Tuesday, December 6, 2011

হাসপাতাল পর্ব, সাত: সম্ভাব্য খুনি!

অপারেশন সফল হয়েছে। যে রোগীর ওটিতেই মৃত্যুবরণ করার কথা সেই রোগী ফিরে এসেছে বেঁচেবর্তে এর চেয়ে মিরাকল, আনন্দের আর কী হতে পারে। আমাদের সবার চোখেই বিস্ময় থইথই করছিল।

কিন্তু, একটা কিন্তু আমাকে ভাবাচ্ছিল। একটা টিউমার...!

কাটাকুটি করা হয়েছে উপরের অংশে, খাবারের অবশিষ্টাংশ বের হওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও করে দেয়া হয়েছে। মাস তিনেক এই ব্যবস্থা চলবে। এরপর আবারও একটা অপারেশনের প্রয়োজন হবে। তখন বিকল্প ব্যবস্থাটা সরিয়ে ফেলা হবে। এর কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ জোড়াগুলোর সেলাই খুলে আসার সম্ভাবনা। আর্থাইটিসের সমস্যায় পূর্বে এমন কিছু ওষুধ খেতে হয়েছে ওইসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলা। যথারীতি সেলাই শুকাবার সম্ভাবনা কমে যাওয়া।
সেলাই খুলে আসলে এতে ফল হতো ভয়াবহ। কারণ তখন পেটের ভেতরে খাবারের অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে পড়ত। 

যে অংশটুকুতে ওনার সমস্যা ছিল এই অংশটুকু ঠিকঠাক করা হয়েছে। কিন্তু নীচের অংশে টিউমার পাওয়া গেছে। যার কথা ঘুণাক্ষরেও আমরা কেউ জানি না। আমরা বলতে আমি ছলিমু্ল্লা-কলিমুল্লা না। ডাক্তাররা কেউ জানেন না। ডাক্তাররা সব জানবেন এটা কেউ বলছে না কারণ এঁরা ত্রিকালদর্শী না। কিন্তু ডাক্তারদের এইসব জানার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে। এর এখন আর লন্ডন-আমেরিকা যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের দেশেই সুলভে অনেক উপায় আছে।

যাই হোক, ওই টিউমারটা, যেটায় আপাতত হাত দেয়া হয়নি- সত্যি বলতে কী ওটা নিয়ে মাথা ঘামাবার মত সময় ছিল না! এমনিতেই এই অপারেশনের জটিলতার শেষ ছিল না, তারউপর ঝাড়া চার ঘন্টা লেগেছিল!
স্থির হলো, তিনমাস পর যখন বিকল্প ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হবে তখন টিউমারটা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে। আপাতত ওই টিউমারের বায়োপসি করার জন্য দেয়া হয়েছে। এটা দেখা হয় মূলত ক্যান্সারের লক্ষণ খোঁজার জন্য।

আমার পরিচিত প্রায় সবাই জানেন, আমার ব্রেন নামের জিনিসটা তেমন নাই। এই নিয়ে বিস্তর হাসাহাসিও হয়। তাই বলে আমার এক চামচের সমান ব্রেনও নাই এটা বলা চলে না। এটা যে বলবে তার সঙ্গে আমি একমত না। ওই অল্প গ্রে-মেটার নিয়ে আমি ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না কেন ডাক্তাররা এই টিউমারের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। কারণ দু-মাস পূর্বে আমার মার যে কলোনস্কপি করা হয়েছিল তখনও এই টিউমারের বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ বলা হয়নি। পূর্বের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম [১], তখন যিনি কলোনস্কিপি করেছিলেন, ডাঃ তৌহিদুল আলম তিনি উল্লেখ করেছিলেন, স্রেফ আলসার। তিনি মন্তব্যে লিখেছিলেন:
"...Findings consistent with ulcerative colitis." (21 aug, 2011) 

এই ক-মাস মার চিকিৎসা হয়েছে আলসারের উপর ভিক্তি করে। একবারও তাদের মাথায় কেন এলো না, পেটের একটা সিটি-স্ক্যান দেই? আমার মা দিনের পর দিন আলসারের ওষুধ খেয়ে গেছেন, আমরা আশায় বুক বেঁধেছি ক্রমশ তিনি ঠিক হয়ে যাবেন। অহেতুক দেরী হয়ে গেল...।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ওই সময় পর্যন্ত টিউমারটার অস্তিত্ব দেখার মত ছিল না। কিন্তু...। এই অপারেশনের ঠিক আগের দিনও ডাঃ তৌহিদুল আলম আরেকটা শর্ট কলোনস্কপি করেছিলেন যেখানে তিনি মন্তব্য করেছেন,
"There are multiple ulcers seen...Findings consistent with sigmoid volvolous. (09 Nov, 2011)
'sigmoid volvolous', সোজা কথায় নাড়ি প্যাচ খেয়ে যাওয়া। এবং এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি একটা এক্স-রেও দিয়েছিলেন।

তিনি তখনও ওই টিউমারটার সম্বন্ধে ঘুণাক্ষরেও কিছু বলেননি! কেন? কলোনস্কপি করাই তো হয় যেটা চোখে দেখা সম্ভব হয় না যেটা দেখার জন্য। তাহলে তিনি এই টিউমারটা সম্বন্ধে অবগত ছিলেন না কেন! আমি আমার অল্প জ্ঞানে যেটা বুঝি, মোটা দাগে বললে বিষয়টা এমন, কেউ ট্রেনে করে ঢাকা গেছেন, কমলাপুর স্টেশনে নেমেছেন কিন্তু তিনি কমলাপুর স্টেশন দেখেননি, এমন!
দু-দুবার কলোনস্কপি করার পরও এই ডাক্তার সাহেব কেন এই টিউমারটার বিষয়ে অবগত হলেন না! তিনি কী তখন টিস্যু পেপারে থিসিস লিখছিলেন? sigmoid volvolous টাইপের একটা বিষয় ডাক্তারের বেলায়ও ঘটেছিল, ভদ্রলোকের গ্রে-মেটার সব তার রেকটামে চলে এসেছিল! নাকি নেচে নেচে গুকে কেন গু [২] বলা হবে না কেন এই নিয়ে একটি জটিল প্রতিবেদন লিখছিলেন?

কিছু ডাক্তারকে আমি এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁরা মুখ খুলতে চাননি। এটা-সেটা বলে আমাকে এড়িয়ে গেছেন। তাঁরা হয়তো কাক-ফর্মুলায় বিশ্বাসী! কাক নাকি কাকের মাংস খায় না- এটা শোনা কথা, এই বিষয়ে কাকদের সঙ্গে আমার বাতচিত হয়নি। তেমনি ডাক্তাররাও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বলতে চান না। যেমন একজন লেখক অন্য একজন লেখকের নিয়ে লিখতে চান না। সুযোগ পেলেই একে অন্যের পিঠ চুলকে দেন। এর চমৎকার একটা উদাহরণ হুমায়ূন আহমেদ এবং ইমদাদুল হক মিলন।

কেবল খুন করলেই দুম করে খুনি বলে ফেলা সহজ। পরোক্ষ খুনও হয়। যেমনটা করেছিলেন খবিরনের প্রতি ডাক্তার। বেচারা খবিরন গর্ভযন্ত্রণা সহ্য করতে না-পেরে ওভারব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। যেটা নিয়ে আমি পূর্বের এক লেখায় লিখেছিলাম, 'ডাক্তার নামের খুনিটার বিচার হবে না' [৩]? যথারীতি এই সব খুনি থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে!

আমার মা জটিল অপারেশন থেকে বেঁচে ফিরে এসেছেন কিন্তু খোদানাখাস্তা তাঁর মৃত্যু হলে সম্ভাব্য এই খুনিটার, তৌহিদুল আলম নামের ডাক্তারটার বিচার চাইব কার কাছে?

*হাসপাতাল পর্ব, ছয়: রক্তের দাগ: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_05.html

**সবগুলো পর্ব: http://tinyurl.com/boya6xk

সহায়ক সূত্র:
১. কলোনস্কপি...: http://www.ali-mahmed.com/2011/11/blog-post.html
২. গু-ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_27.html
৩. ডাক্তার নামেন খুনিটা...: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_24.html        

4 comments:

Sahed said...

Ali bhai, mamla kore den

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

আমাদের দেশের মামলা-মোকদ্দমা সম্বন্ধে কী আপনার ন্যূনতম ধারণাও আছে?
আমাদের দেশের মামলা হচ্ছে মাকড়শা জালের মত। যে একবার এই জালে আটকা পড়েছে তার আর বেরুবার উপায় থাকে না...@Sahed

Omio Ujjal said...

মামলা করে কাজ নেই। এর চে বরং উপরওয়ালার কাছে বিচার দেন। অবশ্য উপরওয়ালা তৌহিদ সাহেবদের দু হাত খুলে দিতেই বেশী পছন্দ করেন। সেইটাই সমস্যা। উপরওয়ালার ও যদি একজন উপরওয়ালা থাকতো। এটলিস্ট একটা জবাবদিহিতার ব্যবস্থা। বা ধরেন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যদি মামলা করে দেওয়া যেত......। তাহলে হয়তো কিছু মানুষ নিজেদের ঈশ্বর ভাবার সুযোগ বা উৎসাহ পেত না।

।আলী মাহমেদ। ali mahmed । said...

"বা ধরেন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যদি মামলা করে দেওয়া যেত..."
ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও কিন্তু মামলা হয়েছিল কিন্তু ঈশ্বর বেঁচে গেলেন! কারণ মামলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, প্রতিপক্ষের প্রতি সমন জারী করতে হয়, মোদ্ধা কথা, মামলার বিষয়টা তাকে জানানো আবশ্যক। কিন্তু সমন জারী করার জন্য ঈশ্বরের কোন আবাসিক ঠিকানা পাওয়া গেল না বিধায় মামলা ডিসমিস হয়ে গেল:
http://www.ali-mahmed.com/2010/12/blog-post_04.html