Search

Showing posts with label এলোমেলো ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label এলোমেলো ভাবনা. Show all posts

Sunday, May 17, 2009

দূর্লভ-পছন্দের, ছবি-চিত্রকলা


এগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা। তাঁর কিছু ছবি যা তা! তাকানো যায় না এমন! তবুও রবিদাদা বলে কথা! তিনি তো আর আঁকিয়ে না।




*ছবি ২টা নেয়া হয়েছে, পূবালী ব্যাংকের সৌজন্যে প্রকাশিত রবীন্দ্র-রচনাবলী(১৯৭৩), সপ্তম খন্ড থেকে।

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা এই আত্ম-প্রতিকৃতি, এটা দেখে আমি আক্ষরিকার্থেই মুগ্ধ! অসাধারণ!

*ছবিঋণ: ছবিটি আমি নিয়েছি প্রথম আলো থেকে। এরা কোত্থেকে নিয়েছেন এটার উল্লেখ নাই বিধায়, অনুমান করি, স্বয়ং রবিবাবু স্বহস্তে স্ক্যান করে প্রথম আলো অফিসে ইমেইল করে পাঠিয়েছেন। আশায় আছি, প্রথম আলো একদা রবীন্দ্র-সংগীতও রচনা করে ফেলবে।

......................................................



এখানে দক্ষযজ্ঞ বাঁধিয়ে দেয়া হয়েছে (প্রজাপতি দক্ষের যজ্ঞ অনুষ্ঠানে, স্বয়ং শিবও তার মৃত পত্মীর শব কাঁধে করে এহেন প্রলয়-নৃত্য করেন নাই)।
একজন শূণ্যে চেয়ার ধরে রাখো। ওয়ান-টু-থ্রি বললে পানিসহ তিনটা বেড়াল ছুঁড়ে মারো। ওয়ান-টু-থ্রি-ফোর বললেই দালি সাহেবকে লাফিয়ে উঠতে হবে। সে এক বিশাল কাহিনী...! সবই বুঝলাম।
(কিন্তু এই পৃথিবীটা যদি বেড়াল শাসন করত তাহলে এই উচ্ছ্বাসের ইতিহাসটা অনেকখানি অন্য রকম হত! মানুষের কী দশা হতো তা ভেবে গায়ে কাঁটা দেয়!)


“Dali Atomicus” by Philippe Halsman
Halsman set up his New York studio and using the 4 x 5 format, twin-lens reflex camera that he had designed in 1947, he prepared to capture one of his most memorable photographs. He suspended an easel, two paintings by Dali (one of which was “Leda Atomica”), and a stepping stool; had his wife, Yvonne, hold a chair in the air; on the count of three, his assistants threw three cats and a bucket of water into the air; and on the count of four, Dali jumped and Halsman snapped the picture. While his assistants mopped the floor and consoled the cats, Halsman went to the darkroom, developed the film, and reemerged to do it again. “Six hours and twenty-eight throws later, the result satisfied my striving for perfection,” wrote Halsman.


ছবি এবং তথ্যঋণ:
http://culturalshifts.com

Friday, June 29, 2007

এলোমেলো কথা: ১

আমার লেখালেখি বন্ধ ছিল লম্বা একটা সময়। অনেকদিন হলো সব ছেড়েছুড়ে চলে এসেছিলাম। কারণ তুচ্ছসব, প্রদীপের চকচকে আলোয় বনিবনা হচ্ছিল না, আমি ঠিক ওই জগতটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। এটা লেখা যাবে না, ওটা লেখা যাবে না- ফরমায়েশী লেখা লেখো। ফরমায়েশী লেখা হয়তো বিখ্যাত মানুষরা লিখতে পারেন- আমার দ্বারা ও কম্ম হয় না।
এখনই যদি আমাকে বলা হয়, নির্দিষ্ট একটা বিষয়ে লিখতে- এক লাইনও লিখতে পারব না। তাছাড়া আমার এক সময় মনে হলো, ধুর, লেখালেখি করে কী হবে- শুধু শুধু আবর্জনা বাড়িয়ে লাভ কী!

আজ আর ওই সোনালী, ধুসর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবি না, অবলীলায় সব ছেড়ে আসতে পেরেছিলাম। কারণ, আমার বড় মানুষ হওয়ার তেমন কোন উচ্চাশা ছিল না- ইস রে, এখন পর্যন্ত মানুষই হতে পারলাম না! আমার স্বপ্ন, চাওয়া খুব অল্প- সিম্পল খাবার, সিম্পল পোশাক- চলে যায়, সমস্যা হয় না।
এমনিতে গড়িয়ে যাওয়া পানিকে কে আটকাতে পেরেছে? পাখি ওড়ে যায় রেখে যায় পালক, মানুষ চলে যায় থেকে যায় স্মৃতি!

অনেকের কাছে বড্ড বাড়াবাড়ি হবে এটা শুনে, আমাকে যদি কেউ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশের নাগরিত্ব দেয়া হয়, নিশ্চিন্ত জীবন দেয়া হয় তবুও আমি দেশ ছেড়ে যাব না, কচ্ছপের মতো শেষ সময় পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকব! দেশের প্রতি ভালোবাসা-টাসা এসব জটিল কথা বুঝি না; আমি কুয়ার ব্যাঙ, কুয়াটাই আমার বড়ো প্রিয়। কে জানে, হয়তো আমার জেনেটিক কোডে কিছু সমস্যা আছে, সৃষ্টিকর্তা যখন বানাচ্ছিলেন তখন কোন বিচিত্র কারণে তাঁর তাড়া ছিল, নইলে তিনি ভেকেশনে ছিলেন ! জইতুনের তেল নাকে দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন না এই দিব্যিই বা কে দিয়েছে!

আরেকটা মজার কথা শেয়ার করি। আমি একটা ওয়েবসাইটে শুভ নামে দীর্ঘ ১ বছর লিখেছিলাম। ওখানে আমার প্রোফাইলে বয়স দেই নাই কিন্ত কিভাবে কিভাবে জানি ওই সাইটের অনেকের ধারণা হয়ে গিয়েছিল- শুভ নামের যে ব্ল­গার, এর বয়স খুব অল্প, পুতুপুত-আলাভোলা টাইপের একটা বালক। কী জানি, হয়তো আমার আচরণে বালকসুলভ কিছু ঝামেলা ছিল! এঁরা বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন, আমি খুব এনজয় করতাম। কারণ এর সঙ্গে মিশে ছিল নিখাদ ভালোবাসা। ভালবাসা তো পাগলও বোঝে! আমি হাসতাম। ভাগ্যিস, এরা আমার হাসিটা দেখতে পেতেন না।

আমি যখন ছাপার অক্ষরে লেখালেখি করতাম, অন্য জায়গায়, তখন পাঠকদের প্রতিক্রিয়া জানতে পারতাম না। কেউ হয়তো দয়া করে বলতেন, আরে তোমার তো একটা চিঠি আসছিল। দাঁড়াও খুঁজে দেখি; বলে তিনি ট্রাশ ক্যান হাতানো শুরু করতেন। আবধারিতভাবে, ওই চিঠি আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একটা চিঠি, একটা মন্তব্য যে কী অমূল্য এইসব ছাগলমানবরা কি করে বুঝবে। কিন্ত ওই ওয়েবসাইটে; ওখানে যেটা হত, লেখা পোস্ট করলেই একজন সঙ্গে সঙ্গে তার ভালোলাগা মন্দলাগা জানাতে পারতেন- অনেকটা টিভি নাটক আর মঞ্চ নাটকের মধ্যে পার্থক্যর মতো!

ওই সময় আমার বাংলা টাইপ খুব স্লো ছিল, এক আঙ্গুলে টাইপ করতাম! কিন্ত অনেকদিন এমন গেছে টাইপ করতে করতে ভোর হয়ে গেছে। ক্লান্তি আমায় ছুঁতে পারেনি, অনাবিল ভালোলাগা নিয়ে শুতে গেছি। ওখানে কেটেছে আমার সোনালী সময়- একেকটা মন্তব্য আমার কাছে মনে হতো একটা স্পর্শ ! 

আমার চেষ্টা থাকত, লেখার সূত্রগুলো নির্ভূল দেয়ার জন্যে। তারপরও একবার ভয়াবহ একটা ভুল হয়ে গেল- মুক্তিযুদ্ধের একটা ছবির জায়গায় অন্য একটা ছবি চলে গেল। আমি ভুল স্বীকার করে পোস্ট লিখেছিলাম। কিন্ত আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছিলাম, বুড়া শিয়াল যখন ফাঁদে পড়ে তখন মৃত্যু ভয়ের থেকে বেশী থাকে ফাঁদে পড়ার লজ্জা!

লিখতাম হাবিজাবি অনেক কিছু- লেখার কোন আগামাথা ছিল না! আমার পড়ার যেমন কোন ঠিক-ঠিকানা নাই, তেমনি নাই লেখারও। নাই গান শোনারও- রকওয়েলের নাইফ যেমন আলোড়িত করে, তেমনি মনটা অন্য রকম হয়ে যায় মমতাজের বুকটা ফাইটা যায় শুনে। যার কাছেই এটা বলেছি, তিনি ছি-ছি ছাড়া আর কোন শব্দ উচ্চারন করেননি। কী করব? ভালোলাগা, এটা তো আর আমার হাতে নাই! আগেও এবং ওই ব্লগেও কিছু লেখা যখন টাইপ করেছি, আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। হয়তো আমার মধ্যে আবেগ বেশী, যেটা থাকে কেবল কুকুরমানবের মধ্যে! হোক, কুকুরমানবই সই! আমি কুকুরমানব, কোন অসুবিধা?

ওই সাইটে আমি আরেকটা জিনিস লক্ষ করেছিলাম, অধিকাংশদের মধ্যেই সহিষ্ণুতা বড়ো অভাব- অন্যকে সহ্য করার প্রবণতা অল্প। কেউ ধর্ম নিয়ে লিখলেন তো সঙ্গে সঙ্গে কেউ ঝাপিয়ে পড়লেন। কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে লিখলেন, ব্যস, ফালাফালা করে ফেলা হলো! যেন ধর্ম একটা কাঁচের বাসন- হাত থেকে পড়ল আর খানখান হয়ে গেল!

ওই সাইটে এসে আমি অনেক কিছুই শিখেছিলাম। অনেকের মনন-প্রতিভা দেখে আমি বিস্মিত হতাম। অনেকের লেখার হাত আমি ঈর্ষা করতাম! কিন্তু অনেকেই তাঁদের মনন অনায়াসে অপচয় করতেন। তখন মনে হয়, তিনি আমাদের প্রতি কী অবিচারই না করছেন-
কেউ আত্মহত্যা করলে কার কি বলার আছে! এদের হাতে আছে লেজার গান অথচ গুলতি দিয়ে মারামারি করছেন।! আফসোস, বড়ই আফসোস!

আলকাতরার হালুয়া এবং বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া


প্রবাসীরা যখন রেসিপি নিয়ে পোস্ট দেন, আমরা বড়ই বিরক্ত হই। দেশে তো আমাদের প্রিয় মানুষ কেউ না কেউ আগুন ঝাল সালুনসহ ধোঁয়াওঠা এক গামলা ভাত এনে খাওয়ার জন্য মাথার দিব্যি দেন, প্রবাসীদের জন্য বসে থাকতে কার দায় পড়েছে। প্রবাসীদের এই আবেগ
আমাদের বুঝতে না পারাই কথা।
আমি এই পোস্টটা তাঁদের জন্য উৎসর্গ করি।

এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখিয়েছিল, একজন সেলিব্রেটি টাইপের মানুষ ডিম ভাজছেন। ইলেকট্রনিক মিডিয়া জাঁক করে এটা দেখিয়েছিল। আফসোস, আমি তো আর সেলিব্রেটি টাইপের কেউ না, অগাবগা টাইপের মানুষ। কিন্ত খোদা না খাস্তা আমাকে কোন দিন পাকড়াও করে বসলে আমার উপায় কি? ডিম ভাজাভাজি করে তো আর লাভ নাই, ওই মানুষটা বলে বসবেন আমাকে অনুকরণ করে রে। আচ্ছা, বাদাম ভাজলে কেমন হয় বা পানি গরম করলে? হবে না, না? তাইলে নতুন কোন রেসিপি ট্রাই করে দেখা যেতে পারে। রেসিপিটা আপনাদের বলিনি বুঝি।
আলকাতরার হালুয়া:
১. এক ডেগ আলকাতরা।
২. একটি হাতা।
৩. পরিমাণ অনুযায়ী আগুন।
৪. অন্তত একটি হাত (নিজের হলে ভাল হয়)। তো হয়ে যাক। নাড়তে থাকুন মনের আনন্দে।

ঘুটার পর ঘুটা। দে ঘুটা। নাড়তে থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত না জিসিটা রাবারের মতো হয়।
ব্যস। তো হয়ে যাক পার্টি। অনন্তকাল ধরে চিবুতে থাকা।

বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া:
১. এক প্যাকেট মেয়াদঅলা বিস্কুট। (লক্ষ রাখবেন বিস্কুটগুলো যেন ন্যাতানো না থাকে)।
২. একটি কাঠের হাতুরী (মাথায় বাড়ি দিলে মাথা ফাটবে না এমন)।
৩. একটি টেবিল চামুচ।
৪. ২টি হাত (১টি অন্যের হলে কাজ চালানো যাবে)। এবার বিস্কুটটিকে আলতো করে পিটিয়ে গুড়া করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিস্কুটগুলো গুড়া গুড়া টাইপের হয়। ব্যস। হয়ে গেল বিস্কুটের গুড়গুড়িয়া। এইবার চামচ দিয়ে খেতে থাকুন কপকপ করে। আর আরামসে ব্লগিং করুন। শাব্বা খায়ের।

*স্মতব্য: এর পরের দায়িত্ব আমার না

Thursday, June 28, 2007

ইলেকট্রনিক পত্রাঘাত: ১

হা হা হা। আমার সম্বন্ধে ভালো বলেছেন শিশুর মতো…হা হা হা? বেশ বলেছেন যা হোক। দুনিয়ায় আর লুক(!) পাইলেন না? শোনেন, আমারও আছে অনেক অন্ধকার দিক- আমার মধ্যেও লুকিয়ে আছে একটা শিশু এবং একটা পশু। শিশু এবং পশুটার মধ্যে মারামারি লেগেই আছে হরদম। কখনও এ জেতে, কখনও ও জেতে- এই হচ্ছে বাস্তব আবস্থা!

তবে এটা ঠিক আমি আমার পশুটার বিষয়ে সচেতন। যখন পশুটা বেরিয়ে আসে ভারী বিমর্ষ হয়ে যাই, নিজেকে তখন পোকা পোকা মনে হয়! নিজের চোখে চোখ রাখাই দায়! শোনেন, আমি জটিল কথা বুঝি না- বুঝি না আমার জ্ঞান বহির্ভূত কোন জ্ঞান। অল্প কথায় বুঝি, একজন মানুষ এই প্রকৃতিরই অংশ, জাঁক করে বলা চলে প্রকৃতির সন্তান। তো, একজন প্রকৃতির সন্তানের বিপুল ক্ষমতা। তার মতো করে অনায়াসে সাজিয়ে ফেলে প্রকৃতি এবং তার সহ-সন্তানদের।
দেখেন না, একজন পছন্দের মানুষ সামান্য একটু ছুঁয়ে দিলে আমূল পরিবর্তন হয়ে যায়, কেন? এর কিছু রহস্য আমরা জানি, অনেকাংশই জানি না। আবার কেউ কেউ অনেকাংশটা জানেন, অন্যরা জানেন না।

প্রাসঙ্গিক বিধায় একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি। একজন মানুষ যখন মারা যাচ্ছিল তখন আমার হাত ধরে ছিল। আমার চোখের ভাষা বুঝতে ওই মানুষটার কষ্ট হয়নি। পান্ডুর হাসি দিয়ে বলছিল, আপনার হাতটা ধরে থাকলে আমার মরতে ভয় করবে না। ভাবুন কী হাস্যকর কথা! ট্রাস্ট মী, মানুষটা বিনা যন্ত্রণায় মারা গেল। তার বিশ্বাস তাকে নিয়ে খেলেছে, তার মৃত্যু যন্ত্রণা কমিয়ে দিয়েছে! এখানে আসলে আমার কোন ভূমিকাই নাই।
আসলে ভাল মানুষদের… কোন প্রয়োজনই হয় না। কারণ, এই প্রকৃতির, প্রকৃতির সন্তানদের তাকে বড়ো প্রয়োজন। আপনি তো এমনিতেই প্রকৃতির জন্য মমতায় মাখামাখি হয়ে আছেন। আপনার আলাদা করে ক্রাচের প্রয়োজন আছে কী, বাডি?