Friday, March 6, 2009

সামছু ফকির, কার কাছে যাব? আপনার কাছে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন একাধিকবার সামছু ফকিরের সঙ্গে দেখা করেছেন। মাননীয় মন্ত্রী মনে করেন, সামছু ফকিরের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। তিনি গত মঙ্গলবার সাড়ে নয়টায় ওখানে যান। (প্রথম আলো, ০৫.০৩.০৯)

বাবা সামছু ফকির, আপনার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে সালাম জানাই। আচ্ছা, আপনি পিলখানার রক্তাক্ত অধ্যায়টাকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন না, না? পারলে বেশ হত, মৃত ৭৩ জনকে ফিরে পেতাম আমরা! বাবা গো, আপনার ফকিরির কসম, তাইলে আজীবন আপনার ঠ্যাং ছাড়তাম না।

তাও ভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জীবিত একজনের কাছে গেছেন, অলৌকিক কিছু দেখার প্রবল আশায়। খালেদা-হাসিনা-এরশাদ এঁরা তাদের নির্বচনী প্রচারনা শুরু করেছিলেন সিলেট থেকে, মাজার জিয়ারত করে।

এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকাকালিন আটরশির পীরের দরবারে ক-বার গেছেন? হেলিকপ্টারের
১৬ লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। এখন এ নিয়ে গবেষনা হতে পারে!

আমার জানামতে, ইসলাম ধর্মমতে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন মাজার জিয়ারত করা যাবে না, এটা কঠিন অপরাধ। কারণ একজন মৃত মানুষ নিজেই থাকেন দৌড়ে- তাঁর কাছে চাওয়ার কিছু নাই! অবশ্য কারও চলার পথে কোন কবর পড়লে সেটায় দোয়া করতে কোন সমস্যা নাই।

এই কদভ্যাস আমাদের কথিত আলোকিত(!) মানুষ হুমায়ূন আহমেদেরও আছে। নিয়ম করে মাজারে যান। তাঁর ভাষায় জিয়ারত না, শৈশবের হালুয়ার স্মৃতির জন্য যান। 'প্রার্থনা দিবস' নামের কলামে তিনি লিখেছিলেন, "...কয়েক দিন আগে আবার মাজারে গেলাম। আমার সঙ্গে ১৯ জনের বিশাল দল। আমার আগ্রহের মুল কারণ হালুয়া..."।
ওনার কথামতে, হালুয়া খেতে। ভদ্রলোককে নাকি শৈশবের হালুয়ার স্মৃতি চাবকাকে চাবকাকে রক্তাক্ত করে ফেলে। মোল্লাদের বাড়াবাড়িতে ইনিই আবার ঘটা করে কলাম লেখেন, "এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব"?

বেশ-বেশ। তা স্যার, আপনার সফরসঙ্গিরা গিয়েছিলেন কেন, এটা তো আর বললেন না। তাঁরাও কী হালুয়া পসন্দ(!) করেন?


হুমাযূন সাহেব কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন এটা তিনি বিলক্ষন জানেন। কিন্তু আফসোস, আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব এটা আমাদের জানা নাই?
রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন পদের শেকল থাকে কিন্তু আমাদের আলোকিত এই মানুষটার পায়ে কিসের শেকল কে জানে! ভানের শেকল? ভদ্রলোকের দেখি ভান এবং হালুয়া দুই-ই ভারী পছন্দের!

1 comment:

Anonymous said...

I should notify my girlfriend about it.