Saturday, July 5, 2008

ওড়া, তোরা সব কেতন ওড়া।

দেখে যেতে কি পারব, বাংলার ঘরে ঘরে কেতন উড়ছে পতপত করে? কি জানি, সময়ই এটা ঠিক করে দেবে। তবে দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি আশাবাদী।


ফ্রান্স দেশটা নাকি লা-জবাব। প্যারিস নাকি আরেক কাঠি সরেস। কেন নয়, ফ্রান্স থেকে প্যারিসের দূরত্বই বা কী(!), প্যারিসের তুলনা এ গ্রহে আর কোথায়! প্যারিসে না গেলে নাকি মননশীল বলে দাবি করাটা পাগলামির পর্যায়ে পড়ে। শিল্প-টিল্পর সূতিকাগৃহ- প্যারিসের গর্ভযন্ত্রণার নাকি শেষ নাই, কী কষ্ট! মেলা খরচ, নইলে ঠিক প্যারিসগামি হাওয়াইযানে উঠে পড়তুম। বসার জায়গা না পেলে দাঁড়িয়ে গেলে আটকাত কে(!)


এই ফ্রান্স যা দেখাল সম্প্রতী, পাথর হব, না নিথর এটা নিয়ে থিসিস সাবমিট করা যেতে পারে। এক মোছলমান বাসর রাতে আবিষ্কার করেন তাহার ইস্তারি সাহেবার হাইমেন নাই। তো? যাহ, তোর লগে ভাত খামু না। ফলাফল বিবাহ ভাংগিয়া দিতে চাহি। ওই মোছলমান-বাদীপক্ষের আইনজীবী হ্যাভিয়ার লাব্বির আবেদনে প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের আদালত ওই মোছলমানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এমনকি ওই দেশের বিচারমন্ত্রী রাসিদা দাতিও ওই মোছলমানের পক্ষে তার মত দেন।


মোছলমানের দেশ বলে কথিত দেশগুলোর অনেক দেশে কঠিন নিয়ম করে যেটা পালন করা হয় সেটা হচ্ছে, কনের মাথায় গ্রে-মেটার আছে কি নাই সেটা আলোচ্য বিষয় না, হাইমেন থাকলেই হল, ব্যস। জ্বালানী তেলেভাসা পুরুষপুঙ্গব ব্যাটাদের বোঝাবার সাধ্য কার, হাইমেন অটুট না থাকার হাজারো সাধারণ কারণ থাকে। কেবল শৈশবের দৌড়-ঝাপই যথেষ্ঠ।

আহা, তাই বুঝি মেয়েদের শান্ত-শিষ্ট থাকতে বলা হয়? নইলে মুরুব্বীরা যে বড় নাগ(!) করেন।
এখনও চালু আছে কি না জানি না, ইরাকে ১০ বছর আগেই নিয়ম ছিল, বরের বাড়িতে উঁচু করে ঝোলানো আসল(ভালবাসা-বাসির ফসল) কাপড়ের লাল নিশান। যেন সবাই জেনে যেতে পারে বরের ইস্তারি সাহেবার হাইমেন অটুট।
আমি সেদিন পরম করুণাময়কে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম, আমার জন্ম সেই দেশে হয়নি বলে। ওহো, এটা বলিনি বুঝি, চুপিচুপি কতবার যে গডের কাছে বলেছি ফ্রান্স-ট্রান্সে জন্ম নিলাম না কেন, কি মোর অপরাধ!

মো: কদু আর মো: বিড়াল, এইসব নিয়ে আমাদের দেশ যেভাবে এগুচ্ছে, ইনশাল্লা, অচিরেই দেখব বাড়ি বাড়ি কেতন উড়ছে, লাল…।