Search

Saturday, December 27, 2025

আমাদের এক (নি...) ভিসি!

একটা দেশ সম্বন্ধে জানতে হলে প্রথমে তাকাবেন এয়ারপোর্টের দিকে, এরপর শিক্ষাঙ্গন। কে চালাচ্ছে, কীভাবে চালাচ্ছে?

ভাবা যায়, ইনি  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০তম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। প্রায় ৪৫ হাজার  ছাত্র-ছাত্রীর মা-বাপ!
ইনি এই ভিডিও ক্লিপে বলছেন:
প্রথম শিশু মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেশিশু তারেক, শিশু আরাফাত!

এই যে ইতিহাস বিকৃতি, এই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসত্য প্রলাপ, এই কারণে এই মানুষটার শাস্তি হবে না?


বেচারা, মনে হয় তারেক জিয়ার বাসের সামনের উইন্ডশিল্ড-এর উপর দিয়েই  হ্যান্ডশেক করতে চেষ্টা করেছিলেন। হ্যান্ডশেকের বদলে 'গলাশেক' মানে গলাধাক্কা খেয়েছেন। বেচারা!

* সদয় অবগতি: (নি...) দিয়ে 'নিরীহ' হয়, (নি...) দিয়ে নির্ভিক হয়, 'নির্বোধ'ও হয়। প্রয়োগ পাঠকের বিবেচনা...।

Thursday, December 25, 2025

আমাদের এক দানব, শহিদুল আলম!


* কৃতজ্ঞতা, স্ক্রিন শট: জনাব, শহিদুল আলমের ফেসবুক পোস্ট। 

The tree that the corpse of Dipu Chandra Das was hung from and set on fire, was in the divider in the middle of a busy road. It happened in public and was allowed to happen! 

দিপু চন্দ্র দাস নামের নিরীহ একটা মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে, উলঙ্গ করে, প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এবং শত-শত মানুষ যে ভঙ্গিতে ভিডিও করেছে তা এই গ্রহের কোন যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা চলে না। 


কেবল তাই না, তাঁর লাশ সৎকারেও বাধা দিয়েছে, তাঁর স্বজনদেরকেও আহত করেছে!

কিন্তু আমাদের মহান শহিদুল আলম এর-এক 'মহা চুতিয়া' ব্যাখ্যা দিয়েছেন!

I understand how angry people are and the resentment towards the authoritarian Sheikh Hasina and her regime, as well as against India for sheltering killers, ...

ইনি নাকি বুদ্ধিজীবী! ইনি নাকি মানবিক মানুষ! আমার কাছে শহিদুল আলমকে মনে হচ্ছে, এ স্রেফ একটা চলমান দানব! মানবের ছাল গায়ে এক দানব!

এদিকে আবার মানবিক পাগড়ি জড়াবার চেষ্টা করছেন এটা বলে:

but we cannot replicate the fascist behavior ourselves. That is not the Bangladesh we dream of...

অথচ তিনি বাটন-ফোন ব্যবহার করতেন। এবং কোথাও এই তথ্য পাওয়া যায়নি তিনি 'সো-কলড' ধর্মীয় অবমাননা করেছেন! এখন যারা তাঁকে এমন নির্মম ভাবে পিটিয়ে মেরেছে, তাঁকে জীবিত ফিরিয়ে দিলেই হয়! 


এদিকে মুফতি কাজি ইব্রাহিম যখন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির কথা কোরানে আছে, সুরা ইউসুফে, তখন কিন্তু তৌহিদি জনতা কাজি ইব্রাহিমের গোপন কেশও স্পর্শ করতে পারেনি!

একজন দিপু চন্দ্র দাস কেমন করে সময়কে থামিয়ে দেন, কেমন করে একটা সভ্যতাকে অন্ধকার ভুবনে নিয়ে যান, কেমন করে গোটা একটা দেশকে উলঙ্গ করে দেন তা ছোট্ট এই ভিডিও ফুটেজে ফুটে উঠে।

** যে-কাউকে আমি নিষেধ করব এই ভিডিও ক্লিপটা দেখার জন্য। এটা দেখে কেবল আমার মনে হচ্ছিল, ইচ্ছামৃত্যু থাকাটা খুব জরুরি ছিল!এই পোস্টের একদম নীচে দিয়ে দিচ্ছি যাতে চট করে কারো চোখে না পড়ে।

কিন্তু, তবুও চাচ্ছি, এখানে থাকুক এটা। বাস্তবে আমরা আসলে কেমন এটা বুঝতে খানিকটা সুবিধা হবে...।

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.



Tuesday, December 16, 2025

আহারে পতাকা এবং আমাদের বিজয় দিবস—স্বাধীনতা দিবস!

গত ২৬শে মার্চে যে লেখাটা লিখেছিলাম, পতাকা ছিনতাই [], ঠিক এই লেখাটাই হুবহু কপি-পেস্ট করে এখানে বসিয়ে দেওয়া যায়!

আহা, আহারে বেচারা পতাকা! ওদিন ২৬ মার্চে চারপাশে কোথাও পতাকা ছিল না, আজ ১৬ ডিসেম্বরও একই! দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর-পূর্ব, কোথাও নাই!





কোনটা যে ঠিক আর কোনটা যে বেঠিক জলের সঙ্গে পানি মিশে একাকার:



মুক্তিযুদ্ধের 'জয় বাংলা' যেমন করে আওয়ামী ট্যাগ খেয়ে অস্পৃশ্য হয়ে গেল তেমনি গতি হচ্ছে পতাকার—এক টুকরো কাপড়!

কেউ-কেউ জাঁক করে বলার চেষ্টা করে, ২৪ বড়, না ৭১? ওরে চুতিয়া, তার চেয়ে বল, ছেলে বড়, না বাপ বড়?

এদের আস্ফালন দেখার মত। এ বলছে মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ ইতিহাস মিথ্যা! [১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫]:


রাজাকার তো দূরের কথা ভবিষ্যতে 'র' শব্দও উচ্চারণ করা যাবে না:



অল্প শিক্ষিতদের নাহয় বাদ দিলাম কিন্তু একজন শিক্ষক যখন এমনটা বলেন তখন তাকে 'অমায়িক চুতিয়া' না-বলে পারা যাচ্ছে না!

এই যে আরেকটা, ব্যা, ব্যা ফুয়াদ। এই বদ্ধ উম্মাদ বলছে,
১৬ ডিসেম্বরকে আমি বিজয় দিবস মানি না!
আমি ভয়ে-ভয়ে আছি, কোন দিন না এ বলে বসে আমি আমার বাপ-মার কাবিননামা মানি না! অতঃপর; ইশ, ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি...!

এই দেশে নষ্ট হওয়ার প্রতিযোগতায় কেউ পিছিয়ে নেই! মুক্তিযোদ্ধা আখতারও ভেসে থাকা ভেসে থাকা 'ইয়ে' সরিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন :


৭১-এ এরা যেমন ধর্মকে বিক্রি করত ২৫-এ তাই! ভাবা যায়, একজন ব্যারিস্টার, বিলাত থেকে পড়ে আসা একজন মানুষ বলছে, জান্নাতে যেতে চাইলে জামাত-ই-ইসলাম করতে হবে:


একজন সাদি মহাম্মদ মরে বেঁচে গেছেন। গা ঘিনঘিনে গু-পোকাদের এই ক্ষমতা নাই একজন সাদি মহাম্মদের কষ্ট ধারণ করে। একজন ইমতিয়াজ বুলবুলকে স্পর্শ করতে পারে:


সব কিছু ভেঙে পড়ে তবুও এমন অপার আনন্দের দৃশ্য যখন দেখি তখন আশায় বুক বাঁধি:


সূত্র:
০. পতাকা ছিনতাই https://www.ali-mahmed.com/2025/03/blog-post_26.html?m=1

১. সাদী মহাম্মদhttp://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
২. মশিহুর রহমানhttp://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৩. সুরুয মিয়াhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. উক্য চিংhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৫. ভাগিরথীhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৬. প্রিনছা খেঁhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৭. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
৮. দুলা মিয়াhttp://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
৯. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালাhttp://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
১০. মুক্তিযুদ্ধে  সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
১১. নাইব উদ্দিন আহমেদhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
১২.  একজন ট্যাংকমানবhttps://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html  
১৩. ফাদার মারিনো রিগনhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
১৪. শুয়োর চড়ানো একজন...:  https://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_1.html?m=1
১৫. লালুhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html

...



Sunday, December 14, 2025

জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি...

লেখক: Ibrahim khalil Sobak (সবাক): (https://www.facebook.com/share/1BbMt6XzyB/) [লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে]

"জরুরি সংবাদপত্র বহনকারী সিএনজিতে করে ফিরছিলাম। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়াতেই দু'পাশে দু'টি মোটরসাইকেল এসে থামে। তারপর গুলি করে। আমি সিটের ওপর ঢলে পড়ি। উপস্থিত সাধারণ মানুষ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্যাপারটা নিশ্চয় আপনি জানেন?

তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, জানি-জানি। ঘটনা দুপুরে ঘটেছে, তাই তো'?

আমি বলি, 'জ্বি'।

'সেক্ষেত্রে তোমার জন্য জুরাইনে দাফনের জায়গা করা হয়েছে, তুমি সেখানে চলে যাও'?

'এখনই যেতে পারবো না। আমার একটা জরুরী কাজ আছে'।

তিনি আবারও বলেন, 'সব কাজ শেষ না-করে এভাবে মরতে গেলে কেন? এখনতো ঝামেলা হয়ে যাবে'!

আমি কাতর হয়ে বলি, 'দেখুন, আমার ছেলে জানালা দিয়ে খেলনা কবুতর ফেলে দিয়েছে। কেউ তাকে সেটা তুলে এনে দেয়নি! এখন সে কান্না করছে। ...আচ্ছা, আমার ছেলের নামটা যেন কী? না থাক, আপনি বরং আমার বাসার ঠিকানাটা বলুন, আমি বাসায় যাব। বিশ্বাস করুন তাকে খেলনা কবুতরটা তুলে এনে দিয়েই সোজা জুরাইন চলে যাব। কসম'!

তার চোখে খানিকটা অবিশ্বাস, 'কিন্তু, তুমি যে ঠিকঠাক জুরাইনে গিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়বে, তার গ্যারান্টি কী? রেকর্ড দেখে তো তখন মনে হয় না পৃথিবীতে তোমার কোনো কাজকর্ম আছে; সবসময় একজন কর্তব্যহীন দাসের মতো গায়ে বাতাস লাগিয়ে হাঁটতে। এখন এসব বলে কোনো লাভ হবে না, বলো'!

'কিন্তু, আমার বাসার ঠিকানা তো এত দীর্ঘ না। ঠিকানার আগে পরে কোনো প্রশ্ন অথবা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন নেই। আপনি কি আমার সাথে প্রতারণা করছেন'?

তার কন্ঠে খানিকটা উষ্মা, 'কথা না বাড়িয়ে তুমি এখনই জুরাইন চলে যাও—যত দ্রুত সম্ভব। শহরের মানুষজন টের পেলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। মৃত্যুর পর এভাবে টং দোকানে বসে চা খাওয়া যায় না, বুঝলে! এটা উচিত না!

'দেখুন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের টান আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে ঘুমায়। আমি না-গেলে আর কেউ বাসার পেছন থেকে তার এই ভালোবাসার কবুতরটা এনে দেবে না। কবুতর এনে না-দিলে আমার ছেলেটা ঠিকমতো খাবে না, ঘুমাবে না। অনিয়ম করতে করতে সে শুকিয়ে যাবে, শরীর নষ্ট হয়ে যাবে।

তার বড় তাড়া, ' শোনো, এখান থেকে ...ওই যে লাল বাসটায় উঠলে তোমাকে জুরাইন নামিয়ে দেবে। বাসের কেউ তোমাকে দেখবে না, কন্ডাক্টরও ভাড়া চাইবে না। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি নতুন কবরের পাশে নেমে যেও'।

আমি বিরক্তি গোপন করে বলি, 'আমার বাসার ঠিকানা না-দিয়ে আপনি চায়ের অর্ডার দিচ্ছেন কেন? এই... এই... আপনি চা খাবেন না, বাসায় যাওয়ার জন্য আমাকে কোন রঙের বাসে উঠতে হবে বলুন, আমি পাশাপাশি দুটি জারুল ফুলের গাছ দেখে আমার বাসা চিনে নেব; আপনি শুধু বাসটা ধরিয়ে দিন'।

'লাল বাস! জুরাইন যাওয়ার জন্য লাল বাসে উঠতে হবে'।

'আহা, প্রতারণা করবেন না। আপনি সিগারেট ধরাবেন না। কোন রঙের বাসে উঠে বাসায় যাব, বলুন। এক্ষুনি বলুন'!

তিনি এবার নরোম গলায় বলেন,  'জুরাইনগামী লাল রঙের বাসটি দাঁড়িয়ে আছে, তুমি যাও। আরে, যাও তো'!

'এই, এ-এ-এই..., আপনি কিন্তু এখনই দোকানদারের টাকা শোধ করবেন না। দোকানদারকে টাকা দিয়ে চলে যাবেন না। দয়া করে আপনি আরও এক কাপ চা খান, আরও একটি সিগারেট ধরান। আরও এক দণ্ড... এই যে, এখানটায়... এখানটায় বসুন। আর আমার বাসার ঠিকানাটা দিন।দোহাই লাগে, এভাবে চলে যাবেন না। বাসার ঠিকানাটা দিয়ে যান।

দেখুন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের প্রেম আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে ঘুমায়। আহা, আমি না-গেলে আর কেউ বাসার পেছন থেকে তার ভালোবাসার কবুতর এনে দেবে না। কবুতরটা এনে না-দিলে আমার ছেলে ঠিকমতো খাবে না, ঘুমাবে না। অনিয়ম করতে করতে সে শুকিয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে।

বুঝলেন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের প্রেম আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে...।"

(২০১৩ সালে যখন মৃত্যু তাড়া করে ফিরতো, তখন লেখা)

-লেখক: Ibrahim khalil Sobak (সবাক): (https://www.facebook.com/share/1BbMt6XzyB/)

Sunday, December 7, 2025

স্মরণে, আবুল হাসান।

লেখক: মুহম্মদ নিজাম (লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে)

"একবার খুব মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নর্দমায় পড়ে গিয়ে বাজখাঁই গলায় কৈফিয়ত চেয়েছিল:

"আকাশ এত নোংরা কেন রে, বাঞ্চোৎ?"

গালিটা সে কাকে দিয়েছিল, জিজ্ঞেস করেনি কেউ। উত্তরটা তাই অজানাই রয়ে গেলো!

আবুল হাসান নামে এক আশ্চর্য নীলকন্ঠ কবি এসেছিল একবার আমাদের শহরে। সে বলতো: 

"..মানুষ 

যদিও বিরহকামী, 

কিন্তু তার মিলনই মৌলিক।"

আবুল হাসান মারা গিয়েছিল আমাদের চেয়েও কম বয়সে। বেঁচে থাকলে এখন নিশ্চয়ই কেউ তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলতাম; কেউ বলতাম, ভারতের দালাল। 

ডানে গেলে বামের কামড়, বামে গেলে ডানের। 

মরে গিয়ে বেঁচে গেলো 'মালটা'!

সেও হয়তো গুণের মতো পুরষ্কার ভিক্ষা চেয়ে নিন্দিত হতো, কিংবা 'তুই রাজাকার' শ্লোগান দিয়ে 'শাহবাগী তুই গোসল কর', জাতীয় উষ্মাভস্মে চাপা পড়ে যেতো। 

কিংবা আমীর হামজার মতো রসময় সুরে 'রেশমিকা মান্দানা' বাজাইতো। হয়তো আগস্টের সেই দিনগুলিতে মেট্রো ভাঙার কিংবা বিটিভি পুড়ানো দুঃখে কাতর হয়ে উঠতো—কিংবা মাজারভাঙা এনার্কিস্টদের দিকে তাকিয়ে তীব্রস্বরে বলে উঠতো, 'আবার তোরা মানুষ হ'!

বেঁচে থাকলে কি হতো, আমরা জানি না। তবে যাই হতো, মন্দ-ই হতো এইটা নিশ্চিত জানি!

শুনেছি, লোকটা খুব সুর করে কোরআন পড়তে জানতো। প্রায়ই শোনাতো নাগিরক জলসায়, এখানে-সেখানে..., এমনকি ওর প্রিয়তম মেয়েটির বাবাকেও! 

মানুষ যদিও জীবনেই অমরত্ব খোঁজে, কিন্তু একমাত্র মৃত্যুই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

মরে গিয়ে বেঁচে গেলো লোকটা?

'যাই' শীর্ষক ওঁর একটা কবিতা ছিল। একাত্তরের কবিতা। দূরসঞ্চারী এক বিষাদের সুরে বলেছিল,

'যাই, এখন তাদের শরীরে শস্যের আভা ঝরে পড়ছে যাই...

মৃত্যু আর মৃত্যু আর মৃত্যুর আঁধারে যাই,

বিবর্ণ ঘাসের ঘরে ফিরে যাই, যাই

সেখানে বোনের লাশ, আমার ভাইয়ের লাশ খুঁজে নিতে হবে যাই,

আমি যাই-'

শুনেছি,  একাত্তরের সেই ঘাতক-হানা রাতে ঢাকা মেডিকেলের কোন-একটা নোনাধরা কামরায় শুয়ে-শুয়ে অসুখের সাথে সংসার করছিল। কিন্তু অসুখটা সারে নাই। এই অসুখেই পঁচাত্তরে মারা গেলো। তখনই কতই বা ওর বয়স? মাত্র আটাশ!

আটাশে নিঃসঙ্গ যুবক জেনে গিয়েছিল, 

"মানুষ একা 

মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ একা!"

চেয়েছিল, পাখি হয়ে যাক প্রাণ।তারপর পাখি হয়েই উড়ে গেলো অনন্ত আলোকের দেশে। 

গতকাল আমার এক বন্ধুকে ওঁর একটা ছবি দেখালাম। সে বললো, 'শাহাবাগীদের মতো লাগে'! তারপর ওঁর কিন্নরী সুরে কোরআন পাঠের কাহিনী শুনালাম, সে বললো, 'তাইলে, নিশ্চয়ই শাপলা ছিল'!"

চিন্তা করেন অবস্থা!

গতরাতে, অনেক রাতে, বৃষ্টিতে কাকভেজা, ভিজে-ভিজে ফেরার পথে পড়ছিলাম আবুল হাসানের অমৃত অসুখের কথা, 

'ঝিনুক নীরবে সহো 

ঝিনুক নীরবে সয়ে যাও

ভেতরে বিষের বালি

মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও!' 

আর ভাবছিলাম, 'মরে গিয়ে বেঁচে গেলে, হে মহান প্রতিভা'!"

- লেখক: মুহম্মদ নিজাম 

বাংলাভূমি, সেপ্টেম্বর ২০২৫"

Tuesday, December 2, 2025

অজ্ঞ বাউল বনাম আমাদের বিজ্ঞজন...!

একজন বাউলের পালাগান-বিচারগান নিয়ে দেশ উত্তাল—কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে!

এখানে বাউল আবুল সরকারের একটা ক্লিপ দিচ্ছি। এখানে প্রসংগক্রমে 'সুরা নাসের' [*]কথা বলা হয়েছে:


এটা অনেকের ধর্মানুভূতিতে মারাত্মক আঘাত করেছে। এই ভিডিও ক্লিপটা খুব ভাল করে দেখা-শোনার পরও কারও যদি এমনটা মনে হয়ে থাকেও, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করার খুব একটা ইচ্ছা আমার ছিল না:

কিন্তু..., এই ক্লিপটা দেখার পর মনে হচ্ছে খানিকটা বাতচিত করাটা জরুরি। এই মানুষটার নাম-বিস্তারিত জানি না এই কারণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু মানুষটা পোশাক দেখে অনুমান করি 'ওটির চাপরাশি' টাইপের কেউ হবেন না, ডাক্তারই হবেন কারণ ইংরেজিতে খই  ফোটাচ্ছেন।

বেচারা! এপ্রোনটা খোলারও সময় পাননি! আশা করছি, অপারেশনটা শেষ করার পর-পরই 'শব্দের গোলা' দেগেছেন। 'খোদা-না-খাস্তা' অপারেশনটা অসমাপ্ত রেখে বা জোশের চোটে অক্সিজেনের পাইপে পা রেখে থাকলে রোগির তো 'রাম-নাম সাত্যা' হয়ে গেছে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, এই পৃথিবীতে হাজারো বিষয় থাকতে ধর্মীয় বিষয় এড়িয়ে যাওয়াটাই সমীচীন কারণ আমাদের বাপ-দাদাদের চেয়ে আমরা এখন অনেক ধার্মিক হয়ে গেছি!

আমি এটা বলছি না, বাউল আবুল সরকার সমস্ত সমালোচনার বাইরে তাঁর সমালোচনা করেন, কঠিন সমালোচনা করেন, সমস্যা নাই। 

তবে, প্রত্যেকের জন্যই এটা মানাটা জরুরি, আপনি কি বলছেন, কেন বলছেন, কোথায় বলছেন, কার সঙ্গে বলছেন, কোন সময়ে বলছেন! এটুকু সেন্স না-থাকলে মুখ না-খোলাটাই সমীচীন।

তাঁর সহধর্মিণী এবং সহশিল্পী আলেয়া বেগম বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। কী অসাধারণ তাঁর বোঝাবার ভঙ্গি! আমি কান পেতে রই।


আজ যারা তাঁকে বা বাউলদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন এবং কী সগর্বেই না বলা হচ্ছে, 'আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, বাউলদেরকে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে...':

বেশ-বেশ! আচ্ছা, বাউল-টাউল ব্যতীত অন্যদের নিয়ে আপনাদের ধর্মানুভূতি কাজ করে না? আজ 'মুসলমানদের কবি' কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকলে কতশত বার যে বাতাসে তার বাবরি চুল উড়ত, কল্লাসহ; তার ইয়াত্তা নাই। নমুনা []:


এখানে এসে আমাদের 'ধর্মানুভুতি কবিরা' এপ্রোন খুলে নিরব হয়ে যান!
বা ধরুন, তাঁর (কবি কাজী নজরুল ইসলাম)-এর এই সমস্ত অনুবাদ:


ভাগ্যিস, কাজী নজরুল ইসলাম যে 'রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম' থেকে অনুবাদ করেছেন তার স্রষ্টা আজ আর বেঁচে নেই! ওমর খৈয়াম মরে বেঁচে গেছেন! এবং বঙ্গালদেশে জন্ম না-নিয়ে ইরানে জন্ম নিয়েছিলেন বলে দ্বিতীয় বার বেঁচে গেছেন! নইলে তাঁর লাশ কবর থেকে তুলে আগুন দেওয়া হতো।
আচ্ছা, আবুল সরকারের নাহয় ধর্মীয় জ্ঞান বা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নেই কিন্তু আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকদের তো অগাধ জ্ঞান ধর্মের প্রতি আকাশসম শ্রদ্ধা। এই যে মাওলানা সাহেব বলছেন, "আল্লাহ চাঁদাবাজ...":


বা, এখানে:
ধর্মীয় বক্তা আজহারি অবলীলায় আল্লাহ-নবির সঙ্গে 'শালা-হালা' লাগাচ্ছেন। আজহারির ইয়ের-কেশ, মাথার—কেউ স্পর্শ করেছে!

ইয়ে, ওই যে ডাক্তার সাহেব একেকটা আগুনের গোলা ছুড়ে দিলেন এটা শুনে কী তার 'ইয়েভূতি' আহত হয়নি?
অথবা, এই যে বিএনপি পন্থি লোকটা বললেন:
"জিয়াউর রহমান কোরান শরীফে বিসমিল্লাহ-হির-রাহমানির-রাহিম সংযুক্ত করেছিলেন":
এই মানুষটা কী এখনও মুক্ত ঘুরছেন?

আর আরেক ধর্মীয় শিক্ষক জামাতে ইসলামের এম. পি প্রার্থী আমির হামজা বলছেন,
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
এমনকি, আমির হামজা আরও বলছেন, "লাইক-শেয়ার-কমেন্ট এই সমস্ত  কথাও আল্লাহ ১৫০০ বছর আগে কোরানে দিয়েছেন"।

কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:

সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ ।  কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান 

এই সমস্ত কারণে এই মানুষটাকে কী কেউ বাউলদের মত পানিতে চুবিয়েছে বা ফাঁসি দাবী করেছে?

মিজানুর রহমান আজহারির ওয়াজের নামে এই সমস্ত অনেক বক্তব্য'র জন্য 'তাওহাদি জনতা' কী কোন হইচই করেছে! আটকাতে-লটকাতে চেয়েছে?

কবরে নাকি রাজনৈতিক সাওয়াল-জাওয়াব হবে:

ধর্মীয় শিক্ষক-ধর্মীয় বক্তাদের এমন অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে কিন্তু এখানে এসে 'তাওহাদি কবি' নিরব... []!

সূত্র:

১. দুখু মিয়া, সুখু মিয়াhttps://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_25.html?m=1

২. ওয়াজ সমগ্রhttps://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1

* সুরা নাস (রুকু: ১, আয়াত: ৬) ১. বলো, আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, ২. মানুষের অধীশ্বরের, ৩. মানুষের উপাস্যের, ৪. তার কুমন্ত্রণার অমঙ্গল হতে, ৫. যে সুযোগমত আসে ও সুযোগমত সরে পড়ে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, ৬. জিনের মধ্য থেকে বা মানুষের মধ্য থেকে। -কোরান শরীফ