Tuesday, February 25, 2014

যেখানে দেখিবে ছাই।



ভরসা করা যা না এমন একজন মানুষ যখন আমাকে বললেন, আমার কাছে পুরান পরতিকা আছে, তখন আমি হেলাফেলা ভঙ্গিতে বললাম, কত পুরনো? তিনি যখন বললেন, অনেক পুরান
আমি এবার রসিকতা করি, কত পুরনো- যখন বড়ো তুফানটা হইছিল, তখনকার?

আমি আর কথা বাড়াই না কারণ এই সব কথার কথা। এর কাছে কাজের জিনিস থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ অনেক ভরসার মানুষকেও যখন সালাম-কালাম শেষ হওয়ার পরই বলেছি, আপনার কাছে পুরনো কি আছে? তিনি আলোকিত মুখে বলেছেন, আছে তো। তখন আমি লজ্জার মাথা খেয়ে কাতর হয়ে বলি, দেন না আমাকে। তখন মানুষটা অম্লানবদনে বলেছেন, ছিল তো, সংগ্রামে লুট হইয়া গেছে। শোনো কথা ব্যাটার।

যাই হোক, পরের দিন এই মানুষটা ঠিক ঠিক বগলে করে একগাদা বিবর্ণ পত্রিকা নিয়ে হাজির হন। ওয়াল্লা, এ তো দেখি সোনার খনি! আমার লোভের চকচকে চোখ লুকিয়ে রাখি যদি মানুষটা এটা দেখে উল্টো হাঁটা দেন, তাহলে উপায়! যাগ গে, এমনটা কিছুই ঘটে না। মানুষটা পত্রিকাগুলো আমার হাতে দিয়ে উদাস হয়ে বলেন, নেন, আরও লাগলে দিমু নে। ওরে মানুষ, যদি জানতে আমার নিরানন্দ জীবনে এমন আনন্দময় ঘটনা কোথায়?

অধিকাংশ পত্রিকাই ১৯৫৫/ ১৯৫৬ সালের। পত্রিকার নাম, তওহীদ। জামাতে ইসলামের সাপ্তাহিক পত্রিকা। দাম? এটা বুঝতে আমার ঘাম বেরিয়ে গেছে। ১০ পয়সা বোঝা যায় কিন্তু এর পূর্বে এই চিহ্নটা কী! অনেক কায়দা-কানুন করে জানা গেল, এটা দুই আনার চিহ্ন। দুই আনা মানে ১২ পয়সা, এর সঙ্গে যোগ হবে ১০ পয়সা। মোট ২২ পয়সা!

মাওলানা ভাসানিকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন দেখছি, জনাব ভাসানীর সাহস হইবে কি? বটে রে, জনাব ভাসানীর সাহস হবে কেমন করে! জামাতে ইসলামীর আসল কর্তা এই মওদুদী সাহেবই তো মাওলানা ভাসানীর দাড়ি ছিড়ে ফেলেছিলেন। এটা আমার কথা না, এটা বলেছিলেন, মওদুদীর আপন সন্তান [১]। তিনি আরও বলেছিলেন, কেমন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে বাঙ্গালিদেরকে পাখির মত গুলি করা হয়েছিল। ...মওদুদী তার কোনো সন্তানকে জামাতে ইসলামীর রাজনীতি করতে দেননি। মওদুদীর ভঙ্গিটা ছিল এমন, যেমন কোনো ড্রাগ স্মাগলার ড্রাগের পোঁটলাটা বাইরে রেখে আসে, ঘরে প্রবেশ করতে দেয় না, এমন।
বলিহারি...।

 ১. জামাতে ইসলাম এবং ইসলাম!: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_5646.html 

No comments: