Saturday, June 11, 2011

ব্লগিং: নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো!

আজকের অতিথি আবারও শওকত আলী। অনেকে ব্লগিং করা নিয়ে আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে গুছিয়ে বলতে পারি না- কি হয় ব্লগিং করে, এই সব হেনতেন। এই বিষয়ে খানিকটা আলোকপাত করেছেন, শওকত আলী। তিনি লিখেছেন: 

"'কি করা হয়?'
-কিছু করা হয় না।
'এইটা কেমন কথা বললা? একজন ঝাড়ুদারও তো কিছু না কিছু করে! ঝাড়ু দিয়া আবর্জনা দূর করে।'
-আমি ব্লগিং করি।


'এইটা আবার কোন ধরনের ধান্দাবাজি?'
-আমি লিখি।
'কোন পত্রিকায়?'
-কোন পত্রিকায় না।

'তাহলে কি বাজারের ফর্দ লেখো?'
-নাহ, ওই যে বললাম। আমি ব্লগে লেখি।


'বুঝাইয়া বল।'
-ব্লগ হচ্ছে একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক একটা জিনিস। যেখানে সবাই তাদের চিন্তা ভাবনা শেয়ার করতে পারে।

'কেমন টাকা পয়সা দেয়?'
-কোন টাকা পয়সা দেয় না।

'তাইলে এখানে সময় নষ্ট করার দরকার কী! ট্রেন-বাসে কান পাকার ওষুধ বিক্রি করলেও তো কিছু টাকা-পয়সা পাওয়া যায়, নাকি!'
-তা ঠিক। কিন্তু এখানে আমরা তো নিজের আনন্দের জন্য লিখি।

'কোন টাকা-পয়সা পাওয়ার যো নাই তাহলে কি হাওয়া খায়া দিন পার করো! ভাল-ভাল। পেট খালি নিয়ে যে আনন্দ করা যায় এটা জানা ছিল না। তা কি লেখা হয়? নতুন কোন ছবি মুক্তি পাইল। কোন নায়িকা কোন নায়কের সাথে পলায়ন করিল, এইসব?'
-কোন নির্ধারিত একটি বিষয়ের উপরে এখানে লেখা হয় না। দৈনন্দিন ঘটনাবলি থেকে শুরু করে এমন কোন বিষয় নাই যা নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয় না।

'তাইলে পত্রিকা আর নিউজ চ্যানেলগুলি কি বইসা বইসা মাছি মারব।'
-আপনি পত্রিকায় কোন খবর পরদিন সকালে জানতে পারছেন। আর টিভি চ্যানেলের কোন খবরের তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া আপনি জানাতে পারছেন না। কিন্তু ব্লগে এটা সম্ভব। আপনি প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন ঘটনাবলি জানতে পারছেন এবং সাথে সাথে আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছি। তাছাড়া সমস্ত ভাবনা তো পত্রিকায় আসবে না...!


'বেশ-বেশ। কিন্তু বিনা পারিশ্রমিকে এইসব কইরা লাভ কী!'
-লাভ কী এটা তো জানি না। এটা একটা ভার্চুয়াল জগত। এখানে আমরা কেউ কাউকে চিনি না। তারপরও সবাই এক
অদৃশ্য মায়ার বন্ধনে বাঁধা। মনে হয় হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে। কি দেশ থেকে কি বিদেশ থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একজন আরেক জনের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ি। এই ঝগড়া করছি আবার পরক্ষণেই মমতামাখা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। আসলে এই অনুভূতিকে কোন কিছুর সাথে তুলনা করা যাবে না। এ অনেকটা বর্ষার প্রথম ভেসে আসা ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধের মত। উমম, যেন বৃষ্টিতে ভেজা কদম ফুলের স্পর্শ। ছেলেবেলার মত বৃষ্টির পানিতে ভাসানো কাগজের নৌকার খেলা। আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের খেলা। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় মায়াবী আলোর খেলা।
'ব্যস-ব্যস, আর বলতে হবে না। বুঝাই যাচ্ছে অনেক খেলাধুলা হয় এখানে। ঠিক আছে চালাই যাও। কিছু লেখা পইড়া মনে হইছে একেকজন ভাগাড় থিক্যা উইঠা আসছে। তা তোমার জন্য বিনা পয়সায় উপদেশ হইল, যতই তর্ক বির্তক করো না কেন সবার আগে মানুষকে শ্রদ্ধা করতে শিখবে। মানুষকে ভালবাসবে, তার মতামতকে সন্মান করবে। না হলে কখনই একজন ভাল ব্লগার, সর্বোপরি একজন ভাল মানুষ হইতে পারবা না।'


*মনিটরের পর্দায় অন্যান্য ভাষার সাথে যখন আমার বাংলা ভাষাকে ধ্রুব তরার মত জ্বলজ্বল করে জ্বলতে দেখি তখন কি এক অজানা আনন্দে বুক ভরে আসে।
একটা জিনিস আমাকে খুব আহত করে। বিভিন্ন ব্লগে কোন প্রতিযোগিতা নিয়ে কিছু ব্লগার বিরূপ মন্তব্য করেন। এটা করে এইসব ব্লগারদের যারা ভোট দিয়েছেন তাদের ভালবাসাকে অসন্মান করা হয়। কে কোন দলের, কে কোন সাইটে লেখেন এইসব দেখেতো আর আমরা তাদের ভোট দেইনি। আমার বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যান্য ভাষার সাথে প্রতিযোগিতা করছে এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা।


এভারেস্টের চূড়ায় অন্য দেশের পতাকার সাথে আমার দেশের পতাকাও উড়ছে। পতাকা যে বাঁশের মাথায় বাঁধা সেটা কোন ধরণের বাঁশ এটাতো আমাদের দেখার দরকার নাই। যিনি এই পতাকা সেখানে নিয়ে গেছেন তিনি কি ঘোড়া না গাধায় চড়ে হিমালয় পাড়ি দিয়েছেন এটা নিয়ে তো বিতর্ক করার কোন প্রয়োজন দেখি না। যে কাজটা আমি করতে পারিনি সেটা আরেকজন করে দেখিয়ে দিয়েছেন। অন্য দেশের পতাকা নিয়ে তো কোন বিতর্ক নাই। তবে সমস্ত বিতর্ক আমার দেশের পতাকা নিয়ে কেন? সব দেশের পতাকার সাথে আমার দেশের পতাকাও সমান তালে উড়ছে এরচেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে!"

2 comments:

Raha said...

Sai-fai lekhok :o

।আলী মাহমেদ। said...

হ্যাঁ, সাই-ফাইয়ের লেখক @Raha