Thursday, August 19, 2010

হাজার বছর ধরে...

(কি যেন একটা গান ছিল, "হাজার মনের কাছে প্রশ্ন করে..."। হাজার মন আর হাজার বছর এর মধ্যে ফারাক দেখি খুব বেশি না।)

বইয়ের মোড়ক উম্মোচনের বিষয়টা আজও আমার বোধগম্য হয় না। অবশ্য আমার না-বোঝার জন্য কিছুই যায় আসে না, হয়তো এর প্রয়োজন আছে। লেখকদের এই কান্ড নিয়ে আমি একটা লেখা দিয়েছিলাম [১]
কিন্তু যখন কেউ কারও জীবনী লেখেন তখন হয়তো বইয়ের মোড়ক উম্মোচন জরুরি হয়ে পড়ে। সিদ্ধেশ্বর মজুমদার (আমার পড়াশোনা কম, নামটা আগে শুনিনি) লিখেছেন 'হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ', বইটার মোড়ক উম্মোচন করা হয়েছে। এটা এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পুরস্কার-২০০৯ নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম।

মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন (প্রথম আলো, ১৪ আগস্ট ২০১০), "...বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান বাঙালির গৌরব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্যসহ যাবতীয় কৃষ্টির ধারক ও বাহক। আর সহস্র বছরের বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাঙালির ইতিহাস অলীক, অবাস্তব..."।

প্রধান বিচারপতি এমন একটা পদ যেখানে চোখ বুজে আস্থা রাখা চলে। আমাদের শেষ ভরসাস্থল। তিনি যখন বলেছেন তখন এই নিয়ে বিতর্ক চলে না।
তবে সবিনয়ে বলি, এমন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতির উপস্থিত থাকাটা কী অতি জরুরি? প্রধান বিচারপতি যখন চাইছেন তখন ধরে নিলাম জরুরি। কিন্তু যেখানে সমস্যাটা দাঁড়ায়, যাকে নিয়ে তিনি বক্তব্যটা দিচ্ছেন তাঁর দল এখন ক্ষমতায়। প্রধান বিচারপতি যখন এমন বক্তব্য রাখেন তখন জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শংকা কাজ করে, এতে জনগণকে কতটা দোষ দেয়া চলে সেটা ভাবার বিষয়। বিভিন্ন অফিসে ছবি ঝোলাবার নিয়ম চালু হয়েছে; খোদা-না-খাস্তা, এই নিয়মটা যদি আদালতেও চালু হয়? তখন আমাদের মত সাধারণ মানুষদের দোষ দিলে লাভ কী!

আরেকটা কথা। এখানে তিনি বলেছেন, "...আর সহস্র বছরের বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান"। এটা তিনি কোন সূত্রে বলেছেন, বিবিসির সূত্রে? তাহলে ঠিক আছে। এটা সত্য, বিবিসি নামের একটা বিতর্কিত [২] মিডিয়া এই সংক্রান্ত একটা জরিপ করেছিল। জরিপটা আমরা জানি তবে তাদের গবেষণাটা পদ্ধতিটা জানি না। হাজার বছরের তথ্য উপাত্ত ঘেঁটে এরা কেমন করে বের করেছিল! এখন কালই যদি বিবিসি একটা নতুন জিনিস চালু করে ৫০ বছরের শ্রেষ্ঠ অন-লাইন লেখক। বিবিসি বলে কথা, কার দায় পড়েছে বিবিসির সঙ্গে এই কু-তর্ক করার তখন লোকজন কম্পিউটারে লিখত, নাকি স্লেটে?
বেশ, ওই সব হুজ্জতে গেলাম না। কিন্তু যখনই এই বাক্যটা ব্যবহার করা হয় তখন কোথাও এটা কেন উল্লেখ করা হয় না, এটা বিবিসির জরিপের ফল! তাহলেই তো আর সমস্যা থাকে না।

সৈয়দ শামসুল হকরা যখন এটা বলেন তখন আমরা গা করি না কারণ আমরা জানি তাঁরা এমনটাই বলবেন, কেন বলেন এটাও অবোধ্য না। কিন্তু মাননীয় প্রধান বিচারপতিও যখন এমনটা বলেন তখন আমাদের আর দাঁড়াবার জায়গা থাকে না, আমরা বড়ো অসহায় হয়ে পড়ি...।

সহায়ক লিংক:
১. মোড়ক উম্মোচন: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_18.html
২. বিবিসি: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_6509.html 

10 comments:

Shaqlain Shayon said...

হাজার/৫০০ বছর আগের বাঙ্গালীর ইতিহাস বিবিসি জানে তো ভাল করে?

।আলী মাহমেদ। said...

জানবে না কেন? ২০০ বছর আমরা যখন এদের গোলামি করেছি, ওই সময়টা এরা বিলক্ষণ জানে। বাকী ৮০০ বছর এরা গবেষণা করে বের করেছে, মুখ ভিজিয়ে, ঘাম শুকিয়ে। @Shaqlain Shayon

শিকদার said...

আমুতে আইজউদ্দিন বান্দর আপনার এই পোস্ট নিয়ে লেখা দিয়েছে,দেখেছেন?

।আলী মাহমেদ। said...

এখন দেখলাম। সবটা পড়তে আগ্রহ হয়নি। কারণ যখন দেখলাম ওই লেখায় বলা হচ্ছে, আমি ৭৫-এর খুনের বিষয়ে বলিনি তখন বাকীটা পড়ার আর আগ্রহ হলো না।
আমার লেখাটা ছিল এমন ৭১, ৮১,৯১, ২০১০। ৭১ থেকে শুরু করে ১০ বছর যোগ করে করে চলতি বছর ২০১০ উল্লেখ করে ধারাবাহিকতা বোঝানো, আর কিছু না।
এটা বোঝার ক্ষমতা যার নাই, তার যে মস্তিষ্ক জমে গেছে এটা সহজেই অনুমেয়। এমন জমাট মস্তিষ্কওয়ালা মানুষের সঙ্গে আর যাই হোক তর্ক-যুদ্ধ চলে না। তার বক্তব্য জানারও ইচ্ছা বোধ জাগে না। @শিকদার

Anonymous said...
This comment has been removed by a blog administrator.
।আলী মাহমেদ। said...

হরিজন পল্লীতে কাজ করার সুবাদে আবর্জনা জিনিসটা নিয়ে মাথা ঘামানোর আগ্রহ চলে গেছে। ওখানে প্রচুর শুয়োর, কাদা-মাটি-আবর্জনায় গড়াগড়ি খায়; কর্কশ শব্দে আমার কাজের বিঘ্ন ঘটায় কিন্তু এতে আমার কাজ বন্ধ থাকে না।
এই সব আবর্জনাও আমার অপরিচিত না। তবে আবর্জনা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে ভাল লাগে না।

কোথায় কোন সাইটে আমাকে নিয়ে লিখেছে সেই লেখার কপি-পেস্ট এখানে কেন? এরা দেশউদ্ধার করুক না, মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বিলি করুক না, আমার কী!

দুঃখিত, আপনার মন্তব্য ডিলিট করে দিলাম। অন্য সাইটের কপি-পেস্টের আবর্জনা রাখলাম না। ধন্যবাদ আপনাকে। @...

Anonymous said...

শুভ ভাই,আবারও দিলাম, প্লিজ সবটা না পড়ে মন্তব্য মুছবেন না আমি চাইছিলাম আপনার এই লেখার সাথে যদি এই লেখাটা থাকে তাইলে এই ডাকতার যে কেমন বলদ এটা বুঝা যাবে।এই বলদের সাথে যারা বলদামি করছে এদেরটাও। আমাদের পর্নস্টার পিয়াল মুক্তিযোদ্ধার বলদামি হাসি আমরা দেখব না? মেইলটা চেক কইরেন ক্লু ক্লাক্স কানের ক্লু দিছি।
আমার ব্লগে ডাকতার নামের বলদ যা লেকছেন
#আলী মাহমেদ ডয়েচ বালের যোগ্য হইতেসেন দিনে দিনে- আরেকটি আইজুদ্দিনীয় বাল ছাল

লিখেছেন : ডাক্তার আইজুদ্দিন ২০ অগাষ্ট (শুক্রবার), ২০১০ ৭:২৬ অপরাহ্ন
আলী মাহমেদ পুরষ্কার পাওনে ডয়েচ বালের মান সম্মান বাড়াইসিল কারুন ডয়েচ বাল পুরষ্কার পাওনের জন্য যে পরিমান আবাল হইতে হয় সেডা আলী মাহমেদ আছিলেন না, মাগার আলী সাব আমগো হতাশ করেন নাই, তার ইদানিং এর ব্লগিং এ তিনি দিনকে দিন ডয়েচ বালের যোগ্য হইতাসেন, মাশাল্লাহ এ পারফরমনেশ বহাল রাখতে পারলে তিনি জামাতে ইসলামী ব্যানক সাহিত্য পুরষ্কার পাইবেন খুব শিগগিরি আর পাটুক চাপে তাও ঘ্রহন কইরবেন।

আলী সাবের বলগের উফরে বড় কইরা লেকন

*রাতারাতি একটা গণ-মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া, এমন গণতন্ত্র আমি চাই না। **হরতালে: এ গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কারাগার, বাংলাদেশ- ১৬ কোটি মানুষ যেখানে কয়েদি। ***৭১, ৮১, ৯১, ২০১০ কোন সালে কে অপরাধ, খুন করেছে এটা আমার কাছে জরুরি না- জরুরি হচ্ছে, দ্রুত এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা, শাস্তি দেয়া।



আলি সাবের গনতন্ত্রেরর মানে এই না যে আপনে সমাজ এবং গনতন্ত্রের জন্য হুমকি শ্বরুপ কাজ কারবার চালাইতে দিবেন। গনতনত্র সংজ্ঞা যতদুর বোজোন যায় তা হইলে গববরনমেনট ফর দ্যা পিপল বাই দ্যা পিপল আর অফ দ্যা পিপল। সো পিপলের এগেনসটে যাইবো এমুন যে কোন কাজ গনতন্ত্রের নিষিদ্ধ করন উচিত- দেয়ার ইজ নো প্লেইস ফর হেইটফুল স্পীচ। সেডার মানে যদি হয় আমার দেশের মতো জার্নালিজম নিষিদ্ধ করন যেখানে নিজামী আর মুজাহিদরে ১৯৭১ এ ইনোসেনট বাই স্ট্যানডার বানানি হয় কিংবা ১৯৭৫ এর খুনিদের সুর্য সন্তান বলা হয় কিংবা দেশের সামরিক বাহিনী এবং দেশের বর্ডার ফোরসের মদ্যে ক্যাচাল লাগানি হয় তাইলে সে নিষিদ্ধ করন দরকার সেডা গনতন্তরের মুল কথা। আম্রিকান ডেমোক্রেসিতেও ক্লু ক্লাক্স নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের গনমাধ্যমে যদি কোন আবারল জিজিরা কর আদায়ের জন্য জনমত গঠন করে, মনদির ভাইন্গা মশজিদ বানানির প্রচার করে, তাইলে তারে কি করন উচিত আলী সাব? আলী সাবের হাফ বেকড ফুল র টাইপ চিনতা ভাবনা বেশ ভালা লাগল।

সেকেনড লাইন আমগো ডয়েচ বাল উইনার আলী সাব আরো বলসেন


***৭১, ৮১, ৯১, ২০১০ কোন সালে কে অপরাধ, খুন করেছে এটা আমার কাছে জরুরি না- জরুরি হচ্ছে, দ্রুত এদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা, শাস্তি



অতি উত্তম প্রস্তাব, খাসা প্রস্তাব, পাঠক কে কে মানতে রাজী আছেন ১৯৭১ আসলে গন্ডগোলের সময়। তকন কিচু মানুষ মারা গেসিল, খুনা খুনি হইসিল। ১৯৭১ আসলে দবীর আর সবীরের ক্যাচাল একটা ক্রিমিনাল এলিমেনট এডার বিচার একটা ক্রিমিনাল। আমনের রহিম সাবরে যে পিডাইসিলেন আপনের ধানী জমির খ্যাত লইয়া তার লগে ১৯৭১ এ তিরিশ লাখ লুক মরনের খুব মিল। গন হত্যা আর হত্যা দুইডা সমান- মাইনা নেন। ছাগলের দাড়ী আছে, রবীন্দ্রনাথের দাড়ী আছে সো রবি বাবু ছাগল। আমার এ যুক্তি খাসা লাগসে, সমাজের অনাচারের লগে জেনোসাইডের তুলনা। ২ লাখ নারী ধর্ষনের আর ১৯৯৬ সনে জাহান্গীরনগরের ১০০ ধর্ষন দুইডা সমান ভাইডি, আসেন ভাইরা কুলাকুলি করি। সামাজিক অপরাধ আর সিসটেমেটিক জেনোসাইড সমান। লং লিভ ডয়েচ বাল উইনার আলী মাহমেদ।

ইন্টারেসটিংলি উনার খুনাখুনিতে ১৯৭৫ বাদ পড়সে, পরে আজকারে পুষটে বুঝলাম খেলা কি? উনি বেফক খেপা প্রধান বিচারপতি শেখ মুজিবরে শতাব্দিরে সেরা বান্গালী বলসেন কেন? তাতে কি চিফ জাসটিসের নিউট্রালিটি যায় নাই? ডয়েচ বাল আলী মাহমেদকে কুয়েসচেন যদি চিফ জাস্টিস অব ইনডিয়া কয় গান্ধী ইজ দ্যা বেসট ইনডিয়ান তাতে কি তার নিউট্রালিটি যায় ? কিংবা পাকিস্তানী চিফ জাস্তিস বলে " জিন্না দ্যা ফাদার অব দ্যা নেশন" তাইলে কি যায় তার নিউট্রালিটি? কিংবা আম্রিকান চিফ জাসটিস বলে " ওয়াশিংটন ইজ দ্যা ফারসট আমেরিকান" তাতে কি যায় নিউট্রালিটি? যায়না কারুন জাতির পিতা একডা রাষ্ট্রের পরিচয়, তার লগে রাজনীতিক পরিচয়ের কোন সম্পর্ক নাই। বাংলাদেশের সন্কীর্ন এবং অপরাজনীতি জাতির পিতাকে এডারে রাজনীতিক ইস্যু বানাইসে, আর আপনে ডয়েচ বাল উইনার সে অপরাজনীতির রিলেশনে না যাইয়া লাগসেন চিফ জাস্টিস নিয়া। আবার ডয়েচবাল হাদিস দিসেন শামসুল হক নিয়া ডয়েচ বাল উইনার মনে করেন মুজিব সেরা বান্গালী বা জাতির পিতা কি না সেডা একটা রাজনীতিক বিষয় আমগো রাষ্ট্রের পরিচয় না। শাবাস ছাগুকুল নিশ্চয় আপনারে নেক্সট ডয়েচ বালে ভুট দিবে। নেক্সট স্টপ ফররুখ আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার কিংবা আল মাহমুদ নির্বাচিত সাহিত্যিক।
অমি রহমান পিয়াল অগাষ্ট ২০, ২০১০ @ ১০:৩৬ অপরাহ্ন ৫
:D :D :D :D :D
#

-n***n :D

সুব্রত said...

বিবিসির কাছে টাইমমেশিন থাকার সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেয়া যায় না!

।আলী মাহমেদ। said...

হুম-ম। @Anonymous

।আলী মাহমেদ। said...

আপনি তো চিন্তায় ফেলে দিলেন!
সব খবর তো আর আমাদের কাছে নাই। এমনটা হয়ে থাকলে এই লেখা আবার নতুন করে লিখতে হবে।

হাজার বছর ধরে বাঙালি কুহতুর পাহাড়ে ছিল কি না এই নিয়ে কোন তথ্য এখনও যোগাড় করতে পারিনি...। @সুব্রত