Sunday, September 18, 2011

বেচা-বিক্রি, ব্যবসা-বাণিজ্য...

­আজকের অতিথি লেখক, আবদুল মান্নান শামীম। যিনি শামীম নামেই সমধিক পরিচিত। আজকের অতিথি লেখক আবারও তিনি। তাঁর প্রোফাইলে লেখা তিনি "করপোরেট কামলা"। আমিও এক জায়গায় নিজের সম্বন্ধে লিখেছিলাম, স্বশিক্ষিত। স্বশিক্ষিত জিনিসটা রাজনীতিবিদরা হরদম লাগাচ্ছেন দেখে এই ডিগ্রিটা আমিও যোগ করেছিলাম কিন্তু প্রমাণ করার উপায় নেই।
কিন্তু শামীম নামের মানুষটা যিনি নিজেকে "করপোরেট কামলা" নামে দাবী করছেন তাঁর এই দাবীর প্রতি অন্তত আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। একজন করপোরেট ভুবনের মানুষই ভাল বুঝবেন ব্যবসাপাতি সম্বন্ধে। :)। নিজের চাঁদিতে নিজেই কিল মেরে বলি, ইউরেকা! "বিজিনেস ইজ বিজিনেস"। তাঁর কাছ থেকে ব্যবসার রহস্য আমিও জেনে গেছি!
তাঁর মুখ থেকেই আমরা শুনি: 

"ফুটপাথের এক কোনায় বসে থাকা পাগলটার গা বাঁচিয়ে সাবধানে বসলাম। মোটা এক ধরনের কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে থাকা ওর গা থেকে বেরুচ্ছে ক্যামন বিটকেলে এক গন্ধ। আজকাল আর শান্তিতে কোথাও বসার উপায় নাই!

পিছনের থামের মত দেখতে বিল্ডিংটার এদিকে বিকালে রাজ্যের মানুষজনের ভিড়, তাই পেছনের বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়া ফুটপাথে জিরানোর চেষ্টা করি একটু। দুপুরের খাবারটা এখনো কেমন ভুটভাট করছে পেটের ভেতর। একটু ঝিমিয়ে নিই, একটু পরেই তো আবার হিসাব নিয়ে বসতে হবে!


পিঠের ব্যাগ থেকে আস্তে করে মোটা খাতাটা বের করি। খুব সাবধানে রাখছি আজকাল এই জিনিস, কেউ দেখে ফেললেই সর্বনাশ! এই নিয়ে উনাশিবারের মতো হিসাবটা দেখলাম, কোথাও ভুল ভ্রান্তি থেকে গেলে পরে শোধরানোর উপায় থাকবে না, বিরাট ঠকা খেয়ে যাব। পায়ের আঙ্গুল গুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবার চেষ্টা করলাম, সব হিসাব ঠিক আছে কিনা!
বেশ ডুমশো ধরনের, ফোলা ফোলা আঙ্গুল। দেখতে তো ভালোই। দুইটা বুড়ো আঙ্গুল পায়ের আঙ্গুলের কাজ তেমন বেশী না। না থাকলেও মানুষ তেমন চিন্তা করে না। দামটা আর একটু কমিয়ে ধরবো কিনা বুঝতেছি না। দুইটা আঙ্গুল মিলিয়ে ১০০০ টাকার বেশী হবে না মনে হয়। বাকিগুলো মিলিয়ে পুরো সেট হিসাব করলাম। দুই সেট আঙুল। নিজের বুদ্ধিতে নিজেই খুশী হলাম। সেট এর আইডিয়াটা এই মাত্র মাথায় আসলো। পুরো পায়ের আঙ্গুলের সেট হিসাব করলে কেমন হয়! যাক সে পরে দেখা যাবে।


হাঁটুর বাটি দুইটা পাইকার বলেছে খুব দামি। তাহলে দাম ধরি ৫০ হাজার টাকা করে। এইবার মনটা ভালো হয়ে গেলো। পায়ের দুইটা বাটি ১লাখ। কি করব এতো টাকা দিয়ে? গোড়ালি থেকে উপরের অংশ, অবশ্য বাটি বাদ দিলে তেমন দামি না। আজকাল নাকি ওই জায়গায় স্টিল দিয়ে তৈরি জিনিসও ফিট হয়ে যায়।
কী দুনিয়া পড়ছে, মানুষের আর দাম রইলো না। স্টিল ফিস্টিল দিয়ে মানুষ বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে রাস্তায়! ছ্যাহ!


তলপেটের কাছে এসে মন আবার ফুরফুর করে উঠলো, দুইটা কিডনি। ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ! ওরে, শেরাটনের খানা আমি খাবই! আর দামি জিনিস বলতে নাকি হার্ট! ওইটার নাকি অনেক দাম! আচ্ছা, পাইকার বেটা কি জানে এটা? আমার মনে হয় শরীরের ভিতর আরো অনেক যন্ত্রপাতি আছে! এই যে ওইদিন টেম্পুর ধাক্কা খেয়ে যখন রাস্তার পাশে পড়ে গেলাম, চোখ দিয়ে কি পরিমান যে পানি বের হলো! শরীরের ভেতর কোন পাম্প না থাকলে পানি সাপ্লাই দিলো কে?
তারপর ধরা যাক, বাতাস টানলে পরে শরীরে গিয়ে জমা হয়, জিনিসটা শরীরে কোথায় থাকে, ওইটা কি দরকারি কোন যন্ত্র না? তারপর, এই যে দুপুরে খেলাম, জিনিটা কোথায় গিয়া জমা হলো? আবার বিকাল হলেই পেটটা খালি খালি লাগে! তারমানে শরীরে ভিতর আরো ব্যপার-স্যাপার আছে। আমি জানি না, পাইকার বেটা নিশ্চয় জানে। পাইকার বলছে একটা হার্টের দামই নাকি ৫০ লাখ! সত্যি নাকি!


সব বিক্রি করে দেব একদিন! মাথার চুল বা পায়ের নখ, সবই নাকি দামি! এই সব লাখ-লাখ, কোটি-কোটি টাকার জিনিসপত্র নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে আজকাল ভয় লাগে। ভাগ্যিস, আর কেউ এইসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। অন্যরা টের পাওয়ার আগেই কাজ সেরে ফেলতে হবে।


দুই পায়ের ফাঁকের জিনিসটা কেউ কিনবে কিনা পাইকার এটা বলে নাই। ইচ্ছা আছে ওর কাছেই বিক্রি করব জিনিসটা..."

3 comments:

Anonymous said...

হাহাহাহা, ল্যাখাডায় মজাক পাইলাম

Nuhan said...

Mind blowing!

সায়ন said...

ভাল লাগল @শামীম ভাই