Wednesday, June 3, 2009

শাসক

গভীর রাতে দৈত্য বাদশা জরুরী সভা তলব করলেন। দৈত্যরা কপালে একটাই-মাত্র চোখ কচলাতে কচলাতে জড়ো হলো। বাদশা মেঘগর্জনে ঘোষণা দিলেন: আমি একটা বর দিয়েছি।

দৈত্যরা কেউ অবাক হল না। তাদের বাদশার এটা এক বদ অভ্যাস, যাকে তাকে বর দেন। অনেক সময় জোর করে বর দেন, কেউ নিতে না চাইলে জোর করে ধরে নিয়ে আসেন। দৈত্যদের গলা শুকিয়ে এলো, এ লোকের দেয়া প্রত্যেকটা বর-এ কোন না কোন গন্ডগোল থাকে, জীবন ভাজা ভাজা হয়ে যায়।
কোতোয়াল মুখ অন্ধকার করে বলল: বলেন কে সে হতভাগা, ধরে আনি।
বাদশা হড়বড় করে বললেন, আরে না-না, তোমরা যা ভাবছো তা না। এবারের ব্যাপারটা অন্য ধরনের। অনেক মাথা কুটে আমার কাছ থেকে বর নেয়া হয়েছে। এ রাজ্যের কেউ না। বহুদূর একদেশের মানুষ নামের প্রাণী।

দৈত্যদের চোখ চকচক করতে লাগল। আহ, কতো দিন মানুষের মাংসের শিককাবাব খাওয়া হয় না। এদের লালা ঝরে বাদশার পা ভিজে গেল।
বাদশা চটে লাল হয়ে বললেন: ইতর, মাথামোটা গর্দভ সব, শুধু আছে মানুষের মাংস খাওয়ার চিন্তা, এইসব কী! তোমাদের চে’ শক্তিশালী কেউ যদি থাকত এই পৃথিবীতে, ওরাও তো তোমাদের ধরে ধরে খেতো, নাকি? ভুল বললাম।
একজন সাহস করে বলল, মানুষরাও তো গরু, ছাগল, মুরগী ধরে ধরে খায়, ওদের বেলায় দোষ হয় না। যত দোষ আমাদের- দৈত্য হয়ে মাথা বিক্রি করে দিয়েছি নাকি!
বাদশা গর্জে উঠলেন: খামোশ, ভুজংভাজাং কথা বাদ। তো, যেটা বলছিলাম, বঙ্গোপসাগরের তীরে ছোট্ট একটা দেশ আছে। দেশটার নাম সবার জানা প্রয়োজন নাই। তবু ধরো নামের আদ্যাক্ষর ‘ব’, মজার ব্যাপার হলো এদের রাজপ্রাসাদের আদ্যাক্ষরও ‘ব’। ওই দেশের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছি, সমগ্র দেশে হাহাকার: ভাত দে, কাপড় দে, রাজা দে। আমার খুব কৌতুহল হলো, ভাত কাপড় তো বুঝলাম কিন্তু রাজা দে এর মানে কি!

জিজ্ঞেস করতেই সবাই এমন কাকুতি মিনতি শুরু করল মনটা অন্য রকম হয়ে গেল। আমি কেঁদে ফেললাম। অবশ্য কাঁদা উচিৎ হয়নি, ছোটখাটো বন্যা বাধিয়ে দিয়ে এসেছি। ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। লাশের পর লাশ পড়বে। একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে, বন্যার ছুতায় এরা বাড়তি কিছু টাকা পাবে। এমনিতে দেশটায় জমহুরিয়াত-গণতান্ত্রিক শাসন চালু আছে। এর ফলে বিরাট বড় চোরেরও ক্ষমতায় আসতে বেগ পেতে হয় না। শিক্ষিত মানুষরা হাসিমুখে এটা মেনে নেয়।
এতোগুলো কথা বলে বাদশার মুখে ফেনা জমে গেছে।

দৈত্যদের মধ্যে একজন (যার সাহসের কোনো কুলকিনারা নাই। জনান্তিকে বলে রাখা যেতে, পারে বাদশা নিজেও একে প্রচন্ড ভয় পান) থমথমে গলায় বলল: আপনার কথা শেষ হইছে, ঘুম পাইছে। কথা শর্ট করেন। কাল ভোরে কুহতুর পর্বতে যাইতে হইবে।
বাদশার চোয়াল শক্ত হল, ঠান্ডা গলায় বললেন: না কথা শেষ হয় নাই। আমি ঠিক করেছি তোমাদের মধ্যে থেকে একজনকে ওদেশের রাজা করে পাঠাব। কে কে যাবে হাত তোল। এরপর লটারী হবে, যার নাম উঠবে সেই যাবে।

হঠাৎ করে সবার গলায় অদৃশ্য কি যেন আটকে গেল, গলা খাঁকারির শব্দ ক্রমশ উঁচু হলো। বাদশার ভ্রু কুচকে জোড়া লেগে গেল, সেই যে জোড়া লাগল আর আলাদা হলে না (দৈত্য বাদশারও চোখ একটা। ভ্রু জোড়া লাগল কেমন করে এটা একটা রহস্য), এর মানে কি- কেউ যেতে রাজি না, নাকি!
ছিঃ, তোমাদের মতো কাপুরুষ প্রজাদের বাদশা আমি! ছিঃ, ছি-ছি-ছি, বাদশার চোখে নগ্ন ঘৃণা।
সেই সাহসী দৈত্যটা আফ্রিকার জঙ্গলের মতো ঝাকড়া চুলে আঙুল চালাতে চালাতে বলল: আপনি যান না সেই দেশের রাজা হয়ে। খাককু, খাককু খাক খা, খ্যাকু খ্যাকু (এর হাসিটাও বড় বিচিত্র)।
খবিশ, বাদশা আকাশের বজ্রপাত মাটিতে নামিয়ে বললেন: আমি গেলে এদেশ চালাবে কে, তুই, তোর মতো গাধা?
জ্বে, দেশ চালান কঠিন কিছু না, সাহসী দৈত্যটা হেলাফেলা ভাবে বলল।
ঠিক আছে তুই আগে ওই দেশ চালিয়ে আয়। এরপর না হয় এই দেশ চালাবি, দেখি তোর কেমন সাহস?

সাহসী দৈত্যটা ফাঁদে আটকে গেল, এখন আর ফেরার উপায় নেই। সে মুখ অসম্ভব লম্বা করে, বাদশা সোলেয়মানের তিন চৌদ্দ বেয়াল্লিশ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে করতে ‘ব’ আদ্যাক্ষরের দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো। অবশ্য তার উল্লাসিত হওয়ার কারণ নেই, যে ওখানে গিয়ে মহাসুখে মানুষ ধরে ধরে খাবে। নিয়ম অনুযায়ী মানুষের রূপ ধারণ করতে হয়েছে এবং পাশবিক শক্তি কেড়ে নেয়া হয়েছে।

নতুন রাজার মনে শান্তি নাই, খাওয়া নাই। মানুষ এইসব কী খায়, ছ্যা! অচা-পচা কুখাদ্য। শুটকিভর্তা একটা খাওয়ার জিনিস হইল? যখন পচন ধরে তখন ওইটায় সাদা-সাদা পোকা কিলবিল করে। ওয়াক!
নিতান্ত বাধ্য হয়ে এইসব খেয়ে রাজার ভয়াবহ রকমের পেট নেমে গেল। তিনি বদনা নিয়ে ছুটাছুটি শুরু করলেন। রাজার মেজাজ খুব খারাপ হয়, এরা টাট্টিখানা নামের খুপরির মত এইটা কী বানিয়েছে! আরে, জঙ্গলে
বাহ্যেত্যাগ না করলে বাহ্যেত্যাগের সুখ কোথায়?

আর একি যন্ত্রণা! এই দেশের প্রজাদের মুখে শুধু নাই নাই। বিরক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা শুধু নাই নাই করো, এটা নাই সেটা নাই, তোমাদের আছেটা কি, বলো তো?
প্রধানমন্ত্রী চিন্তায় পড়ে গেলেন, আসছি বলে সেই যে গেলেন কয়েকদিন পর এলেন। মুখ আলো করে বললেন, ভাই, অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম, আমাদের আসলে বলার মতো কিছুই নাই? শুধু আমরা আছি ?
রাগে রাজার গা কাঁপতে লাগল, সামলে নিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, উত্তম অতি উত্তম! আর শোন, আমাকে ভাই বলবে না, কল মি রাজা । ভুলে গেছ, কেমন করে ভুলে গেলে, তোমাদের দেশের এক শাসককে আপা বললে তিনি রাগে লাফাতে লাফাতে শুধরে দিতেন, কল মি ম্যাডাম।
জ্বী ভাই, ইয়ে থুক্কু রাজা ।

নতুন রাজা প্রথম দিকে রাজ্য পরিচালনায় অভিনবত্ব আনতে চেয়েছিলেন, বিভিন্ন রাজা বাদশার কাহিনী মনোযোগ সহকারে পাঠ করলেন। দু-জন রাজাকে খুব মনে ধরল। একজন বহু বছর পুর্বে এই দেশেরই রাজা ছিলেন, দীনহীন জীবনযাপন করতেন। তার মৃত্যুর পর হাতলভাঙ্গা তোবড়ানো স্যুটকেস থেকে ছেঁড়া শার্ট, লুঙ্গি পাওয়া গেছিল। আরেকজন বাদশা হারুনুর রশীদ, ছদ্মবেশে প্রজাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ খবর করতেন।

নতুন রাজা একদিন গভীর রাতে ছদ্মবেশে শহর দেখতে বেরুলেন। প্রথমেই বিরক্তিতে মন ছেয়ে গেল। এরা শহরে কি জঘন্য রঙের বাতি লাগিয়েছে (সোডিয়াম লাইট)। টকটকে লাল আলখেল্লা গায়ে দিয়ে বেরিয়েছেন অথচ কুচকুচে কালো দেখাচ্ছে। এই ফাজলামীর মানে কি!

একা একা একটু ভয় লাগছে অবশ্য, আশেপাশে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, চিন্তার কিছু নেই, প্রচুর পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় প্রচুর মেয়ে দেখলেন। ভাবলেন, ভালো, এরা নিশ্চয়ই দেরিতে রান্নাবান্না শেষে করেছে, এতোক্ষণে হাওয়া খেতে বেরিয়েছে। এরা উনাকে দেখে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করছে যার অর্থ বুঝতে পারছেন না। আর এদের সম্ভাষণও যেন কেমন: একা নাকি? এটা কি ধরণের সম্ভাষণ, এর কী উত্তর হয়! একা দেখেও জিজ্ঞেস করছে একা নাকি। আজব তো! ব্রেন ডিফেক্ট নাকি?

কাঁধ ঝাঁকিয়ে সামনে এগুলেন। এক জায়গায় কয়েকজন তাকে ঘিরে ফেলে বিভিন্ন অস্ত্রের মহড়া দেখাতে লাগল,
মহড়ার কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, বাহ্‌ দারুণ তো! এরা নিশ্চয়ই আগামীদিনের দেশ রক্ষক, সৈন্যবাহিনীতে ভর্তি হবে। গভীর রাতেও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। মহড়া দেখাচ্ছে।
চু...ভাই, মাল পানি কি আছে বাইর কর, নইলে দেলাম চাক্কু হান্দাইয়্যা, কুৎসিৎ গালি সহযোগে একজনের সাফ কথা।

রাজার কাছে টাকা পয়সা বলতে কিছু ছিল না। সেটা ব্যাপার না। রাজভান্ডারে প্রচুর আছে। কিন্তু এসব কী! ভুলে গেলেন তিনি ছদ্মবেশে আছেন, চেঁচিয়ে উঠলেন: তোমরা কারা? আর তোমরা জানো কার সাথে কথা বলছ, আমি এ দেশের রাজা।
আমরা হলাম ডাইল মানে ফেনসিডিল, হেরোইন পাট্টি, একজন আরেকজনের গায়ে রাম খোঁচা মেরে বলল: আবে চান্দু, এর মনে হয় বল্টু কয়েকটা ছুইট্যা গেছে, পাগল ছাগলের কাপড়ে কি কাম, ল, এর কাপড় বেইচ্চা ডাইল খাই।

এরা জোর করে রাজার গা থেকে কাপড় সব খুলে নিল। রাজার গায়ে একটা সুতাও নাই। ভুল হলো, কোমরে কালো সুতাটা আছে, তাগাটা এ দেশে আসার পূর্বে তার মাতাশ্রী বাড়কা রাক্ষসী
বেঁধে দিয়েছিল

তিনি স্তম্ভিত-হতভম্ব। নিরুপায় হয়ে রাস্তার ভিক্ষুকের বোঁচকা-বুঁচকি থেকে একটা চট চুরি করে কোনো মতে লজ্জা ঢাকলেন। রাজপ্রাসাদের প্রহরীদের বোঝাতে বিশেষ বেগ পেতে হলো, আসলে তিনি কে? অবশ্য গোটাকয়েক ঘা খেয়ে।
এ পর্বের এখানেই সমাপ্তি।

একদিন ঘুমাতে যাবেন। কানে এলো রাজপ্রাসাদের বাইরে খুব হৈচৈ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে তলব করলেন: কি হচ্ছে এসব, বাইরে হইচই কিসের?
প্রধানমন্ত্রী কাঁধ কয়েকবার উঁচু নিচু করে বললেন: তেমন কিছু না রাজা বাহাদুর, এরা আপনার বিরোধী দল।
বিরোধীদল তো বুঝলাম, হইচই করছে কেন! কি চাচ্ছে?
বিরোধীদল হইচই করবে এটাই নিয়ম, করতে হয়। এরা বলছে, দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাচ্ছে। ঘুষ, কালোবাজারী, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, পরীক্ষায় অবাধ নকল, এইসব।

গভীর চিন্তায় রাজার কাঁধ ঝুলে কপালে অসংখ্য ভাঁজ পড়ল, চোখ হয়ে গেল মরা মাছের মত। হঠাৎ লাফিয়ে উঠলেন: ইউরেকা-ইউরেকা, পেয়েছি! আমি এই দেশের প্রজাদের অদ্ভুত মানসিকতা লক্ষ্য করেছি, এদের যা করতে বলা হয় তার উল্টোটা করে। খাল কাটতে বলা হলো তো খাল ভরাট করে ফেলল। যাও, ঘোষণা করে দাও, আজ থেকে সব অবৈধ কাজ বৈধ করা হলো, শুধু বৈধই না বাধ্যতামূলক। বাইরে যারা হইচই করছে তাদেরকে এক্ষুণি জানিয়ে দাও। ওয়ান, টুতে সমস্যার সমাধান। সব ঠান্ডা। হা হা হা।
প্রধানমন্ত্রী বাইরে থেকে ঘুরে এলেন। হইচই কমল তো নাই আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।
আবার কি হলো, রাজার রাগী গলা।
ওই যে বললাম, নিয়ম। বিরোধীদল হইচই করবেই, এটাই এই দেশের দস্তুর, প্রধানমন্ত্রী মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললেন।
এক কাজ করো, এদের সব্বাইকে মন্ত্রী বানিয়ে দাও।

প্রশান্তচিত্তে রাজা ঘুমাতে গেলেন। রাত বারোটা। বিকট চেঁচামেচিতে রাজার কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেল। অসহ্য রাগে লাফাতে লাগলেন, একটুর জন্য মাথা ছাদে ঠুকল না। হচ্ছে কি, হচ্ছে কি এসব, প্রধানমন্ত্রী।
রাজাবাহাদুর এরা আপনার বিরোধীদল।
ওদের না সবাইকে মন্ত্রী করা হয়েছে!
জ্বী, তা হয়েছে। কিন্তু এরা নতুন দল।
যাও, এদেরকেও মন্ত্রী করে দাও।

প্রধনমন্ত্রী ফাঁপড়ে পড়লেন। মিনমিন করে বললেন, মন্ত্রীর কোটা তো শেষ, এদের কি মন্ত্রী করবো?
রাজার দুচোখ ঘুমে ভেঙ্গে আসছে, আহ, ভ্যানর ভ্যানর করো না তো, কোটা শেষ তো কি হয়েছে, নতুন বিভাগ তৈরি করো। গরু মন্ত্রী, গাধা মন্ত্রী যে কোনো মন্ত্রী বানিয়ে দাও। বাট ডোন্ট ডিষ্টার্ব মি।

রাত একটা। রাজার চোখ লেগেছে মাত্র, বাইরে প্রচন্ড শোরগোলে রাজপ্রাসাদ কেঁপে উঠছে। রাজার মেজাজ এখন ফোর্টি নাইনের জায়গা নাইন্টি ফোর। গলার রগ ফুলিয়ে চেচাঁলেন: প্রধানমন্ত্রী!
প্রধানমন্ত্রী হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন। বিরক্তি চেপে বললেন: এখন আর দল-টল নাই, দেশের সব লোক পিলপিল করে রাজপ্রাসাদে আসছে।
রাজা রক্তচক্ষু মেলে প্রধানমন্ত্রীকে ভষ্ম করে দিতে চাইলেন, ব্যর্থ হয়ে বললেন, প্রয়োজন হলে দেশের সবাইকে মন্ত্রী বানিয়ে দাও। যাও, এবার দূর হও আমার সামনে থেকে।

শেষ প্রহরে রাজাকে ডেকে তোলা হলো। দেশের সবাইকে মন্ত্রী করা হয়েছে। এখন আর কেউ প্রজা নেই। দুঃখের বিষয় রাজবিরোধী কার্যক্রম আরো মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

সকালে কথা হবে, এ কথা বলে রাজা সবাইকে বিদায় করে দিলেন। সকালে নতুন রাজাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।
*কার্টুনঋণ: শিশির (তাঁর আইডিয়ার ছাপ আছে)।

No comments: