Search

Friday, March 27, 2009

কুর্নিশ করি, হে স্বপ্নবাজ!

লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাঁর কিছু বিষয়ে আমার মতের মিল নাই, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তদুপরি মানুষটা আমার অসম্ভব পছন্দের। আগেও লিখেছিলাম, এই পোড়া দেশে আমার অসম্ভব পছন্দের অল্প যে ক-জন মানুষ, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

মানুষটা একজন স্বপ্নবাজ! এমন স্বপ্নবাজ মানুষের এ দেশে বড় আকাল! এমন স্বপ্নবাজরাই পারেন নিজে এমন একটা স্বপ্ন দেখতে, আমাদেরকে দেখাতে।

একি চাট্টিখানি কথা, একটা বইয়ের ৮ কোটি সংখ্যা ছাপাবার কল্পনা করা! অন্য কেউ হলে আমার অট্টহাসিতে মনিটরের পর্দা কেঁপে উঠত। কিন্তু এই মানুষটা কেবল কল্পনাই করেননি বাস্তবায়িত করার বাস্তবতাও ভেবেছেন। হয়তো ৮ কোটি অতিশয়োক্তি কিন্তু এমন স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্নের কাছাকাছি যাওয়া যাবে কেমন করে? ইতিমধ্যে বইটার ২ লক্ষ কপি বিক্রি হয়ে গেছে। বাজারে এখনও বিপুল চাহিদা! তিনি আরেকটা অসাধারণ কাজ করেছেন ইংরাজিতে অনুবাদ করে। আমার জানামতে, বিদেশিদেরও দুর্নিবার আগ্রহ আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে জানার।

তিনি 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস' বইটা ১ ফর্মায় নিয়ে এসেছেন, দামটা একেবারেই হাতের নাগালে। ১০ টাকা! একটা শিশু-কিশোরও তার টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে অনায়াসে কিনতে পারবে। যে কখনও বই কেনেনি সেও কৌতুহলের বশে চট করে কিনে ফেলবে।
আমার অভিজ্ঞতা বলে লোকজন বই পড়ে না কিন্তু পড়ে। লিফলেট, চটি-ক্ষীণবপু টাইপের জিনিসগুলো আগ্রহের সঙ্গে পড়ে।

'ফিডম' বইয়ে (২০০৬)লিখেছিলাম:
"...তোমরা লেখকরাও কম জ্ঞানপাপি না। তুমি দেখবে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বইপত্রের অসম্ভব দাম। সাধারণ পাঠক যে পড়বে তার যো নেই।
প্রকাশক হয়তো বলতে পারেন, আমরা তো আর আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে পারব না। এরা ব্যবসায়ি, এদের দোষ দেই না। কিন্তু কারও কোন চেষ্টা নাই!
একজন অসম্ভব জনপ্রিয় লেখকের (
হুমায়ূন আহমেদ) মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা বই আছে। তাঁর কথামতে, আমাদের জানামতে, এই বই প্রকাশের বহু বছর পূর্ব থেকেই তিনি বিস্তর কান্নাকাটি করে আসছিলেন। এমনকি, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ওটিতে যাওয়ার পূর্বে ট্রলিতে উপুড় হয়েও চিঁ চিঁ করছিলেন, তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইটা না-লিখে মরে যাওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। কিছুতেই শেষ শ্বাস ত্যাগ করবেন না।
মোড়ক উম্মোচনের দিনও তিনি খুব করে কাঁদলেন, আবেগাক্রান্ত কথা বললেন। অথচ বইটার দাম ৪০০ টাকা।
তুমিই বলো, এই দেশে ক-জন ৪০০ টাকা দিয়ে একাটা বই কিনতে পারে? অথচ এই দেশেই এই লেখক লেখালেখি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন। তাঁর কী কোন দায় নেই? ইচ্ছা করলে তিনি কী পারতেন না, অন্তত সাবসিডি দিয়ে বইটার দাম ১৫০/২০০ টাকা রাখতে?
পত্রিকায় আমি পড়েছি, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অনেকে বইটা কিনতে পারেনি। এক মেয়ে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে ছলছল চোখে চলে গেছে...।"


বিপুল আগ্রহ থাকার পরও বইটা আমি নিজেই কিনতে পারিনি। ঢাকা আসা-যাওয়াতেই একগাদা টাকা খরচ, তারপর ৪০০ টাকা আলাদা করে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে বৈকি। এমনিতেও ৪০০ টাকার বইটা কেউ কিনলেও তা পড়ার জন্য ধার দিতে চাইবে না। আমিই কী দিতাম?

'ফ্রিডম' বইটা এই প্রজন্মের চোখে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা। বইটা প্রকাশের পূর্বে প্রকাশকের সঙ্গে আমার মৃদু বাদানুবাদ হয়েছিল। অখ্যাত লেখকদের জন্য এটা খুবই ঝুকিপূর্ণ কাজ! অখ্যাত লেখকদের কাছে প্রকাশক হচ্ছেন দ্বিতীয় ঈশ্বর- ঈশ্বরগোছের কারও সঙ্গে অনুবাদ নিয়ে কথা চলে, বাদানুবাদ চলে না।
তিনি চাচ্ছিলেন, ৪ ফর্মার এই বইটার দাম নিদেনপক্ষে ১০০ টাকা রাখতে। ১০০ টাকার নিচে মুক্তিযুদ্ধের কোন বইয়ের দাম নাকি রাখা হয় না! মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের দাম কম হলে গুরুত্বও নাকি কমে যায়। তাছাড়া তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মুক্তিযুদ্ধের বই চলে কম, এটা তো প্রেমের উপন্যাস না। কঠিন যুক্তি। না-মেনে উপায় কী তবুও অনেক কস্তাকস্তি করে ৪ ফর্মার এই বইটার দাম ৬০ টাকায় রাখতে প্রকাশককে সম্মত করালাম এই শর্তে, তাঁর আর্থিক ক্ষতি হলে এর দায় আমি নেব। ভাগ্যিস, পাঠকের অযাচিত ভালবাসায় এই দায় আমাকে নিতে হয়নি।

একজন বুদ্ধিজীবীর কথা আজও বিস্মৃত হইনি। তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বই-পত্রের উচ্চমূল্য কেন, সাধারণ পাঠক কেমন করে পড়বে?
তিনি মুখ লম্বা করে আলাদা গাম্ভির্য এনে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বইপত্র তো খেলার বিষয় না, গবেষণার বিষয়।
বেশ যাহোক, তাহলে এটাকে কী আমরা ক্রমশ আসমানি কিতাবের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। কাপড় মুড়িয়ে উঁচুতে তুলে রাখব। পড়ার প্রয়োজন নাই,কালেভদ্রে নামিয়ে ধুলো মুছে চুমু খাব?

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমি অসংখ্য পোস্ট দিয়েছি, অবশ্য অনেক লেখা প্রকাশ হওয়ার কারণে অনেক পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছিল তদুপরি এখনও পোস্টের সংখ্যা নেহায়েত কম না। তো, ছাপোষা আমি, লিখতে গিয়ে বড়ো অসহায় বোধ করতাম কারণ প্রয়োজনীয় বইগুলোর এমন আগুন-দাম হাতই দেয়া যেত না। তখন ওয়েবে তথ্যের এমন ছড়াছড়ি ছিল না। পত্রিকা অফিসেও চাকুরি করি না যে হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় বই চলে আসবে। থাকি এমন একটা জায়গায় যেখানে একটা পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত নাই। বাধ্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বইপত্রের হাজার-হাজার পৃষ্ঠা ফটোকপি করেছি, ১৫ হাজার পৃষ্ঠা! এটাকে কী চৌর্যবৃত্তি বলা চলে, তাহলে আমি একটা আস্ত চোর!

যাগ গে, মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বইয়ের দাম নিয়ে আমার যে তীব্র ক্ষোভ ছিল, জাফর ইকবালের কল্যাণে তা অনেকখানি প্রশমিত হল।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের একটা চমত্কার কবিতা আছে:
"পৃথিবীর সব মানুষ স্বাধীন না।
সব স্বাধীন মানুষ আবার সমান স্বাধীন না।"
তাঁর কবিতার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলি,
"পৃথিবীর সব মানুষ স্বপ্নবাজ না।
সব স্বপ্নবাজ আবার জাফর ইকবালের সমান স্বপ্নবাজ না।"
এই প্রজন্ম চট করে কাউকে কুর্নিশ করে না। কিন্তু এমন স্বপ্নবাজকে কুর্নিশ না করে উপায় কী! কুর্নিশ করি হে স্বপ্নবাজ।

*ছবিসূত্র: অজ্ঞাত (গুগল থেকে নেয়া)।
**'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস' ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে: http://www.liberationwarbd.org/

Saturday, March 21, 2009

বিজ্ঞাপনতরঙ্গ-লেখকরঙ্গ!


 

এই বঙ্গাল দেশে বই ছাপা হয়নি এমন অ-লেখকদের লেখালেখির তেমন গুরুত্ব নাই। বই প্রকাশ না হলে লেখক হওয়ারও যো নাই।
বই প্রকাশের কর্মকান্ডটা আবার ফ্রেবুয়ারির একুশের বইমেলাকে ঘিরে।

লেখক লিখেই খালাস। বই ছাপা-নাড়াচাড়া করেন প্রকাশক মহেদয়গণ। প্রকাশক, এঁরা নাড়েন বলেই একজন নড়ে, এঁরা নাড়ানাড়ি করেন বলেই একজন ক্রমশ লেখক হয়ে উঠে।


রনজিৎ দাসের কবিতার ভাষায় বলতে হয়,
"...শুঁয়োপোকাটির সঙ্গে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তারই মত
স্থূল ও মন্থর, ও পাখিদের খাদ্য হয়ে, আত্মবিষসহ
যদি তার মতো কোনো অবিশ্বাস্য রূপান্তর পেয়ে যাই শুধু এই লোভে..."। 


একজন অ-লেখক, অ-লেখক থেকে লেখক হওয়ার অবিশ্বাস্য রূপান্তর পাওয়ার লোভে এগিয়ে যান অমর্যাদাসহ, নির্বোধের কাছে।

বইয়ের বিজ্ঞাপন, এটা এক জটিল বিষয়। কখনও কখনও আমি ধন্ধে পড়ে যাই। এক বইমেলায়, এই দেশের ১নং জনপ্রিয় এক লেখকের একটা বইয়ের বিজ্ঞাপন গেল পত্রিকায়, "প্রথম মুদ্রণ শেষ, দ্বিতীয় মুদ্রণের কাজ চলছে"। অসম্ভব জনপ্রিয় এই লেখকের জন্য এটা বিচিত্র কিছু না কিন্তু ওই পত্রিকা পড়েই আমরা জানলাম ওই বই সেদিন পর্যন্ত মেলায় আসেনি। সাংবাদিক বেচারার চাকুরি যায় যায় অবস্থা কারণ ওই লেখকের দবদবার শেষ নাই, তিনি পত্রিকা অফিস কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
এই নিয়ে কেউ কেউ হাসি গোপন করেছিলেন। হাসাহাসির কিছু ছিল না। এমনটি কী হতে পারে না ছাপাখানা থেকে মেলা পর্যন্ত আসতে আসতে বইয়ের সমস্ত কপি নিঃশেষিত। কেন রে বাপু, রাস্তায় ফুল বিক্রি হতে পারলে বই বিক্রি হতে দোষ কী?

যেসব লেখক মর্যাদাবান, জনপ্রিয় এঁরা তাঁদের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজে দেয়ার কথা ভাবনায়ও আনেন না। কিন্তু বিজ্ঞাপন তো যেতে হবে। বিজ্ঞাপন না দেয়া আর অন্ধকারে কোন রূপসী-খুবসুরাত নারির প্রতি মোহনীয় ভঙ্গিতে হাসার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।

জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রকাশক মহোদয়ই দেন। উত্কট সমস্যা দেখা দেয়, যখন একই লেখকের কয়েকটি বই প্রকাশিত হয় বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে, তখন। তখন প্রকাশকেরা তাদের খরচ বাঁচাবার জন্য যৌথ চেষ্টায় একই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। বিষয়টা বলা যত সহজ কাজটা
কিন্তু খুবই কঠিন।
ওই লেখকের বিজ্ঞাপন ছাপা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে বিস্তর ফোন, মেইল, চিঠি চালাচালি হয়। তারপর তারা বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য উম্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেন। বিভিন্ন পত্রিকা ওই দরপত্রে অংশগ্রহন করে। এখানে আবার প্রকাশকরা সূক্ষ কারচুপির আশ্রয় নেন। যে পত্রিকার দর সর্বনিম্ন সে কিন্তু কাজ পায় না। বেছে বেছে ওই পত্রিকাকে কাজ দেয়া হয় যাদের অফিস সেন্ট্রাল এসি, নিদেনপক্ষে কনফারেন্স রুমটা এসি।
কেন? বলছি।

কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল আলোচনায় বসেন প্রকাশকবৃন্দ। ওই পত্রিকার সরবরাহকৃত নানাপ্রকার চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় দ্বারা আপ্যায়িত হয়ে আলোচনা শুরু করেন। ধরা যাক, প্রকাশকদের মধ্যে আছেন, ৭ জন। স্থির হলো, এরা ১ কলাম ৮ ইঞ্চি বিজ্ঞাপন দেবেন ওই পত্রিকায়। বিজ্ঞাপন খরচ আসবে কমিশন-টমিশন বাদ দিয়ে ৭ হাজার টাকা। মাথাপিছু ১ হাজার করে। এদের কত্তো টাকা বেঁচে গেল!

গোল বাঁধবে লেখকের ছবি নিয়ে, কোন ছবিটা যাবে? যেটায় চোখ ঢুলুঢুলু সেটা, নাকি যেটায় চোখ ঝকঝকে, ওইটা? নাকি...? কোন ছবিটা যাবে এটা নিয়ে লটারি হবে। এখানেও সূক্ষ কারচুপি (এটা বঙ্গালদেশে নাহক কিন্তু গা সওয়া একটা বিষয়)। এক প্রকাশকের আবার ঢুলুঢুলু-ঝকঝকে চোখের কোন ছবিটাই পছন্দ না, তার পছন্দ অন্যটা। যেটায় হাসিটা নাগরালি- মোনালিসা টাইপের, সেটা।
তিনি আবার প্রকাশক হিসাবে অন্যদের চেয়ে খানিকটা কম আলোচিত তাই দায়ে পড়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া। নাম লেখার দায়িত্বে তিনি ছিলেন বিধায় সবার অলক্ষ্যে লটারির ৭ জনের জায়গায় প্রত্যেকটাতেই নিজের নাম লিখে রাখলেন।


লটারির কাগজ টানার জন্য সম্পাদক সাহেবকে ডেকে আনা হলো (তিনি তখন আবার জরুরি মিটিং-এ সেনানিবাসে ছিলেন জেনারেলদের সঙ্গে)। তিনি ঝড়ের গতিতে ছুটে এসে বিমলানন্দে যে কাগজটি উঠালেন সেটায় ওই প্রকাশকেরই নাম লেখা। পত্রিকায় পুরুষ মোনালিসা মার্কা ছবির বিজ্ঞাপনটাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
এই বিজ্ঞাপনে কোন প্রকাশকের বই আগে থাকবে কারটা পরে এই নিয়েও ঘন্ট-জট বাঁধল। পত্রিকা অফিস থেকে 'চিন্তাজট' নামের এক ধাঁধার মাধ্যমে এই সমস্যারও সমাধান হলো। ফাঁকতালে পত্রিকাটি পরদিনের চিন্তাজটের আইডিয়াটাও এখান থেকে পেয়ে গেল।

যাইহোক, তখনও পত্রিকা অফিস ছেড়ে কিন্তু প্রকাশকরা যাননি। বিজ্ঞাপনটা যেন প্রথমেই চোখে পড়ে (এর আবার অনেক কায়দা-কানুন আছে। পাঠক পত্রিকাটা হাতে নিলে পত্রিকার ভাঁজ কোন দিকে থাকবে এটাও সরু চোখে লক্ষ রাখা হয়) এমন একটা জায়গায় ছাপাবার জন্য পেস্টিং পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। রাত গড়ায়। গভীর রাতে প্রকাশকরা বাড়ি ফিরে তৃপ্তির নি:শ্বাস ফেলে ঘুমাতে যান, ছিনতাইকারিদের চোখ এড়িয়ে।

জনপ্রিয় লেখকদের বই ছাপাবার অনেক হ্যাপা সহ্য করতে হয় বেচারা প্রকাশকদের...।
 

*ছবি সূত্র: প্রথম আলো
** পোস্টের ছবিটার তেমন গুরুত্ব নাই। উদাহরণের জন্য নেয়া।

Friday, March 20, 2009

মমতায় ছাপাছাপি নিষ্প্রভ চোখ।

 
­আমরা যারা দেশে থাকি, আমাদের অনেকের বদ্ধমূল ধারণা থাকে, যারা প্রবাসে থাকেন তাঁদের চেয়ে সুখি আর কেউ এ গ্রহে নাই! আমরা মুখ ফুটে বলি না কিন্তু মনে গোপন ইচ্ছা লালন করি, এঁরা যেন আজীবন প্রবাসেই থাকেন। রিয়াল-ডলার-পাউন্ড হালের ইউরো স্রোতের মত দেশে পাঠাতে থাকবেন। দেশে ফেরার আবশ্যকতা কী!

খোদা না খাস্তা, কেউ যদি বলে বসেন দেশে ফেরার কথা চিন্তা করছি, নিমিষেই আমাদের মুখ শুকিয়ে আসে। আমরা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা শুরু করি, 'মাথা খারাপ হইছে তোমার। দেশে আইসা কী করবা? এইটা একটা থাকার জায়গা হইলো! তোমাগো দেশের কুত্তা-বিলাইও এই দেশে মুতব না'।
আহ, তোমাগো দেশ...।

আমরা যারা দেশে থাকি, সাদা-সাদা গরম-গরম ভাত দেখে আমাদের গা গুলায়। প্রবাসি একজনের কেবল ধোঁয়াওঠা ভাতের কল্পনা করেই চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। পাগল!
আহা, পানি চলে আসলেই হলো বুঝি, পুরুষ মানুষদের কী কাঁদতে আছে! তাই বলে কী কান্না থামে শা..., ঠিক সময়ে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারাটাই হলো আসল কথা। মরদ বটে একটা!

দেশে মার শরিরের গন্ধে আমাদের দমবন্ধ ভাব হয়। কখনও কখনও অমানুষের মত অস্ফুটে মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, 'তুমি যে কী মা, শরিরে পেয়াজ-রসুনের গন্ধ। ওয়াক'!
মা অজান্তে শ্বাস চাপেন। তাঁর আর্দ্র চোখে আটকে থাকে গোটা সূর্যটা, পলক ফেললেই উপচে পড়বে। তাই কী তিনি পলকহীন চোখে তাকিয়ে থাকেন?

প্রবাসিরা গায়ে কত কিছু মাখেন, সুগন্ধের মৌতাত হপ্তাহ ছাড়িয়ে যায় কিন্তু কী এক বিচিত্র কারণে মার গায়ের গন্ধের জন্য পাগল হয়ে থাকেন। পাগলসব!

একবার এক ঈদে প্রবাসি এক বন্ধুর অর্থহীন মেইল পেলাম, 'খাওয়াতে পারিস এক চামচ সেমাই? আল্লার কসম তোকে ১০০০ হাজার ইউরো দেব'। এ উম্মাদ, বদ্ধউম্মাদ!
দেখো দিকি কান্ড, এ আবার আল্লার কসম খায়। ওরে ব্যাটা শুয়োরখেকো! তুই যে হরদম পর্ক-চপ খাস, গলায় শুয়োর আটকে গেলে গলা ভেজাবার ছলে ভদকা গিলিস এটা বুঝি জানতে বাকি আছে আমাদের?
তবে এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি না, আমার চোখ কী খানিকটা চকচক করেনি? ইশরে, ১০০০ ইউরো! এক চামুচ সেমাইয়ের জন্য ১০০০ ইউরো?


মুদ্রার অন্য পিঠ নেই যে এমন না। আমার এক স্বজনকে তার মা একটা কিছু (বলার মত কিছু না, নারকেলের নাড়ু) দেয়ার কথা বলতেই সু-পুত্র হড়বড় করে বলে উঠেন, 'আরে না, দরকার নাই-দরকার নাই'।
তবুও তার মা চিঁ চিঁ করে বলেন, 'না মানে...তোর লাইগা...'।
'আরে, জ্যাকসন হাইটসে সব পাওয়া যায়। সব-সব'।
 

আমি গোপনে শ্বাস ফেলি। মুখে বলি, বিলক্ষণ। আজকাল বাইরের শপিং-মলগুলোয় এইসবও বিক্রি হওয়া শুরু হয়েছে। বেশ-বেশ! কী জানি, হবে হয়তো বা! সব পাওয়া যায়? বাহ, বেশ তো!
এইসব তাহলে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে? বর্ষায় কাগজের নৌকা ভাসানো, হচ্ছে? নিজের হাতে লাগানো সেই গাছটা, পাওয়া যাচ্ছে? পুকুরপাড়ে বসার সেই নোংরা জায়গাটা, অবশেষে এটাও? বাতিল হয়ে যাওয়া সেইসব মুখ, সত্যি?
আহারে, সেই যে মুখটা কেবল অনর্থক বকেই মরত, খোকা এইটা খাস নে, ওইটা খাস নে। রোদে ঘুরতাছিস ক্যান রে, বান্দর! চামড়াডা পুইড়া কেমুন ছালি-ছালি হইছে। তোর শইলের রঙ দেইখা কাউয়াও হাসব। পাগলা, না-খায়া যাস নে কইলাম, গেলে তুই কিন্তুক আমার মাথা খাবি। তুই এমন হইলি ক্যান রে? তুই না, তুই না, তুই একটা পাগলু।


অনেক আগে লেখাটা একটা কম্যুনিটি ব্লগিংসাইটে দিয়েছিলাম [১]। ওখানে তখন শুভ নামে লেখালেখি করতাম, ওখানকার ভাষায় ব্লগিং করতাম। মার কাছে লেখাটায় কারও কারও মন্তব্য পড়ে মনটা বিষণ্ন হয়ে গিয়েছিল। একজন সহ-ব্লগার লিখেছিলেন, "...শুভ, দাঁড়ান, চোখটা মুছে নেই..."।
এটা আসলে লেখার গুণে না। দেশের বাইরে থাকলে মনটা থাকে অসম্ভব তরল। কিন্তু একজন, আলাদা করে মেইল করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, "ওপেন ফোরামে এটা লিখতে চাইনি। বলতে পারেন আমি কার কাছে ফিরব, কেন ফিরব"?
একেকজনের একেক রকম জীবন-গল্প। আমার বলার কিছু ছিল না। এই পোস্টের কিছু ভাবনা তাঁর কাছ থেকে ধার করা। ওই দু:খী মানুষটাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।


*ছবিস্বত্ব: আলী মাহমেদ

সহায়ক সূত্র:
১. মার কাছে ফেরা...: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_9329.html

Wednesday, March 18, 2009

পানি আর জল, কী পার্থক্য!

প্রথম ছবিটা হচ্ছে প্রথম আলোর। ২০০৯ সাল, মার্চের।
দ্বিতীয় ছবিটা হচ্ছে, ভোরের কাগজের। ১৯৯২ সাল, মার্চের।

ইতিমধ্যে ১৭ বছর চলে গেছে। কাগজ হয়েছে চকচকে! পত্রিকার সার্কুলেশনের পাশাপাশি বেড়েছে জেল্লা। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খবরের দৈন্যতা!
তত্কালিন ভোরের কাগজ এবং আজকের প্রথম আলোর সম্পাদক মহোদয় একই ব্যক্তি। জনাব মতিউর রহমান। তাই কী ভাবনাটাও একই!
তাই তো, এইসব খবর ছাপিয়ে
পত্রিকায় স্পেস কোথায়!

এই দুইটা ছবিই প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছিল। প্রথম পাতায় ছাপাবার মত খবরই বটে! অবশ্য দুইটার মূল খবর দুই রকম, একটা হচ্ছে অন্যকে অপদস্ত করার জন্য, অন্যটা বৃষ্টির জন্য।
কিন্তু শিরোনাম এবং ঘটনা একই। বিয়েটা ব্যাঙের! ব্যাঙ বিবাহ করেছে। অবশ্য বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এই যেমন, মোহরানা কত ছিল? ব্যাঙ ভাইয়া কী পরে বিবাহ করেছিলেন, শেরোয়ানি নাকি লুঙ্গি? বাসর রাতে কোন কোম্পানির জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রি ব্যবহার করেছিলেন? বা ব্যাঙ ভাইয়া ব্যাঙানি ভাবিকে বাসররাতে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন? ইত্যাদি ইত্যাদি...।
আচ্ছা, বর্ষাকালে যেন বৃষ্টি না হয় এ জন্য আমি সাপের বিবাহ দেব। এই নিউজটা কী মতিউর রহমান ছাপাবেন? শিরোনামটা হবে 'সাপের বিবাহ, যৌতুকবিহীন'...। সম্মতি থাকলে বলেন, সাপ ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলি। যন্ত্রণার কী শেষ আছে, এরপর কথা বলতে হবে মহিলা সাপের সঙ্গে...।

ব্রিটেনের পত্রিকা 'দি সান'। ৯২ সালেই এর প্রচারসংখ্যা ছিল ৩৫ লক্ষ। এই পত্রিকাটি এক অভিনব সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এক মেধাবি গ্রাজুয়েটকে ১ দিনের জন্য ওই পত্রিকার সম্পাদক বানানো হয়েছিল। ওইদিন ১ দিনের সম্পাদকের নির্দেশনায় পত্রিকাটি বের হয়। 'দি সান' পত্রিকার স্বত্বাধিকারি প্রতিষ্ঠান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের একজন নির্বাহি গাস ফিশার বলেছিলেন, 'দি সানের বার্তাকক্ষে নতুন সম্পাদকের ভাবনা, দক্ষতা থেকে আমরা শিখতে চাইছি'।

দি সানের মত আমাদের মতিউর রহমান সাহেবও এমন একটা পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিখতে চাইতে পারেন। তবে তিনি যদি পণ করে থাকেন, তাঁর শেখার আর কিছু নাই তাহলে আমাদেরও বলার কিছু নাই।
এরা এখন সব বদলে দেয়ার পণ করেছেন। জনে-জনে ক্ষণে-ক্ষণে শপথ করাচ্ছেন। কিন্তু নিজেদের শপথের কথা ভুলেও উচ্চারণ করছেন না। এদের ধারণা এদের সম্ভবত বদলাবার কিছু নাই- সরাসরি আকাশ থেকে নেবে এসেছেন! বদলে দেয়ার কথা বলে যত কস্তাকস্তি করা হোক কেউ কেউ কখনও বদলায় না। বদলাতে পারে না! আসলে কারও কারও বদলাবার সদিচ্ছাটাই থাকে না!

Sunday, March 15, 2009

ছাগলের সঙ্গে রশি ফ্রি- আগুনের সঙ্গে শো ফ্রি!

৩০০ যাত্রি নিয়ে লঞ্চ ডুবে গেছে। সরকার বাহাদুরের পক্ষে তখনকার নৌ পরিবহন মন্ত্রী বাহাদুর ঘোষণা করেছিলেন, উদ্ধার কাজ পরিত্যাক্ত। স্বজনরা তাদের লাশটিও পাননি।
মন্ত্রী বাহাদুর এসি অফিসে বসেও দরদর করে ঘামছিলেন বলেই সম্ভবত চেয়ারের পেছনে তোয়ালে রেখেছিলেন, টিভিতে তোয়ালেসহ-ই ওনাকে দেখা যাচ্ছিল। (চেয়ারের পেছনে তোয়ালে থাকার নিয়ম আছে)

সবেক সামরিক অফিসার এই মন্ত্রী বাহাদুরের আবার জোশ বেশি তিনি মিডিয়ার কাছে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, 'আমি ১২ বছর পর্যন্ত মার দুধ খেয়েছি, আমার ছেলেও ৬ বছর বয়স পর্যন্ত মার দুধ খেয়েছে'।
এমন জোশবান মানুষের কাছ থেকে আমরা 'জোশিলা' সিদ্ধান্ত আশা করতেই পারি। তিনি তরল থেকে তরলায়িত হয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, লঞ্চ ডুবিতে যারা মারা গেছে তারা না, তাদের পরিবার একটা করে ছাগল পাবে। এটা মিডিয়ায় এসেছিল কিন্তু যেটা আসেনি সেটা হচ্ছে ছাগলের সঙ্গে রশিও দেয়া হবে এই গোপনাঙ্গসম তথ্য!

সেসব পুরনো কাহিনী। আমাদের নতুন কাহিনী প্রয়োজন। আবারও বৈশাখ-বর্ষা আসছে। আবারও লঞ্চ ডুববে। স্বজনরা আবারও লাশের জন্য নদীর দিকে, আকাশপানে তাকিয়ে থাকবেন। না থাকার কোন কারণ নাই।
শুনলে ভয়ে গা কাঁপে আমাদের দেশে সত্যিকার অর্থে উদ্ধারকারি কোন জাহাজ নাই। 'রুস্তম' এবং 'হামজা' নামের যে ২টা উদ্ধারকারি জাহাজ আছে এই বুড়া হাবড়াদের দিন শেষ। একটাকে টেনে নিয়ে যেতে হয়। অন্যটাকে ঠেলে।
আরও কথা আছে, এদের ক্ষমতা ১২০ মেট্রিক টন অথচ এখন যেসব জাহাজ চলাচল করে অধিকাংশই ১২০ মে. টনের উপরে।
এবার সবচাইতে ভয়ংকর তথ্য এই রুস্তম এবং হামজার উদ্ধার কাজে আসা যাওয়াসহ তেলের খরচ দিতে হয়, ডুবন্ত জাহাজের মালিককে। ফল যা হওয়ার তাই হয়, কার দায় পড়েছে শস্তা লাশের জন্য জাহাজ পানি থেকে উঠাবার।

আজও উদ্ধারকারি জাহাজ কেনা হয়নি!
এখন শুনতে পাই আরও ফ্রিগেট-ট্রিগেট টাইপের জিনিসপত্র, মিগ কেনা হবে। আগামিতেও জাহাজ ডুববে, লাশ মিসিং হবে, ছাগলের বদলে কী পাওয়া যাবে সেটাই দেখার বিষয়। এবার সম্ভব ছাগলের সঙ্গে রশি ফ্রি এটা আগেভাগেই প্রকাশ্যে ঘোষণায় আসবে। কারণ এই তথ্য আমরা ওয়েবেই পেয়ে যাব- ডিজিটাল তথ্য!

কাল বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগল। নিমিষেই পিপড়ার মত লাখ-লাখ মানুষ চলে এসেছে। বসুন্ধরার ২৫০০ দোকানের গড়ে ৫ জন করে ধরলে ১২,৫০০ উদ্বিগ্ন মানুষ বাদ দিলে, অধিকাংশই এসেছে তামাশা দেখতে। এমন তামাশা তো আর হররোজ হয় না। আগুনের লেলিহান শিখার লাল রঙটার অন্য ভুবনের এক আকর্ষন আছে। অনেকের ভেতরের পশুটা হা-হুতাশ করেছে, কেবল ৭ তলা পুড়েই হাল ছেড়ে দিল! লাশ মাত্র ৭!
ওয়াও, গ্রেট শো!

আমার মত হতভাগা যারা ঢাকায় থাকে না এদের ভরসা ইলেকট্রনিক মিডিয়া- আমার ভেতরের পশুটাই বা বাদ যাবে কেন? কোন মিডিয়া কতটা আকর্ষনীয় করে কাভার করতে পারে, চ্যানেলের পর চ্যানেল বদলাও। চ্যানেলগুলো পারলে এটাও জেনে আমাদেরকে জানিয়ে দেয়, আচ্ছা, শেষ নি:শ্বাসটা যখন ত্যাগ করলেন তখন আপনার কেমন লাগছিল?
মিডিয়ার জন্য বেশ জাঁকালো একটা খবর হলে, মিডিয়ার রগরগে খবর না থাকলে চলবে কেন বলুন? আমরা প্রায়শ বিস্মৃত হওয়ার চেষ্টা করি, তথ্যও একটা পণ্য। ভয়াবহ লাভজনক পণ্য! স্বীকার করতে অহেতুক লজ্জার কিছু নেই!

দমকল বাহিনীর ব্রন্টো স্কাই লিফট ১৪ তলার পর যাওয়ার সাধ্য নাই অথচ ভবনটি ২১ তলার। আমার জানামতে ২১ তলার চেয়েও উঁচু ভবন ঢাকায় অনেকগুলো। ২ বছর আগে এনটিভিতে আগুন লাগার সময় যে হাইড্রলিক ল্যাডার ছিল তা ১১ তলা পর্যন্ত যেতে পারত। এই ২ বছরে এই একটি ল্যাডারই যোগ হয়েছে। ২ বছরে আমরা ৩ তলা পর্যন্ত এগুতে পেরেছি!
আমি এ সম্বন্ধে বিশেষ জানি না। কেবল ল্যাডারই কেন? হেলিকপ্টার থেকে অগ্নি নির্বাপক পাউডার বা ফোম ছিটিয়ে দেয়ার কোন না কোন পদ্ধতি নিশ্চয়ই আছে। বা ফাঁক-ফোকর দিয়ে মিসাইল, হারপুন টাইপের কিছু দিয়ে অগ্নি নির্বাপক সামগ্রী ছুড়ে দেয়া? চীন ৯২ সাল থেকেই বজ্রবৃষ্টিকে লক্ষভ্রষ্ট করতে রকেট ছুড়ছে।

সরকারের সদিচ্ছার কথা বাদ দিলেও ব্যক্তি মালিকানায়ও তো এইসব হাইটেক সামগ্রী এনে বানিজ্যিক ভাবে হাই-রাইজ বিল্ডিং বা এই ধরনের শপিং মলের অগ্নি নির্বাপন করা যেতে পারে। যমুনা ফিউচার পার্কের মত অথর্ব একটা কাঠামো বানানো হবে- কারখানা করা হবে কিন্তু কাঁচামালের কথা মাথায় না থাকলে মাথা থেকে লাভ কী?
আমরা এমন আরেকটা শোর জন্য অপেক্ষা করব।
গ্রেটেস্ট শো!

তো, তদন্ত কমিটি হবে, কোন এক মন্ত্রী সাহেব চেয়ারের পেছনে তোয়ালে ঝুলিয়ে বলবেন, আগামিতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে...।

ছবিঋণ:
উদ্ধারকাজ পরিত্যক্ত: মো: ইব্রাহিম (পত্রিকার নাম পাওয়া যায়নি)

বসুন্ধরা সিটি: পল্লব মোহাইমেন, প্রথম আলো


Monday, March 9, 2009

মুবারকবাদ-নিন্দাবাদ

স্কেচ: আলী মাহমেদ

ক্ষমতায় থাককালিন কবি এরশাদ সাহেবের কবিতা নামের 'বিষয়গুলো' রাষ্ট্রীয় খরচে অনুবাদ ও মুদ্রিত করে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। ইংরাজি, ডয়েস, জাপান, আরবি, ইতালি, ফ্রান্স প্রভৃতি ভাষায় সেগুলো অনূদিত হয়েছিল।
প্রকাশক ছিলেন, রওশন এরশাদ, স্কাইভিউ, নিউসেন পাড়া, রংপুর।

ড. হুমায়ুন আজাদের মতে:

"রবীন্দ্রনাথের পর সম্ভবত এরশাদের লেখাই বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে (ঈর্ষা-ঈর্ষা)। তার কবিতা নামের এইসব আবর্জনার প্রশংসা শুরু করলেন কতিপয় দালাল- কবি আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসান, ফজল শাহাবুদ্দিন প্রমুখ। পরবর্তীতে এদেরকে নিয়ে এরশাদ কবিতা কেন্দ্র গঠন করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দু-বার বিদেশ থেকে কবি ভাড়া করে এনে এশীয় কবিতা উৎসবের আয়োজন করেন।

আরও কতিপয় দালালদের তোষামদে তিনি গীতিকার বনে যান। তথ্য অধিদপ্তর থেকে এইসব গান ও কবিতা নিয়ে, 'O My Mother Land' নামে দ্বিভাষিক একটি প্রমাণ্যচিত্রও নির্মাণ করা হয়েছিল।"

এই বিখ্যাত কবির কবিতা সাপ্তাহিক বিচিত্রা নিয়ম করে এই কবির কবিতা ফি-হপ্তায় ছাপাতই। আমার মত বেকুব পাঠক ওই সব কবিতার কাগজ দিয়ে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করতাম! যাই হোক, '৯০ সালের বিচিত্রায় এই কবির একটা কবিতার কয়েক লাইন তুলে দিচ্ছি:

"অনেক আক্ষেপ করে তুমি লিখেছো
তুমি কি পার না আমাকে নিয়ে লিখতে?
কাছে পেতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।"
এই কবি কেবল কবিতা লিখেই ক্ষান্ত দেননি, এইবার তিন তিনটে আসন থেকে নির্বাচন করে তিনটাতেই বিজয়ী হয়েছেন, তাও একটা ঢাকা থেকে (ঢাকার ভোটারদের সালাম)। এই মানুষগুলো আবার নিজেদেরকে শিক্ষিত বলে দাবী করেন! এই দেশ গণতন্ত্রের জন্য আদর্শই বটে! 
এই বিখ্যাত কবিকে, "কনক প্রদীপ জ্বালো"-এর এই কনকপুরুষকে অভিনন্দন, লাল সালাম। মুবারকবাদ
... ... ...
এই কবিরা কেউ এইবার নির্বাচন করেননি (সত্যি সত্যি গুণ দাদা নির্বাচন করেছিলেন একদা, কুমির মার্কায়। কুমিরটার ছবি দেখতে অবশ্য টিকটিকি-টিকটিকি লাগছিল)। এঁরা কেবল দুর্বোধ্যসব কবিতা লিখে গেছেন, আগামাথা বোঝা ভার!
"সব শালা কবি হবে; পিপড়ে গোঁ ধরেছে, উড়বেই;
বন থেকে দাঁতাল শুয়োর রাজাসনে বসবেই;"
(মোহাম্মদ রফিক/ খোলা কবিতা)
"তোর হাতে রক্ত, পায়ে কুষ্ট, কন্ঠে নালী ঘা-
আল্লার দোহাই লাগে, তুই নেমে যা, নেমে যা।"          (নির্মলেন্দু গুণ/ দূর হ দু:শাসন)
"গুলিবিদ্ধ শহর করছে অশ্রুপাত অবিরত,
কেননা মিলন নেই। দিন দুপুরেই নরকের
শিকারী কুকুর তার বুকে বসিয়েছে দাঁত...।"
(শামসুর রাহমান/ মিলনের মুখ)
"তোমাকে চায় না এই মানচিত্র, জাতীয় পতাকা
তুমি চলে যাও, দেশ ছেড়ে চলে যাও।"
(মহাদেব সাহা/ বাংলাদেশ চায় না তোমাকে)
"আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,"
(রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ/ বাতাসের লাশের গন্ধ)
এইসব অখ্যাত(!) কবিদের নিন্দাবাদ

*বিখ্যাত মহা কবির স্কেচ
**অখ্যাত কবিদের স্কেচ করার সময় পাওয়া যায়নি বলে দু:খ প্রকাশ।

Friday, March 6, 2009

সামছু ফকির, কার কাছে যাব? আপনার কাছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন একাধিকবার সামছু ফকিরের সঙ্গে দেখা করেছেন। মাননীয় মন্ত্রী মনে করেন, সামছু ফকিরের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। তিনি গত মঙ্গলবার সাড়ে নয়টায় ওখানে যান। (প্রথম আলো, ০৫.০৩.০৯)

বাবা সামছু ফকির, আপনার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে সালাম জানাই। আচ্ছা, আপনি পিলখানার রক্তাক্ত অধ্যায়টাকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন না, না? পারলে বেশ হত, মৃত ৭৩ জনকে ফিরে পেতাম আমরা! বাবা গো, আপনার ফকিরির কসম, তাইলে আজীবন আপনার ঠ্যাং ছাড়তাম না।

তাও ভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জীবিত একজনের কাছে গেছেন, অলৌকিক কিছু দেখার প্রবল আশায়। খালেদা-হাসিনা-এরশাদ এঁরা তাদের নির্বচনী প্রচারনা শুরু করেছিলেন সিলেট থেকে, মাজার জিয়ারত করে।

এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকাকালিন আটরশির পীরের দরবারে ক-বার গেছেন? হেলিকপ্টারের
১৬ লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। এখন এ নিয়ে গবেষনা হতে পারে!

আমার জানামতে, ইসলাম ধর্মমতে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন মাজার জিয়ারত করা যাবে না, এটা কঠিন অপরাধ। কারণ একজন মৃত মানুষ নিজেই থাকেন দৌড়ে- তাঁর কাছে চাওয়ার কিছু নাই! অবশ্য কারও চলার পথে কোন কবর পড়লে সেটায় দোয়া করতে কোন সমস্যা নাই।

এই কদভ্যাস আমাদের কথিত আলোকিত(!) মানুষ হুমায়ূন আহমেদেরও আছে। নিয়ম করে মাজারে যান। তাঁর ভাষায় জিয়ারত না, শৈশবের হালুয়ার স্মৃতির জন্য যান। 'প্রার্থনা দিবস' নামের কলামে তিনি লিখেছিলেন, "...কয়েক দিন আগে আবার মাজারে গেলাম। আমার সঙ্গে ১৯ জনের বিশাল দল। আমার আগ্রহের মুল কারণ হালুয়া..."।
ওনার কথামতে, হালুয়া খেতে। ভদ্রলোককে নাকি শৈশবের হালুয়ার স্মৃতি চাবকাকে চাবকাকে রক্তাক্ত করে ফেলে। মোল্লাদের বাড়াবাড়িতে ইনিই আবার ঘটা করে কলাম লেখেন, "এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব"?

বেশ-বেশ। তা স্যার, আপনার সফরসঙ্গিরা গিয়েছিলেন কেন, এটা তো আর বললেন না। তাঁরাও কী হালুয়া পসন্দ(!) করেন?


হুমাযূন সাহেব কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন এটা তিনি বিলক্ষন জানেন। কিন্তু আফসোস, আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব এটা আমাদের জানা নাই?
রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন পদের শেকল থাকে কিন্তু আমাদের আলোকিত এই মানুষটার পায়ে কিসের শেকল কে জানে! ভানের শেকল? ভদ্রলোকের দেখি ভান এবং হালুয়া দুই-ই ভারী পছন্দের!

Tuesday, March 3, 2009

শেকলগুলো ভেঙ্গে পড়ছে একেক করে

'মা হাতি'-তে লিখেছিলাম, 'মানুষদের বড় মজা, এরা ইচ্ছা করলেই মানুষ থেকে চট করে অমানুষ হয়ে যায়। পশুদের বড় কষ্ট, এরা না হতে পারে মানুষ, না হতে পারে পুরোপুরি পশু'।

ঠিক কোথায় লিখেছিলাম মনে পড়ছে না। কথাটা ছিল এমন:
'আমাদের প্রত্যেকের ভেতর বাস করে একটা শিশু এবং একটা পশু। হরদম এদের মধ্যে মারামারি লেগেই আছে। পৃথিবীর সব মহামানবদের একটাই চেষ্টা থাকে এই পশুটাকে বের হতে না দেয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা, জিততে না দেয়া'।
বিভিন্ন পদের শেকল এই পশুটাকে আটকাবার জন্য- একেকজনের জন্য একেক পদের শেকল। কারও জন্য শিক্ষা-ধর্ম-প্রিয়মানুষ-সামাজিক মর্যাদা; যার জন্য যে শেকল খাপ খায়।
'সামরিক মানুষ' নামের মানুষগুলোকে কেবল খুনই করা হয়নি। বীভত্স করা হয়েছে, স্যুয়েরেজ লাইনে ফেলে দেয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এমন কোন অন্যায় নাই যা করা হয়নি। কেন? এর উত্তর খুঁজছি। কেন এমনটা হল? আমরা কী দিনে দিনে আরও পশু হচ্ছি। ক্যু, অন্য মৃত্যুর নামে আমরা অনেক মেধাবি টগবগে যুবককে দেখেছি লাশ হয়ে যেতে। সব ঘটনা আমরা জানি না। সেগুলোও কম রোমহর্ষক ছিল না কিন্তু এমনটা হয়নি। মৃতদেহকে এমন অসম্মান করা হয়নি। জানি না, মনোবিদরা এর উত্তর ভাল বলতে পারবেন।

আমার অল্প জ্ঞানে খানিকটা বুঝি। আফসোস, এই দেশে যখন একজন মানুষকে ১৪৯ টুকরা করা হয় তখন আমরা অপরাধিকে সময়মত ধরতে পারি না। আমাদের চৌকশ মনোবিদদের দিয়ে ওই মানুষটার মস্তিষ্ক খুঁটে খুঁটে দেখা হয় না কেন এই মানুষটা এমনটা করল- তার শৈশব, শিক্ষায় কী গলদ ছিল? আহারে দরিদ্র দেশ- আমাদের ভাবনাগুলোও দরিদ্র হবে এ আর বিচিত্র কী!

যে পশুমানবরা একটি শিশুকে (খোদেজা) পৃথিবীর চরম নির্যাতন করে মেরে ফেলে এবং তার জানাজায় অংশগ্রহনও করে; প্রচলিত আইনের বিচারে ওই পশুমানবের ফাঁসি হয়। কিন্তু এই মানুষগুলো কেন এমন করল এটা জানার অবকাশ আমাদের কই! আহারে, দরিদ্র দেশ- সময় কই আমাদের?

ফাঁসির আসামি প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেয়ে যান, নির্বাচন করেন। আমরা গিয়ে ঘটা করে আবার তাকে ভোট দেই! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র অন্য ছাত্রকে গুলি করে মেরে ফেলে, কাটা কব্জি নিয়ে উল্লাস করে। আমরা বিভিন্ন রং গায়ে মেখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ বছরে ৭৪টি হত্যাকান্ড হয়েছে। মাত্র একটির সাজা হয়েছে, জরিমানা ১০ টাকা। ওই আগের কথাটাই বলি, লাগাবেন ধুতুরা গাছ, ধুতুরা ধরবে না কেন?

অন্য প্রসঙ্গ। জাস্ট রুপকার্থে বলছি, আমাদের শিক্ষায় আসলে গলদ আছে। আজকের শিক্ষাই আগামিতে যা হওয়ার তাই-ই হয়, ধুতুরা গাছে ধুতুরাই ধরে!
'চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ৪/৫ তারিখের ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে কারণ একজন প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি থাকবেন বলে। আরেক মহোদয় উপাচার্য অধ্যাপক সাহেব আবার ঘটা করে জানিয়েছেন, 'মন্ত্রী মহোদয় ব্যস্ত থাকায় পরীক্ষা পেছানো হল'। (প্রথম আলো, ০২.০৩.০৯)
তো, এই উপাচার্য মহোদয় যা শেখাবেন হাজার-হাজার ছাত্র তাই শিখবে! এই ছাত্ররাই পরবর্তিতে বিভিন্ন মহোদয় হবেন। আমাদের মাথার উপর বনবন করে ছড়ি নাচাবেন এবং আরও বিচিত্রসব ঘটনার জন্ম দেবেন। তখন এ নিয়ে অবাক হয়ে নির্বোধের মত কেন প্রশ্ন করা হবে?
আজব দেশ, শিক্ষকদেরও দল আছে লাল দল নীল দল, সাদা দল! মুসুল্লিরা যখন জুতাজুতি করেন আমরা আবাক হই কেন, এদের দল থাকতে নেই বুঝি? কমলা দল, কালো দল...!

তবলার ঠুকঠাক থাকুক। আমার চোখে এখনও ভাসে সেই ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক গুলজার উদ্দিন আহমেদ নামের মানুষটার দুর্ধর্ষতা, বিচক্ষণতা- যিনি ছিলেন একাই একশ। শায়েখ আ. রহমান, সানিসহ অজস্র দানবকে হাড়ে-হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আইনের হাত কত লম্বা। সাধারণ সৈনিকের পাশে দাঁড়িয়ে সিংহাবলোকনন্যায় লড়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহও হয়নি বিডিআরে জয়েন করেছেন। এই মানুষটা কী অপরাধ ছিল?
এমন একটা মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও তৈরি করা যায় না! এই মানুষটা যখন ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য হাহাকার করছিলেন তখন বুঝতে হবে প্রলয় চলে এসেছে। বারবার বলা হচ্ছিল সাহায্য আসছে।
এটা আমরা বেসামরিক মানুষদের বুঝতে বেগ পেতে হয় বৈকি। ধারেকাছেও হবে না তবুও বেসামরিক একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করি, একজন অসম্ভব মর্যাদাবান মানুষ যখন পেটের ক্ষিদায় হাত পাতে তখন কেমন লাগে?

টক-শোতে ধোঁয়া উঠা কাপে চুমুক দিতে দিতে অনেকের অনেক কপচানি শুনেছি, লম্বা লম্বা বাতচিত। কিন্তু ২৫ তারিখে কেউ বলছেন না ভেতরের এত আর্মি অফিসারদের কী অবস্থা! এতসব বিবেক-জাগানিয়া মানুষরা কেমন করে এটা বিস্মৃত হলেন! আহা, শোককে যে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত শুনতে বেশ লাগে!

একজন বললেন, আর্মির নাকি ২ ঘন্টা সময় লাগত পৌঁছতে। আমি সামরিক বিশেষজ্ঞ নই কিন্তু অল্প জ্ঞানে যা বুঝি, এত সময় লাগলে সশস্ত্রবাহিনী থাকার আবশ্যকতা কী! বিমানবাহিনির ব্যাক-আপ ছিল না? এইসব বাদ দিলেও কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা হবে না কখনও!
১. সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা বা এভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভেতরের আসল তথ্য জানা ছিল কী বা জানানো হয়েছিল কী?
২. ক্ষমা ঘোষণার সময় বা পরে জানতে চাওয়া হয়েছিল কী অফিসাররা কোথায়?
৩. অস্ত্র জমা হওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হল না কেন?
৪. অস্ত্রগুলো কে জমা নেবে, হিসাব মেলাবে? এটা ঠিক করা হয়েছিল কী?
৫. পাওয়ার ছিল না কেন? প্রয়োজনে সমস্ত দেশ অন্ধকার রেখেও আলোর ব্যবস্থা করা হল না কেন? বা বিকল্প চিন্তা মাথায় আসেনি কেন? জেনারেটর দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকা আলোকিত করে রাখা জটিল কোন বিষয় ছিল না!
৬. এতগুলো মানুষ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল কেন? সমস্ত এলাকা কর্ডন করে রাখা হল না কেন? আমি শপথ করে বলতে পারি, যেসব অস্ত্র খোয়া গেছে তার সবগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। প্রকারন্তরে আমরা অরক্ষিত হয়ে গেলাম।
অনেক প্রশ্ন কিন্তু উত্তর নাই।

যাই হোক, আজ মানুষ হিসাবে নিজেকে আমার বড় পোকা-পোকা মনে হচ্ছে।
সেনাবাহিনির এতসব চৌকশ মানুষ, তাদের প্রিয়মানুষরা আজ চরম দুর্দশায় এতে অনেকে উল্লসিত হয় কেমন করে! অনেককে দেখছি তিনি সদম্ভে ঘোষনা দিচ্ছেন, আমি শোকাহত না। পিএইচডি করা একজন বলছেন, এরা টাকা লোপাট করেছে।
বাহ, বেশ তো! লোপাট করে থাকলে তার বিচার চান কিন্তু এখনকার এই নৃশংস খুনের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?


আসলে সামরিক মানুষদের প্রতি বেসামরিক মানুষদের ক্ষোভের উত্স কোথায় এটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে আজ। কারণ আমি তাঁদের এমন চরম বিপর্যয়ে তাঁদের নিয়ে যেসব মন্তব্য শুনেছি, পড়েছি আমাকে ভাবাচ্ছে, মানুষ হিসাবে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে।
আমি অতশত বুঝি না। যেসব বেসামরিক মানুষ, বিডিআরের নিদোর্ষ সৈনিক, সামরিক অফিসার সবার জন্যই কাঁদব (মৃত বুড়া রিকশাওয়ালাটার জন্যও)- সবার জন্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব, এর ব্যতয় হবে কেন! এই কান্নাটা কী সামরিক না বেসামরিক এটা বিচার করতে যাব কেন?

এমনিতে আমরা বেসামরিক মানুষদের বেশ মজা। নিজেদের কোন বিপদ দেখলেই আর্মি ডাকি। নির্বাচন হবে, ত্রাণ দিতে হবে, ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে হবে, বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষ উদ্ধার করতে হবে, কাউকে টাইট দিতে হবে; 'বোলাও আর্মি'। অপ্রতুল ত্রাণ, কেউ ত্রাণ পেল না তো কষে গালি দাও আর্মিকে। আমারা ভুল-ভাল গাড়ি চালাচ্ছি, আর্মি আটকে দিল; ব্যস। আচ্ছা করে গোটা আর্মিকে উদ্ধার কর। নির্বাচনে ব্যালট বক্স লুট হবে আর আর্মি তো আর বসে বসে চুইংগাম চিবুবে না।

পাশাপাশি এদের কী বাড়াবাড়ি নাই। যে আর্মি নামের মানুষটা কেবল হেলমেট না-থাকার কারণে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যে স্বামীটিকে কান ধরে উঠবস করিয়েছেলেন তিনি যে কী অপুরণীয় ক্ষতি করেছিলেন এটা বোঝার মত ক্ষমতা যদি এদের থাকত! আমার স্পষ্ট মনে আছে, অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় ফুল হাতা শার্ট গুটিয়ে রাখা যেত না
- কেউ তার নিজের দোকানে পা তুলে বসতে পারত না। তো, এইসব অতিশয়োক্তি করে দুরত্বটা বাড়েই কেবল। এও ক্ষোভ আছে, আদিবাসিসহ অনেকের মৃত্যু নিয়ে অস্পষ্টতা, যা অনেকের মনে আঁচড় কেটে আছে।

কিন্তু এঁদের কাছ থেকে আমাদের কী কিছুই শেখার নাই? শিখতে চাইলে অনেক কিছু থেকেই শেখা যায়। ছবিটা একটু ভাল করে লক্ষ করুন, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের পেছনে বসার অতি সাধারণ চেয়ারগুলো দেখুন!
অথচ সাধারণ আমলাদেরও দেখেছি রাজকীয় চেয়ার না হলে পশ্চাদদেশ আরাম পায় না।

কাল সামরিক বাহিনির জানাজায় শুনলাম, মাওলানা সাহেবকে বলা হচ্ছে, ধর্মিয় শিক্ষক। মেসেজটা পরিষ্কার; ধর্মিয় বিষয়ে তিনি টিচার, অতি সম্মানিত এবং এই বিষয়ে চিফ।
আমার জানামতে, সামরিক বাহিনিই একমাত্র বাহিনি যাদের শপথ নিতে হয় কোরান ছুঁয়ে। আকাশ-পানি-পাতাল যেকোন জায়গায় প্রয়োজনে যেতে হবে তাকে, ভাবাভাবি একপাশে সরিয়ে রেখে।

সেনানিবাসে মেন্যু সবার জন্য এক।
এখান থেকে কী আমাদের শেখার কিছু নেই? সিপাহি যা খাবে সেনাপ্রধানও তাই। যেদিন খিচুরি রান্না হবে সেদিন সবার জন্যই খিচুরি- কারও গেস্ট থাকলে তাকেও তাই দেয়া হবে। আপনি যদি মনে করেন, আপনার গেস্টকে তা খেতে দেবেন না তাহলে বাইরে থেকে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।
আমার ধারণা, এই উদ্ধারকাজ আরেকটু সহনীয়ভাবে করা প্রয়োজন ছিল এবং তামাশা দেখার জন্য লোকজনদের সরিয়ে দেয়া জরুরি ছিল, ছবি তোলার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করাও দরকার ছিল। যেসব ছবি ছাপা হয়েছে, ওয়েবে এসেছে এগুলো দেখার আগে মরে যেতে ইচ্ছা করে। মনে মনে বলি, হে প্রভু, কেন এমন গরিব দেশে গরীব রুচি নিয়ে জন্ম নিলাম! হটেনড জাতি হলেই বা কী দোষ ছিল- পরাজিত শত্রুর মাংস খেতে খেতে আলোচনা করতাম, মাংসটা ভালভাবে রান্না হয়নি।

শিক্ষাটা খুব জরুরি। সেটা বাংলা-ফার্সি-আরবি সেই কুতর্কে যাই না। এই ছবিটা দেখুন।
এখানে আমাদের দেশের চিকিত্সা বিভাগের তাবড় তাবড় সব পরফেসর(!) সাহেবরা রয়েছেন। এদের চকচকে জুতা আর এই বিবর্ন হাড়গুলোর মধ্যে কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখি- চকচকে জুতাই 'দৃষ্টিনরম'-'চোখআরাম'! এই হাড়গুলো কিন্তু কুকুর বেড়ালের না, একজন মানুষের। বিস্তারিত বলে সময় নষ্ট করি না। বিস্তারিত এখানে:
লিংক:

মৃতদেহের প্রতি সম্মান করা আমরা শিখব কেমন করে? যে হিংস্রতার সঙ্গে মানুষগুলোর ছবি দেখানো হয়েছে। আজ অমর্যাদার সঙ্গে যে সামরিক মানুষটার বুটসহ পা অনাবশ্যক জোরে টানতে গিয়ে মাংসসহ বুটটা খুলে এসেছে, এই মানুষটাই মাইলের-পর-মাইল হেঁটেছেন এই বুট দিয়ে। ট্রেনিং-এর সময় একজন সৈনিকের চেয়ে অফিসারকে হাঁটতে-দৌড়াতে হয় বেশি। সহজ যুক্তি, অফিসার নিজে ফিট না থাকলে সৈনিককে ফিট রাখবেন কেমন করে।
আমার বুকের ভেতর থেকে অজানা কষ্ট পাক খেয়ে উঠে, কত কষ্টসাধ্য ট্রেনিং। অসহনীয় তীব্র শীতে হয়তো এই অফিসার ক্লান্তিতে শুয়ে পড়েছেন কোন এক খড়ের গাদায়। ভোরে কৃষক দেখে কী অবাকই না হয়, অরি আল্লা, 'আমরি (আর্মি) দেখি; আহারে, কার না কার ছেইলা (ছেলে)'। কৃষকের মনটা অন্য রকম হয়- কৃষক হলে বাবার অনুভূতি থাকতে নেই বুঝি।
কৃষকটা এক খাবলা সরষের তেল নিয়ে আসে; মায়া-মায়া গলায় বলেন, বুকে ভালা কইরা মালিশ করেন, ঠান্ডা লাগব।


ফ্রিডমে Martin Niemoller-এর ধার করা কথাটা শেয়ার করেছিলাম, আবারও করি:
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists.
I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me".

আমার শেকলগুলো ভাঙ্গছে একেক করে- আমিও তো এই কালচারেই বড় হয়ে উঠা মানুষ।
আসল পশুটা তো থেকে যায় সব আইনের বাইরে, তার কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতাও কারও নাই। সেই পশুটা ঘাপটি মেরে বসে থাকে পরবর্তি শিকারের অপেক্ষায়। তার পরবর্তি শিকার যে আমি নিজেই না তার কী নিশ্চয়তা আছে? সত্রাসে থেকেও আশায় বুক বাঁধি পশুটি আমার নাগাল পাবে না।


অনেক কথার পুনরাবৃত্তি হবে যেগুলো আগের পোস্টে বলার চেষ্টা করেছি: দানবের হাতে ক্ষুর

Saturday, February 28, 2009

দানবের হাতে ক্ষুর!

আমাদের দেশটা বড় বিচিত্র। আমরা লাগাই ধুতুরা গাছ, প্রবল আশায় থাকি এটায় ধরবে আম!
গোটা দেশে, সম্ভবত ৩টা জেলা ব্যতীত, সবগুলো জেলায় একসঙ্গে, প্রায় একই সময়ে বোমা ফাটায় জঙ্গিরা- আমরা কেউ কিচ্ছু জানি না। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের দুঁদে-চৌকশ লোকজনরা টেরটিও পেলেন না। ভাগ্যিস, জঙ্গিরা এদের আন্ডার গার্মেন্টস খুলে নিয়ে যায়নি!

দানব বানাবার কারখানা খুলে, দানবের হাতে কেন ক্ষুর এই প্রশ্ন রসিয়ে রসিয়ে করা যায় বটে কিন্তু উত্তর দেবে কে?
দিনে-দিনে, ফোঁটায় ফোঁটায় জমে উঠা বিডিআরদের ক্ষোভ, ডাল-ভাত কর্মসূচি, বেতন বৈষম্য, চেইন অভ কমান্ডে গলদ; কেউ টেরটিও পায়নি-
কেমন করে এটা সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী এর আগের দিন পিলখানায় গেলেন তখন লিফলেট বিলি করা হয়েছিল, কেউ গা করল না কেন?
আমার ধারণা, গোয়েন্দা বিভাগে টোকাইদের ভর্তি করলে এরা অনেক ভাল কাজ করে দেখাতে পারত।
নাকি গোয়েন্দারা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকই; উপরওয়ালারা (উপরওয়ালা বলতে আমি ঈশ্বরের কথা বলছি না, যারা দেশটার চাকা বনবন করে ঘোরান)গা করেননি, রিপোর্টগুলো সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।

এমনিতে কেন আমরা বিস্মৃত হই, আর্মি-বিডিআর আর আম-জনতা সবাই এই দেশেরই সন্তান। হাতের পাঁচ আঙ্গুলের মত- কোন আঙ্গুল খাটো, কোনটা লম্বা এই যা। সামরিক লোকজনদের আমরা বিশেষ পছন্দ করি না, জনতাকেও এরা পছন্দ করেন না। কেন এমনটা হয়? কেন আমরা এদের চোখে সিভিলিয়ান থেকে ব্লাডি সিভিলিয়ান হয়ে যাই! এ সত্য চোর-চোট্টায় দেশটা ভরে যাচ্ছে কিন্তু কোথায় এর ছাপ নেই!

আরেকটা বিষয় আমাকে হতভম্ব করেছে। বিভিন্ন ওয়েব-সাইটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, স্পষ্টত ২টা ভাগ। যেন টকটকে লাল একটা আপেলকে কেটে দু-ভাগ করা হয়েছে, কেউ আর্মির পক্ষে তো কেউবা বিডিআরের পক্ষে- লাশের পাশে খুব কম মানুষ। এটাও সম্ভবত অমাদের বৈশিষ্ট, জন্মের পর থেকেই আমাদের বিভাজন শুরু হয়। বাচ্চাটা মানুষের না প্রানীর, হিন্দু না মুসলমান? ক্রমশ বড় হলে কোন দল, কোন এলাকার? এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই- স্বাধীন দেশে পরাধিন মানুষ দলবাজির শেকলে বাঁধা। যারা কোন বিশেষ পক্ষে নাই তাদের চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই।

এটা কেন আমি একজন মানুষের কাছ থেকে একজন মানুষের আচরণ আশা করতে পারব না। (এই অপমান কেমন করে ভুলি, আমাকে অনাহুতের মত গেইটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। ক্যাপ্টেন নামের মানুষটা আমার সামনে বসে চা খাচ্ছেন অথচ এক কাপ চা আমাকে অফার করা হয়নি। অথচ আমি আমার সত্য একটা দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তার এক সিনিয়রের কথামতে। পরবর্তীতে কেন এই অপরাধে আমার উপর খড়গ নেমে আসবে। অবশেষে নিরুপায় আমাকে হাইকোর্টের কব্জা নেড়ে বাঁচতে হবে?)
কিন্তু কেন আমরা ভুলে যাব সেই হাতের আঙ্গুলের কথা, এরাই কেউ না কেউ আমাদের স্বজন-বন্ধু। আমাদের স্বজনের, বন্ধুর লাশ এভাবে পড়ে থাকবে আর আমরা অতীতের ক্ষোভ পুষে রাখলে দানবের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য রইল কই!


আমি বলছি না এটা, ইউনিফর্ম গায়ে দিয়ে একেকজন ভাঁড়ের আচরণ করুক কিন্তু রোবট হওয়ার অবকাশ কোথায়, হতে হবে কেন? শিক্ষা নেয়া যেতে পারে এখান থেকে, থাইল্যান্ডের আর্মিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, হাসিমুখে থাকার জন্য যেন জনতা তাদের কাছাকছি ভাবে।



সামরিক-বেসামরিক লোকজনরা প্রতিপক্ষ হয় কেমন করে?
প্রবাসে সামরিক অল্প ক-জন মারা গেলে বুক ভেঙ্গে কান্না আসে, জাতীয় শোকদিবস থাকে। তা থাকুক, আমরা দোষ ধরছি না কিন্তু বেসামরিক ৩০০জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গেলে তাদের স্বজনদের চোখ ভরে আসে না বুঝি? কী হেলাফেলা ভঙ্গিতে মৃতদেহগুলোকে আমরা পশুর খাবার হতে দিয়েছি! সেই লঞ্চ উদ্ধারের ন্যূনতম চেষ্টাও হয়নি।

কে ভাল কে মন্দ সেই বিচারে এখন আমি যাচ্ছি না। এমন আর্মি অফিসারও আছেন যিনি একটা ফোন করে সরকারি কোষাগারে ৩ কোটি টাকা জমা করিয়ে সিনিয়র অফিসারের লাল চোখ দেখেছেন। কুখ্যাত সন্ত্রসীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ২ কোটি টাকা পায়ে ঠেলে ফেলেছেন।
পাশাপাশি বিডিআরদেরও দেখেছি অল্প কয়েকজন জওয়ান প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তার চৌকি রক্ষা করেছেন (পদুয়া, রৌমারি)। শত-শত অহংকারি বিএসএফকে আটকে দিয়েছিলেন। পুরস্কৃত করার বদলে এই বীরদের আমরা বাধ্য করেছিলাম নতজানু হতে। চীফের চাকরি যায়-যায়।


এই দেশটার মত হতভাগা আর কেউ নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের রক্ত না ঝরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের অধিকার আদায় হবে না। শিক্ষাঙ্গন বলুন আর রাজপথ। মসজিদও বাদ থাকেনি, জুতাজুতি করে অধিকার আদায় করতে হয়। ওই যে বললাম, বিভাজন শুরু হয় জন্মের পর থেকেই, মুসুল্লিরাও কোন দলের এটা বা বাদ থাকবে কেন?



পুলিশের বেতন সংস্কার প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। পুলিশের আই জি নিদারুন বেদনায় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, 'প্রস্তাব গেলেই আটকে যায়, এই জট আর খোলে না'।
বলতে বুক কাঁপে কিন্তু আমরা কী পুলিশ বিভাগেও এমন একটা ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় আছি। পরে জনে জনে বলে বেড়াব, 'দানবের হাতে ক্ষুর কেন'?
এমনটাই চলবে। অভাগা আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব।


..........................................

সত্রাসে আজ অনেকে পরীক্ষা দিয়েছে। ১ দিনের জন্য চলতি পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে প্রলয় শুরু হয়ে যেত বলে আমি মনে করি না। যায় যদি যাক প্রাণ, কেজি দরে প্রাণ- অভাগা দেশের শস্তা প্রাণ! আজ যদি কোন পরীক্ষার্থীর প্রাণ যেত আমরা উপরের দিকে মুখ তুলে বলতাম, আফসুস, হায়াত আছিল না।

এরিমধ্যে ২দিন চলে গেছে।
এই পোস্টের সঙ্গে ছবিটা দেখে আমার বুকটা হাহাকার করে উঠে। লাশ নামের মানুষটার গায়ের এই ইউনিফর্মটা খুলে ফেললে যে শরিরটা পড়ে থাকবে সেটা আমার সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে এতে সন্দেহ নাই!

এখন যেটা ঘটে গেল এটার চেয়ে ভয়াবহ, অসহ্য আর কিছু হতে পারে না। আমার সহ্য হচ্ছে না। এতগুলো প্রাণ...! আমি কায়মনে প্রার্থনা করছি, হে পরম করুণাময়, আর যেন এক ফোঁটা রক্ত না ঝরে। যে প্রাণগুলো বিনষ্ট হল তাদের মধ্যে নিরপরাধ যারা, কে ফিরিয়ে দেবে তাদের? শিশুদের চোখ থেকে কেমন করে মুছে ফেলা যাবে তীব্র আতংক!

শিশুটি কী সামরিক নাকি বেসামরিক বাবা-মার সন্তান, এ প্রশ্ন বৃথা। শিশুটি আজীবন ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে তার বাবা-মার ছবির দিকে।
একদা বড় হবে। বাবা-মার কাপড় হাতড়ে খুঁজে ফিরবে স্বজনের গায়ের গন্ধ। হায়, কোথায় সেই ঘামের গন্ধ, নাকে ভক করে লাগবে ন্যাপথলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ!

প্রিয়মানুষ হারানো বধুর হাতের মেহেদী রং সামরিক নাকি বেসামরিক এই তর্ক থাকুক পশু-মানবের জন্য।
এই মানুষটার চোখের জলের সঙ্গে কী জলপাই রং মেশে?
মানুষটা কোন প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আছে তাতে কী আসে যায়? পৃথিবীর এই একটা ভাষা হুবহু এক। কেউ হাউমাউ করে কাঁদে, কেউ চোখ চেপে। এই পার্থক্য!

এখন আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত- পাগল পাগল লাগছে নিজেকে। ক্ষোভের প্রকাশ এমনটা হতে পারে আমি বিশ্বাস করি না। মিছিলের মত আসছে লাশের পর লাশ- কোন অন্যায় বাদ থাকেনি।
মাথায় কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে, এত মৃত্যু কেন- এত নৃশংসতা কেন? অতীতেও অনেক চৌকশ মানুষ 'সামরিক লাশ' হয়ে গেছে- সঠিক সত্যটা আমাদের জানা হয়নি। এবারও কী তাই হবে, কে জানে!

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নানক সাহেবকে দেখলাম, বলছেন, 'ভেতরে লক্ষ-কোটি টাকা বিলি করা হয়েছে'। তাও উম্মুক্ত হ্যান্ড-মাইকে!! এত দ্রুত এমন বক্তব্য আমার বোধগম্য হচ্ছে না। খোলা রাস্তায় এইসব বলার কোন প্রয়োজন ছিল কী!
ধরে নিলাম সত্য কিন্তু অফিসারদের বিরুদ্ধে সৈনিকদের এই সেন্টিমেন্ট কাজে লাগাবার সুযোগ আমরা দিলাম কেন? জানলাম না কেন? কে নেবে এর দায়?

আরেকটা বিষয় নিয়ে আমার মনে হচ্ছে, জানি না কতটুকু যথার্থভাবে এই তদন্ত হবে কিন্তু আমি প্রবলভাবে চাইব এই টিমের সাথে অন্তত একজন যেন মনোবিদ থাকেন। যিনি এই চলমান দানবদের মস্তিষ্ক আতালি-পাতালি করে খুঁজে দেখবেন, উঁকি দেবেন; কোন পর্যায়ে গেলে একজন মানুষ এই পর্যায়ে নেমে আসে- কোন নিতলে এর উত্স। একজন মানুষের ভেতরে লুকিয়ে খাকা পশুটা কেমন করে অবলীলায় বের হয়ে আসে।

অন্য রকম পশুত্ব দেখেছি মিডিয়াকে, এরা লাশ নামের একেকজন মানুষকে এমনভাবে দেখিয়েছে যা বর্ণনার বাইরে। এদের সামান্যতম বিবেক বোধটুকুও নাই যে ছবিগুলেতে সামান্য আড়াল ব্যবহার করা প্রয়োজন। এটা এদেরকে শেখাতে হবে কেন? ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো তো নানা কায়দা-কানুন করে আমাদেরকে শেখাতে উদগ্রীব হয়ে থাকে। মিডিয়ার প্রয়োজন রগরগে খবর, ক-টা প্রাণ গেল সেটা আলোচ্য বিষয় না

আমাকে আরও যা বিভ্রান্ত করেছে, একটা ওয়েব-সাইটে একজন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভাগ্যিস আমাকে দালাল বলেন নাই।
আজব, মানবতার পক্ষে কথা বলাও দোষের! হা ঈশ্বর!

আহা, যারা কোন দলে নাই তারা বড় অভাগা। খাপছাড়া- ভুল সময়ে ভুল মানুষ! এদের যাওয়ার কোন জায়গা নাই- এদের জন্য ইচ্ছামৃত্যুর অপশনটা থাকলে বেশ হত।

ছবিঋণ: প্রথম ছবি, 'ফোকাস বাংলা', ২য় ছবি: অজ্ঞাত (অজ্ঞাতের সূত্র পাইনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি, এটা আমার ব্যর্থতা।)

Wednesday, February 25, 2009

৭১-এর চিঠি...গুলি

ছবিঋণ: মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নান। তাঁর বাবার লেখা চিঠি।



ছবিঋণ: মুক্তিযোদ্ধা (দুর্দান্ত ক্ষোভে পরিচয় দিতে যার তীব্র অনীহা)। ৭১-এর স্টেনগানের গুলির খোসা।

মুক্তিযুদ্ধের আরও ছবি

শুভ জন্মদিন, এমন কাপিতানরা জন্মাক বারবার!

ইহা একটি প্রথম শ্রেণীর দৈনিক

"২০ এপ্রিল, ২০০১ প্রথম আলো এএফপি’র বরাত দিয়ে প্রথম পাতায় বিশাল একটি ছবি ছাপিয়েছিল। ছবিটা যে কী ভযাবহ তা যারা একবার দেখেছে দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবেন না। আফসোস, আমি মতিউর রহমানের মত 'নেকাপড়া' জানা মানুষ হলে নিশ্চয়ই এখন এখানে পোস্ট করে দিতাম! কিন্তু আমি মতিউর রহমানের মনন স্পর্শ করার কু-ইচ্ছা প্রকাশ করি না।
ছবিটা এমন, বিডিআর কর্তৃক হত, গ্রামবাসী বাঁশে ঝুলিয়ে পুরোদস্তর ইউনিফর্ম পরা
একজন মৃত বিএসএফ-এর লাশ বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে শব বয়ে নিয়ে যেতে দেখেছি কুকুর শুকরের।

প্রথম শ্রেণীর (এদের দাবীমতে) দৈনিকটির সৌজন্যে যে দৃশ্য দেখেছি এতে আমি স্তম্ভিত, ক্রদ্ধ। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে। মানবজাতির নগণ্য একটা অংশ হিসাবে আমি লজ্জিত। নিজেকে বড় নগ্ন-কাতর মানুষ মনে হচ্ছে।
যে বিএসএফ পোশাকধারী মানুষটার মৃতদেহ হাত-পা বেঁধে কুকুর-শুকরের মত ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, প্রথম শ্রেণীর দৈনিক কর্তৃপক্ষ কী মনে করেন এই গ্রহে ওঁর কোন প্রিয় মানুষ নেই! এই গ্রহে কি এমন একটা ভালবাসার ক্ষুদ্র শেকড়ও ছিল না যে এই মানুষটাকে অমানুষিক শক্তিতে ধরে রেখেছিল। এতো গেল মানবিক দিক, মুদ্রার এক পিঠ। অন্য পিঠ।

ভারত যারা চালাচ্ছেন তারা যদি এই একটা ছবির কারণে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন এর দায় কে নেবে, এই প্রথম শ্রেণীর দৈনিক, না এএফপি? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম এএফপি। কিন্তু মুক্তচিন্তা-শক্তচিন্তা, প্রথম শ্রেণীর দৈনিক বলে নিজের ঢোল নিজেই যে ফাটিয়ে ফেলছে তাদের কী কোন দায়বদ্ধতা নেই? ফলাও করে লিখে দিলেই হলো আজ আমাদের পত্রিকা ছাপা হলো এত লক্ষ বাহাত্তর হাজার ... শূন্য ... শূণ্য কপি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আমরা নিজেরাই। কী অসভ্য অহংকার!

যুদ্ধের প্রয়োজনে একজনকে গুলি করে মেরে ফেলা আর তাঁর মৃতদেহের প্রতি অপমান করা কী একই কথা! পত্রিকাটির পোষা বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ কী বলেন? ত্রিকালদর্শী গব্বর চৌধুরী স্যার কী বলেন, ছবিটির অন্য কোন সমস্যা নেই তো- আসলে এটা একটা কুকুরের ছবি ছিল বিচিত্র করণে মানুষের ছবি হয়ে গেছে? স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জি, এস , এম পদ্ধতিতে নিশ্চই সুদূর লন্ডন থেকে রহস্য উদঘাটন করে ফেলেছেন। প্লিজ স্যার, ফরমায়েসী সুদীর্ঘ একটা কলাম লিখুন। প্রথম শ্রেনীর দৈনিকে নিশ্চয়ই ছাপা হবে।

এদেশে ক্ষমা প্রার্থনা করার চল তেমন নেই নইলে প্রথম শ্রেণীর দৈনিকটির সম্পাদককে বলতাম, সমস্ত পাঠকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
দৈনিকটির সম্পাদক পার্কের গাছ কাটা নিয়ে মর্মস্পর্শী এক প্রতিবেদন লিখেছিলেন- চোখ বড় বড় করে, লেখাটা পড়ে ভাবছিলাম জলভরা চোখে, আহা কী মায়া গো লোকটার মনে! এমন বড় মাপের মানুষটার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার প্রত্যাশা কী খুব বড় চাওয়া?"

*এই অংশটুকু নেয়া হয়েছে 'সাদাকে কালো বলিব'
(২০০৫) থেকে

**
একটি নিরীহদর্শন বোমা 'লিটল বয়' যেমন যথাসময়ে কেড়ে নিতে পারে অসংখ্য প্রাণ তেমনি এমন একটা ছবি কী তান্ডব করতে পারে তা সময়ই বলে দেয়! কেবল একটা ছবির কী অপরসীম ক্ষমতা তা আগাম আঁচ অনেকেই করতে পারেন না! আজ মনে হচ্ছে, ক্ষমা প্রার্থনার আকুলতা ছাই, মানুষটাকে চাবুক মারা প্রয়োজন ছিল।

Saturday, February 21, 2009

দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে?

দাউদ হায়দার নামের এই দেশের এক অভাগা সন্তানের আজ জন্মদিন। এই দেশের মাটি কপালে মাখার অধিকার নাই যে মানুষটার, তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর নিয়ম আছে কী, জানি না!

কে কাকে মনে করিয়ে দেবে, একজন লেখককে যে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না। লেখক কেবল তাঁর নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তারপরেও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি শব্দের ছুঁরি মেরে মহা মহাঅন্যায় করেছেন। বেশ তো, আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিন না, আটকাচ্ছে কে? খোদার কসম, আমরা কিচ্ছু বলব না।
হায়, এই দেশে মানুষকে কুপিয়ে ১৪৯ টুকরা করে ফেলা কসাই থাকতে পারবে, চোর-চোট্টা, বেশ্যার দালাল থাকতে পারবে, কুত্তা থাকবে পারবে, দরদর করে ঘামতে থাকা শুয়োর থাকলে দোষ নেই- কেবল একজন কবি থাকতে পারবে না। বাহ!

২১ ফেব্রুয়ারী কবির জন্মদিন। আজ দেশে কী লম্বা লম্বা বাতচিত, একুশের চেতনা ধারণ করতে করতে আমাদের একেকজনের শিরদাঁড়া বাঁকা হয়ে আসে। বইমেলার ধুলায় একটা কুত্তা গড়াগড়ি দিতে পারবে কিন্তু কবি এই মেলার এককিনি ধুলা গায়ে মাখতে পারবেন না! আহারে, আমার সোনার বাংলা অআমি তোমায় ভালবাসি!
৩৫ বছর আগে একটা বিতর্কিত(!) কবিতা লেখার অপরাধে এই মানুষটা (তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০) এই গ্রহ বা গ্রহের বাইরে যে-কোন জায়গায় যেতে পারবেন, কেবল তাঁর জন্মভূমি ব্যতীত। হায় জন্মভূমি, স্বর্গ কোন ছার! মানুষটার বুক ভেঙ্গে আসে না এমন কবিতা লিখতে,
"...
এখনও আশায় আছি
যদি কেউ ফেরায় সস্নেহে, পিতৃদেশে।"

বা এই লেখাটি,

"কেটে গেল তিরিশ বছর
এখনো নির্বাসনে।
সে যে ছেড়েছি দেশ
প্রথম যৌবনে
ভুলেই গিয়েছি মাটির গন্ধ
জলের জীবন।"

হায় অভাগা জন্মভূমি, কেমন অভাগা তুমি, লাজে মরে যাই তোমায় দেখে, কেমন করে পারলে তোমার সন্তানকে ফেলে দিতে! ভুল বললাম, তার চেয়েও বিভত্স নিষ্ঠুরতা। এরচেয়ে ফাঁসিও অনেক সহনীয় ছিল বলে আমি মনে করি! অন্তত আমি হলে বেছে নিতাম।
এই কবিকে পর্যটকের মত ক-দিনের জন্য আসার অনুমতিটুকুও দিতে কার্পন্য এই সোনার দেশের। আহা, সোনার দেশ, এই দেশের সবটা সোনা হয়ে গেলে কবরের জায়গাটুকুও থাকবে না যে!


ছবিঋণ: Poet Daud Haider (Left), www.sezanmahmud.org
কৃতজ্ঞতা হাসান ফেরদৌসের কাছে যিনি আমাদেরকে মনে করিয়ে দিয়েছেন আজ কবির জন্মদিন।

*দাউদ হায়দার, তোমাকে কাছে খোলা চিঠি: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_7633.html 

Friday, February 20, 2009

ধুতুরা গাছে আম ধরে না।

এই প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে একটা খেলা হয়েছে, চেয়ার ছোড়াছুড়ি। আপাতদৃষ্টিতে সামান্য একটা ঘটনা, কহতব্য না। কিন্তু এই ছবিটার পেছনে লুকিয়ে আছে একেকজন চলমান দানব বানাবার বীজ। আমার ধারণা, এই দানবদের আটকাবার শক্তি কারো নাই, এদের নিজেরও নাই!

ছাত্রলীগের ২টা গ্রুপের বসাবসি নিয়ে এই কান্ড! এই খেলা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে আসেন। পরে এদের নেতাদের নিয়ে হলহলা মুখে পায়রা উড়িয়েছেন! মিডিয়ার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু যেটা বলে পন্ড করেছেন সেটা হচ্ছে, '২০০১ সালে জোট সরকারের হত্যা, নির্যাতন...তখন পত্রিকাওয়ালারা কিছুই লিখত না'।
এটা বলার মানে হচ্ছে প্রকারান্তরে নিজ সন্তানকে বখে যেতে প্ররোচিত করা। অনেকটা এমন, অন্যদের সন্তানরা তো আমার সন্তানের চেয়ে অনেক দুষ্টু। ফলাফল পিত্তশূল- আমার সন্তানের শিক্ষায় গোড়াতেই গলদ থেকে যাবে। ধামড়া হয়ে এরা যে পিড়িং পিড়িং করে বাদ্য বাজাবে না এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই!

ভয়াবহ বললেও কম বলা হবে। দলীয় সব জ্যেষ্ঠ, তাবড় তাবড় নেতা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শত শত সদস্য, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), এসএসএফ; এদের উপস্থিতিতে এরা বাদামের খোসার মত চেয়ার নিয়ে জাগলিং করেছে, ঘুসাঘুসি করেছে, কস্তাকস্তি করেছে- ত্রাস সৃষ্টি করতে পুরাপুরি সফল হয়েছে! সবাই দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলেন।
এদের তেমন কোন শাস্তি হয়েছে বলে তো আমরা জানি না।

এই পিজিআর, এসএসএফদের বিষয়টা আমাকে ভাবচ্ছে! আমার ভাবনায় ধোঁয়া দিয়েছেন স্বয়ং সেনাপ্রধান, জেনারেল মইন ইউ আহমেদ। 'শান্তির স্বপ্ন' বইয়ে, এই পিজিআর, এসএসএফদের নিয়ে তিনি লেখেন (বঙ্গভবন যাওয়ার প্রাক্কালে), "এমনকি ভিভিআইপি'র জীবনের উপর কোন হুমকি মনে করলে তারা (পিজিআর, এসএসএফ) যে কাউকে হত্যা করতে পারে। ...এরা সেনাবাহিনী কিংবা অন্য কোন বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের আওতাধীন নয়। ...আমি জানতাম, হতে পারে এ যাত্রাই...কে জানে হয়তো আমার জীবনের শেষযাত্রা"।

তাই কী! এখানে তো দেখছি এসএসএফের লোকজনরা একেকটা পুতুল! এসএসএফ তাহলে পাপেট না,
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে? জেনে ভাল লাগল! 

ছবিসূত্র: অজ্ঞাত
(ছোড়াছুড়ির দৃশ্যটার ইউটিউবে ভিডিও ক্লিপিংসটা খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে একটা কাজের কাজ হত। আহ, সে এক দেখার মত দৃশ্য বটে। দেখে জীবন সার্থক হয়)।

Thursday, February 19, 2009

এইসব অসভ্য বিজ্ঞাপন বানায় কোন চতুষ্পদ?

টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখাত, নিয়ম করে দেখাত। মূল চরিত্রে অপি করিম, তার বিয়ে হয়েছে। বিদায়ের ক্ষণ উপস্থিত।
হঠাৎ অপি করিম হাস্কি ভয়েসে চিৎকার করে উঠেন, 'না-না, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না'।
প্রথমেই যে কারও মনে হবে, অপি করিমের এই হাস্কি চিৎকার, তার বাবা-মার জন্য! নিমিষেই অপি ঝড়ের গতিতে ছুটে যাবেন, লাইক আ পিলার!


এর পরই আমার দেখা পৃথিবীর কুৎসিত একটা দৃশ্য, অপি বিশেষ একটা ব্রান্ডের টিভির গায়ে পরম মমতায় তার গোদা গোদা হাত বুলিয়ে হাসের ডিমের মতো চোখে জল এনে বলবেন, 'না-না-না, আমি ... টিভি ছাড়া থাকতে পারব না'।
কোন গর্দভের মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছিল আমি জানি না। নিশ্চয়ই এদের শিক্ষায় খুব বড়ো ধরণের ঘাপলা আছে, একেকজন টলমান রোবট। আই বেট, পণ্য বিক্রি করার জন্য এরা মাকেও বিক্রি করে দেবে! এই দেশের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি দরদ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর, সেল
কোম্পানিগুলো আরেক কাঠি এগিয়ে

সম্প্রতি এমনই এক 'ফাজিলিয়া' বিজ্ঞাপন করলেন জয়া আহসান। আবার ফাজিল-ফাজিল টাইপের মন্তব্যও করেছেন, 'আসলে আমরা এমন নতুন ধরনের বিজ্ঞাপনের সংগে অভ্যস্ত নই...'।
অপেক্ষায় আছি, মৃত মডেল তিন্নি এসে হাজির হয়ে বলবেন, আরে, আমি তো অভিলিংক সেলফোনে এট্টু অভিনয় করছিলাম। গাধা পাবলিকরা এমন 'নটুন'...।

একজন ভদ্রমহিলা সম্বন্ধে কটু কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। তবে মডেল শাহেদের জন্য যে কথাটা বলেছি তা আপনার জন্যও প্রযোজ্য, ডিয়ার জয়া। ভাল পেমেন্ট পেলে...।

Wednesday, February 18, 2009

আমার সবিনয় বক্তব্য

বিতর্কটা জমে উঠছে দেখে স্বস্তি পাচ্ছি না। শুধু অল্প কথায় বলব, সব কিছু নিয়ে বিতর্ক চলে না। বিষয়টা এমন, কেউ আমার মাকে গালি দিয়ে বলল, আসেন বিতর্ক বিতর্ক খেলা খেলি। এই খেলা আমি খেলব না। কেউ আমার মাকে গালি দিলে সে স্রেফ খুন করে ফেলব!

আমি চেয়েছিলাম নিঃশব্দে এখান থেকে সরে আসতে। কেন ভজকট হয়ে গেল সেই প্রসঙ্গে আর যাই না।

আজ সকাল থেকে আমি তোপের মুখে পড়ে গেছি। ২টা কারণে।
১টা আমার ব্যক্তিগত সমস্যা- এখানে বলে বিরক্তি উদ্রেক করি না।
অন্যটা আমাকে নিয়ে লেখার সূত্র ধরে। মেইল বক্সে ঝপ করে নেমে আসা অসংখ্য মেইল। এখন পর্যন্ত আমি অনেকের মেইলের উত্তর দিতে পারিনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি। ট্রাস্ট মী, কাজটা ইচ্ছাকৃত না।

আমি মোটা চিন্তার, মোটা খাবার খাওয়া মানুষ, নিরিবিলি জীবন যাপন এবং একান্তে দু-কলম লেখালেখি করা চেষ্টাতেই আমার আনন্দ। আর কীই বা লিখি ছাতাফাতা, হালকা চালের এইসব লেখা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস।

সামহোয়্যারে যাওয়ার অনেক কারণের একটা ছিল নিজেকে খানিকটা চেনা- বিশ্বাস করেন, ওখানে অনেকের মনন দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যেত।

ওখানে শিখলাম অনেক কিছু। এও শিখলাম বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়া আমার কর্ম না। আমার পক্ষে এই আলগা চাপ নেয়া সম্ভব হয় না। এখনও আমি এই চাপ নিতে পারি না। আমার প্রিয় মানুষরা থাকতেন সত্রাসে। এক সময় সবিরাম যাত্রার সমাপ্তি!

এ ছাড়া আরও সমস্যা ছিল, আমার জ্ঞানের স্বল্পতা এবং ভয়াবহ রকম বাজে স্মৃতিশক্তি! কথার পিঠে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে সূত্রগুলো প্রয়োজন সময়মতো আমি এর যোগান দিতে পারতাম না।তাছাড়া হাবিজাবি লিখে দেয়া এক জিনিস আর জনে জনে এইসব লেখার ব্যাখ্যা দেয়া আমার 'কম্ম' না!

সামহোয়ারের পরে এখানে কেন আসলাম এটা নিয়ে বিস্তারিত বলি না, আহা, মায়াভরা মুখগুলোকে পিঠ দেখাই কেমন করে! আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আমাকে এই সম্মান দেয়ার জন্য। এবং নতজানু হয়ে বলি, আমি আপনাদের এই সম্মান রাখতে পারলাম না।
কেন?

এখানে যারা পুরনো আছেন তারা অনেকেই জানেন সামহোয়ারে আমার যথেষ্ঠ কুখ্যাতি ছিল আবেগীয় একজন মানুষরূপে। কিন্ত সেটা ছিল খানিকটা ইচ্ছাকৃত- ১৮ বছরের একজন অপরিণত বালকের দ্বৈত আচরণ।

আজ পরিণত একজন মানুষের ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সব কিছু মিলিয়ে আপাতত এখানে লেখা হয়ে উঠবে না। বেশ কিছু কারণের মধ্যে একটা বলি, এক্ষণ আমি লেখব একটা বাড়তি চাপ নিয়ে এবং অন্যদের উপরও অহেতুক চাপটা পড়বে। আমার লেখায় মন্তব্য করার পূর্বে চলে আসবে আড়ষ্টতা। পরিবেশটা থাকবে মেকি। জীবনটা গড়িয়ে যাওয়া পানির মতো- পানিটা যখন বদ্ধ হয়ে পড়ে তার টলটলে ভাবটা থাকে কই! আমি জানি অনেকেই আমার প্রতি অযাচিত মমতা বোধ করেন। আমার প্রবল আশা, আমাকে অন্তত ওই মানুষরা বুঝতে পারবেন।

আমি কায়মনে চাই, এই সাইটটা দাঁড়িয়ে যাক। প্রবাসে আমাদের দেশের যেসব সেরা সন্তানরা পড়ে থাকেন তাঁদের জন্য থাকুক খানিকটা নির্মল বাতাস, দেশের সোঁদা মাটির গন্ধ। আর দেশের জন্য একবুক মমতা।

প্রবাসীদের জন্য আমার অযাচিত টানটা কেন আমি নিজেও ভাল করে জানি না- হয়তো এজন্যে প্রবাসে আমাকে কখনও থাকতে হয়নি। থাকতে হবে এটা ভাবলেই আমার বুকের গভীর থেকে হাহাকার করে উঠে। আমার কেবলই মনে হয় দেশের জন্য যখন এদের নিজেকে পাগল-পাগল লাগে তখন হাত বাড়িয়ে বলি, এই দেখ পাগল, কেমন ছুঁয়ে দিলাম।

আমি পরামর্শ দেয়ার স্পর্ধা দেখাই না। সবাইকে অনুরোধ করি, বাতাসটা আটকে রাখবেন না- তাইলে আর নির্মল থাকে কই! আরেকটা কথা, জীবনটা বড়ো ছোট এবং একটাই মাত্র জীবন, রিটেকের কোন সুযোগ নাই। আমাদের মায়াভরা চোখটা থাকুক সর্বদা আমাদের সঙ্গে।

এবং একেকজন একেক রকম- কাজ করারর ভঙ্গিও ভিন্ন। আর এটা জরুরী না আমরা অন্যের সঙ্গে একমত হব- প্রায়শ আমরা নিজের সঙ্গেই একমত হতে পারি না। তবে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করাটাও একজন ভাল মানুষের জন্য খুব জরুরী।

ভাল থাকবেন গো সবাই।

কয়েদী: ২

 
"শহীদ সাহেব দ্রুত দাঁড়ি কামাতে গিয়ে গাল অনেকটা কেটে ফেলেছেন। দরদর করে রক্ত বেরুচ্ছে। টিস্যু চেপে রক্ত মোছার চেষ্টা করছেন। তিনি চাচ্ছিলেন কাউকে না জানিয়ে চুপিসারে বাসা থেকে বেরুতে কিন্তু গোল বাধল জুতো খুঁজে পাচ্ছেন না। জুতো ছাড়া অফিসে গেলে বসের আজেবাজে কথা শুনতে হবে।

সুমিকে ঘুম থেকে উঠালেন। সুমির ঘুমে চোখ ফোলা। চোখ বড় বড় করে বলল, ‘বাবা, কী আশ্চর্য, তুমি অফিসে যাচ্ছ!’
‘যেতে হবে রে মা, চাকুরীর ব্যাপার।’
‘বাবা-বাবা, এই হরতালে তুমি যাবে কিভাবে! প্লিজ বাবা, যেও না, দোহাই তোমার।’
‘মা-রে, দু-দিন যাইনি। আজও না গেলে চাকরি থাকবে না!’
‘যেও না বাবা প্লিজ। তুমি গেলে আমি দুঃশ্চিন্তায় মরে যাব।’
শহীদ সাহেব সুমীর মাথায় হাত রাখলেন। ‘কিছু হবে না মা, সন্ধ্যায় দেখবি তোর এই বুড়ো বাপ ঠিক ঠিক ফিরে আসবে।’
‘বাবা-!’
‘ মা নিষেধ করিস না, লক্ষী বেটি না আমার।’

সুমি ছলছল চোখে বাবার জুতো খুঁজতে লাগল। বাবাটা কেমন, জুতোতে কালি নেই। আশ্চর্য, মানুষটা নিজের সম্বন্ধে এত উদাসীন কেন! সুমি জুতো খুঁজে চেঁচিয়ে বলল, ‘বাবা, পাঁচ মিনিট, টিফিন দিয়ে দিচ্ছি।’
‘না রে বেটি, দেরি হয়ে যাবে।’
‘পাঁচ মিনিট বাবা, পাঁচ মিনিট। মাথা খাও আমার, বাবা যেও না।’

সুমীর কাছ থেকে শহীদ সাহেব বিদায় নিয়ে পা চালিয়ে হাঁটছেন। হরতালের কারণে রিকশা ছাড়া কিছুই চলছে না। কী দাম- দশ টাকার ভাড়া ত্রিশ টাকা চাচ্ছে! কিছুদূর হেটে হাঁপ ধরে গেছে। না পেরে একটা রিকশা নিলেন। সামনে জটলা দেখে রিকশাওয়ালা চেষ্টা করেছিল রিকশা ঘুরিয়ে নিতে। হইহই করে একঝাক তরুন রিকশা ঘিরে ফেলল।
‘এই শালার রিকশা ভেঙ্গে ফেল।’
রিকশাওয়ালা ভীত গলায় বলল, ‘ভাইজান, এইবার হরতালে রিকশা চলতাছে বইলাই তো বাইর হইছি।’
একজন হাত নেড়ে বলল, ‘ভাগ, শালা, খালি রিকশা নিয়া যা।'

এইবার শহীদ সাহেবকে নিয়ে পড়ল। ‘আঙ্কল, আস্‌সালামু আলাইকুম। কোথায় যাচ্ছেন এই সাত সকালে।’
শহীদ সাহেবের মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, ‘অফিস যাচ্ছি।’
‘আঙ্কল, সর্বনাশের কথা বললেন দেখি। হরতালে অফিস, কী সর্বনাশ!’
শহীদ সাহেব দুরুদুরু বুকে ভাবছিলেন; ছেলেগুলো শিক্ষিত। সম্ভবত ভার্সিটিতে পড়ে। এরা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বললে বুঝবে। কতই বা বয়স এদের, সুমির বয়সের হবে।
‘বাবারা, অফিসে না গেলে আমার চাকরি থাকবে না।’
‘আহারে। চাকরি না থাকলে ব্যবসা করবেন। বুড়া মানুষ- সাহস তো কম না রিকশায় ঠ্যাং তুলে অফিসে যান। হাতে ওটা কি টিফিন বক্স? দেখি দেখি, এই খোল তো- ওয়াও, পরোটা ডিম।’ নিমিষে ভাগাভাগি করে এরা পশুর মতো চিবুতে লাগল।
একজন ঢেকুর তুলে বলল, ‘আঙ্কল, সার্টটা খুলেন।’

শহীদ সাহেব বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন। এইবার সত্যি সত্যি ভয় পেলেন। এখন এদেরকে খানিকটা বুঝতে পারছেন- এরা তাকে নিয়ে একটা মজার খেলা খেলতে চাচ্ছে। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘বাবারা, আমাকে যেতে দাও। বাসায় চলে যাব।’
‘না-না আঙ্কল, আপনাকে অফিসে যেতে হবে যে কিন্তু আঙ্কল আপনার তো অফিসের পোষাক তো ঠিক নাই। খুলেন-খুলেন, সার্টটা খুলেন ফেলেন।’
শহীদ সাহেব দেরি করছেন দেখে একজন ফড়ফড় করে পকেট ছিঁড়ে ফেলল। যেন কাঠের স্তুপে আগুন ধরাবার বাকি ছিল। কাপড় ছেঁড়ার শব্দে সবার মধ্যে একটা মাদকতা সৃষ্টি হলো। একসময় শহীদ সাহেবের গায়ে একটা সুতোও রইল না।

তিনি কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। বোধ শক্তি সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে।
ঝকঝকে দিন- গাঢ় নীল আকাশ- চারপাশের অতি ব্যস্ত মানবসন্তান- ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ, সব কেমন দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি দু-হাত ছড়িয়ে অবিকল ভিক্ষুকের গলায় বলছেন: আল্লার ওয়াস্তে আমারে একটা কাপড় দেন।"

 
*ছবিঋণ: ডেইলি স্টার। (আমি ডেইলি স্টারেই দেখেছিলাম কিন্তু তখন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব হয়নি। অনেক খুজেঁও পাচ্ছিলাম না- পরে এই সূত্রে একটা নিউজপ্রিন্ট পত্রিকা ছাপিয়েছিল। পুরনো ওই কাগজের অবস্থা তখন যা-তা।)

**লেখাঋণ: 'কয়েদী' (২০০৫) বইটির এই অংশটুকু লেখার উত্স এই ছবিটি। এই ছবিটা অনেকদিন আমাকে তাড়া করত। এই ছবিতে পশুমানব নামের এমন একজন মানুষ আছেন যিনি পরবর্তীতে বিটিভি'র একজন দুঁদে উপস্থাপক হয়ে লম্বা লম্বা বাতচিত করতেন। ভাগ্যিস, এই মানুষটার মত শিক্ষিত হতে পারিনি। বড় বাঁচা বেঁচে গেছি!


***কয়েদী: ১

****কয়েদী বইটির সমালোচনা করেছিলেন আনোয়ার সাদাত শিমুল। ভাল ভাল কথা লিখেছেন বলেই না, তিনি লেখাটার মূল সুরটা চমৎকার করে ধরতে পেরেছিলেন বলে এটা আমার পছন্দের লেখা। 
"আমরা যখন কয়েদী এ গ্রহের সবচেয়ে বড় কারাগারের খবর পেয়েছিলাম আগেই। কিন্তু এবার যখন 'কয়েদী' পড়া শুরু করলাম তখন ক্রমান্বয়ে তিন পাশে গজিয়ে উঠে অক্ষমতার দেয়াল আর অন্যপাশে বাধা দেয় কষ্ট ও ক্ষোভের কপাট। গৌরবময় ইতিহাসের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ যখন হরতাল নামক দানবের হিংস্র ছোবলের শিকার তখন নিষ্ঠুরভাবে দেশটির ১৪ কোটি মানুষ বন্দী হয় অদ্ভুত এক কারাগারে। এ কারাগারের পাঁচটি সেলের গল্প উঠে এসেছে আমাদের ব্লগার শুভ'র 'কয়েদী' উপন্যাসে। প্রথম সেলে আমরা দেখি - গার্মেন্টস মালিক জামিল আহমেদ এবং তার জাপানীজ বায়ার রিউনোসুকে আকুতাগাওয়ার গল্প। টানা অসহযোগ আন্দোলনের ফাঁদে ফ্যাক্টরী বন্ধ, শ্রমিকদের জীবন অনিশ্চিত। বৈরী পরিস্থিতিতে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ে আকুতাগাওয়া। জামিল আহমেদ হারায় প্রসপেক্টিভ বিজনেস ডিল। তবে আকুতাগাওয়ার রেখে যাওয়া চিঠি ছুঁড়ে দেয় অনেকগুলো প্রশ্ন। দেশপ্রেমের অসহায় বোধ প্রকট হয়ে উঠে।
দ্বিতীয় সেলে রয়েছে মরণাপন্ন মায়ের মুখ শেষবারের মতো না দেখার যন্ত্রণায় সন্তানের করূণ কান্না। অসুস্থ মা'কে ঢাকা দেখতে যাওয়ার পথে সাকিবের ট্রেন আঁটকা পড়ে আখাউড়া জংশনে। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সাতদিন বন্দী থাকে রেলের কামরায়। কয়েদী জীবনের উপায়হীন হাহাকার তখন কেবলই শুন্যে প্রকম্পিত হয়।
তবুও কয়েদী জীবন উপভোগ করে কেউ কেউ। তৃতীয় সেলে আমরা দেখি, হরতালের অখন্ড অবসরে একজন লেখক আনমনে লিখে যাচ্ছেন। দেশের ক্ষতি তাকে ভাবাচ্ছে না। 'পাঠক খাওয়ানো' রাজনৈতিক উপন্যাস লিখতে ব্যস্ত তিনি। ...এ অংশে 'কয়েদী'-র পাঠক খানিকটা খেই হারাতে পারে। তবে একটু ধৈর্য্য নিয়ে পরের সেলে তাকাতেই চোখে পড়বে - হরতাল দানবের আরেকটি কুৎসিত আঁচড়; অফিসগামী শহীদ সাহেবকে বিবস্ত্র করছে সন্তান-বয়েসী পিকেটাররা। মিরর অব দ্য সোসাইটির অভিজ্ঞ রাঁধুনির ক্যামেরা তখন ক্লিক ক্লিক ছবি তুলে যায়। এটুকু পড়ে পাঠক বিবেক কুঁকড়ে যায় অক্ষমতার যাতনায়। অনেকগুলো তীর এসে মূল্যবোধের ঘরে হানা দেয়।
উপন্যাসের শেষ অংশে আমরা দেখি - অসুস্থ দশ মাসের শিশুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাচ্ছে শাহেদ-ফারা দম্পতি। তিন ঘন্টার রাস্তায় মোড়ে মোড়ে হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকে হরতাল দানব। দানবের মেদ জমা শরীরের ফাঁক-ফোকর পেরিয়ে খানিকটা এগুলেও গন্তব্যে পৌঁছা যায় না। ...পিকেটাররা উৎসব করে ভাঙছে শাহেদের গাড়ী!
'কয়েদী' পড়ে প্রথমে মনে হতে পারে ঘটনাগুলো সম্পর্কহীন-বিক্ষিপ্ত। অমনটিই স্বাভাবিক। কয়েদখানার সেলগুলোয় পাশাপাশি থেকেও কোন যোগসূত্র স্থাপিত হয় না, অথচ খুব কাছাকাছি অবস্থান সবার। ঠিক তেমনি জামিল আহমেদ, সাকিব, লেখক, শহীদ সাহেব কিংবা শাহেদ - এরা আমাদেরই আশেপাশের মানুষ। হয়তো তাদের পাশের সেলে বাস করছি আমি-আপনি এবং আমরা। হরতাল প্রেক্ষিতে আমাদের এক একটি নিজস্ব গল্প পূরণ করে দেয় 'কয়েদী' কাহিনীর শুন্যতাগুলো!
'কয়েদী' সম্ভবত: বাংলাদেশে হরতাল নিয়ে লেখা একমাত্র উপন্যাস। বিবেক নাড়া দেয়া বইটি প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী।"

Sunday, February 15, 2009

স্বপ্ন বিক্রি করবো- ফেরীওয়ালা হবো!

এই পোড়া দেশে লেখালেখি করে ভাতের পয়সা দূরের কথা, রুটিও মিলবে কিনা সন্দেহ! ঘাস, হাওয়া খেয়ে তো আর দিন চলে না। আশেপাশের সবাই ধাঁ করে বড়ো হয়ে যাচ্ছে! আমিই শালার যেই কে সেই রয়ে গেলাম- যেই লাউ সেই কদু!
এই দেশে কেমন কেমন করে যেন একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছে, যারা লেখালেখি করেন এরা অন্য ভুবন থেকে আসেন। এদের কিছু না খেলেও চলে- কপকপ করে চাঁদের আলো খেলেই চলে। এরা লেংটি পড়ে দেশউদ্ধার করবেন।

মার খাওয়ার পর এবার ঠিক করেছি নতুন একটা ব্যবসায় নামব। কি যে ব্যবসা করব, আগামাথা পাচ্ছি না! এমন একটা ব্যবসায় হাত দেব যেন নতুন কিছু একটা হয়, অনায়াসে পয়সা আসে!
দেখি, মার্কেট রিসার্চ কী রেজাল্ট দেয়!

আচ্ছা, আপনারা যারা প্রবাসে থাকেন, তারা কি আমাকে একটু সহায়তা করতে পারেন? না-না, টাকা-পয়সা দিতে হবে না, আইডিয়া দিয়ে। আপনারা তো হিল্লী দিল্লী চষে বেড়ান, আপনাদের তো অনেক বুদ্ধি! আপনারা দেশ থেকে যাওয়ার সময় হাবিজাবি অনেক কিছুই তো নিয়ে যান, যার যেটা ভাল লাগে বা দেশ থেকে প্রিয় মানুষরা যা গছিয়ে দেন।

আমি এইসব প্রডাক্ট বেচবো না। আমি বেচবো স্বপ্ন। কিন্তু ঝামেলা আছে। সারা রাত স্বপ্ন দেখি অথচ বিজ্ঞানীরা বলেন, এটা আসলে কয়েক সেকেন্ডের মামলা। ইস, বললেই হলো, বিজ্ঞানী হয়েছেন বলে মাথা কিনে নিয়েছেন! আরও ঝামেলা আছে। স্বপ্ন তো আর লাড্ডু না, প্যাকেট করে বেচে ফেললাম!

আমি এটার ফরম্যাটটা একটু বদলে ফেলব। আমি মিনারেল মাটি বেচবো। একদম ধান ক্ষেত থেকে নিয়ে আসা মাটি। এক প্যাকেটে এই দেশের এক মুঠো মাটি!
প্রবাসে যারা থাকেন, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো এই জিনিসটা কি আছে আপনাদের কাছে- থাকলে সর্বনাশ, আমার ব্যবসা লাটে উঠবে!

আচ্ছা, কেমন হবে বলেন তো। আপনারা যারা প্রবাসে থাকেন, চকচকে একটা কাঁচের জারে দেশের একমুঠো রেখে দিলেন। ওই দেশের কেউ এসে যখন খা খি খু, চ্যাং চু চু, মুশি মুশি করে কিচিরমিচির করে জানতে চাইবে, জিনিসটা কি! তখন আপনি অহংকারী হাসি হেসে বলবেন, এটা আমার দেশের মাটি!

অথবা ধরুন, আপনার মনটা ভারী বিষণ্ন, আপনি জাস্ট কাঁচের জারটা খুলে একটু পানি ছিটিয়ে দিলেন, মাটির সোঁদা গন্ধে বুকটা ভরে গেল! বা ধরুন, কোন শিশুর জন্ম হলো, খানিকটা মাটি তার মাথায় মাখিয়ে দিলেন!
কি বলেন, বাডি, এই ব্যবসাটা কেমন হয়! চলবে না, নাকি লাটে উঠবে? আচ্ছা, এই ব্যবসাটা করলে কেমন হয়?

Saturday, February 14, 2009

স্যার, কোথায় গেলে আপনার খোঁজ পাব, যাদুঘরে?

এই পোড়া দেশে আমার ভাল লাগার মত মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। আমার অসম্ভব পছন্দের একজন মানুষ।

ছোটখাট শিশুর মত মানুষটা। ভারি সাদাসিধে জীবন-যাপন ছিল তাঁর। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও দু'টা স্যুট পরে কাটিয়ে দিয়েছিলেন বছরের-পর-বছর। এই মানুষটার কাজ-কারবারের অল্প কিছু নমুনা:
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ, তাঁকে নিয়ে এক ভিত্তিহীন খবরের প্রতিবাদে মানহানীর মামলা করেছিলেন, ফৌজদারী-দেওয়ানী আদালতে না, প্রেস কাউন্সিলে।
ভাবা যায়, এমন চল যে আমাদের দেশে আর নাই! 


দায়িত্বে থাকার সময় (বঙ্গভবনে) প্রবাসী পুত্রের সঙ্গে কথা বলার কারণে টেলিফোনের বিল আলাদা রাখার জন্য নির্দেশ দেন এবং এটা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর নিজ বেতন থেকে পরিশোধ করেন। 
টেলিভিশনে প্রচারিত তাঁর ভাষণের অংশগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড করিয়ে দেয়ার জন্য টিভি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। দেশের এক নম্বর ব্যক্তির কাছ থেকে এহেন অনুরোধ পেয়ে টিভি কর্তৃপক্ষ যখন উচ্ছ্বসিত তখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন এ বাবত কি পরিমাণ খরচ হয়েছে এটা জানতে চান। এবং সেটার বিল পাঠাতে বলে তাদের উচ্ছ্বাসে পানি ঢেলে দেন। কর্তৃপক্ষ প্রথমে গা করেন না- খরচের এই যত্সামান্য বিল তাঁর নামে না-পাঠালে মহারাগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হন তাঁর নামে বিল পাঠাতে।
 
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বারবার বলছিলেন, যথাসময়ে তিনি তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, কালবিলম্ব করবেন না। এই নিয়ে তখন দেশের পন্ডিতরা কষে ভদ্রস্থ গালি দিচ্ছিলেন, এটা বলার পেছনে নাকি তাঁর মনে কু আছে। কিন্তু ঠিকই তিনি বিন্দুমাত্র কালক্ষেপন করেননি! এ চলও আমাদের দেশে নেই!
 
প্রথমবার ক্ষমতার শীর্ষে থেকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পর সাংবাদিকরা তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন:
'আহ, এবার অন্তত আরাম করে সিঙ্গারা খাওয়া যাবে'।
শোনো কথা! মানুষটা সিঙ্গারা খুব পছন্দ করতেন কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ধরে চলতে হয় বলে বঙ্গভবনের ডাক্তারের বারণ ছিল। এহেন পদে থেকে এটা উপেক্ষা করার উপায় নেই!
 
কিন্তু... প্রবল অনুরোধ উপেক্ষা করতে না-পেরে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি ক্রমশ আওয়ামীলীগের খপ্পরে পড়ে যান। কালে-কালে তিনি একটা পুতুলে পরিণত হন। আফসোস, অদৃশ্য শ্যাওলা জড়িয়ে যায় এই ভাল মানুষটার গায়ে...!
 
মানুষটার খোঁজ রাখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে আজ আমাদের!

*লেখাটা 'সাদাকে কালো বলিব' (আলী মাহমেদ) বই থেকে:
**স্কেচ: (আসলে ডুডল: আঁকাআঁকির অর্থহীন অপ-চেষ্টা। আহা, বিকলাঙ্গ হলেও নিজের সন্তান যে।)

***স্কেচস্বত্ব: সংরক্ষিত 

গরিব দেশে ধনী ভাবনা- 'গরিবারোগ'

ব্রিটিশ আমলের এই রেলের বাংলো টাইপের কোয়ার্টারগুলো দেখে এখনও মনটা অন্য রকম হয়। (নানার রেলে চাকুরিরসূত্রে এমন একটা রেল-বাড়ির সঙ্গে আমার অনেকখানি স্মৃতি মাখামাখি হয়ে ছিল। ওটা কী এখনো আছে নাকি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে জানি না। কী রোবটই না হয়েছি, কাজে-অকাজে বেলা বয়ে যায় অথচ খোঁজ নেয়া আর হয়ে উঠে না!)

ব্রিটিশ আমলের এই স্থাপত্যগুলো অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে, প্রায় বসবাস অযোগ্য। এখন শুনতে পাই, এইসব স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে নাকি হাল-ফ্যাশনের কোয়ার্টার করা হবে।

হে আমার দরিদ্র দেশ, তোমার কাছে আমার দাবীটা খুব সামান্য। অন্তত এমন একটা স্থাপনা কী অক্ষত রেখে দেয়া যায়?
অন্তত পরবর্তী প্রজন্মকে যেন আমরা বলতে পারি, ব্যাটারে, বুঝলি, এইটা না...বুঝলি...শীতের দিনে ইংরেজ সাহেবরা আগুন জ্বালাত। এইটা না ফায়ার-প্লেস; ওটা না চিমনি, ওইটা দিয়ে ধোঁয়া বের হত, ...গলগল করে বুঝলি রে, ব্যাটা...।
ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত

Friday, February 13, 2009

ভালবাসাবাসি দিবসে: তবুও ভালবাসি কুত্সিত এ গ্রহটাকে!

আকাশের গোটা চাঁদ না, ধরতে চেয়েছিলাম একফালি জ্যোত্স্না-
মুঠোয় নিকষ অন্ধকার- হা ঈশ্বর, আমি আমাকেই দেখতে পাচ্ছি না।