Search

Saturday, May 22, 2010

কয়েদী, ৪: গণতন্ত্রের লেবেনচুষ!

‘রহমত, এসিটা কমিয়ে দিও।’
কুশী [১] বেদম কাশছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। এসি না চালালে ভাল হতো কিন্তু জানালা খুলে দিলে ধুলায় ওর আরও কষ্ট হবে। 

রহমত খুব আশাবাদী, ‘সার, চিন্তার কিছু নাই। হরতাল হইলেও বাবুর অসুখ বললে কেউ কিছু কইব না। ফিসাবিলিল্লাহ। টাইট হইয়া বইস্যা থাকেন।’

রহমতের আশ্বাস ফারাকে মোটেও প্রভাবিত করেনি। সে বেশ খানিকটা ভীত-সন্ত্রস্ত। শাহেদ ভোর থাকতেই বেরিয়ে পড়েছে। ক্ষীণ আশা, হরতালে যারা পিকেটিং করে এরা এত ভোরে উঠবে না। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ভালভাবেই পার হলো। ভৈরব ঢোকার মুখে আটকে গেল। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে, কালো ধোঁয়া পাক খাচ্ছে। সম্ভবত টায়ারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

রহমত উদগ্রীব হয়ে বলল, ‘সার, হর্ন বাজায়া স্পীড বাড়ায়া দিব?’
শাহেদ আঁতকে উঠল, ‘না-না বলো কি!’
রহমত জটলার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, সার, গাড়ি থামাব।’
‘হু।’
রহমত গাড়ি না-থামালে বিপদে পড়ত। টায়ার-টিউব, ছোট-ছোট গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। খুব কাছে না আসলে বোঝার উপায় নেই।
‘রহমত একদম মাথা গরম করবে না। নরোম হয়ে কথা বলবে।’
রহমত গ্লাস নামিয়ে মাথা বের করলে, জটলা থেকে নেতা টাইপের একজন এগিয়ে এল, ‘বিষয় কি, যান কই?’
রহমতের নম্র গলা, ‘ভাই একটু ঢাকা যামু।’
‘মিঞা, তুমি কি বাংলাদেশ থাহো না?’
‘ভাই, বিপদে পইড়া যাইতাছি।’
‘কিসের আবার বিপদ, রঙে বাইর হইছ।’


রহমত গাড়ির দরোজা খুলে ওই লোককে টেনে একপাশে নিয়ে গেল। অনেকক্ষণ লাগিয়ে গুজুর-গুজুর করল। একসময় হাসি মুখে ফিরে এল, ইগনেশন কি ঘুরিয়ে বলল, ‘সার, রওয়ানা দেই।’
শাহেদের বিস্মিত গলা, ‘রহমত, কি করলে বুঝলাম না!’
‘সার, একশো টাকা দিছি।’
‘কিসের জন্য!’
ওরা বলল সকাল থেকে রাস্তা পাহাড়া দিতাছে। নাস্তাও নাকি করেনি। তো, আমি বললাম ভাই আপনার মনে কষ্ট না নিলে আমি আপনেদেরকে নাস্তা করাই।’
‘তা তুমি নাস্তা করালে!’
রহমত একগাল হাসল।


ভৈরব পার হয়ে আবার দাঁড়াতে হলো, কিছু ছেলে চা-র দোকানের টুল-টেবিল জোড়া দিয়ে রাস্তার মাঝখানে বসে গল্প-গুজব করছে। গাড়ি দাঁড়  করাবার পরও ছেলেগুলো নির্বিকার। ভাবখানা এমন, রাস্তা এখানেই শেষ। 
রহমত বিনম্র গলায় বলল, ‘ভাই, আমরা একটু ঢাকা যাব।’
একটা ছেলে উদাসীন হয়ে বলল, ‘যান, হেঁটে যান। একটু কষ্ট করেন।’
অন্য ছেলেরা হইহই করে উঠল। রহমত ফিসফিস করে ছেলেটিকে কি যেন বলল। ফিরে এসে শাহেদকে বলল, ‘দুশোর কমে মানল না, সার।’
শাহেদ অন্যমনস্ক, ‘ঠিক আছে। এখন যেতে পারবে তো।’


যে ছেলেটি কথা বলছিল, ওই ছেলেটি গাড়ির কাছে এগিয়ে এল। শাহেদের বুক কেঁপে উঠল। তরুন রাগী যুবক, এদের বোঝা বড় দায়। যুবকটি ভব্যতার সীমা লঙ্ঘন না করে জানালায় নক করল। শাহেদ পাওয়ার উইন্ডো জানালার কাঁচ নামিয়ে মুখ বাড়াল।
‘ভাইজান, ঢাকা পর্যন্ত তো যেতে পারবেন না। ’
শাহেদ দুঃখিত গলায় বলায়, ‘বুঝলেন, আমার বাচ্চাটার না খুব অসুখ, না গিয়ে আমার কোন উপায় নেই।’
যুবকটি এবার ভাল করে কুশীর দিকে তাকাল। কুশী জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। সমস্তটা মুখ আগুনের মত গনগনে লাল। যুবকটি সশব্দে নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘জিস...ক্রাইস্ট!’ 

এবার মায়াভরা গলায় বলল, ‘প্রার্থনা করি আপনি  বাবুটাকে নিয়ে ভালয় ভালয় দ্রুত ঢাকা পৌঁছান। এই জনি, শুয়োরের বাচ্চা, টাকা ফেরত দে।’
শাহেদরা জোরাজুরি করেও টাকা গছাতে পারল না।


টঙ্গীর কাছে এসে শাহেদ বিমূঢ়। লোকে গিজগিজ করছে। একচুল ফাঁক নেই। অদূরে কিছু পুলিশও টহল দিচ্ছে।
রহমত গ্লাস নামিয়ে নেতা গোছের একজনকে বলল, ‘ভাইজান, আমরা একটু ঢাকা যামু।’
‘কুত্তার ছাও, নাইম্যা কথা ক।’
রহমতের দরোজা খুলে নামতে খানিকটা দেরী হওয়ায় লোকটা ওর গালে চড় কষিয়ে বলল, ‘এইবার ক, কি হইছে।’
রহমত ভয়ের চোটে তোতলাতে শুরু করল, ‘সার-সারের বাচ্চারে ডাক্তার দেখাইব। ’
‘তোর সার কি লাটসাব, গাড়ি থিক্যা নামতে ক।’
রহমত গাড়ির কাছে এসে বলল, ‘সার, একটু নামেন, ঝামেলা করতাছে।’
শাহেদ নেমে এসে নিচুস্বরে বলল, ‘ভাই কি হয়েছে?’
‘কিসু হয় নাই, হইব। আপনের মেয়েছেলেরে নামতে কন।’


শাহেদকে কিছু বলতে হলো না, ফারা আঁচ করতে পেরেছে। কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে। কুশীকে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে দ্রুত নেমে এল।
শাহেদ কেবল তাকিয়েই রইল। একজন মোটা লাঠি দিয়ে উইন্ড শীল্ড-এ আঘাত করল। কাঁচ ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ছে। কুশী কাঁচ ভাঙ্গার প্রচন্ড শব্দে জেগে উঠে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে। ওর দ্রুত শ্বাস পড়ছে। মুখ হাঁ করে রেখেছে। শাহেদ পুলিশদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘প্লিজ, আপনারা কিছু একটা করেন, প্লিজ।’
পুলিশদের মধ্যে থেকে একজন রাগী গলায় বলল, ‘হরতালের মধ্যে গাড়ি বের করেন আবার প্লিজ প্লিজ করেন।’
‘আমার বাচ্চাটা অসুস্থ। ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি চিকিৎসার জন্য, বাবা হিসাবে....।’


শাহেদ আর বলতে পারল না। ওর গলা ভেঙ্গে গেছে, চোখের পানি লুকাবার জন্য অন্যদিকে মুখ ফেরাল। কুশীর সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল। গণতন্ত্রের শিশুর চোখের দৃষ্টি কী তীব্র! শাহেদ দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলল।

...
এই লেখাটা যখন লিখি তখন হরতাল ডাকতেন শেখ হাসিনা। তখন হরতালের নামে একটা মানুষকে উলঙ্গ [৩] করে ফেললেও সমস্যা ছিল না। 
শেখ হাসিনার লোকজনরা এখন বলছেন, হরতাল একটি অকেজো ও মরচে পড়া অস্ত্র! অথচ এরাই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর [৪] হরতাল করে গেছেন। গণতন্ত্রের নামে!

নেতার ছবি পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হয় না কেবল কুশী নামের গণতন্ত্রের শিশুটির চোখের চাহনি। সেই তীব্র দৃষ্টির দিকে চোখ রাখার ক্ষমতা এদের কোথায়?
এখন গণতন্ত্রের এই অস্ত্রটা নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। তিনি আগামী মাসের ২৭ জুন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন। আহারে, এঁদের দেশের জন্য কী মায়া! গণতন্ত্রের চারাটা নইলে শুকিয়ে যাচ্ছে যে। 
আচ্ছা, আপনারা হরতাল না করে অনশন করেন না কেন? দেশেরও উপকার হলো, শরীরেরও।

বাহ, আপনি আপনার একটা মুখের কথায় গোটা দেশটাকে একটা কারাগার বানিয়ে ফেলবেন। আমাদের গায়ে গা ঘিনঘিনে শুঁয়োপোকাটা [২] ছেড়ে দেবেন। কী মজা, না?
আমাদের দেশের দুর্ধর্ষ জাজরা কত তুচ্ছ বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করেন, পারেন না কেবল হরতার নিয়ে কোন রুল জারি করতে। 
আমাদের দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বগলে সংবিধানের বই চেপে, সংবিধান গেল রে বলে বুক চাপড়ে মাতম করেন। 
আমাদের দেশের হিউম্যান রাইটসের লোকজনরা কাঁদতে কাঁদতে আন্ডার গার্মেন্টস ভিজিয়ে ফেলেন, কতো তুচ্ছ বিষয়ে দুম করে মামলা ঠুকে দেন; পারেন না কেবল হরতাল নিয়ে একটা মামলা করতে। 
আমাদের দেশে জাফর ইকবালের মত মানুষরা শিক্ষা বিভাগকে হরতালের আওতামুক্ত চান। মিডিয়ার লোকজন মিডিয়া বিভাগ! গণতন্ত্রের নামের এই লেবেনচুষ মুখে দিয়ে এই দেশের সমস্ত লোক বসে থাকেন। বাহ, কী একেজন সেরা সন্তান! 'পায়ে লাগু'- কদমবুসি করি আপনাদের।

আপনি সবাইকে গণতন্ত্রের লেবেনচুষ খাওয়ান, আমি আপনার এই লেবেনচুষ খেতে আগ্রহী না। আপনার হরতালের এই আহ্বান-নির্দেশ আমি মানি না। ২৭ জুন আমি বেরুব, পারলে আপনি ঠেকান। আমি জানি, আপনার বিশাল চেলা-চামুন্ডাদের পক্ষে আমাকে আটকানো, পিটিয়ে মেরে ফেলা ডালভাত। তাতে কী আসে যায়! আমার গলিত শব থেকে জন্ম নেবে অসংখ্য সত্যিকারের যোদ্ধা। যাদের অস্ত্রে থাকবে সূর্যের আলোর ঝলকানি। তাসের ঘরের মত উড়ে যাবেন আপনাদের মত দেশপ্রেমিক(!)

সহায়ক লিংক: 
১. কয়েদী, ৩: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_19.html
২. গা ঘিনঘিনে শুঁয়োপোকাটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_3036.html
৩. কয়েদী, ২: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_18.html
৩.কয়েদী, ১: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5073.html 

Friday, May 21, 2010

বৈদেশ পর্ব, চার: This is my land...

(লেখাটা উৎসর্গ করছি, আমাদের দেশের সেই সব জাত-লেখকদের (!), যারা ইতিপূর্বে বৈদেশের আমন্ত্রণে অমর্যাদার সঙ্গে বৈদেশে গিয়েছেন।)

... আজ জার্মান এমব্যাসিতে সকাল ১০টায়, (আগে থেকেই যেটার এপয়ন্টমেন্ট নেওয়া ছিল) চালু ভাষায় ভিসার জন্য আমাকে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াবার কথাটা কেমন করে চালু হলো তার খানিক নমুনা আজ দেখলাম!
ঢাকা শহরে কোন মানুষের পক্ষেই কাঁটায়-কাঁটায় কোথাও যাওয়া সম্ভব না। ১০ টার আগেই আমি পৌঁছে গেলাম। সময় মেনে আমাকে ঢুকতে দেয়া হবে, বেশ। কিন্তু এই সময়টাতে আমি কোথায় অপেক্ষা করব? কেন, ফুটপাত আছে না!
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনকে পরে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বৃষ্টি হলে একটা মানুষের কী উপায় হবে? এর ভালো কোন সদুত্তর এরা আমাকে দিতে পারেননি। যাক, এরা অল্প শিক্ষিত লোকজন, এদেরকে মন্দ কথা বলে ফিযুল কী-বোর্ডকে কষ্ট দেই না।
সঙ্গে আমার ভাইও এসেছে কারণ আমার ভয়াবহ কুখ্যাত স্মৃতিশক্তির [১], জন্য বিখ্যাত! আমি লোকেশন মনে রাখতে পারি না, যেমনটা মনে রাখতে পারি না আমার প্রিয় মানুষদের বিশেষ দিনও [২]। আবার সাত দিন পরে এখানে এলে আমি জার্মান এমব্যাসি খুঁজে বের করতে পারব না! 
এখন এরা আমার ভাইকে ঢুকতে দেবে না, বসতে দেবে না। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনকে আমি বললাম, আমি এখানে এসিতে বসে আছি কিন্তু আমার ভাই রৌদ্রে দাঁড়িয়ে আছে; এটা ভাবতেই আমি অসুস্থ বোধ করছি। এদের আমি ধন্যবাদ দেই, এরা আমার ভাইকে বসার জায়গা দিয়েছিলেন বলে।
অনেকগুলো পর্ব শেষ করে, যে অফিসার আমার ভিসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করলেন তিনি একজন জার্মান ভদ্রমহিলা। আমার লেখার সুবিধার কারণে লিখছি, 'জর্মন মহতরমা'।
জার্মান এমব্যাসির ওয়েব সাইটের তথ্যমতে যা যা প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র সবগুলো আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণপত্র, ২ কপি ছবি, পাসপোর্ট, ৩০ হাজার ইউরোর বিমা, জাতীয় সনদপত্র, গত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ডয়েচে ভেলে থেকে পাঠানো গাইড-লাইন, সমস্ত কিছু।

জর্মন মহতরমা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আমার সমস্ত কাগজ-পত্র খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখলেন। তিনি জানতে চাইলেন, 'আপনি কি আগে কখনো জার্মানি গিয়েছেন'?
আমি বললাম, 'না'।
'আপনি জার্মানি কেন যেতে চাচ্ছেন'?
আমি ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণপত্রের কথা বললাম। কারণটাও বললাম। জর্মন মহতরমাকে বোঝাতে গিয়ে আমার কাল ঘাম বেরিয়ে যাচ্ছিল, কেন আমি যেতে চাচ্ছি!

আমি মহতরমাকে বিনীত ভঙ্গিতে বললাম, 'আপনি দয়া করে ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওরা আপনাকে আমার যাওয়ার কারণটা বিস্তারিত বলতে পারবে'।
তিনি এতে আগ্রহ দেখালেন না।
এবার তিনি একজন বাঙালী সাহেবকে ডেকে নিয়ে আসলেন। আমার লেখার সুবিধার কারণে বাঙালী সাহেবের নাম দিলাম 'বাঙালীবাবু'।
অনেকে লেখার সময় লেখেন, 'সূর্যের চেয়ে বালির উত্তাপ বেশী', বা 'বারো হাত কাঁকুড়ের তেরো হাত বিচি'। অথবা 'দারোগার নায়ের (নৌকার) মাঝির শালা'। আমি, তিন টাকা দামের কলমবাজ লিখি, 'এক কাপ চায়ে দু-কাপ চিনি'! 
বাঙালীবাবুর অবস্থা হয়েছে তাই, জর্মনদের চেয়েও তিনি এক ধাপ এগিয়ে, সাহেব-টাহেবদের সঙ্গে যে তার উঠবস (দুষ্ট পাঠকরা[!] এটার আবার অন্য অর্থ করবেন না যেন)। আমি নিশ্চিত, ইনি হাঁটার সময় হাঁটেন পা যথেষ্ঠ ফাঁক করে।

ফ্রেঞ্চ-কাট দাঁড়িতে বাঙালীবাবুর খোলতাই চেহারা। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, 'আপনি কি করেন'?
আমি হাঁই তুলে বললাম, 'লেখালেখি করি'।
'লেখালেখির বাইরে কি করেন'?
আমি বললাম, 'লেখালেখির বাইরে আপাতত কিছু করছি না'।
'তাহলে আপনার সংসার চলে কেমন করে'?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হয়, যেভাবেই চলুক অন্তত তোমার বা তোমার বাপের টাকায় চলছে না। এটা বলা হলো না কারণ আমি যাওয়ার আগে আমার সুহৃদরা পইপই করে বলে দিয়েছেন, আমি যেন মাথা গরম না করি। কেমন-কেমন করে যেন এঁদের একটা ধারণা জন্মেছে, আমার মাথা গরম!
অথচ আমার কাছাকাছি লোকজনেরা আমাকে ভীতু মানুষ বলেই তাচ্ছিল্য করেন কারণ আমি একটা পিঁপড়াও মারতে পারি না! তো, এঁরা প্রবাস থেকে গাঁটের পয়সা খরচ করে আমাকে ফোনের-পর-ফোন করতে থাকেন, আমি যেন মাথা গরম না করি। আমার কারণে কোনো মতেই যেন বাংলা ভাষার অপমান না হয়... ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমি রাগ চেপে ঠান্ডা মাথায় বললাম, 'আমার ভিসার সঙ্গে এর কী সম্পর্ক'!
এই বক্তব্য থেকে তিনি সরে আসলেন- এই প্রসঙ্গে আর গেলেন না। এরপর বাঙালীবাবু বললেন, 'ওয়েল, আপনি যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, এই টাকা কোত্থেকে আসলো'?

পূর্বেই ডয়চে ভেলে থেকে আমাকে বলা হয়েছিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট জাস্ট একটা নিয়ম। যেহেতু আমি ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণে যাচ্ছি, আমার সমস্ত খরচ ওরা বহন করবে তাই একাউন্টে টাকা থাকা, না-থাকার তেমন কোনো গুরুত্ব নাই।
কিন্তু ব্র্যাক ব্যাংকের পাওনা টাকা [৩] পরিশোধের কারণে আমার একাউন্টে বড়-একটা এমাউন্ট ছিল। কারণ ব্র্যাক ব্যাংক চাওয়া-মাত্র টাকাটা আমাকে দিতে হবে।

আমি রাগ চেপে উত্তর দিলাম, 'আমার পরিবার কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই টাকা থাকাটা আমার জন্য বিচিত্র কিছু না'।
এরপর বাঙালীবাবু বললেন, 'ভাল কথা কিন্তু হঠাৎ করে তিন মাসের মধ্যে আপনার এই একাউন্টেই এই টাকা আসলো কেমন করে'?
আমি বললাম, 'আমার বিভিন্ন একাউন্ট থাকতেই পারে, এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করাও আমার জন্য অস্বাভাবিক কিছু না'।
বাঙালীবাবু, 'তা ঠিক আছে। কিন্তু ঠিক এই সময়টাতেই কেন আপনার টাকাটা আসলো'?
এবার আমার চোয়াল শক্ত হয়, 'হ্যাঁ, আসলো, সো? এটা দেখার দায়িত্ব ইনকাম ট্যাক্স বিভাগের, আপনাদের না। এবং ইনকাম ট্যাক্স বাবদ সরকার আমার কাছে কোনো টাকা পাওনা নাই। এর সনদপত্র লিখিত আকারে সরকার আমাকে দিয়েছে। চাইলে আমি এটা দেখাতে পারি'।

কিন্তু বাঙালীবাবু সেদিকে গেলেন না, এবার বললেন, 'ডয়েচে ভেলের এই আমন্ত্রণে গিয়ে আপনি কি করবেন'?
এবার আমার অজান্তেই গলায় খানিকটা কাঠিন্যতা এসে পড়ে, আমি চোখ-মুখ শক্ত করে বলি, 'ওখানে গিয়ে আমি কী করব, এটা ডয়েচে ভেলে ভালো বলতে পারবে'!
বাঙালীবাবু বললেন, 'আপনি যাচ্ছেন অথচ আপনি জানেন না'?
আমার গলার স্বর অপরিবর্তিত থাকে, 'যেটা জানি সেটা আমি আপনাদেরকে বারবার বলেছি, অন-লাইনে লেখালেখির কারণে ওদের ওখানে ২৩০ মিলিয়ন মানুষ যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষার পক্ষ থেকে আমার মত সামান্য-একজন মানুষের ওখানে থাকার কথা। কেন যাচ্ছি এটা তো আমন্ত্রণপত্রেই পরিষ্কার লেখা আছে'।
বাঙালীবাবু, 'ওখানে কেন থাকতে হবে আপনাকে'?

বাঙালীবাবু এবার অন্তর্ধান হন, তার ফ্রেঞ্চ-কাট দাঁড়িসহ মানে তিনি যাওয়ার সময়  ফ্রেঞ্চ-কাট দাঁড়িও নিয়ে যান। আমি অনুমান করি, তিনি দূরে কোথাও যাননি। শেষ পর্যায়ে ওনাকে আবারও দেখেছিলাম।

এবার আবারো জর্মন মহতরমার আগমন, তিনি ফিরে আসার পর আমি ওনাকে অভব্যতার সীমা না-ছাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম: আমার ব্যাংক একাউন্টে টাকা কোত্থেকে আসল এটা কেন আমার কাছে বারবার জানতে চাওয়া হলো? আমার ভিসার সঙ্গে এটার কী সম্পর্ক?
তিনি বিড়বিড় করে কিসব যেন বললেন, এটা ফর্মালিটিজ, হেনতেন বা...। 
এবার জর্মন মহতরমা আমার কাছে জানতে চান, 'আপনি যেজন্য যাচ্ছেন এটা কি ওরা আপনাকে জার্মানীতে না দিয়ে এই দেশে দিতে পারে না'? 

আমি মনে মনে উল্টা গুনছি, দশ, নয়, আট, সাত, ছয়, পাঁচ, চার...শূন্য। এতে নাকি মেজাজ ভালো থাকে, মন প্রসন্ন হয়। আমি গলায় মধু ঢেলে বললাম:
'ওহ, তাহলে তো দারুণ হয়। আপনি যদি একটু ডয়েচে ভেলেকে একটু বলে দিতেন, প্লিজ। এতে করে আমি বড়ই সুখি হতাম, বড়ই সুখি। কারণ তাহলে আমার আর কষ্ট করে জার্মান যাওয়া লাগে না। সবচেয়ে ভাল হয়, এটা আমার বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করলে'।
কসম এটাই বলেছিলাম।
এবার তিনি খসখস করে কাগজে লেখা শুরু করলেন। জানালেন, এই কাগজগুলো আমাকে দিতে হবে। সময় সাত দিন।
. জার্মান এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে নিয়ে যাবে এবং দোভাষীর ব্যবস্থা করবে এটা ডয়েচে ভেলের কাছ থেকে লিখিত আকারে আনতে হবে।
২. আমার ওয়েবসাইটের লেখালেখির প্রিন্ট আউট।
৩. আমার প্রকাশিত বই।
৪. আমার বিবাহের কাবিননামা।
৫. আমার বাচ্চাদের বার্থ সার্টফিকেট।

আমি জর্মন মহতরমাকে বোঝাবার চেষ্টা করি, এয়ারপোর্ট থেকে আমাকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, কোনো সমস্যা হবে না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।
উত্তর নেগেটিভ। 
ওয়েব সাইটের লেখালেখির প্রসঙ্গে আমি বললাম, 'আমি সঙ্গে করে ল্যাপটপ নিয়ে এসেছি। আপনি চাইলে আমি এখনই ওয়েবসাইট ওপেন করে দেখাতে পারি। ওখানে আমার বইয়ের লিস্টও আছে'। 
উত্তর নেগেটিভ।

আচ্ছা..., ভাল কথা, আমার প্রকাশিত বইয়ের সঙ্গে ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণের কী সম্পর্ক, কি সম্পর্ক ভিসার সঙ্গে? 
অবশ্য এটা আমার জন্য অতি আনন্দের বিষয়। আমি গোপনে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আমার বই আমি ব্যতীত [৫] অন্য কেউ পড়ে না, সেখানে জার্মানিরা আমার বই চাচ্ছে এই আনন্দ কোথায় রাখি? এত দিনে এসে নিজেকে কেমন বিখ্যাত-বিখ্যাত মনে হচ্ছে।

ঈশ্বর মুখ তুলে চেয়েছেন, রে! বাঙালীরা আমার বইয়ের মর্ম বুঝল না, বুঝল গিয়ে জর্মনরা। তাও এই জর্মন মহিলা পড়বেন বলে পণ করেছেন নাকি! কী আনন্দ আজি আকাশে-বাতাসে...! কিন্তু এখন আমি খানিকটা ধন্ধে আছি, আমার বই তো বেশ কয়েকটা। কোনটা এই মহতরমাকে দেব, প্রেমের উপন্যাস দিয়ে না-আবার কোন বিপদে পড়ি। বাসায় জানলে বিপদ। কঠিন বিপদ। সমস্যা হয়ে গেল যে...!

আর আমার বিবাহের কাবিননামা এবং বাচ্চাদের বার্থ সার্টিফিকেট আমি নিয়ে যাইনি কারণ, জার্মান এমব্যাসির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত লেখায় বলা আছে, marriage certificate, birth certificate of children (if applicable). "...if applicable"... যদি...।
আমার যেটা মনে হয়েছিল, যেহেতু আমি একা যাচ্ছি এটার প্রয়োজন পড়ার কথা না। যদি এমনটা হতো সঙ্গে আমার বউ যাবে তাহলে এটার প্রয়োজন পড়তেই পারে কারণ বউয়ের নাম করে অন্য একটা মেয়ে জরিনাকে জার্মানিতে পাচার করে দিলুম। হতে পারে না এমন?

বা সঙ্গে শিশু থাকলে বার্থ সার্টিফিকেট অতি প্রয়োজন। না-হলে মনে হতে পারে আমি শিশু পাচারকারী। রাম-রহিম নামের একটা বাচ্চাকে পাচার করে দিলুম। এমন ভাবনা কাজ করাটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। ওহো, জর্মন বাহে, এতে আমি দোষ দেখি না।
কিন্তু এখানে আমি তো একা যাচ্ছি, সঙ্গে তো এরা কেউ যাচ্ছে না! যাগ গে, কেউ শখ করে চাইলে কী আর করা!

কিন্তু এখানেও একটা বিরট সমস্যা আছে। বাচ্চাদের বার্থ সার্টিফিকেট, এটা কে দেবে? বাচ্চার বিষয়ে তো বাচ্চার মা ব্যতীত অন্য কেউ বলতে পারবে না, আমিও না! মুশকিল-মুশকিল! মহা মুসিবত!

মার বক্তব্য অন্যখানে। আমি তো বলি নাই, আমি জার্মান দেশে যাওয়ার জন্য ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে-দেখে বড়ো হয়েছি। দেশটা না-দেখলে মারা যাওয়ার আগে আমার শেষ শ্বাস আটকে থাকবে। অন্তত মূত্র বিসর্জনে সমস্যা দেখা দেবে!
আর আমি তো এখানে অনাহুত কেউ না! আমি এখানে নিজ আগ্রহে আসি নাই। দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে, আমি এখানে এসেছি এদের জার্মান মিডিয়ার আমন্ত্রণে। 
এখন এটা তো আমার দায়িত্ব না, 'ডয়েচে ভেলে' কি, এরা কি ধান চাষ করে নাকি পাট? 'ডয়েচে ভেলে' কি জার্মানিতে না প্যারিসে অবস্থিত, ঝাপিয়ে পড়ে এটা এদেরকে বোঝানো!

এরা যেটা করতে পারতেন, একটা মেইল করলেই হত! ডয়চে ভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার তথ্যগুলো যাচাই করে নেওয়া। এই ব্যাংক স্টেটমেন্টটা ভূয়া কি-না সেটা যাচাই করে দেখা।  আমার তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিয়ে এরা যে খেলাটা আমার সঙ্গে খেললেন, গোলটা কী হলো, ফলটা কী দাঁড়ালো? এর মানে হলো, তিন মাস আগে থেকেই ডয়চে ভেলের সঙ্গে যোগসাজসে, আঁতাত করে এই কান্ডটা আমি করেছি? এই পেপারগুলো তৈরি করেছি, ব্যাংকে হুট করে টাকা জমা দিয়েছি। 

প্রকারান্তরে এরা আমাকেই ছোট করলেন না, ছোট করলেন ডয়চে ভেলেকে—নিজেদের মিডিয়াকে, নিজের দেশকে। কেউ নিজের দেশকে নিজেই নগ্ন করলে আমার কী, বাপু! তবে গোটা একটা দেশকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না।

এরা তবলার ঠুকঠাক না-করে সরাসরি গান গাইলেই পারতেন। এটা বললেই পারতেন, মিয়া, তুমি যে জার্মানি গিয়ে ভেগে যাবে না এর নিশ্চয়তা কি? আমার চোখে চোখ রেখে এটা বলার সাহস হলো না, না?
এটা বললে এদের যে উত্তরটা আমি দিতাম সেটা এখানে বলে দেই: তোমার দেশে এমন কী আছে যা আমার দেশে নাই?

আমি মানুষটা অতি সামান্য কিন্তু তোমার দেশের এই ক্ষমতাই নাই আমাকে আমার বিস্তৃত শেকড়সহ উপড়ে নিয়ে ওখানে আটকে রাখবে। নারকেল গাছের বাজার মূল্য নাই কিন্তু একে 'রি-পট' করা যায় না।
এটা আমার অহংকার না, এটা আমার দুর্বলতা। আমার বাড়ির দিকে যে সরু রাস্তাটা গেছে সেটা হচ্ছে আমার স্বর্গে যাওয়ার রাস্তা। তোমার কোন 'বা... ' রাস্তা স্বর্গে গেছে? নামটা বলো দিকি, বাপু?

বরং আমার দেশে যা আছে তা তোমাদের নাই! আমরা অন্তত কাউকে দাওয়াত দিয়ে ডেকে এনে এহেন অপমান করি না। একটা ফকিরকেও আর কিছু না থাকুক বসতে একটা পিঁড়ি দেই।
আর আমার সামনের মানুষটা লাট-সাহেবের মত বসে থাকবে আর আমি দাড়িয়ে থাকব, 'মে আই আস্ক, হোয়াই'? আলোচনার নামে, জেরা পর্বের পুরোটা সময়, লিফটের মত ছোট্ট একটা কক্ষে প্রায় ৩৫ মিনিট আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল! কেন? 
প্লিজ, আমার সঙ্গে কেউ এই বুলি কপচাবার চেষ্টা করবেন না যে, এটাই নিয়ম। বা আমরা কী ব্যাংকে, গ্যাস বিল জমা দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি না? আচ্ছা, মানুষের জন্য নিয়ম নাকি নিয়মের জন্য মানুষ? কারা এই সব নিয়ম বানায়? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের ন্যায় আচরণ পাবে না? এটা কী খুব বড়ো একটা চাওয়া‍!প্রকারান্তরে  এটা আমাকে না, আমার দেশকে খাটো করা। এটা আমাকে বড় কষ্ট দিয়েছে!

*আগাম সতর্কতা:
সুশীল মানুষদের জন্য পোস্টের এখানেই সমাপ্তি। হাতে সময় থাকলে আমার অন্য পোস্টগুলো পড়ুন। পরের অংশে আমি কিছু কঠিন কথা বলব। পুতুপুতু মানুষদের জন্য লেখার এই অংশটুুকু না! খোকা-বাচ্চারা দূরে, প্লিজ। এবার আমি খানিকটা কঠিন কথা বলব:
আমার সামনে যে মানুষটা বসে ছিলেন তিনি কি আমার প্রভু? আমি কি এই মানুষটার কাছে আমার মর্যাদা-আত্মা বন্ধক রেখেছি? ভিসা দেওয়ার নাম করে আমার কাছে আপনারা জানতে চান, 'আমার সংসার চলে কেমন করে'? হাউ ডেয়ার য়্যু! শিট অভ দ্য মিউলহোয়াই য়্যু আস্ক মি সাচ দিস কোশ্চেন, য়্যু ব্লাডি ফাকিং গাই।
ভিসা দেওয়ার নাম করে পৃথিবীর যেখানে-যেখানে এই নিয়মটা চালু আছে সেই দেশ কতটা উন্নত এটা জেনে আমার কাজ নাই।
ওই দেশের কতগুলো মিসাইল আছে, সোনা-রুপার মজুত কত টন, সংবিধান কত পুরনো বা ক্ষণে-ক্ষণে মানবতার অর্ন্তবাস চড়ান বা বিছানায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তে কয় কেজি মান্ডার তেল মেখে কতক্ষণ থাকতে পারেন এটা আমার কাছে জরুরি কিছু না!
যত চকচকে কাপড়ই এরা পরে থাকুক না কেন, এই সব মানুষকে আমার কাছে স্রেফ নগ্ন মনে হয়। ওদের ঢেকে রাখা একপেট আবর্জনা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয়। তাদের দেশেরই বিখ্যাত লেখক গুন্টার গ্রাসের কথা ধার করে বলি, আপনারা আমার কাছে 'এক বস্তা গু'!
সভ্যতার জন্য ইমিডিয়েট এই অসভ্য আচরণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

ঠিক-বেঠিক এই কুতর্ক আপাতত থাকুক, থাকুক যোগ্যতা-অযোগ্যতার প্রসঙ্গও। কিন্তু এদের দেশের মিডিয়ার আমন্ত্রণে কোনো একটা বিষয়ে ২৩ কোটি মানুষ [৬] (গ্লোবাল ভয়েসেসের মতে) যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষার প্রতিনিধি হয়ে ওখানে যাওয়ার কথা আমার। সমস্ত কাগজপত্র থাকার পরও এরা আমার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করে থাকে; আমি ভাবতে শিউরে উঠি, অন্যদের সঙ্গেও কী এমন আচরণ করে থাকে!

ওহে, আপনারা ইচ্ছা করলে আমাকে ভিসা না-দিতেই পারেন, এটা আপনাদের অধিকার। এই বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নাই—কোনো সমস্যা নাই। আমি আপনাদেরকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেসও করব না কেন ভিসা দিলেন না। কিন্তু আমারই দেশে আমাকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার কোনো অধিকার আপনাদের নাই। এই অধিকার আমি আপনাদেরকে দেই না।
জার্মান এমব্যাসি নাকি আমেরিকান এমব্যাসি তাতে কিছুই যায় আসে না। আমাদের সরকার তার সীমাবদ্ধতার কারণে আপনাদের কাছে কতটা নতজানু এটা তাদের সমস্যা, আমার না।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য, আপনাদের এমব্যাসি নামের এই দূর্গগুলো স্বাধীন বাংলাদেশেই অবস্থিত। এটা আমার দেশ, আমি এই দেশেরই একজন নাগরিক। "This is my land, no cowboy rides here"

বৈদেশ পর্ব, পাঁচ: http://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_04.html 

সহায়ক লিংক:
১. ছোট-ছোট সুখ: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post.html
২. একটি খারাপ ভুল: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_146.html 
৩. ব্র্যাক ব্যাংক: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_23.html 
৪. বৈদেশ পর্ব, তিন: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_12.html 
৫. ওড়নাসমগ্র: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_18.html
৬. গ্লোবাল ভয়েসেস: http://globalvoicesonline.org/2010/04/11/bangladesh-bangla-blogs-at-the-bobs-meet-ali-mahmed/ 



** বিষয়টা আমাকে এতটাই আহত করেছিল যে ডয়চে ভেলেকে মেইল করে জানিয়ে ছিলাম আমি তাদের আমন্ত্রণে যাচ্ছি না। 

Debarati Guha
Co-ordinating Editor
South Asia Service
Deutsche Welle
সুপ্রিয় দেবরতি গুহ,
প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আমার ব্যাক্তিগত জটিলতার কারণে মেইল করতে দেরী হলো বলে।
আমি 'ডয়েচে ভেলে'-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, 'গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে' অংশগ্রহন করার জন্য, জার্মানীতে আমাকে আমন্ত্রণ জানাবার মতো যোগ্য মনে করায় এবং আমন্ত্রণপত্র পাঠাবার জন্য।
এবং এই প্রেক্ষিতে আমি জার্মানী যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি। বিগত ২০ মে, ভিসার জন্য জার্মানী দুতাবাসের চাহিদামতে, ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণপত্র, ডয়েচে ভেলের গাইড-লাইন, হেলথ ইন্সুরেন্স, পাসপোর্ট, জাতীয় সনদপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ছবি প্রয়োজনীয় সমস্ত আনুষাঙ্গিক কাগজপত্রসহ উপস্থিত হই।

ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণপত্র এবং আমার যাবতীয় খরচ ডয়েচে ভেলে বহন করবে এটা নিশ্চিত করার পরও জার্মান দুতাবাসে আমাকে প্রচুর তিক্ত জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছে! যেমন, আমার সংসার কেমন করে চলে? আমার তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টে ঠিক এই সময়েই (তিন মাসের মধ্যে) হঠাৎ করে টাকাটা কোত্থেকে আসল? ইত্যাদি ইত্যাদি। 
বিষয়টায় যেটা প্রতীয়মান হচ্ছিল, তিন মাস পূর্ব থেকেই আমার যাওয়ার বিষয়ে ডয়েচে ভেলের সঙ্গে আমার একটা আঁতাত-দুরভিসন্ধি আছে। যেটা ছিল আমার জন্য অসম্মানের, অমর্যাদার।
এরপর আমাকে যেসব বাড়তি কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছে, 'ম্যারেজ সার্টিফিকেট', 'বাচ্চাদের বার্থ সার্টিফিকেট'; এর আদৌ কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আমি যাচ্ছি একা, আমার সঙ্গে আমার বউ-বাচ্চা যাচ্ছে না।
প্রমাণ হিসাবে চাওয়া হয়েছে আমার প্রকাশিত বই। ডয়েচে ভেলের এই আমন্ত্রণের সঙ্গে, ভিসার জন্য এর কোন যোগসূত্র আছে বলে আমি মনে করি না। 

হতে পারে দূতাবাসের এই সব প্রয়োজন কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই সবই হচ্ছে, আমার প্রতি ঘোর অবিশ্বাসের ফসল। ডয়েচে ভেলের আমন্ত্রণপত্র থাকার পরও এই অবিশ্বাস দূর করার দায়িত্ব আমার ছিল না, আপনাদের ছিল। আমি ব্যক্তিগত কারণে যাচ্ছিলাম না, যাচ্ছিলাম জার্মান মিডিয়ার আমন্ত্রণে। যতটুকু জানি, ডয়েচে ভেলে জার্মান সরকারেরই একটা অংশ।

এটা সত্য, আমার ব্যাক্তিগত অপমান বিস্মৃত হয়েও আমার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। যে কারণে ইতিপূর্বে মেইলও করেছিলাম। কিন্তু আমি গভীরভাবে ভেবে দেখলাম, আমি আমার অপমান বিস্মৃত হলেও আমার দেশের অপমান বিস্মৃত হতে পারি না, এই অধিকার আমার নাই।
আমি মনে করি, এটা কেবল ব্যক্তি আমাকে অপমান করা হয়নি, করা হয়েছে ২৩ কোটি বাংলাভাষীকে, করা হয়েছে আমার দেশকে।যেটা আমি ভুলতে পারছি না। যা আমার জন্য ভারী বেদনার! আমি দূতাবাসের এই অন্যায় আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। 

আমার অসম্ভব ভালো লাগত যেতে পারলে কিন্তু আমাকে গভীর বিষাদের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমি জার্মানি যেতে অপারগতা প্রকাশ করি। আমি দুঃখিত, আমার পক্ষে এই আমন্ত্রণ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমার কারণে আপনাদের যে ক্লেশ হয়েছে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।
তবে এটাও সত্য, ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের সহযোগিতা আমি কখনও বিস্মৃত হবো না। এটা আমার আন্তরিক ভাবনা। ভাল থাকুন। অশেষ ধন্যবাদ।        -আলী মাহমেদ 

Wednesday, May 19, 2010

কয়েদী: ৩

শাহেদ ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ডাক্তার কিসব বলছেন হড়বড় করে। অথচ ডাক্তার সাহেব কথা বলছেন ধীরলয়ে, 'আপনার বাচ্চা "হুইজি চাইল্ড"। হুইসেল থেকে হুইজি। ওকে নেবুলাইজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে, হবে সম্ভবত, অক্সিজেন দিতে হবে। আপনি তো এখানে এইসব সুবিধা এখানে পাবেন না।'
 

শাহেদ বিভ্রান্ত গলায় বলল, 'শুধু অষুধে কাজ হবে না?'
ডাক্তার সাহেব মাথা নাড়লেন, 'উহুঁ, ওর ফুসফুসে খানিকটা সমস্যা আছে, আ লিটল বিট। দেখছেন না কি প্রচন্ড কাশি হচ্ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দিনে দুইবার, প্রয়োজন হলে চার ঘন্টা পর পর নেবুলাইজার দিতে হবে। বেশি সমস্যা হলে অক্সিজেন। নরসলের সঙ্গে ভেনটোলিন রেসপিরেটর সলিউশন এর সঙ্গে সাত ফোঁটা ইপরেভেন্ট।'
'এখানে নেবুলাইজার মেশিন নাই?'
'উহুঁ,  এত বড় হাসপাতাল, এক লক্ষ মানুষের বসবাস এখানে, অথচ জানেন মেশিনটার দাম কত, মাত্র ২৭০০ টাকা। এই অল্প টাকার বিনিময়ে কতগুলো শিশুর প্রাণ বাঁচানো যায়।' 

'একটা প্রাইভেট ক্লিনিক আছে, ওখানে খোঁজ নিয়ে দেখব?'
'দেখেন, কিন্তু আমার মনে হয় ওদের নাই, থাকলে নিশ্চই শুনতাম। এই তো কদিন আগেই একটা বাচ্চা মারা গেল। নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না।'
 

শাহেদ নিশ্চল হয়ে বসে রইল।
ডাক্তার অনুচ্চকন্ঠে ভয়ংকর শব্দটা উচ্চারণ করলেন, 'ঢাকা নিয়ে যান।'
শাহেদ ভাঙ্গা গলায় বলল, 'আপনি জানেন, কি অসম্ভব কথা বলছেন?' 

'জানি, এছাড়া কোন বিকল্প নাই, আপনার বাচ্চাটার ঠান্ডার সমস্যা ছাড়াও হাই টেম্পরেচার, বমি, ডায়ারিয়ার সমস্যা আছে। এই সব রোগ এ বয়সে হয়েই থাকে। কিন্তু একসঙ্গে হওয়ায় আপনার বাচ্চাটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।'
শাহেদ হাহাকার করে উঠল, 'ডাক্তার, সবই বুঝতে পারছি কিন্তু আপনি তো জানেন এখন ঢাকা নিয়ে যাওয়া কি অসম্ভব একটা ব্যাপার।'
 

এই ডাক্তারটা নতুন, মাত্র পাস করে জয়েন করেছেন। এখনও পুরোপুরি প্রফেশনাল হতে পারেননি। কে জানে, হয়ত চোখের ভুল- এর চোখ খানিকটা ভেজা ভেজা। ইনি এখনও এই হাসপাতালের ডাক্তারদের মতো হতে পারেননি। ভুয়া সার্টিফিকেট দিতে চান না। ওষুধ কোম্পানীর স্যাম্পল চেয়ে-চিন্তে নেয়া দূরে থাক কেউ দিলে গরীব রোগীদের বিলিয়ে দেন। অন্য ডাক্তাররা যেখানে কসাইকে ছাড়িয়ে যান, অনায়াসে মাসে ষাট সত্তুর হাজার টাকা দুনম্বরী করে উপার্জন করেন। সেখানে এই ডাক্তারের বেতন ২৫ তারিখেই ফুরিয়ে যায়।
 

শাহেদ মাথা নিচু করে বসেছিল বলেই ডাক্তারের সূক্ষ্ম পরিবর্তন চোখে পড়েনি। শাহেদ ভাবছিল, এই ডাক্তার মানুষ নাকি, কী অবলীলায় বলে ফেলল ঢাকা নিয়ে যান, কয়েকদিন ধরেই অবরোধ চলছে। গাড়ি-ঘোড়া সব বন্ধ। কিভাবে এই দশমাসের শিশুটিকে নিয়ে ঢাকা যাওয়া সম্ভব! তার অসহায় অবস্থা কি ডাক্তার বুঝতে পারছেন না, কেন পারছেন না? প্রিয়জন কেউ যখন ছটফট করে তখন মনে হয় উপরে পরম করুনাময় নীচে ডাক্তার, মাঝামাঝি আর কেউ নাই। আফসোস, এরা কখনো এটা বুঝবে না। ডাক্তার মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে বললেন, 'সরি, আপনি ঢাকা নিয়ে যান, আমি সরি।'
 

শাহেদ ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এলো।
ফারা দশ মাসের শিশু কুশীকে বুকে আঁকড়ে ধরে আছে। পৃথিবীতে এত বাতাস অথচ কুশী তার প্রয়োজনীয় অল্প বাতাস পুরোটা নিতে পারছে না। আহারে, যদি পারত খানিকটা বাতাস কুশীকে দিতে। আচ্ছা, কোথায় যেন দেখেছিলো মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেয়া যায়, দেখবে নাকি চেষ্টা করে, যদি হিতে বিপরীত হয়? 

শাহেদ বেরিয়ে আসতেই ফারা উদগ্রীব হয়ে বলল, 'কি বলল?'
'তেমন কিছু না।'
ফারা সবেগে মাথা নাড়ল, 'না-না, ঠিক করে বলো, তুমি সত্য বলছ না।' 

'বললাম তো কিছু না।' 
'তুমি না বললে আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করব।'
শাহেদ অন্য দিকে তাকিয়ে বলল, 'গুরুতর কিছু না। ওকে নেবুলাইজার, অক্সিজেন এসব দিলেই ভাল হয়ে যাবে।' 

'ভাল হয়, ভাল হয় মানে কি, না দিলে চলবে?’ 
'না, মানে ইয়ে দিলে ওর শ্বাস কষ্টটা কমত।'
ফারা এবার ঝাঁঝাল গলায় বলল, 'তাইলে দেরি করছ কেন।' 

'ইয়ে ফারা এই সুবিধাগুলো তো এইখানে নাই।'
ফারা কান্না চেপে বলল, 'তাহলে কুশী-মার কি হবে।'
'ডাক্তার তো বলল ঢাকা নিয়ে যেতে।' 

'ঢাকা নিয়ে গেলে নিয়ে যাব, ঢাকা তো আর লন্ডন প্যারিস না। চলো এখনই রওয়ানা দেই।' 
'আঃ ফারা, বললেই কি যাওয়া যায়! 
'কেন যাওয়া যাবে না, গাড়ি নিয়ে গেলে ঘন্টা তিনেক লাগবে।' 
'সেটা সমস্যা না!'
'সমস্যাটা কি!'
শাহেদ এবার রুক্ষ গলায় বলল, 'তুমি তো কোন কিছুর খবরই রাখ না। হরতাল-অবরোধ চলছে কদিন ধরে। বললেই কি যাওয়া যায়!'
ফারা কুশীকে আরও আকড়ে ধরে বলল, 'আমি এসব জানি না, আমার বাচ্চার আল্লাহ না করুক যদি কিছু হয়ে যায় আমি তোমাকে কখ-খনো ক্ষমা করব না।'
 

শাহেদ ঝিম মেরে আছে। ওর মাথাটা ঠিক কাজ করছে না। 
'ফারা, একটা ক্লিনিক আছে, চলো ওখানে খোঁজ করে দেখি। ওদের নিশ্চয়ই নেবুলাইজার মেশিন আছে।'
ক্লিনিকের মালিক ডাঃ তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বললেন, 'নাই, এইসব রেখে সময় নষ্ট করার মতো সময় আমার নাই।'
ফারা কিভাবে জানি টের পেল। একহাতে কুশীকে ধরে অন্য হাতে শাহেদকে আকড়ে ধরে আছে। বিড়বিড় করে বলল, 'চলো এখান থেকে যাই।'
শাহেদের অসহ্য রাগ হচ্ছে। ইচ্ছা করছে পায়ের জুতা খুলে আলম নামের এই ডাক্তারকে পেটায়। ওর শিক্ষা, অবস্থান, ঔচিত্যবোধ বাধা হয়ে আছে। বুচার কোথাকার, এই ক্লিনিকের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রিএজেন্ট এর চড়ামূল্যের দোহাই দিয়ে সর্বোচ্চ টাকা টেষ্টের নামে নিচ্ছে। অথচ ২৭০০ টাকা দিয়ে একটা নেবুলাইজার মেশিন রাখবে না। কত শিশুর প্রাণ রক্ষা পেত।
 

শাহেদ অসহ্য রাগ চেপে বলল, 'এইসব রাখলে সময় নষ্ট।' 
ডাক্তার বললেন, 'একবার নেবুলাইজার দিলে কত দেবেন, পঞ্চাশ টাকা। একটা শিশুকে নেবুলাইজার দিতে অন্তত দশ মিনিট সময় লাগে। এই সময়ে আমি দুজনকে দেখতে পারি। আশি দুগুনে একশো ষাট টাকা পাব, আপনিই বলেন-?'
'আমি বলি কি, আপনার চেয়ে কসাই অনেক ভালমানুষ। বাজারে গিয়ে মাংশের দোকান দেন। পুঁজি লাগলে আমার কাছ থেকে নিয়েন।'
ফারা ভিত গলায় বলল, 'চলো-চলো এখান থেকে।'
 

শাহেদের বাসায় ফিরে মেজাজ আরও খারাপ হলো। সবার এক কথা, ঢাকায় নিয়ে যাও। আরে, এরা কী দেশের খবর রাখে না; বললেই হলো।
মা ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো বলেই চলেছেন: খোকা, দেরি করিস নে, আল্লার নাম নিয়ে রওয়া দে।
শাহেদ হিম গলায় বলল, 'মা তুমি কি বলছ, জানো?' 

'আয়তুল কুরসী পড়ে রওয়ানা দে, কিচ্ছু হবে না।' 
'দোয়া-দরুদ পড়ে রওয়ানা দিলে হরতাল উঠে যাবে নাকি?'
'তুই তো ধর্মকর্ম করিস না এইজন্যই তোর বাচ্চার অসুখ হয়।'
'বেশ হয়, তুমি তো মহিলা হুজুর! আমার যে ছোটবেলায় সারা গা পচে গিয়েছিল সেটা কি?
তখন আয়তুল কুরসী পড়লে না কেন?
'তুই আমার সামনে থেকে যা।' 
'আমার বয়ে গেছে তোমার সামনে থাকতে।'
'আর শোন, আমার নাতিনের যদি কিছু হয় তোকে আমি এ বাড়ি থেকে বের করে দেব।' 

'বাড়ি-বাড়ি, বাবার এই বাড়ি যেন আমার বুকে একটা পাথর রেখে গেছে। আমি মরে গেলে এ বাড়ির একটা পাথর আমার কবরে রেখে দিও।'
 

ফারা শাহেদকে সরিয়ে না নিয়ে গেলে নির্ঘাত একটা অনর্থ হতো। শাহেদ পাগলের মতো বিড়বিড় করছে: ইস কারও মেয়ে কারও নাতনি; যেন আমার কিছু না! কুশীটার কষ্ট দেখলে বাঁচতে ইচ্ছা করে না। সত্যি সত্যি মরে যেতে ইচ্ছা করে। শাহেদ দুহাতে মুখ ঢেকে ক্রমাগত বলতে থাকল: মা কুশী, মা- কুশী।
 

সহায়ক লিংক:
১. কয়েদী, ১: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_5073.html
২. কয়েদী, ২: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_18.html

Tuesday, May 18, 2010

ছবি রঙ্গ!


ডান পাশের ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে, কতগুলো রোবট বসে আছে। রোবট বানাবার কারখানায় এর বেশী আশা করি কী করে! এটা সত্য, এরাই এই দেশের বিভিন্ন চৌকশ জায়গায় যাবে কিন্তু চৌকশ রোবট [৬] এবং চৌকশ মানুষ এদের মধ্যে অনেক ফারাক।
অনেককে বলবেন, প্রত্যেকটা জায়গার কিছু নিয়ম আছে। তা আছে, বটে! তা মধ্যের ভদ্রলোক নিয়ম ভেঙ্গে সাদা টুপি লাগিয়ে বসে আছেন কি মনে করে?
*ছবি সূত্র: প্রথম আলো




প্রথম আলোর কল্যাণে জানলাম, পুলিশ লাঠিপেটা করছে। এ নতুন কোন খবর না। খবরটা হচ্ছে, লাঠিটা...। এমন লাঠির খোঁজ আমি জানতাম না, আজ জানলাম। এমন একটা লাঠি আমার খুব প্রয়োজন। 
ভাল কথা, এটা একটা দুর্দান্ত ছবি, ভঙ্গি, টাইমিং সব মিলিয়ে। ধন্যবাদটা কাকে দেব বুঝতে পারছি না, ছবিটা কি মতিউর রহমান সাহেব নিজেই উঠিয়েছেন [৪] নাকি প্রথম আলোর গুপ্ত ক্যামেরা বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা আছে। ক্যামেরা নিজে নিজেই ছবি তুলে প্রথম আলো অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমনটা হয়ে থাকলে বলতেই হয়, বাহ চমৎকার তো! আসলে কেউ কেউ কখনো বদলায় না [৩]।  
*ছবি সূত্র: প্রথম আলো



কালের কন্ঠের এই ছবি দেখে আমি আক্ষরিক অর্থেই মুগ্ধ! কী অসাধারণ উল্লাস! ছবিটা উঠিয়েছেন, আবুল কাশেম হৃদয়। তাকে আমার অজস্র ধন্যবাদ।
*ছবি সূত্র: কালের কন্ঠ





'কুমিল্লার কাগজ' ছাপিয়েছে এটা। এটাও চমৎকার একটা ছবি। আমি আবারও মুগ্ধ! কী অসাধারণ উল্লাস! এই ছবিটা উঠিয়েছেন, হুমায়ূন কবির জীবন।
*ছবি সূত্র: কুমিল্লার কাগজ 

এখন আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, 'কালের কন্ঠ' এবং 'কুমিল্লার কাগজ' যে দুইটা পত্রিকায় ছবিটা ছাপা হয়েছে, এই ছবি দুইটায় পার্থক্য কি? কেউ যদি কোন পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারেন তাঁর জন্য পুরষ্কার হচ্ছে আগামী সাত দিন আমার বাসায় খাওয়া-দাওয়া (দাওয়া জিনিসটা কি এটা অবশ্য আমি নিজেও জানি না) ফ্রি।

জানি-জানি, অনেকে বলবেন, কেন রে বাপু, এমনটা কি হতে পারে না, 'কুমিল্লার কাগজ' শাহআলম সাহেবের? নাহ, কথাটায় যুক্তি আছে, হতেই পারে এমন। 
শাহআলম সাহেব ক্রমশ এই দেশের সমস্ত কাগজ এবং কাগজের পাশাপাশি সুশীল মানুষদের [১] কিনে ফেলবেন। 
হায় সুশীল! আমাদের দেশের নামকরা লোকজন ভালো পেমেন্ট পেলে পারেন না এমন কোন কাজ নাই। হুমায়ূন আহমেদকে কালের কন্ঠ ভালো টাকা দিচ্ছে, তিনি লিখছেন। গোলাম আজম এর চেয়ে বেশী টাকা দিলে তিনি গোলাম আজমের মুড়ির ঘন্টেও লিখবেন। কেবল পেমেন্টটা ভালো [২] হলেই হলো। এই নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে লাগবেন বাজী? 

কে জ্ঞানী, শ্রীকৃষ্ণ নাকি বলরাম [৫]? কে জ্ঞানপাপী, হুমায়ূন আহমেদ নাকি শাহআলম?

কিন্তু আমার মাথায় যেটা আসছে না, আবুল কাশেম হৃদয় এবং হুমায়ূন কবির জীবন দুইজন হুবহু একই ছবি ধারণ করেন কেমন করে? কারণ দুই জায়গা থেকে ধারণ করা ছবিতে একচুল হলেও পার্থক্য থাকতে বাধ্য। অনেকে বলতে চাইবেন, কেন রে বাওয়া, দুইজন এক স্থান থেকেই, একজন অন্যজনের উপর উঠে...। কি জানি রে বাবা, হবে হয়তো বা। কত কিছুই অজানা, কয়টার খবরই বা আমরা রাখি!

*খানিক তথ্য ঋণ: ফজলে রাব্বি
সহায়ক লিংক:
১. কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_16.html 

২. ভাল পেমেন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
৩. কেউ কেউ কখনো বদলায় না: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_12.html 
৪. এরা কখনো বদলাবে না (প্রথম আলোর এই অসভ্যতা আর কত কাল চলবে, কে জানে?): http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_19.html
. জ্ঞানী: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post.html
. চৌকশ রোবট: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_15.html

আপডেট: কেস স্টাডি, এক

আপডেট: মে ১৮, ২০১০



আপডেট: মে ২৪, ২০১০ (মাধবী বুঝতেই পারেনি কখন তার ছবি উঠানো হয়েছে!)

*স্বপ্ন: http://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8 

সহায়ক লিংক:
১. কেস স্টাডি, এক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_17.html
২. স্বপ্নের কারখানা: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html

Monday, May 17, 2010

মহান এক শাসক: একাল, সেকাল!

এক দেশে এক দেশ ছিল। সেই দেশে যথারীতি এক শাসকও ছিল। ক্ষমতা হারানোর পর তার 'হাবেলি' বা প্রাসাদ থেকে প্রায় ২০০টি ব্লু-ফিল্ম উদ্ধার করা হয়েছিল (যার মধ্যে কিছু খুবই রেয়ার। কী টাইপের রেয়ার তার ব্যাখ্যায় গেলাম না কারণ ...) এবং ৬০ বোতল স্কচ হুইস্কি (আনুমানিক ৬০ লিটার)। আর বিশেষ (হালুয়া) বা ট্যাবলেট! যা খেলে বিশেষ মুহূর্তে নরের বিশেষ শক্তি (সবাই পরিণত পাঠক বিধায় 'এই বিশেষ শক্তির' ব্যাখ্যায় যাওয়ার চেষ্টা করলাম না) অনেকটা বেড়ে যায়। হাবিজাবি আরও অনেক কিছুই।

এই শাসক সাহেব আবার ছিলেন পীর প্রজাতির খুবই ভক্ত। তিনি অষ্টরশি পীরের দরবারেই গেছেন প্রায় ১০০ বার, ফল কি পেয়েছেন তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন!

একসময় মনের দুঃখে 'পাগলা পানি' খাওয়া শুরু করলেন। অষ্টরশিকে বাদ দিয়ে দশরশি নামের একজন পীরের কাছে যাতায়ত-গতায়ত শুরু করলেন। দশরশি পীর সাহেব এই শাসক সাহেবকে খুবই স্নেহ করতেন। 
ও সময়ের খানিক বাতচিত এখানে তুলে দেয়া হলো:

শাসক: বাবা, মনটা বড়ো অস্থির।
দশরশি:  তুই কাজ-কাম একটু কমা। 'খাব' বা স্বপ্ন একটু কম দেখ। তুই স্বপ্ন দেখলেই দৌড় দেস এই-ওই মসজিদে নামায পড়তে! আর এইটা কি তোর কাজ, বৃষ্টি নামানো? এই কাম তুই করলে আমরা আছি কুন দিনের লাইগা? বৃষ্টি নামাইছস ভাল কথা আবার মিডিয়ায় কইলি, 'পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রপ্রধানের দোয়ায় বৃষ্টি নামছে, কেবল নামছে আমার দোয়ায়'? আমাগো কথা ভাবলি না, এক্কবারে আমাগো ভাত মাইরা দিলি!

শাসক এর উত্তর দিলেন না। এক জুম্মাবারে তিনি ফট করে একটা মসজিদে ঢুকে নামায পড়লেন। এরপর দাঁড়িয়ে মুসুল্লীদেরকে বললেন, 'কাল রাতে স্বপ্ন দেখেছি এই মসজিতে নামায পড়ছি তাই সত্যি সত্যি আপনাদের সঙ্গে নামাজ পড়তে চলে এলাম'।

শাসকের সঙ্গে থাকা সৈনিকদের হাসি চেপে রাখা মুশকিল হয়ে দাঁড়াল কারণ এরা গোটা সপ্তাহ ধরে এই মসজিদের আশেপাশের এলাকা গভীর পর্যবেক্ষণ করেছে, শাসকের নিরাপত্তার জন্য। শাসক আসবেন এখানে নামাজ পড়তে...!
আরেকবার দেশে খুব খরা, বৃষ্টির নাম-গন্ধও নেই। এই শাসক সাহেব আবার খুবই পরহেজগার মানুষ- কতবার হজ করেছেন তার ইয়াত্তা নাই। তিনি খাস দিলে দোয়া করলেন। বৃষ্টি হওয়ার পর বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্নটা করেছিলেন, 'পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রপ্রধানের দোয়ায় বৃষ্টি নেমেছে'?
কথা সত্য, ওনার মত উপরের সঙ্গে হট-লাইনের রাষ্ট্রপ্রধান এই গ্রহে ক-জন আছে?

যাই হোক, শাসক এবার বললেন: বাবা রে, মনে শান্তি নাই!
দশরশি: থাকব কেমনে, তোরে অষ্টরশি খাইছে! তোরে রশি দিয়া বাইনন্ধা থুইছে। আচ্ছা বেটা, তুই কি পিসাব খায়া আইছস, মুখে পিসাবের গন্ধ পাইতাছি!
শাসক: বাবা, পিসাব না একটু পাগলা পানি দিয়া কুলি করছিলাম, ইয়ে মানে কুলি আর কী...। হইছে কি, সকালে তো ওঠছি দেরীতে। কেন? আহা, চোখে জানি কি সমস্যা হইছে রাতে খালি ব্লু দেখি, কী তামশা ছবিও ব্লু  হয়া যায়, সব নীল! তো, রাতে ঘুমাইতে ঘুমাইতে দেরী হয়া গেল। সকালে তো ওঠছি দেরীতে, তাড়াহুড়া কইরা রুটি খাইতে গিয়া গলায় রূটি আটকায়া গেছিল তো, তাই পাগলা পানি দিয়া একটু, হে হে হে।


দশরশি: বেটারে, বুজছি-বুজছি, আর কইতে হইব না, ইতা কইরা কুনু লাভ নাই! তুই ইয়ের মধ্যে মান্ডার তেল মালিশ কর, ফল পাইবি। মালিশ করলে, ইনশাল্লাহ, তোর পুলাপাইন হইব।
শাসক: বাবা, আচানক কথা, আপনি জানেন না? আমার একটা পুলা আছে (দ্বিতীয়টির কথা তিনি বেমালুম চেপে গিয়েছিলেন)।


দশরশি (দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসলেন): তোর কুনু পোলাপাইন নাই।
শাসক: মাফ চাই বাবা, তা এইটা কি কন! আসলে আপনার কাছে গোপন করছিলাম, আমার একটা না দুইটা ছেলে ।


দশরশি: ওইটা তুই ভাবতাছস, আসলে তোর কুনু সন্তান নাই! কারণ ইয়ে হওয়ার ক্ষমতা তোর নাই...।

(এই অংশটুকু একটা ফিকশন। এই গ্রহ বা গ্রহের বাইরে, জীবিত বা মৃত, তোতলা বা কানা এমন কোন লাশের সঙ্গেও এর সম্পর্ক খোঁজা সময়ের অপচয় মাত্র!)

... ... ...
 

*স্কেচ: আলী মাহমেদ
স্কেচ: আলী মাহমেদ

সে তো গেল অন্য কোন-এক দেশের শাসকের কথা। এবার আমাদের দেশের এক শাসককে [১], [২] নিয়ে লিখেছেন, ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দিন আহমদ (অবঃ), "যখন বঙ্গভবনে ছিলাম" এই লেখায় তিনি লিখেন:
"১৯৮৩ সালের ১৮ জানুয়ারি। দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে একটা ঘটনার জন্য।...রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন আনন্দে উল্লসিত। একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে হঠাৎ করেই। জেনারেল এরশাদের ছেলে হয়েছে। এ যে বিস্ময়ের বিস্ময়। রাষ্ট্রপতি আনন্দে আত্মহারা। তিনি সেনাভবনে যাবেন জেনারেল এরশাদকে মুবারকবাদ জানাতে। । সে জন্যই আমাকে খুঁজছিলেন। 
...বেগম আহসানউদ্দিনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তবে শুধু জেনারেল এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফিরে এসেছেন। নবজাত শিশুকে দেখতে দেয়া হয়নি। বেমম রওশন এরশাদ ও নবজাতক শিশু যে কামরায় ছিলো সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বেগম আহসানউদ্দিনকেও না।

...বেগম রওশন এরশাদ যে সন্তানসম্ভবা এবং তাঁর সন্তান ভুমিষ্ঠ হবার সম্ভাব্য মাস তারিখ সম্পর্কে আগে কোন আভাস পাওয়া যায়নি। না সংবাদপত্রের মাধ্যমে; না লোকমুখে।

...মাত্র দুই সপ্তাহ হবে ৪ জানুয়ারি যুবরাজ করিম আগা খানের সম্মানে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত ভোজসভাতেও বেগম রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। কেউ তখনো বলেনি তিনি সন্তানসম্ভবা। তাঁকে দেখেও তেমন কিছু মনে হয়নি!"

(ভোরের কাগজ, ১৩.১০.৯২)


১. অন্ধকার ফিরে আসে বারবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/07/blog-post_20.html
২. যে মহা কবি নোবেল পাননি: http://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_09.html

স্বপ্ন, কেস স্টাডি: এক

মাধবী রবি দাস।

বয়স আনুমানিক দশ। এঁরা হরিজন (গান্ধীজীর প্রদত্ত নাম)। বাবা ছিলেন চর্মকার। অবশ্য চর্মকার ছিলেন মি. বাটাও। সহজ ভাষায় মুচি। বাবার নাম সুরেশ রবি দাস। বাবা মারা যান যখন এই মেয়েটির বয়স আনুমানিক এক।

মাধবী ক্লাশ থ্রি-তে পড়ত। পড়া বন্ধ। মার কল্যাণে কায়ক্লেশে সংসার চলে। মাধবী পড়ে রাধানগর ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে (এই স্কুলে আমি নিজেও পড়েছি, এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এখনো ফ্রিতে পড়াশোনার সুযোগ আছে বলে।)।

এখন তার স্কুল ড্রেস নেই, খাতা-কলম নেই। আমাদের ভাষায় কারণটা খুব তুচ্ছ। এর সমাধানও খুব জটিল কিছু না। আজ স্কুল ড্রেস এবং খাতা-কলমের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। 
একজন সহৃদয় ভদ্রমহিলা একে পড়া দেখিয়ে দেয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন। মাধবী দীর্ঘ সময় স্কুলে না যাওয়ার কারণে পড়ায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে।  তাকে আলাদা করে পড়া দেখিয়ে দেয়াটা জরুরী।

আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি, মাধবী চকচকে স্কুল ড্রেস পরে নতুন বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এ গ্রহে এরচেয়ে চমৎকার দৃশ্য আর কী হতে পারে! সে তার পিছিয়ে যাওয়া পড়া ভদ্রমহিলার কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছে।

মাধবীকে নিয়ে আমার আরও কিছু ভাবনা আছে। আমার ফতুয়ায় হাতের সেলাইয়ের কাজ দেখে একজন পেছনে লেগে গেলেন। তাকেও এমন হাতের সেলাইয়ের কাজ করে দিতে হবে। যতই আমি বলি, এটা আমরা নিজেরাই বাসায় করি কিন্তু কে শোনে কার কথা। 
মাধবী আগ্রহী হলে তাকে সুই-সুতার কাজটা ধরিয়ে দিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে তার নিজের খরচ সে নিজেই বহন করতে পারবে।

মাধবীকে এই সব করতেই হবে কারণ সে স্বপ্নের কারখানার [১] একজন। এমনটা না করলে আমার পরাজয়। নিজেকে পরাজিত দেখতে ভালো লাগে না।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক: 
১. স্বপ্নের কারখানাhttp://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_16.html
২. আপডেট: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_18.html 

Sunday, May 16, 2010

স্বপ্নের কারখানা

আমরা তো শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের [১] মতো কঠিন শিক্ষাবিদ না যে হঠাৎ মনে পড়ল, আরে, আমার তো মনেই ছিল না যে আমি একজন শিক্ষক! বা মতিউর রহমানের [২] মতো বিশাল মাপের মানুষ না যে, নিজেকে ব্যতীত সব বদলে ফেলব, কারণ নিজেকে আমার বদলাবার কিছু নাই। আমি সমস্ত বদলের উপরে, চলমান একজন দেবতা আর কী!

আমরা যারা খুব সাধারণ, আমাদের কাজ-স্বপ্নগুলোও বড়ো সাধারণ। ছোট-ছোট স্বপ্ন আমরা বুকে হরদম লালন করি। আমরা মনে করি, রাস্তায় কলার খোসাটা আমরাই সরাবো। কলার খোসাটা সরবার জন্য আমরা হাঁ করে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকব না।

আমার নিজস্ব জাগতিক সমস্যা এতো প্রবল, স্বপ্নগুলো প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। কিন্তু আমি প্রবল ভাবে বিশ্বাস করি, মন থেকে চাইলে অদেখা স্বপ্ন সলাজে দরোজার পাশে এসে দাঁড়াবেই- তাকে আসতেই হবে। আমার মধ্যে 'প্লাসিবো' ভাবটা প্রবল- অন্যের জন্য যা চাই তা কেমন কেমন করে যেন পেয়ে যাই!

আমার ছোট-ছোট স্বপ্নগুলো নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। কেউ কেউ অযাচিত মমতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। এঁদের আমি চিনি না, এঁরাও আমাকে চেনেন না, তাতে কী কিছু আসে যায়? ক্রমশ আমার এই স্বপ্নগুলো "আমাদের স্বপ্নে" রূপান্তরিত হয়। আমি থেকে আমরা...। 

কেবল স্বপ্নের কথা। আরও চমৎকার স্বপ্ন দেখার পরামর্শ-ভাবনা। আমি "স্বপ্ন" নামের একটা নতুন বিভাগ যোগ করছি। এখানে কেবল ছোট-ছোট স্বপ্নের কথাই বলা হবে। 
কেউ ভুলেও যেন এটা না ভাবেন, আমি খুব বড়ো কিছু করে ফেলছি। তাহলে আমি বলব, যারা এমনটা ভাবেন তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আমি কেবল পুরো বিষয়টা সমন্বয় করছি, আর কিছু না। এটুকুই আমার ভূমিকা। তবে হ্যাঁ, আমার যে অল্প মনন আছে তার সবটুকু আমি এখানে ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করব।

আমার অনেক দিনের ইচ্ছা-স্বপ্ন, অসহায়, নিরন্ন বাচ্চাদের জন্য একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। এই সব বাচ্চাদের [৩] যখন দেখতাম তখন নিজেকে কী অসহায়ই না লাগত। এদের জন্য কিচ্ছু করতে পারছিলাম না। মানুষ হিসাবে নিজেকে জাস্ট পোকা-পোকা মনে হতো। একজনের কাছে ২টা বাচ্চাকে [৪] দু-এক দিনের জন্য রাখতে দিয়েছিলাম এ আমাকে না জানিয়ে এই বাচ্চাগুলোকে বের করে দিয়েছিল। মানুষটাকে আমি কঠিন অভিশাপ দেই, তার মৃত্যু যন্ত্রণা যেন প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হয়।

আমার কাছের লোকজনরা আমাকে কঠিন প্রকৃতির মানুষ হিসাবেই জানেন- কে বলেছে, কঠিন মানুষরা কাঁদতে জানে না? এরা হয়তো ঘটা করে কাঁদার নিয়মটা জানে না, জানলে ভালো হতো। কেউ কেউ প্রকাশ্যে কাঁদে, কেউ বাথরুমে...।

অনেক পূর্বেই এটা করার কথা ছিল কিন্তু আমার স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, অন্তত ১ বছর চালাবার মত টাকা না থাকলে এই কাজে হাত দেব না। কারণ, দু-এক মাস চালিয়ে টাকার জন্য বন্ধ করে দিতে হলে এ আরেক অন্যায়। ভাসিয়ে দেয়া শিশুগুলো যাবেটা কোথায়?

কিছু কিছু পাগলমানুষদের কারণে এই সব বাচ্চাদের সহসাই একটা গতি হচ্ছে। কেবল বাচ্চাদের জন্য আশ্রয়ই না, আমার আরও ভাবনা আছে। আগে এটা দাঁড় করে নেই। এর পাশাপাশি একটা বৃদ্ধাশ্রম করার ভাবনাও আমার আছে। এতে একটা অভাবনীয় কাজ হবে, বাচ্চারা তাদের হারিযে যাওয়া বাবা-মা, দাদা-দাদির সংস্পর্শ পাবে। পাশাপাশি বয়স্করাও পাবেন বাচ্চাদের সংস্পর্শ। 
আমি কিছু বৃদ্ধাশ্রমে দেখেছি, মানুষগুলো কী নিঃসঙ্গই না থাকেন- কেবল মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা! তাদের এই নিঃসঙ্গতা থেকেই ভাবনাটা আমার মাথায় আসে। এই ভাবনার সূত্রপাত এই মাকে [৫] দেখে, তাঁর প্রতি আমার অজস্র ভালোবাসা।

শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতা করা হবে হপ্তা-দশ দিনের মধ্যে। যার প্রধান অতিথী থাকবেন এই দেশের একজন সেরা সন্তান [৬]। এই শিশুরা এবং তাদের মারা শিখুক একজন নষ্ট রাজনীতিবিদ বা একজন পচে যাওয়া আমলার হাত থেকে পুরস্কার নেয়ার চেয়ে এমন একজন আগুনপুরুষের [৭] কাছ থেকে পুরষ্কার নেয়াটা অনেক মর্যাদার। 

আমার মাথায় অসংখ্য ভাবনা গিজগিজ করে। একেক করে এদের বেরুবার জায়গা করে দিতে হবে নইলে আমি যে মারা পড়ব। এখনই আমি মরতে চাই না, অনেক কাজ যে বাকী।

*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3

সহায়ক লিংক: 
১. শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html 
২. মতি ভাইয়ার অ-শপথ: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_19.html 
৩. এলিয়েন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_08.html 
৪. দু-বোন: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_13.html 
৫. মা (বৃদ্ধাশ্রম): http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_9329.html 
৬. নৌ-কমান্ডো: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
৭. অগ্নিপুরুষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_22.html

Saturday, May 15, 2010

সভ্যতার পোশাকে দানব



সভ্যতার পোশাক পরা মানুষগুলোর চেয়ে ভয়ংকর আর কেউ এই গ্রহে নাই। জঙ্গী নামের নির্বোধদের চেয়েও এরা ভয়ংকর। এদের শিক্ষা একই- এদের মধ্যে পার্থক্যটা হচ্ছে, কেবল শেখাবার ভঙ্গির মধ্যে। শিক্ষক মহোদয় কতটা চৌকশ এটাই আসল।


একবার জঙ্গিদের স্কেচ করতে গিয়ে খানিকটা সমস্যায় পড়েছিলাম। কেমন হওয়া উচিৎ এদের অবয়ব? পরে মনে হলো দানব তো দানবই এর আবার অবয়ব কী! দানবের ছবি আঁকতে গেলে অনেকটা মানুষের আদল আসবেই। দানব তো আর আলাদা কিছু না। মানবের ছাল গায়ে দিয়ে এরা এই গ্রহেই বনবন করে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।

এই দানবগুলো, কেউ সভ্যতার পোশাকে শরীর মুড়িয়ে রাখে, কেউ তথাকথিত অসভ্যতার পাশাকে। কেবল চকচকে মোড়কে যা পার্থক্য, ভেতরে জিনিস একই। আলকাতরাকে ঝাঁ চকচকে মোড়কে মোড়ালেও আলকাতরা আলকাতরাই থেকে যায়। 

এ বছরের জুন মাসের ৫ তারিখে, অস্ট্রেলিয়ার অতি বিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউসে কুকুরদের জন্য কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। 

অতি উত্তম! এখানে কুত্তারা কনসার্ট শুনবে। কুত্তা লিখেছি বলে সূক্ষরূচির পাঠকের আহত হওয়ার কিছু নাই। কুত্তা কনসার্ট শুনলেও কুত্তা কুত্তাই থেকে যাবে- আফসোস, মানুষ হওয়ার কোন সুযোগ নাই তার। সেই কারণেই আমি কুত্তার পূর্বে জনাবটা আর লাগাচ্ছি না। সূক্ষরূচির পাঠক আহত বোধ করলে পড়ার সময় কুত্তার পূর্বে জনাব বসিয়ে নিলে আমার কোন আপত্তি নাই। 
কুত্তাদের জন্য পোশাক, কুত্তাদের সঙ্গে বিছানা শেয়ার করা- কত্তো কত্তো আইডিয়া সভ্য মানুষদের মাথায়! অ, কুত্তাওয়ালারা, প্রকৃতি কুত্তাদের জন্য পোশাক বানিয়েই এই গ্রহে পাঠিয়েছে। প্রকৃতি ব্যত্যয় পছন্দ করে না। কারও গায়ে মেকি পোশাক চাপিয়ে দেয়ার শোধ প্রকৃতি নেবে কোন-না কোন ভাবে এতে সন্দেহ নাই।

রক্তের দাগ যেমন থেকে যায় তেমনি দানবও দানবত্বের ছাপও রেখে যায়! এই অস্ট্রেলিয়াই ইরাকি শিশুদের উপর গুলি চালিয়েছে সভ্যতার পোশাক পরে। আমেরিকার না হয় ফাদার-ল্যান্ড রক্ষার সমস্যা ছিল. আমার জেনে ভাল লাগছে, এরা এদের ফাদারের পরিচয় জানে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কোন বাপকে রক্ষার সমস্যা ছিল?

এই অস্ট্রেলিয়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাড়ে ছয় লক্ষ উটকে [১] গুলি করে মেরে ফেলার। আমি জানি না এই সিদ্ধান্ত এরা কবে, কখন কার্যকর করেছে। আমি এটাও জানি না, এরা কি বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেছিল ওই উটগুলোকে বাঁচাবার? আমি যতটুকু জানি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে উটের বিপুল চাহিদা- সৌদির মত দেশগুলো, ভারত, এমকি বাংলাদেশেও। এরা কি একবারও এটা বলার চেষ্টা করেছে আমাদের দেশের বিমানবন্দর, পোতাশ্রয় থেকে বিনে পয়সায় তোমরা এসে নিয়ে যাও? ওই দেশগুলো কৃতজ্ঞচিত্তে অস্ট্রেলিয়ার এই বদান্যতা মনে রাখত।

এটা এরা করবে না কারণ হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে উট মারার  যে পাশবিক, দানবীয় আনন্দ সেটা অন্যত্র কোথায়? এখন বিভিন্ন বিকৃত আসনে বিছানা কাঁপিয়ে সুখ যে আর পাওয়া যাচ্ছে না।
সুখ না পাওয়ার হাহাকার, লুকিয়ে থাকা পাশবিক আনন্দ জন্ম দেয় আরও বড়ো আনন্দের। কেমন করে এপাচি হেলিকপ্টার থেকে ইরাকী মানুষ, শিশুদের পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলা যায়। কী চমৎকার অ্যাকসেন্টেই না বলে, "নাইস, গুড শ্যুটিং..."! কেমন হ্যা হ্যা করে হাসতে পারে। 
আমরা এদের ভাষা শিখব, এদের অ্যাকসেন্ট রপ্ত করব, এদের মতো চমৎকার করে হাসব।

পেন্টাগন বিবৃতি দিয়েছে, "অ্যাপাচির মনিটর খুব ছোট ছিল বলে সেনারা ক্যামেরা এবং অস্ত্র আলাদা করতে পারেনি"।
পেন্টাগন আরও বলছে, "এ বিষয়ে যথার্থ তদন্ত করা হয়েছে এবং কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি"।

বেশ-বেশ। মেনে নিলাম অ্যাপাচির ছোট্ট মনিটরের কারণে বড়ো ধরনের অনিচ্ছাকৃত একটা ভুল হয়ে গেছে। মানুষ ভুল করতেই পারে তবে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু আমার যেটা জানার ছিল যেটা হচ্ছে, এটা হলো প্রথম পর্বের কথা। দ্বিতীয় পর্বে আমরা দেখতে পাই, একটি বেসামরিক গাড়ি এসে একজন মুমূর্ষু মানুষকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে, সেই গাড়ি লক্ষ করেও গুলি চালিয়ে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। ওই গাড়িতে শিশুও ছিল। এর উত্তরে পেন্টাগন কি বলতে চাচ্ছে?
উত্তরটা আমি বলে দেই, আপনাদের জন্যই বড়ো প্রয়োজন একজন ওসামা বিন লাদেনের মত একজন নায়ক। যাকে আপনারা বলছেন, বড়ো একজন সন্ত্রাসী। হাসি পাচ্ছে, প্লিজ, এই কথাটা অন্তত বিশ্বাস করতে বলবেন না! লাদেন কি আপনাদের চেয়েও বড়ো সন্ত্রাসী?  

ওসামা বিন লাদেন খুব খারাপ, না? খুব খারাপ! আমার তো মনে হয়, এই ভিডিও ক্লিপিংস দেখার পর যে কোন মর্যাদাবান, হৃদয়বান মানুষই লাদেন হতে চাইবে। এ গ্রহে অসংখ্য লাদেনের জন্ম হবে। 



 
 
এরাই আমাদের সভ্যতা [২] শেখাবে, মানবতা শেখাবে। প্রয়োজনে সেমিনারের নামে আমাদের দেশে চলে আসবে। এরাই আমাদের শেখাবে কেমন করে সভ্য হওয়া যায়। এদের দেশের ইশকুলে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনে আমরা ঘুষ নামের 'স্পিড'-এ বদৌলতে দেশ বিক্রি করে দেব, পারলে নিজের মাকেও। 
সেই ইশকুলে শেখার নাম করে, তথাকথিত ক্যারিয়ারের নামে আমরা আমাদের উদ্দাম যৌবন নষ্ট মাখনের মতো গলে যেতে দেব। পরিণত হবো একেকটা চলমান রোবটে, অপেক্ষায় থাকব বুড়ো হওয়ার। 

এরা দুর্বল দেশের সেরা সন্তানদের দিয়ে মঙ্গলের পানি খোঁজার [৩] কাজটা করাবে! এরাই এক সময় এই পৃথিবীকে বসবাস অযোগ্য করে অন্য কোন গ্রহে বসতি স্থাপন করবে। 

আমরা এদের দেখে দেখে শিখব কেমন করে মানব থেকে দানব হওয়া যায়, কেমন করে দুর্বলের প্রতি অত্যাচার করা যায়। আদিমানুষ নামের মানুষদের তীর-ধনুকের সামনে ট্যাংক দাঁড় করিয়ে দেয়া যায়। পাশের দেশের উপাসনাস্থল ভেঙ্গে ফেললে আমাদের খুব রাগ হয়, সেই রাগ আমরা সামলাতে পারি না। চোখের সামনে যা পড়ে সব পুড়িয়ে ফেলি, এমন কি শিশুও। 
কিন্তু আমাদের দেশেই উপাসনাস্থল ভেঙ্গে ফেললে [৪] আমাদের বিন্দুমাত্র রাগ হয় না কারণ ওটা যে দুর্বলদের। পাশবিকতা তো আমাদের রক্তেও খেলা করে।

*ভিডিও ঋণ: উইকিলিকস (http://www.wikileaks.com/), ইউটিউব।

সহায়ক লিংক: 
১. সাড়ে ৬ লক্ষ উট: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_9297.html
২. সভ্যতা: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_493.html
(দুর্বলচিত্তের কেউ এই ২ নং লিংকটা না দেখলেই ভাল করবেন)
৩. মঙ্গলের পানি: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_28.html
৪. আদিমানুষ পড়ো, আমাদের নামে: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_23.html 
WhatsApp