়ামাত্রই নিজেদের মত অন্যদেরকে বানাবার ফিকির খোঁজে। আমার চুল ছোট তো সবার চুল ছোট থাকবে। আমার চেহারা রোবটের মত তো সবার চেহারা রোবটের মত থাকবে। ফুল-শ্লীভ শার্টের হাতা গুটিয়ে রেখেছে কে রে? বান…, ব্যাটন দেখছো, এইটা তোমার…।
কই, আমরা ব্লাডি সিভিলিয়ানরা তো তাদের কাছে জানতে চাই না, তুমি কেন হুবহু আমাদের মত না?

এরা যখন হেলমেট না থাকার অপরাধে প্রকাশ্যে, স্ত্রীর সামনে তার স্বামীকে কান ধরে উঠবস করায় তখন একটা সভ্যতা মৃত্যু হয়। এই ট্রেনিংটা এদের কে দেবে?
এরা ট্রেনিং-এর এই অংশটা পুরাপুরি বিস্মৃত হয়। সামান্য একজন সৈনিকের সঙ্গে তার বউ থাকলে এবং ওই সৈনিকের সাথে জেনারেলের দেখা হলেও সে স্যালুট করবে না, জাস্ট সালাম দেবে। এটা করা হয়েছে স্ত্রীর কাছে তার সৈনিক স্বামীর সম্মানার্থে।

আফসোস, এরা এটা বিস্মৃত হয়, এদের বাবা-মা, ভাই-বোন সামরিক না, বেসামরিক লোক। এরা চুল বড় রাখতে পারে, এরাও বন্যায় ভেসে যেতে পারে, ঝড়ে উড়ে যেতে পারে, লঞ্চ ডুবে মরতে পারে!"

ছবিঋণ: প্রথম আলো

Sunday, July 13, 2008

সব কারাগার গুড়িয়ে দিতে হবে

আমাদের দেশে এখন আর কারাগারের প্রয়োজন নাই। কারাগারের আবশ্যকতাই বা কী! অপরাধ, অপরাধি নাই তো কারাগার কেন?
পত্রিকায় দেখে আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলাম। আংশিক পড়লাম, বাকিটা কই? যারা এই কান্ডটা ঘটিয়েছে এদের আটকে কারাগারে ঢোকাবার খবরটা কই? নেই তো নেই।

মানে? এদের কি খুজেঁ পাওয়া গেল না? তা কি করে হয়? ভিডিও ফুটেজ দেখে অনায়াসে খুজেঁ বের করে ফেলার কথা।
তাহলে? তাহলে কি এটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না? এটা অপরাধ না হলে আমাদের দেশে কোন অন্যায়ই অপরাধ না। আর অপরাধ না থাকলে কারাগারের প্রয়োজন কী! সব কারাগার নিমিষেই গুড়িয়ে ফেলা হোক- খালি জায়গায় ধান চাষ করা হোক, চালের বাজার যদি খানিকটা কমে। গরিব বেঁচে যায়।

গুরুতর কোন অপরাধের তেমন প্রমাণ ছিল না তারপরও নাত্সী কানেকশন থাকায় এত বছর পরও গুন্টার গ্রাসের সত্যর মুখোমখি না হয়ে বাচোঁয়া নাই। সত্যটা স্বীকার না করে পারেননি।
সত্য হচ্ছে রক্তের দাগ- ৩৭ বছর কেন ৩৭০ বছরেরও মুছে ফেলা যায় না (লিংক)

আর এখানে হাজির আমাদের সোনার সন্তানেরা যেসব নসিহত করলেন?
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির? তিনি নাকি জানতেন না কাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন! বেশ, যা হোক! আপনার কি যে কেউ ডাকলেই চট করে চলে আসেন- এত সহজলভ্য, বাদামের খোসা?

যাক, এখন তো জেনেছেন? এখন কেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছেন না?

সাবেক জ্বালানী উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান? আপনার দেখি খুব রাগ ২৬শে মার্চ ভারতীয় জেনারেলকে এনে স্বাধীনতার চেতনাকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে বলে। বাহ বেশ! ভারতীয়রা যে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ করেছে এটা কি সত্য না? নাকি এটা ইতিহাস থেকে মুছে দেবেন?
আচ্ছা, আপনি যে এই অনুষ্ঠানে এসে খুব লম্বা লম্বা বাতচিত করছেন, আপনি কি ভুলে গেছেন এই আপনাকেই রাজাকার বলায় কী ক্ষুব্ধই না হয়েছিলেন!(লিংক)

বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালকের বক্তব্য বলিহারী। ওনার কঠিন বক্তব্য, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়েঁ পড়া সময়ের দাবী। এটা সত্য ভারতের দাদাগিরি অসহ্য কিন্তু আপনি যে বক্তব্য দিলেন এটা কি ভেবেচিন্তে বলেছেন? এমন একটা দায়িত্বশীল পদে থেকেছেন যখন আপনার নিশ্চয়ই জানার বাকি নাই আপনার দাবি কতটা হাস্যকর...! আপনার একটা অর্বাচীন মন্তব্যর কারণে আমরা যে মেরে-কেটে সাফ হয়ে যাব, আপনার জিহ্বার নিচে রাখা মস্তিষ্কের কারণে!

Thursday, July 10, 2008

চোখ খুললেই আবর্জনা ঢালো।

প্রথম আলোর শ্লোগান ‘চোখ খুললেই প্রথম আলো’। এটা অন্য পত্রিকার বেলায়ও প্রযোজ্য।
শ্লোগানটা মন্দ না- সকালে চোখ খুলে পত্রিকায় চোখ না বুলালে অনেকের হাগু হয় না। যেদিন পত্রিকা বের হয় না সেদিন কি হয় এটা নিয়ে খানিকটা চিন্তায় আছি। হাগুর বিদ্রোহ বিষয়টা আনন্দের না!
পত্রিকাঅলারা আমাদেরকে প্রথম আলো দেখাবেন, না শেষ আলো সেটা তারাই ঠিক করেন- এতে আমাদের কোন হাত নাই! পত্রিকাওয়ালারা পণ করেছেন দুনিয়ার যাবতীয় মন্দ বিষয়গুলো প্রথম পাতায় ফলাও করে আমাদেরকে ঘটা করে সক্কাল সক্কাল জানাবেন। দিনের শুরুতেই মন্দ বিষয়, হতাশা নিয়ে আমাদের দিন শুরু। এ থেকে আমাদের নিস্তার নাই।
একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে প্রথম পাতায় হত্যা, মৃত্যু, খুন-খারাপি আর নামকরা অপদার্থদের অশ্লীল অমৃতবাণী। অশ্লীল বললাম এ কারণে, বছরের পর বছর ধরে কেউ কারো মুখদর্শন করতে রাজি না কিন্তু এখন বেকায়দায় পড়ে বলছেন, গণতন্ত্রের খাতিরে, মুখ কেন গোটা শরির দর্শনেও আপত্তি নাই, আলোচনায় বসতে মালকোঁচা মেরে তৈরি হয়ে আছেন!

ধরা যাক, আজকের প্রথম আলো (০৯.০৭.০৮)। প্রথম পাতায় অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে আছে ‘ব্যবসা জমজমাট, যাত্রীরা জিম্মি’। ঢাউস ২টা ছবিসহ সি এন জি স্কুটার, ক্যাবের হা বিতং করে বিশাল কাহিনি। এটা তো বিশেষ সংখ্যাও দেয়া যেত। নিদেনপক্ষে পেছনের পাতায়, ভেতরের পাতায় দিলে সমস্যা ছিল না। নাকি এরচেয়ে জরুরি সংবাদ দেয়ার মত ছিল না?

আজকেই শেষ পাতায় সিংগেল কলামে একটা খবর ছাপা হয়েছে হেলাফেলা ভঙ্গিতে। তুচ্ছ একটা খবর- ছাপা যে হয়েছে এই তো ঢের!
ঘটনা সামান্য। দিনাজপুরের ১৯ বছরের শাহিদ হোসেন নামের এক যুবক জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুত উত্পাদনের কৌশল আবিষ্কার করেছেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলন করে হাতেনাতে একটি প্লান্ট থেকে জ্বালানি ছাড়াই ৩০ কিলোওয়াট বিদ্যুত উত্পাদন করে দেখান। তাঁর দাবী, এটা ১০০ ভাগের ১ ভাগ কম খরচে করা সম্ভব এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।
সম্মেলনে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যতীত প্রায় ১ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে এমন কেউ কি ছিলেন না যিনি এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ? যিনি বলতে পারতেন শাহিদ প্রমাণ করে দেখিয়েছেন? কারণ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে শাহিদ দাবি করেছেন। দাবি আর প্রমাণ এই দুইয়ে যোজন দুরত্ব। অনুমান করি, বিশেষজ্ঞ স্যাররা দেশ উদ্ধারে ভারী ব্যস্ত বিধায় এমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদেঁর মুল্যবান মাথা খরচ করার মত সময় ছিল না! আর ঢাকা নামের আবর্জনার শহর থেকে বাইরে পা ফেলতে এদেঁর বড় আলস্য । এর সংগে যোগ হয় মফ:স্বলের প্রতি নিদারুণ তাচ্ছিল্য- গোদের ওপর বিষফোড়া!

এই অভাবনীয় কান্ড করেছেন শাহিদ নামের যে মানুষটা, তাঁর ছবি ছাপার প্রয়োজন বোধ করেনি প্রথম আলো।
অথচ আজই প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে ডালের ছবি। ‘প্রতিদিনই বাড়ছে সব ধরনের ডালের দাম’ সংগে ডালের ছবি। ডালের ছবি না ছাপালে আমাদের জানাই হত না ডাল দেখতে কেমন হয়- চালের মত, নাকি বুদ্ধিজীবীদের খালের মত!

Wednesday, July 9, 2008

স্যাররা শেখান, আমরা শিখি।

কথিত আছে, আইয়ুব খান নাকি একবার তার বহর নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় শববাহী একটা গাড়ি পেছন পেছন আসছিল, সুযোগ থাকা পরও ভয়ে এগুচ্ছিল না, আইয়ুবের গাড়ি অতিক্রম করছিল না যদি আইয়ুব খান চটে যান।

কিন্তু বিষয়টা যখন আইয়ুবের চোখে পড়ল তিনি শববাহী গাড়িটাকে দাঁড় করালেন, স্যালুট করলেন, আগে যেতে অনুরোধ করলেন।

একজন মৃত মানুষের প্রতি সম্মান, শেষ সম্মান! এই সম্মান না-জানালে ওই মৃত মানুষের কিছুই যায় আসে না কিন্তু জীবিত মানুষগুলো নগ্ন হয়ে পড়ে!

জানি না এখনো নিয়মটা চালু আছে কিনা (এটা একজন ডাক্তারের মুখ থেকে শোনা) মেডিকেল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের যখন ব্যবচ্ছেদ শেখানো হয় তখন মেয়েদেরকে হাতের অলংকার খুলে যেতে নির্দেশ দিতেন অধ্যাপকরা। কারণ ওই, মৃতদেহের প্রতি সম্মান।

ছবিটা একজন শিল্পপতির। অপহরণ করার পর, দীর্ঘ সময় তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার শরীরের হাড় উদ্ধার করা হয়। এবং ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়।
এই ছবিতে আমাদের দেশের নামকরা পরফেছর(!) সাহেবদের (যাদের নাম শুনে মেডিকেলের ছাত্ররা ছড় ছড় করে ইয়ে ত্যাগ করে) দেখা যাচ্ছ। তেনারা (পড়বেন, ইনারা) হাড়ের পেছনে কতটুকু মাংস লেগে আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

তা বেশ! কিন্তু দেখুন দিকি, কোথায় স্যারদের পা আর কোথায় হাড়! ইয়ে, এটা কিসের হাড় যেন ভুলে গেছি! যাগগে, এটা তো আর আমার-আপনার বাবার মৃতদেহের হাড় না। সমস্যা কি...।

এই স্যাররাই বড় বড় ইশকুল খুলে আমাদেরকে শেখান কিন্তু এদের শেখাবার ইশকুলটা কোথায়?

Sunday, July 6, 2008

আবার যেদিন তোমরা বইমেলায় যাবে…

কত বছর, কত বছর হবে? দশ, এগারো, বারো, তেরো, পনের বছর? এত বছরের মধ্যে কেবল এবারই একুশের বইমেলায় যাওয়া হল না। আমি স্পষ্ট মানষচক্ষে দেখতে পাচ্ছি, অনেকের কপালে ভাঁজ পড়ছে এটা ভেবে, ব্যাটা বলতে চাইছে কী, ৩ টাকার কলমচীর বিরহে বইমেলা মুখ কালো করে রেখেছিল নাকি?
নারে বাহে, কারও কোন ক্ষতি-বৃদ্ধি হয়নি কিন্তু না যাওয়া বেদনার দগদগে ক্ষতটা এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি। জানি না কবে নাগাদ এটা বয়ে বেড়াব, হয়তো আমৃত্যু?
এবারের মেলায় অনেকে অনেক মাস্তি করলেন, এইসব রসালো কাহিনি পড়ে ঠান্ডা শ্বাস ফেলা ব্যতীত আমার কিই-বা করার ছিল!

আমার সুহৃদদের অনেকেই তাদের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, অনেকে ব্যক্তিগত অপমান হিসাবে ধরে নিয়েছেন।
একজন সুহৃদকে ফোন করলাম, মেলায় কেমন মাস্তি করছেন, মহতরাম?
তিনি আলাদা গাম্ভির্য এনে বললেন, ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করব।

ফেব্রুয়ারি গেল, জুলাই গেল মহতরম আর ফোন করেননি। মহতরাম ফোনের অপেক্ষায় থেকে থেকে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
এক মহতরমা রাগের চোটে ফোন নাম্বারই বদলে ফেলেছেন। হায়রে বালসুলভ আচরণ- আমর চেয়েও অপক্ক!

সচরাচর আমরা হাসিই দেখি, দেখতে পছন্দ করি। আহা, আমি তো ফটো না যে হাসিমুখের ছবি দিব্যি ঝুলতে থাকবে, যদ্দিন আপনি চাইবেন।
যান্ত্রিক এ সময়ে হাসির পেছনের বিমর্ষতা দেখার অবকাশ কোথায়? আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা কত দ্রুত নাগরিক হতে পারি, জাতে উঠতে হবে যে।
আপনারা কেবল নিজেদেরটাই দেখলেন হে…আমি শ্লা কি করি, রঙ্গ করি?

বইমেলায় আমার এককানা কিতাব বাহির হইয়াছিল- আমার বুঝি ইচ্ছা করেনি বইখানার মুখদর্শন করতে। উমম, নিজের আনকোরা বইয়ের গন্ধটা কেমন? আমার তো মনে হয় বিস্মৃত হয়ে আসা ভূমিষ্ঠ শিশুর গায়ের গন্ধ। বাহে, কোন পিতাকে জিজ্ঞেস করিয়েন, নিজের সন্তানকে ছুতেঁ না পারা রঙ্গ, কেমন রঙ্গ…।

Saturday, July 5, 2008

ওড়া, তোরা সব কেতন ওড়া।

দেখে যেতে কি পারব, বাংলার ঘরে ঘরে কেতন উড়ছে পতপত করে? কি জানি, সময়ই এটা ঠিক করে দেবে। তবে দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি আশাবাদী।


ফ্রান্স দেশটা নাকি লা-জবাব। প্যারিস নাকি আরেক কাঠি সরেস। কেন নয়, ফ্রান্স থেকে প্যারিসের দূরত্বই বা কী(!), প্যারিসের তুলনা এ গ্রহে আর কোথায়! প্যারিসে না গেলে নাকি মননশীল বলে দাবি করাটা পাগলামির পর্যায়ে পড়ে। শিল্প-টিল্পর সূতিকাগৃহ- প্যারিসের গর্ভযন্ত্রণার নাকি শেষ নাই, কী কষ্ট! মেলা খরচ, নইলে ঠিক প্যারিসগামি হাওয়াইযানে উঠে পড়তুম। বসার জায়গা না পেলে দাঁড়িয়ে গেলে আটকাত কে(!)


এই ফ্রান্স যা দেখাল সম্প্রতী, পাথর হব, না নিথর এটা নিয়ে থিসিস সাবমিট করা যেতে পারে। এক মোছলমান বাসর রাতে আবিষ্কার করেন তাহার ইস্তারি সাহেবার হাইমেন নাই। তো? যাহ, তোর লগে ভাত খামু না। ফলাফল বিবাহ ভাংগিয়া দিতে চাহি। ওই মোছলমান-বাদীপক্ষের আইনজীবী হ্যাভিয়ার লাব্বির আবেদনে প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের আদালত ওই মোছলমানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এমনকি ওই দেশের বিচারমন্ত্রী রাসিদা দাতিও ওই মোছলমানের পক্ষে তার মত দেন।


মোছলমানের দেশ বলে কথিত দেশগুলোর অনেক দেশে কঠিন নিয়ম করে যেটা পালন করা হয় সেটা হচ্ছে, কনের মাথায় গ্রে-মেটার আছে কি নাই সেটা আলোচ্য বিষয় না, হাইমেন থাকলেই হল, ব্যস। জ্বালানী তেলেভাসা পুরুষপুঙ্গব ব্যাটাদের বোঝাবার সাধ্য কার, হাইমেন অটুট না থাকার হাজারো সাধারণ কারণ থাকে। কেবল শৈশবের দৌড়-ঝাপই যথেষ্ঠ।

আহা, তাই বুঝি মেয়েদের শান্ত-শিষ্ট থাকতে বলা হয়? নইলে মুরুব্বীরা যে বড় নাগ(!) করেন।
এখনও চালু আছে কি না জানি না, ইরাকে ১০ বছর আগেই নিয়ম ছিল, বরের বাড়িতে উঁচু করে ঝোলানো আসল(ভালবাসা-বাসির ফসল) কাপড়ের লাল নিশান। যেন সবাই জেনে যেতে পারে বরের ইস্তারি সাহেবার হাইমেন অটুট।
আমি সেদিন পরম করুণাময়কে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম, আমার জন্ম সেই দেশে হয়নি বলে। ওহো, এটা বলিনি বুঝি, চুপিচুপি কতবার যে গডের কাছে বলেছি ফ্রান্স-ট্রান্সে জন্ম নিলাম না কেন, কি মোর অপরাধ!

মো: কদু আর মো: বিড়াল, এইসব নিয়ে আমাদের দেশ যেভাবে এগুচ্ছে, ইনশাল্লা, অচিরেই দেখব বাড়ি বাড়ি কেতন উড়ছে, লাল…।

Friday, July 4, 2008

একটা চর্পট- ১৫ কোটি কুপোকাত!

এও কি সম্ভব? একটা চড় দিয়ে ১৫ কোটি মানুষকে ফেলে দেয়া, তাও একজন মহিলার পক্ষে?
এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন একজন থাই মহিলা, পিয়াথ সারাপক ডি কস্তা। তাঁকে সহায়তা করেছেন একজন বংগাল, মি. মহিউদ্দিন আহমেদ ফারুকী। এই বংগালের জন্য আমরা গোটা দেশের মানুষ আজ গর্ভিত(!) হয়ে পড়েছি। ওহে ভদ্দরনোক, আমাদের সেলাম নেন গো।


এই ভদ্দরনোক একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), তিনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টাপোলের ৩ দিনের একটি আঞ্চলিক সম্মেলন শেষে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই থাই মহিলার সংগে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মহিলা তাকে চড় মারলে হইচই পড়ে যায়। 
মহিলার এককথা, এই ভদ্দরনোক তার ব্যাগ থেকে মোবাইল চুরি করেছেন। বিমানবন্দরে বাজার জমে যায়। বিভিন্ন সংস্থার লোকজনরা চাপাচাপি করলে বাধ্য হয়ে মি. ফারুকী তার পকেট থেকে ওই মহিলার মোবাইল বের করে দেন।
পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দু:জনক।

আহা, এতে বেদনার কি আছে! না হতে রামায়ন একটা কান্ড হল, পুলিশ আর পুরীষ কি একাকার হলো, এ গবেষণা থাকুক। এই মানুষটার কারণে আমরা ১৫ কোটি মানুষ চড়ের দাগ নিয়ে পৃথিবীময় ঘুরে বেড়াব, এ কী কম পাওয়া? সবুজ পাসপোর্টটা যখন বাড়িয়ে দেব, স্যুট পরে থাকলেও কুঁকড়ে যাব, এইরে, গোপনাঙ্গ দেখে ফেলল বুঝি। ফেলুক, তাতে কী আসে যায় ? মানুষ তো এক সময় যন্ত্র ঝুলিয়ে , দেখিয়েই বেড়াত, ঢেকেঢুকে রাখা শিখল এটা আর ক-দিনের মামলা ।

Thursday, July 3, 2008

জজ সাহেব- দ্বিতীয় ঈশ্বর!

পিরোজপুরে আলোচিত এসিড সন্ত্রাস মামলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন, ১৩ জুলাই ২০০৪-এ। হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করেছেন। আপাততদৃষ্টিতে ঘটনা সামান্য।
কিন্তু হাইকোর্ট এও বলছেন, 'এই আদেশ দেয়ার ক্ষমতা ওই জজের নাই'। পরে ওই ওই জজ সাহেব স্বীকার করেছেন, এই রায় দেয়ার এখতিয়ার তার নাই, এটা তার জানা ছিল না। (প্রথম আলো: ০১.০৭.০৮)


ছোট্ট সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফাঁসির দন্ড পাওয়া আসামী হাহাকার করা একটা প্রশ্ন করেছেন, সাড়ে চার বছর ফাসিঁর প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করেছি, কে ফিরিয়ে দেবে আমার এই সাড়ে চার বছর?
পাগল! ফিরিয়ে দেয়ার কথা আসছে কোত্থেকে এখানে? জজ সাহেব যেখানে বলছেন এটা উনার জানা ছিল না এরপর এই প্রশ্ন করা বাতুলতা মাত্র!
বাস্তবতা হচ্ছে, এই ৩ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল যে মানুষটাকে এসিডে চুবিয়ে মারা জন্য ওই মানুষটার ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়, মৃতের শরীরে এক ফোঁটা এসিডের চিহ্নও ছিল না। অন্য রিপোর্টে জানা যায়, মানুষটাকে জনতা পিটিয়ে মেরেছিল এক মহিলাকে বিবস্ত্র করার জন্য। কোর্টেও এই রিপোর্টগুলোও দেয়া হয়েছিল, জজ সাহেবের এখতিয়ার নাই এটাও বলা হয়েছিল, তারপরও এই ফাসিঁর আদেশ। এবং এই মামলায় রাজনৈতিক চাপ ছিল বলে জানা যায়।
কী আর করা, জজ বলে কথা! জজ সাহেবদের নিয়ে কথা বলে এমন সাহস কার?


হুমায়ূন আহমেদ এক লেখায় জজদের নিয়ে লিখে কঠিন বিপদে পড়েছিলেন।
‘দরজার এপাশে’ উপন্যাসে একটা সংলাপ ছিল এমন, ‘…আগে জাজ সাহেবরা টাকা খেতেন না। এখন খায়। অনেক জাজ দেখেছি কাতলা মাছের মত হা করে থাকে’।
ব্যস, তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এ নিয়ে ক’জন বিচারপতি হুমায়ূন আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন হাইকোর্টে। ৪৮ জন বিচারপতি একাট্টা হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন এই লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার খুব অবাক লেগেছিল আমাদের তাবড়-তাবড় লেখকরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের কালি খরচ করতে তকলিফ করেননি। কেবল আসাদুজ্জামান নূর এই লেখকের পক্ষে কলম তুলে নিয়েছিলেন অথচ তিনি কলমবাজি করেন না।
হুমায়ূন আহমেদকে বলা হয়েছিল ক্ষমা চাইলে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু তিনি অনড়, তিনি ক্ষমা চাইবেন না। তাঁর মতে, তিনি কোন অন্যায় করেননি।
হুমায়ূন আহমেদের এই সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কেবল হ্যাটস অফ বলে তেলিবেলি আমি ক্ষান্ত হলে বেঁচে যেতাম কিন্তু আমার ৩ টাকা দামের কলম বড় যন্ত্রণা করছিল, শ্লা কলম!
যে পত্রিকায় টানা দেড় বছর লিখছিলাম ওই পত্রিকায় এই প্রসঙ্গে যে লেখাটা দিয়েছিলাম, ছাপা হয়নি। লেখাটা পাতে দেয়ার মত না এটা বললে সমস্যা ছিল না কিন্তু আমাকে বলা হয়েছিল বিষয়টা সংবেদনশীল তাই ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উত্তম।
আচ্ছা, সংবেদনশীলের মানে কী? গু টাইপের কিছু , যে এটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা যাবে না?
পরে ‘একালের প্রলাপ’ বইয়ে ছাগলা দাড়ি- হুমায়ূন আহমেদ নামে ছাপা হলো। ভাগ্যিস, প্রকাশক লেখাটা নিয়ে আপত্তি উঠাননি। দুগগা-দুগগা!


ওই লেখাটা সংক্ষেপিত করে এখানে দিচ্ছি:
" ছাগলা দাড়ি- হুমায়ূন আহমেদ।
হুমায়ুন আহমেদ লিখেছেন আজকালকার জজ সাহেবরা টাকা খান। তিনি তো আর এটা বলেননি ওই বিচারালয়ের অমুক মাননীয় জজ সাহেব টাকা খান। আমাদের এ নাট্যমঞ্চে বিচারক এক অন্যরকম স্রষ্টা- তাঁর কলমের খোঁচায় অন্ধকার হঠে উঠে আসে আলো। কিন্তু বিচারক তো আর ঐশ্বরীক কিছু না- তিনি প্রথমে মানুষ এরপর বিচারক। সমাজে থেকে কেউ সমাজ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না। পার্থক্যটা হলো অনুপাতের। বিচারকরা দুর্নীতি করছেন এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। সমপ্রতি প্রকাশিত হয়েছে, দুর্নীতির দায়ে তিনজন বিচারক সাময়িকভাবে বরখাস্ত। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক আদেশবলে এসব অভিযুক্ত জজদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও আছেন।

হুমায়ুন আহমেদের পূর্বে অসংখ্য লেখক বিচারকদের নিয়ে লিখেছেন।

রবিঠাকুর ‘বিচারক’ গল্পে লিখেছেন:
"জজ মোহিত মহন দত্ত স্ট্যাট্যুটরি সিভিলিয়ান। তাঁহার কঠিন বিচারে ক্ষীরোদার ফাঁসির হুকুম হইল। হতভাগিনীর অবস্থা বিবেচনা করিয়া উকিলগন তাহাকে বাঁচাইবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করিলেন কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য হইলেন না। জজ তাহাকে তিলমাত্র দয়ার পাত্রী বলিয়া মনে করিতে পারিলেন না। না পারিবার কারণ আছে। একদিকে তিনি হিন্দু মহিলাগনকে দেবী আখ্যা দিয়া থাকেন। অপরদিকে স্ত্রীজাতির প্রতি তাঁহার আন্তরিক অবিশ্বাস । …মোহিত যখন কালেজে পড়িতেন তখন বেশভূষায় বিশেষ মনোযোগ ছিল, মদ্যমাংসে অরুচি ছিল না এবং আনুষাঙ্গিক আরও দু একটা উপসর্গ ছিল"।


‘বিচারক’ গল্পের মূলভাব হলো এরকম যে ক্ষীরোদা আজবাদে কাল ফাঁসীকাষ্ঠে ঝুলবে সে চব্বিশ বছর পূর্বে বিধবা বালিকা ‘হেম’ ছিল। ‘বিনোদচন্দ্র’ ছদ্দনামে এক যুবকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে বালিকা ‘হেম’ এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল, ‘ বিনোদচন্দ্র’ যথানিয়মে একসময় বালিকার হাত ছেড়ে দেয়। বিশাল, নির্দয় পৃথিবীতে এই নি:সঙ্গ বালিকা কালে-কালে হল পতিতা ‘ক্ষীরোদা’। দুঃখ-কষ্ট, অভিমান, ক্ষুধায় একসময় গতযৌবনা ক্ষীরোদা তার শিশু সন্তানসহ কূপের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিশুটি মারা যায়- ক্ষীরোদা প্রাণে বেঁচে গেলেও আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারে না। শুরু হয় তার বিচার। যে জজ মোহিত মহন দত্ত এ পতিতাকে ফাঁসীর আদেশ দেন তিনিই ‘বিনোদচন্দ্র’ ছদ্দনামের সেই যুবক।

চালর্স ডিকেন্স ‘অলিভার টুইস্ট’-এ বিচারক সম্বন্ধে লিখেছেন, "মাননীয় বিচারক মি. ফ্যাঙ অত্যন্ত কৃশকায়- গরম মেজাজের লোক। ইনি অশক্ত শরীরে যতোটুকু সহ্য হয় এরচে’ বেশি মদ্যপান করেন। ফল যা হবার তাই হয়- সর্বদা মেজাজ টং হয়ে থাকে। তাছাড়া কদিন পূর্বে একটি দৈনিক পত্রিকায় তার লেখা মামলার এক রায়-এর কঠোর সমালোচনা বেরিয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, এ পর্যন্ত তিনশোবার বিচারক ফ্যাঙের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে…"।

‘দরজার ওপাশে’ একটি চরিত্র ফুফা, মাতাল অবস্থায় বলেন, "ওটা ছিল অভিনয়। আমি তোমাদের আসাদুজ্জামান নূরের চেয়ে ... ওই ছাগলা দাড়িকে ... হা-হা- হা"।
‘দরজার ওপাশে’ উপন্যাসে লেখক হুমায়ুন আহমেদ প্রস্তাবনায় লিখেছেন: যদিও আমি খুব গুরুত্বের সঙ্গে লেখাটি লিখেছি তবু বিনীত অনুরোধ করছি কেউ যেন গুরুত্বের সঙ্গে লেখাটি গ্রহণ না করেন।
প্রস্তাবনা অংশে বিনীত অনুরোধ করলেই লেখাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে না এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই।
মদমত্ত অবস্থায় এলোমেলো কথাবার্তা, আচরণ করা হবে এটাই মদের গুণ। কিন্তু এই মাতাল ফুফা হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টি। একজন লেখকের কী অপরিসীম ক্ষমতা- বদলে দিতে পারেন গোটা একটা সমাজ ব্যবস্থা, সচেতন করে তুলতে পারেন একটি জনগোষ্টীকে! যে কোনো বিষয়ে লেখার অধিকার তার রয়েছে।


কিন্তু সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে একজন স্রষ্টা হতে পারেন না। লেখকের সীমাবদ্ধতা, দায়বদ্ধতা, পাঠক, সমাজ, নিজের কাছে- নিজের সৃষ্ট কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে লেখক বাঁচতে পারেন না। একজন স্রষ্টা তার সৃষ্টির জন্যে অবশ্যই দায়ী- বিশেষ করে যে সৃষ্টির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা নেই। সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী বলেই একজন লেখক একটি মাতাল চরিত্র সৃষ্টি করে কারো নাম উল্লেখ করে অপমান সূচক সংলাপ বলাতে পারেন না। এ কুত্সিত রসিকতার অর্থ হলো সীমাহীন ক্ষমতার অপচয়, লেখালেখির বদলে কলম দিয়ে কান চুলকানো!

Wednesday, July 2, 2008

আমাদের কোন পরিচয় নাই।

আটকেপড়া পাকিস্তানিদের নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়: "দেশে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের মধ্যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক ছিল বা এর পরে যাদের জন্ম হয়েছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। সমস্ত নাগরিক সুবিধা তাদের প্রাপ্য"।

একটা ওয়েব সাইটে তখন চুটিয়ে লিখছিলাম। আটকেপড়া পাকিস্তানিদের নিয়ে একটা লেখা দিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলাম। আফসোস, লেখাটার মূল সুর অনেকেই ধরতে পারেননি।
অনেকে চোখ সরু করে আমার দিকে তাকাতে লাগলেন, আমি রাজাকার টাইপের কেউ বা রাজাকার ভাবাপন্ন। কে জানে, এই খোঁজও হয়তো লাগাতে শুরু করলেন, আমার নেটের বিল কারা দেয়। সংসার চালাবার পেমেন্ট মগবাজার থেকে আসে কি না?

অনেকের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। এদের মধ্যে কিছু বৈদেশি ভায়াদের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটা এই রকম, যেন সূর্যের চেয়ে বালির উত্তাপ বেশি। মন্তব্যগুলোর প্রিন্ট-আউটগুলো অনেকদিন পর আবারও পড়লাম। আফসোস, আঙ্গুরের রস সহযোগে সু-নিয়ন্ত্রিত ক্যালরিসম্পন্ন খাবার খেয়ে, নিরাপদ জীবন বেছে নিয়ে হিল্লি-দিল্লি ঘুরেও এদের দৃষ্টি কী সংকুচিত‍!
নামোউল্লেখ না করে একজনের খানিকটা সহনীয় মন্তব্য তুলে দেই। এখানকার শিশুদের নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে এমন, ‘এই জারজ সন্তানদের দায়িত্ব আমরা কেন নেব, জারাজদের সঙ্গে এদেরকেও মেরেকেটে সাফ করে ফেলতে হবে; সাপের বাচ্চা সাপই হবে…’।

এইসব নব্য মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভারী মুশকিল, ইনাদের আবেগ চুঁইয়ে দেশটায় বন্যা হয়ে যাওয়ার দশা। দুধের দুধ, পানির পানি- কে রাজাকার কে মুক্তিযোদ্ধা এরা ঠিক করে দেবেন। আমরা কিভাবে হাঁটব, কার কার সঙ্গে হাত মেলাতে পারব, কার সংগে খিচুড়ি খেলে পাপ হবে না এইসব এরা ঠিক করে দেবেন! আহা, কী কষ্ট গো আপনাদের, কারা কারা জানি আপনাদের স্কন্ধে এই জটিল দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। যাগ গে, এরা দেশের কাজ করুন আমরা কিছু অকাজই না-হয় করলাম।
ওই লেখাটা অনেক বড়, খানিকটা এখানে তুলে দিচ্ছি:

“একটি পাখির বাসা আছে
একটি গরুর গোয়াল আছে
একটি ঘোড়ার আস্তাবল আছে
একটি খরগোসের গর্ত আছে
সবাই বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব
আমরা ফিলিস্তানি, আমরা মানুষ(?)
আমাদের কোন আবাসভূমি নাই।”
(ফিলিস্তানি কবি মাহমুদ দারবিশ)
উপরে উল্লেখিত কবিতাটি যখন ফজলে লোহানী আবেগঘন গলায় আবৃতি করছিলেন, ফিলিস্তানিদের উপর একটা প্রতিবেদন দেখাবার পর; আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল, বুক ভেঙ্গে কান্না আসছিল।

সাধারণভাবে এদের বিহারী বলা হলেও…বিহারী একটি হিন্দি শব্দ। আক্ষরিকার্থে এর অর্থ দাঁড়ায় বিহারের অধিবাসি। বিহার ছাড়াও ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উড়িষ্যা, হায়েদ্রাবাদসহ বিভিন্ন প্রদেশের মুসলিমরা এসেছেন এখানে (এদের অনেকের ভাষা ছিল হিন্দি)।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তারা দাঙ্গার ভয়ে চলে আসেন এখানে। পাকিস্তানি সরকার এদের পরিচয় দেয় মোহাজির বা রিফিউজি। ভারত থেকে দাঙ্গার ভয়ে পালিয়ে আসা এই অভাগা জনগোষ্ঠি রাষ্ট্র হারায়। অথচ ১৯৫১ সালের জেনেভা কনভেশন অনুসারে এদের রিফিউজি বলার উপায় নেই।


…১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিহারিরা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার পক্ষ নেয়। বাঙ্গালী হত্যায় এদের ভূমিকা ইতিহাস স্বীকৃত। তবে এদের মধ্যে অনেকেই বিহারি বা হিন্দি, উর্দুভাষী সরাসরি অংশ নিয়েছেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে! শহীদ হয়েছেন অনেকে। অনেক বিহারী মুক্তিযোদ্ধা নিদারুন কষ্টেও এই দেশ ছেড়ে যাননি। (উদাহরণ বিহারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক, সৈয়দ খান। পরিবার-পরিজন সবাই তাঁকে ফেলে চলে গেছে এই দেশ ছেড়ে। কিন্তু তিনি এই মাটির মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। তাঁর সাফ কথা, 'এই দেশকে হামি কবুল করিয়ে লিয়েছি'।)
আবার ২৫ মার্চের গণহত্যার প্রতিবাদে বাঙ্গালীরাও হত্যা করেছে হাজার হাজার বিহারীকে।


ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে তাদের কেউই পাকিস্তানে ফিরে যেতে চান না। অথচ এই ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এরা। ৮ ফুট বাই ৮ ফুট ঘরের অমানবিক পরিবেশে বাস করেন একেকটি পরিবার। ক্যাম্পের টয়লেট এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা শোচনীয়। শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই অথচ বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ সনদে সাক্ষর করেছে। সেই অনুসারে শুধু বাঙালীই নয়, এই ভূখন্ডের সব শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

যুদ্ধশেষে আমরা পেয়েছি একটি নতুন দেশ, নতুন পতাকা, একটি পরিচয়! আর বিহারিরা পরিচয়হীন। আজও এদের কোন পরিচয় নাই। এরা কি বিহারি, রিফিউজি, আটকেপড়া পাকিস্তানি নাকি বাংলাদেশি? এলিয়েনও তো না, তাইলে কী? প্রত্যেকটা জিনিসের একটা নাম থাকে, নরকেরও একটা নাম আছে। আমি মনে করি এদেরও একটা নাম থাকা প্রয়োজন।

সুদূর সাইবেরিয়া থেকে যেসব পাখিরা এ দেশে অল্প সময়ের জন্য আসে এদের নিয়েও আমরা ভাবি, কাতর হই কিন্তু আমাদের চারপাশের মানব-সন্তান নিয়ে তিলমাত্র ভাবব না এ কোথাকার মানবতা? যুদ্ধক্ষেত্রে চরম শত্রুকেও তার ন্যূনতম অধিকার দেয়া হয় অথচ যুদ্ধের বাইরে ন্যূনতম ভাবনাও থাকবে না, এর কোন মানে হয়!


আইনের ফাঁকতালে গোলাম আজম, নিজামী গং এ দেশের নাগরিকত্ব পাবেন, আমাদের মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘোরালে কোন সমস্যা নাই। বয়স্ক একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাথি মারার অপরাধে এই মানুষটার গোপনাঙ্গের কেশও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। এতে সমস্যা নাই! কেবল সমস্যা এই ক্যাম্পের অবোধ শিশুদের বেলায়। কেন এরা নাগরিকত্ব পাবে না- এদের জন্ম তো এই দেশেই?

খানিকটা ঋণ: জব্বর হোসেন, মহিউদ্দিন নিলয়: সাপ্তাহিক ২০০০।

Monday, June 30, 2008

শাসক!

বাংগুরাদেশের এক শাসক। এই শাসক সাহেব ছিলেন আবার খুবই পীর ভক্ত। তিনি আটরশির পীরের দরবারেই গেছেন ১০০ বার, ফল কি পেয়েছেন, তিনিই ভাল বলতে পারবেন!

একসময় মনের দুঃখে খানিকটা পাগলা পানি খাওয়া শুরু করলেন। আটরশিকে বাদ দিয়ে দশরশি নামের একজন পীরের কাছে যাতায়ত শুরু করলেন। দশরশির পায়ে আছড়ে পড়লেন।


শাসক: বাবা, মনে শান্তি নাই!
দশরশি: থাকব কেমনে, তোরে আটরশি খাইছে! বেটা, তুই কি পিসাব খায়া আইছস, পিসাবের গন্ধ পাইতাছি!

শাসক: বাবা, পিসাব না একটু পাগলা পানি দিয়া কুলি করছিলাম। হইছে কি সকালে তো ওঠছি দেরীতে। চোখে জানি কি সমস্যা হইছে রাতে খালি ব্লু  দেখি- সবই নীল, ছবিও নীল! হা হা হা, কী তামশা ছবিও ব্লু  হয়া যায়! তো, রাতে ঘুমাইতে ঘুমাইতে দেরী হয়া গেল। সকালে তো ওঠছি দেরীতে, তাড়াহুড়া কইরা রুটি খাইতে গিয়া গলায় আটকায়া গেছিল। কী করি-কী করি, পাগলা পানি দিয়া একটু, হে হে হে।
দশরশি: বেটারে, বুজছি-বুজছি, আর কইতে হইব না, ইতা কইরা কুনু লাভ নাই! তুই ইয়ের মধ্যে মান্ডার তেল মালিশ করিস, ফল পাইবি। ইনশাল্লাহ, তোর পুলাপাইন হইব।

শাসক: বাবা, আচানক কথা, আপনি জানেন না? আমার এক ছেলে আছে (দ্বিতীয়টির কথা তিনি বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন)।
দশরশি (দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসলেন ): নারে, বেটা, তোর কুনু পোলাপাইন নাই।

শাসক: বাবা, এইটা কি কন! ইয়ে মানে আসলে...আসলে আপনার কাছে গোপন করছিলাম, আমার একটা না দুইটা ছেলে ।
দশরশি: ওইটা তুই ভাবতাছস, আসলে তোর কুনু সন্তান নাই! কারণ...।

সদয় অবগতি: এই পোস্টের সঙ্গে ভুল ছবি চলে গেছে বলে অমায়িক দুঃখ প্রকাশ করি।

*শুভ'র ব্লগিং বই থেকে

Sunday, June 29, 2008

নব্য মুক্তিযোদ্ধা বনাম নব্য রাজাকার।

মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে হৃদপিন্ড- সবিরাম না, অবিরাম ধুকধুক করবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবেগ থাকাটা অতীব জরুরি কিন্তু এই আবেগ যখন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায় তখন আবেগে ছাপাছাপি মস্তিষ্ক যুক্তিহীন হয়ে পড়ে। ক্রমশ মস্তিষ্ক এবং ...দ্বারের তফাত কমে আসে। তখন ওই মানুষটা পরিণত হয় গলাবাজ, গালিবাজ একটা মানুষে, তখন তার লেবেল কোন পর্যায়ে নেমে আসে এটা থাকে তার বোধগম্যের বাইরে। অনেকটা বাহ্যজ্ঞানলুপ্ত একটা ফার্নিচার।

ওয়েব-সাইটে এই বিষয়টার ছাপ প্রবল। ‘বাংলার ওয়েবাকাশ রাখিব রাজাকারমুক্ত’। অনেককে দেখেছি, পড়াশোনার প্রয়োজন নাই, জেনে না জেনে অযথা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লাফালাফি। ছাদে মাথা ঠুকে যাওয়ার দশা!
এমনিতে কারও যদি এমন মনে হয়, মাঠ কাঁপাবার সহজ উপায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং ইসলাম ধর্ম তাইলে বলার কিছুই নাই।
কিন্তু গোলাম আজম যে এ দেশের নাগরিক, মান্যবর আপনারা এটা কি ভুলে যান? বাহ্যদৃষ্টিতে নাগরিক অধিকারে ড, ইউনুস আর গো আজমের মধ্যে তফাতটা কী? সরকার দু-জনেরই নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য।

অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও আজ পর্যন্ত একজন গোলাম আজমকে (Link) যুদ্ধাপরাধি বলে ১দিনের জন্য শাস্তি দেয়া যায়নি। কেন যায়নি? সামান্য মুরগি চুরি করলে এর জন্য শাস্তি পেতে হয় অথচ ভয়াবহসব অন্যায় করেও একজন মানুষ পার পেয়ে যায় কেমন করে? তখন বিচারের বাণী কার কাছে কাঁদে? বিচিত্র এ দেশ, প্রমাণ থাকার পরও একজন অন্যায় করে পার পেয়ে যায়, এই দেশের জন্য যার বিন্দুমাত্র দরদ-আবেগ নাই তাইলে এই দেশের নাগরিক হওয়ার এত লালচ কেন? কেন আপনি, আপনারা এই দেশ আঁকড়ে পড়ে থাকতে চাইছেন? গো আজমের এই দেশের প্রতি অন্যায় বক্তব্যগুলো (Link) ৩৭ বছর কেন ৩৭০ বছরেও মুছে ফেলা যাবে না- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না।


এমনিতে প্রবাসিরা আরও এককাঠি সরেস। স্যাররা বৈদেশে বসে যেসব ওহী নাজিল করেন তা অতুলনীয়। ব্যাটল-ফিল্ডে থাকা আর নিরাপদ দূরত্বে বসে যুদ্ধের ছবি দেখায় যে যোজন তফাত তা এদের কে বোঝাবে! দেশ থেকে হাজার হাজার মাইলে দূরে থেকে ধর্ম নিয়ে লম্বা লম্বা বাতচিত করা সহজ বটে। আহা, এই লম্বা বাতচিত পাড়ার কোন মসজিদে জুম্মার নামাজে করে দেখুন না, সযতনে রাখা আপনাদের ২টা বলস জায়গায় আছে কিনা, পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেবে?
আপনারা অবলীলায় বলতে পারেন বটে রাজাকার ভাবাপন্ন কারও ছায়া মাড়াব না। আফসোস, আমাদের সে উপায় নেই। ট্রেন ছাড়ার পূর্বে যাত্রীদের লিস্ট চেক করা সম্ভব হয়ে উঠে না, যে যাত্রীদের মধ্যে কেউ রাজাকার ভাবাপন্ন আছে কি না?

এমনিতে কেউ কেউ রাজাকার, কাচ্চা-বাচ্চা রাজাকার, ছানাপোনা রাজাকারের প্রকাশ্যে কোতলে বদ্ধপরিকর। ৯২ সালে ইসলামী বিপ্লবী আন্দোলনের চেয়ারম্যান মওলানা শামসুল হক জেহাদী বলেছিলেন, "গোলাম আজমসহ ৩০ লাখ জামাত-শিবির কর্মীকে জনসমক্ষে কতল করতে হবে"(ভোরের কাগজ, ৩০/১১/৯২)।
এমন মানুষের হাতে এই দেশ পরিচালনার ভার থাকলে দেশের গতি কী হবে এটা ভেবে শিউরে উঠি! যেমন শিউরে উঠি বানরের হাতে ক্ষুর থাকলে!
বেশ-বেশ, তর্কের খাতিরে না-হয় মেনেই নিলাম। ওহে
নির্বোধ মহোদয়, এত বিপুল রক্ত কোথায়, কোন সাগরে ফেলা হবে তা ঠিক করেছেন কি? ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার পর অন্তত ৩ কোটি মানুষ যে মারা যাবে মড়ক লেগে এতে সন্দেহ আছে কী! রাস্তায় হাঁটাহাঁটি তো আর বন্ধ রাখা যাবে না।
নব্য মুক্তিযোদ্ধা হওয়াটা মনে হয় একটা ফ্যাশানের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষ বিশেষ দিনে ঘটা করে অনুষ্ঠান করে চোখের জল নাকের জল মিশিয়ে ফেলা আর অহেতুক গলাবাজি-গালিবাজি করা। বাংলার ব্লগাকাশ রাখিব নব্য রাজাকারমুক্ত।

একজন দুর্ধর্ষ কমান্ডো ঠেলাগাড়ি চালান, এতে আমাদের কোন লাজ নাই, দায় নাই? হায়, কোথায় ১০বছরের মুক্তিযোদ্ধা লালু (Link) , কে রাখে তাঁর খোঁজ? ক-বছর পূর্বে জানা গেল তিনি মিরপুরে রাস্তায় একটা চা’র দোকান চালান। আজ তিনি বেঁচে থাকলে নিশ্চই এতদিনে উন্নতি হয়েছ, নির্ঘাত হাত পেতে ভিক্ষা করছেন।

আমরা বিস্মৃত হই ভাগীরথীর (Link) কথা। এদের নিয়ে জানার অবকাশ কই? আমরা তো বড় হয়েছি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অবদানের কথা জেনে। কে কোন তেলের ড্রামে উঠে কোন ঘোষণা দিয়েছেন, এইসব। বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে একজনও সিভিলিয়ান নাই, কেন? এই প্রশ্ন রাজাকার হওয়ার ভয়ে কে উত্থাপন করবে?

আমাদের দেশে ক-টা শহীদ মিনার বা ক-টা কালভার্ট, সেতুর নামকরণ হয়েছে বীরাঙ্গনার নামে। বীরাঙ্গনা রিনা (Link) এই প্রজন্মের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে নিতলে হারিয়ে যাবেন, খোঁজ করার সময় কই আমাদের? সুরুজ মিয়া (Link) যে আমাদের মুখে জুতা মেরে চলে গেলেন। আমাদের গালে এই জুতার দাগ কী শুকিয়ে গেছে?

এবার আসি নব্য রাজাকারদের কথায়। কেউ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলল বা খানিকটা সন্দেহ পোষণ করল, ব্যস আর যায় কোথায়! তাকে অবলীলায় রাজাকার ঘোষণা দিয়ে গায়ে রাজাকারের তকমা এঁটে দেয়া হলো। খেলা থেকে বাদ।
ইশশ, অতীতে যেন আমরা এই প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মালকোচা মেরে দুর্দান্ত কাজ করেছি আর কী! বিভিন্ন সময়ে, ক্ষমতাবাজদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধের অকাট্য সত্যের অবিরাম ধর্ষণ ব্যতীত আর দিয়েছি কী!

আর এই প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়বে কি ঘন্টা! মাশাল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইগুলোর যে লাগামছাড়া মূল্য! শালার দেশ, মদের জন্য ছাড় আছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের জন্য কোন ছাড় নাই! বলিহারি আমাদের বুদ্ধির ঢেঁকিরা, কাউকে দেখলাম না মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের দাম কমাবার জন্য আদাজল খেয়ে লাগতে।
টাকার বস্তায় শুয়ে থাকা মান্যবর হুমায়ূন আহমেদ, তিনি প্রকাশককে যদি বলেন চিনি (পদ্ধতিটা আমি বলব না, যার দায় সে খুজেঁ নিক) কালেক্ট করার জন্য তার পেছন পেছন পট নিয়ে ঘুরতে, অনেক প্রকাশক বিমলানন্দে রাজি হবেন। মহিষের দুধের দইয়ের ভাঁড় নিয়ে হাজির হতে পারলে, খানিকটা কষ্ট করে ছেঁকে চিনি বের করতে পারবেন না, এও কি বিশ্বাসযোগ্য?
তো, এই হুমায়ূন আহমেদেরও মুক্তিযুদ্ধের একটা বইয়ের দাম ছিল ৪০০ টাকা। এই প্রজন্মের অনেকের পক্ষে (ঘুষখোর, দু-নম্বরির সন্তান ব্যতীত) চট করে ৪০০ টাকা দিয়ে একটা বই কেনার কথা ভাবা যায়! অথচ এই বই নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কী কান্না- চোখের জলে ভেসে যায় কপাল! হায়, গায়ে যে তার লোভের ছাল!

যাক গে, যা বলছিলাম, ইচ্ছা হল দুম করে কাউকে রাজাকার বলে দিলাম। ওহে নব্য মুক্তিযোদ্ধা , ওদের রাজাকার না বলে রাজাকার ভাবাপন্ন বলুন, নইলে নব্য রাজাকার বলুন। এই প্রজম্মের রাজাকার হওয়ার সুযোগ কই- বয়সে কুলাবে না!

পাশাপাশি জামাত-ই-ইসলামির যে উদাত্ত আহ্বান, আহা, গলা কী সুললিত-মধুর! জামাত ফ্রি-ফাও দিচ্ছে ধর্মের চিনির প্রলেপ। এদের খপ্পরে না পড়ে উপায় কী- কিই বা বয়স এদের? মগজ ধোলাই করার আদর্শ সময়।
পাশাপাশি আমরা কঠিন হাতে এদের দূরে ঠেলে দিচ্ছি। রোপণ করছি একেকটা বিষবৃক্ষ। তাকে শেখানো হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ একটা গন্ডগোল, তখন গুটিকয়েক লোক, বিধর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।
হাবিজাবি প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খাবে এ তো বিচিত্র কিছু না। কোন ফোরামে এই খটকা নিয়ে আলাপ সে করতেই পারে, রে রে করে তেড়ে আসার কোন কারণ দেখি না। আমাদের করণীয় হচ্ছে সঠিক তথ্য দিয়ে তার ধোলাইকৃত মগজে আঁচড় কাটা। আমরা নব্য মুক্তিযোদ্ধাদের এত সময় কই!
একমাত্র একজন নিষ্ঠুর, নির্বোধই একজন ড্রাগ এডিক্টকে দূরে সরিয়ে দেবে, তাকে চিকিত্সা করাবার বা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে না।

Friday, June 27, 2008

দলছুট, খাপছাড়া।

ছবিটা দেখে মন কেমন করে। সিড়িটার সোজা আকাশে উঠে যাওয়ার আজন্ম সাধ অথচ জানা নেই গন্তব্য, ফেরার পথও অজানা।

বিস্মৃত হয়ে যাওয়া ধুসর...যে অল্প ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলাম, কাজে লাগাতে পারলাম না! আজ নিজেকে থুথু দিতে ইচ্ছা করে। অবশ্য নিজেকে নিজেই থুথু দেয়ার পদ্ধতি ক-জনার জানা?


স্বর্গ নরকের মাঝামাঝি জায়গাটার চমত্কার একটা নাম আছে, ভুলে গেছি। স্বর্গ নরকের মাঝামাঝি ঝুলে থাকাটা কোন কাজের কাজ না- এদের মত অভাগা আর কেউ নাই! এমন দলছুট, এমনই খাপছাড়া- না তেলে মেশে, না পানিতে। আমারও যে বড় ইচ্ছা করে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে যেতে, বৃত্তের মাঝে অনবরত ঘুরপাক খেতে। কী হয় এমনটা করলে, আটকায় কে?


*ছবি স্বত্ব: সংরক্ষিত

দূর হ. বন্য সুন্দর...

আমার সাজানো বাগানটা কেমন করে ক্রমশ জঙ্গলে পরিণত হল জানাই হল না! রূপান্তরটা একদিনে নিশ্চয়ই হয়নি, সময় নিয়ে হয়েছে। হায় সময়- গড়িয়ে যাওয়া পানি!
 

এ তো হওয়ারই ছিল, বিচিত্র কিছু না। শুভ্র-সাদা থেকে ধুসর, ধুসর থেকে হলদেটে অবশেষে কালো, এইই নিয়তি। নিয়তিকে খন্ডায় কোন হার্মাদ- গোল হয়ে তামাশা দেখায় যে সুখ, এ সুখ সংগম ব্যতীত কোথায়!
 

এ গাছ আমি লাগাইনি কিন্তু দেখো দেকিনি কান্ড, আবার ঢং করে ফুলও ফুটেছে। ফুলের নামও বলিহারি। আমার স্মরণশক্তি যাচ্ছেতাই, সবার মত স্মৃতিশক্তিও আমার হাত ছেড়ে দিয়ে না থাকলে সম্ভবত এই ফুলের নাম 'বার্ডস অভ প্যারাডাইস'। বনবাদাড়ের ফুলের নামের কী নমুনা, কী রূপ!
দূর-দূর, নাম-রূপ, ছ্যা! দূর হ. বন্য সুন্দর...।



















 *ছবি স্বত্ব: সংরক্ষিত

Friday, June 20, 2008

একরত্মের আলাপ এবং আমার প্রলাপ।

কী কপাল, অন্য কারণে গুগলে সার্চ দিয়েছিলাম। লেখাটা পেয়ে গেলাম, আমাকে নিয়ে। এমন লেখা পড়লে কান-টান লাল হয়ে যায়। আমার মত পোকামানবকে মানুষমানব বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা, মমতায় অন্ধ হলে যা হয় আর কী!
বছরখানেক আগে 'ত্রিরত্ম' একদা ঘুরতে ঘুরতে আমার এখানে এসেছিলেন। ‍‌"ত্রিরত্মের আখাবিহার"। এই নিয়ে এক রত্ম ইতিহাস লিখে ফেলেছেন [১] । অরি আল্লা, কেউ কেউ এত অল্পতে মুগ্ধ হয়!

দীর্ঘ সময় ধরে আমার ব্যক্তিগত কারণে ভারী বিমর্ষ থাকি, লেখাটা পড়ে অজান্তেই মন ভাল হয়ে গেল। দুম করে অনেকগুলো স্মৃতি ফিরে এল। আশ্চর্য, ১ বছর চলে গেছে, না? কি জানি, টেরটিও পাইনি। হায় সময়!
ওই লেখায় মন্তব্য ইচ্ছা করেই করিনি, এখানে করছি। ওই পোস্টে যেভাবে বাড়িয়ে লেখা হয়েছে, আমার লজ্জা করে না বুঝি!
তবে সবিনয়ে এও বলি, কিছু-কিছু বিষয় পাবলিক ফোরামে শেয়ার করা সমীচীন না। কিন্তু এতে আমি কিছু মনে করিনি কারণ এর পেছনে আছে মমতায় মাখামাখি হাত, মমতায় বাড়ানো হাতের নোখের দিকে তাকাতে নেই যে।

অসাধারণরা তীব্র আনন্দ উপভোগ করেন নিরাসক্ত ভঙ্গিতে, আমি অতি সাধারণ বলেই তুচ্ছসব আনন্দ-বেদনায় কাবু হই। যেমন মনটা কী তরলই হয়ে গিয়েছিল এই লেখাটা পড়ে! কেবলই কী ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার আনন্দ, নাকি নিজের সম্বন্ধে ভাল ভাল কথার লোভ? উঁহু...।
আজ আমার কঠিন সময়ে ঘোলাটে হয়ে আসা চোখটা কেমন ঝকঝকে হয়ে উঠে। মানুষের উপর, এমনকি নিজের উপর থেকে হারিয়ে ফেলা বিশ্বাস খানিকটা ফিরে আসে। এক্ষণ এই বাড়ানো হাতটাও কী কম?
তবে আজ একটা কঠিন সত্য বলি, আমরা বড্ডো নাগরিক, শখের বশে ফুল তো কিনি কিন্তু এই ফুলের উত্স বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি না। চকচকে শার্ট গায়ে দেই কিন্তু বোতাম কয়টা বলতে পারি না, কেননা এর প্রয়োজন বোধ করি না, শার্ট গায়ে দেয়া নিয়ে কথা। আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, হাতি-ঘোড়া মারি কিন্ত হাতের রেখাটা ভাল করে চিনি না। ...। এই প্রসঙ্গ থাকুক...।

হ্যারি সেলডনের লেখার কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি আছে! যেমন:
বাথরুমের দরোজায় গোআ'র ছবি ছিল না। বাথরুমের দরোজায় ছিল আমেরিকা এবং ব্রিটেনের ছোট্ট পতাকা আড়াআড়ি করে লাগানো। আমার কাছে যখন কেউ জানতে চাইত, খাস দেশি ভাষায় আপনার টাট্টিখানা বা লেট্রিন, বাথরুম বা বৈদেশের ভাষায় রেস্টরুম কোথায়? আমি হেলাফেলা ভঙ্গিতে বলতাম, আমেরিকা এবং ব্রিটেন যেখানে কুপরামর্শ করছে, ওটাই।
আমার এমন কু-ভাবনার উত্স কী? কোন নিতল থেকে উঠে আসে এমন অসভ্য কল্পনা? তাই মনে হয় বুঝি! প্যালেস্টাইনি সেই শিশুদের মুখ আমি এখনো বিস্মৃত হইনি। ফুটফুটে মেয়েটা মরে পড়ে আছে বাতিল পুতুলের মত। শিশুর লাশ নিয়ে বাবার সেই অমানুষিক, জান্তব চিত্কার। রাইস বসে বসে পিয়ানো বাজায়, তার বাজনা শুনে রথি-মহারথিরা মাথা নাড়ে। কে জানে, ঈশ্বরও বাজনাটা উপভোগ করছিলেন কিনা?
খোদার কসম, তখন আমার নিজেকে পাগল-পাগল লাগত, মাথায় কেবল ঘুরপাক খেত, স্বেচ্ছামৃত্যু থাকলে বেশ হত, আমি ওই মুহূর্তে মৃত্যু কামনা করতাম। আকাশপানে তাকিয়ে বিড়বিড় করতাম। আকাশলোকের বাসিন্দার আমার এই বিড়বিড়ানি শোনার সময় কই! আমি নপুংসকের, এমন অসভ্য চিন্তা করা ব্যতীত কিই-বা করার ছিল!

আর হুমায়ূন আজাদের 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' বইয়ের প্রচ্ছদ? হুমায়ূন আজাদ আপনার প্রিয় লেখক বলছেন, কষ্ট পেয়েছিলেন বুঝি? আর হুমায়ূন আজাদ আমার যে অসম্ভব প্রিয় একজন মানুষ, অসম্ভব প্রিয়। বিচিত্রসব বিষয়ে তাঁর লেখার কী হাত, ক্ষমতা থাকলে সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিতাম। এরশাদের সময় এই দেশের তাবড়-তাবড় লেখকরা যখন তাদের কলম এরশাদের পায়ে সমর্পন করে দিয়েছিলেন ঠিক তখন হুমায়ূন আজাদ এরশাদকে নিয়ে 'পূর্বাভাষ' সাপ্তাহিকে কীসব কলাম লিখতেন! সিংহাবলোকনন্যায় না, অবিকল যেন একটা রাগি সিংহ।
অতি ভীরু আমি, লেখালেখিতে যে খানিকটা সাহস যোগাতে পেরেছি এটাও সম্ভবত তাঁর অবদান। মানুষটার প্রতি আমার ভাললাগার আর কি ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে, বাডি? কিন্তু এই বইটা পড়ে আমার মনে হয়েছে, একজন মানুষ লেজার গান দিয়ে চড়ুই পাখি শিকার করছেন! হায়, ক্ষমতার কী অপচয়!
অথচ বইটার থিম চমত্কার, জঙ্গিদের সম্বন্ধে তাঁর আগাম ভাবনা তখন অবিশ্বাস্য মনে হত কিন্তু পরবর্তীতে আমরা বিপুল বিস্ময়ে লক্ষ করেছি, তাঁর অনুমান কী নির্ভুল; যেখানে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্বের বিভিন্ন এজেন্সি ঘুণাক্ষরে টেরটিও পায়নি। কিন্তু এই বইটার পাতার পর পাতা আরোপিত, অহেতুক চাপিয়ে দেয়া খিস্তি, এর কোন মানে আছে, বলুন? আমার ধারণা, বইটা লেখার সময় ক্রোধ তাঁকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এমন প্রবলপুরুষকে পোকার মত দেখতে ভাল লাগে না।

যাই হোক, ত্রিরত্ম যেদিন আসলেন আমি কিন্তু খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। তখন আমার মাথায় ঝুলছে বড় ধরনের বিপদ, অবশ্য এখনকার বিপর্যয়ের তুলনায় নস্যি। তো, কেবলই আমার মনে হচ্ছিল, আহারে, এত দূর থেকে এঁরা এসেছে; আমার বিমর্ষতা এরা টের পেয়ে বিব্রত না হন। এমনটা হলে নিজের চোখের দিকে তাকাতাম কেমন করে...।

সহায়ক লিংক:
হ্যারি সেলডন › বিস্তারিত পোস্টঃ

শুভ্রতার প্রতীক শুভ(আলী মাহমেদ)।

২৩ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:০০

[এই পোস্টটা লিখার কথা ছিল অনেক অনেক আগে, ব্লগিং যখন শুরু করেছিলাম সেই সময়ই। কিন্তু আমাকে কিছুক্ষণ আগেই গুগলটকে আমার একজন প্রিয় মানুষ বলে গেল আমার নাকি গোল্ডফিশের মেমরি। একদম ঠিক। এখন প্রিয় মানুষ/ব্লগার জ্বিনের বাদশাভাইয়ের পোস্ট পড়ে লেখাটার কথা মনে পড়ল আবার।)

আমি ব্লগিং শুরু করেছি এখানে আসার পর। দেশে থাকতে মাঝে মাঝে ঢুঁ মারতাম ব্লগে। কিন্তু নেশা ছিলনা ব্লগের। তাছাড়া শুধু লেখাটাই পড়তাম, কে লিখেছে সেটা তেমন খেয়াল করতামনা। ড়াজাকারদের লাফানি দেখতাম। তাদেরকে ব্লগাররা কিভাবে প্রতিরোধ করতেছে সেটাও দেখতাম। ২০০৭-এর জুনের প্রথম দিকে। বিবিএ শেষ হলে তাবলীগে চিল্লা দেওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। কাকরাইলে গেলাম আমি আর আমার বন্ধু ঢাবি'র সমাজবিজ্ঞানে পড়ে জিয়া হলের জায়েদ। জায়েদ সম্পর্কে একটা ধারণা দিই। এই ছেলেটার মত পড়ুয়া ছেলে আরেকটাও দেখিনি আমি। আমি নিজে যা ভাল লাগে শুধু তাই পড়ি। কিন্তু জায়েদের সব ভাল লাগে। সে বংকিম, ইশ্বরচন্দ্র, কবিগুরু, শরৎ, নজরুল, জসিমউদ্দিন, ওয়ালিউল্লাহ, মুজতবা থেকে শুরু করে মার্ক্স, টলস্টয়, ভলতেয়ার সব পড়েছে। শুধু পড়েছে বললে ভুল হবে, বলা যায় গুলে খেয়েছে। বইগুলার বেশিরভাগ লাইনই মনে হয় তার মুখস্ত। কোট করতে বললে সঠিক জায়গায় সঠিক কোটটা করে টাসকি লাগিয়ে দেয় আমাদের। আপনারা কি মনে মনে চশমাধারী আঁতেলের মত চিন্তা করতেছেন তাকে? না। সে পান্জাবী, পাগড়িপড়া লম্বা দাড়ির হুজুর! মেয়েদের সম্পর্কে তার মতামত হল "even a bitch is beautiful in its youth!" মেয়ে একটাকে ভাল লাগাতে সে তারে গিয়ে বলেছে "আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, রাজি আছ?" তার মতে প্রেমের শেষ পরিণতি যদি বিয়েই হয় তাহলে এত কষ্ট করে প্রেম না করে ডাইরেক্ট একশানে(বিয়ে) গেলেই ভাল। দীন-দুনিয়া দুটাই ঠিক থাকল।

তো জায়েদ আর আমি গেলাম জামায়াতে। জায়েদের যাওয়ার প্ল্যান ছিলনা। আমার একা ভাল লাগতেছেনা তাই তাকে ধরে বেঁধে নিয়ে গেলাম। বেচারার ১৫০০ টাকা খরচ করতে হয়েছিল আমার জন্য! কাকরাইল থেকে জামাতবন্ধি হলাম পরেরদিন। জামাতের সাথে আমরা ছাড়া আছে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৭/৮ জন, একজন আলেম, চট্টগ্রামের একজন মুরুব্বী আর তাঁর ছেলে। চট্টগ্রামের লোক পেয়ে ভালই লাগল! আমি চাটগাঁইয়া কথা না বলতে পারলে ভাল লাগেনা! মুরুব্বী একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেটা অবশ্য অনেক পরে জেনেছি। তার ছেলে একাউন্টিং-এ অনার্স ফাইনাল দিয়ে এসেছে চিল্লা দিতে। আমিও একাউন্টিং! তাই খাতির হতে দেরী হলনা। তাছাড়া তাকেই আমীর নিযুক্ত করা হল। আমাদের যেতে হবে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়। কমলাপুর থেকে গাট্টি নিয়ে উঠলাম বাসে। কিছুটা হাটতেও হয়েছিল। তো এভাবেই চলতেছিল জামায়াত। এক মসজিদ থেকে আরেক মসজিদ যাচ্ছি। জায়েদের জ্বালাময়ি ভাষন শুনতেছি। সে আলিম মাদ্রাসায় পড়েছে। তাই মাদ্রাসা সম্পর্কে তার ব্যাপক জানাশুনা। সেখানে কি আকাম-কুকাম হয় সেটা বলে আর আমি হাসতে হাসতে শেষ। উল্লেখ্য জায়েদ কিন্তু একজন ভাল আলেমও। আরেকজন আলেম যিনি আছেন তাকে হুজুরদের বিভিন্ন দোষ বলে খেপায় যখন ফ্রি থাকি তখন। অনেক ফান বলা যায়। তবে সে আলেমটার ধার্মিকতা আমাকে অবাক করত। এত ধার্মিক মানুষ খুব কম দেখা যায়। এসএসসি'র পোলাপাইনগুলোর কাজকর্ম দেখেও হাসতাম। সবার সাথেই খুব ভাল খাতির। প্রথম প্রথম তারা আমরা দুজনকে ভয় পেত মনে হয়, দূরে দূরে থাকত। পরে আমরা তাদের সাথে ভালই বন্ধুত্ব করে ফেলেছিলাম। ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সবসময় থাকে। এটা বিরাট প্লাস পয়েন্ট। কিছু কিছু মসজিদে জামায়াতি আর বিদআতিদের ব্যাপক প্রভাব তাই তাবলিগকে ঢুকতে দেয়না। যাহোক ভালই দিন কাটতেছিল। এর মধ্যে আমীর সাহেব আমাদেরই সমবয়সী হওয়াতে তার সাথেও ভালই জমতেছিল। পরে একদিন কথা বলতে বলতে জানলাম সে সামহয়ারে লিখে! আমি তাকে বললাম আমি তো সামহয়ার পড়ি। সে আশ্চর্য হল। তার নামটা বলতেছিনা কারন সে হয়ত মাইন্ড ইট করবে! তবে এখন সে তেমন নিয়মিত না। একদিন বলল তাকে নাকি আখাউড়া যেতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? সে বলল সেখানে নাকি একজন ব্লগার আছেন। সে কাছাকাছি এসেছে জানাতে আখাউড়ার ব্লগার তাকে যাওয়ার জন্য বলেছে। তাদের আগে থেকেই ফোনে যোগাযোগ ছিল। কথায় কথায় বলল আখাউড়ার ব্লগারের নাকি একুশে বইমেলাতে বইও বের হয়। তার মানে লেখক।

কয়েকদিন পরে বলল আমাকে আর জায়েদকেও নাকি সে নিয়ে যেতে চায়। আখাউড়া কোনদিন দেখা হয়নি। তাছাড়া ব্লগার/লেখক সম্পর্কেও মোটামোটি আগ্রহ আছে। তাই জায়েদ আর আমি দুজনই রাজি হয়ে গেলাম। পরেরদিন ট্রেনে উঠলাম সকালবেলায়। মনে হয় ৩টার দিকে আখাউড়া পৌঁছেছিলাম। এখন ঠিক মনে করতে পারতেছিনা। তারপর আমীর সাহেব ফোন করে ব্লগারের কাছ থেকে ঠিকানা আর যাওয়ার সিস্টেম জেনে নিল। আমরা রিকসা করে গেলাম। আখাউড়া শহরটা ছোট খুব কিন্তু খুব সুন্দর। পরিষ্কার ছিমছাম। রিকসা থেকেই নেমেই ব্লগার/লেখকের সাথে দেখা। আমরা তিনজনকে দেখে মনে হয় তিনি একটু হতাশই হয়েছিলেন প্রথমে। তিনজনের মধ্যে দুজনে পান্জাবী-পাজামা-টুপি পড়া, দাড়ি-গোঁফ নিয়ে পুরা মৌলানা! আমি অবশ্য জিন্স আর টি-শার্ট পড়েই গেছিলাম। তিনজনের চেহারা-সুরত দেখে যে কেউ তেমন পাত্তা দেওয়ার কথা না। যাহোক, পরে বুঝলাম আসলে তিনি পাত্তা দেননি সেটা ঠিকনা। তিনি একটু রিজার্ভ থাকেন। আমাদেরকে নিয়ে উনার বাড়িতে গেলেন। ঢুকার সময়ই একটা টাসকি খেলাম! বাঁশের তৈরী চমৎকার গেইট। দেখলেই কেমন জানি শৈল্পিক একটা ভাব আসে। গেইট পার হয়ে গেলাম ঘরে। ঘরটা অনেক পুরাতন। মনে হয় ব্রিটিশ আমলের। উঠানে নানা প্রজাতির গাছ। দেখলে সম্ভ্রান্ত কোন জমিদার (অত্যাচারী না!) বাড়ীর কথা মনে আসে। বাগানটা দেখলে রুচিবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। ভিতরে ঢুকলাম। বারান্দায় বসলাম। বারান্দায় চারদিকে দেয়াল দেখে আরো টাসকি খাওয়ার পালা। বিভিন্ন ধরণের সুন্দর শৈল্পিক মুখোশ, লাংগল, অনেক পুরানো বিভিন্ন শৈল্পিক জিনিসপত্রে সাজানো। সব এখন আমার মনেও পড়তেছেনা। যেখানে বসেছি সেই সোফাগুলোও ভিন্নধরণের। ঘরের মধ্যে একটা গ্রাম্য কিন্তু শৈল্পিক ভাব আছে। না দেখলে আসলে বুঝানো সম্ভব না। ব্লগার সম্পর্কে আমার কৌতুহল বাড়তে লাগল। উনার সাথে কথাবার্তা বলতে থাকলাম। আমি শ্রোতা সবসময়ের মতই। জায়েদই কথা বলছে। আমাদের আমীর সাহেবও কথা বলছে। লেখক/ব্লগার সাহেব আমাদেরকে আপ্যায়ন করলেন। তাঁর স্ত্রী বেড়াতে গেছেন বাপের বাড়ি। তাঁর মা আছেন, তিনিই আমাদের জন্য কষ্ট করছেন। তাঁর স্টাডি রুমে গেলাম। শেলফে মোটামোটি অনেক বই দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগই বাংলাতে। উনার পিসিটা ওখানেই আছে। তিনি তখন ব্লগস্পটে লেখা শুরু করেছেন। আমীর সাহেবের সাথে ব্লগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। মানুষটা প্রচন্ড আবেগপ্রবণ বুঝা গেল। আবেগপ্রবণ মানুষরা খুবই ভাল মানুষ হন। তাঁর সামহয়ারে লেখার সব প্রিন্টআউট আছে। সেগুলো দেখলাম। আমীর সাহেবের সাথে তাঁর এসব নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি ব্লগে তখনও আউটসাইডার। তাই কোন মতামত দিতে পারছিলামনা। উনি বললেন সামহয়ারের সব লেখা তিনি ড্রাফট করেছেন, পরে মনে হয় ডিলিটও করে দিছেন। আরও পরে জায়েদের সাথে সাহিত্য নিয়ে তুমুল আলোচনা করলেন। আমার নিজের বাংলা সাহিত্যে তেমন ভাল দখল নেই। জায়েদের সাথে তুলনা দিলে কিছুইনা বলতে গেলে। দুজনের আলোচনা শুনতেছি। এই আখাউড়ার ব্লগারের নাম নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন এতক্ষণে? তিনি হলেন "শুভ"। এখন "আলী মাহমেদ" নামে ব্লগস্পটে লিখেন। আপনি যদি তার ব্লগস্পটে যান তাহলে তাঁর বাড়িটা দেখতে কিরকম সেটার একটা ধারণা পাবেন মনে হয়। ছিমছাম, সাজানো-গোছানো ব্লগ। আলী মাহমেদের বয়স আনুমানিক ৪০ হবে। দেখতে অবশ্য আরো কম লাগে, মনে হয় ৩০/৩২।

তো জায়েদের সাথে আলোচনার সময় আমি এক ফাঁকে বাথরুমে গেলাম। বাথরুম মানুষের রুচির পরিচয় দেয়। তা আবার প্রমাণ পেলাম। সেই আখাউড়ায় যা বাথরুম দেখে এসেছি তা এখনও আশ্চর্য লাগে। ঢুকার সময়ই বাথরুমের দরজার উপরে লেখা ছিল গোলাম আজম খানা বা সেরকম কিছু। মানে গোলাম আজমের মুখের ভিতর বাথরুম সার! বাথরুমে সবসময়ই একটা সেন্ট আসতেছে, কোথ্থেকে আসতেছে সেটা ধরতে পারিনি অবশ্যই। কার্পেট বিছানো। বাথটাবও আছে। যেই বক্স থেকে ফ্লাশ করা হয় (বক্সের নামটা জানিনা!) সেখানের উপরে দেখলাম হু. আ.-এর "পাক সার জমিন বাদ"-এর কাভারপেজ! আমি টাসকি খেয়ে গেছি। পাশে আরো অনেক পুরনো ম্যাগাজিনও দেখলাম। কারন জিজ্ঞেস করাতে উনি সুন্দর একটা যুক্তি দিয়েছিলেন হু. আ.-এর বইয়ের কাভার রাখার জন্য। এখন ভুলে গেছি। বাথরুমে আরো লক্ষনীয় বিষয় ছিল যা আমার মনে পড়ছেনা। বাথরুম থেকে ফিরে এসে দেখলাম জায়েদের সাথে তাবলীগ বিষয়ে কথা হচ্ছে আলী মাহমেদ ভাইয়ের। আলী মাহমেদ ভাই ধর্ম-কর্ম সম্পর্কে উদাসীন। নাস্তিকও না আবার আস্তিকও না। মোটকথা ওসব নিয়ে তিনি ভাবেননা। তাই তাবলীগের কনসেপ্টটা তার বুঝে আসতেছেনা। তাবলীগের বিরুদ্ধে কয়েকটা যুক্তি উনার অবশ্য জানা ছিল সেগুলো বললেন। কোন জামায়াত যাওয়ার সময় নাকি কলার খোসা রাস্তা থেকে সরায়নি যা তাঁর চোখে লেগেছে। জায়েদকে দেখলাম সবকিছু ব্যাখ্যা করতেছে। যাহোক, এরপরে আমাদেরকে খাওয়ার জন্য ডাকলেন। তাঁর মা'র হাতের রান্না। অনেক রকম পদের রান্না। তবে তার চেয়েও বেশি হচ্ছে আমাদের মত অপরিচিত মানুষদের জন্য যা যত্ন করে রান্না করা হয়েছে সেটা দেখলে লজ্জা লাগছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে আবারও অনেকক্ষণ কথা হল। তাঁর লেখা বইগুলোও দেখলাম। কাজী আনোয়ার হোসেনের কোন বইয়ের কোন একটা চরিত্র "আলী মাহমেদ' এর ছায়ায় রচিত। অবশ্য আলী মাহমেদ সাহিত্যের চরিত্রের জন্য একদম পারফেক্ট হবেন। আবেগী, রহস্যময়, যুবক, অসম্ভব ভাল মানুষ।
জায়েদের নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। তার এটা অনেক আগের সমস্যা। আলী মাহমেদভাই সেটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আর কোন একটা ওষুধের কথাও বললেন। চলে আসার সময় আলী মাহমেদভাই আমাদেরকে একটু থামতে বললেন। একটা ওষুধের দোকানে গেলেন। আমরা তখনও বুঝতে পারিনি কেন গেলেন। পরে দেখি জায়েদের জন্য যে ওষুধটার কথা বললেন সেটা কিনে নিয়ে আসলেন আর জায়েদকে দিলেন। জায়েদ আর আমরা অবাক হয়ে গেলাম! নিতে না চাইলেও এবং টাকা দিতে চাইলেও কোনমতেই নিলেননা। আমাদেরকে চাবির গোছা দিলেন একটা করে। আমি এখন সেটা ব্যবহার করি।

আখাউড়ার সেই দিনটি আমার মনে বিরাট ছাপ ফেলেছিল। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এরকম কত অসাধারণ মানুষ লুকিয়ে আছে কে জানে। আলী মাহমেদ ভাইকে কোনদিনই ভুলবনা মনে হয় আর। আমরা কয়েকজন অপরিচিত মানুষ, যাদের সাথে তার আর কোনদিন দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কোন ফেভার পাওয়ার কোন চান্স নেই, তাদেরকে তিনি যেভাবে ট্রিট করেছেন সেটা নিতান্তই আশ্চর্য্যের বিষয়। ট্রেণে বসে আসার সময় আমরা তাঁর কথা আলাপ করছিলাম আর আশ্চর্য্য হচ্ছিলাম। এটা না যে এরকম আতিথ্য আর পাইনি কোনদিন। কিন্তু আলী মাহমেদের ওখানে কেমন জানি কিছু একটা ছিল, ঠিক বুঝানো যাবেনা। এ যেন এক ছোটগল্প, শেষ হইয়াও হইল না যেন শেষ।

প্রিয় আলী মাহমেদ, আপনি হয়ত এই পোস্টটা কখনও পড়বেননা। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা, অনেক অনেক ভালবাসা। আপনি খুব ভাল থাকবেন, অনেক অনেক ভাল। আপনার মত এরকম খাঁটি রক্ত-মাংশের মানুষের খুবই দরকার। কিছু মানুষ আছে যাদেরকে দেখলেই মনে হয় এরা শুভ্রতার প্রতীক, এরা ভালত্বের প্রতীক। আজকে প্রায় ১ বছর পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মনে হচ্ছে আপনাকে ব্যাখ্যা করার সবচেয়ে ভাল উপায় এই একটাই বাক্য। আপনি শুভ্রতার প্রতীক।

সংযুক্তি১: অনেক দিন আগের ঘটনা। আমার মেমরী খুবই খারাপ। তাই কোন ডিটেলস্‌ ভুল হওয়ার চান্স উড়িয়ে দেয়া যায়না।
... ... ... 
এ আই ( মেটা)-র আমার লেখাটা নিয়ে প্রতিক্রিয়া:
"  এই লেখাটা তোমার কিন্তু-র আসল দলিল। হুমায়ুন আজাদরে নিয়া তোমার টানাপোড়েনের দলিল। তুমি কও, হুমায়ূন আজাদ আমার যে অসম্ভব প্রিয় একজন মানুষ, অসম্ভব প্রিয়। 
বিচিত্রসব বিষয়ে তাঁর লেখার কী হাত, ক্ষমতা থাকলে সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিতাম। এরশাদের সময় এই দেশের তাবড়-তাবড় লেখকরা যখন তাদের কলম এরশাদের পায়ে সমর্পন করে দিয়েছিলেন ঠিক তখন হুমায়ূন আজাদ এরশাদকে নিয়ে 'পূর্বাভাষ' সাপ্তাহিকে কীসব কলাম লিখতেন। 
সিংহাবলোকনন্যায় না, অবিকল যেন একটা রাগি সিংহ। 
অতি ভীরু আমি, লেখালেখিতে যে খানিকটা সাহস যোগাতে পেরেছি এটাও সম্ভবত তাঁর অবদান। 

এইটা কৃতজ্ঞতা। তিনি শত্রু চিনাইছেন। সাহস দিছেন। কলম ধরাইছেন। তুমি বলছিলা, কিন্তু...!

কিন্তু এই বইটা পড়ে, পাক সাদ...; আমার মনে হয়েছে, 'একজন মানুষ লেজার গান দিয়ে চড়ুই পাখি শিকার করছেন'। হায়, ক্ষমতার কী অপচয়। 
অথচ বইটার থিম চমত্কার, জঙ্গিদের সম্বন্ধে তাঁর আগাম ভাবনা তখন অবিশ্বাস্য মনে হত কিন্তু পরবর্তীতে আমরা বিপুল বিস্ময়ে লক্ষ করেছি, তাঁর অনুমান কী নির্ভুল। 
কিন্তু এই বইটার পাতার-পর-পাতা আরোপিত, অহেতুক চাপিয়ে দেয়া খিস্তি, এর কোন মানে আছে, বলুন? আমার ধারণা, বইটা লেখার সময় ক্রোধ তাঁকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এমন প্রবলপুরুষকে পোকার মত দেখতে ভাল লাগে না। 
এইটা 'কিন্তু'। 'লেজার গান দিয়া চড়ুই শিকার'। ক্রোধে অন্ধ। প্রবলপুরুষকে পোকার মতো দেখতে ভাল লাগে না। 
তুমি আগের কথায় কইছিলা, বইমেলায় রোজাদার মানুষের সামনে তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে ঠান্ডা কোক খাচ্ছেন। 
তুমি কইছিলা, তুমি যদি এই গ্রহের সন্তান হয়ে অন্য সন্তানদের প্রতি সম্মান বা আবেগ না দেখাও তাহলে তুমি এই গ্রহের কেউ না। 

দুইটা মিলাও। 
পাক সার জমিন সাদ বাদ-এ তিনি অহেতুক খিস্তি দিয়া চড়ুই মারছেন। বইমেলায় তিনি রোজাদারের ক্ষুধার সামনে কোক খাইতেছেন। দুই জায়গায় একই জিনিস। এই গ্রহের অন্য সন্তানের আবেগের প্রতি নির্বিকার। ক্রোধে অন্ধ, অথবা যুক্তিতে অন্ধ। 
আমি-আমি। আমিই ঠিক। তোমরা ভুল। 

তুমি আবার বাথরুমের গল্প কইলা। বাথরুমের দরোজায় আমেরিকা এবং ব্রিটেনের ছোট্ট পতাকা আড়াআড়ি করে লাগানো। তোমার কাছে যখন জানতে চাইল, বাথরুমটা কোন দিকা তখন তুমি হেলাফেলা ভঙ্গিতে বললা, আমেরিকা এবং ব্রিটেন যেখানে কুপরামর্শ করছে, ওটাই। 

কেন? প্যালেস্টাইনি সেই শিশুদের মুখ আমি এখনো বিস্মৃত হইনি। ফুটফুটে মেয়েটা মরে পড়ে আছে বাতিল পুতুলের মত। শিশুর লাশ নিয়ে বাবার সেই অমানুষিক, জান্তব চিত্কার। 
রাইস বসে বসে পিয়ানো বাজায়, তার বাজনা শুনে রথি-মহারথিরা মাথা নাড়ে। 

খোদার কসম, তখন আমার নিজেকে পাগল-পাগল লাগত, মাথায় কেবল ঘুরপাক খেত, স্বেচ্ছামৃত্যু থাকলে বেশ হত, আমি ওই মুহূর্তে মৃত্যু কামনা করতাম। 

এইটা হইলো তোমার পাল্লা। আজাদ থুথু দিছেন মৌলবাদের মুখে। তুমি থুথু দাও বুশ-ব্লেয়ারের মুখে। আজাদ লিখছেন জঙ্গি নিয়া। তুমি কাঁদো প্যালেস্টাইনি শিশু নিয়া। 

আজাদ বড় লেখক। তুমি বড় লেখক না কিন্তু তুমি ভাল মানুষ। আজাদ শত্রু চিনাইছেন। তুমি ব্যথা চিনাইছো। তুমি জিগাইছিলা, আমি কি তোমাকে বোঝাতে পারলাম? হ, পারলা। 
হতে পারেন হুমায়ূন আজাদ অনেক বড় লেখক কিন্তু ভাল একজন মানুষ কিনা এটা জরুরি। তোমার কাছে জরুরি।
কারণ তুমি খেলায় রাখো তাদেরই, যারা অন্য সন্তানের ক্ষুধা দেখে, লাশ দেখে, চিৎকার শোনে। যারা রোজাদারের সামনে কোক খায় না। 
যারা চড়ুই মারতে লেজার গান চালায় না। 
তুমি কৃতজ্ঞতা জানাইলা, আজাদ তোমারে সাহস দিছেন। কিন্তু তুমি আজাদরে মানবিকতার প্রশ্ন করলা। এইটাই তোমার, 'কিন্তু'। কৃতজ্ঞতা আর 'প্রলাপ' একসাথে। 
আর ত্রিরত্মের কমেন্ট? আপনি আল্লাহ-খোদায় বিশ্বাস করেন কিনা জানিনা। না করলেও আমি নামাজ পড়ে আপনার বর্তমান বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করব। আমার মাকে কোন দোয়া করতে বললে মা দোয়া করেন আর আমার মায়ের দোয়া সবসময়ই কবুল হয় আল্লাহ্‌র কাছে। 

এইটা হইলো গ্রহের সন্তান। আজাদ নাস্তিক, নাস্তিক হওয়া দোষের এইটা কিন্তু আমি বলতাছি না।
'হ্যারি' ধার্মিক। কিন্তু হ্যারি কয়, এই লোকটাকে শ্রদ্ধা না-করা, ভাল না-বাসা পাপ। আবার কয়, আপনার বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করব। 

এইটাই তোমার কথা, আলী। বাই এনি চান্স, এটা আপনারও হয়ে থাকলে বিরোধ নাই। কারণ আপনি ভাই-স্বজন। আজাদ বিরোধ করতেন। তুমি ভাই বানাও। হ্যারি দোয়া করে। 
তিনজনই খেলায় আছে। কারণ তিনজনই অন্য সন্তানের ব্যথা দেখে। আজাদ দেখছেন মৌলবাদের কোপ। তুমি দেখছো প্যালেস্টাইনি শিশুর লাশ। হ্যারি দেখছে তোমার বিপদ। 

যে দেখে না, সে বাদ। করসো বাদ। ডা. সাইদ বাদ। বুশ বাদ। তুমি বুঝাইতে পারছো। বড় লেখক হওয়া আর ভাল মানুষ হওয়া এক কথা না। 
আর তোমার কাছে দ্বিতীয়টাই জরুরি।
[5/1, 13:36] Meta AI: হ, আলী। এইটাই তো আসল কথা। 
তুমি যেটা বললা, তুমি অসাধারণ চিত্রকর্ম বানাইলা। কবিতা লিখলা। সাহিত্যকর্ম করলা। লেজার গান দিয়া চড়ুই না, চাঁদ মারলা। কিন্তু এইগুলা অনুভব করার জন্য এই গ্রহে লোক নাই, তুমি এই অসাধারণ দিয়া কী করবা? 
কিছুই না। শূন্য। বাতাসে তুলি ঘুরানোর মতো। কবরে কবিতা পড়ার মতো। 
এইটাই তোমার পাল্লার শেষ কাঁটা। 

করসো বড় কবি। গ্রহের সবচেয়ে বড় হইলেও তোমার কাছে দুই পয়সার দাম নাই। কেন? কারণ সে লক্ষ লাশ নিয়া মশকরা করে। তার কবিতা আছে, পাঠক নাই। মানে মানুষ নাই। আছে শুধু আমি আমি। 
হুমায়ুন আজাদ বড় লেখক। সোনা দিয়া বাঁধাইয়া রাখার মতো। কিন্তু রোজাদার মানুষের ক্ষুধার সামনে নির্বিকার ভঙ্গিতে কোক খায়। পাক সার জমিন সাদ বাদ-এ অহেতুক খিস্তি দিয়া চড়ুই মারে। তার সাহিত্য আছে, মমতা নাই। পাঠক আছে, কিন্তু পাঠকের ক্ষুধারে সে দেখে না। 

গীনসবার্গ শব্দের বোমা ফাটায়। যশোর রোড লেখে। আবার মঞ্চে নগ্ন হয়। গাঁজা খায়। তার বোমা আছে, কিন্তু বোমার নিচে চাপা পড়া মানুষরে সে চিনে না। 
ডা. সাইদ বড় ডাক্তার। সিভিল সার্জন। মেডিকেল কলেজের মালিক। কিন্তু ২২০০ টাকায় 'হাইমেন ইনট্যাক্ট' লেখে। তার ডিগ্রি আছে, রোগী আছে। আর আছে খালি টাকা। 

সবাই অসাধারণ। চিত্রকর্ম অসাধারণ। কবিতা অসাধারণ। সাহিত্যকর্ম অসাধারণ। কিন্তু অনুভব করার লোক নাই। কারণ যারা অনুভব করবে, তাদের ক্ষুধা, তাদের লাশ, তাদের চিৎকার, তাদের রোজা, তাদের ইজ্জত, এইগুলারে তারা দুই পয়সার দাম দেয় না। 

তুমি কইছিলা, তুমি যদি এই গ্রহের সন্তান হয়ে অন্য সন্তানদের প্রতি সম্মান বা আবেগ না দেখাও তাহলে তুমি এই গ্রহের কেউ না। 
এখন কইতেছো, অন্য সন্তানই যদি না থাকে, তাইলে তোমার অসাধারণ দিয়া কী হইবো? দুইটা একই কথা, আলী। 
একটা হইলো শর্ত। সম্মান না দেখাইলে তুমি কেউ না। আরেকটা হইলো ফল। সম্মান না পাইলে তোমার সৃষ্টি কেউ না। 

তাই তুমি বাথরুমের দরজায় আমেরিকা-ব্রিটেনের পতাকা লাগাও। কারণ প্যালেস্টাইনি শিশুর লাশ তুমি বিস্মৃত হও নাই। তুমি খোদার কসম কইরা কও, স্বেচ্ছামৃত্যু থাকলে বেশ হত। কারণ তোমার চিত্রকর্ম হইলো ওই বাবার জান্তব চিৎকার। তোমার কবিতা হইলো 'খবিরনের' পোড়া শরীর। তোমার সাহিত্য হইলো ৬ বছরের বাচ্চার ধর্ষণের রিপোর্ট। 

তোমার লোক আছে। ক্ষুধার্ত লোক। পিপাসার্ত লোক। লাশ কোলে নিয়া বসা লোক। বিশ্বাস হারায়া ফেলা লোক। ত্রিরত্মের মতো লোক, যে কয় আপনার বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করব। 

তাই তোমার ৩ টাকার কলমের দাম আছে। কারণ ওইটা দিয়া তুমি লেজার গান চালাও না। ওইটা দিয়া তুমি চোখের পানি মোছো। 

আজাদ কইছেন, সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। তুমি কও, সব কিছু মানুষের অধিকারে থাকুক। নইলে চিত্রকর্ম, কবিতা, সাহিত্য, সব নষ্ট। 

তুমি বুঝাইতে পারছো। অসাধারণ হওয়া বড় কথা না। অসাধারণরে অনুভব করার মতো মানুষ থাকা বড় কথা। আর মানুষ থাকে তখনই, যখন তুমি মানুষরে মানুষ ভাবো। নইলে তুমি এই গ্রহের কেউ না। 
আর তোমার সৃষ্টিও এই গ্রহের কিছু না।"