কিছু-কিছু মানুষকে দেখলে হুদাহুদি মনে হয় চামড়ায় একটু চাপ দিলেই তেল চুঁইয়ে পড়বে! আমাদের ফরিদুর রেজা সাগর স্যার তাঁদের একজন!
আপনি অন্যের চোখে না, নিজের চোখে দেখলেন, ফরিদুর রেজা সাগর দরদর করে ঘামছেন। কিন্তু আপনি নিশ্চিত থাকেন আপনার দেখায় ভুল আছে! তিনি আসলে ঘামছেন না, তেল চুঁইয়ে পড়ছে!
আমি এটা বুঝি, এই দেশে তেলের ডিব্বা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি না-করলে চলে না। সাগরও তেলতেলে রাস্তায় দৌড়াবেন, এ আর বিচিত্র কী!
কিন্তু মানুষ তো নিজে ডিব্বা না, যে তার সব ছিদ্র দিয়া তেল বেরুবে!
তিনি এটা ২০০৪ সালে এই বই প্রসব করেছিলেন, 'জাইমার বইমেলা'। আমি অমানুষ না, কিন্তু স্যারের প্রসব বেদনার প্রতি আমার খানিক বেদনাও নাই, কারণ...!
তখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী তাই তাকে খুশি করার চেষ্টাকে আমি অপচেষ্টা বলি কেমন করে! কিন্তু তাই বলে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমাকে নিয়ে বই লিখতে হবে!
আবার ২০২৬ সালে এসে হা বিতং করে পত্রিকায় লেখা দিতে হবে, ফরিদুর রেজা সাগরকে, 'জাইমার বই পড়া'!
এখন কিন্তু আবার একজন দৌড়ে এসে হাসিনার সঙ্গে সাগরের নমুনা বের করবেন এটা আমার কাছে অতিশয়োক্তি মনে হয়! কারণ হাসিনা প্রায় দেড় যুগ এই দেশের কেবল প্রধান না, 'কঠিন প্রধান' ছিলেন।
এখন একজন লেখককে যদি বাংলা একাডেমি ডাকে তিনি গিয়ে দেখলেন ওখানে হাসিনা প্রধান অতিথি—তো ওই লেখক কী লাফ দিয়ে সরে আসবেন? এটা হাস্যকর চিন্তা! এরা এক কাজ করলেই পারেন—হাসিনার আমলে যত গাছ জন্মেছে সব কেটে ফেললেই হয়—না রাহেগি বাস (বাঁশ), না রাহেগি বাসুরি (বাঁশি)!
যাই হোক, সাগর স্যারকে সবিনয়ে বলি, বয়স্ক মানুষকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না, চিকিৎসার অতীত হলেও :(
... ... ...
আমরা বিস্মৃত হই কিন্তু যন্ত্র বিস্মৃত হয় না! ২০০৪ সালে লিখলেন, 'জাইমার বইমেলা', ২০০৫ সালে পেলেন বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার, শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য। বিদেশি সাহেবরা হাউ-হাউ করে বলতেন, হোয়াডা কো-ইন্সিডেন্স! আমরা ম্রিয়মাণ গলায় বলি, কী কাকতালীয়!



No comments:
Post a Comment