Wednesday, October 7, 2015

ধারা ৫৭।

হালের খবর হচ্ছে, ‘ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেফতার’! [] ছাত্রটি নবম শ্রেণির এক বালক। এ দেশের আইনমতে শিশু। অবশ্য ড. জাফর ইকবালের মতে এ নিশ্চিত দুগ্ধপোষ্য শিশু। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ইয়া ধামড়া-ধামড়া যুবকরা যদি জাফর ইকবালের দৃষ্টিতে ‘বাচ্চা ছেলে’ হয়ে থাকে তাহলে নবম শ্রেণি পড়ুয়াকে আমরা অবলীলায় দুগ্ধপোষ্য শিশু বলতে পারি।

যাই হোক, এর বয়স বিবেচনা করে একে এবং এর পরিবারকে সতর্ক করে ছাড় দিলে মঙ্গল গ্রহের পানি শুকিয়ে যেত বলে আমি মনে করি না। কিন্তু আইন সম্বন্ধে আমার ভাল জ্ঞান নেই বিধায় এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রইলাম। বিষয়টা আইনজ্ঞদের জন্য তোলা রইল।

video
(ভিডিও সূত্র: ইউটিউব: https://www.youtube.com/watch?v=5str8--rVyQ
)
দেওয়ানবাগির এই ভিডিও ক্লিপটি বছর দুয়েক পুরনো কিন্তু সম্প্রতি আমার দেখার দূর্ভাগ্য হয়েছে। দেখার পর আমি অনেকটা সময় বাকরুদ্ধ হয়ে ভাবছিলাম এই দেশেরই একজন মানুষ এমনসব ভয়ংকর কথা প্রকাশ্যে বলে পার পেয়ে যেতে পারে এ তো অকল্পনীয়, অসম্ভব, অবাস্তব। এমন না যে অপরিচিত কেউ-একজন যা-তা বলে গা ঢাকা দিল। এই মানুষটা তার অসংখ্য মুরিদের কাছে এমনতরো ভয়াবহ বক্তব্য প্রকাশ্যে বলে আসছে, দিনের-পর-দিন ধরে! এবং এই কারণে এই মানুষটাকে বিন্দুমাত্রও কোনও প্রকারের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এমনটা আমরা জানি না। বরং আমরা ৩০০ পাউন্ডের কেক কেটে মানুষটার জন্মদিন পালন করতে দেখেছি। ঠিক ৩০০ পাউন্ড কেক কেন কে জানে এই মানুষটার ওজন কী ৩০০ পাউন্ড!

আচ্ছা, এই মানুষটা-এই মানুষটা বলছি কেন?! একে কী বলব? পরমপুরুষ? পরম ক্ষমতাধর! অসীম ক্ষমতাবান? দূর-দূর, আমার মত মানুষের পক্ষে এটা নির্ধারণ করা কী সম্ভব! আহা, কী পরম ক্ষমতাধর রে আমার! নিজের চোখের দৃষ্টি ঠিক করার মত সামান্য ব্যবস্থা যার সাধ্যের বাইরে, চশমাই ভরসা! বেলুনের মত ফুলে যাওয়া রোধ করার ক্ষমতা নাই যার- আফসোস, ফেটে যাওয়া আটকাচ্ছে কে!

তথ্যপ্রযুক্তির এই ধারা ৫৭ একটি কালো আইন। কিন্তু যেহেতু এখন পর্যন্ত এটা বহাল আছে তাহলে এই মানুষটার বক্তব্যগুলো কী ধর্মীয় অবমাননার পর্যায়ে পড়ে না? নাকি দেওয়ানবাগির মত লোকজনেরা দেশের প্রচলিত আইনের উর্ধ্বে?
এই গ্রহে তো ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। রুমানিয়ার পাভেল মির্চা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। কেন করেছিলেন সে এক লম্বা কাহিনী। আদালত এই মামলা গ্রহনও করেছিলেন। মামলা শুরু করার পূর্বে বিবাদীকে সমন জারী করতে হয়। উকিল বিবাদী ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারছিলেন না কারণ...। কারণ ঈশ্বরের আবাসিক ঠিকানার খোঁজ কারও জানা নেই! ঈশ্বর পার পেয়ে যান কেবল এই কারণে যে তাঁর আবাসিক ঠিকানা নেই। অতএব মামলা ডিসমিস।
কিন্তু দেওয়ানবাগির আবাসিক ঠিকানা আছে বলেই জানি...।

সহায়ক সূত্র:
১. ফেইসবুকে ধর্মাবমাননার অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার, মামলা: http://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1033133
*ভিডিওটি Jun 23, 2013 সালে ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন thinkbd. তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

No comments: