Wednesday, March 18, 2015

'মওকা'-সুযোগ-সুযোগসন্ধানী।

পেপসিকো ইন্ডিয়ার নামে অতি আপত্তিকর ভিডিও ‘মওকা’ নিয়ে আমাদের এই প্রজন্ম প্রচন্ড রকম ক্ষুব্ধ হয়েছে। যদিও পেপসিকো ইন্ডিয়া ক্ষমা চেয়েছে এবং দাবী করেছে এটা তাদের বিজ্ঞাপন না। প্রচন্ড আপত্তির মুখে ইউটিউবেও এই ভিডিওটি অপসারণ করেছে।

কিন্তু এরই মধ্যে এই প্রজন্ম যেটা করে দেখিয়েছে তা এক কথায় অভূতপূর্ব। স্যালুট। তাদের অনেক ভঙ্গির সঙ্গে আমাদের দেশের ঝুলেপড়া গোঁফ এবং ঝুলেপড়া ইয়ের বুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন নৈতিকতার আঁক কষবেন। এতে করে এই প্রজন্মের বয়েই গেছে! বিষয়টা অনেকটা এমন, কেউ কারও মাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়েছে, সামনের লোকটাকে স্রেফ খুন করে ফেলতে হবে- এখানে জেনেভা কনভেশনের কী কাজ?

১৯৭১-‘রিবার্থ’, এই দেশ স্বাধীন হওয়ার মাধ্যমে যে প্রজন্ম জন্ম নিয়েছে তার কাছে স্বাধীনতা মা-সম। তার মাকে কেউ অপমান করবে আর সে চেয়ে চেয়ে দেখবে এমনটা আশা করাটাই বোকামী। সেই দ্রোহ-ক্ষোভের তীব্রতা কাঁপিয়ে দেবে সমস্ত কিছু, দিয়েছেও। আমাদের নষ্ট রাজনীতিবিদদের জন্য এটা একটা আগাম সতর্কবার্তা। যারা এই প্রজন্মের পালস বুঝতে পারবে তারাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে।

১৯৭১ সালে ভারতের যেটুকু অবদান তা অস্বীকার করে আমরা অরুচির পরিচয় দিতে চাই না। তবে আমাদের উপকার করার মাধ্যমে তাদের কতটুকু উপকার হলো সেটা না-হয় ভাবাভাবির লোকজনের জন্য তুলে রাখলাম। উপকার করেছে বলে আমরা কী আজীবন হাতের তালু ঘষতে ঘষতে রেখা মিটিয়ে দেব?

যাই হোক, আমি বারবার যেটা বলে আসছি আমার সবটুকু আস্থা এই প্রজন্মের উপরই। পারলে এরাই পারবে করে দেখিয়ে দিতে। যেমনটা মওকার ক্ষেত্রে হয়েছে। ভারতের মত পরাশক্তিকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে দিয়েছে। ভারতের মত শক্তিশালী দেশের প্রতি আমরা কারা-কারা নতজানু এতে এদের পরোয়া নেই। এরা এদের লড়াইয়া চালিয়ে গেছে নিজের মত করে।
This is my land, no cowboy rides here. আমার নিজের ভুমিতে কোনও রাখালবালকে মাস্তানি করতে দেব না সে আমেরিকা হোক বা ভারত।

'মওকা'-সুযোগ একটা ওছিলামাত্র। এমনিতে ভারত যে চরম সুযোগসন্ধানী সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য মওকার বিষয়ে অনেকে এই প্রজন্মের প্রতিক্রিয়াকে সহনশীলতার অভাব রূপে দেখছেন। আসলে ‘মওকা’আমাদেরকে একটা মওকা বা সুযোগ এনে দিয়েছে। ভারতের প্রতি এই পুঞ্জিভূত ক্ষোভ কিন্তু একদিনের না। ভারতের বিভিন্ন তালেবর খেলাবিষয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে অনবরত বিভিন্ন কটু কথা বলেই গেছেন। এর বাইরে ভারত বিভিন্ন সময়ে এই দেশের উপর যে সমস্ত অত্যাচার করেছে এই সমস্তই ঘটেছে এই প্রজন্মের চোখের সামনে।
আমাদের সুন্দরবন ধ্বংস করে এরা রামপাল বিদুৎকেন্দ্রের কাজ চালিয়েই গেছে [১]। এরা নিজেদের বিদুৎকেন্দ্রে জন্য তিতাস নদীকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল [২]। ফেলানি নামের অসহায় এক মেয়েকে এরা গুলি করে যেভাবে ঝুলিয়ে রেখেছিল [৩] এই দৃশ্য এই প্রজন্ম বিস্মৃত হয়নি।

বিএসএফ নামের নেকড়েগুলো হাতের নাগালে পেলে এই দেশের লোকজনের শরীরে পেট্রল পুশ করেছে এমন উদাহরণও আছে বা হাত-পায়ের রগ কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এরা কেমন করে আমাদের দেশের লোকজনকে অত্যাচার করে এই লেখার [৪] সঙ্গের স্টিল ছবিগুলো বা ভিডিওটি দেখলে অনুমান করা যাবে যে এরা কী পরিমাণ হিংস্র! হিংস্রতায় অবলীলায় এরা পশুকেও হারিয়ে দেবে। এমন উদাহরণের অভাব নেই।

ভারতের সুবিধার জন্য আলাদা রেললাইন লাগবে এদের এমন শত বায়ানাক্কার শেষ নেই [৫]। এরা শহরের সমস্ত বর্জ্য পাঠিয়ে দেয় আমাদের দেশে [৬]। কেবল তাই না আমাদের দেশে ফেনসিডিল দিয়ে এরা ভাসিয়ে দেয়, কেবল বাংলাদেশে পাঠাবার জন্য এরা সীমান্তে শত-শত ফেনসিডিলের কারখানা খুলে রেখেছে। ফেনসিডিলের মূল উপাদান 'কোডিন' কিন্তু এদের ফেনসিডিলে যা আছে তা স্রেফ বিষ! এরা কিন্তু নিজেরা ওই ফেনসিডিল ছুঁয়েও দেখে না। এদের মেয়াদ উত্তীর্ণ গুড়ো দুধ, জিরা আমাদের এখানে পাঠিয়ে দেয় আর ইলিশের প্রয়োজন হলে দিদি-দিদি বোল আমাদের কান ঝালাপালা করে দেয়।

আমরা কেবল একটা জায়গায় এদের থেকে পিছিয়ে আছি। এরা নিজেদের স্বার্থের জন্য, দেশের জন্য সবাই একাট্টা এখানে এদের কোনও আপোষ নেই কিন্তু আমরা দলবাজরা না-মানে-ইয়ে বলে অতি দ্রুত দু-ভাগ হয়ে যাই...।

সহায়ক সূত্র:
১. সুন্দরবন-রামপাল: ...!: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_23.html
২. তিতাস, বানরের পিঠা ভাগাভাগি: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
৩. ফেলানি: http://www.ali-mahmed.com/2011/01/blog-post_10.html
৪. বিএসএফ এক নেকড়ের নাম: http://www.ali-mahmed.com/2012/01/bsf.html
৫. ভাল দাম পেলে...: http://www.ali-mahmed.com/2013/06/blog-post_17.html
৬. দান...: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post_14.html

No comments: