Search

Tuesday, June 2, 2009

বাতাস বিক্রি।

এইবার ভাবছি, নতুন একটা ব্যবসা ধরব। বেঁচে-থাকার কিছু একটা না-করলে চলছে না আর, বুঝলেন। মুশকিল হচ্ছে, সবারই যখন একটা করে ক্যারিয়ার আছে তখন আমার হাতে কেবল টিফিন-ক্যারিয়ার! খানিকটা লেখার চেষ্টা ব্যতীত আর কিছুই যে আমি পারি না গো! শালার একটা দেশ, এ দেশে লেখালেখি করে বী..পাত করা চলে, দিনপাত না।

ব্যবসার জন্য কিছু একটা তো বিক্রি করতে হবে। আগেরবার মাটি বিক্রি [১] করতে গিয়ে ধরা খেয়েছিলাম! ব্যবসা ফ্লপ করেছিল। আরে বাবা, দেশের মাটি কোথায় যে মাটি বিক্রি করব! একবার শেখ হাসিনা বলেন খালেদা জিয়া বিক্রি করে দিয়েছেন আরেকবার খালেদা জিয়া বলেন শেখ হাসিনা এক চিমটি মাটিও রাখেননি!। কার কথা সত্য এটা আপনাদের বলতে পারছি না কারণ দুজনই সত্য বলেন।

মূল কথায় আসি। এবার বাতাস বিক্রি করব। আহা, না শুনেই চোখ কপালে তুলে উড়িয়ে দেবেন না। ধরুন, আপনার আসল বাড়ি ছিল তিতাসের পাড়ে। আপনি এখন নিজের শেকড়-টেকড় কেটে ঢাকায় ঝাঁ চকচকে কংক্রিটের বস্তিতে থাকেন। আহা, রাগ করছেন কেন! আমি আবার কখন বললাম, আপনি বস্তিবাসী। বলেছি কংক্রিটের বস্তির কথা...।
তো, আপনার প্রাণপাখি কিচিরমিচির করে সেই..., সেই তিতাসের পাড়ে। হুহু করে বয়ে যাওয়া তিতাসের একটু বাতাসের জন্য আপনার বুকটা কেমন-কেমন করে। এখানেই হচ্ছে আমার ব্যবসার মূল রহস্য। আমি বোতলে করে আপনার কাছে পৌঁছে দেব আপনার, কেবল আপনারই তিতাসের বাতাস।

আমি মানসচক্ষে দেখতে পাচ্ছি, আপনার অট্টহাসিতে আমার মনিটরের পর্দা কেঁপে উঠল। আপনার মনের কথাটাও অবলীলায় পড়তে পারি, ব্যাটা চালবাজ, এসেছে আমাকে বোকা বানাতে। তিতাস-ফিতাস কিসসু না, ব্যাটা ঢাকায় বসেই ঢাকার দুষিত বাতাস ধরিয়ে দেবে, চাল্লু একটা! আপনি গোঁফে তা দিচ্ছেন কেমন করে আমাকে হাতেনাতে ধরবেন এটা ভেবে। আরে, একটু দম নিন তো মশাই! চেপে ধরার জন্য কেবল আমার গলাই সরু পেয়েছেন...!

আরে না-না, ব্যবসায় সততা বলে একটা কথা আছে না? বলেছি যখন বলেছি, তিতাসের বাতাস মানে তিতাসের বাতাস। নট নড়নচড়ন! এটা ব্যবসার সিক্রেট বলে জনে-জনে বলতে পারছি না। ভাইরে, একটু কাছে আসেন। কেবল আপনাকেই বলি। কাউকে বলবেন না যেন...।
তিতাসের পাড়ে যাওয়ার পূর্বে বোতলভর্তি পানি নিয়ে যাব। ওখানে গিয়ে বোতলের পানিসব ফেলে দেব। পানি বেরুবে আর বাতাস ঢুকবে। ছাড়াছাড়ি নাই- সুড়সুড় করে ওখানকার বাতাস বাবাজি বোতলে প্রবেশ করিতে বাধ্য হইবে।
ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে বোতলের ছিপি শক্ত করে এঁটে দেব। কংক্রিটের বস্তিতে, আপনার যখন দমবন্ধ লাগবে তখন জাস্ট ছিপিটা খুলে জোরে বুক ভরে শ্বাস নিলেন। রিচার্জ-ফুল রিচার্জ! ওম, ওমম শান্তি!
কী, এবার বিশ্বাস হল তো, আমার ব্যবসায় কোন ছলচাতুরি নাই। বিশুদ্ধ তিতাসের বাতাসের মতই বিশুদ্ধ ব্যবসা। কোনো ফাঁকিবাজি নাই। টলটলে পানির মত ব্যবসা। আহা, যদি দাউদ হায়দারের কাছে তাঁর জন্মস্থান আরিফপুর-দোহারপাড়া গ্রামের [২] বাতাস বিক্রি করতে পারতাম। প্রায় ৫০ বছর হল- এই মানুষটার ফুসফুস আর কখনও দেশের বাতাস গ্রহণ করতে পারল না। আফসোস...!

যেমন ধরা যাক, আমার জন্মস্থান Akhaura নামের একটা জায়গায়। এখানকার কতশত স্মৃতি। কে জানে, প্রবাসে কোথাও আটকা পড়ব, শেষ শ্বাস আটকে থাকবে Akhaura নামের জায়গাটার জন্য। কী কষ্ট-কী কষ্ট! তখন তিতাসের বাতাসভর্তি Akhaura-র ক্যানটা থাকলে, ব্যস। কেউ একজন ছিপিটা খুলে আমার নাকের কাছে ধরবে। দুচোখে নেমে আসবে 'না-ভাঙ্গা' ঘুম। কে জানে, মৃত্যুযন্ত্রণা নামের অসহ্য কষ্ট বোধটা  তখন হয়তো হারিয়ে যাবে। অদেখা ঘুমে ভারী হয়ে আসা চোখ- পারিজাত এক প্রশান্তি নিয়ে অন্য ভুবনে যাত্রা। তখন চারপাশের লোকজনেরা কে কাঁদল, কে কাঁদল না তাতে আমার কী আসে যায়! আমার যে অন্য ভুবনের ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসে, ঘু-ম-ম...।

সহায়ক সূত্র:
১. মাটি বিক্রি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html 
২. দাউদ হায়দার: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_20.html 

1 comment:

Suranjit said...

Ki golpo, mairi! Kebol mugdhota,