Saturday, January 14, 2012

কালের কন্ঠ, ছাগুবান্ধব প্রিন্ট মিডিয়া!

­আমরা সাধারণ পাঠক ৮০০ পয়সা কবুল করে যখন পত্রিকা খরিদ করি তখন লক্ষ রাখি পয়সা কেমন উসুল হলো। যখন বাড়তিটা পেয়ে যাই তখন আমাদের আনন্দ দেখে কে। বিনে পয়সায় পাবলিক আলকাতরা খায় আর আমরা বিনোদন খাব না, তা কী হয়!

আমাদের দেশের সমস্ত মিডিয়া ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট-ওয়েব পোর্টাল সবই ব্যবসায়ীদের হাতে। ব্যবসায়ী বলে কথা- এরা নিজেদের স্বার্থে মিডিয়াকে ব্যবহার করবেন এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
এখন ব্যবসায়ে নতুন মাত্র যোগ হয়েছে, মিডিয়া। মিডিয়া মানেই ক্ষমতা- দিনকে রাত বানিয়ে ফেলা। দেশের অধিকাংশ বুদ্ধিমান, প্রতিভাবান মানুষকে ক্রমশ কিনে ফেলা। এই সমস্ত প্রতিভাবান মানুষগুলো কালে কালে পরিণত হন একেকটা বিচিত্র প্রাণীতে- যাদের মস্তিষ্ক এবং রেকটাম জড়াজড়ি হয়ে যায়। টাকার শেকলে বাঁধা একেকজন নগ্ন মানুষ- বেচারা, যাদের গায়ে এক চিলতে কাপড়ও নেই!

দৈনিক প্রথম আলো এবং দৈনিক কালের কন্ঠ, এদের লাগালাগি লেগেই আছে। ৮০০ পয়সা খরচ করে আমরা অনায়াসে জানতে পারছি এদের সঙ্গে জড়িত লোকজন কে কোটের নীচে ময়লা গেঞ্জি পরেন, কে কোন সাইজের অন্তর্বাস পরেন। কার অন্তর্বাস ক-দিনের আধোয়া, চিত্র-বিচিত্র রঙের নকশা-বাহারগুলোও আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই। নইলে কী আমরা জানতে পারতাম নিপাট ভদ্রলোক লতিফুর রহমানের ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার কাজকারবারের ছবি- কনটেইনার ভর্তি ইলেকট্রনিক্সের আস্ত পণ্য যা তিনি আমদানী করেছেন খুচরো যন্ত্রাংশ হিসাবে।
এই পর্যন্ত ভালই ছিল কিন্তু কেউ যখন অন্তর্বাসও খুলে পুরোপুরি দিগম্বর-নগ্ন হয়ে পড়েন তখন গা রি রি করে।

উৎস: কালের কন্ঠ
কালের কন্ঠ আজ ছাপিয়েছে, 'নামাজকেও বিদ্রূপ করছে প্রথম আলো' [১]

প্রথম আলো ঘটা করে একটা বিজ্ঞাপন ছাপায়, 'উটপাখি নয় মানুষের জীবন চাই'। উটপাখি বালিতে মাথা গুঁজে বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই বিজ্ঞাপনেও দেখানো হয় একজন মানুষ উটপাখির মত উবু হয়ে বালিতে মাথা গুঁজে বাস্তবতাবিবর্জিত হওয়ার অপচেষ্টা করছে। এই বিজ্ঞাপনটাই কালের কন্ঠের মতে নামাজকে বিদ্রূপ করা হচ্ছে।

ব্লগস্ফিয়ারের নিজস্ব কিছু ভাষা আছে, যেমন, হাহাপগে: হাসতে হাসতে পড়ে গেলাম। হাহাপাবেগে: (এটা এখানে লিখে বলা যাবে না, বুদ্ধিমান পাঠক খুঁজে বের করুক।)। ভাদা: ভারতীয় দালাল। প্লাসাইলাম: লেখা ভাল হয়েছে। ইত্যাদি...।
অতি চালু যেটা সেটা হচ্ছে ছাগু।

ব্লগস্ফিয়ারে প্রথম আলোর এই বিজ্ঞাপন নিয়ে কেউ কেউ যে এমনটা বলার চেষ্টা করেননি এমন না। উবু হওয়ার এই ভঙ্গি নিয়ে কেউ কেউ তো বিশেষ একটা জেলার লোকজনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি (কটাক্ষ করে কি বলা হয়েছিল, এটা বিশদ বলি না কারণ বুদ্ধিমান পাঠককে বিস্তারিত বলে তাঁদের বুদ্ধিকে খাটো করি না)।
তো, ওখানে যারা এটা বলার চেষ্টা করছিলেন তাদের বেলায় 'ছাগু'-দের কর্মকান্ড বলে চালিয়ে দেয়া গেছে কিন্তু তাই বলে কালের কন্ঠ!

কালের কন্ঠের কাছে সবিনয়ে জানত চাই, বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে, জুতা পায়ে দিয়ে কোথায় নামাজ পড়া হয় আর নামাজ পড়ার সময় কোথায় এমনতরো ঠ্যাং উঠে যায়? আচ্ছা-আচ্ছা, বুঝলুম, আপনাদের আপত্তি ভঙ্গি নিয়ে, না?
উবু হয়ে মানুষ অনেক কাজই তো করে থাকে, সবগুলোর জন্যই কি এই কথাটাই খাটবে, ডিয়ার কালের কন্ঠ? আচ্ছা, কার মাথা থেকে বেরিয়েছে এটা, শাহআলম সাহেব, ইমদাদুল হক মিলন? এরা শহুরে বলেই সম্ভবত অন্য ভঙ্গির ভাবনাগুলো মাথায় আসেনি।
শহরে খাটের চল কোথায়, শহুরেদের তো সবই বক্স খাট! 'খোদা-না-খাস্তা' এরা কখনো চৌকির নীচে আত্মগোপন করলেন আর পুলিশ বাবাজীরা খাটের তলা থেকে বের করে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চললেন। চললেন তো বেশ কিন্তু খাটের নীচে থেকে এদের বের করার সময় পুলিশ বাবাজীদের ভঙ্গিটা কি হবে শুনি?
তখন কি এই নিয়েও কালের কন্ঠ ফতোয়া দেবে বাংলাদেশের পুলিশ নামাজকে কটাক্ষ করেছে?

ইমদাদুল হক মিলন মানুষটা সুদর্শন, কোট-টোট পরলে জেল্লা আরও বাড়ে; চেহারা খোলতাই হয় কিন্তু এই সমস্ত কর্মকান্ড করার পর মানুষটাকে স্রেফ নগ্ন একজন মানুষ বলে ভ্রম হয়। বিষাদের সঙ্গে বলি, বয়স্ক একজন মানুষকে নগ্ন দেখতে ভালো লাগে না...।

সহায়ক সূত্র:
১. কালের কন্ঠ: http://tinyurl.com/747x5ve

2 comments:

Anonymous said...

ভূল লেখছেন।সংশোধন করেন কালের কন্ঠ হবে না হবে বালের কন্ঠ

Sam said...

baler kontho :D :P