Thursday, January 26, 2012

অপুষ্ট জাতি!

­আমি এক লেখায় বলেছিলাম, "...ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। ফি-বছর নিয়ম করে বাচ্চা! এখন আমাদের লোকসংখ্যা কত? ১৬ কোটি কি ছাড়িয়ে গেছে? আফসোস, আমাদের দেশে ৬ মাসে বাচ্চা হওয়ার কোন সুযোগ নেই নইলে আমরা অনায়াসে ভারত-চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারতাম। আরেক সুপার পাওয়ার হয়ে উঠতাম।  [১]
...স্বাস্থ্যসচিব হাইকোর্টে হলফনামা দিয়েছেন, এই দেশের সব দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত [২]
তিনি যখন হলফনামা দিয়ে এটা বলছেন অবিশ্বাস করার সুযোগ কোথায়! কিন্তু আগেও বলেছি, আবারও বিষাদের সঙ্গে বলি, স্বাস্থ্যসচিব মহোদয় কেবল ওই হরিজনপল্লীতে কথা বললে হলফনামা বদলাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন :)
যাই হোক, সমস্ত দোষ সরকারের উপর চাপিয়ে দেয়াটা কোনো কাজের কাজ না। এটা সত্য, তিনি সত্য গোপন করেছেন কিন্তু কেবল তাঁকে এই দায়ে দায়ী করা চলে না। এটা অণ্তত আজ স্বীকার যাই।


এর নাম তানিয়া। বয়স কত হবে, ১২/১৩/ ১৪! একে আসতে-যেতে কখনও হয়তো দেখেছি, কোলে একটা শিশু। নিশ্চিত ধারণা ছিল ছোট ভাই-টাই হবে। কোনো পরিবারের বড় মেয়ে তার ছোট ভাই-বোনকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এতে তো অবাক হওয়ার কিছু নাই। যথারীতি ভুলে গিয়েছিলাম।
আমার ভাবনার ভুবন এলোমেলো করে দেন মসজিদের ইমাম। আগের এক লেখায় বলেছিলাম [৩], প্রবাস একজন কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন কোরবানির জন্য। ওখানে যে ২০জন পরিবারের নাম দেয়া হয়েছিল এই ইমাম সাহেবই অন্য কিছু নামের সঙ্গে এই মেয়েটির নামও যুক্ত করেছিলেন। এই ২০জনের মধ্যে একে রাখার যুক্তি কি জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, স্বামী ফেলে গেছে, ছোট একটা বাচ্চা।
আমি হতভম্ব-হতবাক! ছোট বাচ্চা মানে, এই মেয়েটার!
হা ঈশ্বর, যে মেয়েটা নিজেই একটা বাচ্চা এই মেয়েটাই দস্তরমতো একজন মা! তখন আমি ইমাম সাহেবের কথার উপর কথা বলিনি।

কিন্তু মনের কোনে একটা সন্দেহ কাজ করছিল, ইমাম সাহেব হয়তো কোথাও একটা ভুল করছেন। তক্কেতক্কে ছিলাম। কিন্তু তিনি যখন বললেন, আরে ভাই, এই বিবাহ তো আমিই পড়িয়েছি। ওয়াল্লা!
আমি রাগ চেপে বললাম, আপনি কেমন করে এই কাজটা করতে পারলেন? আপনি কি জানেন না অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে বিয়ে পড়ানো আইনত অপরাধ? তিনি বিজবিজ করে যা বলেছিলেন তার কোনো আদৌ অর্থ হয় না। অল্প কথায় বললে এই বিষয়ে তাঁর সচেতনতার যথেষ্ঠ অভাব আছে। অথচ এই ইমাম সাহেবকেই আমি দেখেছি কোরবানির ওই প্রসঙ্গ নিয়ে কী অসাধারণ ভূমিকাই না পালন করতে [৩]। সেখানে তিনি একজন আধুনিক ইমাম।

আমার মনে হয়, স্বাস্থ্যসচিব মহোদয় কেবল হলফনামায় আটকে না-থেকে এই সব ইমাম সাহেবদের সঙ্গে বসলে কাজের কাজ হয়। ইমাম সাহেবদের মাথায় এটা আলগোছে তুলে দেয়াটাও জরুরি শত-শত বছর আগে ১২ বছরে বিবাহ হত বলে এখনও ১২ বছরে বিবাহ হলে সমস্যাটা কোথায়।

আমি ডাক্তার নই, ডাক্তারি জ্ঞানও আমার নাই কিন্তু চোখ বন্ধ করে এটা বলে দেয়া যায় এই বয়সের মেয়েদের অর্গানগুলো তার শরীর, মা হওয়ার জন্য এখনও পুরোপুরি তৈরি না। পরবর্তী জীবনে এই মেয়েটি যেসব উপসর্গে ভুগবে ক্রমশ তার আয়ুরেখা কমে আসবে। জন্ম দেবে অপুষ্ট সন্তান, যে সন্তান বড়ো হবে দুর্বল একজন মানুষ হিসাবে। আমাদের এটা ভুললে চলবে না আমাদের মত দু-পাতা পড়ুয়াদের সংখ্যা আশংকাজনক কম!

শিশুটির ছবি ভাল এসেছে এ সত্য কিন্তু যন্ত্র তো যন্ত্রই! কোনো এক বিচিত্র কারণে ক্যামেরা এই শিশুটির বুকের পাঁজর এবং একগোছা তাবিজের ছবিটা তুলতে পারেনি। যন্ত্র এবং মানুষের মধ্যে এখানেই পার্থক্য...।

 সহায়ক সূত্র:
১. কথার বেলুন: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_25.html 
২. প্রথম আলো: http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=3&date=2010-09-27
২. ইমাম...: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post.html 

No comments: