Search

Wednesday, February 18, 2009

আমার সবিনয় বক্তব্য

বিতর্কটা জমে উঠছে দেখে স্বস্তি পাচ্ছি না। শুধু অল্প কথায় বলব, সব কিছু নিয়ে বিতর্ক চলে না। বিষয়টা এমন, কেউ আমার মাকে গালি দিয়ে বলল, আসেন বিতর্ক বিতর্ক খেলা খেলি। এই খেলা আমি খেলব না। কেউ আমার মাকে গালি দিলে সে স্রেফ খুন করে ফেলব!

আমি চেয়েছিলাম নিঃশব্দে এখান থেকে সরে আসতে। কেন ভজকট হয়ে গেল সেই প্রসঙ্গে আর যাই না।

আজ সকাল থেকে আমি তোপের মুখে পড়ে গেছি। ২টা কারণে।
১টা আমার ব্যক্তিগত সমস্যা- এখানে বলে বিরক্তি উদ্রেক করি না।
অন্যটা আমাকে নিয়ে লেখার সূত্র ধরে। মেইল বক্সে ঝপ করে নেমে আসা অসংখ্য মেইল। এখন পর্যন্ত আমি অনেকের মেইলের উত্তর দিতে পারিনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি। ট্রাস্ট মী, কাজটা ইচ্ছাকৃত না।

আমি মোটা চিন্তার, মোটা খাবার খাওয়া মানুষ, নিরিবিলি জীবন যাপন এবং একান্তে দু-কলম লেখালেখি করা চেষ্টাতেই আমার আনন্দ। আর কীই বা লিখি ছাতাফাতা, হালকা চালের এইসব লেখা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস।

সামহোয়্যারে যাওয়ার অনেক কারণের একটা ছিল নিজেকে খানিকটা চেনা- বিশ্বাস করেন, ওখানে অনেকের মনন দেখে লজ্জায় মাথা কাটা যেত।

ওখানে শিখলাম অনেক কিছু। এও শিখলাম বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়া আমার কর্ম না। আমার পক্ষে এই আলগা চাপ নেয়া সম্ভব হয় না। এখনও আমি এই চাপ নিতে পারি না। আমার প্রিয় মানুষরা থাকতেন সত্রাসে। এক সময় সবিরাম যাত্রার সমাপ্তি!

এ ছাড়া আরও সমস্যা ছিল, আমার জ্ঞানের স্বল্পতা এবং ভয়াবহ রকম বাজে স্মৃতিশক্তি! কথার পিঠে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে সূত্রগুলো প্রয়োজন সময়মতো আমি এর যোগান দিতে পারতাম না।তাছাড়া হাবিজাবি লিখে দেয়া এক জিনিস আর জনে জনে এইসব লেখার ব্যাখ্যা দেয়া আমার 'কম্ম' না!

সামহোয়ারের পরে এখানে কেন আসলাম এটা নিয়ে বিস্তারিত বলি না, আহা, মায়াভরা মুখগুলোকে পিঠ দেখাই কেমন করে! আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আমাকে এই সম্মান দেয়ার জন্য। এবং নতজানু হয়ে বলি, আমি আপনাদের এই সম্মান রাখতে পারলাম না।
কেন?

এখানে যারা পুরনো আছেন তারা অনেকেই জানেন সামহোয়ারে আমার যথেষ্ঠ কুখ্যাতি ছিল আবেগীয় একজন মানুষরূপে। কিন্ত সেটা ছিল খানিকটা ইচ্ছাকৃত- ১৮ বছরের একজন অপরিণত বালকের দ্বৈত আচরণ।

আজ পরিণত একজন মানুষের ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, সব কিছু মিলিয়ে আপাতত এখানে লেখা হয়ে উঠবে না। বেশ কিছু কারণের মধ্যে একটা বলি, এক্ষণ আমি লেখব একটা বাড়তি চাপ নিয়ে এবং অন্যদের উপরও অহেতুক চাপটা পড়বে। আমার লেখায় মন্তব্য করার পূর্বে চলে আসবে আড়ষ্টতা। পরিবেশটা থাকবে মেকি। জীবনটা গড়িয়ে যাওয়া পানির মতো- পানিটা যখন বদ্ধ হয়ে পড়ে তার টলটলে ভাবটা থাকে কই! আমি জানি অনেকেই আমার প্রতি অযাচিত মমতা বোধ করেন। আমার প্রবল আশা, আমাকে অন্তত ওই মানুষরা বুঝতে পারবেন।

আমি কায়মনে চাই, এই সাইটটা দাঁড়িয়ে যাক। প্রবাসে আমাদের দেশের যেসব সেরা সন্তানরা পড়ে থাকেন তাঁদের জন্য থাকুক খানিকটা নির্মল বাতাস, দেশের সোঁদা মাটির গন্ধ। আর দেশের জন্য একবুক মমতা।

প্রবাসীদের জন্য আমার অযাচিত টানটা কেন আমি নিজেও ভাল করে জানি না- হয়তো এজন্যে প্রবাসে আমাকে কখনও থাকতে হয়নি। থাকতে হবে এটা ভাবলেই আমার বুকের গভীর থেকে হাহাকার করে উঠে। আমার কেবলই মনে হয় দেশের জন্য যখন এদের নিজেকে পাগল-পাগল লাগে তখন হাত বাড়িয়ে বলি, এই দেখ পাগল, কেমন ছুঁয়ে দিলাম।

আমি পরামর্শ দেয়ার স্পর্ধা দেখাই না। সবাইকে অনুরোধ করি, বাতাসটা আটকে রাখবেন না- তাইলে আর নির্মল থাকে কই! আরেকটা কথা, জীবনটা বড়ো ছোট এবং একটাই মাত্র জীবন, রিটেকের কোন সুযোগ নাই। আমাদের মায়াভরা চোখটা থাকুক সর্বদা আমাদের সঙ্গে।

এবং একেকজন একেক রকম- কাজ করারর ভঙ্গিও ভিন্ন। আর এটা জরুরী না আমরা অন্যের সঙ্গে একমত হব- প্রায়শ আমরা নিজের সঙ্গেই একমত হতে পারি না। তবে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করাটাও একজন ভাল মানুষের জন্য খুব জরুরী।

ভাল থাকবেন গো সবাই।

2 comments:

cdebasish62 said...

দারুণ লেগেছে।

আলী মাহমেদ - ali mahmed said...

সেলারের পুরনো মদ :) @cdebasish62

WhatsApp