Friday, September 11, 2009

সাগর ছুটে আসে...

­সেই দিন আর নাই, বাহে! দিন পাল্টেছে। সময়ের কঠিন দাবী- কুয়ার কাছে মানুষকে এখন আর যেতে হয় না, কুয়াই মানুষের কাছে চলে আসে।
বাংলা একাডেমি সারদের এতদিনে বোধোদয় হয়েছে। চলমান জ্ঞানের ভান্ড একেকজন- এঁরা যে সর্বদা সোজা হয়ে থাকতেন, কাত হতেন না। জ্ঞান গড়িয়ে পড়ে যদি। সর্বনাশ হওয়ার বাকি থাকবে বুঝি! হায়, এঁরা আজঅবধি স্পেল-চেকারসহ একটা ডিজিটাল অভিধান বের করতে পারেননি। তাহলে আমাদের মত সাধারণদের বড় উপকার হয় যে।

কাজের কাজ যেটা করেন ঘটা করে একটা বইমেলার আয়োজন। লাভের লাভ যা হয় ধুলার কল্যাণে মুফতে আমাদের গায়ের রং বদলানো যায়। মেলায় আগে মুত্রত্যাগের ব্যবস্থাও থাকত না। ভাবখানা এমন, মুত্র জমিয়ে রাখুন; আখেরে কাজ দেবে। এখন আরামই আরাম- মনের আনন্দে ব্লাডার খালি করা যায়। যাক বাবা, এখন এটলিস্ট মুত্রত্যাগ করা নিয়ে ঘিলু খরচ করতে হয় না।

এঁরা আরেকটা কাজ বিমল আনন্দের সঙ্গে করেন সেটা হচ্ছে, ফি-বছর সরকারপ্রধানকে দিয়ে বইমেলা উদ্বোধন করানো। সরকারপ্রধানকে শামসুর রাহমান পর্যন্ত অমায়িক হাসিতে সঙ্গ দিয়ে কৃতার্থ হয়েছেন।

একবার এক রাষ্ট্রপ্রধানের বই মেলায় বের হল, 'টোকাইরাও মানুষ' বা 'টোকাই বলে এরা কি মানুষ নয়' এই টাইপের কিছু একটা। কারা কারা এই বই খরিদ করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন এটা জানা যায়নি, তবে এটা নিশ্চিত আমি আত্মহত্যা করিনি। এই বিষয়ে কারও সংশয় থাকলে এসে দেখে যেতে পারেন, এই বেলা আমি কী-বোর্ড নিয়ে ধস্তাধস্তি করছি। মরি নাই...।
তো, তৎকালিন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে যখন জানতে চাওয়া হলো, সরকারপ্রধান কেন মেলা উদ্বোধন করেন থাকেন? তিনি বললেই পারতেন ক্ষমতার জোরে কিন্তু তিনি লগবগ করে বিমোহিত হয়ে পুচ্ছ আন্দোলিত করতে করতে বললেন, 'তিনি (সরকারপ্রধান) একজন বিশিষ্ট লেখক হিসাবে উদ্বোধন করছেন, এতে সমস্যা কোথায়'?

লে বাবা, তিনি দিকি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। না-না, সার, সমস্যা হবে কেন, তবে লেজটা দুপায়ের ফাঁকে লুকিয়ে রাখতে তো দোষ নাই! আহারে, দেশে আর বিশিষ্ট লেখক ছিল না, না! আফসোস, বড়ই আফসোস, বিশিষ্ট লেখকগণ তখন কী বৈদেশে গমন করিয়াছিলেন জ্যোৎস্না কপকপ করে খাওয়ার জন্য।

বাংলা একাডেমির ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' যোগাড় করা যে কী জটিল একটা কাজ ছিল এটা যারা ঢাকার বাইরে থাকেন তারা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। একাডেমির নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র ব্যতীত পাওয়া যেত না। সারদের আবার অনেক কায়দা-কানুন। ওমুক দিন আসুন তো তমুক দিন কাশুন ইত্যাদি ইত্যাদি। আহারে, একটা 'উত্তরাধিকার' কখনও কখনও একজন মানুষকে কতটা কাতর করে দেয়!
বাংলা একাডেমীর একজন উপ-পরিচালককে
­উত্তরাধিকার ­অন্যত্র কেন পাওয়া যায় না এটা জিজ্ঞেস করলে, এটার উত্তরে তিনি দম্ভভরে যা বলেছিলেন তা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি।

আজকাল এঁরা 'উত্তারিধাকার' অন্যত্র কেবল বিক্রয়ই করেন না, একগাদা টাকা খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেন! এঁদের দেরিতে হলেও সু-বোধের উদয় হয়েছ এই ঢের। আমার মত
­গন্ডগ্রামে থাকা ­অতি সাধারণ মানুষ কৃতার্থ বোধ করছে। সময়ে যে খোলনলচে বদলাবার প্রয়োজন হয় এটা এঁদের কে বোঝাবে! এ গ্রহে ডায়নোসর নাই, সোভিয়েট ইউনিয়ন নাই, আদমজি জুটমিল নাই বাংলা একাডেমি কোন ছার!

*ছবিঋণ: প্রথম আলো

No comments: