Search

Saturday, January 18, 2014

মান্নানের প্রসব করা ডিম্ব!




কারও কারও অন্যায় আছে যা ক্ষমার অযোগ্য- এরা ঠান্ডা মাথায় খুব কাছ থেকে ছুঁরি চালান! মানুষের গভীর বিশ্বাসের অমর্যাদা করেনএমনই একজন মানুষ মওলানা (!) আব্দুল মান্নান১৯৭ সালে ডাক্তার আলীম চৌধুরী তাকে বিশ্বাস করে আশ্রয় দিয়েছিলেন, বিশ্বাস করেছিলেন কিন্তু এই মানুষটাই তার সঙ্গে ছল করে আশ্রয়দাতার প্রাণনাশে জড়িয়ে পড়েছিলেনমানুষটা বিশ্বাসঘাতক []!

এই দেশ ডাক্তার আলীম চৌধুরীর প্রতি, তাঁর পরিবারের প্রতি ন্যায় করতে পারেনি, অন্যা করেছে- ক্ষমাহীন অন্যায়মওলানা (!) আব্দুল মান্নান নামের মানুষটাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাস্তি দিতে পারেনি! বরং মানুষটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শানশওকতের সঙ্গে দিনযাপন করে গেছেন
কেবল ইনকিলাবের অফিসটার কথাই বলিসেটা সম্ভবত ৯২ সালের কথাআমি তখন ভোরের কাগজে একালের রূপকথা নামে ফি হপ্তায় একটা করে লেখা লিখিসেখানে লেখার সূত্রে আহমাদউল্লা নামের একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিলতাঁকে একবার কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলাম, ‘ভোরের কাগজ অফিসটা বেশ গোছানো, না?
তিনি বলেছিলেন, ‘কচুএরপরই বললেন, ‘চলেন
আমি বললাম, ‘কোথায়?
মানুষট একটু পাগলা টাইপের ছিলেনহুড়মুড় করে উঠে আমার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যেতে যেতে তিনি কেবল বলেলেন, ‘ধুর মিয়া, কথা কম, চলেন তো
তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন ইনকিলাব অফিসেঝাঁ-চকচকে একটা অফিস বললে কমিয়ে বলা হয়অন্য পত্রিকা অফিসের সঙ্গে এর তুলনা করাটা হাস্যকরতখনকার এদের  অফিস, ছাপার যন্ত্রপাতি দেখে আমি তো পুরো হাঁ!   

মওলানা আব্দুল মান্নান নামের এই মানুষটার তখন কী দবদবা! তিনি যে কেবল রাজার হালে দিনযাপন করেছেন এমন না তিনি এই প্রজন্মের ভিত নাড়িয়ে দিতেও সক্ষম হয়েছিলেনকিনে নিয়েছিলেন দেশের অসাধারণ মেধাগুলোও! সেসময়ে ফি বছর ঈদসংখ্যায় নিয়ম করে মান্নানের পূর্ণিমায় হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাস লিখতেনএমন না যে হুমায়ূন আহমেদের লেখা ছাপাবার পত্রিকার অভাব ছিল কিন্তু তিনি লিখতেন অতিরিক্ত টাকার লোভেএমনকি জাহানারা ইমাম হুমায়ূন আহমেদকে কয়েকবার অনুরোধও করেছিলেন মান্নানের ত্রিকায় না-লিখতে

যাই হোক, ১৬ জানুয়ারি ২০১৪, ইনকিলাব  ছাপিয়েছে, “...সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অপারেশনে ভারতীয় বাহিনীর সহায়তা... চলমান রাজনৈতিক সংকটে ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে পাঠানো এই বার্তায় দেখা যায়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩৩তম কোরের ১৭তম, ২০তম ২৭তম মাউন্টেন ডিভিশান এবং বিএসএফ...
এটা যে একটা অতি হাস্যকর, বানোয়াট একটা তথ্য এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে নাআহা, কী এক যুদ্ধ বটে! আর আমাদের সেনাবাহিনী তখন সম্ভবত নকিলাবের ছাদে শীতকালীন মহড়া চালাচ্ছিল
বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ এই সত্যটা লিখলে সমস্যা ছিল না কিন্তু ভারতীয় বাহিনী, এরা কীসে করে এসেছে রকেট নাকি ঠেলাগাড়িতে সেইসব বিষয় খানিকটা বিশদ করে লিখলে আমাদের নাহয় বুঝতে খানিক সুবিধে হতো
এদের ধরনের তথ্য বিকৃতি নতুন কিছু না 

ইনকিলাব পত্রিকাটি বিভিন্ন সময়ে ধর্মের ঢাল ব্যবহার করে উস্কানি দিয়ে দেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছেবাবরি মসজিদ নিয়ে দেশব্যাপি ছড়িয়ে দিয়েছিল দাঙ্গা
প্রথম আলোয় ছাপা কার্টুন নিয়েও কম কেরামতি করেনি! ২০০৭ সালে সে সময়টা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরিয়েছে- মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে হিজবুত তাহরীর হেন বলেছে, ‘হিজবুত তাহরীর তেন বলেছে, ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে, দফা দাবী জানিয়েছে, ওমুককে গ্রেফতার করতে বলেছে
ভাব দেখে মনে হয়েছিল হিজবুত তাহরীরের মুখপাত্র আর কী! আসলেই তো তাই...

Tuesday, January 14, 2014

দাদাদের দান!


এই সৌন্দর্য দেখে কেউ ঝাপিয়ে পড়লে সেই মানুষটাকে খুব একটা দোষ দেওয়া চলে না! কী এক অপরূপ, কী অপার্থিব সৌন্দর্য! এই সৌন্দর্যে কারো মাথা এলোমেলো হয়ে পড়াটা বা এটা দেখে কেউ ঝাঁপ দিলে আটকাবার চেষ্টা করাটা সমীচীন হবে না।
আমি কবি হলে ঝেড়ে ফেলতাম আস্ত এক কবিতা বা লেখক হলে এই পেঁজা-পেঁজা ফেনার মতই ফেনিয়ে লিখে ফেলতাম হয়তো জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখাটা।

আমি পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম, ভাগ্যিস, আমাদের একপেট আবর্জনা চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে প্রকৃতি আর কাপড় দিয়ে খানিকটা আমরা। নইলে যে বিকট সর্বনাশ হয়ে যেত। কুলিবাগানের জারিনা আর বলিউডবাগানের কারিনার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য থাকত না।

প্রথম-প্রথম আমি বুঝেই উঠতে পারতাম না এই অপার সৌন্দর্যের উৎস কী? কেন এটার দেখা অন্যত্র মেলে না? পানির ক্ষীণ স্রোত যে কেবল এখানেই এমতো না- আমাদের দেশে তীব্র স্রোতের পানির অভাব কী! তাহলে?
আমাদেরকে এই অপার সৌন্দর্য উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন আমাগো দাদা, ভারতের। ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যে যে সমস্ত কারখানা আছে ওই সব কারখানার সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য দাদারা সবটা ঢেলে দেন বাংলাদেশে। এই বিপুল ফেনার উৎস সেই সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য।
রাসায়নিক বর্জ্যে কি কি উপকার হয় এটা আমাদের ঢাকাবাসী পরিবেশবিশেষজ্ঞ স্যাররা ভাল বলতে পারবেন। বেচারারা বুড়িগঙ্গা নিয়ে কস্তাকস্তি করেই কুলাতে পারেন না। আর এ যে দাদাদের দাদাগিরি...।

আহা, এটা যে দাদাদের দান। দাদা বলে কথা, এই দান আমাদের না-নিয়ে উপায় কী!   

Sunday, January 12, 2014

হ্যালো বিএটিবি: অন্যায়ের দাগ মুছে ফেলা যায় না

আমি আপ্রাণ চেষ্টা করি লেখায় কিছু ব্যক্তিগত বিষয় এড়িয়ে চলতে। দুর্বল একজন মানুষ- গুণ থেকে দোষ প্রবল বিধায় কখনও-কখনও এই সমস্ত বিষয় লেখায় উঠে আসে। পূর্বে কিছু লেখায় চলে এসেছিল বহুজাতিক এক কোম্পানির সঙ্গে আমার আইনি লড়াইয়ের বিষয়টা।
এই বহুজাতিক কোম্পানির নামটা বলিনি, আজ বলি। এই কোম্পানির নাম হচ্ছে, ‘বিএটিবি’ (ব্রিটিশ এমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ)। এদের সঙ্গে ছিল দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা পারিবারিক যোগসূত্র। এদের করপোরেট ভাষায়, ‘বিজনেস পার্টনার’।

আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এদের সঙ্গে বিভন্ন সময়ে আমার বনিবনা হতো না- লাগালাগি লেগেই থাকত। চ্যাংড়া-চ্যাংড়া সব ছেলেরা এমবিএ করে এই কোম্পানিতে চাকুরিতে ঢুকেই একেকজন লাটসাহেব হয়ে যেত। এদের মধ্যে আবার অনেকেই ছিল বড়-বড় আমলা, অসৎ বাবার টাকায় পড়াশোনা করা পোলাপান।
সাধারণ একটা ল্যাপটপ এরা নিজে বহন করবে না। আমার দোতলা অফিস থেকে ড্রাইভারকে ফোন দিলে ড্রাইভার ল্যাপটপ নিয়ে উপরে আসত। ড্রাইভার দরোজা খুলে না-দেয়া পর্যন্ত নিজে দরোজা খুলে নামবে না। আপাদমস্তক একেকটা ফার্মের মুরগি।

তো, আমার মত অন্য যারা ছিলেন, বুড়া-বুড়া মানুষেরা, এরা অবলীলায় এই সমস্ত চ্যাংড়া পোলাপানদেরকে স্যার-স্যার করে মুখে ফেনা তুলে ফেলতেন। একবার আমাকে কোম্পানি থেকে ঠারেঠোরে বলার  চেষ্টা করা হলো সবাই কোম্পানির লোকজনকে স্যার-স্যার করে আমি করি না কেন? আমি সাফ বাংলায় উত্তর দিয়েছিলাম, আমি আমার স্কুলের টিচার ব্যতীত অন্য কাউকে স্যার বলা পছন্দ করি না। আর আমি এই কোম্পানির বেতনভুক্ত কমর্চারী না যে কোম্পানির চেলাচামুন্ডাদেরকে স্যার বলব। বা সমস্ত অন্যায্য বক্তব্য মেনে নেব।
আর এই কোম্পানির এমন কিছু দু-নম্বর বিষয় ছিল যাতে আমি সই করতাম না। এ নিয়ে এন্তার ঝামেলা হতো।

আমার আচরণ এদের কাছে আনন্দের ছিল না বিধায় এরা আমার পেছনে লেগেই থাকত। কিন্তু খুব একটা সুবিধা করতে পারত না কারণটা আমার পারফরমেন্স। এভাবে চলে আসছিল।
কিন্তু এরিমধ্যে এক কর্মকর্তা বদলি হয়ে এলেন যিনি আবার একজন অতি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাগিনা। তার এমনই দাপট যে তার বসরাও তাকে ঘাঁটাতেন না। এই মানুষটা আমার জীবনটার ভাজা ভাজা করে ফেললেন। এই পর্যায়ে এসে আমি বড়ো অসহায় হয়ে পড়ি। কারণটা হচ্ছে, এই মানুষটার যে লেভেল সেই লেভেলে নামার কোনো উপায় আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। নিরুপায় হয়ে এই মানুষটার জোচ্চুরি থেকে শুরু করে সব কিছুই আমি এমডিকে চিঠি লিখে জানালাম। এখানটায় এসে কোম্পানি অন্যায় করল, মহা অন্যায়- এই জঙ্গলের মানুষটার পক্ষ নিল।

মানুষটার সম্বন্ধে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, একবার তার ড্রাইভারে জন্য যে খাবার পাঠিয়েছিলাম তা তিনি নিজের বাসায় নিয়ে যান- ড্রাইভার বেচারা সমস্তটা রাত অভুক্ত ছিল। তো, এমন একজন জঙ্গলের মানুষের সঙ্গে মানুষের ভাষা চলে না। কিন্তু এভাবে কদ্দিন? একদিন তিনি আমাকে আমার পরিবারের লোকজন জড়িয়ে এমন কথা বললেন যেটা সম্ভব কেবল একজন ‘জঙ্গুলে’ মানুষের পক্ষে।
আমি হিম গলায় বলেছিলাম, ‘যা বলার আমাকে বলেন, আমার পরিবারকে কেন এখানে টেনে নিয়ে আসছেন’!
তিনি আমাকে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘বললে, কী করবেন আপনি? আপনি জানেন আমার কোম্পানি ক-হাজার কোটি টাকার ট্যাক্স দেয়, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। সরকার চলে আমাদের কথায়’।
আমি বারবার অনুরোধ করেছিলাম, আপনার কথা ফিরিয়ে নিন। তিনি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসেছিলেন। কপাল, তখন যা হওয়ার তাই হয়- জঙ্গলে চলে কেবল জঙ্গলের আইন।

পরে এই কোম্পানির ভুয়া কিছু বিষয় হাতেনাতে ধরিয়ে দিলে কোম্পানি আমার সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করল। অথচ এই কোম্পানির সঙ্গে আমার দ্বি-পাক্ষিক লিখিত চুক্তি ছিল যার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, যে কেউ সরে যেতে চাইলে অন্তত তিন মাস পূর্বে নোটিশ দিতে হবে। এরা আমাকে তিন দিন সময়ও দিল না যার কারণে আমার প্রভূত আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেল। বলা যেতে পারে এরা আমাকে পথে বসিয়ে দিল।

আমি এদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করলাম। গুলতি দিয়ে ডায়নোসরের বিরুদ্ধে অসম লড়াই! এদের বেসুমার টাকা, সীমাহীন ক্ষমতা- সেই তুলনায় আমি সাড়ে তিন টাকা দামের মানুষ! তো, সেটা ২০০৮ সালের কথা এখন ২০১৪ চলছে! মামলা এখনও চলছে। কারণ এরা জানে কেমন করে মামলা ঝুলিয়ে দিতে হয়। এরা জানে এদের সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে একটা সময় এসে আমি হাল ছেড়ে দেব। কোর্টের কাছে এরা একের-পর-এক সময় চাওয়া শুরু করল। অন্তত না-হলেও ত্রিশবার সময় চেয়েছে। একেকবার সময় চাওয়া অর্থ হচ্ছে, মামলার শুনানি দু-মাস পিছিয়ে যাওয়া।

এদের একেকটা সময় চাওয়ার কারণগুলোও বিচিত্র। একবার এরা সময় নিল এই কারণে যে এদের এমডি দেশে নাই। শোনো কথা, এমডি দেশে নাই- এটা অনেকটা এমন, বয়স্ক ভাতার জন্য গেলে কাউকে বলা হলো, প্রধানমন্ত্রী দেশে নাই, এলে পাবেন।

এদের সময়ের-পর সময় চাওয়া নিয়ে এক পর্যায়ে আদালত বিরক্ত হয়ে একবার এদেরকে জরিমানা করলেন। অতি লজ্জাস্কর একটা বিষয় কিন্তু এরা হাসের মত- গা ঝাড়া দিয়ে ময়লা পানি ঝেড়ে ফেলে!
নিয়ম হচ্ছে, জরিমানার টাকাটা বিএটিবি নামের এই কোম্পানি আমাকে পরিশোধ করবে। টাকার অংকটা শুনলে অধিকাংশ মানুষই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবেন। ৩০০ টাকা! আসলে আমাদের দেশের অধিকাংশ আইনই ব্রিটিশদের করা।এই দেশের দূর্ভাগ্য, এই আইনগুলো এখনও পরিবর্তন করা হয়নি! ব্রিটিশ আমলে আমি ৩০০ টাকা পেলে জমিদারি না-হোক ছোটখাটো তালুক কিনতে পারতাম।

বছরের-পর-বছর ধরে আমি দুঃসহ সময় পার করেছি কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি এদেরকে বোঝাতেই চেষ্টা করছি যে, শ্লা, তোমরাও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি না আর আমিও ব্লাডি নেটিভ না। যেহেতু বিষয়টা বিচারাধীন তাই এই বিষয়ে আমি বিশদ মন্তব্য করব না।
কবে এই মামলার রায় হবে এটা কেউ জানে না। তবুও...। ওহে বিএটিবি, শোনো বাপু, আমি কিন্তু হাল ছাড়ব না। আমার এই জেদ আমি আমার উত্তরসূরির জন্য রেখে যাব।

যাই হোক, মূল প্রসঙ্গ থেকে অনেকটা সরে গেছি। বিএটিবি নামের এই কোম্পানি অন্যায় করে করে পার পেয়ে যাবে এমনটাই সম্ভবত ভাবছিল। কিন্তু লেখার শুরুতেই যেটা বলেছিলাম, তার সঙ্গে খানিকটা যোগ করে আবারও বলি, ‘রক্তের দাগ যেমন মুছে ফেলা যায় না’ তেমনি অন্যায় করেও পার পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি তথ্য বেরিয়ে এসেছে, বিএটি ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে [১]। এই চোর-চোট্টারা এভাবেই ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাবে এমনটাই মনে করে। কিন্তু ওই যে বললাম অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না- চোরের দশ দিন, গেরস্তের...।


*আরেকটা কথা মনে পড়ল সেটা হচ্ছে, এই তামাক কোম্পানির ফ্যাক্টরি আবাসিক এলাকায়! এটা কেবল বাংলাদেশের মত দেশেই সম্ভব। আর আমি যতটুকু জানি জায়গাটা এদের কেনা তালুক না, সরকারি জায়গা। এরা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে রেখেছে...।

সহায়ক সূত্র:
এক. ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: http://www.dainikamadershomoy.com/archive_details.php?id=120784&&%20page_id=%2015&issue_date=               

Friday, January 10, 2014

অতলস্পর্শ আনন্দ!

এই বালকটির হাতে যে বিশ্বজয়ের কোনো পদক না এটা বলার তো অপেক্ষা রাখে না। তুচ্ছও না, অতি তুচ্ছ- ফেলে দেওয়া একটা জিনিস! ট্রেনের কোনো যাত্রী ডাব খেয়ে ফেলে দিয়েছেন। এই শিশুটি সেটাই কুড়িয়ে পেয়েছে। তার অনুমান, এটায় পাওয়ার সম্ভাবনা আছে ডাবের সুস্বাদু শাঁস।

টেন্ডুলকার ফেরারি গাড়ি পেয়ে কতটা আনন্দে ভেসেছিলেন আমি জানি না কিন্তু এই শিশুটির যে আনন্দে ভেসে যাওয়া- অতলস্পর্শ আনন্দ সেটা ধরে রাখার ক্ষমতা এই ক্যামেরা নামের যন্ত্রের কোথায়!

Wednesday, January 8, 2014

নির্মল আনন্দ!

এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটিঁর সময় এই দৃশ্য প্রায়শ আমার চোখে পড়ে। মাটিতে আঁক কষে খেলা চলছে, খেলা চলছে হরদম। খোলোয়াড়দের যে কী অখন্ড মনোযোগ তা কাছ থেকে না-দেখলে আঁচ করা মুশকিল। অনেকে আবার গোল হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে এঁদের খেলা দেখেন।

খেলাটার নাম আমি জানতাম না। জিজ্ঞেস করে উত্তর পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে কারণ এঁদের  উত্তর দেয়ার সময় কোথায়? বয়স্ক মানুষটা একবার কেবল মুখ খুললেন, ‘ষোল গুটি’। বলেই তিনি প্রতিপক্ষের গুটি কেটে ফেলতে ঝাপিয়ে পড়লেন। নিরক্ষর, অতি দরিদ্র এই সমস্ত মানুষদের পত্রিকা পড়া বা গান শোনার সুযোগ নেই। এঁদের কাছে খেলার এই সামান্য গুটি কাটাকাটিতে যে আনন্দ তা অন্যত্র কোথায়!

   
WhatsApp