নিয়ম হচ্ছে, 'আলো-অন্ধকার' লেখা হয়, 'অন্ধকার-আলো' না! আমি অন্ধকারকে পূর্বে নিয়ে এসেছি। কারণ আমরা কথা বলছি, একজন মহাত্মাকে নিয়ে! যিনি 'মহান আত্মা'!
হিমালয় পায়ে গড়াগড়ি খেলে সেটা আর হিমালয় থাকে না, সেটা হয় 'টিলাময়'! তো, মহাত্মা গান্ধীর অন্ধকার দিক নিয়ে আগে আলোচনা করা যাক।
অন্ধকার দিক:
১. ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা: মানু ও আভার সাথে নগ্ন হয়ে শোয়া! ১৯৪৪ সালে কস্তুরবা মারা যাওয়ার পর, ১৯৪৬-৪৭ সালে নোয়াখালী দাঙ্গার সময় ৭৭ বছর বয়সে গান্ধী তাঁর নাতনি মানু গান্ধী, আভা গান্ধী ও ডাক্তার সুশীলা নায়ারের সাথে নগ্ন অবস্থায় এক কম্বলের নিচে শুতেন। এটাকে তিনি 'ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা' বলতেন।
গান্ধীর নিজের চিঠি: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ এ বিনোবা ভাবেকে লেখেন:
"Manu also, who is a blood relation to me, sleeps with me as one of these millions... If I do not appear to people exactly as I am within, wouldn't that be a blot on my non-violence?"
১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭-এ সতীশ চন্দ্র মুখার্জিকে লেখেন:
"A young girl (19) who is in the place of a granddaughter to me by relation shares the same bed with me, not for any animal satisfaction but for (to me) valid moral reasons."
এই বাচ্চাদের উপর গান্ধীর 'মহাত্মা' ইমেজ কী পরিমাণ প্রভাব ফেলেছিল তার উদাহরণ! ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৭-এর এন্ট্রিতে মানু লেখেন:
“This chapter of my sleeping in the same bed has caused quite a storm. But for some reason I am not worried by that. Perhaps because he is my mother; though a male, he is a mother to me…”
'১৯৪৬ সালে গান্ধীজির ব্রহ্মচর্যের 'মহাযজ্ঞ' অনুষ্ঠিত হয় নোয়াখালিতে। এই নোয়াখালি যাত্রা গান্ধীজির জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। ব্রহ্মচর্যের এই মহাযজ্ঞের সাথী ছিলেন মনু গান্ধী ও সুশীলা নায়ার। এ নিয়ে বিষম ঝড় ওঠে।
বেদ মেহতাকে সুশীলা জানান, মনুর অনেক আগে থেকেই আমি তাঁর সাথে শুতাম।... তিনি (গান্ধী) কখনো বলতেন, 'আমার পেছন দিকটায় ব্যথা করছে, চাপ দাও'।
আমি তাই করতাম, তিনি ঘুমাতেন। আগে এই ব্যাপারটাকে ব্রহ্মচর্য বলা হত না। এটা ছিল প্রাকৃতিক চিকিৎসার মতো। যখন লোকে মনু, আভা ও আমার সঙ্গে তাঁর শারীরিক স্পর্শের কথা বলতে শুরু করল, তখন থেকে ব্রহ্মচর্য কথাটার উদ্ভাবন।
বেদ মেহতার কাছে আভা গান্ধীর বক্তব্যটা প্রকাশ করা যেতে পারে।প্রশ্নোত্তরে মেহতা ও আভা বলেছেন:
'"'তখনো কি আপনি কাপড় পরেই ছিলেন'? তিনি ইতস্তত করছিলেন উত্তর দিতে। তারপর বললেন, 'তিনি আমায় কাপড় খুলে ফেলতে বললেন'।
আমার যতটা মনে পড়ছে, আমি পেটিকোট ও চোলি পরেছিলাম'।
'কিন্তু তিনি কী পরেছিলেন'?
'আমার মনে নেই তাঁর শরীরে বস্ত্র ছিল কিনা। আমি আর এ নিয়ে কিছু ভাবতে চাই না'।"
—গান্ধীজির আধ্যাত্মিক স্ত্রী ও সহযোগী মেয়েরা দিগ্বিজয় দে সরকার- পৃ. ৯৯-১০০)।
হা বাপু!
সর্দার প্যাটেলেরও প্রচন্ড আপত্তি ছিল। ২৫ জানুয়ারি ১৯৪৭-এর চিঠিতে প্যাটেল লেখেন তিনি এই পরীক্ষা নিয়ে 'profound concern' প্রকাশ করেছেন এবং এটা 'public respect for Gandhi's moral authority' নষ্ট করতে পারে।
এই বিষয়ে আমার নিজস্ব মত হচ্ছে: এই পর্যায়ে আমার স্রেফ মনে হচ্ছে, 'মহাত্মা' নামের এই মানুষটা 'একটা সাইকো'! চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল! চিকিৎসার অতীত হলেও যেটা করেছিলেন তা কেবল শাস্তিযোগ্য অপরাধ না, এক মানবিক বিপর্যয়! তিনি কেবল নিজের পাগলামিটাই বড় করে দেখেছেন ভিক্টিমদের শারিরীক-মানসিক পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেননি!
২. কস্তুরবার মৃত্যু ও পেনিসিলিন বিতর্ক! ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৪ এ আগা খান প্যালেসে কস্তুরবা মারা যান। তাঁর ছেলে দেবদাস ও ডাক্তার সুশীলা নায়ার তাঁকে 'পেনিসিলিন' দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গান্ধী রাজি হন নাই।
গান্ধী কস্তুরবা মারা যাওয়ার পর সুশীলা নায়ারকে বলেন:
"If I had allowed you to give her penicillin, it could not have saved her. But it would have meant bankruptcy of faith on my part"
অথচ নিজের ক্ষেত্রে: কস্তুরবা মারা যাওয়ার কয়েক মাস পর গান্ধী নিজে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে কুইনাইন নিয়েছেন এবং অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনও করিয়েছেন! এখানে গান্ধীকে মহাত্মা না একজন 'পোকামানব' মনে হয়!
পোকা-পোকা লাগে তখন যখন তিনি 'ব্রহ্মচর্য-এর' নামে আশ্রমের মেয়েদের মাসিক হলে এই জটিল বিষয় নিয়ে তাঁর কামানো মাথা ঘামাতে-ঘামাতে একেবারে ঘেমে নেয়ে যেতেন! গান্ধী আশ্রমের মেয়েদের মাসিককে 'অপবিত্র' মনে করতেন। মাসিক হলে সবার সামনে কাপড় ধুতে বলতেন, আলাদা বসতে বলতেন!
সুশীলা নায়ার লিখেছিলেন:
"Bapu believed that menstruation was a sign of the curse of Eve... He wanted the girls to wash their own menstrual cloths in public to overcome shame."
—Sushila Nayar, Mahatma Gandhi: Satyagraha at Work, 1951, p. 89
'...menstruation was a sign of the curse of Eve...', হলি কাউ, কী চিন্তার প্রসারতা!
গান্ধীর নিজের কথা, ১৯২৫ সালে Young India-তে তিনি তাঁর মহাজ্ঞান নিয়ে লেখেন:
'The monthly period is a woman’s periodical purification... But it is a function to be ashamed of'.
—Young India, 8 Oct 1925, CWMG Vol. 28, p. 338
এটা স্রেফ বিকৃত যৌন-আচরণ! সুশীলার সাথে একসঙ্গে স্নান করা বিষয়ে গান্ধীজি জানান:
'She bathes in the space behind the bath-tub (in which Gandhi takes his bath) and while she is bathing I keep my eyes tightly shut. I do not know the manner of her bathing...whether she bathes naked or with her underwear on. I can feel from the sound that she used soap. I have seen no part of her body which everybody here will not have seen.'
৩. আহা, কী মানবিক আত্মাও! ১৯৩৪ সাল, ১৫ জানুয়ারি। ভয়াবহ ভূমিকম্প হল বিহারে। বিশ হাজারের মতো মানুষ মারা গেল সেই ভূমিকম্পের ফলে।
খবর শুনে চমকে উঠল গোটা ভারতবর্ষ। তার চাইতেও বেশি চমকে উঠল গান্ধীজির একটা মন্তব্যে। তাঁর মতে এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী সমস্ত বিহরিবাসীর অস্পৃশ্যতা বোধ। সেই পাপের জন্যই বিহারবাসীদের এই শাস্তি দিয়েছেন ভগবান।
মহান আত্মা গান্ধী বলেন:
'I want you to be superstitious enough to believe with me that the earthquake is a divine chastisement for the great sin we have committed against those whom we describe as Harijans'.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কথা শুনে চমকে উঠছিলেন। তিনি ২৮ জানুয়ারি ১৯৩৪ গান্ধীকে চিঠি লেখেন:
'It has caused me painful surprise to find Mahatma Gandhi accusing those who blindly follow their own social custom of untouchability of having brought down God’s vengeance upon certain parts of Bihar… this kind of unscientific view of things is too readily accepted'.
আহা, মহান আত্মা নাকি প্রেতাত্মা?মহাত্মার উক্তি! ১৬ জুলাই, ১৯২১ লন্ডন থেকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে জাহাজ এসে পৌছল বোম্বাই বন্দরে। জাহাজ থেকে নেমে একটা বিস্মিত আঘাতে ভারাক্রান্ত হয়ে গেল তাঁর মন। মহাত্মা গান্ধী উড়িষ্যার এক জনসভায় তাঁর ভাষণে কবীর ও নানকের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে রামমোহনকে একজন 'বামন' (Pygmy) বলেছেন। এই সংবাদ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল দেশের এখানে-ওখানে সর্বত্র।
এই ব্যাপারটা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ C.F. Andrews-কে চিঠি লেখেন:
'...I strongly protest against Mahatma Gandhi's depreciation of such geat personalities of modern India as Rammohan Ray in his ideal for declaiming against our modern education. Every Indian ought to be proud of the fact that, inspite of immense dis-advantages, India still has been able to produce greatness of per-sonality in her children, such as we find Rammohan Ray.'
৪. ভগৎ সিং-দের ফাঁসি নিয়ে গান্ধী কী বলেছেন-করেছেন? 'আমি ফাঁসি রদের জন্য আবেদন করতে পারি না', ভাইসরয়কে চিঠি। তারিখ: ২৩ মার্চ ১৯৩১। ফাঁসির দিন।
গান্ধী লর্ড আরউইনকে লিখছেন:
"It seems that commutation is impossible... I had hoped for a reprieve. I cannot plead for commutation. I should have to fully support the commutation if I had a chance. But I do not see my way to do so."
—CWMG Vol. 45, p. 354-355
'খুনের দায়ে দণ্ডিতদের জন্য মাফ চাইতে পারি না'—Young India. তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১। ফাঁসির ৬ সপ্তাহ আগে। গান্ধী Young India-তে লেখেন:
"I cannot in conscience agree to anyone being sent to the gallows. God alone can take life, because He alone gives it. But I cannot ask for commutation of the sentence of those who have been guilty of murder or abetment of murder."
Young India, 12 Feb 1931, CWMG Vol. 45, p. 200
আবার বলেন, 'ভগৎ সিং ও সাথীরা বীর, কিন্তু পথ ভুল'—ফাঁসির পর! তারিখ: ২৯ মার্চ ১৯৩১। ফাঁসির ৬ দিন পর।
গান্ধী Young India-তে লেখেন:
"Bhagat Singh and his companions have been executed. There was a great deal of agitation for commutation of their sentences. I myself left no stone unturned to secure it. But I failed. Bhagat Singh and his companions are to me as dear as the apple of my eye. I admire their bravery and sacrifice. But I cannot help saying that their way was not right."
Young India, 29 March 1931, CWMG Vol. 45, p. 359-360
তাহলে গান্ধী চেষ্টা করছিলেন নাকি করেন নাই? গান্ধীর দাবি: "I left no stone unturned"
তিনি নাকি কোন পাথর উল্টাতে বাকি রাখেন নাই! কিন্তু গান্ধী-আরউইন চুক্তির সময় ভাইসরয়ের সাথে ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১-এ কথা বলছেন। আরউইন তার ডায়েরিতে লেখেন:
"Gandhi did plead for commutation, but not very forcibly. He said he could not support the demand as a matter of principle"।
Lord Irwin's Private Papers, MSS Eur C152/6, British Library
মানে, গান্ধী মুখে বলছেন 'চেষ্টা করেছি', কিন্তু ভাইসরয়কে লেখা চিঠিতে লিখছেন 'I cannot plead for commutation'।
এটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। মুখোশ! প্রলাপ!
সুভাষ বসু লিখেছিলেন:
"The Mahatma did not want to save Bhagat Singh at the cost of the Gandhi-Irwin Pact. He feared that if he pressed too hard, the British would cancel the Pact"।
Subhas Chandra Bose, The Indian Struggle 1920-1942, 1935, p. 237
জওহরলাল নেহেরু:
"I was angry. I felt Gandhi could have saved them if he had made it a condition of the Pact"।
Jawaharlal Nehru, An Autobiography, 1936, p. 267
মহাত্মা একদিকে বলছেন, 'আইন ভাঙা আসামির জন্য মাফ চাইতে পারি না'! অন্যদিকে নিজে আইন ভাঙছেন: লবণ আইন, 'পাস আইন' সব ভেঙ্গেছেন! ভগৎ সিং-এর বেলায় মুখে কুলুপ!
৫. দক্ষিণ আফ্রিকা কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে এই মহাত্মার ছিল ভয়াবহ তাচ্ছিল্য!১৮৯৪-১৯১৩ সালের মধ্যে 'Collected Works of Mahatma Gandhi'-এর ১-১৩ খণ্ডে 'kaffir' শব্দটি ৪৫৬ বার আছে।
গান্ধীর লেখা: ৩ জুলাই ১৯০৭:
"Kaffirs are as a rule uncivilised– the convicts even more so. They are troublesome, very dirty and live almost like animals"
১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯০৪:
"About this mixing of the Kaffirs with the Indians, I must confess I feel most strongly. I think it is very unfair to the Indian population"
১৮৯৫-১৯১৩ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে লড়েছেন। অথচ একই সাথে দাবি করেছেন: ভারতীয়দেরকে 'কাফির' বা কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
'পাস আইন' বিরোধিতা: গান্ধী যখন পাস আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন, তখন যুক্তি দেন:
"Even the half-castes and Kaffirs, who are less advanced than we, have resisted the Government".
_Indian Opinion, 9 Sept 1906, CWMG Vol. 6, p. 181
৬. ইহুদি ও হিটলার প্রসঙ্গে! ২৬ নভেম্বর ১৯৩৮ এ 'Harijan' পত্রিকায় 'The Jews' প্রবন্ধে গান্ধী লেখেন, জার্মান ইহুদিদের উচিত অহিংস প্রতিরোধ করা। অথচ তখন ইহুদিদের মেরে সাফ করে ফেলছে!
তখন গান্ধীর কথা:
"My sympathies are all with the Jews... If there ever could be a justifiable war, in the name of and for humanity, war against Germany to prevent the wanton persecution of a whole race would be completely justified. But I do not believe in any war"
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে গান্ধী হিটলারকে ২টা চিঠি লেখেন। সম্বোধন করেন 'Dear Friend'!
২৩ জুলাই ১৯৩৯ এর চিঠি:
'Dear Friend... It is quite clear that you are today the one person in the world who can prevent a war which may reduce humanity to a savage state. Must you pay that price for an object however worthy it may appear to you to be'?
—CWMG Vol. 76, p. 156-157
২৪ ডিসেম্বর ১৯৪০ এর চিঠি: আবার 'Dear Friend' লিখে অনুরোধ করেন যুদ্ধ বন্ধ করতে। ব্রিটিশ সরকার চিঠি হিটলারের কাছে পৌঁছাতে দেয় নাই।
গান্ধী নিজেই ১৯৩৮ এ লিখেছিলেন:
"If there ever could be a justifiable war... war against Germany... would be completely justified"।
—Harijan, 26 Nov 1938
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বলেন ইহুদিদের উচিত:
"offer themselves to be shot or thrown into the Dead Sea without raising a little finger against them"
৭. মহান গান্ধী সুভাষ চন্দ্র বসু'র সঙ্গে যা করেছেন তা স্রেফ ছোট মনের পরিচয়! ইশকুলে বাচ্চারা যা করে আর কী!
২৯ জানুয়ারি ১৯৩৯ এ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে সুভাষ বসু গান্ধীর মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে হারিয়ে জেতেন। বসু পান ১৫৮০ ভোট, সীতারামাইয়া ১৩৭৫ ভোট।
গান্ধীর প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই নীচু মানের! সীতারামাইয়ার হারকে গান্ধী নিজের হার বললেন:
"Pattabhi's defeat is my defeat"।
নির্বাচনের পর ২২ ফেব্রুয়ারি ওয়ার্কিং কমিটির ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জন পদত্যাগ করেন, ফলে বসু কাজ করতে না-পেরে এপ্রিল ১৯৩৯ এ পদত্যাগ করেন। বলেছিলেন:
"I am a President without a team"।
এটা গান্ধীর অন্ধকার দিক! তিনি গণতন্ত্র-গণতন্ত্র বলে বকে মরতেন কিন্তু কংগ্রেসে গণতন্ত্র মানেননি! ভোটে হারার পরেও নিজের লোক দিয়ে জেতা প্রেসিডেন্ট বসুকে ফেলে দিয়েছেন। এটাকে বলা হয়, 'High Command Culture', যার বীজ গান্ধী পুঁতে ছিলেন। এটা ছিল রাজনৈতিক খুন!
ভাবা যায়, মহান আত্মা বলছেন:
'Pattabhi's defeat is my defeat... I am not going to be a party to a house divided'।
কেন গান্ধী বসুকে হাত ধরতে দেননি?
ক. পথ আলাদা: গান্ধী চরকা, বসু বন্দুক।
খ. ইগো: কংগ্রেসে দুই বাঘ থাকতে পারে না।
গ. ভুল হিসাব: গান্ধী ভেবেছিলেন ব্রিটিশ 'নৈতিক চাপে' দেশ দিয়ে দিবে। ইংরেজদের মাথায় চরকা দিয়ে আঘাত করলে এরা কামান-বন্দুক ফেলে পালাবে।
গান্ধীজি কংগ্রেস থেকে সুভাষকে বহিষ্কার করলে কবিগুরু তাঁকে টেলিগ্রাম করলেন:
'Owing gravely critical situation all over India and especially in Bengal would urge congress working Committee immediately remove ban against Subhas and invite his cordial co-operation in supreme interest national unity.'
গান্ধীজি এ কথায় কর্ণপাত করলেন না। উল্টে তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করলেন দীনবন্ধু এন্ড্রুজকে লেখা এক চিঠিতে:
'...I feel that Subhas is behaving like a spoilt child.'
অর্থাৎ, সুভাষ একটা বখাটে ছেলে। আর বসু বুঝছিলেন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ দেবে। ইতিহাস বসুকে সঠিক প্রমাণ করেছে।
গান্ধীর অবস্থান: গান্ধী বসুর 'six-month ultimatum', নীতির বিরোধী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন 'time was not yet ripe for an ultimatum'।
গান্ধী বসুকে 'violence-পন্থী' বলে বাতিল করলেন। অথচ ১৯৪২-এ তিনি নিজেই 'Do or Die' বলে নিজেই সহিংস আন্দোলন ডাকলেন। হাজার-হাজার প্রাণ গেল!
সহিংসতার পর গান্ধীর অবস্থান: জেল থেকে ১৯৪৩ সালে ২১ দিন অনশন করেন ব্রিটিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে। কিন্তু জনতার সহিংসতার নিন্দা করেন নাই! ব্রিটিশ সরকার চিঠি দিয়ে জিজ্ঞাসা করে: 'আপনি সহিংসতার নিন্দা করবেন'? গান্ধী উত্তর দেন:
'I cannot condemn the people'।
—Letter to Govt of India, 15 Feb 1943, CWMG Vol. 77, p. 78
'অহিংসার পূজারী', 'Do or Die' বলে জনতারে মাঠে নামায় দিলেন। জনতা মারল, মরল। গান্ধী তখন জেলে বসে 'আমি নিন্দা করব না' বললেন। এইটা অহিংসা, নাকি দায় এড়ানো?
ব্রিটিশের সাথে আপসের নীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বিপদে। বসু কইল: 'Britain's difficulty is India's opportunity। এখনই মারো'।
গান্ধী বললেন: 'বিপদে শত্রুরেও মারতে নাই। আমরা যুদ্ধে সাহায্য করব, বিনিময়ে স্বাধীনতা চাইব'।
বিনিময়ে ইংরেজ জালিয়ানওয়ালাবাগ মত অনেক উপহার দিয়েছিল!
অথচ বসু ঠিকই বুঝছিলেন, গান্ধী ব্রিটিশকে বিশ্বাস করে ভুল করছেন। তাই জার্মানি-জাপানের সাহায্য নিয়ে INA বানালেল। গান্ধী এটাকে 'ফ্যাসিস্টের দালি' কইছে। ফলাফল কী হল?
১. বসুরে কংগ্রেস থেকে তাড়ানো হল ১৯৩৯-এ।
২. বসু দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন। আজাদ হিন্দ সরকার, INA বানালেন। 'দিল্লি চলো' স্লোগান দিলেন।
৩. ১৯৪৫ এ বসু প্লেন ক্র্যাশে মরলেন/গুম হলেন। গান্ধী শোক করলেন কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বসুর পথকে কখনো স্বীকৃতি দেন নাই।
৪. মজার কথা: ১৯৪৬ এ নৌ-বিদ্রোহ হল। INA-র সেনাদের বিচারের বিরুদ্ধে পুরো ভারত ক্ষোভ্র ফেটে পড়ল। ব্রিটিশ বুঝল, ভারতীয় সেনা আর বিশ্বস্ত নাই। এইটাই স্বাধীনতার শেষ ধাক্কা।
১. প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলির স্বীকারোক্তি, ১৯৫৬ সালে।পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন গভর্নর ও কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি P.B. চক্রবর্তী ১৯৭৬ সালে চিঠিতে লিখেন। ১৯৫৬ সালে এটলি ভারত সফরে আসলে চক্রবর্তী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন:
'গান্ধীর 'Quit India' আন্দোলন তো ১৯৪৭ এর অনেক আগেই মরে গিয়েছিল। তখন এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না যে ব্রিটিশদের তাড়াহুড়ো করর ভারত ছাড়তে হবে। তাহলে আপনারস কেন ভারত ছাড়লেন'?
এটলি উত্তর দেন:
এক: নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর Indian National Army, যা ব্রিটিশ আর্মিকে দুর্বল কইরা দিছিল।
দুই: Royal Indian Navy mutiny।
গান্ধীর ১৯৪২ 'Quit India' আন্দোলনের প্রভাব নিয়া জিজ্ঞাসা করলে এটলি হেসে বলেন: 'minimal', একদম নগণ্য!
২. অকিনলেক সুভাষ বসুর INA নিয়ে কী বলেছিলেন। ফিল্ড মার্শাল স্যার ক্লদ অকিনলেক ছিলেন ১৯৪৩-১৯৪৭ পর্যন্ত ভারতে ব্রিটিশ বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ। ১৯৪৬ সালে INA বিচারের সময় অকিনলেক লেখেন:
“Subhas Chandra Bose acquired a tremendous influence over them (British Indian Army) and that his personality must have been an exceedingly strong one”।
মানে, সুভাষ চন্দ্র বসু ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের উপর বিরাট প্রভাব ফেলেছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী।
১৮-২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ Royal Indian Navy এর ২০,০০০ নাবিক ৭৮টা জাহাজে বিদ্রোহ করে। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টির পতাকা তোলে। 'Quit India' স্লোগান দেয়, নেতাজি সুভাষের ছবি নিয়ে বোম্বের রাস্তায় মিছিল করে।
ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন লেখেন:
"was arguably the single-most important event in convincing the British government that it could no longer hold on to India"।
মানে, ব্রিটিশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যে তারা আর ভারত ধরে রাখতে পারবে না।
১. এটলির স্বীকারোক্তি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন বসুর INA এবং নৌ-বিদ্রোহের কারণে ভারত ছাড়ছে, গান্ধীর আন্দোলনের প্রভাব 'minimal'।
২. অকিনলেকের মূল্যায়ন: ব্রিটিশ কমান্ডার-ইন-চিফ নিজে স্বীকার করছেন, বসুর INA ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের উপর 'tremendous influence' ফেলেছিল।
৩. নৌ-বিদ্রোহ: ৪৮ ঘণ্টায় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বিমান বাহিনী, জব্বলপুরে সেনাবাহিনীতেও বিদ্রোহ ছড়ায়।
কেন গান্ধী-নেহরু বিরোধিতা করছিলেন? গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ, প্যাটেল সবাই নাবিকদের আত্মসমর্পণ করতে বলেন। গান্ধী হিংসার নিন্দা করেন। প্যাটেল প্রতিশ্রুতি দেন ভিকটিমাইজেশন হবে না, কিন্তু বিদ্রোহীরা জেলে যায়।
কারণ:
'without the support of the navy, over 100,000 British troops, administrators and civilians and their families were in no position to make it to Britain safely. At the very least, a large number of them would have been slaughtered. The British knew this, and they quit India post-haste'।
মানে, নৌবাহিনীর সমর্থন ছাড়া ১ লাখ ব্রিটিশ ভারত থেকে জীবিত ফিরতে পারত না। এই ভয়েই ব্রিটিশরা তাড়াহুড়া করে ভেগেছে!
গান্ধীর অহিংসা না, বসুর INA এবং নৌ-বিদ্রোহ ব্রিটিশদের তাড়িয়েছে, এটা ফিল্ড মার্শাল ক্লদ অকিনলেক নিজে বলছেন। গান্ধী পরে কী বলেছেন বসুকে নিয়ে?
১৯৪৬ সালে বললেন:
'Subhas was a patriot of patriots।
কিন্তু জীবিত বসুকে দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন। মৃত বসুকে মালা দিয়েছেন! এটা মহান গান্ধীর স্পষ্টত দ্বিচারিতা!
এবং আমার মত, তার এই আচরণ, সুভাষ বসুকে অহেতুক দুধের মাছি মনে করে ফেলে দেওয়া ভারতের স্বাধীনতা অনেক পিছিয়েছিল। এবং তিনি ইংরেজদের কাছে একটা চমৎকার বিরোধীদল টাইপের ক্লাউন ছিলেন!
উধাহরণ! লর্ড মাউন্টব্যাটেন দেশভাগের প্রস্তাব দিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন প্যাটেল। হ্যাঁ, আমার কোনও আপত্তি নেই:
'It must be placed on record that the man in India, who first fell for Lord Mountbatten's idea was Sarder Pattel. As soon Sardar Patel had been convinced, Lord Mountbatten turned his attention to Jawharlal.'
—India wins Freedom: Moulana Abul Kalam Azad-P-183.
জওহরলালও রাজি। এবার মাউন্টব্যাটেন বললেন, আসল লোকটির মত জানা দরকার। তাঁর মত না থাকলে অনেক অসুবিধে হতে পারে। কে জানে, কে বলতে পারে গান্ধীজি এই নিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করবেন কিনা।
না, করবেন না। মাউন্টব্যাটেনকে আশ্বাস দিলেন প্যাটেল:
'Gandhi would abide loyally by any decision.'
আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন, গান্ধীজি নিষ্ঠার সঙ্গে তার প্রতি আনুগত্য রক্ষা করে চলবেন। অদ্ভুত কথা! সত্যি অদ্ভুত!
৮. 'হরিজন' নাম, দলিতদের জন্য আশীর্বাদ নাকি খাঁচা?
গান্ধী অস্পৃশ্যদের 'হরিজন'=ঈশ্বরের সন্তান নাম দেন। কিন্তু আম্বেদকর এই নামের ঘোর বিরোধী ছিলেন।
A. আম্বেদকরের আপত্তি, আম্বেদকর ১৯৪৫ সালে লেখেন:
"The name 'Harijan' is insulting. The term is used for children of temple prostitutes in some parts. Mr. Gandhi has no right to give such a name to the Untouchables."
—Dr. Babasaheb Ambedkar: Writings and Speeches, Vol. 5, p. 398
B. গান্ধীর যুক্তি: গান্ধী ১৯৩৩ সালে Harijan পত্রিকা শুরু করে লেখেন:
"I have deliberately given them the name 'Harijan'... so that the so-called higher castes may learn to regard them as such."
—Harijan, 11 February 1933, CWMG Vol. 53, p. 261
৯. ভারত ছাড়ো', ১৯৪২ — 'Do or Die' বলে সহিংসতা উস্কে দিয়ে চুপ থাকা! ৮ আগস্ট ১৯৪২ গান্ধী 'ভারত ছাড়ো' প্রস্তাব পাস করান। ভাষণে বলেন: 'Do or Die'। পরদিন কংগ্রেস নেতারা গ্রেপ্তার হন। নেতৃত্বহীন জনতা রেললাইন উপড়ায়, থানা পোড়ায়, টেলিগ্রাফ কাটে। ব্রিটিশের হিসাবে ৯৪০ জন মারা যায়, ১,৬৩০ জন আহত।
১. গান্ধীর ভাষণ ৮ আগস্ট: "Here is a mantra, a short one, that I give you. You may imprint it on your hearts... the mantra is: 'Do or Die'. We shall either free India or die in the attempt"।
CWMG Vol. 76, p. 384-396
তাঁর অদ্ভুতুড়ে কর্মকান্ড:
ক. দেশভাগের পর ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা দিতে রাজি হয় নাই, কারণ পাকিস্তান কাশ্মীরে হামলা করেছে। গান্ধী ১৩ জানুয়ারি ১৯৪৮ এ অনশন শুরু করেন। দাবির একটা ছিল: পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি দিতে হবে। অবশ্য এটা ৭টা শর্তের মধ্যে ১টা মাত্র!
গান্ধীর শর্ত: অনশন ভাঙার ৭টা শর্তের ১ নম্বর ছিল:
'The payment of Rs. 55 crores to Pakistan should be implemented immediately'.
—Pyarelal, Mahatma Gandhi: The Last Phase, Vol. 2, p. 685
সরকার নিরুপায় হয়ে মেনে নেয়: ১৫ জানুয়ারি নেহেরু সরকার টাকা ছেড়ে দেয়। ১৮ জানুয়ারি গান্ধী অনশন ভাঙেন।
১২ দিন পর ৩০ জানুয়ারি গান্ধী খুন হন। নাথুরাম গডসে আদালতে বলে: '৫৫ কোটি দেওয়ার অনশন' তার অন্যতম কারণ।
খ. মুখে 'সর্বধর্ম সমন্বয়' বলতেন, কিন্তু খিলাফত আন্দোলন সমর্থন করলেন কেন? ১৯১৯-১৯২৪ খিলাফত আন্দোলন ছিল তুরস্কের খলিফার ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য। ভারতের সাথে সম্পর্ক নাই। গান্ধী এই ধর্মীয় আন্দোলনকে অসহযোগ আন্দোলনের সাথে জুড়ে দেন।
গান্ধীর ঘোষণা:
'I would advise the Hindus and Muslims to unite... The Musalmans have adopted a cause which is purely religious... Hindus must stand by them'.
—Young India, 10 March 1920, CWMG Vol. 17, p. 103_
খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হয়। কিন্তু 'মোপলা দাঙ্গা'-তে ১৯২১-এ মালাবারে হাজার হাজার হিন্দু মারা যায়। আম্বেদকর লেখেন:
'The Moplas murdered Hindus because they were Hindus... Gandhi never uttered a word of condemnation'.
—B.R. Ambedkar, Pakistan or the Partition of India, 1945, p. 148
গ. তৃতীয় শ্রেণীর বগিতে ভ্রমণের নামে পুরা বগি রিজার্ভ! ১৯২১ সালের ঘটনা: গান্ধী যখন তৃতীয় শ্রেণীতে চড়তেন, তখন ভিড় আর নিরাপত্তার কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পুরা বগিই তাঁর জন্য খালি করে দিত।
গান্ধীর সেক্রেটারি মহাদেব দেশাই এর ডায়েরি। তিনি লিখছেন:
'The railway authorities, in order to save Gandhi from the crowds, would often reserve an entire third-class compartment for him'।
—Mahadev Desai's Diary, Vol. 5, 14 September 1921
গান্ধী নিজেও স্বীকার করছেন: ১৯২৫ সালে Young India-তে লিখছেন:
'I have often had a whole compartment to myself... The public is so eager to have a look at me that the railway authorities, out of regard for me, do not allow other passengers to enter my compartment'.
—Young India, 18 June 1925, CWMG Vol. 32, p. 84
ঘ. ছাগলের দুধ নিয়ে মাতামাতি, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে!
লন্ডনে ১৯৩১ সাল: দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধী লন্ডন গেলেন। লন্ডনে ছাগলের দুধ সহজে পাওয়া যায় না।
গান্ধীর সাথে থাকা মীরাবেন (ম্যাডেলিন স্লেড) লিখছেন:
"It was very difficult to get goat’s milk in London. We had to make special arrangements. A goat was kept at Kingsley Hall and fresh milk was brought to him every day. It was very expensive."
Madeleine Slade, The Spirit’s Pilgrimage, 1960, p. 118
কত খরচ হত? সরোজিনী নাইডু মজা করে বলছিলেন:
"To keep Gandhi poor, we have to spend a fortune"।
—Sarojini Naidu, quoted in Ved Mehta, Mahatma Gandhi and His Apostles, 1977, p. 163
ভারতেও গান্ধীর আশ্রমে সবসময় ছাগল পালা হতো। শুধু তাঁর জন্য। অন্য আশ্রমবাসী গরুর দুধ খেতেন। ছাগলের দুধ হজম হয়, গরুর দুধে এলার্জি, এইটা ডাক্তারি যুক্তি। কিন্তু গরিব ভারতীয়'র পক্ষে প্রতিদিন ছাগলের দুধ জোগাড় করা অসম্ভব।
বিলাসবহুল বিড়লা হাউসে থাকা, গরিবের কুটির না। গান্ধী জীবনের শেষ ১৪৪ দিন দিল্লির 'বিড়লা হাউসে' ছিলেন। এটা জি.ডি. বিড়লার প্রাসাদ।
ঙ. বিড়লা হাউস এখন গান্ধী স্মৃতি মিউজিয়াম। সরকারি ওয়েবসাইটেই লেখা:
'Gandhiji spent the last 144 days of his life in Birla House, New Delhi'।
এটা কোনো আশ্রম বা কুটির না এই বাড়িটা বর্তমান মূল্য ৪০০-৫০০ কোটি টাকা। গান্ধী সেবাগ্রাম আশ্রম ছেড়ে দিল্লিতে বিড়লার অতিথি হয়েছিলেন।কারণ দিল্লিতে রাজনীতি করতে সুবিধা। কিন্তু প্রচার চলত: 'গান্ধী কুটিরে থাকেন'।
চ. চরকা কাটতেন, কিন্তু আশ্রমের খরচ চলত ধনীদের দানে! গান্ধী চরকা কেটে স্বনির্ভরতার কথা বলতেন। কিন্তু সাবরমতী-সেবাগ্রাম আশ্রম চালাতে মাসে হাজার-হাজার টাকা লাগত।
জি.ডি. বিড়লা, বাজ, সারাভাই পরিবার নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দিতেন। গান্ধী ১৯২৭ সালে লিখছেন:
"I have never hesitated to approach the monied classes for help... Shri Ghanshyamdas Birla has been helping the Ashram from its inception."
—CWMG Vol. 35, p. 156
সরোজিনী নাইডুর মন্তব্য:
"It costs a great deal of money to keep Gandhiji living in poverty."
গান্ধীর স্বীকারোক্তি:
'I am a Bania and there is no limit to my greed for money for the public cause... I have no hesitation in approaching the monied classes. Shri Ghanshyamdas Birla has been helping the Ashram from its inception'.
—Letter to Mathuradas Trikumji, 6 Sept 1927, CWMG Vol. 35, p. 156
খরচের বহর: সাবরমতী আশ্রম, সেবাগ্রাম, 'হরিজন পত্রিকা', সর্বভারতীয় সফর—মাসে লাখ টাকা খরচ। সব আসত শিল্পপতিদের কাছ থেকে।
ছ. :খাদি পরো' বলতেন, কিন্তু নিজে সবসময় খাদি পরতেন না! গান্ধী খাদির জন্য আন্দোলন করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনে মিলের কাপড়ও পরেছেন।
১৯৩১ সালে লন্ডন গোলটেবিল বৈঠকে গান্ধী ধুতি পরে গেছেন। কিন্তু শীতে কাশ্মীরি শাল ব্যবহার করেছেন। শাল খাদি না, মিলের তৈরি। গান্ধীর সহচর প্যারেলাল লিখছেন:
"He had to use a Kashmiri shawl in London because of the cold"।
-Pyarelal, Mahatma Gandhi: The Last Phase, Vol. 1, p. 197
খাদি আন্দোলনের মূল কথা ছিল মিলের কাপড় বর্জন। কিন্তু আশ্রমের অনেকেই পুরা খাদি পরত না, কারণ খাদি মোটা, দামি, আর টেকে কম।
জ. এটা ভয়ংকর! নোয়াখালীতে গেলেন, একা হাঁটলেন, পাঞ্জাবে গেলেন না কেন? ১৯৪৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নোয়াখালী দাঙ্গায় গান্ধী ৪ মাস পায়ে হেঁটে গ্রামে-গ্রামে ঘুরছেন, অনশন করছেন।
কিন্তু ১৯৪৭ সালের মার্চ-আগস্ট পাঞ্জাবে এর চেয়ে ১০ গুণ বড় দাঙ্গা হলো—১০ লাখ মরল, ১ কোটি উদ্বাস্তু। গান্ধী পাঞ্জাব যান নাই।
পাঞ্জাব না-যাওয়ার কারণ! ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ দেশভাগের দিন গান্ধী কলকাতায়। পাঞ্জাব নিয়ে প্রশ্ন করলে ৪ এপ্রিল ১৯৪৭ এ বলেন:
"I want to go to the Punjab. But what can I do? I am a little insect... I am not a free agent"।
—Harijan, 13 April 1947, CWMG Vol. 87, p. 233
৩. এর সমালোচনায় খুশবন্ত সিং লিখেছেন:
"Gandhi's presence in Noakhali saved many lives. His absence from Punjab cost many more. Why did he not go? Because Jinnah did not invite him, and Nehru-Patel did not want him to go"।
—Khushwant Singh, Train to Pakistan, Introduction, 1956
ঝ. সর্বধর্ম প্রার্থনা' কিন্তু গীতা ছাড়া অন্য ধর্মগ্রন্থ পড়তেন না! গান্ধী আশ্রমে সর্বধর্ম প্রার্থনা চালু করেন। কিন্তু প্রার্থনায় রোজ গীতা পাঠ হতো, কোরান-বাইবেল মাঝে মাঝে। ১৯৪৭ সালে দিল্লির মন্দিরে কোরান পড়তে চাইলে হিন্দুরা বাধা দেয়।
প্রার্থনার নিয়ম: মহাদেব দেশাই লিখছেন:
"The Ashram prayer included verses from the Gita, Quran, Zend Avesta, Bible and Buddhist texts. But Gita was recited daily. Others occasionally"।
—Mahadev Desai, The Gospel of Selfless Action, 1946, p. 302
দিল্লির ঘটনা ১৯৪৭: গান্ধী মন্দিরে কোরান পড়তে চাইলে পুরোহিতরা বাধা দেয়। গান্ধী অনশনের হুমকি দেন। শেষে পড়তে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে: মসজিদে গীতা পড়তে চাইছিলেন কখনো? দলিল নাই।
গান্ধীর নিজের কথা:
"I am a Hindu... I find solace in the Bhagavad Gita... I do not accept the Vedas as the inspired word of God... Yet I believe in Hinduism"।
—Young India, 6 Oct 1921, CWMG Vol. 21, p. 246
আলোকিত দিক:
গান্ধীর নড়বড়ে লাঠির মতই আলোকিত দিকের অবস্থা!
১. অহিংসা-সত্যাগ্রহ: বন্দুক ছাড়া সাম্রাজ্য কাঁপানো! ব্রিটিশদের বন্দুকের সামনে খালি বুক পেতে দেওয়া। 'ওরা মারবে, আমরা মরব, তবু মারব না'।
২. লবণ সত্যাগ্রহ ১৯৩০: ২৪ মাইল হাঁটা, সমুদ্রের পানি দিয়া লবণ বানানো। আইন ভাঙ্গা, রক্ত ঝরায় নাই।
৩. ভারত ছাড়ো ১৯৪২: 'Do or Die', গোটা ভারত রাস্তায়। দুনিয়া দেখল বন্দুক ছাড়াও সাম্রাজ্য তাড়ানো যায়। মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করতেন।
৪. অস্পৃশ্যতা বিরোধিতা: হরিজন আন্দোলন! দলিতদের 'হরিজন', ঈশ্বরের সন্তান নাম দিছে। নিজের আশ্রমে ঝাড়ু দিছে, পায়খানা সাফ করেছেন। মন্দিরে দলিত প্রবেশের জন্য অনশন করেছেন। পুনা চুক্তি ১৯৩২, দলিতদের জন্য আলাদা নির্বাচন বাতিল করে সংরক্ষিত আসন এনেছেন। উচ্চবর্ণের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের জাতকেই চ্যালেঞ্জ করছেন।
৩. সরল জীবন: চরকা আর খদ্দর!
বিলাতি কাপড় পুড়িয়েছেন। চরকা কেটেছেন—স্বনির্ভরতার প্রতীক। 'দুনিয়ার সবার প্রয়োজন মিটানোর মতো সম্পদ আছে, লোভ মিটানোর মতো নাই'—এ কথা আজকের ক্লাইমেট আন্দোলনের মূলমন্ত্র।
কুটিরে থাকেছেন, ছাগলের দুধ খেয়েছেন, তৃতীয় শ্রেণিতে ট্রেনে চড়ছেন। ভাইসরয়ের প্রাসাদের সামনে ধুতি পইরা গেছে।
৪. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: নোয়াখালীতে একা হাঁটা! ১৯৪৬/৪৭-এর দাঙ্গায় যখন কলকাতা-নোয়াখালী-বিহার জ্বলছে, ৭৭ বছরের বুড়া একা খালি পায়ে গ্রামে গ্রামে হাঁটছে। 'একটা হিন্দু বাঁচাও, একটা মুসলমান বাঁচাও'।
দেশভাগের সময় দিল্লিতে অনশন করছেন দাঙ্গা থামানোর জন্য, পাকিস্তানরে ৫৫ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য!
No comments:
Post a Comment