মামুনুল হককে নিয়ে আমি যখন এই নিউজটা দেখি তখন আমি ভেবেছিলাম, আনোয়ার টিভি-জানোয়ার টিভি টাইপের এডিট করা কিছু। 'উরিবাবা', এ তো বিজয় নিশান! ভাগ্যিস, টাইমে মিলবে না নইলে এটাও বলে বসতেন, ওখানে যাওয়ার কারণে যে সন্তান জন্ম নিয়েছে সে লড়াই করে হাসিনাকে ফেলে দিয়েছে!
৫০১ নম্বর রুমটাকে তুলে নিয়ে জাদুঘরে রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই!
যাই হোক, পরে মামুনুল হকের সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে দেখি, ঘটনা সত্য!
...সুদীর্ঘ লেখা। সংক্ষেপে বলি:
১. তিনি হাসিনার চালের কথা বলেছেন। অবশ্যই চাল। ভাল চাল! এবং তিনিই এই সুযোগটা করে দিয়েছেন!
বাইরে লাশের সারি রেখে, নৈতিক-অনৈতিক পরের কথা তিনি মাস্তি করতে রিসোর্টে চলে গেছেন। ব্যাড, ভেরি ব্যাড! নেতা হিসাবে ১০০-এর মধ্যে লাড্ডু (০) দিতে হবে আপনাকে!
২. মামুনুল হক লিখেছেন:
"রয়েল রিসোর্টে আরেকজনের নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ:আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে 'আমিনা তাইয়েবা'। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো 'শাহিদা ইসলাম' এবং স্বামী হিসেবে শহিদলু ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করে নি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।"
আপনার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়, মাওলানা সাহেব, এটা একজন মাওলানা সুলভ বয়ান না, অপরাধী মার্কা কথা।
হোটেলে মিথ্যা নাম-পরিচয় এন্ট্রি তাও আইডির দিয়ে! বাংলাদেশে হোটেল/রিসোর্টে থাকার সময় সঠিক NID তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। ডিয়ার মাওলানা, আরও অনেক আইনের ফাঁদে পড়বেন আপনি। আমি কেবল নিরীহ আইনই বলি:
ক. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪১৬ ও ৪১৯ ধারা: আপনি যদি নিজের পরিচয় গোপন করে অন্যের এনআইডি কার্ড নিজের দাবি করে হোটেলে রুম বুক করেন, তবে সেটি 'ছদ্মবেশে প্রতারণা'।
শাস্তি: ৪১৯ ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
খ. সাধারণ প্রতারণা (Cheating) দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা: হোটেল কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণামূলকভাবে রুমের সুবিধা গ্রহণ করার অপরাধ এই ধারায় পড়ে।
শাস্তি: এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
মাওলানা সাহেব লিখেছেন:
"ফোন কলে প্রথমার কাছে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গ:আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যে ভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো সেটা করতে পারি নি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ হিসেবেই চিনত।"
অর্থাৎ, তার প্রথম স্ত্রী ঘুণাক্ষরেও জানেন না যে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন! আবার মামুনুল হকও তখন পর্যন্ত বলছেন না যে তার সাথে থাকা মহিলা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। কেবল তাই না তিনি অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথম স্ত্রীকে কুপরামর্শ দিচ্ছেন:
৩. মাওলানা সাহেব এটাও লিখেছেন:
জান্নাত আরা ইতিপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃরহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে।
আহারে, চোখে পানি চলে এলো! তিনি ডিভোর্সি-একজন অসহায় মহিলাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এই যে তিনি বললেন, '...বনিবনা না-হওয়ায় উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়'।
বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম আছে:
![]() |
| মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961, ধারা: 7(2) |
এই বিবাহবিচ্ছেদ কোথায় ঘটল, কীভাবে ঘটল এর পক্ষে নিশ্চয়ই কাগজপত্র-তথ্যপ্রমাণ আছে। আমরা সবিনয়ে দেখতে চাই।
১. চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিলে!
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961, ধারা: 7(2)
শাস্তি: সর্বোচ্চ ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা ১০,০০০০ টাকা জরিমানা, অথবা দুইটাই।
এবং তালাক আইনত কার্যকর হবে না।
![]() |
| 1974 ধারা ৫, উপধারা ৪ |
২. কাজীকে ৩০ দিনে না-জানালে!
মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন 1974, ধারা: 5(4)
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর জেল, অথবা ৩০০০টাকা জরিমানা, অথবা দুইটাই।এবং তালাক রেজিস্ট্রি হবে না।
এই কাগজগুলো যদি আপনি বা আপনারা না-দেখাতে পারেন তাহলে আপনার দাবী মতে, আপনার প্রথম স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদই হয়নি! তাহলে আপনি আরেকজনের বউকে বিয়ে করেন কেমন করে! স্পষ্টত আপনাদের এই সম্পর্ক অবৈধ!
৪. মাওলানা সাহেব আরও লিখেছেন:
"...ধিক এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে!ধিক এই সুশীলতাকে!!ধিক এই দ্বিচারিতাকে!!!এখনো যারা এই নির্মম রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে হাসিনার নির্লজ্জতাকে বৈধতা দেয়, তাদের নীতি নৈতিকতা কোন লেভেলের? নাকি নীতি নৈতিকতা শুধু লুঙ্গির তলেই থাকে?রাষ্ট্র চেয়েছিল করতে আমাকে ধ্বংসআল্লাহ করেছেন আমাকে রক্ষা..."
এখানে কয়েকটা কথা এসেছে, ধিক-ধিক-ধিক, লুঙ্গি, হাসিনা, আল্লাহ...! একজন মানুষ অপরাধির মত তার পরিচয় লুকাবেন আবার রাষ্ট্রকে ধিক্কার জানাবেন, ভাল-ভাল! ওই প্রবাদটা মনে পড়ে গেল, 'উল্টা চোর কোতয়ালকো ডাটে'—চোর পুলিশকে ধমকায়! লুঙ্গির প্রসঙ্গে আর গেলাম না, যারা লুঙ্গি পরে এদেরই লুঙ্গি খুলে যায় কারণ লুঙ্গিতে বেল্ট থাকে না। আর আল্লাহ রক্ষা করেছেন! বটে, আপনি জিন্দা অলি যে...!
কোন প্রকারেই এটা প্রমাণিত হচ্ছে না যে ওই সময়ে এই ভদ্রমহিলা আপনার 'ইস্তারি সাহেবা'! আপনি বলছেন, আপনার বিবাহিত স্ত্রী অথচ আপনার সেই স্ত্রী অস্বীকার করছেন।আপনার পূর্বের অর্ধাঙ্গিনীও জানেন না—তাহলে কে জানে, রাষ্ট্রও জানে না? সাথের মহিলা যে আপনার স্ত্রী এটা আপনি প্রমাণ করতে পারেননি! এটা কেবল আপনিই জানেন!
অবশ্য আপনি রাষ্ট্রকে স্বীকার করেন না!
এখানে আপনি লিখেছেন:
"রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়। আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি।"
আচ্ছা-আচ্ছা, এখন তাহলে আপনার প্রথম স্ত্রীর সম্মতির প্রয়োজন হয়! এখন আবার দেখি রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োজন দেখা দিল! ইসলামে কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়, ভাল। তবে ইসলাম মানলে আক্ষরিক অর্থে মানবেন—রিসোর্টে কেন গেলেন ওখানে তো অনেক বেলেল্লাপনা হয়; উঠবেন সরাইখানায় বা তাবু খাটিয়ে থাকবেন। সামনে বেধে রাখবেন উট। চলাচলের জন্য!
বাহ, আপনার স্ত্রী জানে না এমনকি রাষ্ট্রও জানে না! তো, এই বিষয়ে আইন হচ্ছে:
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ - ধারা ৫।
১. কাজী বিয়ে পড়ালে সাথে কাবিন লিখবে।
২. কাজী ছাড়া বিয়ে হলে বর ৩০ দিনের মধ্যে কাজীকে জানাবে।
৩. না জানালে/না লিখলে শাস্তি: ২ বছর জেল অথবা ৩,০০০ টাকা জরিমানা।
মূল কথা: কাবিন ছাড়া বিয়ে বৈধ। কিন্তু রেজিস্ট্রি না-করলে কাজী-বর এর জেল/জরিমানা হবে।
এখন কথা হচ্ছে, মাওলানা সাব, আপনি আমাদেরকে যেভাবে বোঝাচ্ছেন—ঠিক অন্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সেক্স ওয়ার্কারদের সাথে যারা-যারাই ধরা পড়বেন প্রত্যেকেই বলবেন, আমি বিবাহিত। সাথের মহিলা আমার বউ। ব্যস, মামলা ডিসমিস! এবং যারা যেনা করবেন তারাও ৪জন না অসংখ্য সাক্ষী থাকার পরও বিবাহিত বলে গোঁফে তা দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। কেবল মুখে বলে দেবেন, আমি বিবাহিত। ব্যস! বরং যারা আটক করবেন তারা বিপদে পড়বেন!
মামুনুল হক তার এফবি আইডিতে সুদীর্ঘ লেখা লিখেছেন। পুরো লেখাটার 501 Mamunul hoque, Pdf এখানে:








No comments:
Post a Comment