Search

Loading...

Thursday, July 23, 2009

মওদুদী: যখন বৃষ্টি তখন ছাতা

মওদুদী সাহেব বলেন:
"...আজ নারীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রশ্নেই কেবল ইসলামের দোহাই দেয়া কেন?
...এর পরে আমি আসল বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভংগী আপনাদের সামনে পেশ করছি:
১. দেশে এক জবরদস্তীমুলক অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবসা চালু রয়েছে, তা আমাদের ধর্ম, চরিত্র, তাহজীব তামাদ্দুন, অর্থনীতির পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক।
২. এ ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পরিবর্তন করার জন্য আগামী নির্বাচনে খোদার দেয়া এক মহা সুযোগ পাচ্ছি।
৩. দেশে মুহতারমা ফাতিমা জিন্নাহ ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তিত্ব নেই যাকে কেন্দ্র করে দেশের বিরাট সংখ্যক লোক একত্রিত হতে পারে...।
৪. মুহতারিমা ফাতেমা জিন্নার প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাধারণ জনতা তার সমর্থনে কোমর বেঁথে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
৫. তাঁর পরিবর্তে অপর কোন ব্যক্তিকে দাঁড় করানো কিংবা এই নির্বাচন সংগ্রামে নিরপেক্ষ থাকার মানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে সাহায্য করা।

...বরং আমি তো বলব, একজন নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান বানানো যদি এক আনা দোষের হয়, তাহলে তার মোকাবিলায় বর্তমান অত্যাচারী ও জালেম শাসনকে বাঁচিয়ে রাখলে কমপক্ষে দশগুণ বেশী গুনাহ হবে।

...আসলে ইসলামের সাধারণ নিয়মের মধ্যে আমরা কোন পরিবর্তই করছি না, সংশোধন করছি।

...ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার জন্য কেবল পুরুষ হওয়াই একমাত্র শর্ত? ...না সেই সঙ্গে আরো অনেক কয়টি শর্ত আছে?
কোন এক বিশেষ সময়ে আমাদের সামনে যদি দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনকে গ্রহন করার প্রশ্ন দেখা দেয়...আর তাদের একজনের মধ্যে কেবল নারী হওয়া ছাড়া অন্য কোন আপত্তিকর জিনিস না থাকে...ইসলাম জ্ঞানসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কি আমাদিগকে নারীকে গ্রহন না করে সেই পুরুষকেই গ্রহন করার জন্য বলতে পারে?

...আপনার ভোট পূর্ন দৃঢ়তার সঙ্গে- মুহতারিমা ফাতিমা জিন্নাহর নামে ব্যবহার করুন...।

আমি খোদার নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাদিগকে রক্ষা করেন, আমীন।
" 

*(সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ/ দলিলপত্র: দ্বিতীয় খন্ড, পটভুমি: ১৯৫৮-১৯৭১/ পৃষ্ঠা নং:২৪২, ২৪৩/ ২৯শে নভেম্বর পল্টন ময়দানে মওদুদীর প্রদত্ত বক্তৃতা থেকে, ১৯৬৪)

8 comments:

Anonymous said...

আমি ছাত্রজীবনে শিবিরের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। সেই সুবাদে মওদুদী সাহেবের লেখা প্রায় ২০-৩০টা বই পড়েছি। তার চিন্তা ও মনন সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পেরেছি।

তাই আমি জোর গলায় বলতে পারি, তার নামে যা আপনি (আলী মাহমেদ) ভাবছেন তা ভুল। আমি দেখতে পাচ্ছি, অনেকগুলো সঠিক কথাকে আপনি ত্রুটিপূর্ন বলে দাবী করছেন। অতি হাস্যকর।

তাই অনুরোধ করব, তার লেখা বইগুলো পড়ে দেখুন, তারপর ব্লগ লিখুন। না জেনে লেখালেখি করা কি উচিৎ? আপনিই বলুন।

।আলী মাহমেদ। said...

"...অনেকগুলো সঠিক কথাকে আপনি ত্রুটিপূর্ন বলে দাবী করছেন। ...না জেনে লেখালেখি করা কি উচিৎ?"
এই পোস্টের শিরোনাম ব্যতীত আর একটা অক্ষরও আমার নিজের না। তথ্যগুলো যেখান থেকে নেয়া হয়েছে এর সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব এই তথ্য-উপাত্তের দায়-দায়িত্ব আমার না।
ধন্যবাদ আপনাকে। @Anonymous

Anonymous said...

মাহমেদ ভাই । আমি আপনার সাহসীকতা পূণ লেখার স্টাইল খুব ভালবাসি। তবে এই লেখাটা ভাল হয়নি। আপনি মওদুদি সাহেবের বিরুদে লিখতে গিয়ে তার বিপরিত মতের যারা তাদের লেখাকে কোট করেছেন।নিজে কোন পড়াশুনা করেননি এ ব্যাপারে। বিচ্ছিন্ন কিছু উক্তি তুলে দিয়ে নিজের মতের নায্যাতা প্রমাণ করার এই জগন্য ঊপায়ের আশ্রয় আপনি কেন নিবেন মাহমেদ ভাই? আপনি হয়ত জ়ামাতে ইসলাম কে পছন্দ করেন না।তাই এর প্রতিস্টাতার উপর আপনার রাগ আছে।আপনার জানার জন্য বলি, জামাত নিজেই মওদুদীকে সম্পূণ ধারণ করতে পারেনি।আমরা হুদাই না বুজে চেচামেচি করি।তার লেখা পড়ে তাকে আমার অনেক আধুনিক এবং উদার মনে হয়েছে। তার সব লেখাই সঠিক এরুপ দাবি আমি করব না। কিন্তু তার সময়ের সাথে ইসলামকে ধরতে পারার ব্যাপারটা অসাধারণ। আর আপনি যে ঘটনাসমুহ তুলে ধরেছেন তার কিন্তু যুক্তিপুণ ব্যাখা আছে। ফাতেমা জিন্নাহর ব্যাপারে তার চিন্তাটা সময়ের চাহিদানুযায়ী ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে তিনি গোলাম আযমের ভূমিকার বিরোধিতা করেছিলেন।

।আলী মাহমেদ। said...

"...নিজে কোন পড়াশুনা করেননি এ ব্যাপারে।"
দেখা যাচ্ছে, আপনি আমার সম্বন্ধে আমার চেয়ে বেশি জানেন, বিস্মিত! এমন সবজান্তা একজন মানুষের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বোধ করছি না।
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। @Anonymous

Anonymous said...

মাহমেদ ভাই , আপনি এড়িয়ে গেলেন কেন

দানিয়েল মুসা said...

একটা প্রাইজের ভারে এমন ভাবে কথা বলছেন যেন পৃথিবীর সব আপনার জানা হয়ে গেছে।প্রথম আলো কে তো খুব শেখালেন, নিজের বেলাতো ভুলে গেলেন-অখ্যাত কিছু সমালোচকের উদ্ধৃতি দিয়ে দায় সারলেন।আবার যারা অনুগ্রহ করে আপনার লেখাটা পড়লো তাদের সাথেও আলাপ চালাতে আগ্রহ পান না, দারুন তো আপনার শিষ্টাচার। আপনি কি করেন সাহেব ব্লগ লিখে তো আর ভাত জোটেনা?

Anonymous said...

১৬ খন্ডে প্রকাশিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রামাণ্য দলিল হিসাবে ধরা হয়। আপনার কি ধারণা কোন ধরণের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই এইগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তবে দানিয়েল মুসা আপনার মত জ্ঞান পাপীর কাছে অনুরোধ অবিলম্বে সঠিক ইতিহাস প্রকাশ করে জাতিকে এই মিথ্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করুন।

।আলী মাহমেদ। said...

এখানে পক্ষে-বিপক্ষে আর কোন মন্তব্য আশা করছি না। কেন, এর ব্যাখ্যা দিচ্ছি:
এটা মসজিদ না কিন্তু আমার বাড়িসম। আমার বাড়িকে আবর্জনায় মাখামাখি অবস্থায় দেখতে চাচ্ছি না। তদুপরি মন্তব্যগুলো রেখে দিচ্ছি কেবল এই কারণে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা...।

এখানে মন্তব্যের শুরুতেই আমি বলেছিলাম: "...এই পোস্টের শিরোনাম ব্যতীত আর একটা অক্ষরও আমার নিজের না। তথ্যগুলো যেখান থেকে নেয়া হয়েছে এর সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব এই তথ্য-উপাত্তের দায়-দায়িত্ব আমার না।"

এরপর এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা চালাচালি করাটা আমার কাছে অপচয়, স্রেফ শব্দের অপচয়।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Facebook Share