Saturday, July 16, 2011

শাবাশ, তানজিন বৃষ্টি!

­পত্রিকায় খবরটা ভেতরের পাতায় ছাপা হয়েছে। কালই 'কালের কন্ঠে' পড়েছিলাম। এই বাসি খবরটা আজ 'প্রথম আলোয়' পড়লাম। চব্বিশ ঘন্টা পর! তবুও ভাল প্রথম আলো খবরটা ছাপিয়েছে। অনেক প্রয়োজনীয় খবর অন্য পত্রিকায় ছাপা হলেও এই পত্রিকায় এর টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এমনিতে এরা কবে বুঝবে বাসি জিনিস লোকজন পছন্দ করে না, এর স্থান হয় আবর্জনায়!

'ইতিহাদ' এয়ারলাইনসের যাত্রী তানজীন বৃষ্টিকে আবুধাবি বিমানবন্দরে হেনেস্তা করা হয়, দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি এই নিয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। অন্যদের সাথে ইতেহাদের কান্ট্রি ম্যানেজারকেও হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।

কালের কন্ঠ বলছে সশরীরে কান্ট্রি ম্যানেজারকে হাজির হতে হবে প্রথম আলো বলছে, ব্যাখ্যা জানাতে তলব করা হয়েছে। দুয়ের মধ্যে অনেক ফারাক। সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া না-থাকলে কোর্টে পদধুলি না-দিলেও চলে। তখন আইনজিবি মক্কেলের পক্ষে হাজির থাকেন, ব্যাখ্যা দেন।
রিটের কপিটা আমার হাতে নাই বিধায় প্রথম আলো পড়ে ইতিহাদের কান্ট্রি ম্যানেজার কি সশরীরে হাজির হবেন নাকি অশরীরে এটা বুঝতে খানিক সমস্যা হয়!
আবার একটা পত্রিকায় নাম লিখেছে তানজীন, অন্যটায় তানজিন...।

ইতেহাদ-আবুধাবি নামের সঙ্গে গলাগলি করে চলে আসে এমিরাটস-দুবাইয়ের নাম। 'বৈদেশ পর্ব' [১] নামে ধারাবাহিক একটা লেখা লিখেছিলাম। আমি ওই লেখায় লিখেছিলাম [২], "...আমি অন্য সময়ে প্রয়োজনে কঙ্গো এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করব কিন্তু এই সব অসভ্য এয়ারপোর্টে ব্লাডার হালকা করতেও আগ্রহী হবো না, শপথ আমার লেখালেখির"।
প্রায় বছরখানেক গড়িয়ে গেছে কিন্তু এখনও ওই শপথ থেকে সরে আসার বিন্দুমাত্র কাতরতা অনুভব করি না। ওই সব কুৎসিত মুখ আমি আবারও দেখতে চাই না।

আমার স্মৃতিতে এটা এখনও অম্লান, কী অসভ্য এরা! ন্যূনতম সৌজন্য বোধও এদের মধ্যে নাই। এই নির্বোধদের কে বোঝাবে এদের সামনে দাঁড়ানো লোকগুলো ওই মুহূর্তের অতিথি। ওহো, এদের তো অক্ষরের সঙ্গে যোগাযোগ কম এরা অতিথি কাকে বলে এটা বুঝবে কেমন করে! যেটা আমি পূর্বেও লিখেছিলাম, "...যারা আমার পাসপোর্ট দেখে বলে, 'তোমার তো ভিসার মেয়াদ শেষ'। এদেরকে দেয়া হয়েছে একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্ব! আমি তিতিবিরক্ত, এদের সঙ্গে হেত্বাভাস-কুতর্ক করার কোন ইচ্ছা আমার মধ্যে আর অবশিষ্ট ছিল না..."। 
আমি জানি না এদের দেশে স্থায়িভাবে বসবাস করা লোকজনের সঙ্গে এরা কেমন আচরণ করে। ভাল আচরণই করার কথা কারণ নিজেদের আরাম-আয়েশের জন্যে চাকর-বাকরদের যে বড়ো প্রয়োজন।

আমার হোটেল রিজার্ভেশন থাকার পরও এরা আমাকে এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল পর্যন্ত যেতে দেয়নি। সমস্তটা রাতটা আমার কেটেছিল নির্ঘুম! এই সব বেতমিজদের জন্য অভিশাপ- এদের এই বেসুমার টাকার দম্ভ ভেঙ্গে পড়ুক একেক করে। এটা শুনে এরা হায়েনার মত হাসছে বুঝি? আহা, এরা এটা বিস্মৃত না হলেই ভাল করবে জাপানের মত দেশের লোকজন খোলা আকাশের নীচে রান্না করছে এটা সম্ভবত জাপানিরা কখনও কল্পনাও করেনি!

এয়ারপোর্ট থেকে বেরুতে দিল না, বেশ। কেউ হোটেল থেকে ভেগে এদের দেশে থেকে যাবে এই আশংকায়, বেশ। কিন্তু চলে যাওয়ার সময় ট্রানজিট যাত্রীদের সঙ্গে এরা অসৌজন্য আচরণ করে কেন? আরে, যাত্রী যে দেশে যাচ্ছে সেই দেশে গিয়ে মরুক না, তোদের কী সমস্যা।

ফিরে এসে এমিরাটসকে কঠিন একটা মেইল করেছিলাম, মেইলে জানতে চেয়েছিলাম, হোটেলে রাখার লিখিত সম্মতি দেয়ার পরও কেন আমার সঙ্গে এমন রসিকতা করা হলো?
"...Customer Affairs থেকে Marsha Rozario নামের একজন আমাকে মেইল করে জানিয়েছিলেন, "...I am happy to learn that you were provided with hotel accommodation within the terminal..." এই নির্বোধের উত্তর দেখে আমার হাসি চাপা মুশকিল হয়ে পড়েছিল। আমি লিখলাম কি আর এ আমাকে উত্তর দিল কী"!
শ্লা, এমিরাটসের সঙ্গে যারা যারা জড়াজড়ি করে থাকে সবগুলো কি নির্বোধ হয়ে যায়?

পরে যার সঙ্গেই এই সব বিষয়ে কথা হতো, দেখতাম, এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা- আরে, বাদ দাও এই সব। আমি একজনের কথায় খুবই আহত হয়েছিলাম, তিনি বলছিলেন জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সংঘাত ইত্যাদি।
আশ্চর্য, ওটা ব্যক্তিগত হয় কেমন করে? একটা দূতাবাসে নিজেরা বসে পা নাচাবে আর কাউকে দাঁড় করিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবে এই চুতিয়াগিরির মানে কী! সেই দূতাবাস জার্মান নাকি আমেরিকান তাতে কী আসে যায়। সামনের মানুষটা বসে থাকবে আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকব কেন? আমরা কি কয়েদী যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এদের জেরার উত্তর দেব? এদেরকে কি এটা শিখিয়ে দেয়া হয়েছে প্রথমেই তাদের নিজেদের দেশ সম্বন্ধে কুৎসিত একটা ধারণা দেয়া- নিজেদের দেশকে নগ্ন করে ফেলা! স্বাধীন একটা দেশে অন্য দেশের দূতাবাস কি অন্য একটা দেশ?

যাই হোক, এই দেশের সব কিছু ঘুরপাক খায় ঢাকাকে কেন্দ্র করে। আমার আবার ঢাকা যাওয়া হয় কালেভদ্রে নইলে হয়তো তখন আমিও চেষ্টা করতাম। একবার এমিরাটসের দায়িত্বশীল কাউকে কোর্টে দাঁড় করাতে পারলে আমার তীব্র ক্ষোভের প্রশমন হতো।

যেটা আমি করতে পারিনি সেটা তানজিন বৃষ্টি করে দেখিয়ে দিয়েছেন। শাবাশ তানজিন, শাবাশ! তানজিনার জন্য কুর্নিশ...।

 সহায়ক লিংক:
১. বৈদেশ পর্ব: http://tinyurl.com/29zswc5
২. বৈদেশ পর্ব, সাত: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_3252.html 

1 comment:

Anonymous said...

btisti-ke salute