জুলাই নিয়ে যার-যার নিজস্ব মত থাকতেই পারে! কেউ-কেউ জুলাই নিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন!
এখানে কিন্তু মিথ্যা বলা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার অন্তর্বাস নিয়ে যখন উল্লাস করা হচ্ছিল তখন কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি এটা থামাতে!ধরে নিলাম বড় অস্থির, এলোমেলো সেই সময়! কেউ কাউকে থামাতে পারছে না!কিন্তু হাদি যে অতি কুৎসিত গালিটা চালু করে দিয়ে গেলেন এ নিয়েও তারও কোন বিকার ছিল না, আমাদের তেমন বিকার নাই। মেয়েরা-মায়েরা অবলীলায় একাত্ম হয়েছে এই গালির সঙ্গে, গলা মিলিয়েছে! মাহমুদুর রহমানের মত সো কলড সুশীলরা বিমল আনন্দে বসে-বসে এই গালি শুনেছেন!
এমনিতে যে-কোন বিষয় আপনি দ্বিমত করতে পারেন, আলবত পারেন৷ আপনি তো আর আপনার পছন্দ-অপছন্দ অন্য কারও উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না।
এ সত্য, ওই সময়ে প্র. ইউনূসের হয়তো বিকল্প ছিল না! আহা, এমন না যে আমরা জানতাম না, প্র. ইউনূসের [১] আছে লোভে চকচক করা এক অভূতপূর্ব চোখ! কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম সাপও তো খোলস বদলায়, জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ৮৪ বছরের এই মানুষটা কী আর বদলাবেন না! উঁহু, না, বদলাননি!
এখন প্রবল আশা, ওয়াল্লাহ, মানুষটা দেখছি অমর নন! গলাকাটা ফতুয়ার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চামড়া আর টান টান নাই! হাড় এবং চামড়া যখন সঙ্গ ছেড়ে দেবে তখন হয়তো বদলাবার সুযোগ পাবেন কিন্তু দেখে যেতে পারবেন না! আফসোস!
এ সত্য, হাসিনা গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশটাকে তার বাবার দেশ বানিয়ে ফেলেছিলেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট-বেদনাকে তিনি যেভাবে চিবিয়ে-চিবিয়ে বলতেন, এ বিরল! বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেই, পানি বন্ধ করে দেই; কথা শুনে মনে হতো, এইসব তার পারিবারিক তালুক। এরা এটা বিস্মৃত হন, যে আমরা এদেরকে মাসে-মাসে বেতন দেই আমাদের দেখভাল করার জন্য।
স্টেপ ডাউন হাসিনা, রেজিম চেঞ্জ—কারা-কারা হালুয়ার ভাগ পাবেন—এই পরিবর্তনে কে-কে কোন শূন্যস্থান পূরণ করবেন—কারা-কারা থানার অস্ত্র লুট করাবেন—কে-কে স্নাইপার দিয়ে গুলি করবেন—ইউনূসের ছেলেরা কেমন করে ডাঙর হয়ে উঠবে[২]—আসিফ নজরুলের মত একজন সুলেখক কেমন করে চালবাজ হয়ে যাবেন—পূর্বে শিবির বলে ফট করে মেরে ফেলা যেত, এখন আওয়ামীলীগ বলে—আমাদের আগেও বিকার ছিল না, এখনও নাই—সবই তো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে!
শেখ হাসিনাকে মুছতে গিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চলমান, আজও! আপনি-আমি-আমরা শেখ মুজিবর রহমানের হাজার সমালোচনা করতে পারবেন। করেন, কোন সমস্যা নাই! ৭ মার্চের ভাষণ ছাত্রদের চাপে পড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। শেষ সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন...!
কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলতে পারবেন না! শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন এটা বোঝার জন্য একাত্তর পূর্ববর্তী পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলাতে হবে।

খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে না তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠাগুলো দেখলেই হবে। সেসময় শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন! 'জয় বাংলা' কাদের শ্লোগান ছিলো? ৩২ নাম্বার বাড়িতে কী হত! ৭ মার্চের ভাষণ দিকভ্রান্ত মানুষকে কেমন দিক দেখাল! কেমন-সব অকল্পনীয় আত্মত্যাগ! ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮
দিন যায় কথা থাকে! কালে-কালে বাকশাল হলো, টাকশাল হলো মুজিব সজীব হয়ে গেলেন, এই নিয়ে দিন-রাত এক করে সমালোচনা করেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ইতিহাস কাঠ পেন্সিলের লেখা না যে ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে!
আর এই সমস্ত কথা, একাত্তর বড় না চব্বিশ বড়—বাপ বড় না পোলা বড়? এগুলো বলে জোকার হবেন না! দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বলছেন, বয়সে তিনি নাকি বাবাকে ছাড়িয়ে গেছেন! আখেরি জমানা বলে কথা, হতেও পারে!
সবকিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দিয়েন না। সবকিছুতে হাসিনা-ভারত বলে চুতিয়া হইয়েন না, প্লিজ। যেমন আমাদের আলোকিত মানুষ শহিদুল আলম, দিপু দাস নামের একজন নিরীহ মানুষকে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলল আর এই দানব প্রসব করলেন এই লেখা, ক্রুদ্ধ জনগণ, হাসিনা রেজিম-ভারতের প্রতি মানুষের ক্ষোভ...! এ-ও ভয়াবহ এক অন্যায়কে জাস্টিফাই করার অপচেষ্টা!
আমি শহিদুল আলমের প্রসব বেদনার প্রতি কাতর হই!
আসলে আমরা আমরাই তো, 'বঙাল' বলে কথা—আমরা এমনই, আমরা বদলাব না—রাম যাবে শ্যাম আসবে, স্যাম যাবে যদু আসবে—কিন্তু,আমরা শ্লা বদলাব না!
কিন্তু তাই বলে এ চিত্র মিথ্যা হয়ে যাবে না!
জনতা-ছাত্র আন্দোলনে [৩]! সাধারণ মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল ব্যক্তি স্বার্থে না—একটা স্বপ্ন, অদেখা স্বপ্ন—সুখী জীবনের স্বপ্ন—গরম-গরম ভাতের স্বপ্ন! মৃত্যুর পূর্বে এরা জানত না এদের গলিত মাংস টুকরো-টুকরো করে বিক্রি করবে এদেরই স্বজন, সহযোদ্ধা, নেতারা, বিভিন্ন নামে!
মা'র বাচ্চাটাকে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাবুটাকে একটু স্পর্শও করতে পারেননি! পোড়া মাংস দলা পাকিয়েছে, হাড় কোথায় অনাদরে ছিটকে পড়েছে!
মেহের আফরোজ শাওন, ভাগ্যিস, এই ছেলেটা আপনার না! আপনার মত প্রতিভাবান একজন মানুষ এটা প্রমাণ করে দিলেন ইতর হওয়ার জন্য কেবল প্রতিভাবান না, মা হওয়াটাও জরুরি না!
 |
| এই স্ক্রিনশটটি শাওনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। কৃতজ্ঞতা। |
মেহের আফরোজ শাওন কেবল গুণী মানুষই না, লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী এবং দু'টি বড়-বড় বাচ্চার মা। এমন একটা মানের মানুষকে কেমন করে বলি, আপনি একটা ইতর!
আপনার কষ্ট, ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন কিন্তু আপনি তো সেই ইঁচড়েপাকা মেয়ে না, যে ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে গা দুলিয়ে বলছিল, 'ফজলুর রহমান আমার....'!
আচ্ছা, আপনার সন্তানের চোখে চোখ রাখতে হবে না আপনাকে?
যাই হোক, শাওনের এই ইতরামির ফলে শাওন একটা বিজয় উল্লাস করতে পারেন কারণ তিনি আমাদেরকেও খানিকটা তার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পেরেছেন, এ-ও তার অন্য রকম বিজয়...!
সূত্র:
১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1
২. ইউনূসের ছেলেরা...: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1
৩. জনতা-ছাত্র আন্দোলন: https://www.ali-mahmed.com/2024/07/blog-post_17.html?m=1
৪. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
৫. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html ৬. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html ৭. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html ৮. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html ৯. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html ১০. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html ১১. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
১৮. লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html