Search

Saturday, August 16, 2014

ফিলিস্তিন ভূখন্ডের প্রকৃত দাবিদার কারা?


লেখক, Sabbir Hossain 

[ পোস্টটা লেখবার সময় সচেতনভাবে ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ইতিহাসকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এখানে বর্ণিত সকল তথ্য আর্কিওলজিক্যালি ফাইন্ডিংস থেকে প্রাপ্ত ]


ইজরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুটো প্রশ্ন করা হয়:
০১. ফিলিস্তিনিরা কি ইজরাইলীদের তাদের আদিনিবাস থেকে বের করে দিয়েছে?
০২. কারা ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের আদিবাসী; ইজরাইলীরা নাকি ফিলিস্তিনিরা?
বিভিন্ন বই-পুস্তক থেকে আমি এই দুটো প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি। আমার অনুসন্ধান থেকে পাওয়া ফলাফল নিয়েই মূলত এই পোস্ট।

লিভান্ত অঞ্চল সম্পর্কে আশা করি সকলের ধারণা আছে। তারপরও পুনরায় উল্লেখ করছি।
লিভান্ত অঞ্চল বলতে পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে বোঝায়, অর্থাৎ, বর্তমান ইজিপ্ট রাষ্ট্রের উত্তরাংশ থেকে বর্তমান তুরস্ক রাষ্ট্রের দক্ষিণাংশের মাঝে বিস্তৃত অঞ্চল; আরো ভেঙে বললে, বর্তমান ফিলিস্তিন, ইজরায়েল, সিরিয়া, জর্দান, লেবানন, সাইপ্রাস, মিশরের উত্তরাংশ (সিনাই উপত্যকা), দক্ষিণ তুরস্ক (তুরস্কের আলেপ্পো প্রদেশ), ইরাকের দক্ষিণাংশ।
লিভান্ত অঞ্চলে খ্রীস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দের আগে (প্রস্তর যুগ) আহমারিয়ান, এ্যানতেলিয়ান, ক্যাবারান, ন্যাটুফিয়ান, হারিফিয়ান, গাস্সুলিয়ান কালচারের বিকাশ ঘটেছিল।
এই সময় মানুষরা শিকার ও সংগ্রহের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতো এবং ধীরে ধীরে মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশ হচ্ছিল। এই মানুষরাই আফ্রিকা থেকে আগমনকারীদের বংশধর।

পরবর্তীতে লিভান্ত অঞ্চলে খ্রীস্টপূর্ব ৪,০০০ থেকে ১,০০০ খ্রীস্টাব্দে (ব্রোঞ্জ যুগ) একাধিক গোত্রভিত্তিক নগরের উত্থান হওয়া শুরু করে। এই নগরগুলোর উত্থান হওয়ার সময় গোত্রপতি, কিনশিপ, ধর্ম, বিনিময় প্রথা, কৃষিকাজ, ঘরবাড়ি নির্মাণ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, লেখার পদ্ধতি, যানবাহন ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রচলন শরু হয়।
এই সময় বিভিন্ন সভ্যতা, যেমন পার্শ্ববর্তী মেসোপটেমিয়ায় সুমেরীয়, অ্যাসিরিয়ান, আক্কাডিয়ান, আমোরাইটস, ও ইজিপ্টে ইজিপ্টিয়ান সভ্যতা, তুরস্কের আনাতোলিয়ায় হিত্তিতে সভ্যতা বিকশিত হয়।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, ধর্ম ও যুদ্ধ বিষয়টি এই অঞ্চলে খুব স্পর্শকাতর ছিল। এই অঞ্চলের মানুষ ধর্মকে অত্যাধিক প্রাধান্য দেয়া শুরু করে এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন গোত্রের মাঝে যুদ্ধ নিত্যকার বিষয় ছিল।

লিভান্তের দক্ষিন অংশকে বলা হতো ক্যানান। দক্ষিণ লিভান্ত বলতে বর্তমান ইজরাইল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবাননের উপকূলীয় অঞ্চল ও সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্ত অংশকে বোঝায়।
ক্যানানে বসবাস করা নগরভিত্তিক গোত্র ছিল; যারা মোয়াব, জেশুর, ফিলিস্তিয়া, এ্যাম্মোন, ত্যাজেক্যার, উপকূলীয় এবং জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টি (এরাই ইজরাইলটদের পূর্বপুরুষ)। এদের সমষ্টিকে বলা হতো ক্যানানাইটস।
এদের মধ্যে জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টি এই অঞ্চলে খ্রীস্টপূর্ব ২,৫০০ অব্দের দিকে প্রাধান্য বিস্তার করা শুরু করে। স্বাভাবিক কারণে এই প্রাধান্য বিস্তার ও প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি ছিল এই অঞ্চলের অন্যান্য অধিবাসীদের সঙ্গে বিশেষত ফিলিস্তিয়াদের সংঘাতপূর্ণ।
ধীরে ধীরে পুরো দক্ষিণ লিভান্তে জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টি তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে। বিজেতারও এগিয়ে যাওয়া গোত্রের ধর্ম, ভাষা ও আচার সে আমলে প্রভাব বিস্তার করতো; তাই, জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টি ধর্ম-ভাষা-আচার দক্ষিণ লিভান্ত অঞ্চলের অন্যান্য আদিবাসীদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে এবং ক্যানানে বসবাস করা গোত্রগুলোর ধর্ম-ভাষা ও আচার পরস্পরের সঙ্গে সিনক্রোনাইজ করে।

এখানে কয়েকটি কথা বলে রাখা ভালো ইহুদীদের পূর্ব-পুরুষ হলো এই জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টি ও অন্যান্য ক্যানানাইটস গোত্র এবং ক্যানানাইটসদের ধর্মই হলো ইহুদী ধর্মের পূর্বরূপ। আরো সোজা করে বললে, ক্যানানাইটসদের ধর্মের বিবর্তিত রূপ হলো বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন সেমেটিক (আব্রাহামিক) ধর্ম।

খ্রীস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দের দিকে লিভান্ত অঞ্চলটি পাশ্ববর্তী ইজিপ্টিয়ান সভ্যতা ও বর্তমান তুরস্কের আনাতোলিয়া কেন্দ্রিক হিত্তিতে সভ্যতার সংঘর্ষভূমিতে পরিণত হয় এবং এই অঞ্চল ইজিপ্টিয়ানদের অধিকারে ছিল। এই সময়টাতে ইজিপ্টিয়ানরা ক্যানানাইটসদের দাস হিসেবে ব্যবহার করতো।
মোজেসের কাহিনীর উৎপত্তিও এই সময়টাতে এবং ইহুদী ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও এই সময়টিতে রচিত হয়।
খ্রীস্টপূর্ব ১২০০ অব্দের দিকে জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টির উত্তর-পুরুষদের ইজরালাইট বলে সম্বোধন করা শুরু হয়।

খ্রীস্টপূর্ব ১২০০ অব্দের দিকে দিকে ক্যানান অঞ্চলের উপকূলীয় অংশে (বিশেষত বর্তমান লেবানন, ইজরাইল-ফিলিস্তিনের উপকূল) ফোনিশিয়ানরা প্রাধান্য বিস্তার করে।
ফোনিশিয়ানরা হলো, ক্যানানাইটস (বিশেষত: ফিলিস্তিয়া গোত্র) ও অন্যান্য সেমিটিক গোত্র (বিশেষত বর্তমান দক্ষিন আরব ও আরব-উপকূলের গোত্রগুলো) এবং আশপাশের বিভিন্ন গোত্র ও সভ্যতার মানুষের মিশ্রণ। এরা দক্ষ নাবিক ছিল, এদের নিজেদের বর্ণমালা ছিল এবং সভ্যতার নানান দিকে এরা অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছিল।
ইজিপ্টিয়ান সভ্যতা ও বর্তমান তুরস্কের আনাতোলিয়া কেন্দ্রিক হিত্তিতে সভ্যতা মূলত: এই অঞ্চলে তাদের প্রাচুর্য্য ও গুরুত্ব ফোনিশিয়ানদের কাছে হারায় এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ফোনিশিয়ানরা নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে।
খ্রীস্টপূর্ব ৫৫০ অব্দের কাছাকাছি পারসিয়ান ও গ্রীকদের কাছে ফোনিশিয়ানদের চুড়ান্ত পতন হয়।

১১৭৫ খ্রীস্টপূর্বাব্দে ইজিপ্টিয়ান শাসক তৃতীয় রামেসিসকে পরাজিত করে ফোনিশিয়ানরা তাদের পূর্বপুরুষ ফিলিস্তিয়াদের নামে একটি নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে; নগররাষ্ট্রের নাম ফিলিস্তিয়া।
এখানে একটি কথা স্মরণ করিয়ে দেই ফিলিস্তিয়া গোত্রের সঙ্গে ইজরালাইটদের পূর্বপুরুষ জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টির দ্বন্দ্ব ছিল, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সময়ে (খ্রীস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৭৪০ অব্দ) পুরো ক্যানান অঞ্চলটি প্রশাসনিকভাবে ফোনিশিয়ানদের রাজ্যভুক্ত ছিল এবং ক্যানানাইটস গোত্রগুলো বস্তুত: আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ছিল স্বাধীন।
ঐতিহাসিকভাবে ক্যানানাইটস গোত্রগুলোর ধর্মের উপাদানভিত্তিক প্রচুর মিল থাকলেও, পরবর্তীতে ইজরালাইটদের ধর্ম ভিন্নরূপ লাভ করতে শুরু করে এবং ক্রমেই ইজরাইলাইটদের ধর্ম ‘ইশ্বর ও রীতির’ ক্ষেত্রে অন্য ক্যানানাইটসদের ধর্মের চেয়ে আলাদা হতে থাকে।
প্যাগান ফিলিস্তিয়া ও অন্যান্য ক্যানানাইটস গোত্রগুলোর সাথে একেশ্বরবাদী ইজরালাইটদের ধর্মীয় বিরোধ সুস্পষ্ট হতে যায়।
পরবর্তীতে, সভ্যতা চর্চার দৌঁড়ে ইজরাইলাইটরা এগিয়ে যায় এবং এই অঞ্চলে তাদের ভাষা-ধর্ম-আচারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই সাথে প্যাগান ক্যানানাইটস ভাষা-ধর্ম-আচারও প্রচলিত ছিল।
ততদিনে ইহুদী ধর্মের ভিত্তি রচিত হয়ে গেছে এবং এই অঞ্চলে দুটো ইজরালাইট রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়; খ্রীস্টপূর্ব ৯০০ অব্দে ইজরাইল রাজ্য ও ৮০০ অব্দে জুদেয়া রাজ্য।
খ্রীস্টপূর্ব ৭৪০ অব্দে অ্যাসিরীয়রা ইজরাইল রাজ্য-দখল করে। এই সময় প্রথম ইহুদীদের উচ্ছেদ করা হয়। অ্যাসিরীয়রা ৭৩২ খ্রীস্টপূর্বাব্দে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মত ইহুদীদের তাদের বসতি থেকে উচ্ছেদ করে এবং ইজরাইল রাজ্য ধ্বংস করে দেয়া হয়।
এখানে, একটা কথা বলে রাখা জরুরি, অ্যাসিরীয়রা ইজরাইল-রাজ্যের শাসক ও তার গোত্র তথা ইহুদীদের শুধুমাত্র উচ্ছেদ করে, অন্যান্য ক্যানানাইটস গোত্রগুলো এই উচ্ছেদের আওতামুক্ত ছিল।

খ্রীস্টপূর্ব ৬২৭ সালে ব্যাবিলোনিয়ানরা অ্যাসিরীয়দের পরাজিত করে নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। ব্যাবিলোনিয়ানদের সঙ্গে ইজিপ্টিয়ানদের রাজ্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। খ্রীস্টপূর্ব ৬০৯ থেকে ৬০৫ অব্দ পর্যন্ত ইজিপ্টিয়ানরা ব্যাবিলোনিয়ানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইহুদী রাজ্যগুলো অধিকার করে রাখে। ৬০৫ অব্দে ব্যাবিলোনিয়ানরা এই অঞ্চর পুনরায় দখল করে।

পরবর্তীতে ইজিপ্টিয়ান ও ব্যাবিলোনিয়ানদের মাঝে ব্যাপক যুদ্ধ হয় এবং এই যুদ্ধে ইজরালাইটদের (ইহুদীদের) বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাবিলোনিয়ানরা।
ফলশ্রুতিতে, ৫৮৬ খ্রীস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলোনিয়ানরা জেরুজালেম ও সলোমনের মন্দির ধ্বংস করে দেয় ও পৃথিবীর ইতিহাসে ‘দ্বিতীয়বার’ ইহুদীরা উচ্ছেদের সন্মুখীন হয়।
এখানে, একটি কথা বলে রাখা জরুরি, ব্যাবিলোনীয়রা এবার শুধু ইজরালাইটদের (ইহুদীদের) নয়, পুরো দক্ষিন লিভান্ত অঞ্চলের সবগুলো গোত্রকে হত্যা ও উচ্ছেদ করে।

খ্রীস্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে পারশিয়ানরা ব্যাবিলোনিয়ানদের পরাজিত করে দক্ষিন-লিভান্ত অঞ্চলকে (ক্যাানান) নিজেদের দখলভুক্ত করে। এরা এই অঞ্চলকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করে:
এক.
ফোনেশিয়া (বর্তমান লেবানন ও ইজরায়েলের দক্ষিন অংশ) [ফোনিশিয়ানরা অধিকাংশ ছিল সেমিটিক প্যাগান]।

দুই.
জুদেয়া ও সামারিয়া [জুদেয়া ও সামারিয়ার মানুষরা ছিল ইজরালাইট ইহুদী ও ফিলিস্তিয়া সেমিটিক প্যাগান]।

তিন.
আরব ও সেমেটিক বিভিন্ন গোত্রগুলির জন্য একটি অঞ্চল (বর্তমান গাজা, নেগেভ মরুভূমি সহ বর্তমান ইজরাইলের উত্তারাংশ, পশ্চিমতীর থেকে শুরু করে জর্দান, সিরিয়া) [আরব ও সেমেটিক বিভিন্ন গোত্রগুলি ছিল সেমিটিক প্যাগান]।

এই সময় ইজরালাইটরা (ইহুদী) মন্দির পুনরায় নির্মাণ করা হয় এবং ইহুদী ধর্ম ও ইজরাইলাইটাদের রিভাইব হয়। হিব্রু ভাষা ও ইজরালাইটদের ধর্ম (বর্তমান ইহুদী ধর্মের পূর্বরূপ) পারশিয়ানদের শাসনামলে বিকশিত হয়।

৩৩০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে দক্ষিন লিভান্ত (ক্যানান) গ্রীকদের হস্তগত হয় এবং ১৪০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত গ্রীকরা প্রকারান্তরে এই অঞ্চল নিজেদের অধিকারে রাখে। এই সময় এই অঞ্চলটি গ্রীকদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও আভ্যন্তরীনভাবে স্বাধীন ছিল।
এই সময় ১৬৭ খ্রীস্টপূর্বাব্দে গ্রীকরা ইজরালাইটদের ধর্মপালনে বাধা দেওয়া শুরু করে। গ্রীকরা এই অঞ্চলকে প্যালেস্টিনা বলে সম্বোধন করতো; তার কারণ, ফোনিশিয়ানদের পূর্বপুরুষ ছিল ফিলিস্তিয়া; ফোনিশিয়ানদের সঙ্গে গ্রীকদের অসংখ্য যুদ্ধ হয়েছিল, ফিনিশীয়ানদের পতনের মূলে গ্রীকরা অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল।

১৪০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে জুদেয়ায় ইজরালাইটদের স্বাধীন রাজ্য স্থাপিত হয়। এই রাজ্য শাসন করতো হ্যাসমোনিয়ান ডাইনেস্টি। এই রাজ্য ৬৩ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। এই সময়ে ইজরালাইটরা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হয়; দক্ষিন লিভান্তের (ক্যানান) অধিকাংশ অংশ ইজরালাইটদের রাজ্যভুক্ত হয়।
এই সময় ইজরাইলাইটরা তাদের উন্নতি ও বিকাশের সর্বোচ্চ সময়ে আরোহণ করে।

রোমানরা ৬৩ খ্রীস্টপূর্বাব্দে জুদেয়া রাজ্য দখল করে। রোমানরা তাদের শাসন এই অঞ্চলে পাকাপোক্ত করার জন্য স্থানীয় ইজরালাইটদের থেকে একজন রাজা নিয়োগ করেছিল, যার নাম হেরোদ। এই সময়ে ইজরালাইটদের মধ্যে অনেকে নিজেকে তাদের ধর্মে বর্ণিত মেসাইয়া (প্রেরিত পুরুষ) বলে দাবি করে।
ইজরালাইটদের একটি ধর্মীয় উপগোত্র হিসেবে খ্রীস্টান ধর্মের আর্বিভাব হয়।

কিন্তু ইজরালাইটদের এই সুদিন খুব বেশি সময় টিকে ছিল না। ইজরালাইটদের সাথে রোমানদের যুদ্ধ বেঁধে যায়। টাইটাস ৭০ খ্রীস্টাব্দে জেরুজালেম ধ্বংস করে এবং প্রায় এক মিলিয়ন ইজরালাইটকে হত্যা করা হয় ও তাদের উচ্ছেদ এবং এটিই ইজরালাইটদের সর্ববৃহৎ উচ্ছেদ। এরপর ইজরালাইটরা এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপের নানান জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

১৩২ খ্রীস্টাব্দে রোমানরা সম্রাট হাদ্রিয়ানের সময় থেকে জুদেয়া অঞ্চলকে অফিসিয়ালি প্যালেস্টিনা বলে সম্বোধন করা শুরু করে। কেন রোমানরা এই অঞ্চলকে প্যালেস্টিনা বলে সম্বোধন করা শুরু করে? তার কারণটাও খুব ইন্টারেস্টিং।
সে সময় জুদেয়া অঞ্চলে বসবাস করতো দুটো ধর্মভিত্তিক সম্প্রদায়:
এক.
ইহুদী ধর্মাম্বলী ইজরালাইট, এরা ছিল শাসক ও এলিট শ্রেণী।
দুই.
সেমিটিক প্যাগান ধর্মাম্বলী অন্যান্য ক্যানানাইটস ও সেমিটিকরা, এরা ছিল প্রজাশ্রেণীর।

এখানে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, উপরে বর্ণনা করা হয়েছে, হাজার বছর আগে এই অঞ্চলের অন্যান্য গোত্রগুলোর (বিশেষত: ফিলিস্তিয়াদের) সঙ্গে ইজরালাইটদের পূর্বপুরুষ জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টির সম্পর্কের টানাপোড়নের কথা এবং আরেকটি বিষয় মনে করিয়ে দিই, এরা সবাই কিন্তু এই অঞ্চলেরই আদিবাসী।

রোমানরা জুদেয়াতে বসবাসকারী সেমিটিক প্যাগান ধর্মাম্বলী অন্যান্য ক্যানানাইটস ও সেমিটিক গোত্রগুলোকে ইজরালাইটদের বিপক্ষে একটি শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে; ঠিক যেন ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ তত্ত্ব আর এই লক্ষ্যে রোমানরা জুদেয়া অঞ্চলকে প্যালেস্টিনা বলে সম্বোধন শুরু করে এবং ইজরালাইট বাদে অন্যান্য প্যাগান ধর্মাম্বলী ক্যানানাইটস ও সেমিটিক গোত্রকে প্যালেস্টিনিয়ান বলে সম্বোধন করা শুরু করে।

এখানে রোমান হঠকারিতাটি হলো, যে ফিলিস্তিয়া গোত্রের সঙ্গে ইজরালাইটদের পূর্বপুরুষ জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টির দ্বন্দ্ব ছিল। সে ফিলিস্তিয়া গোত্র এবং জুদেয়া ও সামারিয়ার পর্বতভূমিতে বসবাসকারী গোত্র-সমষ্টির কেউই তখন আর বিদ্যমান ছিল না; যারা ছিল, তারা ওদের বংশধর এবং তাদের গোত্রের নাম-ধর্ম-আচার-ভাষা হাজার বছরের ব্যবধানে বির্বতিত হয়ে গেছে।

রোমানরা তাদের এই হঠকারিতা এই অঞ্চলে তাদের শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। কিন্তু তারপরও এই অঞ্চলে শান্তি আসেনি। ১৩৫ খ্রীস্টাব্দে ইজরালাইটরা রোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
রোমান সম্রাট হাদ্রিয়ান ১৩৬ খ্রীস্টপূর্বাব্দে ইজরালাইটদের প্রকাশ্যে ধর্মপালন নিষিদ্ধ করেন। তাদের ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়ে ফেলা হয়, পবিত্র মন্দির ধ্বংস করা হয়, জেরুজালেম ধ্বংস করে দেন, জেরুজালেমে ইজরাইলাইটদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। জেরুজালেমের নাম পরিবর্তন করে করা হয় এইলিয়া, ছয় লক্ষাধিক ইজরালাইটকে হত্যা করা হয় এবং অধিকাংশ ইজরালাইট প্রাণ বাঁচাতে এই অঞ্চল ত্যাগ করে এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার আগে ইজরালাইটরা (ইহুদী) যে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কারণ হলো রোমানদের হাতে ৭০ ও ১৩৫ খ্রীস্টাব্দে সংঘটিত ইজরালাইটদের গণহত্যা ও উচ্ছেদ।

এখানে একটি কথা বলা দরকার, রোমানরা এবং তাদের পূর্বতন বিভিন্ন শক্তি অ্যাসিরীয় ও ব্যাবিলোনিয়ানরা যে  শুধু ইজরালাইটদের হত্যা ও বিতাড়ন করেছে, তা কিন্তু নয়; এই অঞ্চলে হাজার বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করা শাসক-শ্রেণী ইজরালাইটদেরকে স্থানীয় অন্যান্য গোত্রগুলোর যারাই সমর্থন দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তাদেরও হত্যা ও বিতাড়ন করা হয়েছিল। তবে, এখানে এটাও বলা জরুরি যে, এই অঞ্চলের প্রজাশ্রেণী সেমিটিক গোত্রগুলো স্বাভাবিক কারণেই অ্যাসিরীয়, ব্যাবিলোনিয়ান ও রোমানদের করা এসব অত্যাচারের সন্মুখীন খুব বেশি হয়নি; কারণ, এই অঞ্চলের শাসকশ্রেণী ইজরালাইটদের সঙ্গে অ্যাসিরীয়, ব্যাবিলোনিয়ান ও রোমানদের দ্বন্দ্বগুলো তাদের কাছে ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে...’ জাতীয় ছিল; এসব যুদ্ধে প্রজাশ্রেণীর তেমন বিশেষ আগ্রহ ছিলো না।

তবে, এই অঞ্চলের সব গোত্রই কোন না কোন সময় বিজেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। ফিনিশিয়ান, সামারাটিয়ান, বেদুইন-গাস্সানিদ সহ বিভিন্ন আরব গোত্র ও অন্যান্য সেমিটিক গোত্ররা নানান সময়ে বিজেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং অধিকাংশ সময়ই বিজেতারা এদের গণহত্যা ও উচ্ছেদ করেছে।

ইজরালাইটদের ইহুদী ধর্ম ও প্যাগান সেমিটিকদের ধর্ম নিয়ে একটি কথা বলে রাখা উচিত হবে যে, এই দুটো ধর্মের অনেক উপাদানের মিল ছিল, এমনও দেখা গেছে একই ব্যাক্তি উভয় ধর্মে সম্মানিত, একই আচার উভয় ধর্ম পালন করছে; এর কারণ, উভয় ধর্ম একই উৎস থেকে এসেছে।
পরবর্তীতে ইজরালাইটদের ইশ্বর-ধারণা একেশ্বরবাদীতার রূপান্তরিত হয়েছে এবং অন্যান্য সেমিটিক গোত্রগুলোর ইশ্বর-ধারণা আগের মত বহু-ইশ্বরে রয়ে গেছে।

রোমানদের ইজরালাইট তথা ইহুদী নিধন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বস্তুত ইহুদী ধর্মের গতি-প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায়। রোমানদের নিপীড়ন শুরু করার আগের ইহুদী ধর্ম ও পরের ইহুদী ধর্মের ব্যাপক পার্থক্য আছে।
এর কারণ, রোমানরা যেভাবে পেরেছে, সেভাবে ইজরালাইটদের নিধন করেছে; প্রায় সব ধর্মীয় ব্যাক্তিত্বকে হত্যা করেছে, উপসানালয় ধ্বংস করেছে, ধর্মগ্রন্থ ধ্বংস করেছে।
বর্তমানে ইজরালাইট তথা ইহুদীদের যে ধর্ম আমরা দেখি তার চর্চা  মূলত ৬০০ খ্রীস্টাব্দের দিক থেকে শুরু হয়।

৩১৩  খ্রীস্টাব্দে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করে রোমান সম্রাট কন্সটানটাইন এবং ৩২৪ খ্রীস্টাব্দে খ্রীস্টান ধর্মকে রোমানরা ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়; কন্সটানটাইনের সময় খ্রীস্টান শহর হিসেবে জেরুজালেমের নাম পুনরায় প্রচলন করে।

এসময় মরার উপর খড়ার ঘাত হিসেবে ইজরাইলাইটদের নতুন শত্রু সৃষ্টি হয় আর তারা হলো খ্রীস্টানরা। খ্রীস্টানরা যীশুর মৃত্যুর জন্য ইজরাইলাইটদের দায়ী করে; শুরু হয় সংঘাতের নতুন অধ্যায়; খ্রীস্টান-ইহুদী দ্বন্দ্ব। ৩৫১-৩৫২ খ্রীস্টাব্দে রোমানদের বিরুদ্ধে ইজরাইলাইটরা বিদ্রোহ করলে, কঠোর হস্তে তা দমন করা হয় এবং আগের মত ইজরাইলাইটদের হত্যা ও উচ্ছেদ করা হয়।

৩৬১ সালে রোমানরা ইজরালাইটদের জেরুজালেমে প্রবেশাধিকার দেয়, তাদের মন্দির তৈরী ও প্রার্থনা করার অনুমতি দেয়া হয়। রোমান সম্রাট থিওডোসিয়াস খ্রীস্টান ধর্মকে ৩৮০ খ্রীস্টাব্দে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষনা করেন।
এসময় যীশুর অঞ্চল হিসেবে জেরুজালেম ও তৎসংলগ্ন এলাকা খ্রীস্টানদের কাছে গুরুত্ব পেতে থাকে।

এরমধ্যে ৩৯৫ সালে চুড়ান্তভাবে রোমান সাম্রাজ্য দু'ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে; পূর্বতন অংশকে বলা হতো বিজান্টিয়াম সাম্রাজ্য। বিজান্টিয়ামদের সময় জেরুজালেম খ্রীস্টান ধর্মচর্চার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

৬১৪ সালে পারশিয়ান-বিজান্টিয়াম যুদ্ধে ইজরালাইটরা পারশিয়ানদের পক্ষ নেয়। পারশিয়ান-ইজরালাইটদের যৌথবাহিনী জেরুজালেম জয় করে, খ্রীস্টানদের চার্চগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়, খ্রীস্টানদের গণহত্যা করা হয়।

ইজরালাইটরা পারশিয়ানদের অধীন প্যালেস্টিনা ও জেরুজালেম শাসন করতে থাকে। ৬১৭ সালে পারশিয়ান-ইজরালাইটদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পারশিয়ানরা ইজরালাইটদের হাত থেকে প্যালেস্টিনার ক্ষমতা কেড়ে নেয়, ইজরালাইট সৈন্য ও সরকারী কর্মকর্তাদের স্বপরিবারে হত্যা করা হয়।
জেরুজালেম থেকে তাদের বের করে দেয়, জেরুজালেমের তিন মাইলের মধ্যে কোন ইজরালাইটের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়।

৬২৯ খ্রীস্টাব্দে বিজান্টিয়াম সম্রাট হেরাক্লিয়াস জেরুজালেম পুনরায় জয় করেন, পারশিয়ানদের বিতাড়িত করেন।
এসময় অধিকাংশ ইজরালাইটরা বিজান্টিয়ামদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, বিজান্টিয়ামরা ইজরালাইটদের হত্যা ও উচ্ছেদ করা থেকে বিরত থাকে কিন্তু ইজরালাইটরা জেরুজালেমে বসবাস করতে পারতো না।
মূলত: ইজরালাইটদের অধিকাংশই ১৩৫ খ্রীস্টাব্দের পর জেরুজালেম ও দক্ষিন লিভান্ত ছেড়ে এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপের নানান প্রান্তে চলে যায়।

এখানে ঐতিহাসিক কিছু কথা বলে নেয়া ভালো। ৬১০ খ্রীস্টাব্দে প্যালেস্টিনার ঠিক পাশেই আরব উপদ্বীপে হেজাজ অঞ্চলের মক্কা নগর রাষ্ট্রে ইসলাম নামে নতুন একটি সেমিটিক একেশ্বরবাদী ধর্মের আর্বিভাব হয়। উল্লেখ্য, আরবরাও একটি সেমিটিক জাতি।
৬২৪ খ্রীস্টাব্দের আগ পর্যন্ত ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা প্রার্থনার জন্য জেরুজালেমকে কিবলা হিসেবে ব্যবহার করতো, পরে মক্কার কাবাকে কিবলা করা হয়।

৬২৪ খ্রীস্টাব্দে চুক্তিভঙ্গ করায়, আরব মুসলমানরা ইজরালাইট গোত্র বনু কুনাইকাকে উচ্ছেদ করে। ৬২৫ খ্রীস্টাব্দে ইসলামের রাসূলকে হত্যা পরিকল্পনা করার অভিযোগ এনে, আরব মুসলমানরা ইজরালাইট গোত্র বনু নাদিরকে উচ্ছেদ করে।
৬২৭ খ্রীস্টাব্দে চুক্তিভঙ্গ করার অভিযোগ এনে আরব মুসলমানরা মদিনার ইজরালাইট গোত্র বনু-কুরাইজার প্রায় এক হাজার জন পুরুষের শিরোশ্ছেদ করে এবং তাদের শিশু ও স্ত্রীদের দাস-দাসীতে পরিণত করে।
৬৪১ খ্রীস্টাব্দে আরব মুসলমানরা হেজাজ অঞ্চল (বর্তমান সৌদি আরব) থেকে খ্রীস্টান ও ইজরালাইটদের বসতি অন্যত্র সরিয়ে নেয়।

৬৩৪-৬৩৮ খ্রীস্টাব্দে মুসলমান আরবরা জেরুজালেম ও লিভান্ত জয় করে। তখন জেরুজালেম খ্রীস্টানদের একটি পবিত্র শহর হিসেবে গণ্য হতো।
আরবরা লিভান্ত জয়ের সময় খ্রীস্টান ও ইজরালাইটদের গণহত্যা বা উচ্ছেদের বিষয়ে কৌশলগত কারণে সংযত ছিল, লিভান্ত জয়ের সময় আরব মুসলমানরা লিভান্তের খ্রীস্টান ও ইজরালাইটদের গণহত্যা বা উচ্ছেদ করেনি কিন্তু জিজিয়া কর চালু করে।

এদিকে ১৩৫ খ্রীস্টাব্দে রোমানদের দ্বারা উচ্ছেদের পর ইজরালাইটদের অধিকাংশই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে; তবে অধিকাংশ ইজরালাইট ইউরোপে আশ্রয় নেয়।
ইউরোপিয়ানরা ৩৮০ খ্রীস্টাব্দের পর শাসকের ধর্ম হিসেবে খ্রীস্টান ধর্ম গ্রহণ করা শুরু করে। খ্রীস্টান ধর্ম অনুসারে, ইজরালাইটরা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে। ফলশ্রুতিতে, খ্রীস্টানরা ইজরালাইটদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতো।
এর প্রভাব আমরা দেখতে পাই, ইউরোপে ইউরোপিয়ান খ্রিস্টানদের দ্বারা ইজরালাইটদের হত্যা ও উচ্ছেদের অসংখ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে।

স্প্যানিশ-পর্তুগীজ ও ক্যাথলিক ইনকুইজিশানের সময় ক্যাথলিক খ্রীস্টানরা নানান সময়ে ইউরোপে অবস্থানরত অসংখ্য ইজরালাইটদের হত্যা ও উচ্ছেদ করেছে, ক্রুসেডের সময় এবং পরবর্তীতে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে খ্রীস্টানরা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইজরালাইটদের গণহত্যা ও উচ্ছেদ করেছিল।
স্পেন থেকে মধ্যযুগে ক্যাথলিক খ্রীস্টানরা ইজরালাইটদের উচ্ছেদ করলে অটোম্যানরা সে সময় ইজরালাইটদের আশ্রয় দিয়েছিল।

ইউরোপের মুরিশ স্পেনে বেশ কয়েকবার মুসলমান ও খ্রীস্টানরা মিলে ইজরালাইটদের গণহত্যা ও উচ্ছেদ করেছে, মুসলমানদের সূচনালগ্ন হতে অাধুনিকযুগ পর্যন্ত মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে যেসব ইজরালাইট বসবাস করতো, তারা বহুবার মুসলমানদের হাতে গণহত্যা ও উচ্ছেদের শিকার হয়েছে।

সত্যি বলতে, প্রাচীন আমল থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর অর্ধাংশ পর্যন্ত ইজিপ্টিয়ান, অ্যাসিরীয়ান, ব্যাবিলোনিয়া, গ্রীক, রোমান, খ্রীস্টান, মুসলমান, আরব, অটোম্যান, পারসিয়ান, ইউরোপিয়ান, নাজী, ফ্যাসিস্ট, রুশ, সোভিয়েত সকলেই নানান সময়ে ইজরালাইটদের পার্সিকিউট করেছে।

এত বড় পোস্ট লিখতে হয়েছে শুধুমাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য-
 প্রশ্ন- ০১.
ফিলিস্তিনিরা কি ইজরাইলী তাদের আদিনিবাস বের করে দিয়েছে?
উত্তর:
না, ফিলিস্তিনিরা ইজরালাইটদের তাদের আদিনিবাস দক্ষিন লিভান্ত থেকে বিতাড়িত করেনি। ইজরালাইটদের তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে মূলত: রোমানরা।
ফিলিস্তিনিরা বর্তমান ইজরাইল-ফিলিস্তিন ভূখন্ডের আদিবাসীদের বংশধর এবং ইজরালাইটরাও এই ভূখন্ডের আদিবাসীদের বংশধর।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে ফিলিস্তিনিরা কারা, ওরা কিভাবে মুসলমান হলো ও তাদের ভাষা আরবী কেন? ফিলিস্তিনিরা ঐতিহাসিক দক্ষিন লিভান্ত অঞ্চলের নানান সময়ে বসবাসকারী বিভিন্ন গোত্রের বংশধর। ফিলিস্তিনিরা মূলত: ক্যানানাইটসদের বংশধর।
ফিলিস্তিনিদের বর্তমানে ক্যানানাইট না ডেকে ফিলিস্তিনি ডাকা হয়, কারণ, ১৩২ খ্রীস্টাব্দে এই অঞ্চলের শাসক রোমানরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অঞ্চলকে প্যালেস্টিনা এবং ইজরালাইট বাদে এর অন্যান্য অধিবাসীদের প্যালেস্টাইন বলে সম্বোধন করতো। এর কারণ উপরে বর্ণনা করা হয়েছে।
আগেই বলেছি, শাসকের ভাষা ও ধর্ম প্রজাদেরও ভাষা ও ধর্মে রূপান্তরিত হয়। কারণ, এতে শাসকশ্রেণীর অংশ হওয়া যায়, নিরাপত্তার বিষয়টির সঙ্গে ক্ষমতাও উপভোগ করা যায়।

আরব-মুসলমানরা লিভান্ত জয় করার পর, লিভান্তের প্যাগানরা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলের প্যাগানদের মত ধর্মান্তরিত হয় এবং দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবীর প্রচলন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য জায়গার মত লিভান্তের মানুষরাও আরবীকে মূল ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে।

প্রশ্ন- ০২.
কারা ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের আদিবাসী; ইজরাইলীরা নাকি ফিলিস্তিনিরা?

উত্তর:
বস্তুত: উভয়ের মাতৃভূমি ইজরায়েল-ফিলিস্তিন; কারণ, উভয়েই ক্যানানাইটসদের বংশধর। ক্যানানাইটস গোত্রগুলোর মাঝে ইজরালাইটদের এই অঞ্চল রোমানরা উচ্ছেদ করেছিল বলে, ওরা নানান জায়গায় মাইগ্রেট করে কিন্তু বর্তমান ইজরায়েল-ফিলিস্তিন ভূখন্ড এদের পূর্বপুরুষের মাতৃভূমি।
বর্তমানে ফিলিস্তিনি যাদেরকে বলা হয়, এরাও ক্যানানাইটস গোত্রসমূহ, আরব সহ অন্যান্য সেমিটিক গোত্র ও এই অঞ্চলে বসতিস্থাপনকারীদের বংশধর; এরা প্রাচীনকাল থেকে হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় এই অঞ্চলে বসবাস করে আসছে; বর্তমান ইজরায়েল-ফিলিস্তিন ভূখন্ডটি ফিলিস্তিনিদের হাজার হাজার বছরের বসতভূমি ও মাতৃভূমি।

১৯৪৮ সালে ইজরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্টা হয় আর এর মাধ্যমে ইজরালাইটদের বড় অংশ তাদের পূর্বপুরুষের মাতৃভূমিতে আসতে শুরু করে এবং এনিয়ে ‘ইজরালাইট সহ এই অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতি ও গোত্রের বর্তমান বংশধরদের তথা ফিলিস্তিনিদের’ সঙ্গে ইজরালাইটদের সংঘাত শুরু হয়; যা ক্রমশ বড় হয়েছে এবং বর্তমানে বস্তুত এর কোন সমাধান আমরা পাইনি।

বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইজরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তি সম্ভব নয় এবং এই চেষ্টা করা উচিতও হবে না। এছাড়া, ক্যানানাইটসদের বংশধর হিসেবে এই ভূমিকে ইজরাইলী ও ফিলিস্তিনিরা উভয়েই নিজেদের বলে দাবি জানাতে পারে।
ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের অধিবাসীরা পরস্পরের সহাবস্থান সহ্য করা ছাড়া ভিন্ন কোন বিকল্প আছে কি?

তথ্য সহায়িকা:
০১. A History of the Jewish People (1976) - H.H. Ben Sasson - Harvard University Press.
০২. A History of the Jews (London 1987) - Paul Johnson.
০৩. Muhammad: His Life Based on the Earliest Sources - Martin Lings.
০৪. Between Rome and Jerusalem: 300 Years of Roman-Judaean Relations - Martin Sicker.
০৫. A History of Palestine - Moshe Gil.
০৬. Origin of the Phoenicians: Interactions in the Early Mediterranean Region - Sanford Holst.
০৭. The Jews of Arab Lands: A History and Source Book - Norman A. Stillman.
০৮. The Jews of Islam (1984) - Bernard Lewis.
০৯. Biblical Peoples and Ethnicity: An Archeological Study of Egyptians, Canaanites, Philistines, and Early Israel, 1300–1100 B.C.E. - Ann E. Killebrew.
১০. Jews and Judaism in World History - Howard N. Lupovitch.
১১. A Short History of the Jewish People: From Legendary Times to Modern Statehood - Raymond P. Scheindlin.
১২. The History of the Jews : from the earliest period to the present time (1800) - Henry Hart Milman.
১৩. The Crisis of Islam - Bernard Lewis.

‘ইকরিমিকরি’।


গেছি জেলা শহরে, দায়ে পড়ে। আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নবায়ন করতে হবে। গেছি ভয়ে-ভয়ে কারণ অফিসের কোনো বিষয় থাকলেই আমার অস্বস্তি বোধ হয়। অফিসের লাটসাহেবরা এমন আচরণ করবেন যাতে করে নিজেকে পোকা-পোকা মনে হবে। ওখানকার পরিচিত কয়েকজন রাগী যুবক আমাকে আশ্বস্ত করলেন, ‘ভয় নাই উরে ভয় নাই। যান, কোনো সমস্যা হবে না’।

 

জানি না এরা কি কলকাঠি নেড়েছিলেন এডি সাহেবকে দেখলাম মাখন-মাখন আচরণ করতে। তুরন্ত কাগজপত্র দেখে আনুসাঙ্গিক কাজ সারার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দিলেন।

ওখানে আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে এবং ছবি তোলা হবে। পরে আমার ছবির যে প্রিন্টআউট দেখলাম এটা দেখে যে-কেউ বলবে, এটা কোনও ড্রাগ-ডিলারের ছবি। একে কোনও দেশেই ঢুকতে দেওয়া সমীচীন হবে না। ক্যামেরার বংশ ভাল- দোষ ক্যামেরার না, আমার। আমারও না আমার চেহারার।

দু-হাতের চার আঙ্গুলের ছাপ রাখার পর আমার অন্য আঙ্গুলগুলোকে দেখে মায়া হলো বিষয় এটা না। জায়গাটা গরম তবুও আমি বললাম, ‘বাকী ছয় আঙ্গুলের ছাপ লাগবে না’?

যে ভদ্রলোক এই কাজটা করছিলেন তিনি কঠিন চোখে তাকালেন। আমি তার কঠিন চোখকে বিশেষ পাত্তা দিলাম না কারণ এই মানুষটাই একটু পূর্বে অহেতুক বাজে আচরণ করেছেন। বিষয় তেমন কিছুই না। ছবি তোলার সময় হইচই করে বলছিলেন, ‘আহ, চশমাটা খোলেন’।

চশমা খুলে ছবি তুলতে হয়, নিয়ম। এটা সমস্যা না সমস্যাটা হচ্ছে এর আচরণ। আমি চোয়াল শক্ত করে বললাম, ‘এটা তো বললেই হয়, হাউহাউ করছেন কেন’?

‘করব না! আপনি জানেন না চশমা খুলে ছবি তুলতে হয়’!

এবার আমি শ্লেষভরা কন্ঠে বললাম, ‘না, জানি না কারণ আমি তো আপনার মত চাকরি করি না। আর আপনি কি চান আমি আপনার নামে লিখিত অভিযোগ করি...’।

 

যাক গে, এই হইচইয়ের সুবাদে আমার একটা উপকার হলো বটে সেটা হচ্ছে মনে পড়ল অনেক দিন ধরেই চশমাটা খুব ভোগাচ্ছে। এই ফাঁকে চোখটা দেখিয়ে নিলে মন্দ হয় না। আমি বালকবেলা থেকে চশমা পরি এটা কোনও নতুন তথ্য না কিন্তু যেটা আমি এবং ডাক্তার ব্যতীত কেউ জানেন না সেটা হলো চশমা ছাড়া আমি প্রায় অন্ধ। এটা আমি সযতনে লুকিয়ে রাখি কাউকে জানতে দেই না।

ভার্চুয়াল এই ভুবনটা এখন বড়ো নাজুক। এখানে কখন কার কোন তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এটা নিয়ে আমরা ভয়ে কাঠ হয়ে থাকি। চশমা ছাড়া আমি যে প্রায় অন্ধ এটা জানাজানি হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে J ।

 

যাই হোক, এখানকার কাজ সেরে গেলাম জেলা সদর হাসপাতালে গোপন ইচ্ছা ফাঁকতালে বিনেপয়সায়...। চক্ষু বিভাগের দায়িত্বে আছেন ইয়ামলী খান নামের একজন ডাক্তার। ‘পেরাভেটে’ এঁকে দেখালে একটা ৫০০ টাকার পাত্তি লাগে। লাইন এগুতে এগুতে...বারোটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম এই ভদ্রলোক চলে গেলেন। জিজ্ঞেস করে জানা গেল অন্য ডাক্তার আছেন। মোহাম্মদ আল-আমিন নামের অন্য যে ডাক্তার এই লোকের পদবীর সঙ্গে দেখছি পিজিটি (চক্ষু) লাগানো। অথচ আমি যতটুকু জানি পিজিটি লাগানো নিষিদ্ধ।

এবং যথারীতি তিনি যে চিকিৎসা করলেন তা ভুল চিকিৎসা।

 

হায় রে, গোলাম হোসেনেরও উপায় নাই-মাহমেদ হোসেনেরও। যে দেশের যে দস্তুর- নিরুপায় হয়ে সেই পেরাইভেটেই যেতে হলো। গুচ্ছের টাকা খরচ।

এবার অন্য ডাক্তার- সুখেন্দু বিকাশ তালুকদার। ইনি এমডি করেছেন রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার ডিগ্রি নিয়ে কিযেন ঝামেলা আছে আমাদের দেশে, সে ভিন্ন বিষয়। আমি যখন এই ডাক্তারকে দেখাচ্ছি তখন সিরায়াল চলছে ত্রিশ। এটা হচ্ছে প্রথম দফা। বিকালে শুরু হবে দ্বিতীয় দফা। রাত পর্যন্ত চলবে। চারশো টাকা করে ফি হলে রেগি দেখা এবং অপারেশন মিলিয়ে এই ডাক্তার সাহেবের প্রতি দিনের আয় আনুমানিক ত্রিশ হাজার টাকা। মাসে ১০ লাখ টাকা। ভাল...।

 

এই ডাক্তার সাহেব আমাকে ব্যবস্থাপত্র যেসব লিখে দিয়েছেন হাতের লেখা দেখে তো মনে হচ্ছে ওয়ান-টু পড়ুয়া বাচ্চাদের মত। ‘ইকরিমিকরি’। এটা অবশ্য আমি অনেক ডাক্তারদের মধ্যেই দেখেছি।

তো, ব্যবস্থাপত্রে তিনি যে ওষুধটা লিখে দিয়েছেন এটা কয়েকটা ফার্মেসিতে ঘুরেও সুরাহা হয়নি। দুয়েকজন আমাকে জ্ঞানও দিয়েছেন ডাক্তার সাহেবদের চেম্বারের কাছাকাছি কোনও ফার্মেসি থেকেই ওষুধ কেনার নিয়ম কারণ ওরা চট করে ওই ডাক্তারের লেখা ধরতে পারে। মনে মনে বলি, কত অজানা রে...। আমার না-হয় চোখ গেল চোখ গেল কিন্তু যার প্রাণ যাবে সে বাঁচবে কেমন করে!

 

ভাল কথা, আমার বন্ধুতালিকায়-থাকা কোনও সহৃদয় ডাক্তার যদি ওষুধটার নাম এবং কয়টা করে বাতলে দিতেন তাহলে ভারী কৃতজ্ঞ হতাম।       

সযতনে পরিহার।

পরীক্ষার ফল দেওয়ার পর পত্র-পত্রিকায় নিয়ম করে বেশ কিছু ছবি ছাপা হয়। ছেলে-মেয়েদের উচ্ছ্বাসভরা ছবি। এদের হাসিমুখের ছবি দেখতে ভালই লাগে।

কিন্তু পত্রিকাওয়ালাদের ছাপাবার নমুনা বৈসাদৃশ্য লাগে। কাজটা অনেকেই করেন তবে এখন উদাহরণ হিসাবে প্রথম আলোকে বেছে নেওয়া যাক। এই পত্রিকাটিকে বেছে নেওয়ার পেছনে কারণটা হচ্ছে প্রথম আলো আমাদেরকে অনেক কিছু শেখায়- লাইক দেওয়া ‘লাইকালাইকি’ শেখায়, শপথ করা শেখায়, শেখায় কারও পিতৃপ্রদত্ত নাম ছেঁটে দেওয়া বা দেশ যখন রানা প্লাজার লাশের মিছিল নিয়ে স্তব্ধ তখন নাচাগানা করে...।

এদের শপথে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকের জীবন পাল্টে গেছে। এমনকি দুঁদে বুদ্ধিজীবীরাও মানুষ হয়ে গেছেন! শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান প্রথম আলোর শপথে দুরন্ত প্রভাবিত হয়ে তার বাসার কাজের ছেলেকে ‘ল্যাকাপড়া’ শিখিয়েছেন [১]।  

 

যাই হোক, দৈনিক #প্রথমআলো (১৪ আগস্ট ২০১৪) এসএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত ছেলেমেয়েদের আনন্দধারার ১৭টা ছবি ছাপিয়েছে। এরমধ্যে ১৫টা ছবি মেয়েদের। কেবল ২টা ছবি ছেলেদের। ভাগ্যিস, ২টা ছবি ছেলেদের দেওয়ায় চেপে রাখা শ্বাসটা ছাড়তে পারছি আমি নইলে একটা কুৎসিত ভজকট হয়ে যেত। দুম করে এটাই ভেবে বসতাম দেশে ছেলেরা কেউ পরীক্ষাই দেয়নি। বলা যায় না এই কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমি জুকারবার্গের নাকে গদাম করে একটা ঘুসিই মেরে বসতাম। রে পাপিষ্ট জুকারবার্গ, তোর কারণেই, তোর কারণেই আমাগো ছেলেরা ফেসবুকে থেকে-থেকে এমন উচ্ছন্নে গেছে যে এরা পরীক্ষাটাও পর্যন্ত দেয়নি।

যাক, ওই ২টা ছবির কল্যণে জুকারবার্গের খাড়া নাক বেঁচে গেল। পুলিশের হাঙ্গামা থেকে বেঁচে গেলাম আমিও। নাকের জন্য বাচ্চু ভাই ওরফে মতি ভাইয়াকে জুকারবার্গ বেসুমার ‘ট্যাকাটুকা’ দিলেও আপাতত আমি শুষ্ক ধন্যবাদ দিয়েই কাজ চালিয়ে নেব বলে স্থির করেছি।

 

কেউ-একজন আমাকে বলেছিল এই দেশের অধিকাংশ মাথওয়ালারা কোনও-না-কোনও প্রকারে প্রথম আলোর সঙ্গে জড়িত।  সেদিন আমি ওই মানুষটার সঙ্গে একমত হতে পারিনি কিন্তু আজ আর আমার এতে কোনও সন্দেহ নেই। জয় হোক প্রথম আলোর!

 

লেখার পেছনের লেখা: এই লেখাটায় আমি #চুতিয়া শব্দটা লিখতে গিয়ে সযতনে পরিহার করলাম। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। কে বলতে পারে একদা কেউ হয়তো জটিল আঁক কষে এটা বের করবে এখন পর্যন্ত আমি যে আট-দশটা লেখা লিখেছি তার মধ্যে গোটা বিশেক চুতিয়া শব্দটা আছে। জেনেশুনে এই ঝুঁকিটা নেওয়া চলে না।

১.আনিসুজ্জামানের শপথ:  http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html      


Tuesday, August 12, 2014

বুমেরাং



আমার পুরনো একটা লেখা ছিল এমন:

“মাদাম যান। ফোর-হুইল, থ্রি-হুইল, টু-হুইল, নো-হুইল (পায়ে হেঁটে) যেটা ভাল লাগে সেটা দিয়েই যান। তবুও যান, মাদাম।“

বাংলাদেশে যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে খালেদা জিয়া যাননি। লেখাটা ছিল এই প্রেক্ষিতে। কেন তিনি যাননি? আমাদের দেশে তখন হরতাল চলছিল। কে ডেকেছিল হরতাল? জামাতে ইসলামি। এটা এই দেশের একটা শিশুও জানে মাদাম হরতাল না-চাইলে জামাতের বুকের পাটা মসলা বাটার পাটা হয়ে যাবে। স্বল্পভাষী মাদামের মুখনিঃসৃত স্বল্প বাণীতেই হরতাল আকাশলোকে চলে যেত। কিন্তু মাদাম ওপথ মাড়াননি।

 

ভারতের লোকজনেরা যে এটাকে সহজ ভঙ্গিতে নেবে এটা পাগলও বিশ্বাস করবে না। তাই ফলটা মাদাম হাতে-হাতেই পেয়েছিলেন এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তখন খালেদা জিয়া যে অকাট্য যুক্তি দিয়েছিলেন সেটা হচ্ছে হরতালে আমি কোথাও যাই না। অতি উত্তম। কিন্তু এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না যে ভারতের রাষ্ট্রপতির আমাদের মত ‘ছদুরুদ্দিন-মদুরুদ্দিন’ না যে ‘উঠলো বাই চলো বিদেশ যাই’। বিস্তর সময় নিয়ে এমন একটা কর্মসূচী নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এটা বিএনপির লোকজনেরাও বিশ্বাস করবে না যে হরতাল দেওয়ার সময় এটা জানা ছিল না যে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে আসবেন। অথচ এটা খালেদা জিয়ার জন্য মোক্ষম একটা সুযোগ ছিল। তিনি অনায়াসেই তা হাতছাড়া করলেন।

 

যাই হোক, ওদিকে গঙ্গার জল অনেক গড়ালো এদিকে বুড়িগঙ্গার পানিও বিস্তর ঘোলা হলো।

এবছর বাংলাদেশে এলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সুষমা স্বরাজের কর্মসূচির মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করাটা ছিল না। কিন্তু খালেদা জিয়া সুষমা স্বরাজের সঙ্গে দেখা করতে অমায়িক আগ্রহ প্রকাশ করলেন। ভারতীয় হাইকমিশন থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো: সুষমা যাবেন না। দেখা করতে হলে খালেদা হোটেলে আসতে পারেন। কথাবার্তা হবে লবিতে বসে।

খালেদা জিয়া আর মান-সম্মানের দিকে তাকাননি, প্রটোকল ভুলে হোটেলে গিয়ে সুষমার সঙ্গে দেখা করলেন।

 

খালেদা জিয়া উভয় ক্ষেত্রেই দেশের আপামর লোকজনকে খাটো করলেন। এ অবশ্য নতুন কিছু না।

‍"সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিদেশী পর্যবেক্ষকরা বলছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার অনড় বক্তব্য ১০০ আসনে কারচুপি হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছিলেন।
এতে বড় ধরনের গলযোগ সৃষ্টি হতে পারে, এটা জানতে পেরে, ব্রিটিশ হাই কমিশনারের দপ্তর থেকে অনুরোধ করে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, জাপানের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনাররা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে কথা বলার জন্য অনুমতি চান। কিন্তু খালেদা জিয়া ব্যস্ত আছেন এটা বলে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
উপায়ন্তর না দেখে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্কিন প্রেসিডেন্টের অতি জরুরি বার্তা বেগম জিয়ার কাছে এখনই পৌঁছে দিতে চান বলে জানান এবং তার সঙ্গে আরও ২জন রাষ্ট্রদূত এবং ২জন হাই কমিশনার থাকবেন এটাও উল্লেখ করেন। বেগম জিয়া বাধ্য হয়ে সময় দেন।
নির্ধারিত সময়ে এঁরা ৫জন বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। শুরুতেই বেগম জিয়া বাংলায় বলেন, 'এরা কেন এসেছে, মাতব্বরি করার আর জায়গা পায় না'।

বেগম জিয়ার দোভাষী ইংরাজিতে বললেন, 'আপনারা আসায় ম্যাডাম অত্যন্ত খুশি হয়েছেন তিনি আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছেন'।
এরা কেউই জানতেন না যে, জাপানি রাষ্ট্রদূত ভালই বাংলা জানতেন আর ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানতেন জাপানি ভাষা। সঙ্গে সঙ্গে জাপানি রাষ্ট্রদূত খালেদা জিয়ার বলা কথাগুলো জাপানি ভাষায় ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তর্জমা করে শোনান...।”

Monday, August 11, 2014

অমানুষ এবং সভ্যতা!



ইরাকে #Islamic State (Is) -কে নিয়ে ইসলামপন্থী অনেকে উল্লসিত কারণ এরা নাকি ইসলামের ঝান্ডাধারী। আবার অনেকে খুবই আমোদিত এটা প্রমাণ করতে পেরে যে দেখো-দেখো, ইসলামপন্থী লোকজনেরা কী নৃশংস!

 

#IslamicState(Is) , এরা চরম নৃশংসতা দেখাচ্ছে তাতে করে অনেকে এদেরকে কসাই বলছেন। আমি তাদের সঙ্গে একমত নই কারণ কসাইগিরি একটা পেশা, বৈধ পেশা। কসাইদের মধ্যেও আমি প্রচুর লোকজন দেখেছি যারা অতি মানবিক, অন্য লোকজনের মতই। তাই আইএসদেরকে কসাই বলতে আমি নারাজ।

 

এদেরকে অমানুষ বলা যেতে পারে কারণ এদের মধ্যে মানবিক কোনও আচার-আচরণ বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই। অমানুষ তো অমানুষই এদের আবার কীসের জাত-পাত, ধর্ম!

এরা যে যুদ্ধ করছে এটাকে কোনও প্রকারেই যুদ্ধ বলা চলে না। এরা বেসামরিক লোকজনকে খুন করছে, স্রেফ খুন- ঠান্ডা মাথায় খুন। যাদেরকে খুন করা হচ্ছে এদের অধিকাংশই কোনও প্রকারেই যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত না।

এবং এরা খুন করে যেভাবে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছে এতে এটাই স্পষ্ট হয় এটা করা হচ্ছে বিশেষ একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। এবং এতে যে লোভি বিশ্বমোড়লদের স্নেহের হাত নাই এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।   

 

আসল উদ্দেশ্য সহসাই জানার কোনও যো আমাদের নাই কারণ পশ্চিমা মিডিয়া আমাদেরকে কি গেলাতে চাচ্ছে সেটাই মূখ্য। আমরা গিলে বমি-টমি করার পর যদি কখনও সুস্থির হই তখন আসল বিষয়টা হয়তো আঁচ করা যাবে।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। নাইন ইলাভেন। টুইন টাওয়ার ধ্বংস হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের ফুটেজ দেখাচ্ছিল সিএনএন-এ। একটি ফুটেজ দেখে বিশ্ববাসী হতভম্ব, ব্যথিত কারণ ওই ফুটেজটায় দেখা গেল ফিলিস্তানিরা আকাশে ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করছে। অর্থাৎ টুইন টাওয়ার ধসে যাওয়ায় ফিলিস্তানিরা বেজায় আনন্দিত। কিছুদিন পর সিএনএন খুই হেলাফেলা করে টেলপে লিখে জানায়, ফুটেজটি ছিল পুরনো এবং এটা ভুলবশত দেখানো হয়েছে। ব্যস, মামলা ডিসমিস।

 

তাই সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়- ইসারাইলি তিন কিশোরকে কি ফিলিস্তিনিরাই অপহরণ করেছিল নাকি ইসরাইল নিজেই এই কাজটা করে ফিলিস্তিনে ঝাঁপিয়ে পড়ার একটা সুযোগ করে নিয়েছে? নাকি ফিলিস্তিনি কিশোরকে ইসরাইলিরাই পুড়িয়ে মেরেছে না হামাস এটা করে বিশ্ববাসীকে বোকা বানিয়েছে? এই শঙ্কা একেবারেই অমূলক বলে অন্তত আমি উড়িয়ে দেই না। কারণ এদের কাছে মানবতা-ধর্ম এই সমস্ত জরুরি না। জরুরি হচ্ছে ক্ষমতা। ক্ষমতার জন্য হাজার-লাখ মারা গেল এতে এদের বয়েই গেছে।

 

যেমনটা আমরা আমাদের বিশ্ববাবা আমেরিকার কথা অনেক পরে জেনেছি। ইরাকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে কারণ ইরাকে গোপন অস্ত্রের পাহাড় লুকিয়ে আছে। শেষপর্যন্ত তন্নতন্ন করে খুঁজে পাওয়া গেল বুশের বিচি! তো, এরপর? আমেরিকার কী ঘন্টাটা হলো? ফাঁকে তো লক্ষ প্রাণ শেষ!

এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তেল-অস্ত্র অসম্ভব লাভজনক। বিশেষ করে অস্ত্র। হাইটেক যেসমস্ত অস্ত্র বানানো হচ্ছে এগুলো বুকে লাগিয়ে রাখলে তো হবে না। বিক্রি করতে হবে। আগে ক্লাস্টার বোমায় ১০০জন মারা যেত এখন ৫০০জন মারা যায়। রিয়েলি? ফাঁকা মরুভূমিতে এই মহড়া দিলে তো হবে না। এর জন্য জীবিত মানুষ প্রয়োজন। কোথায় পাওয়া যাবে?

আহা, জাত-পাত, ধর্মের নামে একটা যুদ্ধ লাগাও। শয়ে শয়ে ক্লাস্টার বোমা পড়ছে শত-হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। শ্যাম্পেনের গ্লাস ঠুকে পরস্পরের স্বাস্হ্য পান করে চুমুক দাও। ওই যুদ্ধের ভিজ্যুয়াল দেখো। দরদস্তুর করে অস্ত্রের অর্ডার দাও। ডিল।

 

২০০৬, জুন। ১৯ বছরের একজন ইসরাইলি কর্পোরাল জিলাদ শলিতকে মুক্ত করার নাম করে ইসরাইল ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে ফিলিস্তিনের ৯জন মন্ত্রী এবং ২০জন এমপিকে চোখ বেঁধে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়! এটাই হচ্ছে আমাদের সভ্যতার নমুনা! আসলে গুহামানবরা পূর্বে যেভাবে জীবন-যাপন করত- শক্তি প্রয়োগ করে অন্যের খাবার-নারী-বসত ছিনিয়ে নিত এখনও এ অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সভ্যতা ওখানেই থেমে আছে, ভঙ্গি বদলেছে মাত্র...। 

 

দুর্বলচিত্তের কারও এই ভিডিওটা না-দেখাই ভাল:


Sunday, August 10, 2014

খবিস


সমাজকল্যাণমন্ত্রী খবিস বললেন। মন্ত্রীমহোদয় তো বলেই খালাস কিন্তু বিপদে পড়লাম আমি। ভারী বিপদ!

একজন আমার কাছে জানতে চাইলেন, খবিস জিনিসটা কি?

আমি অতি আস্থার সঙ্গে বললাম, ওহো, এটা তো সোজা! খবিস মানে খবিস।

তিনি চিড়বিড় করে উঠলেন, আমার সঙ্গে চালবাজি করবা না। জানলে বলো; না-জানলে না বলো।

আমার আস্থায় এবার চিড় ধরল, খবিস মানে ইয়ে আর কী! আরে বুঝলা না। আচ্ছা, তোমাকে আমি পরে বলছি।

এবার তিনি রক্তচক্ষু মেলে বললেন, হাহ, পরে! খবরদার-খবরদার বলছি  অভিধানে হাত দিবা না। এ্যাহ, এ আবার লেখালেখি করে, ‘ছইদালি’ কোথাকার। আমি এটা বেশ জানি এক পাতা লিখতে তুমি দশটা বানান ভুল করো। হাতের নাগালে অভিধান না-থাকলে তুমি এক লাইনও লিখতে পারো না। আমি তোমার হৃদয়বান পাঠক না যে তোমার ছাইপাশকে লেখা বলব।

আস্থা মিলিয়ে গেছে কবে এবার আমার গলা থেকে চিঁ চিঁ স্বর বের হয়, দেখো, এই সব বাইরের লোকজন জানার দরকার কী! যে দু-চারজন পাঠক আমার লেখা পড়ে এরাও মুখ, না-না ভুল বললাম চোখ ফিরিয়ে নিলে আমার উপায় কী, বলো! শেষঅবধি আমার লেখা আমাকেই পড়তে হবে। সে যে কী কষ্ট-কষ্ট! আহা, আমি তো সেইসব লেখক না যে গালে হাতদেওয়া পোজ দিয়ে রাশভারী গলায় বলব, আমি তো কেবল আমার নিজের আনন্দের জন্যই লিখি।

এই পর্যায়ে এসে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন, আর একটা কথা না। খবিশ কি জানলে বলো নইলে চুপ, একদম চুপ।

আমি এবার অনেক ভেবেচিন্তে বললাম, ইয়ে মানে খবিস হচ্ছে ইয়ে আর কী...।

*ছবি ঋণ: www.newsmirror24.com 

Friday, August 8, 2014

বাবার চশমা এবং ‘লাইকালাইকি’।



 
এ দৃশ্যটা কোন দেশের এটা আমার কাছে জরুরি না। হতে পারে এটা ফিলিস্তিন, সিরিয়া, বার্মা বা ইরাকের- কী আসে যায় তাতে। আমার কাছে যেটা জরুরি, এটা মানবসন্তানের বুক ভেঙ্গেআসা হাহাকারকরা এক দৃশ্য!

এই দৃশ্যটা অসংখ্য রক্তে ভেসে যাওয়া দৃশ্যের চেয়ে আমার কাছে আলাদা কেন? এর ভাল কোনও সদুত্তর আমার কাছ নাই। সব উত্তর কী আমি জেনে বসে আছি ছাই!

কেবল এটাই মনে হয় কী হাহাকারকরা একটা দৃশ্য! শ্বাস আটকে আসে বুকটা কেমন ধক করে উঠে! বাবাটা মরে পড়ে আছে সঙ্গে হয়তো ভাইটাও। শিশুটি প্রাণপনে আঁকড়ে আছে বাবার চশমাটা, তুচ্ছ একটা বস্তু। শিশুটির কাছে এই হিংস্র পৃথিবীতে আঁকড়ে ধরার মত আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, কিচ্ছু না। কেবল বাবার চশমা ব্যতীত। এটাই ওর কাছে শেষ আশ্রয়স্থল-ভরসাস্থল।

আসলে এই সব কেবল অনুমানমাত্র। শিশুটির ভাবনা বোঝার ক্ষমতা আমাদের কই! তাহলে বোঝার ক্ষমতা কি আকাশলোকের বাসিন্দার? উহু, আকাশলোকের বাসিন্দা... এটাও জোর দিয়ে বলা চলে না- ঘুমকাতুরে বেচারা যে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন!

 

জুকারবার্গ একদা ফেসবুক নামের টিকটিকির ডিম প্রসব করেছিল যেটা বিচিত্র কারণে কালে-কালে হয়ে গেছে পৃথুল ডায়নোসরের ডিম! চ্যাংড়া ছেলেটা আমাদের মস্ত এক উপকার করেছে বটে। অনায়াসে বাংলাদেশে ১৭ কোটি লেখক পয়দা করে দিয়েছে- আহা, ডায়নোসরের ডিম বল কথা! হবে না কেন, বাপু? এখানে যার যত লাইক সে তত বড় লেখক। নিপট নির্বোধ এখানে ত্রিকালদর্শী!

 

এক #চুতিয়ার কথা বলি। শাহাদুজ্জামানকে নিয়ে এর ক্ষুব্ধ একটা লেখা পড়েছিলাম (সম্ভবত শাহাদুজ্জামান ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেননি)) লেখার একটা লাইন হচ্ছে এমন: ‘...শাহাদুজ্জামানের লেখায় কয়টা লাইক পড়ে? লুকটা তুষার ভাইয়ের জুতা সাফ করারও যোগ্যও না...’।

তুষার ভাই মানে আমাদের আবদুন নুর তুষার। অনুমান করি এই তুষারের বিশাল এক লাইকবাহিনী আছে যে কারণে এই #চুতিয়াটা শাহাদুজ্জামানের মত লেখকের সঙ্গে তুষারকে এক পাল্লায় মাপামাপি করতে বসেছে।  

এ সত্য শাহাদুজ্জান তো আর উপস্থাপনায় তুষারকে ছাড়াতে পারবেন না। যেমনটা তুষারকে আমি চিনি চৌকশ একজন উপস্থাপক হিসাবে। ভুলি কেমন করে! আমার স্মৃতিতে যে এখনও অম্লান তার উপস্থাপনার কেরামতি। তুষারের ‘শুভেচ্ছা’ অনুষ্ঠানে তুষার কাঁদছে পথশিশুদের কষ্টে। আমি এমন হতবাক জীবনে কমই হয়েছিলাম কারণ অনুষ্ঠানটা লাইভ ছিল না। তাহলে ঘটনাটা কী দাঁড়াল? রেডি ওয়ান টু থ্রি ক্যামেরা এ্যাকশন, ভেউ-ভেউ-ভেউ। কাট। রেডি ওয়ান টু থ্রি...টেন, ভেউ-ভেউ-ভেউ-ভেউ। কাট...। রেডি...কাট...। ভ্যাঁ...। তুষার ভাইয়া কাঁদছে অঝোরে! 

 

ওই #চুতিয়ার মত লোকদের এখন আর খুব একটা দোষ দেই না কারণ প্রথম আলোর মত পত্রিকাকেও যখন লাইক নিয়ে লাফিয়ে ছাদে মাথা ঠুকে ফেলতে হয় [১] তখন অজান্তেই মুখ ফসকে বের হয়েই যায়, প্রথম আলো শেষ পর্যন্ত তুমিও, #চুতিয়া!

 

প্রসঙ্গটা আসল এই কারণে অনেকের ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা দেওয়ার পর এমনসব মন্তব্য করা হযেছে যা অতি হৃদয়বিদারক। এই যুক্তিতে এরা কেন ইরাক বা সিরিয়া নিয়ে বলছেন না। শোনো কথা, একেকজনের কাজ করার ভঙ্গি, একেকজনের ভাবনা-অনুভূতি-স্পর্শ একেক রকম।  তাই বলে তো কাউকে শূলে চড়ানো চলে না।

এই যেমন অসংখ্য রক্তাক্ত দৃশ্য থেকে শিশুটির চশমা আঁকড়ে ধরার দৃশ্যটা আমাকে তীব্র বেদনায় আচ্ছন্ন করেছে তাই বলে কী পাঠককেও এটা স্পর্শ করবেই? এমনটা আশা করাটা নির্বুদ্ধিতা। এখন আমাকে এটা স্পর্শ করেছে তো কী করা যাবে ইলেকট্রিক পোলে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে!

 

আর ফিলিস্তিন নিয়ে লিখলেই কী, না-লিখলেই কী! ইসরাইল তার বাপ আমেরিকারা যা চাইবে তাই হবে। নইলে সমস্ত গাজা ফিলিস্তিনিদের রক্তে ভেসে যায় আর কেবলমাত্র একজন ইসরাইলি সেনা অপহৃত হলে তার জন্য উদ্বেগে #চুতিয়া ওবামার ...পাত হয়ে যায়। এটাই বাস্তবতা!

তবুও এই কাতরতা, কেন? ২০১২ সালে বাংলাদেশ গাজার জন্য এক কনটেইনার ওষুধ পাঠায়। কিন্তু ওই ওষুধ গাজায় ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। মিসরের বন্দরে পড়ে পড়ে ওষুধগুলো নষ্ট হয়ে যায়। হোক নষ্ট তবুও বাংলাদেশ অন্তত ভাল লাগায় মাখামাখি হয়ে থাকতে পারবে যে সে অন্তত সামান্য চেষ্টাটুকু তো করেছিল। বাংলাদেশের তো আর সেই শক্তি নাই যে হাঁক দিলেই ইসরাইলের প্যান্ট ‘গিলা’ হয়ে যাবে।

কেউ যদি ‘সেভ গাজা’ হ্যাশট্যাগ লিখে সামান্য চেষ্টাটুকু করে সমস্যা কোথায়! কারও ভাল লাগলে সেও অন্যদের জন্য কিছু করুক না, আটকাচ্ছে কে।

 

তবে, একটা কিন্তু, একটা কিন্তু থেকেই যায়। কেউ যদি কেবল স্বগোত্র হওয়ার কারণে বিশেষ কোনও গোত্রের জন্য কেবল কাতরতা দেখায় তাহলে আমি বলব, এই-ই সেই মানুষটা যে অন্যের উপাসনালয় রক্তে ভেসে গেলে উল্লাস করে।

এদের কারও কষ্টে কাতরতা দেখাবার চেয়ে মানুষ হওয়াটা জরুরি, খুব জরুরি...।

* www.ali-mahmed.com/2014/07/blog-post_22.html

Wednesday, August 6, 2014

নেই, নেই কোনও স্মৃতি...।



স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখে মানুষকে নইলে সেই কবেই মানুষ মরে ভুত হয়ে যেত। আর শেষ স্মৃতি- একে জাপটে ধরে বেঁচে থাকে মানুষ বছেরর-পর-বছর, যুগের-পর-যুগ ধরে। বিকৃত-গলিত তবুও লাশ চাই, প্রিয়মানুষের লাশ। বুকের অটল পাথরটা যদি খানিকটা নড়ে...। 

 

আহ লাশ! তরতাজা একটা মানুষ নিমিষেই আমূল বদলে যায়। মুছে যায় নামের পূর্বে আ আ ম স ঞ বা নামের পর এ বি সি ডি! তখন কেবল এই লাশ উঠাও, লাশ নামাও। কী আশ্চর্য, এখনও বড়ি পাতা জ্বাল দেওয়া হয়নি। মা গড়াগড়ি করে কাঁদেন। বোকা মাটার অতশত খেয়াল করার সুযোগ কোথায়- চারপাশে যে অত্যাধুনিক ক্যামেরা তাক করা। সবই পণ্য, চোখের জলও। মাটার চোখের জলও বিক্রি হবে তার অজান্তেই। উপোষী ক্যামেরা শ্বাস আটকে থাকে- আহা, এমন দৃশ্য তো হররোজ মেলে না।

বাবাটা কেমন শান্ত হয়ে যান। কেবল তার সন্তানের লাশ কবরে নামাবার সময় অজান্তেই বিড়বিড় করেন, আরে আস্তে নামাও না, মাইয়াডা দুক্কু পায় না বুঝি।

 

প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে পিনাক-৬। ২ দিন পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনও এর হদিশ মেলেনি। এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে ১৭০ জন নিখোঁজ! ৩৬ কিলোমিটারের মধ্যে যখন পিনাক-৬ পাওয়া যায়নি ধারণা করা হচ্ছে স্রোতের টানে এটা দ্রুত সরে গেছে। এটাকে পাওয়ার সম্ভাবনা দুরূহ কারণ ক্রমশ পলির পরতে ঢেকে যাবে এটা। তবুও আমরা আশায় বুক বাঁধি কোনও-না-কোনও প্রকারে এটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

 

অনেকে চোয়াল উঁচু করে বলেন, সব দোষ লোকজনের এরা ঠাসাঠাসি করে যায় কেন? উপায় থাকে নারে, পাপিষ্ঠ। আমরা যে সবাই আধুনিক দাস ফিরতে হবে কাজে, চাকুরিতে। ট্রেন-বাস-লঞ্চ সব জায়গায় একই অবস্থা।

আজ আমি স্টেশনে ট্রেনে যে দৃশ্য দেখেছি এটা এখনও শিহরিত করে। স্টেশনে  মাহনগর প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনটা কেবল এসে দাঁড়াল। মাত্র দুমিনিট এর যাত্রা বিরতি । একজনকে দেখলাম ট্রেনের চাকার মধ্যেখান দিয়ে উবু হয়ে পার হচ্ছে, অসম্ভব ভিড়ের কারণে উল্টো দিক থেকে উঠবে বলে। আমার কেবল মনে হচ্ছিল মৃত্যু যেন এর চুল ছুঁয়ে গেল। এসব ভাবাভাবির সময় কোথায় এই মানুষটার! যেতে হবে, যেতে হবে ফিরে।।

 

এ সত্য আমাদের দেশটা বড়ো গরীব- ছোট্ট এই জায়গায় উপচেপড়া মানুষ আমরা। তবুও আমরা সামলে নিতাম কিন্তু আমাদের অনেকের লোভের লকলকে জিব এবং নষ্ট রাজনীতিবিদদের যন্ত্রণায় সে ভরসাটুকুও থাকে না।

আমরা ঈদের পূর্বে পত্রিকায় পড়েই গেলাম ভাঙ্গাচোরা লঞ্চ-জাহাজের জোড়াতালির কাজ চলছে। যাদের হাতে নাটাইয়ের সুতো এদের এই সব পড়া-দেখাদেখির সময় কোথয়? ছোট্ট একটা আইন করলেই ল্যাঠা চুকে যায়। লঞ্চ ডুবে গেলে ক্ষতিপূরণ সরকার দেবে কেন? মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দেবে লঞ্চ মালিক। এবং যথারীতি সরকারের মেহমান হিসাবে বিনেপয়সায় খাওয়া-দাওয়া। সেটা যে জেলের ভাত এটাও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি!

হায় প্রকৃতি, প্রকৃতির মত বদমাশ আর নাই- এ ঠিকই তার শোধ তুলে নেয়।

 

যাই হোক, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার সবচেয়ে ভাল লাগছে এটা দেখে প্রশাসন সব দিক থেকেই অতি তৎপর। এমনটাই তো হওয়া উচিত। সমস্ত ধরনের শক্তি নিয়োজিত করতে হবে প্রয়োজনে সমস্ত হেলিকপ্টার যা যা প্রয়োজন সব কিছু।

এখন জানা গেল, নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর ৩ ভাগনিও আছেন এদের মধ্যে। এর মধ্যে একজনের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে।

আমরা আশায় বুক বাঁধতে পারি যে পূর্বের মত সহসাই উদ্ধারকাজ বাতিল হবে না...।

 *ভিডিও ক্লিপটি সংগৃহিত। মানুষটার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

**একটা জরুরি সহায়তা চাচ্ছিলাম। পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার পূর্বে আমজনতার কেউ একজন সেলফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেছিলেন। কেউ কি তাঁর নাম জানেন?

***

১৫ মে ২০১৪। গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে যে লঞ্চটি ডুবে যায় এতে মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

সেই টাকা আজও পাওয়া যায়নি!

Monday, August 4, 2014

সবাই বড় ভাল লোক।

পত্রিকাওয়ালাদের সঙ্গে আমার বিশেষ সখ্যতা নেই বরং ‘অমায়িক লাগালাগি’ আছে। তো, একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা আমার একটা লেখা ছাপাবার সুবাদে এক কপি সৌজন্য কপিও পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভাগ্যিস, লেখাটা লিখেছিলাম নইলে দেখার সুযোগ হতো না।
ওই পত্রিকা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে নিয়ে প্রচ্ছদ করেছিল, ‘বড় ভাল লোক ছিলেন’। তিনি কেবল ভাল লোকই ছিলেন না অসম্ভব দয়ালুও ছিলেন। 
তিনি তাহেরপুত্র বিপ্লবকে বড় দয়া করেছিলেন। বিপ্লবের বাবা তাহেরও লোক ভাল। তাহেরের সন্তান বিপ্লবও ভাল। বিপ্লব একটু ‘দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করত। দুষ্টামি-মুষ্টামি’ করতে গিয়ে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে লক্ষীপুর জজকোর্টের সাবেক পিপি এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে খেলার সাথীদের নিয়ে অপহরণ করে কেটে কুচি কুচি করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। 

শোনো কথা-কী অন্যায্য কথা! এই কারণে আদালত তাহেরপুত্র বিপ্লবকে ফাঁসির আদেশ দেন। ভাগ্যিস, আমাদের দয়াবান রাষ্ট্রপতি ছিলেন নইলে বিপ্লবের ফাঁসি হলে সে বাঁচত  বুঝি? ২০১১ সালে রাষ্ট্রপতি ফাঁসির আদেশ রদ করে ক্ষমা করে দেন। পরের বছর রাষ্ট্রপতি আরও দুইটি হত্যাকান্ডের সাজা যাবজ্জীন থেকে ১০ বছর করে দেন। 
পরে আরও আটটি অপরাধমূলক মামলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার বাহাদুর বিপ্লবকে বেকসুর খালাস করে দেন। বেচারা বিপ্লব, কেবল অন্য একটি মামলার কারণে যাবজ্জীবনের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে বলে এখনও কারাগারে আটকে আছে। 

আহারে, ছেলেটার প্রতি  কী অন্যায়-অবিচারই না করা হচ্ছে। আরশের একটা পায়া না-কেঁপে উপায় কী! এখন ছেলেটার একটা বিবাহ করিয়ে দেওয়াটা বড় জরুরি হয়ে পড়েছে! 

* ওয়াল্লা, এটা যে সত্যি হবে এটা কল্পনাও করিনি!

অবিবাহিত বিপ্লবের বিয়ে করার জন্য বেঁচে থাকাটা যে অতি জরুরি এটা জাজ সাহেবরা বুঝলেন না- আফসোস, বড়ই আফসোস! ‘ন্যাকাপড়া’জানা  সানজিদা আক্তার পিউ, তিনিও ভাল লোক। কারণ তিনি বিপ্লবকে বিয়ে করেছেন। সানজিদা আক্তার পিউয়ের মাও বড় ভাল লোক কারণ তিনি বিপ্লবের সঙ্গে তার মেয়ের কেবল বিয়েই দেননি দুজনকে বিস্তর দেখাদেখি করার সুযোগও করে দিয়েছেন। সশরীরে উপস্থিত থেকে।

 

ওখানকার জেলা প্রশাসক এ কে এম টিপু সুলতানও ভাল লোক। তিনি এই বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। কারাগারের জেল সুপার মাহবুবুল আলমও লোক ভাল কারণ তিনি মহা ধুমধাম করে বিবাহ হওয়ার কেবল সুযোগই করে দেননি পত্রিকামতে বর-বধুকে অন্তরঙ্গ সময় কাটাবার সুযোগও করে দিয়েছেন। 

সবাই এতো ভাল দেখে মনটা অন্য রকম হয়। কে বলে দেশে ভাল লোক নেই! যারা এটা বলে- ওরা নিন্দুক, ওদের বলতে দাও...। 

 

** প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যে কেবল তাহেরপুত্র বিপ্লবকেই ক্ষমা করেছিলেন এমন না। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ক্ষমা করেছিলেন তৎকালীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পুত্র সাদাব আকবরকে।

২০০৯ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আকবরের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করে। আদালত আকবরকে ১৮ বছরের জেল ও ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এখানে উল্লেখ্য মামলা চলাকালীন পুরোটা সময় আকবর পলাতক ছিলেন। কোনও দিনই  তিনি আদালতের ছায়াটিও মাড়াননি।

এরপরই রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এই দন্ডিত পলাতক আসামীকে ক্ষমা করেছিলেন।

WhatsApp