Friday, June 29, 2007

৭১-এ হত্যা- দানবীর নতুনচন্দ্র

পাকিস্তানী সৈন্যরা তাঁকে- নুতননচন্দ্র সিংহকে, হত্যা করে প্রার্থনা করার সময়। সেই সময় তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন।
জনৈক সালাউদ্দিন তাঁকে মন্দিরের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে আসে।
দানবীর নুতনচন্দ্র সিংহের চোখের সামনে মন্দিরটি উড়িয়ে দেয়া হয়। । তারপর তাঁকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে। যে মেজর তাঁকে গুলি করে হত্যা করার জন্য ৩টা গুলি করার পরও সেই সালাউদ্দিন রিভলবারের গুলি ছুঁড়েছিল নতুনচন্দ্রের দিকে। টানা ৩ দিন অবহেলায়, নুতনচন্দ্র সিংহের মৃতদেহ মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল, রাস্তায়!

নতুনচন্দ্র সিংহকে সবাই বারবার বলেছিল, এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁর এক কথা, মরতে হলে দেশেই মরবো!

নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি বলে মনে ভারী কষ্ট ছিল তাঁর। তখন রাউজান থানায় কোন বিদ্যালয় ছিল না! মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি আবাসিক সুবিধাসহ আধুনিক কুন্ডেশ্বরী বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছিলেন। শুধু রাউজান না, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে পড়ার জন্য ছাত্রীরা আসতো। তত্কালীন সময়ে সেই বিদ্যালয়ের ছিল নিজস্ব ডাকঘর, সরাসরি টেলিফোন যোগাযোগ, পানির পাম্প, জেনারেটর, বাস ইত্যাদি।
তাঁর মৃত্যুর পর ওই সময়ের টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকার সম্পত্তি লুট হয়!

’৭১-এ যুদ্ধের সময়, প্রাণ বাঁচাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৭ জন অধ্যাপক সস্ত্রীক এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান, ড. এ আর মল্লিক, ড. আনিসুজ্জামান, ড. কোরাইশী প্রমুখ এদের মধ্যে অন্যতম!

*সূত্রঃ বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ড