Monday, December 26, 2011

হাসপাতাল পর্ব, দশ: হাসপাতাল মহাপরিচালক, যথাযথ সম্মানপূর্বক

আমি বারবার যেটা বলে আসছি, 'ন্যাশনাল' এই হাসপাতালে কি কি সুবিধা আছে এটা না-বলে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন কী নেই? অত্যাধুনিক একটা হাসপাতালের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এখানে আছে। কিন্তু...।
আফসোস, নেই কেবল দেখভাল করার লোকজন। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। স্ট্রেচার আছে কিন্তু এই স্ট্রেচারের নমুনা দেখলে মনে হয় এই হাসপাতালের পরিচালকের বাপ-দাদা যখন এই হাসপাতাল চালাতেন তখন থেকে এখন পর্যন্ত এর কোনো যত্ম নেয়া হয়নি! অথচ এই স্ট্রেচারগুলোর মোটা চটের কাপড় পাল্টাতে বা রঙ করতে ক-টাকা লাগে?


খুব ছোট-ছোট বিষয়, অল্প খরচ কিন্তু দেখার কেউ নেই। অথচ এর পরিণাম কী ভয়াবহ এটা এই হাসপাতাল যারা চালাচ্ছেন সেইসব নির্বোধদের অনুমান করার ক্ষমতাও নেই!
এটা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঢোকার প্রবেশপথ, কলাপসিবল গেট লাগানো।। প্রতিবার স্ট্রেচার, হুইল চেয়ার নিয়ে এখান দিয়ে ঢোকার সময় তীব্র ঝাঁকুনি খেতে হয়, এটা এড়াবার কোনো উপায় থাকে না। একজন মুমূর্ষু-মরণাপন্ন রোগি, একজন অপারেশনের রোগি, একজন হার্টের রোগির কী ধকলটা যায় এটা সহজেই অনুমেয়। অনুমান করতে পারেন না কেবল এই হাসপাতালের নির্বোধেরা। ইচ্ছা করছিল, এই হাসপাতালের পরিচালককে ঘাড় ধরে এনে এটা দেখাই।
এগুলো ঠিক করতে খুব একটা টাকার  কিন্তু প্রয়োজন নেই। অল্প সিমেন্ট গুলে জায়গাগুলো ঢালু করে দিলেই হয়। অল্প টাকার মামলা।

প্রতিটি অপারেশনের পর রোগিকে ডাক্তাররা ঘটা করে বলে দেন, আপনারা বিছানায় বসবেন না, রোগির ইনফেকশন হবে, হেনতেন।
বা...!
আহ, ইনফেকশন! ওহে ডাক্তারবাবু, আপনাদের কি ধারণা আছে ইনফেকশন কাহাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? আসুন, আমি এটা হাতে-কলমে আপনাদেরকে শিখিয়ে দেই। প্রথম ছাত্র হিসাবে আমার পছন্দ এই হাসপাতালের মহাপরিচালককে।
শুরু করব এখান থেকে।
এই হাসপাতালে ওয়শরুম, বাথরুম, টাট্টিখানা নামের যে জিনিসগুলো আছে সেখানে এই হাসপাতালের মহাপরিচালককে ঢুকিয়ে দেব। এবং এই নিশ্চয়তাও দিচ্ছি বাথরুম স্বল্পতার কারণে অন্য রোগিদের মত আপনাকে লাইন ধরতে হবে না। স্যার, ওখানে আরাম করে 'হাগুমুতু' করবেন। আপনার 'হাগুমুতু' করার সময় কেউ হাগু এবং মুতুর সমন্বয় সাধন করে 'দিরং' হলে, চাইলে আপনি সারাটা দিন ধরে ওখানে বসে থাকলেও কেউ দরোজা ধাক্কাবে না- চাইলে আপনাকে লিখিত নিশ্চয়তা দেয়া হবে। এবং এও নিশ্চয়তা দিচ্ছি, প্রায়শ বাথরুমে পানি থাকে না কিন্তু আপনার বেলায় বাইরে থেকে বদনা ঘটিতে করে আগে থেকেই পানির ব্যবস্থা থাকবে।

ওখান থেকে ফিরে আসার পর আপনাকে আমি যেটা বলব, আপনার শরীরে কেউ পোঁচও দেয়নি, আপনার অপারেশনও হয়নি, ঘা শুকোবার কোনো সমস্যা নেই; তবুও বলুন, উপচে পড়া থইথই পানিতে (কোনো সহৃদয় ইট বিছিয়ে দিয়েছিল, এটাও পানিতে ডুবে গেছে) এই মেঝে মাড়িয়ে যেতে আপনার স্যুটে লাগেনি তো? স্যার ভেতরের হলুদ ফুলগুলো দেখেছেন তো? না-দেখে থাকলে আমার কাছে ছবি আছে, (কারো কারো গা গুলাবে  বলে এখানে আর দিলাম না) আপনি চাইলে মেইল করে দেব নে।

আসলে স্যারদের সব আগ্রহ যে দলবাজিতে- "স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ" [১]
তারউপর আছে দেবদূতদের আনাগোনা। ওষুধ কোম্পানির এই সব দেবদূতেরা যে নিয়ে আসেন আনন্দের বারতা। এই যে শত-শত মোটর সাইকেল নিয়ে আসা ওষুধ কোম্পানির লোকজনেরা বাজার জমিয়ে ফেলেছেন ডাক্তার সাহেবদের সঙ্গে যে এদের গলায় গলায় ভাব। 

আমি এক লেখায় বলেছিলাম, ওষুধ কোম্পানির লোকজনেরা ডাক্তার সাহেবদের কি কি দেন এটা বেহুদা জিগেস না-করে এটা বলা প্রয়োজন কি দেন না? আমার ধারণা, ডাক্তার সাহেবদেরকে অন্তর্বাসও ওষুধ কোম্পানির লোকজনেরা দেন।

পাশাপাশি যুক্ত হয় আমাদের অসচেনতা। আমরা পিছিয়ে থাকব কেন? পিছিয়ে থাকার জন্য 'নেকাপড়া' করেছি বুঝি!

ঠিক যেখানটায় লেখা 'পানের পিক ফেলিবেন না' ঠিক তার নীচেই পানের পিক ফেলা।
ওহো, পানের পিক বলায় বুঝি ভাবছেন অশিক্ষিত মানুষদের কর্মকান্ড?
ঠিক এখানটায়ই, এই কোনাটায় একটা লম্বা বেঞ্চি থাকত অধিকাংশ সময়। আমিও নিজেও দুঃসহ সময়গুলো পার করেছি এখানে বসে। একবার আমার পাশে একজন ঝাঁ-চকচকে পোশাকপরা এক ভদ্রলোক এসে বসলেন। খানিক পর তিনি কোনাটায় থুথু ফেললেন। নোংরা জায়গা আমরা আরও নোংরা করি, এই-ই নিয়ম চলে আসছে সম্ভবত।

আমি ঝিম মেরে বসে রইলাম কারণ এই হাসপাতালে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আমার ঝামেলা লেগেই ছিল। এরা সবাই জোট বেঁধে, পরে সবাই মিলে না আমায় ছাদ থেকে ফেলে দেয়- আহা, একবার মরলে আর বাঁচব বুঝি। তো, ভদ্রলোক পরপর তিনবার থুথু ফেলার পর আমি আর থাকতে না-পেরে কোনায় রাখা ডাস্টবিনটার প্রতি ইঙ্গিত করে বললাম, এখানে ডাস্টবিন আছে।
আমার নিজেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ভদ্রলোক কিছুক্ষণ পর ঠিক এখানেই আবারও থুথু ফেললেন। কপাল, এই আমার কপাল- ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে! এরপর এই ভদ্রলোকের সঙ্গে যে কঠিন বাতচিত শুরু করেছিলাম এর বিশদে এখন আর যাই না। অল্প কঠিন যে কথাটা বলেছিলাম তা হচ্ছে, আপনি শিক্ষিত একজন মানুষ হয়ে এই রকম করলে একজন অশিক্ষিত...। 

*হাসপাতাল পর্ব, নয়: দৈন্যতা: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_12.html

**সবগুলো পর্ব: http://tinyurl.com/boya6xk

সহায়ক সূত্র:
১. স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ...: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_12.html
২. ওই আসে সুপারম্যান: http://www.ali-mahmed.com/2011/09/blog-post.html 

No comments: