প্রিয় মানুষের শব নিয়ে ভোরের অপেক্ষা কেমন হয় এটা আমি জানি [১]। সেই রাতের আর ভোর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না। অবশ্য কেউ কেউ ভোর হওয়ার আগেই হাল ছেড়ে দেন। কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়ান, হেমিংওয়ের বুড়ো সান্তিয়াগোর [২] মত অশক্ত হাতে শক্ত করে হাল ধরে রাখেন। আজ এমনই একজন মানুষের কথা।
একটা ক্লিনিক থেকে জানতে পারি, একজন মানুষ এসেছিলেন এই খোঁজে কিডনি কোথায় বিক্রি হয়, এবং ভাল দাম পাওয়া যায়। এই মানুষটা কেন কিডনি বিক্রি করতে চান এর সদুত্তর এদের কাছে পাওয়া গেল না। পাওয়া গেল কেবল একটা ফোন নাম্বার, যে নাম্বারে ওই মানুষটার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব।
কখনও কখনও আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। অনেকটা সময় পর খানিকটা ধাতস্ত হয়ে ফোন করলাম কিন্তু ওই মানুষটা আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হলেন না। তখন কেন রাজি হননি এটা এখন অনুমান করতে পারি।
প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত এমন একজনের সাহায্য নিলাম এবং খানিকটা মিথ্যার আশ্রয় নিতে হলো। অবশেষে মানুষটার কাছ থেকে কিছু কিছু তথ্য পাওয়া শুরু করলাম। মানুষটা চান না তাঁর পরিবার এবং আশেপাশের কেউ কিডনি বিক্রি করা সম্বন্ধে ভুলেও জানুক। মানুষ নামের এই ভদ্রমহিলার স্বামী নেই, একটাই সন্তান। কি একটা কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়ান, মাসে বেতন পান ৮০০ টাকা। দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করার মত বিন্দুমাত্র শক্তি তাঁর মধ্যে এখন আর অবশিষ্ট নেই।
এই মানুষটাকে আমি কথা দিয়েছি তাঁর নাম, ঠিকানা, কোন ধরনের ছবি কোথাও আমি প্রকাশ করব না। এটা প্রিন্ট মিডয়ার মানুষটার বেলায়ও প্রযোজ্য। তিনি ইচ্ছা করলে এটা নিয়ে লিখতে পারবেন কিন্তু ভদ্রমহিলা সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছুই লিখবেন না।
এই ভদ্রমহিলা, লেখার সুবিধার কারণে তাঁর নাম দিলাম মিসেস এক্স। মিসেস এক্স যখন আমাদের সম্বন্ধে খানিকটা আশ্বস্ত হলেন তখন ফোনে যোগাযোগ শুরু করলাম আমি নিজে। ঠিক কিভাবে কি করব আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না। যেহেতু ইনি শিক্ষকতা করেন, ছাত্রদের প্রাইভেট পড়াবার পরামর্শ দিলে সমস্যাটা যেটা জানলাম, জানুয়ারি ছাড়া এটা হবে না, এখানকার এমনই দস্তুর। হুট করে ভাঙ্গা বছরে এখন কোন ছাত্র পাওয়া যাবে না। জানুয়ারি, সে তো অনেক দূর...!
আমার মাথা ভাল কাজ করছিল না। ভেবে ভেবে কোন উপায় বের করতে পারছিলাম না। কি মনে করে আমি মিসেস এক্সকে বলি, আপনি কি সেলাইয়ের কাজ জানেন?
তিনি বললেন, না।
চেষ্টা করলে আপনি কি শিখতে পারবেন?
তিনি চট করে বলেন, পারব।
আমি বললাম, না, ভেবে বলেন। আপনি যদি সেলাই শিখতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি একটা সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করে দেব। এমনিতে কত দিন লাগবে আপনার শিখতে?
তিনি এবার ভেবে-টেবে বলেন, ১০/১৫ দিনের মধ্যে পারব।
আমি আপাতত এটুকু বলেই শেষ করি, এমনিতে আপনার স্কুলের চাকরি তো চলছে। জানুয়ারি আসলে ছাত্রদের ব্যাচে পড়াবেন। সেলাইয়ের কাজ শিখলে এখান থেকে অর্থ আয় করতে পারবেন। কিছু হাস-মুরগি পোষার ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে। আশা করছি, আপনাকে কিডনি বিক্রি করার প্রয়োজন পড়বে না। যেদিন আপনার মোটামুটি সেলাই শেখা শেষ হবে সেদিন আমাকে ফোন করবেন। বাকী কথা পরে হবে।
আমি আমার হাবিজাবি কাজে-অকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। বিষয়টা ভুলেই গিয়েছিলাম। ১০/১৫ দিন লাগে না, মাত্র সাত দিনের মাথায়, পরশু সকাল-সকাল ফোন।
ফোনের ওপাশে মিসেস এক্স, আমার মোটামুটি শেখা শেষ হয়েছে।
আমার ঘোর খানিকটা কেটে আসে, আমি যে ঝোঁকের মাথায় বলে বসলাম, এখন সেলাই মেশিনের কি গতি হবে? সেলাই মেশিন কিনে দেয়ার মত আলাদা ফান্ড তো এখন আমার কাছে নাই। নিজের উপরই আমি খানিকটা বিরক্ত। বাস্তবতা বিবর্জিত একজন মানুষ- ঝোঁকের মাথায় দুম করে একটা কাজ করে ফেলা এটা একটা নির্বোধ আচরণ! নিজেকে মিথ্যা প্রবোধও দেই, সবার বুদ্ধিমান হয়ে কাজ নেই।
মিসেস এক্সের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেবল ফোনেই কথা হয়েছে। তাঁর সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানি না। আমি জটিল একজন মানুষ, খানিকটা অবিশ্বাস যে আমার মধ্যে কাজ করে না এই মিথ্যাচার করব না। আমার যা অভ্যাস, পরশু দিনই প্রিন্ট মিডিয়ার মানুষটাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। মটর সাইকেলেও বেশ অনেকটা পথ! ছোট্ট একটা টিনের ঘরে ঢুকে একটা ধাক্কার মত লাগে। মিসেস এক্স নামের যে মানুষটা, বাচ্চা একটা মেয়ে! হা ঈশ্বর, এই বয়সেই এর বিয়েও হয়েছে, স্বামীও ফেলে গেছে, এর আবার একটা বাচ্চাও আছে!
আমার সামনে ছোটখাটো যে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে, এই মেয়েটির এই মুহূর্তে কেবল চোখভরা স্বপ্নই না। ভঙ্গিটা অবিকল একজন গ্লাডিয়েটরের- রুখে দাঁড়াবার জন্য, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে প্রস্তুত। আমার কেবল দৃঢ় বিশ্বাস না, চোখ বন্ধ করেও বলে দিতে পারি, এ পারবে।
আমি খানিকটা থমকে যাই এর প্রশ্ন শুনে, সেলাই মেশিন কবে নাগাদ পাওয়া যাবে?
আমি খানিকটা বিভ্রান্ত, ঠিক কবে এটা তো এখনই বলতে পারছি না। তবে কথা যখন দিয়েছি...।
এবার মেয়েটা অসম্ভব সংকোচ নিয়ে বলে, যদি দেনই, ঈদের আগে হলে ভাল হয়। নিজের মেশিনে ঈদের ছুটিতে কাজ করতে পারতাম। কিছু ঈদে মেয়েদের জামা সেলাই করে কিছু টাকাও পাওয়া যেত।
আমি সংকুচিত হয়ে বলি, আচ্ছা দেখি।
মেয়েটি এবার বলে, আমাকে কি কি কাগজে সই করতে হবে?
তোমাকে কোন কাগজেই সই করতে হবে না। আমরা কেবল চাইব, কেবল তুমি এই লড়াইয়ে হেরে যাবে না। কারণ তোমার পরাজয় মানে আমাদের পরাজয়।
ফিরে আসতে আসতে আমার মাথায় কেবল ঘুরপাক খায় আমার এখন একটা সেলাই মেশিনের প্রয়োজন। কোথায় পাই? একজন স্কুলের জন্য টাকা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এমন না স্কুলের জন্য টাকার প্রয়োজন নেই কিন্তু আমার এখন মনে হয়, স্কুলের চেয়ে এটা জরুরি। মোটা দাগে চিন্তা করলে, শিক্ষারও আগে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে একজন মানুষের বেঁচে থাকা। একজন মানুষ কোন পর্যায়ে গেলে তার শরীরের অতি প্রয়োজনীয় একটা অংশ, কিডনি বিক্রি করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করে।
অবশেষে এই সিদ্ধান্ত হয়, স্কুলের জন্য এই টাকায় সেলাই মেশিন কেনা হবে। আজই। আমার ভাষায়, কাল কে দেখেছে? কে দেখেছে সামার...?
আজ সেই সেলাই মেশিন, হাতের কাজ করার ফ্রেম, আনুষঙ্গিক যাবতীয় জিনিসপত্র ওই লড়াকু মানুষের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হলো। বড়ো নির্ভার লাগছে নিজেকে। আমার সুতীব্র বিশ্বাস এই লড়াকু মানুষটা পারবে, পারতে তাকে হবেই...।
*আমি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই মানুষটার কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, যিনি সমস্ত ব্যয় বহন করেছেন। এই মানুষটা হয়তো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না, কী অসাধারণ একটা কাজই না তিনি করেছেন! এটা কেবল একটা সেলাই মেশিন না- তিনি হাত থেকে মরচেধরা অস্ত্র ফেলে দেয়া মাটিতে পড়ে থাকা লড়াকু একজন মানুষকে কেবল ব্যাটল ফিল্ডেই ফিরিয়ে নিয়ে আসেননি; তার হাতে তুলে দিয়েছেন ঝাঁ চকচকে এক তরবারি।
**কৃতজ্ঞতা প্রিন্ট মিডিয়ার সেই মানুষটার প্রতিও যিনি আমায় লজেস্টিক সাপোর্ট এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়েছেন।
সহায়ক লিংক
১. ভোরের অপেক্ষা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_21.html
২. সান্তিয়াগো: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_31.html
Showing posts with label জিরো ক্রেডিট. Show all posts
Showing posts with label জিরো ক্রেডিট. Show all posts
Friday, November 12, 2010
এক লড়াকু মানুষের গল্প
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Friday, September 17, 2010
ঠিক প্রতিশোধ নেয়া হবে
আজকাল লোকজন পণ করেছে থেকে থেকে আমাকে চমকে দেবে। সাহিত্যের ভাষায় যাকে বলে পিলে চমকে দেয়া।
এই রে সেরেছে, পিলে শব্দটার অর্থ কি? এখন আবার অভিধান নিয়ে কস্তাকস্তি করো! যন্ত্রণা!
এই ছেলেটির পেছন পেছন আমি ঘুরছিলাম কিন্তু নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। স্টেশনে গিজগিজ করছে লোকজনে, ট্রেনের আসা-যাওয়ায় বিরাম নেই। যখন মামুন নামের এই ছেলেটির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় তখন সন্ধ্যা হয় হয়।
এ আমাকে বড়ো বেশি চমকে দিয়েছিল কারণ দুই পা'র এমন অবস্থা নিয়ে আমি ধামড়া ধামড়া মানুষকে দেখেছি ভিক্ষা করতে। আমরা তো আবার এদের আধুলি দিয়ে দাতা 'হাতেম তাই' হয়ে যাই। অথচ মামুন নামের শিশুটি দিব্যি পানি বিক্রি করে দিনযাপন করছে!
তখন তাকে বলেছিলাম, তুমি পড়বে?
ও চকচকে চোখে বলেছিল, হ।
আমি উল্লাস গোপন করে বলেছিলাম, কাল থেকে স্কুলে [১] চলে আসো।
মামুন থমকে গিয়ে বলেছিল, টেকা-পয়সা লাগব না?
আমি হড়বড় করে, নারে ব্যাটা, কিসসু লাগব না। তুই খালি স্কুলে চলে আয়।
পরে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এ এরপর থেকে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। একদিনও স্কুল কামাই করেনি!
কেবল স্কুলে আসে এমনই না। আগ্রহ নিয়ে খেলেও।
পূর্বে স্কুল শুরু হতো বিকাল চারটা থেকে কিন্তু আমি খানিকটা নিয়ম পাল্টে দিয়েছিলাম। এখন স্কুল শুরু হয় তিনটা থেকে। তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত এরা এখানে ক্যারাম-লুডু-ক্রিকেট-ফুটবল যার যেটা ভাল লাগে খেলে। চারটা বাজলেই স্কুলের পড়া শুরু।
আমি ঠিক করেছি একে দাবা শেখাব। আমি ভাল দাবা পারি না, আমি এও নিশ্চিত, এ আমাকে ঠিক ঠিক হারিয়ে দেবে। যেদিন এই কান্ডটা ঘটবে সেদিন সবাইকে বলব, এই ছেলেটা আমাকে দাবায় হারিয়ে দিয়েছে!
মামুন নামের এই ছেলেটা আমাকে যথেষ্ঠ চমকে দিয়েছে। আমি ঠিক করেছি, এর প্রতিশোধ নেব। ফাজলামী, একজন দুম করে আমার পিলে (এখনও অভিধান দেখা হয়ে উঠেনি, পিলের অর্থটা এখনও জানি না) চমকে দেবে আর আমি বসে বসে তামাশা দেখব!
ঠিক করেছি, একেও চমকে দেব। আগামীকাল স্কুলে একে এক ক্রেট পানির বোতল দিয়ে বলব, যা ব্যাটা, এই সমস্ত পানি তোর।
পানির দেশ, তদুপরি কেবল পানি দিয়ে কাউকে চমকে দেয়া যায় এও এক বিচিত্র!
সহায়ক লিংক:
১. স্কুল, ৩: http://tinyurl.com/327aky3
এই রে সেরেছে, পিলে শব্দটার অর্থ কি? এখন আবার অভিধান নিয়ে কস্তাকস্তি করো! যন্ত্রণা!
এই ছেলেটির পেছন পেছন আমি ঘুরছিলাম কিন্তু নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। স্টেশনে গিজগিজ করছে লোকজনে, ট্রেনের আসা-যাওয়ায় বিরাম নেই। যখন মামুন নামের এই ছেলেটির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় তখন সন্ধ্যা হয় হয়।
এ আমাকে বড়ো বেশি চমকে দিয়েছিল কারণ দুই পা'র এমন অবস্থা নিয়ে আমি ধামড়া ধামড়া মানুষকে দেখেছি ভিক্ষা করতে। আমরা তো আবার এদের আধুলি দিয়ে দাতা 'হাতেম তাই' হয়ে যাই। অথচ মামুন নামের শিশুটি দিব্যি পানি বিক্রি করে দিনযাপন করছে!
তখন তাকে বলেছিলাম, তুমি পড়বে?
ও চকচকে চোখে বলেছিল, হ।
আমি উল্লাস গোপন করে বলেছিলাম, কাল থেকে স্কুলে [১] চলে আসো।
মামুন থমকে গিয়ে বলেছিল, টেকা-পয়সা লাগব না?
আমি হড়বড় করে, নারে ব্যাটা, কিসসু লাগব না। তুই খালি স্কুলে চলে আয়।
পরে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এ এরপর থেকে নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। একদিনও স্কুল কামাই করেনি!
কেবল স্কুলে আসে এমনই না। আগ্রহ নিয়ে খেলেও।
পূর্বে স্কুল শুরু হতো বিকাল চারটা থেকে কিন্তু আমি খানিকটা নিয়ম পাল্টে দিয়েছিলাম। এখন স্কুল শুরু হয় তিনটা থেকে। তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত এরা এখানে ক্যারাম-লুডু-ক্রিকেট-ফুটবল যার যেটা ভাল লাগে খেলে। চারটা বাজলেই স্কুলের পড়া শুরু।আমি ঠিক করেছি একে দাবা শেখাব। আমি ভাল দাবা পারি না, আমি এও নিশ্চিত, এ আমাকে ঠিক ঠিক হারিয়ে দেবে। যেদিন এই কান্ডটা ঘটবে সেদিন সবাইকে বলব, এই ছেলেটা আমাকে দাবায় হারিয়ে দিয়েছে!
মামুন নামের এই ছেলেটা আমাকে যথেষ্ঠ চমকে দিয়েছে। আমি ঠিক করেছি, এর প্রতিশোধ নেব। ফাজলামী, একজন দুম করে আমার পিলে (এখনও অভিধান দেখা হয়ে উঠেনি, পিলের অর্থটা এখনও জানি না) চমকে দেবে আর আমি বসে বসে তামাশা দেখব!
ঠিক করেছি, একেও চমকে দেব। আগামীকাল স্কুলে একে এক ক্রেট পানির বোতল দিয়ে বলব, যা ব্যাটা, এই সমস্ত পানি তোর।
পানির দেশ, তদুপরি কেবল পানি দিয়ে কাউকে চমকে দেয়া যায় এও এক বিচিত্র!
সহায়ক লিংক:
১. স্কুল, ৩: http://tinyurl.com/327aky3
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Friday, August 6, 2010
জিরো ক্রেডিট: ব্যর্থতা এবং...
জিরো ক্রেডিট নামের যে ব্যবস্থাটা চালু করা হয়েছিল- জাহাঙ্গীর আলম নামের যে মানুষটাকে [১] ব্যবসা করার জন্য কাপড় কিনে দেয়া হয়েছিল, মানুষটাকে আমি পরদিনই দেখেছি ভিক্ষা করতে। এর সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, এই মানুষটার সমস্যা আছে, কথা এবং কাজে কোন মিল নাই। পূর্বে এর মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ লক্ষ করেছিলাম এখন তার ছিটেফোঁটাও নাই। এ বিনা পরিশ্রমে প্রচুর টাকা আয় করার পদ্ধতিটা ভালই রপ্ত করেছে।
আমার মন কি খানিকটা বিষণ্ন হয়। হয়, বড়ো তীব্র! কারণ মানুষটা আমার ছোট্ট স্বপ্নটা নিয়ে বাজে একটা খেলা খেলেছে। এ আমার পরাজয়, এ আমার ব্যর্থতা...! কিন্তু এ পরাজয়, ব্যর্থতা আমাকে দমাতে পারবে না, আমি আমার চেষ্টা অব্যাহত রাখব। এটা যদি ভুল হয়ে থাকে এমন ভুল আমি করব, বারবার। একটা বাজে উদাহরণ কারও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।
জিরো ক্রেডিটের আরেকজন হাকিম মিয়া [২]। পাগলের মত আমি হাকিম মিয়াকে খুঁজতে থাকি।
চামড়া ঝলসানো রৌদ্র আমাকে কাবু করার চেষ্টা করে, আমি গা করি না। দরদর করে ঘামছি। কিন্তু হাকিম মিয়াকে খুঁজে পাওয়াটা আমার জন্য যে বড়ো জরুরি।
অবশেষে মানুষটাকে খুঁজে পাই। বাদাম না, মানুষটা পেয়ারা বিক্রি করছে, তাতে কী! মানুষটাকে আমি দূর থেকে লক্ষ করতে থাকি। মানুষটা জানেও না কখন আমি তার ছবি উঠিয়েছি।
একজন মানুষকে পরাজিত করা যায় কিন্তু তার স্বপ্নকে পরাজিত করা যায় না।
সহায়ক লিংক:
১. জাহাঙ্গীর আলম: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_25.html
২. হাকিম মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_03.html
... ... ...
আপডেট: ১১ আগস্ট, ২০১০
আজকে পাঁচ দিন পর হাকিম মিয়াকে আবারও পাই। ছোট্ট প্লাস্টিকের বোলের জায়গা করে নিয়েছে ঢাউস এক টুকরি। বেড়েছে পেয়ারার আকার, সংখ্যা...!
কী অসম্ভব চমৎকার একটা দৃশ্য! কী অসাধারণ এক অন্য ভুবনের হাসি! প্রচন্ড রোদের কারণে কি না আমি জানি না, আমার মাথা খানিকটা এলোমেলো হয়ে যায়।
ফিরে আসতে আসতে আমি বিড়বিড় করতে থাকি, বাঘের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাবার জন্য গাছ কোথাও কোথাও একটা থাকবেই, থাকতেই হবে। তেমনি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোথাও না কোথাও একটা স্বপ্নকে থাকতেই হবে নইলে একজন মানুষ এবং একটা শবের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না...।
আমার মন কি খানিকটা বিষণ্ন হয়। হয়, বড়ো তীব্র! কারণ মানুষটা আমার ছোট্ট স্বপ্নটা নিয়ে বাজে একটা খেলা খেলেছে। এ আমার পরাজয়, এ আমার ব্যর্থতা...! কিন্তু এ পরাজয়, ব্যর্থতা আমাকে দমাতে পারবে না, আমি আমার চেষ্টা অব্যাহত রাখব। এটা যদি ভুল হয়ে থাকে এমন ভুল আমি করব, বারবার। একটা বাজে উদাহরণ কারও স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না।
জিরো ক্রেডিটের আরেকজন হাকিম মিয়া [২]। পাগলের মত আমি হাকিম মিয়াকে খুঁজতে থাকি।
চামড়া ঝলসানো রৌদ্র আমাকে কাবু করার চেষ্টা করে, আমি গা করি না। দরদর করে ঘামছি। কিন্তু হাকিম মিয়াকে খুঁজে পাওয়াটা আমার জন্য যে বড়ো জরুরি।
অবশেষে মানুষটাকে খুঁজে পাই। বাদাম না, মানুষটা পেয়ারা বিক্রি করছে, তাতে কী! মানুষটাকে আমি দূর থেকে লক্ষ করতে থাকি। মানুষটা জানেও না কখন আমি তার ছবি উঠিয়েছি।
একজন মানুষকে পরাজিত করা যায় কিন্তু তার স্বপ্নকে পরাজিত করা যায় না।
সহায়ক লিংক:
১. জাহাঙ্গীর আলম: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_25.html
২. হাকিম মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_03.html
... ... ...
আপডেট: ১১ আগস্ট, ২০১০
আজকে পাঁচ দিন পর হাকিম মিয়াকে আবারও পাই। ছোট্ট প্লাস্টিকের বোলের জায়গা করে নিয়েছে ঢাউস এক টুকরি। বেড়েছে পেয়ারার আকার, সংখ্যা...!
কী অসম্ভব চমৎকার একটা দৃশ্য! কী অসাধারণ এক অন্য ভুবনের হাসি! প্রচন্ড রোদের কারণে কি না আমি জানি না, আমার মাথা খানিকটা এলোমেলো হয়ে যায়।
ফিরে আসতে আসতে আমি বিড়বিড় করতে থাকি, বাঘের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাবার জন্য গাছ কোথাও কোথাও একটা থাকবেই, থাকতেই হবে। তেমনি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কোথাও না কোথাও একটা স্বপ্নকে থাকতেই হবে নইলে একজন মানুষ এবং একটা শবের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না...।
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Tuesday, August 3, 2010
জিরো ক্রেডিট: ২
জিরো ক্রেডিট [১] নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। কাজটা কঠিন। যারা একবার ভিক্ষা করা শিখে যায়, বিনা পরিশ্রমে হাত বাড়ালেই টাকা পাওয়া যায়, এদের মন-শরীর সব সম্ভবত জমে যায়। এই ভুবন থেকে এদের ফিরিয়ে আনাটা কঠিন, অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে!
আজ রাস্তায় যখন একজন বলেন, ভাল আছেন? আমি মানুষটাকে চেনার চেষ্টা করি। যথারীতি আমার দুর্বল স্মৃতিশক্তি আমার সঙ্গ ছেড়ে দেয়। আমি খানিকটা থমকে গিয়ে বলি, আপনি কি আমাকে চেনেন?
মানুষটা যখন বলেন, আপনে বাচ্চার মারে লাঠি দিছিলেন।
এখন আমার মনে পড়ে বাচ্চা কোলে এক অন্ধ মহিলাকে 'সাদা ছড়ি' দিয়েছিলাম। এই মহিলার নামটাও মনে পড়ে, মিনারা। তারচেয়ে বেশি মনে পড়ে অসম্ভব মায়া-মায়া চেহারার এই বাচ্চাটা আসার সময় হাত বাড়িয়ে আমার আঙ্গুল ধরে রেখেছিল। কেন, কে জানে?
বাচ্চাটা বেশ খানিকটা অসুস্থ, শ্বাস কষ্ট। যে ডাক্তার ভদ্রলোক [২] পরম মমতায় আমার পাঠানো মানুষগুলোকে দেখে দেন তিনি ঢাকা থেকে এখানে আসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে, যান শুক্রবারে। এই বৃহস্পতিবারে বাচ্চাকে নিয়ে আসতে বলে দিলাম। বাচ্চার মা-ও যোগ করলেন, আমারেও এট্টু দেখাইলে ভালা হইত।
আমি বলি, আচ্ছা।
কী কাকতালীয়! এবার এদের পেয়ে যাই আমার বাসার কাছেই।
এদেরকে আসেন বলে আমি হাঁটা ধরি, যাক, দু-দন্ড কথা বলা যাবে।
মানুষটার নাম হাকিম মিয়া। আমি তাকে বলি, বাচ্চার মা অন্ধ ঠিকাছে তিনি ভিক্ষা করেন কিন্তু আপনি তো সুস্থ-সবল একজন মানুষ। বুঝলাম, আপনার স্ত্রী চোখে দেখেন না বলে আপনি তার সঙ্গে সঙ্গে থাকেন, বাচ্চাটাকে নিয়ে। এই বাচ্চাটাই একদিন বড়ো হবে, আপনাদের দেখাদেখি এও ভিক্ষা করা শিখবে। আপনি কি চান আপনার বাচ্চাকে কেউ ফকিরের বাচ্চা বলুক...। আমি টাকার ব্যবস্থা করে দিলে ব্যবসা করবেন?
যাই হোক, শেষঅবধি ঠিক হয়, এই মানুষটা স্টেশনে, গাড়িতে বাদাম বেচবেন। আমি আবারও বলি, ভেবে দেখেন, করবেন?
হাকিম বলেন, হ, করুম।
মিনারা এবার কঠিন গলায় বলেন, না, তুমি আমার দিকে তাকাইয়া কও। করবা, না হিলিঝিলি করবা?
ভাবনাটা তখনই আমার মাথায় আসে, আচ্ছা, হাকিম মিনারার দিকে তাকিয়ে বললেন কি না এটা মিনারা বুঝবেন কেমন করে? আমি এদের কথাবার্তা উপভোগ করতে থাকি।
অবশেষে ঠিক হয়, আজকের মধ্যেই বাদাম রাখার ঝুড়ি, পাল্লা-বাটখারা ইত্যাদি কেনা হবে। আগামিকাল থেকে হাকিম মিয়া বাদাম বিক্রি করা শুরু করবেন।
গুড লাক, হাকিম মিয়া।
*আর্থিক সহায়তা: পড়শী ফাউন্ডেশন
**আপডেট, হাকিম মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_06.html
সহায়ক লিংক:
১. জিরো ক্রেডিট, ১: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_25.html
২. ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_06.html
আজ রাস্তায় যখন একজন বলেন, ভাল আছেন? আমি মানুষটাকে চেনার চেষ্টা করি। যথারীতি আমার দুর্বল স্মৃতিশক্তি আমার সঙ্গ ছেড়ে দেয়। আমি খানিকটা থমকে গিয়ে বলি, আপনি কি আমাকে চেনেন?
মানুষটা যখন বলেন, আপনে বাচ্চার মারে লাঠি দিছিলেন।
এখন আমার মনে পড়ে বাচ্চা কোলে এক অন্ধ মহিলাকে 'সাদা ছড়ি' দিয়েছিলাম। এই মহিলার নামটাও মনে পড়ে, মিনারা। তারচেয়ে বেশি মনে পড়ে অসম্ভব মায়া-মায়া চেহারার এই বাচ্চাটা আসার সময় হাত বাড়িয়ে আমার আঙ্গুল ধরে রেখেছিল। কেন, কে জানে?
বাচ্চাটা বেশ খানিকটা অসুস্থ, শ্বাস কষ্ট। যে ডাক্তার ভদ্রলোক [২] পরম মমতায় আমার পাঠানো মানুষগুলোকে দেখে দেন তিনি ঢাকা থেকে এখানে আসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে, যান শুক্রবারে। এই বৃহস্পতিবারে বাচ্চাকে নিয়ে আসতে বলে দিলাম। বাচ্চার মা-ও যোগ করলেন, আমারেও এট্টু দেখাইলে ভালা হইত।
আমি বলি, আচ্ছা।
কী কাকতালীয়! এবার এদের পেয়ে যাই আমার বাসার কাছেই।
এদেরকে আসেন বলে আমি হাঁটা ধরি, যাক, দু-দন্ড কথা বলা যাবে।
মানুষটার নাম হাকিম মিয়া। আমি তাকে বলি, বাচ্চার মা অন্ধ ঠিকাছে তিনি ভিক্ষা করেন কিন্তু আপনি তো সুস্থ-সবল একজন মানুষ। বুঝলাম, আপনার স্ত্রী চোখে দেখেন না বলে আপনি তার সঙ্গে সঙ্গে থাকেন, বাচ্চাটাকে নিয়ে। এই বাচ্চাটাই একদিন বড়ো হবে, আপনাদের দেখাদেখি এও ভিক্ষা করা শিখবে। আপনি কি চান আপনার বাচ্চাকে কেউ ফকিরের বাচ্চা বলুক...। আমি টাকার ব্যবস্থা করে দিলে ব্যবসা করবেন?
যাই হোক, শেষঅবধি ঠিক হয়, এই মানুষটা স্টেশনে, গাড়িতে বাদাম বেচবেন। আমি আবারও বলি, ভেবে দেখেন, করবেন?
হাকিম বলেন, হ, করুম।
মিনারা এবার কঠিন গলায় বলেন, না, তুমি আমার দিকে তাকাইয়া কও। করবা, না হিলিঝিলি করবা?
ভাবনাটা তখনই আমার মাথায় আসে, আচ্ছা, হাকিম মিনারার দিকে তাকিয়ে বললেন কি না এটা মিনারা বুঝবেন কেমন করে? আমি এদের কথাবার্তা উপভোগ করতে থাকি।
অবশেষে ঠিক হয়, আজকের মধ্যেই বাদাম রাখার ঝুড়ি, পাল্লা-বাটখারা ইত্যাদি কেনা হবে। আগামিকাল থেকে হাকিম মিয়া বাদাম বিক্রি করা শুরু করবেন।
গুড লাক, হাকিম মিয়া।
*আর্থিক সহায়তা: পড়শী ফাউন্ডেশন
**আপডেট, হাকিম মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_06.html
সহায়ক লিংক:
১. জিরো ক্রেডিট, ১: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_25.html
২. ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_06.html
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Sunday, July 25, 2010
জিরো ক্রেডিট: ১
পড়শী ফাউন্ডেশনের যন্ত্রণার শেষ নেই, আমাকে সামাল দিতে এদের বড়ো বেগ পেতে হচ্ছে। আমার একের পর এক আইডিয়া বাস্তবায়নের পেছনে যে টাকা খরচ হচ্ছে এর যোগান দেয়াটা এদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে।
'ন্যানো ক্রেডিট' নিয়ে কিছু কাজ করেছিলাম [১] [২] [৩] [৪]। এখানে ইনভেস্ট হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা, এক মাসের লিমিট আবার পাঁচ হাজার টাকা। এই মাসের লিমিট ইতিমধ্যে প্রায় খরচ হয়ে গেছে। এই খাতে হাতে রয়ে গিয়েছিল পাঁচশ টাকা। আমি ভেবে দেখলাম, এই টাকায় তো আর ন্যানো ক্রেডিট চলবে না। তো, 'জিরো ক্রেডিট' চালু করে দিলাম।
জিরো ক্রেডিট নামটা দেখে হোঁচট খাওয়ার কথা। জিরো তো জিরো, জিরো সংখ্যাটা নেয়ার জন্য কে মুখিয়ে থাকবে। থাকবে-থাকবে, কারণ এই টাকার অংকটা পাঁচশ। যেহেতু ফেরত দেয়ার বালাই নেই তাই 'জিরো ক্রেডিট'।
পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম, পড়শী ফাউন্ডেশন থেকে আমাকে কিছু ক্রাচ দেয়া হয়েছিল। বেশ কজনকেই ক্রাচ দেয়া হয়েছিল।
এদের মধ্যে একজন, জাহাঙ্গীর আলম নামের একটা পা নেই এমন এক ভিক্ষুককে দেখতাম রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করতে। তার সাথে যে ক্রাচটা দেখতাম ওটা ছিল নড়বড়ে। তাকে একটা ক্রাচ দেয়া হয়েছিল।
জিজ্ঞেস করে জানা গেল, এই মানুষটা আগে হকারি করতেন, বাসে চানাচুর-টানাচুর বেচতেন। একদিন চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান, পা কাটা পড়ে, কোমরেও চোট পান। আমি ভেবে দেখলাম, মানুষটার পুর্বে ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা আছে।
আমি বললাম, আপনে যে ভিক্ষা করেন এইটায় তো ইজ্জত নাই।
মানুষটার সাফ উত্তর, কি করুম?
ব্যবসা করেন।
টেকা পামু কই?
টাকা পেলে ব্যবসা করবেন?
মানুষটার উৎসাহের শেষ নেই।
আমি আবারও বলি, আপনাকে পাঁচশ টাকার কাপড় কিনে দেয়া হবে। এটা আপনাকে ফেরত দিতে হবে না। আপনি আস্তে আস্তে পুঁজি বাড়িয়ে ব্যবসা করবেন। পারবেন না?
হ। খুব পারুম।
প্রথমে অবশ্য ভাবা হয়েছিল কলা-টলা বিক্রি করার জন্য কিন্তু পায়ের সমস্যার কারণে কলার ভারী টুকরি টানতে সমস্যা হবে বিধায় এটা বাদ দেয়া হয়েছিল। পরে তাই ঠিক হলো, কাপড়ের ব্যবসা।
নিয়মিত হাট করেন এমন একজনকে অনুরোধ করে পাঁচশ টাকার কাপড় এনে দেয়া হয়েছিল। কাপড় কিন্তু কম না! বাচ্চাদের কিছু ছোট প্যান্টের দাম পড়েছে সাড়ে তিন টাকা করে। ভাবা যায়! যেটা অন্তত দশ-বারো টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।
জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যখন আমার কথা চালাচালি হচ্ছিল তখন এক মহিলা, ইনিও খানিক দূরে বসে ভিক্ষা করেন, পায়ে সমস্যা আছে। আমাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন, আপনে বলে ওই বেডারে ইত্যাদি ইত্যাদি?
আমি বিরক্ত হয়ে বলি, হ। তা আপনার সমস্যা কি!
মহিলার কোন সমস্যা নেই। হাসে।
কাহিনী পরে জানা গেল, যখন জাহাঙ্গীর আলমকে কাপড়ের গাঁটরি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আসতে বলেছি।
ওমা, ওই মহিলা দেখি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একই রিকশায় উঠতে চেষ্টা করছেন। আমি অবাক হয়ে বলি, আপনি কেন?
জাহাঙ্গীর আলমের লাজুক গলা, হে আমার পরিবার।
ওয়াল্লা, এই তাহলে কাহিনী। ইনি জাহাঙ্গীর আলমের ইস্তারি সাহেবা! বেশ-বেশ।
জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় করে দেয়ার পর যে মানুষটা হাট থেকে কাপড় কিনে এনে দিয়েছিলেন তিনি বলছিলেন, হে কাপড়ের গাট্টি লইয়া ভাইগা যাইব।
আমি বললাম, গেলে যাইব। কী হাতি-ঘোড়া নিয়া ভাগব!
তখন মনে ছিল না, এখন মনে মনে হাসছি। আর কিছু না-হোক অন্তত এই দু-জন আমার দু-চোখ যেদিকে যায় সেদিক পর্যন্ত আর যাই হোক ভিক্ষা করবেন না। রাস্তার পাশে বসে থাকা, কাটা পা নাড়াতে থাকা দু-জন ভিক্ষুক এখান থেকে উধাও হলো এটাই বা কম কী! অন্য কোথাও গিয়ে বসবে? বসুক না, সেটা সেখানকার লোকজনের সমস্যা; আমার কী! হা হা হা।
সহায়ক লিংক:
১. মালতি রানি সাহা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_14.html
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html
৩. রুবিনা আক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_3561.html
৪. জোহরা বেগম: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_18.html
'ন্যানো ক্রেডিট' নিয়ে কিছু কাজ করেছিলাম [১] [২] [৩] [৪]। এখানে ইনভেস্ট হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা, এক মাসের লিমিট আবার পাঁচ হাজার টাকা। এই মাসের লিমিট ইতিমধ্যে প্রায় খরচ হয়ে গেছে। এই খাতে হাতে রয়ে গিয়েছিল পাঁচশ টাকা। আমি ভেবে দেখলাম, এই টাকায় তো আর ন্যানো ক্রেডিট চলবে না। তো, 'জিরো ক্রেডিট' চালু করে দিলাম।
জিরো ক্রেডিট নামটা দেখে হোঁচট খাওয়ার কথা। জিরো তো জিরো, জিরো সংখ্যাটা নেয়ার জন্য কে মুখিয়ে থাকবে। থাকবে-থাকবে, কারণ এই টাকার অংকটা পাঁচশ। যেহেতু ফেরত দেয়ার বালাই নেই তাই 'জিরো ক্রেডিট'।
পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম, পড়শী ফাউন্ডেশন থেকে আমাকে কিছু ক্রাচ দেয়া হয়েছিল। বেশ কজনকেই ক্রাচ দেয়া হয়েছিল।
এদের মধ্যে একজন, জাহাঙ্গীর আলম নামের একটা পা নেই এমন এক ভিক্ষুককে দেখতাম রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করতে। তার সাথে যে ক্রাচটা দেখতাম ওটা ছিল নড়বড়ে। তাকে একটা ক্রাচ দেয়া হয়েছিল।
জিজ্ঞেস করে জানা গেল, এই মানুষটা আগে হকারি করতেন, বাসে চানাচুর-টানাচুর বেচতেন। একদিন চলন্ত বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যান, পা কাটা পড়ে, কোমরেও চোট পান। আমি ভেবে দেখলাম, মানুষটার পুর্বে ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা আছে।আমি বললাম, আপনে যে ভিক্ষা করেন এইটায় তো ইজ্জত নাই।
মানুষটার সাফ উত্তর, কি করুম?
ব্যবসা করেন।
টেকা পামু কই?
টাকা পেলে ব্যবসা করবেন?
মানুষটার উৎসাহের শেষ নেই।
আমি আবারও বলি, আপনাকে পাঁচশ টাকার কাপড় কিনে দেয়া হবে। এটা আপনাকে ফেরত দিতে হবে না। আপনি আস্তে আস্তে পুঁজি বাড়িয়ে ব্যবসা করবেন। পারবেন না?
হ। খুব পারুম।
প্রথমে অবশ্য ভাবা হয়েছিল কলা-টলা বিক্রি করার জন্য কিন্তু পায়ের সমস্যার কারণে কলার ভারী টুকরি টানতে সমস্যা হবে বিধায় এটা বাদ দেয়া হয়েছিল। পরে তাই ঠিক হলো, কাপড়ের ব্যবসা।
নিয়মিত হাট করেন এমন একজনকে অনুরোধ করে পাঁচশ টাকার কাপড় এনে দেয়া হয়েছিল। কাপড় কিন্তু কম না! বাচ্চাদের কিছু ছোট প্যান্টের দাম পড়েছে সাড়ে তিন টাকা করে। ভাবা যায়! যেটা অন্তত দশ-বারো টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।
জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যখন আমার কথা চালাচালি হচ্ছিল তখন এক মহিলা, ইনিও খানিক দূরে বসে ভিক্ষা করেন, পায়ে সমস্যা আছে। আমাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন, আপনে বলে ওই বেডারে ইত্যাদি ইত্যাদি?
আমি বিরক্ত হয়ে বলি, হ। তা আপনার সমস্যা কি!
মহিলার কোন সমস্যা নেই। হাসে।
কাহিনী পরে জানা গেল, যখন জাহাঙ্গীর আলমকে কাপড়ের গাঁটরি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আসতে বলেছি।
ওমা, ওই মহিলা দেখি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একই রিকশায় উঠতে চেষ্টা করছেন। আমি অবাক হয়ে বলি, আপনি কেন?
জাহাঙ্গীর আলমের লাজুক গলা, হে আমার পরিবার।
ওয়াল্লা, এই তাহলে কাহিনী। ইনি জাহাঙ্গীর আলমের ইস্তারি সাহেবা! বেশ-বেশ।
জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় করে দেয়ার পর যে মানুষটা হাট থেকে কাপড় কিনে এনে দিয়েছিলেন তিনি বলছিলেন, হে কাপড়ের গাট্টি লইয়া ভাইগা যাইব।
আমি বললাম, গেলে যাইব। কী হাতি-ঘোড়া নিয়া ভাগব!
তখন মনে ছিল না, এখন মনে মনে হাসছি। আর কিছু না-হোক অন্তত এই দু-জন আমার দু-চোখ যেদিকে যায় সেদিক পর্যন্ত আর যাই হোক ভিক্ষা করবেন না। রাস্তার পাশে বসে থাকা, কাটা পা নাড়াতে থাকা দু-জন ভিক্ষুক এখান থেকে উধাও হলো এটাই বা কম কী! অন্য কোথাও গিয়ে বসবে? বসুক না, সেটা সেখানকার লোকজনের সমস্যা; আমার কী! হা হা হা।
সহায়ক লিংক:
১. মালতি রানি সাহা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_14.html
২. মন মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_4248.html
৩. রুবিনা আক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_3561.html
৪. জোহরা বেগম: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_18.html
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Wednesday, July 21, 2010
টাকা পেলে আমরা সব বেচে দেব...
সুরুয মিয়ার পরিবারের [১] সঙ্গে আমি যোগাযোগ করে উঠতে পারছিলাম না। দোষটা সবটা আমার না, পূর্বে যাদেরকে নিয়ে আমি গিয়েছিলাম তারা সময় বের করতে পারছিলেন না। এই গ্রহে আমি ব্যতীত সবাই ভারী ব্যস্ত।
আমি তো আবার লোকেশন মনে না রাখতে পারার জন্য কুখ্যাত, তার উপর জায়গাটা খানিকটা দূর্গম। এমনিতে আমাদের দেশে বিখ্যাত ব্যতীত অখ্যাত মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি জিগেস করে বের করা আর খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মধ্যে কোন ফারাক নাই! মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার [২] বাড়ি বের করতে গিয়ে আমার কালঘাম বেরিয়ে গিয়েছিল।
এই দেশে ট্রাক-ড্রাইভারের নামেও রাস্তার নামকরণ হয় কারণ তিনি বিরাট মুক্তিযোদ্ধা- যুদ্ধের সময় তিনি ট্রাক চালাতেন! নাম ফলকে ভরে যায় রাস্তাঘাট!
কিন্তু এই সব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে সড়কের নামকরণ দূরের কথা বাঁশের একটা খুঁটিও পাওয়া যায় না। এলাকার মানুষই চেনে না, এলাকার মানুষের বিশেষ আগ্রহও থাকে না কারণ আমাদের দয়াবান নেতাদের এতো সময় কোথায় এদের খোঁজ রাখার!
চকচকে একটা বাইক কিনেছেন এমন একজন, এই মানুষটাকে কাউবয় না বলে বলা যেতে পারে বাইক-বয়। কাউবয় যেমন ঘোড়ার পিঠে থাকতে পছন্দ করে তেমনি এই মানুষটাও বাইকের পিঠে। মানুষটা আমাকে কথা দেন যতক্ষণই লাগুক আমাকে ঠিক-ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবেন। মানুষটা তাঁর কথা রাখেন। তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।
মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া [৩], যিনি ২০০৫ সালের ঠিক ১৬ ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করেন যখন সমগ্র জাতি এই আনন্দের দিনটিকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।
মানুষটা লাশ ১২ ঘন্টা গাছে ঝুলছিল, নামাতে দেয়া হয়নি! তাঁর জানাজা পড়া নিয়েও সমস্যা হয়েছিল। ক্ষমতাবানদের এতে ঘোর আপত্তি ছিল।
সুরুয মিয়ার পরিবারের বাসায় যেতে হয়নি রাস্তার পাশে মা-ছেলে, ছেলের নাম সেলিম মিয়াকে পেয়ে যাই। এঁরা একটা চার দোকান দিয়েছেন, দোকানে তেমন কিছুই নাই।
জেনে ভাল লাগে এরা এখন সরকার থেকে ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। ৬ মাসে ৯ হাজার করে ১৮ হাজার টাকা অর্থাৎ মাসে দেড় হাজার করে।
কিন্তু ভাতা পেতে গিয়ে এঁদের যে ত্যাগ করতে হয়েছে তার যে ভাষ্য শুনলাম এতে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলি!
এই ১৮ হাজার টাকা উঠাতে এঁদেরকে ঋণ করে ১৯ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যার চালু নাম ঘুষ।
দোকান দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ঋণ শোধ করে হাতে কিছুই নাই! আপাতত দোকানে অল্প কিছু মাল-পত্র কেনার জন্য কিছু টাকা দেয়া হয়েছে।
প্রার্থনাস্থলে সব বিষয় নিয়েই জোশের সঙ্গে বলা হয়, বলা হয় না কেবল ঘুষ নিয়ে। কেন, কে জানে! এই দেশে ঘুষ নিয়ে মাথা ঘামাবার তেমন সময় কারও নেই! আমার মনে হয়, আমরা ঘুষ নামের টাকা পেলে করব না এমন কোন কাজ নেই। পারলে মাকেও বিক্রি করে দেব, তাঁর কিডনি-লিভার-ফুসফুস।
কৃতজ্ঞতা:
আর্থিক সহায়তা: পড়শী ফাউন্ডেশন
লজিস্টিক সাপোর্ট: ফাহমি আজিজ
সহায়ক লিংক:
১. সুরুয মিয়ার পরিবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_02.html
২. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
৩. সুরুয মিয়ার আত্মহত্যা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. দুলা মিয়ার মেয়ে: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_05.html
আমি তো আবার লোকেশন মনে না রাখতে পারার জন্য কুখ্যাত, তার উপর জায়গাটা খানিকটা দূর্গম। এমনিতে আমাদের দেশে বিখ্যাত ব্যতীত অখ্যাত মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি জিগেস করে বের করা আর খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মধ্যে কোন ফারাক নাই! মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার [২] বাড়ি বের করতে গিয়ে আমার কালঘাম বেরিয়ে গিয়েছিল।
এই দেশে ট্রাক-ড্রাইভারের নামেও রাস্তার নামকরণ হয় কারণ তিনি বিরাট মুক্তিযোদ্ধা- যুদ্ধের সময় তিনি ট্রাক চালাতেন! নাম ফলকে ভরে যায় রাস্তাঘাট!
কিন্তু এই সব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে সড়কের নামকরণ দূরের কথা বাঁশের একটা খুঁটিও পাওয়া যায় না। এলাকার মানুষই চেনে না, এলাকার মানুষের বিশেষ আগ্রহও থাকে না কারণ আমাদের দয়াবান নেতাদের এতো সময় কোথায় এদের খোঁজ রাখার!
চকচকে একটা বাইক কিনেছেন এমন একজন, এই মানুষটাকে কাউবয় না বলে বলা যেতে পারে বাইক-বয়। কাউবয় যেমন ঘোড়ার পিঠে থাকতে পছন্দ করে তেমনি এই মানুষটাও বাইকের পিঠে। মানুষটা আমাকে কথা দেন যতক্ষণই লাগুক আমাকে ঠিক-ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেবেন। মানুষটা তাঁর কথা রাখেন। তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।
মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া [৩], যিনি ২০০৫ সালের ঠিক ১৬ ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করেন যখন সমগ্র জাতি এই আনন্দের দিনটিকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।
মানুষটা লাশ ১২ ঘন্টা গাছে ঝুলছিল, নামাতে দেয়া হয়নি! তাঁর জানাজা পড়া নিয়েও সমস্যা হয়েছিল। ক্ষমতাবানদের এতে ঘোর আপত্তি ছিল।
সুরুয মিয়ার পরিবারের বাসায় যেতে হয়নি রাস্তার পাশে মা-ছেলে, ছেলের নাম সেলিম মিয়াকে পেয়ে যাই। এঁরা একটা চার দোকান দিয়েছেন, দোকানে তেমন কিছুই নাই।
জেনে ভাল লাগে এরা এখন সরকার থেকে ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন। ৬ মাসে ৯ হাজার করে ১৮ হাজার টাকা অর্থাৎ মাসে দেড় হাজার করে।
কিন্তু ভাতা পেতে গিয়ে এঁদের যে ত্যাগ করতে হয়েছে তার যে ভাষ্য শুনলাম এতে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলি!
এই ১৮ হাজার টাকা উঠাতে এঁদেরকে ঋণ করে ১৯ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। যার চালু নাম ঘুষ।
দোকান দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ঋণ শোধ করে হাতে কিছুই নাই! আপাতত দোকানে অল্প কিছু মাল-পত্র কেনার জন্য কিছু টাকা দেয়া হয়েছে।
প্রার্থনাস্থলে সব বিষয় নিয়েই জোশের সঙ্গে বলা হয়, বলা হয় না কেবল ঘুষ নিয়ে। কেন, কে জানে! এই দেশে ঘুষ নিয়ে মাথা ঘামাবার তেমন সময় কারও নেই! আমার মনে হয়, আমরা ঘুষ নামের টাকা পেলে করব না এমন কোন কাজ নেই। পারলে মাকেও বিক্রি করে দেব, তাঁর কিডনি-লিভার-ফুসফুস।
কৃতজ্ঞতা:
আর্থিক সহায়তা: পড়শী ফাউন্ডেশন
লজিস্টিক সাপোর্ট: ফাহমি আজিজ
সহায়ক লিংক:
১. সুরুয মিয়ার পরিবার: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_02.html
২. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
৩. সুরুয মিয়ার আত্মহত্যা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. দুলা মিয়ার মেয়ে: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_05.html
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Tuesday, May 25, 2010
আপডেট: স্বপ্ন, কেস স্টাডি, দুই
এই পরিবারটির যে স্বপ্ন ছিল একটি সেলাই মেশিনের, এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, "পড়শী ফাউন্ডেশন"। পড়শী ফাউন্ডেশনের জন্য রইল আমার সীমাহীন কৃতজ্ঞতা, যারা একটি পরিবারের স্বপ্নকে, অদেখা স্বপ্নকে, বাস্তবে রূপান্তরিত করতে আমাকে সহায়তা করেছেন।
এই পরিবারে মা এবং ছেলে হেলাল অসুস্থ। শুক্রবারে ঢাকা থেকে ডাক্তার নামের যে মানুষটা [১] এখানে আসেন, তিনি এদের চিকিৎসা করবেন বলে আমাকে কথা দিয়েছেন। তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা।
*স্বপ্ন: http://tinyurl.com/3y7bpz3
** স্বপ্ন, কেস স্টাডি, দুই: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_9886.html
সহায়ক লিংক:
১. ডাক্তার নামের মানুষটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_06.html
বিভাগ
জিরো ক্রেডিট
Subscribe to:
Posts (Atom)









