My Blog List

Saturday, June 22, 2013

ব্যাং-ব্যাং, বুম-ম!

আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, আমার অনেকগুলো পোস্ট উধাও। ওই পোস্টগুলোর প্রায় সবগুলোই মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত। আসলে ওই সময়টায় এই বিষয়গুলোর উপরই লিখছিলাম।

এমনটা হতে পারে নির্দিষ্ট একটা টাইমলাইনটা দেখাচ্ছে না বা বাগ হতে পারে যার জন্য দায়ী ব্যাটা জুকারবার্গ। এমনটা হলে কিছু করার নাই কারণ ব্যাটা জুকার মাগনা লিখতে দিচ্ছে, একে গাল দেই কেমন করে!

কিন্তু আমি বোঝার চেষ্টা করছি, আসলে এর জন্য দায়ী কে? জুকার, না 'হুকার'?
হ্যাকারকে আমি আদর করে 'হুকার' ডাকি। তবে আমার এখনও বিশ্বাস, এটা জুকারের কান্ড!
 

আমার এক ফেসবুকবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মিয়া, বিষয় কী'।
ও যেটা বলল, জুকারের বিবাহের পর থেকেই নাকি সমস্যার-পর-সমস্যা হচ্ছে!
রসিকতাটা আমার খু্ব পছন্দ হয়েছিল। আজকালের পোলাপানরা রসিক আছে, বড়ই রসিক! এরা সব কিছুতেই আমাদেরকে ছাড়িয়ে যায়।

এমনিতেও এই ব্যাটা জুকারকে আমার ভ্যাবলা টাইপের মনে হয়। শুনে অনেকে রে রে করে তেড়ে আসবেন। এই বিষয়ে আমার সাফ কথা, একদা এক টিকটিকি একটা ডিম পেড়েছিল। কোনো এক বিচিত্র কারণে সেই ডিম ফুটে ডায়নোসর বেরিয়েছে। সেই ডায়নোসর ক্রমশ পৃথুল হচ্ছে!

আমার বিশ্বাস, সমস্যাটা ফেসবুকেরই কারণ এদের অনেক ধরনের ঝামেলা আছে। ওদিন একজন বলছিলেন, আপনি তো দেখি সারাদিনই অনলাইনে থাকেন। শোনো কথা, আমি না-হয় কাজের কোনো লোক না কিন্তু তাই বলে অকাজের অভাব কী আমার যে, আমি সব ফেলে সারাদিন-রাত ফেসবুকে পড়ে থাকব, কোন দুঃখে!

কিন্তু...একটা কিন্তু থেকেই যায়। বাই এনি চান্স, যদি, হুকার ভাইজানদের কেরামতি হয়ে থাকে- কারণ পোস্ট 'খাওয়া-খাওয়ির' একটা খেলা শুরু হয়েছিল!
খালি মাঠে কে কোন খেলা খেলবে এটা নিয়ে আমার আগ্রহ বাড়াবাড়ি রকম কম। কেবল আমার খেলায় কেউ ল্যাং না-মারলে অন্যদের খেলা নিয়ে উৎসাহ বোধ করি না।
কেবল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে ধার করে বলি:
"...আমার খেলাটা, দোহাই
এখন থেকে আমাকেই খেলতে দিন।"
(ফড়েদের প্রতি)

তো, হুকার ভাইজান, 'খোদা-না-খাস্তা' যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে আপনার
সঙ্গে আমার একটু বাতচিত করার খায়েশ হচ্ছে। সবিনয়ে বলি, আমাকে আটকাবার চেষ্টা করে লাভ নাই, ডিয়ার হুকার ভাইজান।

ফেসবুকের সমস্ত লেখাই আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে আছে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, আপনি মিসাইল মেরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটটাও উড়িয়ে দিলেন। বেশ-বেশ!

কিন্তু আবার দেখুন দিকি কান্ড, ওই লেখাগুলোই মুক্তিযুদ্ধের আলাদা একটা
সাইটেও আছে। আবারও তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ড্রোন হামলা চালিয়ে ওই সাইটও ধসিয়ে দিলেন। বাকাপ, হুকার ভাইজান, বাকাপ!

ব্যাপআপ কিন্তু রয়ে গেছে...!

তাছাড়া বুঝলেন, মুশকিল হয়ে গেল যে, মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত ওই সমস্ত অধিকাংশ লেখাই যে আবার প্রিন্ট মিডিয়ায়ও আছে। এখন হুকার ভাইজান, আমার ওই বইগুলোর কী করবেন? বনফায়ার, আগুন ধরিয়ে দেবেন? তা দিলেন, ভাল-ভাল!

ভারী কুন্ঠিত হয়ে বলি, ওদিন একটা খসড়া হিসাব করে দেখলাম, এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত যে সমস্ত লেখা লিখে ফেলেছি; তা কয়েক লক্ষ শব্দ হবে।

এর মধ্যে থেকে কেবল একটি শব্দও যদি কোনো যুবকের মাথার করোটিতে গেঁথে গিয়ে থাকে, নিমিষেই আমার জায়গায় সেই যুবকটি চলে আসবে।

আর সে আমার মত ভঙ্কুর, লক্কর-ঝক্কড় হবে না, তার হাতে আমার মত মরচেধরা ভোঁতা হাস্যকর অস্ত্রও থাকবে না। তার কাছে থাকবে, ঝাঁ-চকচকে স্টেইনলেস স্টিলের তরবারি। যে তরবারি দিয়ে সে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে অন্ধকার, সমস্ত অপশক্তি।

ব্যাং-ব্যাং, বুম-ম! আমি তীব্র আগ্রহের সঙ্গে সেই মানুষটির অপেক্ষায় থাকব...।