Search

Tuesday, July 1, 2014

ব্যাখ্যাহীন দেশ্রপ্রেম ও রোশেনারা



আজকের অতিথি লেখক সাব্বির হোসাইন (https://www.facebook.com/sabbirhossain.uni)। রওশন আরাকে নিয়ে তথ্যবহুল এক লেখা লিখেছেন:
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখতে যেয়ে আবিষ্কার করলাম, সে তালিকায় রোশেনারার (রওশন আরা) নাম নেই দু:খ পেলাম অথচ রোশেনারা যে কাজ করেছিলেন, তা কোন বীরশ্রেষ্ঠ থেকে কম নয় ইতিহাসে আমরা দুজন রোশেনারার (রওশন আরা) সম্পর্ক জানতে পারি

এক.
মুক্তিযোদ্ধারা ভারী অস্ত্র নিয়ে কিশোরী রোশেনারাদের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল রোশেনারাদের বাড়িতে অস্ত্র রেখেছিল, গ্রেনেড আর মাইন রোশেনারাকে খুব স্নেহ করতেন মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে রোশেনারা মাইন, গ্রেনেড সহ নানান অস্ত্র চালাতে শিখেছিল
মুক্তিযোদ্ধাদের কাছেই সে শুনেছিল, মাইন দিয়ে বড় বড় গাড়ি, বাড়ি ধ্বংস করা যায়
রাজাকারদের থেকে খবর পেয়ে এক পড়ন্ত দুপুরে রোশেনারাদের গ্রামে ট্যাংক নিয়ে পাকিস্তান বাহিনী আক্রমণ করে গ্রামে তখন মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন না, ওঁরা একটা অপারেশানে দূরে কোথাও গিয়েছিলেন
সারা গ্রাম পাকিরা লন্ড-ভন্ড করে মেয়েদের উঠোনে এনে সবার সামনে নির্যাতন করে কুকুর শিকারের মত বাঙালি মারতে থাকে এসব দেখে আর সহ্য হলো না রোশেনারার হঠাৎ কি থেকে যেন কি হয়ে গেল
ছোট্ট শুকনো একটা মেয়ে জয় বাঙলা বলে পাকিদের ট্যাংকের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়লো এরপর, বিকট শব্দ আর পাকিদের আর্তচিৎকার রোশেনারার আত্মঘাতী মাইন-আক্রমনে ধ্বংস হয়ে যায় পাকি ট্যাংক, লাশ হয় কুড়িজনের মত পাকি হায়েনা 

দুই.
২৫ মার্চের আগে থেকেই মুক্তির সংগ্রামের জন্য বাঙালি তরুণ-তরুণীরা গোপনে সামরিক প্রশিক্ষন নিচ্ছিল সেই দলের সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের রওশন আরা
২৫ মার্চ, ১৯৭১ এ শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সবচেয়ে বড় গণহত্যা পাকিরা গুলি করে, বেয়নেট চার্জ করে কুকুর মারার মত করে বাঙালি হত্যা করছে সেই রাতেই (২৬ মার্চ, প্রথম প্রহর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যাংক নিয়ে হামলা করে পাকি বাহিনী হঠাৎ করে দানব ট্যাংকের সামনে এসে পড়েন রওশন আরা
তাঁর বুকে মাইন বাঁধা জয় বাঙলা চিৎকার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ট্যাংকের নিচে মুহুর্তেই দলিত হয়ে গেল রওশন আরার দেহ আর বিকট বিস্ফোরন বাঙলার মাটিতে ধ্বংস হলো প্রথম পাকি ট্যাংক
... 
পাঠকের কাছে শুধু এই প্রশ্নটুকু রেখে যায়- কতটা দেশপ্রেম, দেশের প্রতি কতটা ভালোবাসা থাকলে একজন মানুষ পালিয়ে যেয়ে আত্মরক্ষার সুযোগ থাকা সত্বেও আত্মঘাতী হয়ে দেশের শত্রুবধে ব্রত হতে পারেন? দেশপ্রেমের সেই তলহীন গভীরতার কতটুকু আমরা স্পর্শ করতে পেরেছি
রোশেনারাকে (রওশন আরা) নিয়ে বেশ কিছু সাহিত্যও রচিত হয়েছিল

সামসুল হকের কবিতা
রোশেনারা
তোমার বয়স কতো, আঠারো উনিশ?
মুখশ্রী কেমন? রঙ চোখ চুল কী রকম? চলার ভঙ্গিমা?
ছিল কি বাগান, আর তোমার মল্লিকা বনে ধরেছিল কলি?
ছিলে তুমি কারো প্রতিমা?
জানি না 
না, জানি
পৃথিবীর সব মাস সব দিন তোমার হাতের মধ্যে এসে গিয়েছিল,
দুপুরের মতো মুখ, রৌদ্রদগ্ধ চোখ, পায়ে চৈত্রের বাতাস,
তোমার বাগানে- কলোনি স্বদেশে-
ধরেছিল সাড়ে সাত কোটি মল্লিকার কলি,
তুমি ছিলে মুক্তির প্রতিমা
ওই বুকে মাইন বেঁধে বলেছিলে-
জয় বাংলা- মানুষের স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক,
ট্যাঙ্কের ওপর ঝাঁপ দিতে দিতে বলেছিলে-
বর্বরতা এইভাবে মুছে যাক, ধ্বংস হোক সভ্যতার কীট
অন্তিমবারের মতো পথিকেরা পথে এসে দাঁড়িয়েছে, আকাশে উঠেছে ধ্রুবতারা-
ধ্রুবতারা হয়ে গেছে মুক্তির জননী রোশেনারা"

প্রীতিশ নন্দীর কবিতা:
(মূল ইংরেজী রচনার অনুবাদ করেন শিশির ভট্টাচার্য্য; একাত্তরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত গঙ্গা থেকে বুড়িগঙ্গা সাময়ীকিতে ছাপা হয়)
একটি মেয়ের মৃত্যু
রোশেনারা মারা গেছে, মনে রেখো

নদীর মেয়ে রোশেনারা, প্রতিহিংসার সূর্য আমাদের, রাত্রির স্তরের ওপর তুষারীভূত দুটো চোখ
রোশেনারার শান্ত চোখদুটোর কথা মনে করো
এরপরও যদি তুমি হিংসার প্রসঙ্গ তোল
তবে আমি তোমাকে ওর চূর্ণ বিচূর্ণ বাহুদুটোর উচ্চারিত ভয়ঙ্কর প্রশ্নটির দিকেই দেখিয়ে দেব
আর তারপর ইবলিস যদি তোমার পথ প্রদর্শক হয়
তবে আমি সেই নীল নিঃস্তব্ধতার দিকেই তোমাকে এগিয়ে যেতে বলব
যা রাত্রির কামনা নিয়ে জ্বলতে থাকে
যখন লক্ষ লক্ষ কৃষ্ণাভ রক্তগোলাপ ওর চোখের সামনেই ঝরে যায়
মনে রেখো আজ রাতে রোশেনারা মারা গেছে
আর নিজের মরা চোখ দুটোই ওর সেই নীরবতা পালন করছে
দূরের গ্রামগুলো যখন বন্দুকের আওয়াজে শব্দিত হয়ে উঠবে
ওর খোঁপায় গোঁজা অঙ্গারীভূত লাইলাক ফুলটা রাতের জাফরিতে বুনে দেবে সাহস
সময়ের সেনানী-সবুজ রূপকথাগুলো রোশেনারার বরণ করা মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করবে না আর
একটা ট্যাঙ্ক একটা জীবনের সমান
হ্যাঁ রোশেনারা ওই দাম ওর
গ্রীষ্মের মূল্য ও শতলক্ষ নিহতের, পর্বতপ্রমাণ ধর্ষণ আর শঙ্খ চিলের মৃত্যুর
আর যদিও সাতটি রাত্রির পৈশাচিক ভীষণতা জুড়ে প্রাচীনতম নদীটি জ্বলছে
ভস্মীভূত বৃক্ষ আর নাপাম বোমাহত পাখিটা নীরবে অপেক্ষামান
যদিও তোমার অন্তহীন প্রশ্নগুলো চুয়াডাঙার জনহীন পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে
পাবনা মেশিনগানের গুলিতে ঝাঁঝরা
সিলেট প্রাণহীন
আর চট্টগ্রাম হলুদ-নদীর অপরপারে অপেক্ষামান
তবু মনে রেখো, রোশেনারা মারা গেছে
আর তার মৃত্যুই চূড়ান্ত

বাউল কবি অমর পালের দুটি গান
এক:
অনলাইনে শুনুন:
http://kiwi6.com/file/imj8hl5kpf
আকাশ কান্দে বাতাস কান্দে যেন মণিহারা,
কান্দিয়া কান্দিয়া অন্ধ হৈল চক্ষু তারা,
তোমার লাগি দেশ কান্দে ওগো রোশেনারা
যতদিন ঐ মাঠে মাঠে বুনবে সোনার ধান,
ততদিন ঐ মাঝির মুখের হৈয়া রইবে গান
তোমার নামে কান্দে ঐ বাউল একতারা,
তোমার লাগি দেশ কান্দে ওগো রোশেনারা
রক্তের অক্ষরে নাম লিখে গেছ হায়,
ঝড়ে জলে বৃষ্টিতে যে ও নাম মোছা দায়
কাহার ঘরের ঘরণী গো ছিলে কন্যা কার,
দেশের লোকে জানে তুমি মেয়ে যে বাংলার
আন্ধার পথের পথিকেরে দেখায়ো পথ শুকতারা,
তোমার লাগি দেশ কান্দে ওগো রোশেনারা

দুই:
অনলাইনে শুনুন:
http://kiwi6.com/file/us0tao48zy
তোরা দ্যাখ আসিয়া রে বাংলা যে হৈয়াছে স্বাধীন,
দুই রঙা যে পতাকা ওড়ে আসিল সুদিন
ও তার জমিনটা যে সবুজ দেশের মাটির কথা কয়,
মধ্যিখানে নতুন দিনের সূর্যের উদয়
শেখ মুজিবের সোনার বাংলা আনল নতুন দিন,
তোরা দ্যাখ আসিয়া রে বাংলা যে হৈয়াছে স্বাধীন
যে দেশেতে জন্ম নিল বীর মুজিব ভাই,
রক্ত দিল রোশেনারা যার তুলনা নাই,
প্রাণ দিয়া মান রেখে গেল রাম ও রহিম,
তোরা দ্যাখ আসিয়া রে বাংলা যে হৈয়াছে স্বাধীন
বাংলাদেশ যে হৈল স্বাধীন কররে এবার পণ,
দেশের তরে আপন স্বার্থ দিয়া বিসর্জন,
সেই পতাকা নবার উপর রাখরে চিরদিন,
তোরা দ্যাখ আসিয়া রে বাংলা যে হৈয়াছে স্বাধীন

সামরিক বাহিনীতে রোশেনারা:
একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর দুটি গোলন্দাজ ব্যাটারির একটি ছিল মুজিব ব্যাটারি এবং আরেকটি ছিল রওশন আরা ব্যাটারিট্যাংক ধ্বংসকারী রোশেনারার (রওশন আরা) প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর একটি গোলন্দাজ ব্যাটারীর নাম তাঁর নামানুসারে রাখা হয়
(সূত্র: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)

ঐতিহাসিকতার দ্বন্দ্ব:
রোশেনারা (রওশন আরা) চরিত্রটির ঐতিহাসিকতা নিয়ে বেশ কিছু বির্তক আছেস্বাধীন বাংলা বেতারের নুরজাহান মাযহারের মতে, চরিত্রটি বাস্তবে ছিল নুরজাহান মাযহারের কাছে অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধার আসল পরিচয় দেয়ার জন্য আমরা ঋণী
রোশেনারা চরিত্রটি সম্পর্কে চার ধরণের মতামত প্রচলিত আছে:
০১. রোশেনারা চরিত্রটি সামরিক কৌশল হিসেবে ভারতীয় বেতারের সৃষ্টি
০২. এম আর আখতার মুকুলের সৃষ্টি
০৩. আহমেদ সফার সৃষ্টি
০৪. চরিত্রটি বাস্তবে ছিলেন

স্বাধীনতার সাড়ে তিন দশক পর রোশনারা চরিত্র সম্পর্কে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে অগ্রজদের লেখা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা, মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাসবর্ণনের উপর নির্ভর করতে হয়েছেইতিহাস যাচাইয়ের প্রামাণ্য নিয়ম অনুসারে শেষ মতটি বেশি গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নিলাম কারন, এই সংক্রান্ত সবচেয়ে পুরাতন দলিলটি হলো, নূরজাহান মাযহারের মুক্তিযুদ্ধ কথিকা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রকাশিত নারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর পুস্তিকা; দুটো বইতেই নুরজাহান মাযহারকে বাস্তবের চরিত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে

নূরজাহান মাযহার রোশেনারার (রওশন আরা) ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন নাকি ওঁনার কথা শুনেছিলেন, এই বিষয়ে কোন বর্ণনা কথিকায় নেইতাঁর লেখা মুক্তিযুদ্ধ কথিকায় রোশেনারার বীরত্ব বর্ণনার সময় প্রীতি রানী পুরকায়স্থর নারী মুক্তি ফৌজের কথা উল্লেখ করা হয়এই হিসেবে রোশেনারার বাড়ি সম্ভবত সিলেট অঞ্চলে (আরো স্পষ্টত সুনামগঞ্জ)

রওশন আরার কোন পূর্বপরিচয় জানা যায়নি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর একটি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছিলসেই পুস্তিকায় ঘটনা- দুইয়ের বর্ণনা পাওয়া যায়এই পুস্তিকায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে একটি বাহিনী গঠনের কথা উল্লেখ আছেরওশন আরাকে এই বাহিনীর সদস্য উল্লেখ করা হয় সম্ভবতএই একই বাহিনীর কথা ষোলখন্ডে প্রস্তুতকৃত স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রে উল্লেখ আছে

২০১৩ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে নারী মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলামওই অনুষ্ঠানে পাবনার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রোশেনারার (রওশন আরা) বীরত্বের বর্ণনা করেনএই একই অনুষ্ঠানে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একাত্তরে তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি নারী মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীর কথা বলেন এবং তিনিও রোশেনারাকে (রওশন আরা) নিয়ে বীরত্বের বর্ণনা করেন

একটি কথা না বললেই নয়, এই লেখাটি মূলত রোশেনারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা রোশেনারা সম্পর্কে একটি বর্ণনামূলক লেখারোশেনারা মিথ নাকি বাস্তবতা, তা প্রমাণ করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়রোশেনারা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যে দুইটি বইতে পাওয়া যায়, তার দুটোই রোশেনারাকে বাস্তবের একটি চরিত্র বলে অভিহিত করছে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের মতামতটুকু গ্রহণ করেছি

তথ্যসূত্র:
০১ মুক্তিযুদ্ধ কথিকা, নূরজাহান মাযহার
০২ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের উপর একটি পুস্তিকা
*রোশেনারার (রওশন আরা) উপর রচিত কবিতা, গান ও গানের অডিও সহ তথ্য দিয়ে এবং নানানভাবে বিশেষ সহযোগীতা করেছেন: শ্রদ্ধেয় এমএমআর জালাল ভাই

Monday, June 30, 2014

বে-নজির!



আমাদের দেশের মত দেশ এই দুনিয়ার আর কুকখানে-ও নাই। ভাবতে ভালই লাগে...।
স্বভাবতই এই তালিকা থেকে অন্য গ্রহকে বাদ রাখা হয়েছে। ভিনগ্রহের কথা আমাদের জানা নেই কারণ ওখানে গেলে ফেরার কোনও উপায় নেই বলে কারও যাওয়া হয় না!

পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় বলেছে, দুনিয়ার কোথাও ছুটির দিনে চিকিৎসক পাওয়া যায় না, কেউ মরে গেলেও চিকিৎসক আসেন না।কিন্তু বাংলাদেশের হাসাতালে ছুটির দিনেও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকে।

বাংলাদেশের হাসাতালে ছুটির দিনেও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকে এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার কোনও দেশেই, কোথাও ছুটির দিনে চিকিৎসাসেবা চালু থাকে না। এমন এক অতি আনন্দের সংবাদ জেনে আমার এক চেখে পানি অন্য চোখে জল- জলপানি! যেন অনেকটা এমন ড্রেনে বয়ে যায় নদী কলবল।
দুনিয়ায় সমস্ত দেশের খবর দূরের কথা দুনিয়ায় দেশ আছে কয়টা এটাই তো আমি জানিনে ছাই! বাচোঁয়া, মন্ত্রী মহোদয় ঠিক-ঠিক জানেন।
জানি এটা অহেতুক, তবুও... দেশের বাইরে বসবাসরত আমার বন্ধু, ভাই-বেরাদর সবার প্রতি আকুল আবেদন ছুটির দিনে ওই সমস্ত দেশে কী চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নাই, সত্যি নাকি? তাহলে কী ছুটির দিন আপনাদের অসুস্থ হওয়ার নয়ম নাই! অসুস্থ হলে আপনাদের গতি কী! বাপু রে, একটাই জীবন আপনাদের, ছুটির দিনে মরলে তো আর বাঁচবেন না!

এমনিতে আমাদের দেশের শক্তিশালী মানুষরা ফট করে বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে আমোদিত হন। কিন্তু...। নাসিম সাহেব যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি ছোট্ট একটা জায়গায় (আমি যেখানে থাকি) ফায়ার ফাইটিং স্টেশন ওরফে ফায়ার বিগ্রেড অফিস উদ্বোধন করার জন্য চলে এসেছিলেন। তাও হেলিকপ্টারে করে উড়ে!
দুনিয়ার কোনও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অখ্যাত একটা জায়গার আগুন নেভাবার অফিস উদ্বোধন করতে উড়ে চলে আসেন এমনটাও আমার জানা নেই।

Sunday, June 29, 2014

যেদিন মরব আমি।



মৃত্যু নিয়ে অনেকের অনেক বায়নাক্কা থাকে। কেউ-কেউ জ্যোৎস্না রাত ব্যতীত মরতে চান না। জ্যোৎস্না না-হলে চাঁদপানে পা তুলে নাক-মুখ চেপে শ্বাস আটকে রাখেন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতেই চান না। কেননা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে ফিরিয়ে নেওয়ার বিশেষ সুবিধা নাই!

আমার এই সব চোচলামি নাই।েএকটা হলেই হলো। তবে, ডায়েরিয়ায় মরতে চাই না। ডায়েরিয়ায় মৃত্যু... । ছি, মরণ!
আর অঝোর বৃষ্টিতেও মরতে চাই না। কারণ...।
যেদিন মরব আমি, সেদিন কী বার হবে?
বলা মুশকিল।
শুক্রবার, বুধবার? শনিবার? নাকি রবিবার
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে। সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা বড়ো বিরক্ত হবেন।...
(শামসুর রাহমান)
*লেখাটার শিরোনাম শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে নেওয়া।

Tuesday, June 24, 2014

রওশন আরা: বাস্তবকে ছাড়িয়ে যায় কল্পনা!


এমনিতে একটা শিশু সারাটা দিন বকে মরে কিন্তু কেউ যখন বলে, বাবু, এটা বলো তো। বাবু চুপ। মুখে রা নেই!
আমার অবস্থাটাও তেমনই। মন বসে গেলে আমি তর তর করে লিখে যেতে পারি কিন্তু যেই-মাত্র কেউ বলল, এটা নিয়েেএকটু লেখেন তো। ব্যস, কলম হালের কী-বোর্ড চিবিয়ে ফেললেও একটা অক্ষরও বের হয় না, দুম করে কামান দেগে দিলেও! কী আর করা, এই গুণ আমার নেই! তাই বলে তো আর বেচারা আমাকে ইলেকট্রিক পোলে ঝুলিয়ে দেওয়া চলে না। এই নিয়ে অনেকে অহেতুক আমার উপর রাগ করে থাকেন।

এখানে ব্যতিক্রম হলো। এমন একজন অনুরোধ করেছিলেন যিনি হচ্ছেন সেই মানুষ- আমাকে এই গ্রহে যে অল্প কিছু মানুষ বিচিত্র কারণে পছন্দ করে তিনি তাদের একজন। তাছাড়া বিষয়টা আমাকে অসম্ভব আগ্রহীও করে তুলেছিল।

তিনি যে প্রসঙ্গটা বলেছিলেন। ১৯৭১ সালে রওশন আরা নামের একজন বুকে মাইন বেঁধে পাকিস্তানি ট্যাংক উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সঙ্গে নিজেও নিশ্চিহ্ণ হয় যান।
এই বিষয়ে আমার কিছুই জানা ছিল না। খোঁজ করতে গিয়ে যে তথ্যগুলো পেলাম, দৈনিক সমকাল [] এবং  বিভিন্ন পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটের কল্যাণে তা এমন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী রওশন আরা তাঁর বয়স তখন ছিল ১৭। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বুকে মাইন বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি ট্যাংকের সামনে। মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জন পাকিস্তানি আর্মির। মুজিব ব্যাটরির পাশাপাশি আরেকটি ব্যাটরির নাম রাখা হয়েছিল রওশন আরা ব্যাটরি। রওশন আরার এই আত্মত্যাগের পর তখন এপার-ওপার বাংলার বিখ্যাত কবিরা কবিতাও লিখেছিলেন, রোশেনারা, একটি মেয়ের মৃত্যু
জন্মযুদ্ধ নামের ওয়েবসাই‌টে বাড়তি কিছু তথ্য পেলাম। যেমন: বেছে-বেছে সেদিন রওশন আরা সবুজ শাড়ি পরেছিলেন (মনে হচ্ছে একটা রগরগে ফিকশন পড়ছি!) আবার তাঁর মৃত্যুর পর রক্তমাখা সবুজ শাড়িটা ট্যাংকের ব্যারেলে আটকে থাকে। সেটা আবার কারও কারও চোখে বাংলাদেশের পতাকাও হয়ে যায়! []

কিন্তু রওশন আরাকে নিয়ে আহমদ ছফা অলাতচক্রে লিখেছিলেন:
"...তারপর থেকে ভারতের পত্র পত্রিকাসমুহ রওশন আরাকে নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। ...পত্র পত্রিকার প্রচার একটু থিতিয়ে এলেই রওশন আরাকে নিয়ে কবি মশায়েরা কবিতা লিখতে এলেন। ...কিন্তু আমি বা বিকচ (বিকচ চৌধুরী) ইচ্ছা করলেই রওশন আরাকে আবার নিরস্তিত্ব করতে পারিনে। আমরা যদি হলফ করেও বলি, না ঘটনাটি সত্য নয় রওশন আরা বলে কেউ নেই। সবটাই আমাদের কল্পনা- লোকজন আমাদেরকে পাকিস্তানি স্পাই আখ্যা দিয়ে ফাঁসিতে ঝোলাবার জন্য ছুটে আসবে।...(অলাতচক্র। পৃষ্ঠা নং: ১৩৫)
...তোমার (বিকচ চৌধুরী) গল্প সেই শর্তগুলো পূরণ করেনি। ধরো নাম নির্বাচনের বিষয়টি। তুমি বলেছ ফুলজান। এই নামটি একেবারেই চলতে পারে না।...সুতরাং একটা যুতসই নাম দাও, যাতে শুনলে মানুষের মনে একটা সম্ভ্রমের ভাব জাগবে। রওশন আরা নামটি মন্দ কী!...।(অলাতচক্র। পৃষ্ঠা নং: ১৩৪)
যাই হোক, বিকচ চৌধুরীই রওশন আরাকে নিয়ে তৎকালীন পত্রিকায় প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন। যেটা ছাপা হওয়ার পর প্রচন্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই বিকচ চৌধুরীর কাছ থেকে আমরা একটু শুনি:
...একদিন আমার একটি ছোট্ট সংবাদ কাহিনী চারদিকে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করল। ঢাকায় ১৭ বছরের এক অসম সাহসী মেয়ে বুকে মাইন বেঁধে পাক ট্যাংক বাহিনীর ১৯ জন খান সেনাকে খতম করে দিয়েছেন। ...দিকে-দিকে গঠিত হয় রওশন আরা ব্রিগেড। আজ ইতিহাসের নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই রনাঙ্গনের প্রচার কৌশলের অন্যান্য অনেক সংবাদ কাহিনীর মতো রওশন আরার কাহিনীও ছিল প্রতীকী। রওশন আরা নামটি বাংলাদেশের বন্ধু আহমদ ছফার দেওয়া।
(সূত্র: ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ রাইটার্স ফাউন্ডেশন এর সভাপতি ড. আবুল আজাদকে লেখা চিঠি।)

তখন... রওশন আরাকে যে-প্রকারে বিকচ চৌধুরী বা আহমদ ছফা সৃষ্টি করেছিলেন এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। যুদ্ধের বিভিন্ন কৌশল থাকে। যোদ্ধা বা যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত মানুষদের উদ্দীপ্ত করার জন্য এও এক কৌশল।
কিন্তু এখন...। রওশন আরাকে নিয়ে অনেকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল এরা নিজেরা অকুস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ফেনিয়ে ফাঁপিয়ে যেভাবে লিখেছেন সত্য যে কেমন করে ফিকশন হয়ে যায় তার এক চমৎকার উদাহরণ। এরা ভুলে যান মুক্তিযুদ্ধ ফিকশন না। এখানে বানিয়ে-বানিয়ে লেখার কোনও প্রকারের সুযোগ নাই।
তাছাড়া এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে মার্জনা করা চলে কিন্ত এখন জন্মযুদ্ধের গবেষকের ইচ্ছাকৃত ভাবে সত্যকে আড়াল করাটা অন্যায়। এক প্রকারের গুরুতর অপরাধ! মুক্তিযুদ্ধে ফিকশনের কোনও স্থান নেই!
...
এবেলা বিকচ চৌধুরীর ঋণ কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করি। দুলাল ঘোষের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের কিছু দুর্লভ পত্রিকা এবং বিভিন্ন কাগজপত্র পেয়েছিলাম। যার কিছু অংশ বিভিন্ন সময়ে লেখায় দিয়েছিলাম।
বিকচ চৌধুরীর সঙ্গে আমার দেখা করার কথা ছিল। আফসোস, যাব-যাব করেও যাওয়া হয়নি আমার। আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল আর ভিসার জন্য অমানুষের মত, অমর্যাদার সঙ্গে দূতাবাসে দাঁড়াতে আমার ইচ্ছা করে না। পূর্বে দু-বার আমার ভারত যাওয়া পড়ে। অভিজ্ঞতা বড়ই তিক্ত। ভারতসহ বিভিন্ন দূতাবাসগুলো একটা কাজ নিয়ম করে করে। সেটা হচ্ছে, অতিথির কাছে প্রথমেই নিজের দেশকে নগ্ন করে দেওয়া। ফট করে ল্যাংটা হয়ে যাওয়া। সেটা ভারত হোক বা জার্মানি, আচরণ একই।  এ এক চরম অসভ্যতা!
হাতের নাগালে স্ক্যানার নাই। সেল ফোনই ভরসা। ১৯৭১ সালে বাংলার মুখ নামের পত্রিকাটি থেকে বিকচ চৌধুরীকে লেখা চিঠি। মুজিবনগর থেকে বের হওয়া এই পত্রিকাটির তখন দাম ছিল পঁচিশ পয়সা!   

এরা লিখেছে, ...ঢাকার রওশন আরার বুকে মাইন বেঁধে হানাদার বাহিনীর ট্যাংকের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়া ...
এরা আবার এক কাঠি সরেস। এরা বিকচ চৌধুরীকে বানিয়ে দেয় বিকাশ চৌধুরী!

Monday, June 23, 2014

কোর্ট মার্শাল এবং অতঃপর...।


'কোর্ট মার্শাল' [১] নামের লেখাটায় লিখেছিলাম:
...২০১২, বছরের শুরুজানুয়ারি মাসের ২০ তারিখের পত্র-পত্রিকায় ছেয়ে গেল...সরকার উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ ...সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এরা এখন কোথায়? কোন আদালতে তাঁদের বিচার চলছে- সামরিক, নাকি বেসামরিক? কতটুকু অপরাধের সঙ্গে এরা জড়িত ছিলেন?... 

Saturday, June 21, 2014

ওই আসে মহাপুরুষ (!), না-না, ইতিমধ্যে এসে পড়েছেন!



এই মহাপুরুষের (!) আসল নাম আমার জানা নেই। যতটুকু জানলাম এ থেকে বের করা আমার জন্য অতি দুরুহ। নমুনা :
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসুলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুজাদ্দিদযম আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী মুরশিদ ক্বিবলা

এমনিতে সবাই জানে রাজারবাগের পির হিসাবে। পির তো এই দেশে গন্ডায়-গন্ডায়। দেশের গন্ডেপিন্ডে কতশত পির কিন্তু...। তিনি যে ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষ (!)।
রাজারবাগের থেকে বের হয় দৈনিক আল ইহসান নামের পত্রিকা। ভাগ্যিস বের হয় নইলে তো এমন মহাপুরুষের (!) কথা অজানাই থেকে যেত।
এ অভূতপূর্ব! এই পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পারছি এটি সমগ্র বিশ্ব থেকে পঠিত একমাত্র দৈনিক। পড়া হয় বিশ্বের ২১৮টি দেশের ৮০৫৮টি শহর থেকে।

এই পিরের এমনই ক্ষমতা যা আজ এই বিশ্বে আর কারও আছে এমনটা অন্তত আমার জানা নেই। তার দোয়া ও রোবের প্রতিফলনে আমেরিকা জাপানের মত কাফির দেশ ফানা ফানা হয়ে যাচ্ছে। এই পত্রিকা থেকে আমি কিছু অংশ হুবহু তুলে দিচ্ছি:
...উনার (রাজারবাগের পির) সেই মোবারক দোয়া ও ফরিয়াদের ফলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদের উপর বিভিন্ন আযাব-গযব নাযিল করে তাদেরকে নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছেন। ... প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মুজাদ্দিদে আযম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি যখন থেকেই এরকম দোয়া করছেন ও এসব ভবিষ্যত্বাণী করছেন তখন থেকেই আমেরিকা ইউরোপসহ যুলুমবাজ বিধর্মী বিশ্ব ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগরূপী গযবে প্রকটভাবে আক্রান্ত হচ্ছে...। (দৈনিক আল ইহসান, ১৭ জুন-২০১৪ ঈসায়ী সন। পৃষ্ঠা:১, ৬, ৮)

আমি বড় ভয়ে ভয়ে আছি এই পির সাহেবের বদদোয়ায়, রোবের (রোব জিনিসটা সম্ভবত রাগ) কারণে না এই গ্রহটা ফেটে যায়। আহা, একের-পর-এক বিধর্মীদের পারমাণবিক বোমাগুলো যদি ফাটা শুরু করে তাহলে উপায় আছে। আমি হুজুরের জন্যও বড়ো চিন্তায় আছি সঙ্গে হুজুরও...সর্বনাশ হয়ে যাবে যে...!

Thursday, June 19, 2014

দ্রুত আরোগ্য কামনায়!



'সিক পিপল [১] নিয়ে লেখাটায় লিখেছিলাম, ...আবার অনেক নির্বোধ অতি চালাকি করতে গিয়ে অন্য দেশের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে দিলরোদ-বৃষ্টি-বিবর্ণতা, সকাল-সন্ধ্যা-রাত উপেক্ষা করে আমাদের পতাকা উড়তে থাকল।...

ঝড়-বৃষ্টি-রোদে বিবর্ণ, ছেঁড়া পতাকা যখন সুউচ্চ ইমারতের গ্রিলে আটকে থাকে বা মাটিতে গড়াগড়ি খায়- কার দায় পড়েছে গ্রিল থেকে বা মাটিতে পড়ে থাকা ছেঁড়া পতাকা নামাবার, সরাবার?

সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। প্রকাশ্যে বিদেশি পতাকা উড়ানোর শাস্তি ১ বছরের জেল অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড!
তর্কের খাতিরে বিষয়টা একপাশে সরিয়ে রাখলেও বিদেশি পতাকার লেজ ক্রমশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে হনুমানের লেজকেও। এই বিষয়টা এখন আবেগকে ছাড়িয়ে অহেতুক শস্তা সম্মান রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে! কেউ ২০০ ফিট পতাকা ঝুলিয়েছে তো চলো আমরা ২৫০ ফিট পতাকা ঝোলাই। এরপর ২৫০...৩০০...৫০০। খেলা চলছে। বাড়ছে পতাকার দৈর্ঘ্য। প্রায় সবই ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার।, বিশেষ করে মফঃস্বলে। চুলায় বেড়াল ঘুমায়, তাতে কী! এ এক অসুস্থ প্রতিযোগীতা। যারা হতে পারত ধ্বান্তারি, অথচ এরা কালে-কালে পরিণত হয় ধ্বান্ত থেকে উঠে আসা ধ্বান্তোন্মেষে।

আমার তো মনে হচ্ছে ব্রাজিল যদি প্রতিপক্ষের ১১ জন খোলোয়াড়ের ২২টির স্থলে ৪৪টা পা করে দেয় বা আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের ২২টি হাতের স্থলে ৪৪টা হাত উপহার দেয়- কুছ পারোয়া নেহি! এ সত্য, এরা জন্মান্ধ না তবে অন্ধ! এমন অন্ধদের করুণা করতেও করুণা হয়।

এখনই সময়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা থেকে বিদায় নিক। অন্ধ উম্মাদনা থিতু হয়ে কেবল চমৎকার খেলার বিমল আনন্দ- ভালো খেললে ঘানা বা হ্ন্ডুরাস হতে সমস্যা কোথায়! খেলা খেলায় ফিরে আসুক।
আ-মি-ন। 

গরু চোরেরও অধম!


চোর-চোট্টারও কিছু তরীকা আছে। যেমন চোর নাকি নিজের বাড়ির আশেপাশে চুরি করে না। আবার  চুরি করতে না-পারলে ওই বাড়িতে বাথরুম সেরে আসে। তবে চোরদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে গরু চোর। একেবারেই ইজ্জত নাই! জেলখানার কয়েদিরা গরুচোরকে দু-চোখে দেখতে পারে না। ওখানে নাকি গরুচোরের কাজ হচ্ছে এর-ওর পা টেপা, শরীর বানিয়ে দেওয়া।

ইমরান হোসেন মামুন নামের চোস্ত কাপড়পরা এই মানুষটাকে দেখে আমার বিগলিত হওয়ার কথা কিন্তু বেদনার সঙ্গে বলি, একে আমার গরু চোরেরও অধম মনে হচ্ছে। এই মানুষটা আবার ফ্রান্সে থাকেন। এই মানুষটার আগ্রহসমূহ হচ্ছে, সৎ পথে থাকা। বেজায় পাজি এই লোকটা যে সৎ এটা অন্তত আমি স্বীকার যাই‌ না। কারণ...।

১৯৭১ সালের ছবি নিয়ে 71photogun নামে একটা ওয়েবসাইট  আছে আমার ( http://71photogun.blogspot.com )। এই লোকটা আমার ওই ওয়েব সাইট থেকে হুবহু কপি-পেস্ট করে নিজের সাইটে চালিয়ে দিয়েছেন ( http://mihmsm.blogspot.com/2011/01/blog-post_4431.html )। নীচে আবার ঘটা করে লিখেছেন, লেখাটি পোস্ট করেছেন ইমরান হোসেন মামুন। বটে রে!

মুক্তিযুদ্ধের ছবি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। কিন্তু ই মানুষটা আমার সাইট থেকে দাঁড়ি, কমা, মন্তব্য সবই অবিকল ছাপিয়ে দিয়েছেন। আবার বুদ্ধি করে আমি যাদের ঋণ স্বীকার করেছি তাদের নামও ছাঁটাই করে দিয়েছেন।

রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। একেকটা ছবি খুঁজতে দিনের-পর-দিন গেছে, রাতের-পর-রাত জেগে কাজগুলো করেছি আর এই ব্যাটা পাজি, নচ্ছার, গরুচোরেরও অধম এক নিমিষেই সব নিজের বলে চালিয়ে দিলেন। ইচ্ছা করছে একে আট-দশটা গান্ধিপোকা বেটে খাইয়ে দিতে পারলে খানিকটা আরাম পাওয়া যেত...!

Sunday, June 15, 2014

দেশপ্রেমিক (!) এবং...


তিন উল্লাস নামে একটা কথা চালু আছে কিন্তু এ যে দেখি শত উল্লাস! আমাদের দেশপ্রেমিকদের (!) জন্য আজ বড়ো আনন্দের দিন। দেখো দিকি কান্ড, টুকটুক করে হেঁটে সোয়া মাস পূর্বেই ঈদ চলে এসেছে! কী আনন্দ আজি আকাশে বাতাসে! 
ঢাকার মিরপুরের কালশিতে বিহারি নামের যে পশুগুলো (!) মারা গেল এই আনন্দময় মৃত্যু তো হররোজ দেখা মেলে না। কেনই-বা আমাদের এই উল্লাস? কারণ বিহারিগুলো খুব খারাপ। আমাদের দেশপ্রেমিকদের (!) নোট থেকে কয়েকটা উল্লেখ করি। এরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। আমরা কেউ নেইনি, না? গোলাম আযম গং, এরা তো বিহারিই ছিল, নাকি?
আমার সাফ কথা, খুন তো খুনই- সে বিহারি করুক বা বাঙালিযে সমস্ত বিহারি তখন খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল এদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে সমস্যা কোথায়! আমি এই সমস্ত খুনিদেরকেও কাঠগড়ায় দেখতে চাই

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও  এরা পটকা ফুটিয়ে দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছে। তাই তো, দেশে আর কোথাও পটকা ফুটেনি তো!

এরা মদ-গাঁজা-ভাং বিক্রি করে। কী সর্বনাশ, দেশের আর কোথাও মদ, গাঁজা বিক্রি হয় না তো! কেবল বিহারিরাই এই কুকর্ম করে থাকে। 

যাই হোক, বিহারি ক্যাম্পের অধিবাসী মো. ইয়াসিন ছুটে গিয়ে দেখতে পান ঘরের ভেতরে আগুন এবং তখন দরজায় তালা লাগানো দেখেনপরিবারের সাত জনের কাউকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। সন্তানের লাশ কাঁধে এই বাবাটাকে একজন ভাঁড়ের মত মনে হয়, না? তাঁর চোখের জল স্যুয়েরেজ পাইপের সঙ্গে মিশে গেলে সমস্যা নেই তো কোনও...।

ভাল কথা, যে শিশুগুলো আগুনে অঙ্গার হয়ে গেল যাদেরকে বিহারির বাচ্চা বলে উল্লাস করে আমোদে যাদের চোখ ছোট হয়ে আসছে সেই সমস্ত দেশপ্রেমিক (!) মহোদয়গণকে আমি কি এটা মনে করিয়ে দেব, আমাদের দেশের আইনের কথা? হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে: "দেশে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের মধ্যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক ছিল বা এর পরে যাদের জন্ম হয়েছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিকসমস্ত নাগরিক সুবিধা তাদের প্রাপ্য"
আমার জানার খুব ইচ্ছা, বিহারের অধিবাসী কোনও এক বাপ-দাদার পাপের ফল তার সন্তান নামের বাংলাদেশের নাগরিককে কেন বইতে হবে! কোন যুক্তিতে? আজ বাংলাদেশের এই নাগরিককে পুড়িয়েছেন কাল নিশ্চয়ই আমাকে পোড়াবেন।

বা এই কথাটা? বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ সনদে সাক্ষর করেছেসেই অনুসারে শুধু বাঙালীই নয়, এই ভূখন্ডের সব শিশুর শিক্ষাসহ সমস্ত অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের

অনেক পূর্বে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম, আমাদের কোনও পরিচয় নাই [১]। নতুন করে আর চর্বিতচর্বণ করি না। 

এ সংবাদটা পড়তে গিয়ে একটা বিষয় চোখে পড়ল। প্রথম আলো, মিডিয়া টাইকুন হরদম আমাদের শিখিয়েই যায়। আজও এদের কাছ থেকে শিখছি। সচরাচর আমরা কারও বক্তব্য লিখলে লিখি, তিনি বলেন-জানান বা তিনি বলেছিলেন-জানিয়েছিলেন...। এরা দেখি এখন নতুন এক জিনিস চালু করেছে। যে পরিবারে সাতজন মারা গেছে তার মুখের কথাকেও এরা লিখছে, তিনি দাবী করেন।
কয়েকটা উদাহরণ দেই:
"ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আসলামের স্ত্রী নাজমার দাবি, ..."।
"বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. শমশেরের দাবি, ..."।
"আদিল আহমেদ দাবি করেন, ..."।
"আগুনে পুড়ে পরিবারের সাত সদস্য নিহত হয়েছে দাবি করে..."।

অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আমার পড়ার সময় এমন মনে হচ্ছিল, তিনি দাবী করেন...। যেন এমন...ঠিক না-হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তবুও দাবী করেছেন আর কী।
এই পত্রিকার দাবীমতে, পরিবারের সাত সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন মো. ইয়াসিন। জনাব ইয়াসিনের এই দাবী ধোপে না-ও টিকতে পারে। হতে পারে সাড়ে ছয় বা সোয়া ছয় জন নিহত হয়েছে।

এদের এই নতুন 'ঢং-ঢাং' কেন কে জানে!

১. আমাদের কোনও পরিচয় নাই: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post.html

Saturday, June 14, 2014

ঢাল!


ভোটের পূর্বে টুপি-তসবি-হিজাবের আমদানি হয় আমাদেরকে এটা বোঝাবার জন্য যে এরা কত ধার্মিকএ যে অভেদ্য ঢাল...তাই বলে এই ঢাল ব্যাংকওয়ালাদের প্রয়োজন হবে না বুঝিএটা আমাদের না-বুঝে উপায় আছে যে এটা কত ধার্মিক ব্যাংক...!