Search

Showing posts with label থাকুম না আর এই দেশে. Show all posts
Showing posts with label থাকুম না আর এই দেশে. Show all posts

Thursday, November 25, 2010

এই তালার চাবি আপনার কাছে, প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতির বিষয়ে লিখেছিলাম, হাতের নাগালে পেলেই তাঁকে কদমবুসি করব [১]। কিন্তু এখন যেটা মনে আসছে সেটা হচ্ছে, কিছু দূর্লভ তালা আছে যে চাবির হদিস জানেন এমন মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত অল্প। প্রধান বিচারপতি সেই অল্প মানুষদের একজন!

অনুমান করি, ক্রসফায়ারের নামে কিছু মানুষ মেরেছেন (যদিও এটা তিনি স্বীকার করেন না, আমিও সরাসরি জিজ্ঞেস করি না) এমন একজনের সঙ্গে একবার কথা হচ্ছিল। আমি আমার বক্তব্যে অটল ছিলাম, কোন অবস্থাতেই ক্রসফায়ার নামের বিচার বহির্ভূত অন্যায় আমি মানি না [২]
তিনি দুঃখিত গলায় বলছিলেন, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আমরা একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ধরি। আপনি কি জানেন, কখনও কখনও কতোটা ঝুঁকি নিতে হয়? আজকাল এদের কাছে যেসব অস্ত্র থাকে এসবের অনেকগুলো আমরা চোখেও দেখিনি! আর এই অবস্থায় আমি মারা গেলে আমার পরিবারের দায়িত্ব কে নেবে, বলেন? কেন আমি প্রাণের ঝুঁকি নেব, দেশের জন্য? শুনতে ভাল লাগে কিন্তু আমার বউ-বাচ্চা রাস্তায় ভেসে যাবে এটা ভেবে আমার ভাল লাগে না। জানেন, আমি তো কোন উৎসাহ পাই না। আগে এই ভুলটা প্রায়ই করতাম। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে একেকজন দানবকে ধরতাম, এক সপ্তাহের মধ্যে জামিন নিয়ে হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসত। কী লাভ, বলেন!

ছবি ঋণ: এম সাদেক, প্রথম আলো
আমাদের বিচার ব্যবস্থার অবস্থা কী ভয়াবহ এর কতটুকুই বা আমরা জানি? এই একটা নমুনাই কি যথেষ্ঠ না। এরপর এই দেশে আর কোথাও দাঁড়াবার জায়গা আছে বলে তো আমার মনে হয় না! আজ কেউ আমাকে মেরে ফেললে আমি নিশ্চিত এক দিনের মধ্যে সেই মানুষটা জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে পরদিনই আমার সন্তানকে মারবে। এমনটাই হবে। তাহলে আর গণতন্ত্র-গণতন্ত্র বলে চেঁচিয়ে লাভ নাই, স্রেফ জঙ্গলতন্ত্র! জঙ্গলের আইন।

টিটুর বেরিয়ে আসতে লেগেছে দেড় মাস, আমার খুনি বিটু-ফিটুর লাগবে এক দিন। কারণ প্রিন্ট মিডিয়ায় অজস্র প্রমাণ থাকার পরও টিটু জামি পেয়েছে আর আমার মত অখ্যাত মানুষের অখ্যাত খুনির খবর কে রাখবে?
মিডিয়ায় অজস্র প্রমাণ থাকার পরও এবং জামিন দেয়া প্রসঙ্গে সরকারি ল-অফিসার (পিপি) মজিবুর রহমান বলেন, "কুমিল্লার অস্ত্রবাজির ঘটনা সারা দেশে আলোচিত হয়েছে। আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদেও। এ রকম ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন আসামি জামিন পেয়েছেন। আমার আপত্তি সত্ত্বেও মহামান্য আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা তো কোনো মন্তব্য করতে পারি না।" (প্রথম আলো, ২৫ নভেম্বর ২০১০)

মহামান্য আদালতের বিরুদ্ধে কেউই কোন মন্তব্য করতে পারছেন না কিন্তু মহামান্য আদালত তো ঈশ্বর না যে কোন ভুল করতে পারেন না। মহামান্য আদালত কেন এই সন্ত্রাসীকে জামিন দিলেন এই নিয়ে আমার জানার কৌতুহল হচ্ছে। কেউ এই কৌতুহল মেটাতে পারবেন এমন ভরসা নাই। পারলে পারবেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কাছে আমার অনুরোধ, এই মামলার বিস্তারিত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন। এমন একটা বহুল আলোচিত চরিত্রকে কেন জামিন দেয়া হলো সরকারি উকিলের তীব্র আপত্তি থাকার পরও! যিনি জামিন দিয়েছেন সেই বিচারককে জিজ্ঞেস করুন, লিখিত আকারে বিচার বিভাগকে অবগত করানোর জন্য আপনি উদ্যোগ নিন। এটা আপনিই পারেন, এই তালার চাবি কেবল আপনার কাছে। এই তালাবদ্ধ ঘরটা খোলা বড্ডো প্রয়োজন। সমস্ত আলো আটকে আছে ওই তালাবদ্ধ ঘরে...।

সহায়ক লিংক:
১. প্রধান বিচারপতি: http://www.ali-mahmed.com/2010/11/blog-post_13.html
২. ক্রসফায়ার: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_29.html   

Friday, October 30, 2009

হনুমানজীকে খুঁজছি হন্যে হয়ে

হোজ্জা সাহেবকে আমি বড় ইজ্জত দেই। মানুষটা প্রচলিত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতেন না। ' জারা হাটকে '- একটু অন্য রকম! গাধার পিঠে নাকি উল্টো করে বসতেন। 
এটা শুনেছি, হোজ্জা সাহেবের  সঙ্গে দেখা হয়নি বিধায় পুরোপুরি নিশ্চিত না। এও শুনেছি, গাধা এবং হোজ্জা সাহেবের গতি নিয়ে প্রায়শ ঝামেলা হতো। গাধা উইথ হোজ্জা সাহেব রওয়ানা দিলেন মরমর কোন রোগি দেখতে। হোজ্জা সাহেব এই রোগির চল্লিশায় গিয়ে পৌঁছে শোনেন, গাধা নাকি এখানে ৪০ দিন ধরে দিব্যি লেজ নাড়াচ্ছিল! দেখো দিকি কান্ড!
 

হোজ্জার মত ডন কুইক্সোট মানুষটাকেও আমি ভাল পাই। ইনিও নাকি তার ঘোড়া রোজিন্যান্টকে নিয়ে দাবড়ে বেড়াতেন- ফুল স্পিড আ্যাহেড, কিন্তু গতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতেন না।

ভূতের নাকি পা উল্টা থাকে, ডাঁহা মিথ্যা কথা; ভূত-সমাজ এটা স্বীকার যায় না। এমনিতে আমাদের পা উল্টা থাকে না কিন্তু হোজ্জার উল্টা বসা দেখে-দেখে আমরাও উল্টা হাঁটা রপ্ত করেছি। হোজ্জা-ডন কুইক্সোটদের দেখাদেখি আমরাও গতি নিয়ে মাথা ঘামানো বাদ দিয়েছি।

বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, "শীতকালে ঘড়ির কাঁটা পেছানো হবে না। ...আমাদের দেশে শীত ও গ্রীষ্মে সময়ের খুব একটা তারতম্য হয় না। ...গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ কতটা সাশ্রয় হয়েছে তা অনেকটা তুলনামূলক।"
"গ্রীষ্মে বিদ্যু কতটা সাশ্রয় হয়েছে তা অনেকটা তুলনামূলক।" তাঁর কথা সবই বুঝলাম কিন্তু এটা মাথার উপর দিয়ে গেল, কার গায়ে লাগল তাতে আমার কী!

শীতে আমাদের এখানে সূর্য-বাবাজী সকাল ৭ ঘটিকায়ও তশরিফ আনেন বলে তো আমার মনে হয় না। এতেই নাকি সূর্য-বাবাজীর বড়ো তকলীফ হয়! এখন একই সময়ে ভোর ৬ ঘটিকায় সূর্য-বাবাজীকে 'হুকুম তামিল কিয়া যায়ে'- তশরিফ আনতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেছেন, হুশ-হুশ, ডিজিটাল ঘড়ি দূরের কথা আমি কোন ঘড়িই হাতে দেই না।

সামনাসামনি কথা বললে হয়তো রাজি করানোর একটা চেষ্টা করা যেত। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে সূর্য-বাবাজীর কাছে কেউ যেতে চাচ্ছে না।

আমি হন্যে হয়ে হনুমানজীকে খুঁজছি। দেখি তাঁকে বলে-কয়ে বাগে আনা যায় কিনা।
শীতে হনুমানজী ১ ঘন্টা ধরে বগলে সূর্য চেপে বসে পা নাচালেন, আমরা না-হয় তাঁর পা চেপে ধরে বসেই রইলুম। 
কী আর করা, সবই তাঁদের ইচ্ছা, এই-ই আমাদের কর্মফল! ভলতেয়ারের সেই কথাটাই আউড়াতে হয়, 'কোন দেশের নিয়তি নির্ভর করে সেই দেশের চালক কতটুকু পেটের পীড়াগ্রস্থ তার উপর'।
ভলতেয়ার সার সমস্যা তুলে ধরেছেন কিন্তু সমাধান বাতলে না-দিয়ে সটকে পড়েছেন। সার এসে পড়ার পূর্বেই দেশচালকদের জন্য বেলের শরবত... 'পেশ কিয়া যায়ে' বলে আমিও 'বাল্লে-বাল্লে' পগার পার হই।

Sunday, May 24, 2009

তালেবানদের কী দোষ?

তালেবানদের নিয়ে আমরা খামাখাই কালির অপচয়, হালের কী-বোর্ড নিয়ে ধস্তাধস্তি করি! হুদাহুদি!
দেশে এমন ঘটনা অতীতে আমরা পড়েছি, এখনও পড়ি, ভবিষ্যতেও পড়ব। ইনশাল্লাহ।

'বাংলা হবে আফগান' এই শ্লোগান যারা দেয় এরা আস্ত নির্বোধ। বাংলা আফগান হবে কেন? বাংলা তো আফগান হয়েই আছে। আমি তো বলব, ছাড়িয়ে গেছে।

দাউদকান্দিতে এক মেয়েকে ৩৯টি দোররা মারা হয়েছে। আমি নিশ্চিত না, দোররা মারার কথা কী ৩৯, না ১০০? ১০০ হয়ে থাকলে এটা অনুচিত হয়েছে। কেবল ৩৯টা মেরেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

যাক গে, এখন এইসব খবর আমাদের তেমন বিচলিত করে না। বিচলিত হচ্ছি অন্য কারণে। ওসি সাহেবের বক্তব্য নিয়ে আমার কিছু কথা আছে।
দাউদকান্দি থানার ওসি সাহেব বলেছেন (ইনাদের নাকি এখন প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হবে), "বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে"। (আব্দুর রহমার ঢালী, প্রথম আলো, ২৪.০৫.০৯)

পুলিশের জানা ছিল না! না-জানলে কী আর করা। আসলে আমরা সবাই ভুল রোলে অভিনয় করছি। এই সাংবাদিকের হওয়া প্রয়োজন ছিল পুলিশের কর্মকর্তা অথচ বেচারা হলো সাংবাদিক। কী আর করা, এইই আল্লার দুনিয়ার বিচার!

বেশ, যা হোক। কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে (সেটা মেটাল না চামড়ার সেই তর্কে যাচ্ছি না) প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, কাউকে আহত করে, অপদস্ত করে, আর কেউ যদি অভিযোগ না করে, তাহলে দেখছি আইনের কোন সমস্যা নাই। বাহ, বেশ তো। আমিও ভাবছি, কোন একটা অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ব। যাকে সামনে পাব তাকেই আল্লাহু আকবর। এবং আমি অবশ্য এও লক্ষ রাখব, অভিযোগ করার জন্য যেন সংশ্লিষ্ট কেউ বেঁচে না থাকে।

Monday, April 27, 2009

চাল না গান, বিদ্যুৎ না গণতন্ত্র?

 
অমৃত বচন। "...আগামী অন্তত ৩ বছরে এ যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।"
(সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ১৫ মে ’০৬)

কেয়ারটেকার সরকার মহোদয়রা তো এই দেশের কোন বিষয় নাই যেটায় হাত দেন নাই। হর্সমাউথ- একজন উপদেষ্টা তো মুখ যে হাঁ করে রাখতেন, আর বন্ধ করতেন না। ২৪ ঘন্টাই মুখ চালু। আই বেট, ঘুমের সময়ও তার মুখ চলত, মিডিয়া থাকত না, এই যা!
তো, এরা বিদ্যুৎ নিয়ে কী ঘন্টাটা করেছেন?

টাকার সমস্যা? এই যে হাজার কোটি টাকা দুই-নম্বরিদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল, কাজে লাগানো হল না কেন? বগলে চেপে রাখা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এটা আছে, খুঁজে পাননি বুঝি?

এখন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক ডিজিটাল মন্তব্য করেছেন, "ঘূর্ণিঝড় নার্গিসকে যেমন নিয়ন্ত্রন করা যায় না, টর্নেডো, সুনামি, যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তেমনি বিদ্যমান বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।"
(প্রথম আলো, ২৩.০৪.০৯)

ডেসকো, ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের উত্তর আরও ডিজিটাল, "বৃষ্টি হলে গরম কমে যাবে। গরম কমে গেলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। তখন গভীর রাতে লোডশেডিং থাকবে না।"

সমস্যা হয়ে গেল। বৃষ্টি নামানো তো চাট্টিখানি কথা না। এজন্য এরশাদ সাহেবের সাহায্য নিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, "পৃথিবীতে কোন রাষ্ট্রপতির প্রার্থনায় বৃষ্টি হয়েছে? আমি এরশাদের প্রার্থনায়।"

সমস্যাটা হচ্ছে, লক্ষ করুন, কোন রাষ্ট্রপ্রধান? কেবল এরশাদ বললে সমস্যা ছিল না। পায়ে ধরে নিয়ে আসতাম। কিন্তু এই জন্য যদি উনাকে রাষ্ট্রপ্রধান বানাতে হয়, তাহলে তো মুশকিল। জিল্লুর সাহেব কী রাজি হবেন?

সবাই দেখি প্রকৃতির দোহাই দিচ্ছেন। ঘুরিয়ে বললে যার যার স্রষ্টার কাছে কাজটা গছিয়ে দিচ্ছেন। বাহ, বেশ তো! এমনিতে তো সদম্ভে বলেন, এই ব্রীজ, রাস্তা আমি করেছি!

বিদ্যুৎ নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন, কত টাকা লাগে এ সমস্যার সমাধান করতে? স্যাররা হয়তো বলবেন, মিয়া, একশতে কয় কুড়িতে হয় তাই আঙ্গুল গুনে বের করতে পারো না, তোমরা কি বুঝবা এতো বড়ো হিসাব!
ফাইন, চাঁদে যেতে পারব, কি পারব না; সে তো অন্য কথা। কিন্তু চাঁদ কত দূরে জানতে তো দোষ নাই!
আমাদের ঠিক ঠিক বলুন না, কত টাকা লাগে? কোত্থেকে টাকা আসবে তাও বাতলে দেব কিন্তু দয়া করে বলুনই না কত টাকা লাগবে? অন্তত এটা আমাদের জানতে তো দোষ নাই।
২৫ এপ্রিল, ২০০৯-এ বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ৯৫৫ মেগাওয়াট। টাকার হিসাবটা বের করা জটিল কিছু না।

সময়? তাও বলুন। আমাদের প্রয়োজন বিদ্যুৎ। দেশে এই সম্বন্ধে ভাল জ্ঞান যার, তাঁর সঙ্গে বসুন। তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, চটজলদি এই সমস্যা সমাধানে পৃথিবীর কোন প্রান্ত থেকে কোন মানুষটাকে উড়িয়ে নিয়ে আসতে হবে। ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাসিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে আসবেন, নাকি উড়িয়ে এতো জেনে তো আমাদের কাজ নাই। আমাদের প্রয়োজন বিদ্যুৎ।

কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে কেউ পরিষ্কার করে বলছে না। আমরা চুতিয়া জনগণ জানতেও পারছি না।

আচ্ছা, পাওয়ার না থাকলে সমস্যা কি? আমার মতো তেলিবেলি লেখক অন-লাইনে থাকতে না পেরে, কিছু এলেবেলে লেখা পোস্ট করতে না পেরে, রাগের মাথায় ছেঁড়া চটি দিয়ে কম্পিউটারকে দু চার ঘা মারব? বেচারা কম্পিউটার, নিরীহ জান! এতো জুতা খায় কিন্তু কোন বিকার নাই!

একটা মানুষ রাতে ৬ ঘন্টাও ঘুমাতে পারছে না। দেশ চলছে কেমন করে আল্লা মালুম!
লাগবেন বাজি? এই দেশের মানুষকে এই গ্রহের ভেতর-বাইরে যেখানেই নিয়ে যান, কোন অবস্থাতেই এরা মরবে না। কচ্ছপের মত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে। তবে ঘটা করে ভোট দিতে যাবে। আর নেতা-নেত্রীর জন্য হাসতে হাসতে প্রাণটা খুইয়ে আসবে।

এই যে লোকজনরা রাতে ৬ ঘন্টাও ঘুমাতে পারছে না, এর ফল কী দাঁড়াবে? এটা মনোবিদ, চিকিৎসাবিদ ভাল বলতে পারবেন। খানিকটা অনুমান করলে তো দোষ নাই।
কে জানে, আগামীতে এটা হয়তো গবেষণা করে বের করা হবে। এই সময়ে (সময়টার বিস্তারিত ব্যাখ্যা বুদ্ধিমান পাঠককে আগ বাড়িয়ে বলতে চাচ্ছি না) দিনের পর দিন ঘুমাতে না-পারা, চিড়চিড়ে-খিটখিটে, বাবা-মার রোপন করা সন্তানগুলো একেকটা চরম অশিষ্ট-দুর্বিনীত হয়ে জন্ম নেবে। তুচ্ছ কথায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ঠা ঠা করে গুলি চালিয়ে নিরীহ মানুষদের চু্ইংগাম চিবুতে চিবুতে মেরে ফেরবে।

কেন বাপু, এটাও তো গবেষণার মাধ্যমেই বের করা হয়েছে, বয়স্ক বাবার সন্তান হাবলা হয়। তাহলে এটা হতে দোষ কোথায়?

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বিদ্যুৎচালিত কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র-লাইফ সেভিং মেশিনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিকল্প জেনারেটরে তেল না থাকার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে যাদের মৃত্যু হয় এই মৃত্যু, খুনগুলো বিচার হবে না?
বার্ন ইউনিটের যেসব রোগির শরীর ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে, বিদ্যুতের অভাবে যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রগুলো একেক করে বন্ধ হয়ে যায়। তখন সেইসব রোগীর কষ্ট দেখে একজন ডাক্তার চোখের পানি লুকিয়ে বলেছিলেন, ইচ্ছা করে এদের বিষাক্ত ইন্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলি।

কেউ যদি দোয়া-বদদোয়ায় বিশ্বাস করে তাহলে সে যতবার হজ করুক আর উমরাহ, লাভ কী! ওই রোগীদের ভেতরের হাহাকার-জান্তব কষ্ট এঁদের পিছু ছাড়বে না, নরক অবধি।

গান ভাল জিনিস তবে ঘরে চাল না থাকলে গান কোন কাজের? গণতন্ত্র কাজের জিনিস তবে বিদ্যুৎ না থাকলে এই গণতন্ত্র ধুয়ে ধুয়ে খাওয়ার উপায় নেই। এমতাবস্থায় আমার গণতন্ত্রের চেয়ে বিদ্যুৎ-এর প্রয়োজনই বেশি।
 

*কার্টুনঋণ: শিশিরের ছাপ আছে।

Tuesday, March 3, 2009

শেকলগুলো ভেঙ্গে পড়ছে একেক করে

'মা হাতি'-তে লিখেছিলাম, 'মানুষদের বড় মজা, এরা ইচ্ছা করলেই মানুষ থেকে চট করে অমানুষ হয়ে যায়। পশুদের বড় কষ্ট, এরা না হতে পারে মানুষ, না হতে পারে পুরোপুরি পশু'।

ঠিক কোথায় লিখেছিলাম মনে পড়ছে না। কথাটা ছিল এমন:
'আমাদের প্রত্যেকের ভেতর বাস করে একটা শিশু এবং একটা পশু। হরদম এদের মধ্যে মারামারি লেগেই আছে। পৃথিবীর সব মহামানবদের একটাই চেষ্টা থাকে এই পশুটাকে বের হতে না দেয়ার যথাসম্ভব চেষ্টা, জিততে না দেয়া'।
বিভিন্ন পদের শেকল এই পশুটাকে আটকাবার জন্য- একেকজনের জন্য একেক পদের শেকল। কারও জন্য শিক্ষা-ধর্ম-প্রিয়মানুষ-সামাজিক মর্যাদা; যার জন্য যে শেকল খাপ খায়।
'সামরিক মানুষ' নামের মানুষগুলোকে কেবল খুনই করা হয়নি। বীভত্স করা হয়েছে, স্যুয়েরেজ লাইনে ফেলে দেয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এমন কোন অন্যায় নাই যা করা হয়নি। কেন? এর উত্তর খুঁজছি। কেন এমনটা হল? আমরা কী দিনে দিনে আরও পশু হচ্ছি। ক্যু, অন্য মৃত্যুর নামে আমরা অনেক মেধাবি টগবগে যুবককে দেখেছি লাশ হয়ে যেতে। সব ঘটনা আমরা জানি না। সেগুলোও কম রোমহর্ষক ছিল না কিন্তু এমনটা হয়নি। মৃতদেহকে এমন অসম্মান করা হয়নি। জানি না, মনোবিদরা এর উত্তর ভাল বলতে পারবেন।

আমার অল্প জ্ঞানে খানিকটা বুঝি। আফসোস, এই দেশে যখন একজন মানুষকে ১৪৯ টুকরা করা হয় তখন আমরা অপরাধিকে সময়মত ধরতে পারি না। আমাদের চৌকশ মনোবিদদের দিয়ে ওই মানুষটার মস্তিষ্ক খুঁটে খুঁটে দেখা হয় না কেন এই মানুষটা এমনটা করল- তার শৈশব, শিক্ষায় কী গলদ ছিল? আহারে দরিদ্র দেশ- আমাদের ভাবনাগুলোও দরিদ্র হবে এ আর বিচিত্র কী!

যে পশুমানবরা একটি শিশুকে (খোদেজা) পৃথিবীর চরম নির্যাতন করে মেরে ফেলে এবং তার জানাজায় অংশগ্রহনও করে; প্রচলিত আইনের বিচারে ওই পশুমানবের ফাঁসি হয়। কিন্তু এই মানুষগুলো কেন এমন করল এটা জানার অবকাশ আমাদের কই! আহারে, দরিদ্র দেশ- সময় কই আমাদের?

ফাঁসির আসামি প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেয়ে যান, নির্বাচন করেন। আমরা গিয়ে ঘটা করে আবার তাকে ভোট দেই! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ছাত্র অন্য ছাত্রকে গুলি করে মেরে ফেলে, কাটা কব্জি নিয়ে উল্লাস করে। আমরা বিভিন্ন রং গায়ে মেখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ বছরে ৭৪টি হত্যাকান্ড হয়েছে। মাত্র একটির সাজা হয়েছে, জরিমানা ১০ টাকা। ওই আগের কথাটাই বলি, লাগাবেন ধুতুরা গাছ, ধুতুরা ধরবে না কেন?

অন্য প্রসঙ্গ। জাস্ট রুপকার্থে বলছি, আমাদের শিক্ষায় আসলে গলদ আছে। আজকের শিক্ষাই আগামিতে যা হওয়ার তাই-ই হয়, ধুতুরা গাছে ধুতুরাই ধরে!
'চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ৪/৫ তারিখের ফাইনাল পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে কারণ একজন প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি থাকবেন বলে। আরেক মহোদয় উপাচার্য অধ্যাপক সাহেব আবার ঘটা করে জানিয়েছেন, 'মন্ত্রী মহোদয় ব্যস্ত থাকায় পরীক্ষা পেছানো হল'। (প্রথম আলো, ০২.০৩.০৯)
তো, এই উপাচার্য মহোদয় যা শেখাবেন হাজার-হাজার ছাত্র তাই শিখবে! এই ছাত্ররাই পরবর্তিতে বিভিন্ন মহোদয় হবেন। আমাদের মাথার উপর বনবন করে ছড়ি নাচাবেন এবং আরও বিচিত্রসব ঘটনার জন্ম দেবেন। তখন এ নিয়ে অবাক হয়ে নির্বোধের মত কেন প্রশ্ন করা হবে?
আজব দেশ, শিক্ষকদেরও দল আছে লাল দল নীল দল, সাদা দল! মুসুল্লিরা যখন জুতাজুতি করেন আমরা আবাক হই কেন, এদের দল থাকতে নেই বুঝি? কমলা দল, কালো দল...!

তবলার ঠুকঠাক থাকুক। আমার চোখে এখনও ভাসে সেই ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক গুলজার উদ্দিন আহমেদ নামের মানুষটার দুর্ধর্ষতা, বিচক্ষণতা- যিনি ছিলেন একাই একশ। শায়েখ আ. রহমান, সানিসহ অজস্র দানবকে হাড়ে-হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আইনের হাত কত লম্বা। সাধারণ সৈনিকের পাশে দাঁড়িয়ে সিংহাবলোকনন্যায় লড়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহও হয়নি বিডিআরে জয়েন করেছেন। এই মানুষটা কী অপরাধ ছিল?
এমন একটা মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও তৈরি করা যায় না! এই মানুষটা যখন ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য হাহাকার করছিলেন তখন বুঝতে হবে প্রলয় চলে এসেছে। বারবার বলা হচ্ছিল সাহায্য আসছে।
এটা আমরা বেসামরিক মানুষদের বুঝতে বেগ পেতে হয় বৈকি। ধারেকাছেও হবে না তবুও বেসামরিক একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করি, একজন অসম্ভব মর্যাদাবান মানুষ যখন পেটের ক্ষিদায় হাত পাতে তখন কেমন লাগে?

টক-শোতে ধোঁয়া উঠা কাপে চুমুক দিতে দিতে অনেকের অনেক কপচানি শুনেছি, লম্বা লম্বা বাতচিত। কিন্তু ২৫ তারিখে কেউ বলছেন না ভেতরের এত আর্মি অফিসারদের কী অবস্থা! এতসব বিবেক-জাগানিয়া মানুষরা কেমন করে এটা বিস্মৃত হলেন! আহা, শোককে যে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত শুনতে বেশ লাগে!

একজন বললেন, আর্মির নাকি ২ ঘন্টা সময় লাগত পৌঁছতে। আমি সামরিক বিশেষজ্ঞ নই কিন্তু অল্প জ্ঞানে যা বুঝি, এত সময় লাগলে সশস্ত্রবাহিনী থাকার আবশ্যকতা কী! বিমানবাহিনির ব্যাক-আপ ছিল না? এইসব বাদ দিলেও কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা হবে না কখনও!
১. সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা বা এভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ভেতরের আসল তথ্য জানা ছিল কী বা জানানো হয়েছিল কী?
২. ক্ষমা ঘোষণার সময় বা পরে জানতে চাওয়া হয়েছিল কী অফিসাররা কোথায়?
৩. অস্ত্র জমা হওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হল না কেন?
৪. অস্ত্রগুলো কে জমা নেবে, হিসাব মেলাবে? এটা ঠিক করা হয়েছিল কী?
৫. পাওয়ার ছিল না কেন? প্রয়োজনে সমস্ত দেশ অন্ধকার রেখেও আলোর ব্যবস্থা করা হল না কেন? বা বিকল্প চিন্তা মাথায় আসেনি কেন? জেনারেটর দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকা আলোকিত করে রাখা জটিল কোন বিষয় ছিল না!
৬. এতগুলো মানুষ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল কেন? সমস্ত এলাকা কর্ডন করে রাখা হল না কেন? আমি শপথ করে বলতে পারি, যেসব অস্ত্র খোয়া গেছে তার সবগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। প্রকারন্তরে আমরা অরক্ষিত হয়ে গেলাম।
অনেক প্রশ্ন কিন্তু উত্তর নাই।

যাই হোক, আজ মানুষ হিসাবে নিজেকে আমার বড় পোকা-পোকা মনে হচ্ছে।
সেনাবাহিনির এতসব চৌকশ মানুষ, তাদের প্রিয়মানুষরা আজ চরম দুর্দশায় এতে অনেকে উল্লসিত হয় কেমন করে! অনেককে দেখছি তিনি সদম্ভে ঘোষনা দিচ্ছেন, আমি শোকাহত না। পিএইচডি করা একজন বলছেন, এরা টাকা লোপাট করেছে।
বাহ, বেশ তো! লোপাট করে থাকলে তার বিচার চান কিন্তু এখনকার এই নৃশংস খুনের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?


আসলে সামরিক মানুষদের প্রতি বেসামরিক মানুষদের ক্ষোভের উত্স কোথায় এটা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে আজ। কারণ আমি তাঁদের এমন চরম বিপর্যয়ে তাঁদের নিয়ে যেসব মন্তব্য শুনেছি, পড়েছি আমাকে ভাবাচ্ছে, মানুষ হিসাবে নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে।
আমি অতশত বুঝি না। যেসব বেসামরিক মানুষ, বিডিআরের নিদোর্ষ সৈনিক, সামরিক অফিসার সবার জন্যই কাঁদব (মৃত বুড়া রিকশাওয়ালাটার জন্যও)- সবার জন্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব, এর ব্যতয় হবে কেন! এই কান্নাটা কী সামরিক না বেসামরিক এটা বিচার করতে যাব কেন?

এমনিতে আমরা বেসামরিক মানুষদের বেশ মজা। নিজেদের কোন বিপদ দেখলেই আর্মি ডাকি। নির্বাচন হবে, ত্রাণ দিতে হবে, ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে হবে, বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষ উদ্ধার করতে হবে, কাউকে টাইট দিতে হবে; 'বোলাও আর্মি'। অপ্রতুল ত্রাণ, কেউ ত্রাণ পেল না তো কষে গালি দাও আর্মিকে। আমারা ভুল-ভাল গাড়ি চালাচ্ছি, আর্মি আটকে দিল; ব্যস। আচ্ছা করে গোটা আর্মিকে উদ্ধার কর। নির্বাচনে ব্যালট বক্স লুট হবে আর আর্মি তো আর বসে বসে চুইংগাম চিবুবে না।

পাশাপাশি এদের কী বাড়াবাড়ি নাই। যে আর্মি নামের মানুষটা কেবল হেলমেট না-থাকার কারণে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে যে স্বামীটিকে কান ধরে উঠবস করিয়েছেলেন তিনি যে কী অপুরণীয় ক্ষতি করেছিলেন এটা বোঝার মত ক্ষমতা যদি এদের থাকত! আমার স্পষ্ট মনে আছে, অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় ফুল হাতা শার্ট গুটিয়ে রাখা যেত না
- কেউ তার নিজের দোকানে পা তুলে বসতে পারত না। তো, এইসব অতিশয়োক্তি করে দুরত্বটা বাড়েই কেবল। এও ক্ষোভ আছে, আদিবাসিসহ অনেকের মৃত্যু নিয়ে অস্পষ্টতা, যা অনেকের মনে আঁচড় কেটে আছে।

কিন্তু এঁদের কাছ থেকে আমাদের কী কিছুই শেখার নাই? শিখতে চাইলে অনেক কিছু থেকেই শেখা যায়। ছবিটা একটু ভাল করে লক্ষ করুন, প্রধানমন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানের পেছনে বসার অতি সাধারণ চেয়ারগুলো দেখুন!
অথচ সাধারণ আমলাদেরও দেখেছি রাজকীয় চেয়ার না হলে পশ্চাদদেশ আরাম পায় না।

কাল সামরিক বাহিনির জানাজায় শুনলাম, মাওলানা সাহেবকে বলা হচ্ছে, ধর্মিয় শিক্ষক। মেসেজটা পরিষ্কার; ধর্মিয় বিষয়ে তিনি টিচার, অতি সম্মানিত এবং এই বিষয়ে চিফ।
আমার জানামতে, সামরিক বাহিনিই একমাত্র বাহিনি যাদের শপথ নিতে হয় কোরান ছুঁয়ে। আকাশ-পানি-পাতাল যেকোন জায়গায় প্রয়োজনে যেতে হবে তাকে, ভাবাভাবি একপাশে সরিয়ে রেখে।

সেনানিবাসে মেন্যু সবার জন্য এক।
এখান থেকে কী আমাদের শেখার কিছু নেই? সিপাহি যা খাবে সেনাপ্রধানও তাই। যেদিন খিচুরি রান্না হবে সেদিন সবার জন্যই খিচুরি- কারও গেস্ট থাকলে তাকেও তাই দেয়া হবে। আপনি যদি মনে করেন, আপনার গেস্টকে তা খেতে দেবেন না তাহলে বাইরে থেকে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।
আমার ধারণা, এই উদ্ধারকাজ আরেকটু সহনীয়ভাবে করা প্রয়োজন ছিল এবং তামাশা দেখার জন্য লোকজনদের সরিয়ে দেয়া জরুরি ছিল, ছবি তোলার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করাও দরকার ছিল। যেসব ছবি ছাপা হয়েছে, ওয়েবে এসেছে এগুলো দেখার আগে মরে যেতে ইচ্ছা করে। মনে মনে বলি, হে প্রভু, কেন এমন গরিব দেশে গরীব রুচি নিয়ে জন্ম নিলাম! হটেনড জাতি হলেই বা কী দোষ ছিল- পরাজিত শত্রুর মাংস খেতে খেতে আলোচনা করতাম, মাংসটা ভালভাবে রান্না হয়নি।

শিক্ষাটা খুব জরুরি। সেটা বাংলা-ফার্সি-আরবি সেই কুতর্কে যাই না। এই ছবিটা দেখুন।
এখানে আমাদের দেশের চিকিত্সা বিভাগের তাবড় তাবড় সব পরফেসর(!) সাহেবরা রয়েছেন। এদের চকচকে জুতা আর এই বিবর্ন হাড়গুলোর মধ্যে কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখি- চকচকে জুতাই 'দৃষ্টিনরম'-'চোখআরাম'! এই হাড়গুলো কিন্তু কুকুর বেড়ালের না, একজন মানুষের। বিস্তারিত বলে সময় নষ্ট করি না। বিস্তারিত এখানে:
লিংক:

মৃতদেহের প্রতি সম্মান করা আমরা শিখব কেমন করে? যে হিংস্রতার সঙ্গে মানুষগুলোর ছবি দেখানো হয়েছে। আজ অমর্যাদার সঙ্গে যে সামরিক মানুষটার বুটসহ পা অনাবশ্যক জোরে টানতে গিয়ে মাংসসহ বুটটা খুলে এসেছে, এই মানুষটাই মাইলের-পর-মাইল হেঁটেছেন এই বুট দিয়ে। ট্রেনিং-এর সময় একজন সৈনিকের চেয়ে অফিসারকে হাঁটতে-দৌড়াতে হয় বেশি। সহজ যুক্তি, অফিসার নিজে ফিট না থাকলে সৈনিককে ফিট রাখবেন কেমন করে।
আমার বুকের ভেতর থেকে অজানা কষ্ট পাক খেয়ে উঠে, কত কষ্টসাধ্য ট্রেনিং। অসহনীয় তীব্র শীতে হয়তো এই অফিসার ক্লান্তিতে শুয়ে পড়েছেন কোন এক খড়ের গাদায়। ভোরে কৃষক দেখে কী অবাকই না হয়, অরি আল্লা, 'আমরি (আর্মি) দেখি; আহারে, কার না কার ছেইলা (ছেলে)'। কৃষকের মনটা অন্য রকম হয়- কৃষক হলে বাবার অনুভূতি থাকতে নেই বুঝি।
কৃষকটা এক খাবলা সরষের তেল নিয়ে আসে; মায়া-মায়া গলায় বলেন, বুকে ভালা কইরা মালিশ করেন, ঠান্ডা লাগব।


ফ্রিডমে Martin Niemoller-এর ধার করা কথাটা শেয়ার করেছিলাম, আবারও করি:
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists.
I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me".

আমার শেকলগুলো ভাঙ্গছে একেক করে- আমিও তো এই কালচারেই বড় হয়ে উঠা মানুষ।
আসল পশুটা তো থেকে যায় সব আইনের বাইরে, তার কেশাগ্র স্পর্শ করার ক্ষমতাও কারও নাই। সেই পশুটা ঘাপটি মেরে বসে থাকে পরবর্তি শিকারের অপেক্ষায়। তার পরবর্তি শিকার যে আমি নিজেই না তার কী নিশ্চয়তা আছে? সত্রাসে থেকেও আশায় বুক বাঁধি পশুটি আমার নাগাল পাবে না।


অনেক কথার পুনরাবৃত্তি হবে যেগুলো আগের পোস্টে বলার চেষ্টা করেছি: দানবের হাতে ক্ষুর

Saturday, February 28, 2009

দানবের হাতে ক্ষুর!

আমাদের দেশটা বড় বিচিত্র। আমরা লাগাই ধুতুরা গাছ, প্রবল আশায় থাকি এটায় ধরবে আম!
গোটা দেশে, সম্ভবত ৩টা জেলা ব্যতীত, সবগুলো জেলায় একসঙ্গে, প্রায় একই সময়ে বোমা ফাটায় জঙ্গিরা- আমরা কেউ কিচ্ছু জানি না। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের দুঁদে-চৌকশ লোকজনরা টেরটিও পেলেন না। ভাগ্যিস, জঙ্গিরা এদের আন্ডার গার্মেন্টস খুলে নিয়ে যায়নি!

দানব বানাবার কারখানা খুলে, দানবের হাতে কেন ক্ষুর এই প্রশ্ন রসিয়ে রসিয়ে করা যায় বটে কিন্তু উত্তর দেবে কে?
দিনে-দিনে, ফোঁটায় ফোঁটায় জমে উঠা বিডিআরদের ক্ষোভ, ডাল-ভাত কর্মসূচি, বেতন বৈষম্য, চেইন অভ কমান্ডে গলদ; কেউ টেরটিও পায়নি-
কেমন করে এটা সম্ভব? প্রধানমন্ত্রী এর আগের দিন পিলখানায় গেলেন তখন লিফলেট বিলি করা হয়েছিল, কেউ গা করল না কেন?
আমার ধারণা, গোয়েন্দা বিভাগে টোকাইদের ভর্তি করলে এরা অনেক ভাল কাজ করে দেখাতে পারত।
নাকি গোয়েন্দারা তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিকই; উপরওয়ালারা (উপরওয়ালা বলতে আমি ঈশ্বরের কথা বলছি না, যারা দেশটার চাকা বনবন করে ঘোরান)গা করেননি, রিপোর্টগুলো সর্দি মুছে ফেলে দিয়েছিলেন।

এমনিতে কেন আমরা বিস্মৃত হই, আর্মি-বিডিআর আর আম-জনতা সবাই এই দেশেরই সন্তান। হাতের পাঁচ আঙ্গুলের মত- কোন আঙ্গুল খাটো, কোনটা লম্বা এই যা। সামরিক লোকজনদের আমরা বিশেষ পছন্দ করি না, জনতাকেও এরা পছন্দ করেন না। কেন এমনটা হয়? কেন আমরা এদের চোখে সিভিলিয়ান থেকে ব্লাডি সিভিলিয়ান হয়ে যাই! এ সত্য চোর-চোট্টায় দেশটা ভরে যাচ্ছে কিন্তু কোথায় এর ছাপ নেই!

আরেকটা বিষয় আমাকে হতভম্ব করেছে। বিভিন্ন ওয়েব-সাইটে ঘুরে ঘুরে দেখেছি, স্পষ্টত ২টা ভাগ। যেন টকটকে লাল একটা আপেলকে কেটে দু-ভাগ করা হয়েছে, কেউ আর্মির পক্ষে তো কেউবা বিডিআরের পক্ষে- লাশের পাশে খুব কম মানুষ। এটাও সম্ভবত অমাদের বৈশিষ্ট, জন্মের পর থেকেই আমাদের বিভাজন শুরু হয়। বাচ্চাটা মানুষের না প্রানীর, হিন্দু না মুসলমান? ক্রমশ বড় হলে কোন দল, কোন এলাকার? এ থেকে আমাদের মুক্তি নাই- স্বাধীন দেশে পরাধিন মানুষ দলবাজির শেকলে বাঁধা। যারা কোন বিশেষ পক্ষে নাই তাদের চেয়ে অভাগা আর কেউ নাই।

এটা কেন আমি একজন মানুষের কাছ থেকে একজন মানুষের আচরণ আশা করতে পারব না। (এই অপমান কেমন করে ভুলি, আমাকে অনাহুতের মত গেইটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। ক্যাপ্টেন নামের মানুষটা আমার সামনে বসে চা খাচ্ছেন অথচ এক কাপ চা আমাকে অফার করা হয়নি। অথচ আমি আমার সত্য একটা দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তার এক সিনিয়রের কথামতে। পরবর্তীতে কেন এই অপরাধে আমার উপর খড়গ নেমে আসবে। অবশেষে নিরুপায় আমাকে হাইকোর্টের কব্জা নেড়ে বাঁচতে হবে?)
কিন্তু কেন আমরা ভুলে যাব সেই হাতের আঙ্গুলের কথা, এরাই কেউ না কেউ আমাদের স্বজন-বন্ধু। আমাদের স্বজনের, বন্ধুর লাশ এভাবে পড়ে থাকবে আর আমরা অতীতের ক্ষোভ পুষে রাখলে দানবের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য রইল কই!


আমি বলছি না এটা, ইউনিফর্ম গায়ে দিয়ে একেকজন ভাঁড়ের আচরণ করুক কিন্তু রোবট হওয়ার অবকাশ কোথায়, হতে হবে কেন? শিক্ষা নেয়া যেতে পারে এখান থেকে, থাইল্যান্ডের আর্মিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, হাসিমুখে থাকার জন্য যেন জনতা তাদের কাছাকছি ভাবে।



সামরিক-বেসামরিক লোকজনরা প্রতিপক্ষ হয় কেমন করে?
প্রবাসে সামরিক অল্প ক-জন মারা গেলে বুক ভেঙ্গে কান্না আসে, জাতীয় শোকদিবস থাকে। তা থাকুক, আমরা দোষ ধরছি না কিন্তু বেসামরিক ৩০০জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গেলে তাদের স্বজনদের চোখ ভরে আসে না বুঝি? কী হেলাফেলা ভঙ্গিতে মৃতদেহগুলোকে আমরা পশুর খাবার হতে দিয়েছি! সেই লঞ্চ উদ্ধারের ন্যূনতম চেষ্টাও হয়নি।

কে ভাল কে মন্দ সেই বিচারে এখন আমি যাচ্ছি না। এমন আর্মি অফিসারও আছেন যিনি একটা ফোন করে সরকারি কোষাগারে ৩ কোটি টাকা জমা করিয়ে সিনিয়র অফিসারের লাল চোখ দেখেছেন। কুখ্যাত সন্ত্রসীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ২ কোটি টাকা পায়ে ঠেলে ফেলেছেন।
পাশাপাশি বিডিআরদেরও দেখেছি অল্প কয়েকজন জওয়ান প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে, প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তার চৌকি রক্ষা করেছেন (পদুয়া, রৌমারি)। শত-শত অহংকারি বিএসএফকে আটকে দিয়েছিলেন। পুরস্কৃত করার বদলে এই বীরদের আমরা বাধ্য করেছিলাম নতজানু হতে। চীফের চাকরি যায়-যায়।


এই দেশটার মত হতভাগা আর কেউ নাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের রক্ত না ঝরবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সন্তানদের অধিকার আদায় হবে না। শিক্ষাঙ্গন বলুন আর রাজপথ। মসজিদও বাদ থাকেনি, জুতাজুতি করে অধিকার আদায় করতে হয়। ওই যে বললাম, বিভাজন শুরু হয় জন্মের পর থেকেই, মুসুল্লিরাও কোন দলের এটা বা বাদ থাকবে কেন?



পুলিশের বেতন সংস্কার প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। পুলিশের আই জি নিদারুন বেদনায় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, 'প্রস্তাব গেলেই আটকে যায়, এই জট আর খোলে না'।
বলতে বুক কাঁপে কিন্তু আমরা কী পুলিশ বিভাগেও এমন একটা ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় আছি। পরে জনে জনে বলে বেড়াব, 'দানবের হাতে ক্ষুর কেন'?
এমনটাই চলবে। অভাগা আমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখব।


..........................................

সত্রাসে আজ অনেকে পরীক্ষা দিয়েছে। ১ দিনের জন্য চলতি পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে প্রলয় শুরু হয়ে যেত বলে আমি মনে করি না। যায় যদি যাক প্রাণ, কেজি দরে প্রাণ- অভাগা দেশের শস্তা প্রাণ! আজ যদি কোন পরীক্ষার্থীর প্রাণ যেত আমরা উপরের দিকে মুখ তুলে বলতাম, আফসুস, হায়াত আছিল না।

এরিমধ্যে ২দিন চলে গেছে।
এই পোস্টের সঙ্গে ছবিটা দেখে আমার বুকটা হাহাকার করে উঠে। লাশ নামের মানুষটার গায়ের এই ইউনিফর্মটা খুলে ফেললে যে শরিরটা পড়ে থাকবে সেটা আমার সঙ্গে হুবহু মিলে যাবে এতে সন্দেহ নাই!

এখন যেটা ঘটে গেল এটার চেয়ে ভয়াবহ, অসহ্য আর কিছু হতে পারে না। আমার সহ্য হচ্ছে না। এতগুলো প্রাণ...! আমি কায়মনে প্রার্থনা করছি, হে পরম করুণাময়, আর যেন এক ফোঁটা রক্ত না ঝরে। যে প্রাণগুলো বিনষ্ট হল তাদের মধ্যে নিরপরাধ যারা, কে ফিরিয়ে দেবে তাদের? শিশুদের চোখ থেকে কেমন করে মুছে ফেলা যাবে তীব্র আতংক!

শিশুটি কী সামরিক নাকি বেসামরিক বাবা-মার সন্তান, এ প্রশ্ন বৃথা। শিশুটি আজীবন ফাঁকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে তার বাবা-মার ছবির দিকে।
একদা বড় হবে। বাবা-মার কাপড় হাতড়ে খুঁজে ফিরবে স্বজনের গায়ের গন্ধ। হায়, কোথায় সেই ঘামের গন্ধ, নাকে ভক করে লাগবে ন্যাপথলিনের ঝাঁঝালো গন্ধ!

প্রিয়মানুষ হারানো বধুর হাতের মেহেদী রং সামরিক নাকি বেসামরিক এই তর্ক থাকুক পশু-মানবের জন্য।
এই মানুষটার চোখের জলের সঙ্গে কী জলপাই রং মেশে?
মানুষটা কোন প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আছে তাতে কী আসে যায়? পৃথিবীর এই একটা ভাষা হুবহু এক। কেউ হাউমাউ করে কাঁদে, কেউ চোখ চেপে। এই পার্থক্য!

এখন আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত- পাগল পাগল লাগছে নিজেকে। ক্ষোভের প্রকাশ এমনটা হতে পারে আমি বিশ্বাস করি না। মিছিলের মত আসছে লাশের পর লাশ- কোন অন্যায় বাদ থাকেনি।
মাথায় কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে, এত মৃত্যু কেন- এত নৃশংসতা কেন? অতীতেও অনেক চৌকশ মানুষ 'সামরিক লাশ' হয়ে গেছে- সঠিক সত্যটা আমাদের জানা হয়নি। এবারও কী তাই হবে, কে জানে!

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নানক সাহেবকে দেখলাম, বলছেন, 'ভেতরে লক্ষ-কোটি টাকা বিলি করা হয়েছে'। তাও উম্মুক্ত হ্যান্ড-মাইকে!! এত দ্রুত এমন বক্তব্য আমার বোধগম্য হচ্ছে না। খোলা রাস্তায় এইসব বলার কোন প্রয়োজন ছিল কী!
ধরে নিলাম সত্য কিন্তু অফিসারদের বিরুদ্ধে সৈনিকদের এই সেন্টিমেন্ট কাজে লাগাবার সুযোগ আমরা দিলাম কেন? জানলাম না কেন? কে নেবে এর দায়?

আরেকটা বিষয় নিয়ে আমার মনে হচ্ছে, জানি না কতটুকু যথার্থভাবে এই তদন্ত হবে কিন্তু আমি প্রবলভাবে চাইব এই টিমের সাথে অন্তত একজন যেন মনোবিদ থাকেন। যিনি এই চলমান দানবদের মস্তিষ্ক আতালি-পাতালি করে খুঁজে দেখবেন, উঁকি দেবেন; কোন পর্যায়ে গেলে একজন মানুষ এই পর্যায়ে নেমে আসে- কোন নিতলে এর উত্স। একজন মানুষের ভেতরে লুকিয়ে খাকা পশুটা কেমন করে অবলীলায় বের হয়ে আসে।

অন্য রকম পশুত্ব দেখেছি মিডিয়াকে, এরা লাশ নামের একেকজন মানুষকে এমনভাবে দেখিয়েছে যা বর্ণনার বাইরে। এদের সামান্যতম বিবেক বোধটুকুও নাই যে ছবিগুলেতে সামান্য আড়াল ব্যবহার করা প্রয়োজন। এটা এদেরকে শেখাতে হবে কেন? ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো তো নানা কায়দা-কানুন করে আমাদেরকে শেখাতে উদগ্রীব হয়ে থাকে। মিডিয়ার প্রয়োজন রগরগে খবর, ক-টা প্রাণ গেল সেটা আলোচ্য বিষয় না

আমাকে আরও যা বিভ্রান্ত করেছে, একটা ওয়েব-সাইটে একজন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভাগ্যিস আমাকে দালাল বলেন নাই।
আজব, মানবতার পক্ষে কথা বলাও দোষের! হা ঈশ্বর!

আহা, যারা কোন দলে নাই তারা বড় অভাগা। খাপছাড়া- ভুল সময়ে ভুল মানুষ! এদের যাওয়ার কোন জায়গা নাই- এদের জন্য ইচ্ছামৃত্যুর অপশনটা থাকলে বেশ হত।

ছবিঋণ: প্রথম ছবি, 'ফোকাস বাংলা', ২য় ছবি: অজ্ঞাত (অজ্ঞাতের সূত্র পাইনি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করি, এটা আমার ব্যর্থতা।)

Saturday, July 26, 2008

সমুদ্র গুপ্ত, কেন অভিমান করে বললেন না, যাব না?

রবীন্দ্রনাথের কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। আর আমাদের চুতিয়া দেশে কবি-শিল্পীদের মরার আগে প্রমাণ দিয়ে যেতে হয় আমরা জাতি হিসাবে কী আবেগপ্রবন, সচেতন, সভ্য।
মুক্তচিন্তার পত্রিকায় তেলতেলে উপ-সম্পাদক কানসাট নিয়ে ১০১ লাইনের অখাদ্য কবিতা লেখে, কবিতার জন্য তখন সমুদ্র গুপ্তদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা নিবোর্ধ পাঠক তা গিলতে বাধ্য হই। একজন সমুদ্র গুপ্ত, মায় পত্রিকায়ও চাকুরির পান না।


একজন সমুদ্র গুপ্তকে ৫৫-৫৬ বছর বয়সে ফেরিওয়ালা হতে হয়। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা না, ওষুধের ফেরিওয়ালা। জীবনের তাগিদে। আরেকটু গুছিয়ে বললে ওষুধের হকার, প্রচলিত 'ক্যাম্বেসার'।
পেট থেকে কান্না এসে জমে চোখে। হায় পেট-হায় জীবন! এই একটা জায়গায় প্রতিভার কী-ই বা দাম! কবির কান্না চশমার মোটা কাচেঁর আড়ালে হারিয়ে যায়। ১৫ কোটি মানুষের মধ্যে কাউকেই খুজেঁ পাওয়া যায় না কেউ কবির হাত ধরতে পারে।

আমার মাথায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে। কিন্তু এই অসভ্য ইচ্ছাটাও জাগে, যদি দেখে যেতে পারতাম সমুদ্র গুপ্ত একজন চালু হকারের মত বাঁদর নাচিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। লোকজন গোল হয়ে বাঁদরের তামাশা দেখছে, আমিও। দেখছি বানরটাকে, দেখছি সমুদ্র গুপ্তকে, দেখছি নিজের পশুত্বটাকে। বেশ হত, অন্তত এই দৃশ্য দেখার পর আর আমি কখনই নিজেকে মানুষ বলে দাবি করতাম না। খোদার কসম।

আমাদের চাওয়াটা তো খুব বেশি না, যে মিরোশ্লাফ হোলুবের মত সমুদ্র গুপ্তকে মোটা অংকের স্কলারশীপ দেয়া হবে, বছরের পর বছর ধরে। হোলুব ১ বছরে ১টা কবিতা লিখবেন যে কবিতা ঘষামাজা করতে করতে লাগবে আরও বছরখানেক। মানলাম আমাদের সীমাবদ্ধতা কিন্তু ১৫ কোটি মানুষের দেশে কেন সমুদ্র গুপ্তকে ফেরিওয়ালা হতে হবে? একজন রুদ্র বসার জন্য ১টা চেয়ার পাবে না, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে লিখতে হারিয়ে যাবে! কেন?

এই বিচিত্র দেশে আমরা অপেক্ষা করি, কখন এঁরা মুমূর্ষু হবেন তখন আমাদের যাবতীয় দরদ উথলে পড়বে। তখন আমরা ঘটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি, পত্রিকায় পত্রিকায় সাহায্যের আবেদন করি, কনসার্ট করি। শালার দেশ!

সমুদ্র গুপ্ত, আপনার কেন এই করুণা নেয়া, দেশে কী চ্যারেটি, সরকারি হাসপাতালের অভাব ছিল? কেন তীব্র অভিমান নিয়ে না বলতে পারলেন না, যাব না?
কেন আপনার অচল কবিতাকে নতুন করে লিখলেন না: ...আমি তাদের কাছাকাছি থাকি না, যাদের ঘামের গন্ধে গা গুলায়…।

Friday, July 4, 2008

একটা চর্পট- ১৫ কোটি কুপোকাত!

এও কি সম্ভব? একটা চড় দিয়ে ১৫ কোটি মানুষকে ফেলে দেয়া, তাও একজন মহিলার পক্ষে?
এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন একজন থাই মহিলা, পিয়াথ সারাপক ডি কস্তা। তাঁকে সহায়তা করেছেন একজন বংগাল, মি. মহিউদ্দিন আহমেদ ফারুকী। এই বংগালের জন্য আমরা গোটা দেশের মানুষ আজ গর্ভিত(!) হয়ে পড়েছি। ওহে ভদ্দরনোক, আমাদের সেলাম নেন গো।


এই ভদ্দরনোক একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), তিনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টাপোলের ৩ দিনের একটি আঞ্চলিক সম্মেলন শেষে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই থাই মহিলার সংগে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মহিলা তাকে চড় মারলে হইচই পড়ে যায়। 
মহিলার এককথা, এই ভদ্দরনোক তার ব্যাগ থেকে মোবাইল চুরি করেছেন। বিমানবন্দরে বাজার জমে যায়। বিভিন্ন সংস্থার লোকজনরা চাপাচাপি করলে বাধ্য হয়ে মি. ফারুকী তার পকেট থেকে ওই মহিলার মোবাইল বের করে দেন।
পুলিশ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দু:জনক।

আহা, এতে বেদনার কি আছে! না হতে রামায়ন একটা কান্ড হল, পুলিশ আর পুরীষ কি একাকার হলো, এ গবেষণা থাকুক। এই মানুষটার কারণে আমরা ১৫ কোটি মানুষ চড়ের দাগ নিয়ে পৃথিবীময় ঘুরে বেড়াব, এ কী কম পাওয়া? সবুজ পাসপোর্টটা যখন বাড়িয়ে দেব, স্যুট পরে থাকলেও কুঁকড়ে যাব, এইরে, গোপনাঙ্গ দেখে ফেলল বুঝি। ফেলুক, তাতে কী আসে যায় ? মানুষ তো এক সময় যন্ত্র ঝুলিয়ে , দেখিয়েই বেড়াত, ঢেকেঢুকে রাখা শিখল এটা আর ক-দিনের মামলা ।

Thursday, July 3, 2008

জজ সাহেব- দ্বিতীয় ঈশ্বর!

পিরোজপুরে আলোচিত এসিড সন্ত্রাস মামলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন, ১৩ জুলাই ২০০৪-এ। হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করেছেন। আপাততদৃষ্টিতে ঘটনা সামান্য।
কিন্তু হাইকোর্ট এও বলছেন, 'এই আদেশ দেয়ার ক্ষমতা ওই জজের নাই'। পরে ওই ওই জজ সাহেব স্বীকার করেছেন, এই রায় দেয়ার এখতিয়ার তার নাই, এটা তার জানা ছিল না। (প্রথম আলো: ০১.০৭.০৮)


ছোট্ট সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফাঁসির দন্ড পাওয়া আসামী হাহাকার করা একটা প্রশ্ন করেছেন, সাড়ে চার বছর ফাসিঁর প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করেছি, কে ফিরিয়ে দেবে আমার এই সাড়ে চার বছর?
পাগল! ফিরিয়ে দেয়ার কথা আসছে কোত্থেকে এখানে? জজ সাহেব যেখানে বলছেন এটা উনার জানা ছিল না এরপর এই প্রশ্ন করা বাতুলতা মাত্র!
বাস্তবতা হচ্ছে, এই ৩ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল যে মানুষটাকে এসিডে চুবিয়ে মারা জন্য ওই মানুষটার ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়, মৃতের শরীরে এক ফোঁটা এসিডের চিহ্নও ছিল না। অন্য রিপোর্টে জানা যায়, মানুষটাকে জনতা পিটিয়ে মেরেছিল এক মহিলাকে বিবস্ত্র করার জন্য। কোর্টেও এই রিপোর্টগুলোও দেয়া হয়েছিল, জজ সাহেবের এখতিয়ার নাই এটাও বলা হয়েছিল, তারপরও এই ফাসিঁর আদেশ। এবং এই মামলায় রাজনৈতিক চাপ ছিল বলে জানা যায়।
কী আর করা, জজ বলে কথা! জজ সাহেবদের নিয়ে কথা বলে এমন সাহস কার?


হুমায়ূন আহমেদ এক লেখায় জজদের নিয়ে লিখে কঠিন বিপদে পড়েছিলেন।
‘দরজার এপাশে’ উপন্যাসে একটা সংলাপ ছিল এমন, ‘…আগে জাজ সাহেবরা টাকা খেতেন না। এখন খায়। অনেক জাজ দেখেছি কাতলা মাছের মত হা করে থাকে’।
ব্যস, তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। এ নিয়ে ক’জন বিচারপতি হুমায়ূন আহমেদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন হাইকোর্টে। ৪৮ জন বিচারপতি একাট্টা হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন এই লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমার খুব অবাক লেগেছিল আমাদের তাবড়-তাবড় লেখকরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমের কালি খরচ করতে তকলিফ করেননি। কেবল আসাদুজ্জামান নূর এই লেখকের পক্ষে কলম তুলে নিয়েছিলেন অথচ তিনি কলমবাজি করেন না।
হুমায়ূন আহমেদকে বলা হয়েছিল ক্ষমা চাইলে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু তিনি অনড়, তিনি ক্ষমা চাইবেন না। তাঁর মতে, তিনি কোন অন্যায় করেননি।
হুমায়ূন আহমেদের এই সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কেবল হ্যাটস অফ বলে তেলিবেলি আমি ক্ষান্ত হলে বেঁচে যেতাম কিন্তু আমার ৩ টাকা দামের কলম বড় যন্ত্রণা করছিল, শ্লা কলম!
যে পত্রিকায় টানা দেড় বছর লিখছিলাম ওই পত্রিকায় এই প্রসঙ্গে যে লেখাটা দিয়েছিলাম, ছাপা হয়নি। লেখাটা পাতে দেয়ার মত না এটা বললে সমস্যা ছিল না কিন্তু আমাকে বলা হয়েছিল বিষয়টা সংবেদনশীল তাই ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উত্তম।
আচ্ছা, সংবেদনশীলের মানে কী? গু টাইপের কিছু , যে এটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা যাবে না?
পরে ‘একালের প্রলাপ’ বইয়ে ছাগলা দাড়ি- হুমায়ূন আহমেদ নামে ছাপা হলো। ভাগ্যিস, প্রকাশক লেখাটা নিয়ে আপত্তি উঠাননি। দুগগা-দুগগা!


ওই লেখাটা সংক্ষেপিত করে এখানে দিচ্ছি:
" ছাগলা দাড়ি- হুমায়ূন আহমেদ।
হুমায়ুন আহমেদ লিখেছেন আজকালকার জজ সাহেবরা টাকা খান। তিনি তো আর এটা বলেননি ওই বিচারালয়ের অমুক মাননীয় জজ সাহেব টাকা খান। আমাদের এ নাট্যমঞ্চে বিচারক এক অন্যরকম স্রষ্টা- তাঁর কলমের খোঁচায় অন্ধকার হঠে উঠে আসে আলো। কিন্তু বিচারক তো আর ঐশ্বরীক কিছু না- তিনি প্রথমে মানুষ এরপর বিচারক। সমাজে থেকে কেউ সমাজ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারেন না। পার্থক্যটা হলো অনুপাতের। বিচারকরা দুর্নীতি করছেন এরকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। সমপ্রতি প্রকাশিত হয়েছে, দুর্নীতির দায়ে তিনজন বিচারক সাময়িকভাবে বরখাস্ত। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক আদেশবলে এসব অভিযুক্ত জজদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মহিলা বিচারকও আছেন।

হুমায়ুন আহমেদের পূর্বে অসংখ্য লেখক বিচারকদের নিয়ে লিখেছেন।

রবিঠাকুর ‘বিচারক’ গল্পে লিখেছেন:
"জজ মোহিত মহন দত্ত স্ট্যাট্যুটরি সিভিলিয়ান। তাঁহার কঠিন বিচারে ক্ষীরোদার ফাঁসির হুকুম হইল। হতভাগিনীর অবস্থা বিবেচনা করিয়া উকিলগন তাহাকে বাঁচাইবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করিলেন কিন্তু কিছুতেই কৃতকার্য হইলেন না। জজ তাহাকে তিলমাত্র দয়ার পাত্রী বলিয়া মনে করিতে পারিলেন না। না পারিবার কারণ আছে। একদিকে তিনি হিন্দু মহিলাগনকে দেবী আখ্যা দিয়া থাকেন। অপরদিকে স্ত্রীজাতির প্রতি তাঁহার আন্তরিক অবিশ্বাস । …মোহিত যখন কালেজে পড়িতেন তখন বেশভূষায় বিশেষ মনোযোগ ছিল, মদ্যমাংসে অরুচি ছিল না এবং আনুষাঙ্গিক আরও দু একটা উপসর্গ ছিল"।


‘বিচারক’ গল্পের মূলভাব হলো এরকম যে ক্ষীরোদা আজবাদে কাল ফাঁসীকাষ্ঠে ঝুলবে সে চব্বিশ বছর পূর্বে বিধবা বালিকা ‘হেম’ ছিল। ‘বিনোদচন্দ্র’ ছদ্দনামে এক যুবকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে বালিকা ‘হেম’ এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল, ‘ বিনোদচন্দ্র’ যথানিয়মে একসময় বালিকার হাত ছেড়ে দেয়। বিশাল, নির্দয় পৃথিবীতে এই নি:সঙ্গ বালিকা কালে-কালে হল পতিতা ‘ক্ষীরোদা’। দুঃখ-কষ্ট, অভিমান, ক্ষুধায় একসময় গতযৌবনা ক্ষীরোদা তার শিশু সন্তানসহ কূপের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শিশুটি মারা যায়- ক্ষীরোদা প্রাণে বেঁচে গেলেও আইনের হাত থেকে বাঁচতে পারে না। শুরু হয় তার বিচার। যে জজ মোহিত মহন দত্ত এ পতিতাকে ফাঁসীর আদেশ দেন তিনিই ‘বিনোদচন্দ্র’ ছদ্দনামের সেই যুবক।

চালর্স ডিকেন্স ‘অলিভার টুইস্ট’-এ বিচারক সম্বন্ধে লিখেছেন, "মাননীয় বিচারক মি. ফ্যাঙ অত্যন্ত কৃশকায়- গরম মেজাজের লোক। ইনি অশক্ত শরীরে যতোটুকু সহ্য হয় এরচে’ বেশি মদ্যপান করেন। ফল যা হবার তাই হয়- সর্বদা মেজাজ টং হয়ে থাকে। তাছাড়া কদিন পূর্বে একটি দৈনিক পত্রিকায় তার লেখা মামলার এক রায়-এর কঠোর সমালোচনা বেরিয়েছে। পত্রিকাটি লিখেছে, এ পর্যন্ত তিনশোবার বিচারক ফ্যাঙের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে…"।

‘দরজার ওপাশে’ একটি চরিত্র ফুফা, মাতাল অবস্থায় বলেন, "ওটা ছিল অভিনয়। আমি তোমাদের আসাদুজ্জামান নূরের চেয়ে ... ওই ছাগলা দাড়িকে ... হা-হা- হা"।
‘দরজার ওপাশে’ উপন্যাসে লেখক হুমায়ুন আহমেদ প্রস্তাবনায় লিখেছেন: যদিও আমি খুব গুরুত্বের সঙ্গে লেখাটি লিখেছি তবু বিনীত অনুরোধ করছি কেউ যেন গুরুত্বের সঙ্গে লেখাটি গ্রহণ না করেন।
প্রস্তাবনা অংশে বিনীত অনুরোধ করলেই লেখাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে না এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই।
মদমত্ত অবস্থায় এলোমেলো কথাবার্তা, আচরণ করা হবে এটাই মদের গুণ। কিন্তু এই মাতাল ফুফা হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টি। একজন লেখকের কী অপরিসীম ক্ষমতা- বদলে দিতে পারেন গোটা একটা সমাজ ব্যবস্থা, সচেতন করে তুলতে পারেন একটি জনগোষ্টীকে! যে কোনো বিষয়ে লেখার অধিকার তার রয়েছে।


কিন্তু সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে একজন স্রষ্টা হতে পারেন না। লেখকের সীমাবদ্ধতা, দায়বদ্ধতা, পাঠক, সমাজ, নিজের কাছে- নিজের সৃষ্ট কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থেকে লেখক বাঁচতে পারেন না। একজন স্রষ্টা তার সৃষ্টির জন্যে অবশ্যই দায়ী- বিশেষ করে যে সৃষ্টির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা নেই। সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী বলেই একজন লেখক একটি মাতাল চরিত্র সৃষ্টি করে কারো নাম উল্লেখ করে অপমান সূচক সংলাপ বলাতে পারেন না। এ কুত্সিত রসিকতার অর্থ হলো সীমাহীন ক্ষমতার অপচয়, লেখালেখির বদলে কলম দিয়ে কান চুলকানো!