Search

Showing posts with label অন্যায়. Show all posts
Showing posts with label অন্যায়. Show all posts

Tuesday, April 7, 2026

একজন হান্নান মাসউদ।

সাংসদ হান্নান মাসউদ পুর্বে টিউশনি করে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করতেন!

Wednesday, March 25, 2026

জেনারেল মাসুদ—ভিয়েতকং গেরিলা—গোলাম আযম!

এক-এগারো'র প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না; এখানে এই আলোচনা জরুরি না। ওই সময়ের আলোচিত এক নাম 'জেনারেল মাসুদ'। এই নামেই মুখে-মুখে চালু ছিল নামটি। এটাও বলা হয়ে থাকে, সেনাপ্রধান মইনের স্থলে জেনারেল মাসুদ হলে এই দেশের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত! এই তর্কও থাকুক আপাতত।

Tuesday, March 24, 2026

আন্টাঘর মাঠ—ভিক্টোরিয়া পার্ক—বাহাদুর শাহ পার্ক।

আর্মেনিয়ানদের বিলিয়ার্ড (আন্টা) খেলার জায়গা সংলগ্ন মাঠ ছিল বলে এর নাম ছিল 'আন্টাঘর'! কালে-কালে এর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক!

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে খুন করে। এরপর এই মাঠে তাঁদেরকে গাছে-গাছে ঝুলিয়ে দেয়! কাক ঠুকরিয়েছে, ঈগল চোখ গলিয়ে দিয়েছে কিন্তু কেউ লাশ নামাতে সাহস করেনি!

Tuesday, February 24, 2026

গুন্ডামি, সেকাল—একাল!


ডিবির হারুন কাউকে অত্যাচার করার পূর্বে অন্তত জনসম্মুখে থাকত না কিন্তু এখানে ডিসি মাসুদ স্বয়ং উপস্থিত!

Tuesday, December 2, 2025

অজ্ঞ বাউল বনাম আমাদের বিজ্ঞজন...!

একজন বাউলের পালাগান-বিচারগান নিয়ে দেশ উত্তাল—কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে!

এখানে বাউল আবুল সরকারের একটা ক্লিপ দিচ্ছি। এখানে প্রসংগক্রমে 'সুরা নাসের' [*]কথা বলা হয়েছে:


এটা অনেকের ধর্মানুভূতিতে মারাত্মক আঘাত করেছে। এই ভিডিও ক্লিপটা খুব ভাল করে দেখা-শোনার পরও কারও যদি এমনটা মনে হয়ে থাকেও, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করার খুব একটা ইচ্ছা আমার ছিল না:

কিন্তু..., এই ক্লিপটা দেখার পর মনে হচ্ছে খানিকটা বাতচিত করাটা জরুরি। এই মানুষটার নাম-বিস্তারিত জানি না এই কারণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু মানুষটা পোশাক দেখে অনুমান করি 'ওটির চাপরাশি' টাইপের কেউ হবেন না, ডাক্তারই হবেন কারণ ইংরেজিতে খই  ফোটাচ্ছেন।

বেচারা! এপ্রোনটা খোলারও সময় পাননি! আশা করছি, অপারেশনটা শেষ করার পর-পরই 'শব্দের গোলা' দেগেছেন। 'খোদা-না-খাস্তা' অপারেশনটা অসমাপ্ত রেখে বা জোশের চোটে অক্সিজেনের পাইপে পা রেখে থাকলে রোগির তো 'রাম-নাম সাত্যা' হয়ে গেছে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, এই পৃথিবীতে হাজারো বিষয় থাকতে ধর্মীয় বিষয় এড়িয়ে যাওয়াটাই সমীচীন কারণ আমাদের বাপ-দাদাদের চেয়ে আমরা এখন অনেক ধার্মিক হয়ে গেছি!

আমি এটা বলছি না, বাউল আবুল সরকার সমস্ত সমালোচনার বাইরে তাঁর সমালোচনা করেন, কঠিন সমালোচনা করেন, সমস্যা নাই। 

তবে, প্রত্যেকের জন্যই এটা মানাটা জরুরি, আপনি কি বলছেন, কেন বলছেন, কোথায় বলছেন, কার সঙ্গে বলছেন, কোন সময়ে বলছেন! এটুকু সেন্স না-থাকলে মুখ না-খোলাটাই সমীচীন।

তাঁর সহধর্মিণী এবং সহশিল্পী আলেয়া বেগম বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। কী অসাধারণ তাঁর বোঝাবার ভঙ্গি! আমি কান পেতে রই।


আজ যারা তাঁকে বা বাউলদের নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছেন এবং কী সগর্বেই না বলা হচ্ছে, 'আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, বাউলদেরকে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে...':

বেশ-বেশ! আচ্ছা, বাউল-টাউল ব্যতীত অন্যদের নিয়ে আপনাদের ধর্মানুভূতি কাজ করে না? আজ 'মুসলমানদের কবি' কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকলে কতশত বার যে বাতাসে তার বাবরি চুল উড়ত, কল্লাসহ; তার ইয়াত্তা নাই। নমুনা []:


এখানে এসে আমাদের 'ধর্মানুভুতি কবিরা' এপ্রোন খুলে নিরব হয়ে যান!
বা ধরুন, তাঁর (কবি কাজী নজরুল ইসলাম)-এর এই সমস্ত অনুবাদ:


ভাগ্যিস, কাজী নজরুল ইসলাম যে 'রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম' থেকে অনুবাদ করেছেন তার স্রষ্টা আজ আর বেঁচে নেই! ওমর খৈয়াম মরে বেঁচে গেছেন! এবং বঙ্গালদেশে জন্ম না-নিয়ে ইরানে জন্ম নিয়েছিলেন বলে দ্বিতীয় বার বেঁচে গেছেন! নইলে তাঁর লাশ কবর থেকে তুলে আগুন দেওয়া হতো।
আচ্ছা, আবুল সরকারের নাহয় ধর্মীয় জ্ঞান বা ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নেই কিন্তু আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকদের তো অগাধ জ্ঞান ধর্মের প্রতি আকাশসম শ্রদ্ধা। এই যে মাওলানা সাহেব বলছেন, "আল্লাহ চাঁদাবাজ...":


বা, এখানে:
ধর্মীয় বক্তা আজহারি অবলীলায় আল্লাহ-নবির সঙ্গে 'শালা-হালা' লাগাচ্ছেন। আজহারির ইয়ের-কেশ, মাথার—কেউ স্পর্শ করেছে!

ইয়ে, ওই যে ডাক্তার সাহেব একেকটা আগুনের গোলা ছুড়ে দিলেন এটা শুনে কী তার 'ইয়েভূতি' আহত হয়নি?
অথবা, এই যে বিএনপি পন্থি লোকটা বললেন:
"জিয়াউর রহমান কোরান শরীফে বিসমিল্লাহ-হির-রাহমানির-রাহিম সংযুক্ত করেছিলেন":
এই মানুষটা কী এখনও মুক্ত ঘুরছেন?

আর আরেক ধর্মীয় শিক্ষক জামাতে ইসলামের এম. পি প্রার্থী আমির হামজা বলছেন,
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
এমনকি, আমির হামজা আরও বলছেন, "লাইক-শেয়ার-কমেন্ট এই সমস্ত  কথাও আল্লাহ ১৫০০ বছর আগে কোরানে দিয়েছেন"।

কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:

সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ ।  কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান 

এই সমস্ত কারণে এই মানুষটাকে কী কেউ বাউলদের মত পানিতে চুবিয়েছে বা ফাঁসি দাবী করেছে?

মিজানুর রহমান আজহারির ওয়াজের নামে এই সমস্ত অনেক বক্তব্য'র জন্য 'তাওহাদি জনতা' কী কোন হইচই করেছে! আটকাতে-লটকাতে চেয়েছে?

কবরে নাকি রাজনৈতিক সাওয়াল-জাওয়াব হবে:

ধর্মীয় শিক্ষক-ধর্মীয় বক্তাদের এমন অজস্র উদাহরণ দেওয়া যাবে কিন্তু এখানে এসে 'তাওহাদি কবি' নিরব... []!

সূত্র:

১. দুখু মিয়া, সুখু মিয়াhttps://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_25.html?m=1

২. ওয়াজ সমগ্রhttps://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1

* সুরা নাস (রুকু: ১, আয়াত: ৬) ১. বলো, আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, ২. মানুষের অধীশ্বরের, ৩. মানুষের উপাস্যের, ৪. তার কুমন্ত্রণার অমঙ্গল হতে, ৫. যে সুযোগমত আসে ও সুযোগমত সরে পড়ে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, ৬. জিনের মধ্য থেকে বা মানুষের মধ্য থেকে। -কোরান শরীফ


Monday, October 13, 2025

কারাগারময় বাংলাদেশ!

সামরিক বাহিনীর যাদের প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এদের জন্য আলাদা জেলখানা স্থাপন করা হয়েছে। এ এক বিস্ময়!

এ সত্য, সরকার আইন কপচিয়ে এটা করেছে:

এখানে Prisions act 1894-এর ৩(বি) ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে। ভাবা যায়, আমাদের দেশে এখনও ১৩১ বছর, প্রায় ১৫০ বছর পুরনো আইনে দেশ চলে! একটা স্বাধীন দেশে এখনও ব্রিটিশদের আইনের বাইরে আমরা যেতে পারিনি! ব্রিটিশদের দেখলে এখনও যে আমরা প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলি না আমাদের এও এক বিরাট সাহস! আমাদের বাপ-দাদাদের পিঠে পা রেখে সাহেবরা ঘোড়ায় উঠত আর এখনও সাহেবদের আইন আমাদের মাথায়-মগজে! 

যাই হোক, এই আইনে যেটা বলা হচ্ছে:


"(b) Any place specially appointed by the Government under section 541..."

এবং ঝড়ের গতিতে রাষ্টপতি  আদেশ দিয়েছেন!
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ক্যান্টনমেন্ট-এর ভেতর একটি স্থাপনাকে কারাগার ঘোষণা করা হয়েছে!
যে মামলা নিয়ে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা সেটা কিন্তু সাধারণ কোন মামলা না, ৩টির মধ্যে ২টিই গুম সংক্রান্ত। সোজা ভাষায় বললে, খুনের মামলা—ভয়ংকর এক মানবতা বিরোধি অপরাধ! গুম নিয়ে যারা হাসাহাসি করেন, হালকা চালে দেখেন তারা গুম কমিশনের এই ডক্যুমেন্টারিটা দেখে নিলে ভাল করবেন। এরপরও কারো যদি হাসি আসে তাহলে সে একটা 'বাই বোর্ন শুয়োর'!

আমার স্বল্প জ্ঞানে যেটা বুঝি, যে সামরিক লোকজনের জন্য আলাদা কারাগার করা হলো তাদের বিচার কি সামরিক আইনে হচ্ছে? না!
আমরা চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য একটু শুনি:
যেহেতু এখানে কোর্ট-মার্শাল চলছে না—সরল প্রশ্ন, এই সামরিক লোকজনদেরকে কি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে? জাজ কি বলেছেন যে জামিন হবে, কি হবে না? জাজ কি বলেছেন, এরা কারাগারে যাবেন, কি যাবেন না? জাজ কি বলেছেন, কারাগার কি এদেশে হবে, নাকি অন্য দেশে? নাকি জাজ নিজেই ক্যান্টনমেন্টে চলে যাবেন বিচারপর্ব পরিচালনা করার জন্য?
আর্মি আইনে অবশ্য বলা আছে:
"... If the accused is in custody, then the investigation must be started within 48 hours from the time of his arrest excluding public holidays..." -(Army Act, Section 74)
এখানে যেহেতু আর্মির এই আইন অচল তাই চিফ প্রসিকিউটর প্রচলিত আইন থেকে যেটা বলছেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এটাই সঠিক। এর ব্যতয় হওয়ার তো কোন সুযোগ নাই। 
এখন সামরিক লোকজনদের জন্য যদি আলাদা কারাগার বানাবার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে সাবেক বিচারপতি, সাবেক সিইসি এদের জন্যও তো আলাদা কারাগারের আবশ্যকতা দেখা দেবে। তখন বিচারপতিদের জন্য হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে একটা কারাগার, মন্ত্রীদের জন্য মিন্টু রোডে একটা কারাগার আর 'কানকাটা রমজানের' জন্য কাশিমপুর কারাগার...।

কারাগারময় বাংলাদেশ! 

Saturday, August 2, 2025

এ এক অন্য রকম মব, কটুক্তির আড়ালে!

"কোথা থেকে এলো দেশে আজব এ- জীব
জ্বলজ্বল জ্বলে যার লকলকে জিভ
পড়শির পাড়া খাক, ঘরদোর ছাই
দেশজোড়া হাহাকার পালাই পালাই।
...পশুকীট রাজ্যে এর নাই পরিচয়:
দাংগাবাজ-কুজন্মের নতুন বিস্ময়!"        -সানাউল হক

Monday, June 23, 2025

মব জাস্টিস- 'ঢালি' ওরফে দুর্ভেদ্য ঢাল!

সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে আমাদের 'সো-কলড' জনতা বাসা থেকে কেবল টেনে-হিঁচড়ে নিয়েই আসেনি, গলায় জুতার মালা পরিয়েছে। গালে জুতা দিয়ে মেরেছে! তাও আবার পুুলিশের সামনে! এবং এদিকে আবার দেশে নাকি সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে আছে!

Friday, May 23, 2025

জ্ঞানের (গা...) নৌকা পাহাড়ে উঠে...!


শতবর্ষী একটা গাছ কেটে ফেলেছেন আমাদের আলেম সাহেবরা। অভিযোগ গুরুতর- জালেমরা এই গাছে জালেমগিরি করে!

Monday, October 28, 2024

Wednesday, April 3, 2024

ডিয়ার মামুনুর রশীদ, আপনার 'মননের দুর্ভিক্ষ'!

মামুনুর রশীদ 'রুচির দুর্ভিক্ষ' নিয়ে যে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা চালু ভাষায় 'ভাইরাল' হয়ে গেছে। এই যে ভাইরাল জিনিসটা বাজারে চালু হলো এটাও এক প্রকারের রুচির দুর্ভিক্ষ!

Thursday, September 10, 2020

ইউনিলিভার পিউরইটের আপত্তিকর বিজ্ঞাপন!

'পিউরইট' নামের একটি ব্রান্ডের ফিল্টার যা পানি বিশুদ্ধ করে, এটি ইউনিলিভার নামের বহুজাতিক কোম্পানি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বাংলাদেশেও বাজারজাত করে থাকে। এরা দাবী করে থাকে এদের পানি অমায়িক বিশুদ্ধ।

Monday, August 17, 2020

PRAN-RFL: দানব হয়ে উঠা!

প্রাণ গ্রুপ। বাংলাদেশের একটা কোম্পানি নিজেকে যে স্থানে নিয়ে গেছে এ এক অভূতপূর্ব! একটা ব্রান্ড দাঁড় করাতে যেখানে দম বেরিয়ে যায় সেখানে এদের ঠিক কতগুলো ব্রান্ড/প্রডাক্ট আছে তা আঙ্গুলে গুণে বের করা প্রায় অসম্ভব।

Saturday, June 27, 2020

আমাদের বাতিঘর- জাফর ইকবাল ভাজনেষু, 'দানবনেষু'!

কেউ-কেউ অন্য রকম ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নেন- অন্যরা চেষ্টা করলেই তা পান না। এমনই এক ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নিয়েছেন ড. জাফর ইকবাল। এ-ও ফের, ক্ষমতার ফের- কারও কিসসুটি করার নাই। গ্রামের একটা চালু কথা আছে।

Thursday, June 4, 2020

ওষুধ কোম্পানির এক মহান ফেরিওয়ালা!

চারদিক যখন আধারে ছেয়ে গেছে তখন আমাদেরকে থই থই আলো দেখাচ্ছেন প্রফেসর ডা. মো. রাশিদুল হাসান মহোদয়। তিনি এক অতি জরুরি ভিডিও বার্তায় আমাদেরকে জানাচ্ছেন, 'ভয় নাই উড়ে ভয় নাই,'।
তিনি দেশ করোনাশূন্য করে ফেলার দাওয়াই বাতলেছেন। কেমন করে? তিনি জানাচ্ছেন এই দেশের সবাইকে এখনই এই ওষুধগুলো খাইয়ে দিলে দেশ থেকে করোনা নানা-বাপ-চাচা বলে পালাবে।

Saturday, May 30, 2020

বোতলে ভুল ওষুধ!

অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আবদুল্লাহ মহোদয়ের নিকট সবিনয়ে প্রশ্ন, স্যার, আপনি মাইক্রেফোন টেস্টিং ওয়ান-টু-থ্রি বলা মাত্রই মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করে শব্দ উৎক্ষিপ্ত-বিক্ষিপ্ত-প্রক্ষিপ্ত করা শুরু করে দেন নাকি!
আহা, তার পূর্বে কী আপনি চোখ বুজে একটুও চিন্তা করেন না যে আপনার মত ডাক্তারদের হাতে আমাদের প্রাণ! এই গ্রহের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটাও আপনার মত ডাক্তারের সামনেই নগ্ন কাতর হয়ে শুয়ে থাকে, হাত-পা ছড়িয়ে। তখন তারচেয়ে অসহায় একটা পিঁপড়া-মাছিও না।

Wednesday, July 11, 2018

হাতুড়ি মানব!

আমরা, সাধারণ মানুষ যারা, তারা জীবন নামের একটা আলো-ছায়ার বৃত্তে আটকে অনবরত ঘুরপাক খাই। আমাদের মধ্যে থেকে কেউ-কেউ বৃত্তের বাইরে যেতে পারেন না বটে কিন্তু তাঁর একটা পা থাকে বৃত্তের বাইরে। এঁরাই আমাদের আলোর দিশারি। যাদের চালু নাম বুদ্ধিজীবী। কিন্তু আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী মহোদয়গণ এতোটাই আলোকিত হয়ে যান যে আমাদের চোখ ঝলসে যায়।

Sunday, April 29, 2018

'লেখুড়ে'।

নেপালে আমাদের বিমান মুখ থুবড়ে পড়ল। চোখের নিমিষেই নরক! বিমানের চারপাশ জুড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমাদেরই কারও-না-কারও স্বজনের চামড়া চড়চড় করে পুড়ছে, শ্বাসনালি পুড়ছে। আমাদের চারপাশে হু হু করে বাতাস বয় কিন্তু এই মানুষগুলোর গোটা শরীর জুড়ে অন্য ভুবনের কষ্ট- তাঁরা এক ফোঁটা বাতাসের জন্য হাহাকার করছেন।
পরে

Wednesday, June 1, 2016

আইন সবার জন্য সমান…!

ছবি সূত্র: প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬
ছবিটা, ভয়াবহ একটা ছবি! ছবিটা যে শারীরিক ভাবে অক্ষম একজন মানুষের ছবি এটা বোঝার জন্য এক পলকই যথেষ্ঠ। এই মানুষটাকে চুরির অভিযোগে ধরা হয়েছিল। আটক করা হয়েছে সত্য কিন্তু বমাল না, সন্দেহজনক মনে করায়। পুলিশ বাসা ধরে ধরে এনেছিল।
অবশ্য ৫২ বছর বয়স্ক খোকন গাজির স্বজনের অভিযোগ মিরপুরের দারোগা আরিফ হোসেন ১০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেছিলেন। পুলিশকে ২ হাজার টাকাও নাকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এই মানুষটাকে ছাড় দেয়নি। ওই দারোগা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় আসামি…’, ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই মানুষটিকে আদালতে হাজির করার সময় হাতে হাতকড়া পরানো ছিল তাই পত্রিকাটি ফলাও করে খবরটা ছাপিয়েছে। এটা একটা সুপ্রতিবেদন এতে কোনও সন্দেহ নেই। আচরণটা খুবই ন্যাক্কারজনক কিন্তু কনস্টেবল পদমর্যাদার একজন মানুষের কাছ থেকে [*] আমাদের খুব একটা আশা করারও কিছু নেই। অল্পশিক্ষিত এই পুলিশকে বলা হয়েছে আসামিদেরকে এমন করে নেবে সে এমন করেই নেয়। পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারা পড়ার সুযোগ কোথায় তার? আইনের কেতাবগুলো মুখস্ত করবে তার সে যোগ্যতাই বা কোথায়?

যাই হোক, এখানে পুলিশ খুব খারাপ কিন্তু সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এই মানুষটিকে যখন আদালতে হাজির করা হয় তখন খোকন গাজির আইনজীবী আদালতকে বলেন, “…মাননীয় আদালত, দেখুন, লোকটি পঙ্গু। একা চলাফেরা করতে পারেন না। সন্দেহজনক আসামি হিসাবে তাঁকে ধরা হয়েছে। তাকে জামিন দেওয়া হোক। জামিন না পেলে তিনি কারাগারে চরম সমস্যার সম্মুখীন হবেন…।" (প্রথম আলো, ২৫ মে ২০১৬)
শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম লস্কর সোহেল রানা এই মানুষটা জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। সোজা কথা, তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করেন যা কারাগারে নিক্ষেপ করারই সামিল।

আমাদের প্রচলিত আইনে আসামীকে ডকে-কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় সে যেই হোক না কেন। আইন বলে কথা- আইন সবার জন্য সমান। কিন্তু…ধরা যাক, একজনের কোমর থেকে দু-পা নেই সে দাঁড়াবে কেমন করে? এখানে বিচারকের ‘inherent power’ থাকা লাগে না- এখানে তাঁর প্রজ্ঞা, বিবেচনা বোধই যথেষ্ঠ।
জামিন প্রসঙ্গে ফৌজদারী কার্যবিধিতে কি বলা আছে? "ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৬: যে সকল ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে: জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তি কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে, বা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন। তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা হইবে না।"

"তবে আরও শর্ত থাকে যে, …" সেই শর্তের গভীরতা বাদ থাকুক বা বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছে এই প্রসঙ্গেও গেলাম না। ধরে নিলাম এটা জামিন অযোগ্য অপরাধ। সে ক্ষেত্রেও ধারা ৪৯৭-এ বলা হচ্ছে, “ফৌজদারী কার্যবিধি: ধারা ৪৯৭: যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে : (১) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে অথবা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইেত পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে উক্তরূপে দেওয়া যাইবে না। তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

এখানে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই যে খোকন গাজি নামের এই মানুষটা অক্ষম, শারীরিক ভাবে অক্ষম।

* Enamul Haque rabbi নামের কনস্টেবল পদমর্যাদারই একজন মানুষের আইন সম্বন্ধে জ্ঞান দেখে হাঁ হয়ে যাই মানুষটার জন্য টুপি খুলে অভিবাদন। এবং এমন করে লেখার জন্য লজ্জিতও হই, দুঃখপ্রকাশ করি! 
সূত্র: http://tinyurl.com/zyxrop4 

Saturday, April 18, 2015

ছেঁড়া চাদর এবং ‘মনোনীত সদস্য’।

এ বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘন্টার-পর-ঘন্টা ধরে যে ঘটনা ঘটল এটা নিয়ে গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নাই। কেবল অল্প কথায় বলি, আমাদের দাঁড়াবার আর জায়গা রইল না।
হালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাটা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। এখানে দিনদুপুরে চরম অশ্লীলতা করা যায়, সন্তানের সামনে মাকেও অপদস্ত করা যায় । চাপাতি দিয়ে কাউকে কুপিয়ে ফালা ফালা করা তো কোনও বিষয়ই না।

কালে কালে গালকাটা রমজান, পেটকাটা আবুল হবে এখানকার আসল কারিগর। এরা এদের চেলাচামুন্ডাদেরকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে নিয়ে আসবে হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। লাউয়ের উপর ব্লেড চালিয়ে পকেটকাটা বিভাগের প্রধান পকেটমারের সর্দার বাইট্টা ছগিরও পিছিয়ে থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সব এলাকাগুলো নাকি এমনিতেই নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে।সিসিটিভি নামের যে চোঙ্গাগুলো লাগানো থাকে এগুলো দিয়ে নাকি কাক-পক্ষীর গতিবিধি ধারণ করা হয়। বিশেষ-বিশেষ দিনে তো এই চাদর নাকি কয়েক স্তরের হয়ে যায়। 'এই চাদর দিয়ে মাথা ঢাকতে গিয়ে পেছনটা উদোম হয়ে যায়', এটা লিখতে পারলে আরাম পাওয়া যেত কিন্তু মাথা-পেছনটার (পাছা শব্দটা আমি এখানে লিখতে চাচ্ছি না) দোষ দেওয়াটা সমীচীন হবে না। দোষ বেচারা চাদরের। আহা, বেচারা চাদর- ছেঁড়া চাদর।

অনেকে আবার দোষ চাপাবার চেষ্টা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর যিনি পিতা, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের প্রতি। এই পুরো নামটা ‘আ আ ম স’ এটা ভুলে গেছি তবে দুষ্ট ছেলেরা যেটা বলে সেটা বিচিত্র কারণে মনে আছে। এখানে এটা উল্লেখ করাটা অসমীচীন মনে করছি।)।
জনাব, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সাহেবের প্রতি কারও অঙ্গুলি নির্দেশ করার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই, নিন্দা জ্ঞাপন করি। কারণ জনাব আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাহেবের দোষ দেওয়াটাও দোষ হবে। ওরে অবুঝ, প্রক্টর সাহেব দাবা খেলায় ব্যস্ত থাকেন কিন্তু আরেফিন সাহেব কী অবসর? বেচারা আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাহেবের কতো-কতো কাজ! যেমনটা আমরা দেখেছি তেলের খনি [১] থেকে তৈল উত্তোলনে তাঁর ব্যস্ততা। এটা তো ছোট্ট একটা উদাহরণ, এমন কত্তো কত্তো কাজ তাঁর...।

১. তেলের খনি: http://www.ali-mahmed.com/2012/04/blog-post.html