Thursday, January 1, 2015

ওয়েটিং ফর গডো- ‘ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’!

Samuel Beckett-এর Waiting for Godot, বাংলায় অনুবাদ করেছেন, আসাদুল ইসলাম। অনুবাদ করা এই বইটির প্রকাশক হচ্ছে ঐতিহ্য। প্রকাশক জানাচ্ছেন ‘ওয়েটিং ফর গডো, এই বইটি অনুবাদ করা হয়েছে, ‘WEATING FOR GODO by Samuyel barkle beket’ থেকে। ‘WEATING FOR GODO’ নামের কোন বই এই গ্রহে আছে বলে অন্তত আমার জানা নাই!
যেটা পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে, ‘Waiting for Godot’। বা Samuyel barkle beket নামের কেউ ‘WEATING FOR GODO’ লিখেছেন এমনটাও হদিস মেলে না। যে লেখককে পাওয়া যায় তিনি হচ্ছেন, Samuel Barclay Beckett কিন্তু Samuyel barkle beket না।
কেউ-কেউ বলবেন এটা ছাপাখানার ভূত। বেশ-বেশ, মেনে নিলুম...।

এই বইটির অনুবাদক আসাদুল ইসলাম সম্বন্ধে ফ্ল্যাপে লেখা হয়েছে, “...এই ধারার নাট্যকারদের শেষ উত্তরাধিকারের তালিকায় আছেন হ্যারল্ড পিন্টার, ডেভিড ম্যামেট, টম স্টপ্পার্ড আর বাংলাদেশের আসাদুল ইসলাম...।“
অতি উত্তম! 'ঐতিহ্য' নামের প্রকাশনী থেকে 'পরকাশিত'! কোনও প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলেই সেই ছাপার অক্ষর জরিনা থেকে ক্যাটরিনা হয়ে যায় আর এ তো 'ঐতিহ্য'- যারা ২৫০০০ হাজার টাকায় বই বিক্রি করেছে এই দেশে। ইমাজিন, ২৫০০০ টাকা, তাও বাংলাদেশে! তো, এই নিয়ে আমার মত সাধারণ মানুষদের অমত থাকা সমীচীন না আসলে। দ্বিমত করাটা তো অসমীচীন। কারণ আমাদের দেশের প্রকাশকরাই ঠিক করে দেন কে লেখক, কে লেখক নন। এই দুরূহ কাজটা এরা কোন যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্ধারণ করেন এটা আজও আমার কাছে বিস্ময়!

যাই হোক, এই বইটির লেখক-অনুবাদক আসাদুল ইসলামের কিছু বাণীর সঙ্গে আমরা পরিচিত হই। তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন:
...তখন আমার সাধ জাগে সংলাপের সাথে একটু রসের মিশ্রণ ঘটালে জিনিসটা রসালো হয়ে উঠতেও পারে। সেই সাধ থেকেই রসের আমদানি।
...কিছু জায়গায় বাংলাদেশ ঢুকিয়ে দিয়েছি...। মহান কীর্তিকে ছেলের হাতের মোয়া বানাবার দায় আমি অস্বীকার করছি না।
...কলম হাতে মনে হয় আমিই বাংলার স্যামুয়েল বেকেট। ...”

...আমিই বাংলার স্যামুয়েল বেকেট”। জ্বী, স্যার, 'বাংলার বেকেটের' জন্য আমরাও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি, ‘ওয়েটিং ফর বাংলার বেকেট’। আসাদুল ইসলাম কেমন করে বাংলার বেকেটের স্থলে ‘বাকেট’ ওরফে ‘শূন্য বাকেট’ ওরফে খালি বালতি হয়ে উঠেন সেটা পরে আলোচনা করছি।
ইশ-শ, আসাদুল ইসলাম মহোদয়, আপনি কেমন করে বাংলাদেশকে এনে এখানে ঢুকিয়েছেন, রসের আমদানী করে কেমন রসে মাখামাখি করেছেন যে আমার কী-বোর্ডও রসে চটচট করছে। কী যন্ত্রণা, এখন কী করি বলেন তো- টাইপ করাটাই অমায়িক যন্ত্রণা হয়ে দাড়িয়েছে দেখি!

যাই হোক, আসাদুল ইসলাম যে অনুবাদ করেছেন তা মূল ইংরাজির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাক। এ সত্য, অনুবাদক অনুবাদের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করেন। কিন্তু এরও সীমা আছে। কেউ যদি অনুবাদ করতে গিয়ে ‘শেষের কবিতা’র ‘অমিত-লাবণ্যের’ মুখে বসিয়ে দেন, ‘ধুম মাচা দে-ধুম মাচা দে-ধুম, ধুম, ধুম...’ তাহলে তো সর্বনাশ!
ভাগ্যিস, Samuel Barclay Beckett মরে বেঁচে গেছেন নইলে এই অনুবাদ দেখে নির্ঘাত তিনি নিজেই নিজেকে খুন করে ফেলতেন। পরে আত্মহত্যা করার জন্য তাঁর নামে মামলা রুজু হত! পুরো বইটি থেকে অসংখ্য অসঙ্গতি তুলে ধরাটা আমার কাছে কেবল ক্লান্তিকরই না শব্দের অপচয়ও মনে হচ্ছে। বিভিন্ন পৃষ্ঠা থেকে আমি কেবল কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি:
‘Waiting for Godot’ থেকে:
VLADIMIR: " Hand in hand from the top of the Eiffel Tower, among the first. We were respectable in those days. Now it's too late. They wouldn't even let us up. (Estragon tears at his boot.) What are you doing?"
এটার আসাদুল ইসলামের অনুবাদ করেছেন:
ভ্লাডিমির: "একটা সময় ছিল যখন আমাদের পায়ে কোনো যন্ত্রণা ছিল না। সংসদ ভবনের লেকের পাড়ে আমরা হাত ধরাধরি করে হাঁটতাম। ঝুলন্ত ব্রিজের উপর পা ঝুলিয়ে, জলের আয়নায় আমরা মুখ দেখতাম। এখন কোনো কোনো মহল পায়ের যন্ত্রণায় অস্থির। আর সংসদ ভবনের দিকে গেলে তো কথাই নেই, পরিকল্পিত নাশকতাসৃষ্টিকারী হিসাবে পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে, কোর্টে চালান করে দেবে। (এস্ট্রাগন জুতো নিয়ে টানাটানি করতে থাকে) তুমি এখনও পা নিয়ে আছ?"

ESTRAGON: "(pointing). You might button it all the same.
 VLADIMIR: (stooping). True. (He buttons his fly.) Never neglect the little things of life."
আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "(আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করে) তোমার প্যান্টের জানালা দিয়ে হাওয়া ঢুকছে। ছোট্টসোনার ঠান্ডা লাগবে যে!"
ভ্লাডিমির: "(হকচকিত হয়ে) না, না, ঠিক আছে। (প্যান্টের বোতাম লাগায়) কিন্তু জিনিস ছোট্ট হলেই তার শক্তিকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সময় অসময়ে সেও ভীষণ শক্তিশালী হয়ে উঠে।"

ESTRAGON: "Repented what?
VLADIMIR: "Oh . . . (He reflects.) We wouldn't have to go into the details."
আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "কিসের পাপ?"
ভ্লাডিমির: "আরে বাপ, এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিনাটি নাড়িভুঁড়ি তো বলা যাবে না।"

ESTRAGON: "(timidly, to Pozzo). You're not Mr. Godot, Sir?" 
 POZZO: "(terrifying voice). I am Pozzo! (Silence.) Pozzo! (Silence.) Does that name mean nothing to you? (Silence.) I say does that name mean nothing to you? "
অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "(ভয়ে ভয়ে) স্যার, আপনি কি গডো নন?"
পজো: "(ভারী গলায়) আমি পজো। পজো। নাম শুনে কিছু বুঝতে পারছ না তোমরা? আজব, বলছি যে নাম শুনে কিছুই কি বোঝা যাচ্ছে না?"
এস্ট্রগন: "ধ্বজো, ধ্বজো-ভঙ্গ"।

POZZO: "(peremptory). Who is Godot?"
ESTRAGON: "Godot?"
আসাদুল ইসলাম স্যারের অনুবাদ:
পজো: "গডো মালাউনটা কে?"
এস্ট্রাগন: "গডো?"

ESTRAGON: "Excuse me, Mister, the bones, you won't be wanting the bones? "  
মহোদয় আসাদুল ইসলামের অনুবাদ:
এস্ট্রাগন: "মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার সমীপে একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপন করা হচ্ছে। মাননীয় সংসদ সদস্য, এই হাড়গুলোর প্রতি আপনার কোনো বিশেষ দাবী আছে কি না, এর পক্ষে থাকলে- হ্যাঁ বলুন, বিপক্ষে থাকলে- না বলুন।"

অন্যত্র আসাদুল ইসলাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন, “...মাল তো এবার হাঁপাচ্ছে...”। “...খানিকটা হাফলেডিস টাইপের...”। “...মামা তো মনে হয় শ্যাষ, সোনার বাংলা দ্যাশ...”। “...চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ, গাও বাংলাদেশ গাও...”।
আমার কাছে অনুবাদকের এইসব সংলাপ পড়ে মনে হচ্ছিল বটতলার উপন্যাস টাইপের কোনও একটা লেখা পড়ছি! তর্কের খাতিরে এইসবও না হয় মেনে নিলুম, অনুবাদক বলে কথা। কিন্তু এস্ট্রগননের সংলাপে ‘ধ্বজো-ভঙ্গ’ ব্যবহার করা বা বিশেষ করে পজোর সংলাপে অহেতুক ‘গডো মালাউনটা কে?’ ব্যবহার করাটা আমার কাছে স্রেফ একটা ফাজিলের একটা কর্মকান্ড মনে হয়েছে। স্রেফ অপদার্থগিরি!

মহামতি আসাদুল ইসলাম, আপনি যে জিনিস প্রসব করেছেন, আপনার প্রসব যন্ত্রণার প্রতি আমি ব্যথিত! ওয়েটিং ফর গডোর একটা চরিত্র ‘লাকি’ যাকে দাস হিসাবে দেখানো হয়েছে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আরেকটি চরিত্র ‘পজো’ চাবুক ব্যবহার করে। কথায় কথায় সাঁই সাঁই করে চাবুক চালায়। সেই চাবুকের কয়েক ঘা অনুবাদক আসাদুল ইসলামের পিঠে পড়লে অন্তত আমি পজোকে আটকাবার চেষ্টা করে পাপের ভাগিদার হব না।

কেউ আমাকে এ কথা বলতে বিশ্বাস করবেন না দয়া করে, যারা এই দেশে রবীন্দ্র রচনাবলীর নামে ২৫০০০ টাকার একটা লেখকেরই বই বিক্রি করে তাদের এডিটর প্যানেল নাই তারা আসাদুল ইসলামের এই আবর্জনা পড়ে দেখেনি! আর ওয়েটিং ফর গডোর ‘পজো’ সে আসাদুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে চাবকা-চাবকি পর্ব শেষ করে ডিয়ার ঐতিহ্য'র খোঁজ করলে আমি আনন্দের সঙ্গে ঐতিহ্য'র ঠিকানাটা বাতলে দেব। 

4 comments:

sfaridcste said...

aita kono onubad holo!!!! shame!!! shame!!!!!

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

এটা আমার আপনার মত কিন্তু তিনি নিজেকে 'বাংলার বেকেট' বলে দাবী করেন :) @sfaridcste

Anonymous said...

ভাগ্যিস বেকেট মরে গেছে!!!নাহলে বাঙ্গালীদের ঘাড়ে একটা খুনের দায় চাপতো।

আলী মাহমেদ-ali mahmed said...

:) @Anonymous