Search

Showing posts with label সত্য কাহিনি অবলম্বনে. Show all posts
Showing posts with label সত্য কাহিনি অবলম্বনে. Show all posts

Sunday, March 23, 2014

বিশএকুশ-একুশএকুশ



কথায়-কথায় বিশএকুশ। ধরুন, কাউকে বললাম, আমার এখানে একটা ঘুরান্তিস দিয়ে যান বা কিছু টাকা ধার দেন না প্লিজ। চটজলদি উত্তর, বিশএকুশ। প্রথম দিকে তো বুঝে কুলিয়ে উঠতেই পারতাম না! বাওয়া, বিষয়টা কী!
আহিস্তা-আহিস্তা জানা গেল, বিশএকুশ মানে হচ্ছে দু-হাজার একুশ সাল। সোজা কথায় দু-হাজার একুশ সালে তারা এই কর্মকান্ডগুলো করবেন। এই চাবুকের (!) গতি দেখে আমি নিরন্তর মুগ্ধ হই।

এমন গতির জন্য আমি দুজন মানুষকে খুব ইজ্জত দেইএকজন হচ্ছেন নাসিরউদ্দিন হোজ্জা আর আরেকজন হচ্ছেন, ডন কুইক্সোট অভ লা মানচা। হোজ্জা সাহেবের কথাটা আগে বলি। মানুষটা প্রচলিত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতেন না' জারা হাটকে'- একটু অন্য রকম! গাধার পিঠে নাকি উল্টো করে বসতেন শোনা কথা! এটা শুনেছি এই কারণে বললাম কারণ হোজ্জা সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়নি বিধায় বুকে হাত দিয়ে (অবশ্যই নিজের) বলতে পারছি না। এও শুনেছি, গাধা এবং হোজ্জা সাহেবের গতি নিয়ে প্রায়শ ঝামেলা হতো টাইমিংটা সামান্য এদিক-ওদিক হয়ে যেত।
হোজ্জার একটা ঘটনা শেয়ার করি। যথারীতি গাধা উইথ হোজ্জা হোজ্জা সাহেব রওয়ানা দিলেন মরমর কোন রোগি দেখতেহোজ্জা সাহেব ই রোগির চল্লিশায় পৌঁছে গিয়ে শোনেন, গাধা নাকি এখানে ৪০ দিন ধরে দিব্যি লেজ নাড়াচ্ছিল! দেখো দিকি কান্ড!
 
হোজ্জার মত ডন কুইক্সোট অভ লা মানচা এই মানুষটাকেও আমি ভাল পাইইনিও নাকি তার ঘোড়া রোজিন্যান্টকে নিয়ে দাবড়ে বেড়াতেন- ফুল স্পিড আ্যহেড, কিন্তু গতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতেন না এও শোনা কথা কারণ ডনের সঙ্গে এই বিষয়ে বাতচিত হয়নি। ডনের ঘোড়ার দুর্ধর্ষ (!) গতির সামনে হিমশিম খেতে হতো শামুককেও।

যাই হোক, বিশএকুশ- দু হাজার একুশ সালের এই গতির সঙ্গে আমাদের, অন্তত আমার তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে বৈকি তাই এখন থেকে বিশএকুশ শুনলেই আমি বলি, একুশএকুশ...।

Tuesday, January 17, 2012

আদালত-আইন এবং গতি!

­আদালত অবমাননার কারণে রুহূল আমিন নামের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত এ তো আমরা সবাই জানি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার এই কর্মকান্ড কতটা যুক্তিসঙ্গত আজকের লেখার বিষয়বস্তু এটা না। কলম এবং ছুঁরি মধ্যে মূলত খুব একটা পার্থক্য নাই। ছুঁরি দিয়ে কে আপেল কেটে খাবে কে চোখ উপড়ে ফেলবে, নির্ভর করবে কার হাতে ছুঁরিটা। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ...।

পত্র-পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পাই, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক

Saturday, October 30, 2010

'মসৃণ পানীয়'

সফট ড্রিঙ্কস নামের তরল জিনিসটার প্রতি আমার বরাবরই আগ্রহ কম। ভাল কথা, সফট ড্রিঙ্কস জিনিসটার নাম বাংলায় কি হয়? এমনিতে কোমল পানীয় লেখা হয় কিন্তু কোমল পানীয় কেন, 'মসৃণ পানীয়' বললে সমস্যা কোথায়?
আসলে এদের দেখে দেখে আমি বড়ো উদ্বুদ্ধ হয়েছি। মন্ত্রী সাহেবদের যেমন বাংলা নিয়ে কস্তাকস্তি করতে গিয়ে সফটওয়্যারকে 'নরোম তার' বানিয়ে দেন তেমনি আমাদের কিছু পত্রিকাওয়ালারাও বাংলা নিয়ে দুর্ধর্ষ কাজ করেন। 'মুঠোফোন' শব্দটা প্রথম কে আবিষ্কার করেছিলেন আমি জানি না কিন্তু পত্রিকাওয়ালারা এটা হরদম লিখেন। আচ্ছা, এটা এখন আর চালু নাই, আগে যে এক হাত লম্বা সিটিসেলের ফোন ছিল, এটা এখন থাকলে এবং এটাকে মুঠোফোন বলা হলে কী দাঁড়াত! এটাকে কেমন করে মুঠোতে আটকানো যেত এই নিয়ে খানিকটা চিন্তায় আছি। ল্যাপটপের বাংলা এরা কি করবেন এটা নিয়েও আমি খানিক চিন্তিত!

তো, এই 'মসৃণ পানীয়' নামের জিনিসটা বাইরে খাওয়া নিয়ে আমার প্রায়ই ঝামেলা হতো। চোখের নিমিষে বোতলে স্ট্র ঢুকিয়ে দেয়া হতো। স্ট্র নামের জিনিসটার সঙ্গে আমার সখ্যতা নাই। আমি রাগ চেপে বলতাম, কে বলেছে আপনাকে আমাকে না জিগেস করে স্ট্র ঢুকিয়ে দিতে। যথারীতি আমি আরও মুখ গম্ভীর করে বলতাম, নিয়ে যান এটা, এটা আমি খাব না।
কেউ বদলে না দিতে চাইলে, কোথাও সমস্যা হলেও আমার কথা প্রায় অবিকল থাকত, দাম রাখেন কিন্তু এই জিনিস আমি খাব না। হাতে ধরে স্ট্রটা নিয়ে এসে ফট করে বোতলে ঢুকিয়ে দিয়েছে, ব্যাটা কোথায় না কোথায় চুলকেছে।
একবার আমার এক বন্ধু চোখ লাল করে বলেছিল, তুই কি চামচ দিয়ে কোক খাবি? ওরে বুরবাক, চামচ দিয়ে খাব, নাকি চুকচুক করে এই  নিয়ে তোর সঙ্গে সদালাপ করার কোন ইচ্ছা আমার নাই! তুই খা, তোকে আটকাচ্ছে কে!
সভ্য সমাজে স্ট্র দিয়ে খাওয়ারই নিয়ম। স্ট্র দিয়ে অনেককে যে ভঙ্গিতে আয়েশ করে খেতে দেখি মনে হয় এও এক ধরনের স্টাইল। এই ভুবনে কতো ধরনের মানুষ, কত ধরনের তাদের স্টাইল, বিচিত্রসব স্টাইল [১]

আমার হাবিজাবি কাজের জন্যে ফি-রোজ স্টেশনে একটা চক্কর লাগানো হয়ই। আমার মনে হয়, অভিজ্ঞতার জন্য এই জায়গার কোন তুলনা নেই।

মাটিতে পড়ে থাকা স্ট্র উঠাবার আগ মুহূর্তে
ঘুরতে ঘুরতে এই ছেলেটিকে পেয়ে যাই। এ রেললাইন থেকে ফেলে দেয়া স্ট্র কুড়াচ্ছিল। রেলগাড়িতে ভ্রমণ করেননি এমন লুক(!) খুঁজে পাওয়া মুশকিল। সেই অতি অল্প মানুষদের উদ্দেশ্যে বলি, রেলগাড়ির টাট্টিখানার কোন তলা থাকে না। জিনিসগুলো কোথায় যায় সেই বিষয়ে আর বিশদ আলাপে যাই না।
আমি ছবি তোলার চেষ্টা করার পূর্বেই এ উঠে আসে প্ল্যাটফরমে। এর সাথে সাথে আমিও হাঁটতে থাকি। নিরীহ মুখে করে জানতে চাই, এই স্ট্র জমানোর কারণ কি?
এ উত্তর দিল, এইটা দিয়া খেলুম।
আমার বিশ্বাস হয় না। এমন একটা ধামড়া ছেলে স্ট্র জমিয়ে খেলবে, কি খেলবে? আমি অদৃশ্য হাঁই তুলে বলি, ভাল-ভাল, যাও খেলা করো।

এবার ছেলেটি নিশ্চিন্তে হাঁটতে থাকে। নিরাপদ দূরত্বে আমিও। আমার অনুমান নির্ভূল। এক হোটেলে স্ট্র নিয়ে ঢুকল ঠিকই কিন্তু বের হলো খালি হাতে। বেশ-বেশ, এই রেস্টুরেন্টে একজন ঘর্মাক্ত মানুষ হন্তদন্ত হয়ে ঢুকবেন। গলা ফাটিয়ে বলবেন, এ্যাই, একটা ঠান্ডা লয়া আয়।
আর কিছু বলার প্রয়োজন নাই। স্ট্র সহ একটা সফট ড্রিঙ্কস চলে আসবে। পোজ দেবেন কিনা জানি না তবে আয়েশ করে ঠান্ডাটা খাবেন। ঠান্ডা খেয়ে মাথায় ডান্ডা না-মেরেও ঢেকুরের উৎকট একটা শব্দ গলা দিয়ে বের করবেন। ভাগ্যিস, ওখানে আমি নেই নইলে মনে মনে বলতাম, তালিয়া...। 
এই স্ট্র দিয়ে কেউ ঠ্যাং নাচাতে নাচাতে 'মসৃণ পানীয়' খাচ্ছে এটা আমি ভাবতে চাই না। এরা গা দোলানো চালু রাখুক, আমি নিজের গা গুলানো আটকাবার চেষ্টা করি।

প্লাস্টিকের একটা বোতল থেকে এই ব্যাগটা বানানো
*একজন পাঠক চমৎকার একটা মন্তব্য করেছেন রিসাইক্লিং টেকনোলজির বাংলাদেশি ভার্সন। ভালই তো, লালমুখো বাঁদররা করে এমন ভাবে আর আমরা করি এমন...। যেই দেশের যে চল...।

সহায়ক লিংক:
১. স্টাইল: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_27.html    

Thursday, September 2, 2010

পরিবহন ধর্মঘট

ছোট্ট মেয়েটা আজও কুড়িয়ে পাওয়া আজব জুতোটা পায়ে দিয়ে এক পাক ঘুরল।
মোলায়েম গলা ভেসে এলো, ‘খুকি, ভাল আছ?’
ছোট্ট মেয়েটা যার নাম, মৌ। মৌ কিন্তু মোটেও মিষ্টি করে হাসল না। মৌ রাগ রাগ গলায় বলল, ‘হেই ধৈত্য, তোমায় রোজ বলি আমায় খুকি বলবে না, তবু বলো, বিষয়টা কী, আমার নাম নাই?’

বিশাল দৈত্যটা মাথা নীচু করে রাখল, খুকি যে ওকে ‘ধৈত্য’ বলে এটা ওর একদম ভাল লাগে না। কেন, লম্বা আঙ্কেল বললে কি হয়? অনেক সাহস করে চোখ তুলে বলল, ‘মৌ, ধৈত্য বললে মনে কষ্ট হয়। দেও-দানবের মনে কষ্ট দেয়া ঠিক না।’

মৌ বালিশের সঙ্গে ঘুসাঘুসি খেলছিল। একতরফা খেলা, বালিশ বেচারা মার খেয়েই যাচ্ছিল, টুঁ-শব্দও করছিল না। সত্যি বলতে কী, বালিশদের পাল্টা মার দেয়ার নিয়ম নাই। বালিশের মাঝখানে মৌ প্রায় আধ হাত গর্ত করে ফেলেছে। মৌ ঝাকড়া চুল ঝাঁকিয়ে রাগী গলায় বলল, ‘আহ, কিছু জিজ্ঞেস না করলে কথা বলো কেন? তোমার মুখ থেকে বিশ্রী পচা গন্ধ বেরুচ্ছে। আজ আবারও মানুষ মেরেছ?’
অসম্ভব কষ্টে দৈত্যটার চোখ ভরে এল। ওর পায়ের কাছে মৌ’র গোসল করার ছোট্ট বাথটাবটা ছিল। পাঁচ নাম্বার ফুটবলের মতো একটাই চোখ টিপে গোপনে চোখের জল খালি বাথটাবে ফেলল। বাথটাব থেকে পানি একটুর জন্য উপচে পড়ল না। মনে মনে স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলল। বাদশা সোলেয়মানের কৃপায় কী বাঁচাই না বেঁচে গেছে। মৌ দেখে ফেললে কী লজ্জাই না হতো! আড় চোখে তাকিয়ে চাপা নিঃশ্বাস ফেলল। মানুষের মাংস খাওয়া ছেড়েছে সেই কবে, যেদিন মৌ’র সঙ্গে দেখা হল, প্রতিজ্ঞা করল, সেই দিন থেকে।
এরপর থেকে কী কষ্ট! মরা জীব-জন্তুর মাংস খেয়ে ওর পেট নেমে গেল। একেকবার পাঁচশোটা করে পেট ধরার ওষুধ ‘এমোডিস’ খেতে হয়। এতগুলো ওষুধের দাম কী কম, যোগাড় করাও কী কম ঝামেলা!

দৈত্য অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ঘরটায় যেন ছোটখাট ঝড় বয়ে গেল। মৌ’র খেলনা সব উড়ে বেড়াতে লাগল। দৈত্য অসম্ভব লজ্জিত হয়ে খেলনাগুলো জড়ো করতে লাগল। কিছু খেলনা মোটা মোটা আঙুলের ফাঁক দিয়ে টুপটুপ করে পড়ে গেল। ভয়ে মৌ’র দিকে তাকাল না। কথা ঘুরাবার জন্য গলা খাঁকারি দিয়ে মিনমিন করে বলল, ‘আচ্ছা মৌ, তোমার তো অনেক বুদ্ধি, একটা বুদ্ধি দাও না।’
মৌ অবাক, ‘কী বুদ্ধি চাও?’
দৈত্যটা বলল, ‘এই যে আমার মুখে পচা গন্ধ হয়।’
‘অ-এইটা,’ মৌ মাথা এপাশ-ওপাশ করল, ‘এর তো কোন বুদ্ধি নাই।’
দৈত্য সাহস করে বলল, ‘তোমার মুখে গন্ধ হলে কি কর?’

মৌ বিরক্ত হল। থমথমে গলায় বলল, ‘কি যে বুদ্ধি তোমার! আমি কি তোমার মতো অচা-পচা জিনিস খাই, আর দিনে তিনবার ব্রাশ করি না!’
দৈত্যর চোখ চকচক করতে লাগল, ‘দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত পরিষ্কার হয়, গন্ধ হয় না বলছ?’ দৈত্য স্বল্প পরিসরে অদ্ভুত কায়দায় ডিগবাজি খেয়ে আবার বলল, ‘ঠিক বলছ তো?’
‘হুঁ’
‘দাও না মৌ, তোমার একটা পুরনো ব্রাশ আমায়,’ দৈত্যর চোখে মিনতি ঝরে পড়ল।

মৌ হাসতে হাসতে খাট থেকে গড়িয়ে পড়ল। অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে চোখ মুছে বলল, ‘আমার ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার হবে তোমার দাঁত। হি-হি-হি, হিক-হিক-হিক, হো-হো-হো!’
‘হবে না তাহলে,’ দৈত্যর চোখ নিভে গেল।
‘উহুঁ, তোমার জন্য তো অনেক বড় ব্রাশ লাগবে। এত বড় ব্রাশ কোথায় পাওয়া যাবে। উম-ম, দাঁড়াও, ভাবতে দাও। ইউরেকা, পেয়েছি, টয়লেট পরিষ্কার করার যে বড় ব্রাশ, ওটা দিয়ে তোমার কাজ চলবে।’

দৈত্যর মনে হলো বুকটা ফেটে যাবে, কষ্টে। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। এত বাতাস পৃথিবীতে অথচ ওর বুকটা মরুভূমি হয়ে আছে। মৌ অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। আরে এ এরকম করছে কেন! মাথা খাটিয়ে কী দারুন একটা বুদ্ধিই না দিল।
মৌ দেবশিশুর মত হাসি দিয়ে বলল, ‘হয়েছে কি তোমার, এমন করছ কেন? বুদ্ধিটা পছন্দ হয়নি?’
‘না,’ দৈত্য রুদ্ধ গলায় বলল।
‘কেন-কেন?’
‘আমি টয়লেটের ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার ক্ক-র-ব,’ দৈত্য কথাটা শেষ করতে পারল না। ওর গলা ভেঙ্গে গেল।
‘অ, এই ব্যাপার! তোমার প্রেষ্টিজে লেগেছে। ধুর পাগলা, আমি তো তোমায় একদম নতুন একটা ব্রাশ কিনে দেব। পাগলু কোথাকার!’

এবার দৈত্যর মনের মেঘ কেটে গেল। কোদালের মতো আট-দশটা দাঁত বের করে দরাজ গলায় বলল, ‘মৌ, আমার মনে এখন বড় আনন্দ হইছে, আমি বড় খুশি হইছি। বল কি চাও আমার কাছে, যা চাইবে তাই পাবে।’

মৌ ভাবনায় তলিয়ে গেল। কি চাওয়া যেতে পারে? অনেকক্ষণ ভেবে বলল, ‘এই যে হরতাল হয়- মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। ওদিন বাবা বলছিলেন, সারা দেশের মানুষ একটা বিশাল জেলখানায় আটকা পড়ে। মানুষের বড় কষ্ট-বড়ো কষ্ট। তুমি এই কষ্টের শেষ করো।’

দৈত্য লজ্জায় মিইয়ে গেল। প্রায় শোনা যায় না এমনভাবে বিড়বিড় করে বলল, ‘মৌ, এটা আমার ক্ষমতার বাইরে, তুমি অন্য কিছু চাও। সোনা-দানা, খাবার-দাবার, আকাশ ভ্রমণ- কি চাই বল?’
‘না, আমি অন্য কিছু চাই না।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে, হরতাল হলে দেশটার চাকা চারকোণা হলে হোক, হরতালের দিনে তুমি যেখানে যেতে চাইবে আমি তোমায় নিয়ে যাব, প্রমিজ।
‘না-না-না,’ মৌ’র জেদী গলায় বলল।
‘প্লিজ, মৌ, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড মী-।’
‘না-না-না। আমি অন্য কিছু চাই না। হরতালে মানুষের কি কষ্ট হয় এটা আসলে তুমি বুঝতে পারছ না। তোমার কি, লম্বা লম্বা ঠ্যাং ফেলে মাইলের পর মাইল চলে যাও।’

দৈত্য টাক মাথা চুলকে বিব্রত গলায় বলল, ‘প্লিজ মৌ, প্লিজ, দয়া করো। তুমি অন্য কিছু চাও, বাদশা সেলেয়মানের কসম, আমি সঙ্গে সঙ্গে হাজির করব!’
‘না।’
‘আহ, তুমি কেন বড়দের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছ। যারা এ দেশ চালায় তাদের মাথাব্যথা নাই যতো মাথা ব্যথা তোমার,’ এবার দৈত্যর গলায় উষ্মা প্রকাশ পেল।
মৌ গলা ফাটিয়ে কাঁদতে লাগল, ‘তুমি কোন কাজের না। আসলে তুমি মানুষের উপকার করতে চাও না। যাও, তুমি আমার সামনে থেকে। আর কখখনো আমার সামনে আসবে না, আজকের পর কখখনো আমি তোমাকে ডাকব না, আজ থেকে তোমার জন্য মৌ মরে গেছে।’
দৈত্য মিলিয়ে যেতে যেতে ছলছল চোখে ভাবল, ‘আহ, হরতাল থামিয়ে দেয়ার ক্ষমতাটা থাকলে বেশ হতো!


*কেউ লেখাটা ভুলক্রমে পড়ে শেষ করে ফেললে সময় থাকতে এখন জানিয়ে দেই, এটা লিখেছিলাম ছোটদের জন্য। হা হা হা।
সঞ্জীব চৌধুরী [১] এটা কেন বড়দের পাতায় ছাপিয়েছিলেন আমি জানি না।

সহায়ক লিংক:
১. সঞ্জীব চৌধুরী: http://www.ali-mahmed.com/2007/11/blog-post.html

Tuesday, May 18, 2010

ছবি রঙ্গ!


ডান পাশের ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে, কতগুলো রোবট বসে আছে। রোবট বানাবার কারখানায় এর বেশী আশা করি কী করে! এটা সত্য, এরাই এই দেশের বিভিন্ন চৌকশ জায়গায় যাবে কিন্তু চৌকশ রোবট [৬] এবং চৌকশ মানুষ এদের মধ্যে অনেক ফারাক।
অনেককে বলবেন, প্রত্যেকটা জায়গার কিছু নিয়ম আছে। তা আছে, বটে! তা মধ্যের ভদ্রলোক নিয়ম ভেঙ্গে সাদা টুপি লাগিয়ে বসে আছেন কি মনে করে?
*ছবি সূত্র: প্রথম আলো




প্রথম আলোর কল্যাণে জানলাম, পুলিশ লাঠিপেটা করছে। এ নতুন কোন খবর না। খবরটা হচ্ছে, লাঠিটা...। এমন লাঠির খোঁজ আমি জানতাম না, আজ জানলাম। এমন একটা লাঠি আমার খুব প্রয়োজন। 
ভাল কথা, এটা একটা দুর্দান্ত ছবি, ভঙ্গি, টাইমিং সব মিলিয়ে। ধন্যবাদটা কাকে দেব বুঝতে পারছি না, ছবিটা কি মতিউর রহমান সাহেব নিজেই উঠিয়েছেন [৪] নাকি প্রথম আলোর গুপ্ত ক্যামেরা বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা আছে। ক্যামেরা নিজে নিজেই ছবি তুলে প্রথম আলো অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছে। এমনটা হয়ে থাকলে বলতেই হয়, বাহ চমৎকার তো! আসলে কেউ কেউ কখনো বদলায় না [৩]।  
*ছবি সূত্র: প্রথম আলো



কালের কন্ঠের এই ছবি দেখে আমি আক্ষরিক অর্থেই মুগ্ধ! কী অসাধারণ উল্লাস! ছবিটা উঠিয়েছেন, আবুল কাশেম হৃদয়। তাকে আমার অজস্র ধন্যবাদ।
*ছবি সূত্র: কালের কন্ঠ





'কুমিল্লার কাগজ' ছাপিয়েছে এটা। এটাও চমৎকার একটা ছবি। আমি আবারও মুগ্ধ! কী অসাধারণ উল্লাস! এই ছবিটা উঠিয়েছেন, হুমায়ূন কবির জীবন।
*ছবি সূত্র: কুমিল্লার কাগজ 

এখন আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, 'কালের কন্ঠ' এবং 'কুমিল্লার কাগজ' যে দুইটা পত্রিকায় ছবিটা ছাপা হয়েছে, এই ছবি দুইটায় পার্থক্য কি? কেউ যদি কোন পার্থক্য খুঁজে বের করতে পারেন তাঁর জন্য পুরষ্কার হচ্ছে আগামী সাত দিন আমার বাসায় খাওয়া-দাওয়া (দাওয়া জিনিসটা কি এটা অবশ্য আমি নিজেও জানি না) ফ্রি।

জানি-জানি, অনেকে বলবেন, কেন রে বাপু, এমনটা কি হতে পারে না, 'কুমিল্লার কাগজ' শাহআলম সাহেবের? নাহ, কথাটায় যুক্তি আছে, হতেই পারে এমন। 
শাহআলম সাহেব ক্রমশ এই দেশের সমস্ত কাগজ এবং কাগজের পাশাপাশি সুশীল মানুষদের [১] কিনে ফেলবেন। 
হায় সুশীল! আমাদের দেশের নামকরা লোকজন ভালো পেমেন্ট পেলে পারেন না এমন কোন কাজ নাই। হুমায়ূন আহমেদকে কালের কন্ঠ ভালো টাকা দিচ্ছে, তিনি লিখছেন। গোলাম আজম এর চেয়ে বেশী টাকা দিলে তিনি গোলাম আজমের মুড়ির ঘন্টেও লিখবেন। কেবল পেমেন্টটা ভালো [২] হলেই হলো। এই নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে লাগবেন বাজী? 

কে জ্ঞানী, শ্রীকৃষ্ণ নাকি বলরাম [৫]? কে জ্ঞানপাপী, হুমায়ূন আহমেদ নাকি শাহআলম?

কিন্তু আমার মাথায় যেটা আসছে না, আবুল কাশেম হৃদয় এবং হুমায়ূন কবির জীবন দুইজন হুবহু একই ছবি ধারণ করেন কেমন করে? কারণ দুই জায়গা থেকে ধারণ করা ছবিতে একচুল হলেও পার্থক্য থাকতে বাধ্য। অনেকে বলতে চাইবেন, কেন রে বাওয়া, দুইজন এক স্থান থেকেই, একজন অন্যজনের উপর উঠে...। কি জানি রে বাবা, হবে হয়তো বা। কত কিছুই অজানা, কয়টার খবরই বা আমরা রাখি!

*খানিক তথ্য ঋণ: ফজলে রাব্বি
সহায়ক লিংক:
১. কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_16.html 

২. ভাল পেমেন্ট: http://www.ali-mahmed.com/2008/09/blog-post_22.html
৩. কেউ কেউ কখনো বদলায় না: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_12.html 
৪. এরা কখনো বদলাবে না (প্রথম আলোর এই অসভ্যতা আর কত কাল চলবে, কে জানে?): http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_19.html
. জ্ঞানী: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post.html
. চৌকশ রোবট: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_15.html

Thursday, December 17, 2009

অভিনন্দন বাংলাদেশ, আবারও বিশ্ব-রেকর্ড!

বাংলাদেশ যখন বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, বুকটা তখন ভরে যায়, বুঝলেন। আল্লা রে, ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো না, স্বয়ং চাঁদ- কোথায় যে বসতে দেই ভেবে কূল পাই না! সমগ্র বিশ্বে একবার বিশ্ব-রেকর্ড করলেই আমরা বর্তে যাই সেখানে আবারও বিশ্ব-রেকর্ড! এ আনন্দ কোথায় রাখি?

এমন নজির বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই। এই রেকর্ড অন্য কোন দেশ কখনও ভাঙ্গতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না, গলায় ভোঁতা ছুরি ধরলেও। কেউ আমাকে লক্ষ করে তোপ দাগুক, ইরান হালের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলেও না, কাভি নেহি।

"...হাইকোর্টে...মিনিটে অন্তত একটি করে জামিন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে আবারও। ২দিনে দন্ডপ্রাপ্তদের জামিনের আবেদন ছিল এক হাজার একটি। এর মধ্যে অন্তত ২ দিনে যদি ৭০০ আবেদনের আদেশ হয়, তাহলে কমপক্ষে ৭০০ দন্ডিত ব্যক্তি অবশ্যই জামিন পেয়েছেন। ...৩৭টি ক্ষেত্রে (সবগুলোর তথ্য জানা সম্ভব হয়নি) খুনের দায়ে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অপরাধীরা যে জামিন পেয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। ...বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান এবং বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এসব জামিন দেন।" (প্রথম আলো/ ০২.১২.০৯)

এই বেঞ্চের বিচারপতিদের লাল গোলাপ শুভেচ্ছা! তাঁদের মস্তিষ্কের তারিফ না করে উপায় নাই! আমাদের দাবী, এহেন মস্তিস্ক অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। সরকার, আমাদের দাবী মানতে হবে, মেনে নাও; নইলে আগুন জ্বলবে ঘরে ঘরে।

মিনিটে একটি করে জামিন দেয়ার ঘটনা আগেও একবার ঘটেছিল। যেটা নিয়ে এই পোস্টটা দিয়েছিলাম। আমি কল্পনাও করিনি আমি বেঁচে থাকতে থাকতে আবারও এটা নিয়ে পোস্ট দেয়ার দূর্লভ ভাগ্য আমার ঘটবে। আমার জীবন সার্থক- এখন মরে গেলেও অন্যরা কাঁদলেও আমি নিজে কাঁদব না!

বছরখানেক আমি আইনের কিলাশ(!) করেছিলাম। ভাসা ভাসা মনে পড়ে, আমাদের পড়ানো হতো: আইন অন্ধ। হাতে ধরে ধরে (অকাট্য প্রমাণ দিয়ে) তাকে চেনাতে হয়, এ বাদী, এ বিবাদী, এটা চেয়ার, এটা টেবিল ইত্যাদি ইত্যাদি। আগের একটা পোস্টে লিখেছিলাম হাইকোর্টে একটা রিটের সুবাদেও খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। চাহিদামত একগাদা প্রয়োজনীয় কাগজ দেয়ার পরও এই কাগজ লাগছিল, ওই কাগজ লাগছিল। আমার কালো ঘাম বেরিয়ে যাচ্ছিল! একটা বেঞ্চ কাগজপত্র খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে 'নট-প্রেস' করে দিলেন। পরে আমরা অন্য একটা বেঞ্চে গেলাম। বিস্তর সময় লেগেছিল।

একেকটা মামলা ঝড়ের গতিতে উঠাও, নামাও করলেও মিনিটে একটি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব কিনা জানি না কিন্তু এই অসাধ্য কাজটা হয়েছে বলেই বিশ্বে আমরা রেকর্ডটা করতে পেরেছি! আফসোস, এহেন ঝড়ের গতিতে কাজ হওয়ার পরও একজন প্রেসিডেন্টের বিচার নিষ্পত্তি হতে ৩৪ বছর লাগে। রাহেলা মামলার আজও কোন গতি হয়নি!

অফ-টপিক: জানি না কেন আমার চার্লস ডিকেন্সের 'আ টেল অভ টু সিটিজ'-এর কথা মনে পড়ছে:
"...প্রথম বন্দীকে ওঠানো হলো গিলোটিনে।
ঘ্যাচ!
প্রথমবারের মত নেমে এলা ভারি ধারালো ফলাটা। দর্শকরা গুণলো 'এক'।
দর্শকরা গুণলো 'দুই'।
ঘ্যাচ! ঘ্যাচ! ঘ্যাচ!
'তিন...চার...পাঁচ' বিরামহীনভাবে দর্শকরা গুণছে। নিমিষেই প্রথম গাড়ি শূণ্য হয়ে গেল। দ্বিতীয় গাড়ি থেকেও বন্দীদের নামানো শুরু হলো। অল্পক্ষণেই শূণ্য হয়ে গেল সেটাও। এবার পালা তৃতীয় গাড়ির বন্দীদের।..."

Monday, November 30, 2009

পেটেন্ট করানো আবশ্যক

-->
আজ সত্যি সত্যি মনে হচ্ছে, এখানে পেটেন্ট করার একটা শাখা থাকলে এইসব আপাততদৃষ্টিতে উদ্ভট ব্যবসায়িক আইডিয়ার পেটেন্ট করে রাখতাম। হোক উদ্ভট কিন্তু আমার আইডিয়া আমার কাছে সন্তানসম! আহারে, এটাও ফ্লপ করল!

বোতলে করে বাতাস বিক্রি করার আইডিয়া নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল এমন উদ্ভট লেখা কেউ পড়েননি। ক্ষীণ ধারণা, ধারণাটা ভুল!

ঈদের দিন আর কাজ কী! এত এত অনুষ্ঠান, কোনটাই দেখা হয় না। এরিমধ্যে একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম। 'পূর্বাচল' নামের ডেভলপার, এরা ফ্ল্যাট বিক্রি করে বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে, বোতলে করে বাতাস বিক্রি করছে। পরে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে, বোতলে করে বিশুদ্ধ বাতাস কিনে নিয়ে গেলে লাভ নাই; ফ্ল্যাট বা আবাসন কিনতে হবে গাছ-গাছালি পূর্ণ 'পূর্বাচলে'। 

বিজ্ঞাপনটা কারা বানিয়েছে এটা জানার উপায় আপাতত আমার নাই। কিন্তু ক-দিন পূর্বে আমার অতি পরিচিত সেলিব্রেটি টাইপের একজন বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু আইডিয়া চাইলেন- এই উদ্ভট আইডিয়াও অন্যতম। আমিও সরল মনে দিলাম। কায়মনে প্রার্থনা করি, অন্তত এই মানুষটার কাছ থেকে ছুঁরি খেতে চাই না!

বোতলে করে বাতাস বিক্রি করার উদ্ভট আইডিয়া আর কারও মাথায় খেলা করবে না এমন দিব্যি কেউ দেয়নি। এমনটা হলে বিষয়টা আমার জন্য আনন্দের, যাক বাবা, অন্তত এই দেশে এমন 'পাগলু ভাবনা' ভাবার লোক অন্তত আরও একজন আছেন। আসেন ব্রাদার, টোস্ট করে আপনার স্বাস্থ্য পান করি।
কিন্তু বাই এনি চান্স এই আইডিয়াটা আমার পোস্ট থেকে নেয়া হয়ে থাকলে বেদনার শ্বাস ফেলে বলতেই হয়, দেশটা চোর-চোট্টায় ভরে যাচ্ছে!   

আমাদের দেশে এইসব অহরহ চলেই আসছে। আমাদের দেশের প্রথম শ্রেণীর পত্রিকাগুলো এই বিষয়ে এক পা এগিয়ে আছে। চোখ বন্ধ করে ওয়েবসাইট থেকে একটা লেখা মেরে দেবে। দয়া করলে কেবল লিখে দায় সারবে, 'ওয়েব সাইট অবলম্বনে'।
অতীতে আমার বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। এক পরিচালকের কাছে আমার একটা নাটকের পান্ডুলিপি জমা দিয়েছিলাম। তিনি মনোনীত হয়নি বলে জানিয়েছিলেন। পরে এই লেখাটার প্রচুর রদবদল করে তিনি নিজেই একটা নাটক প্রসব করেছিলেন। কাজটা তিনি এমন সূক্ষ করে করেছিলেন আমার প্রতিবাদ দূরের কথা, আঙ্গুল উঠানোও সম্ভব ছিল না। 
মেনে না নিয়ে উপায় কী- কেউ কেউ ডিমে তা দিয়েই যাবে, অন্যরা সেই ডিম থেকে সদ্যজাত মুরগি গুনবেন। সবই কপাল...।

* বাতাসের ছবি: সংরক্ষিত।   :-)

সহায়ক সূত্র:
১. বাতাস বিক্রি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post.html
২. একালের ব্রুটাস...: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post.html

Saturday, October 17, 2009

"ক্রমিক খুনি (!)", রসু খাঁ

রসু খাঁ। এখন সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি! মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এমনটা হবে না কেন? সে যে সিরিয়াল কিলার! তার বদান্যতায় প্রথম আলো 'সিরিয়াল কিলার'-এর বাংলা করেছে "ক্রমিক খুনি"। এটা ভাল একটা উদ্যোগ, সব আমরা বাংলায় অনুবাদ করে ফেলব। ভাগ্যিস, পত্রিকাটি সফটওয়্যারের বাংলা করার চেষ্টা করেনি!

'বৈদেশি' সিরিয়াল কিলারদের কাহিনি পড়ে আমরা হিম-হিম শ্বাস ছাড়তাম, আহারে, সব বৈদেশে কেন? গরীব দেশ বলে কী আমাদের কপালে সিরিয়াল কিলার থাকতে নেই! রসুর কল্যাণে আমাদের সেই কষ্ট দূর হলো!

রসু
এখন পর্যন্ত ১১ জন নারীকে হত্যা করেছে। খুনের প্রতিজ্ঞা পূরণে ১২ বছর ধরে অপেক্ষা করেছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সে নাকি প্রতিজ্ঞা করেছিল, ১০১ জন নারীকে হত্যা করে কোন এক পীর সাহেব-আউলিয়ার মাজারে চলে যাবে। তার মাজারে চলে যাওয়ার ভাবনাটা মন্দ না! কে জানে, একদিন সেও কোন এক আউলিয়া হয়ে যেত- রসু আউলিয়া! (সত্যি সত্যি একজন অসংখ্য মানুষকে কচুকাটা করতে করতে অবশেষে বড়ো আউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন।)

এই বঙ্গালদেশে মাজারের দবদবার শেষ নাই। অথচ ইসলাম ধর্মমতে, অতি বিখ্যাত গরম মানুষের মাজার ওরফে কবর এবং ছলিমুল্লা-কলিমুল্লার কবরের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। চলার পথে কোন কবর জিয়ারত করা যাবে কিন্তু জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কোন
মাজার ওরফে কবরে যাওয়া যাবে না এবং মাজার ওরফে কবরে শুয়ে থাকা মানুষটার কাছে কোন কিছু চাওয়া ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ! মাজার ওরফে কবরবাসী মানুষটার নিজেরই নাকি দৌড়ের শেষ নাই!

ওয়াল্লা, রসু নামের মানুষটার দেখি ক্রসফায়ারের বড়ো ভয়- ক্রসফায়ারের রহস্য কী উদঘাটন করে ফেলেছে? রসু বড় অভাগা, নইলে কী আর ধরা পড়ে! আমাদের দেশে কাউকে ধরা কী এতই সহজ? কই, এই মানুষটাকে দেখি আজও ধরা গেল না!


"মরিলে শুনিয়া গীতা মহাপাপী জন
মহাপাপ দূরে যায় মুক্তিভাগী হন।"
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা, শ্রীশ্রীগীতা-মাহাত্ম্যম, ৫৯)
(মৃত্যুর পূর্বে মহাপাপীও যদি গীতা শ্রবণ করে তবে তাহার মহাপাপ নষ্ট হয়, সে মুক্তিভাগী হয়।)
রসু, হিন্দু হলে, গীতা-পাঠ করে তার মহাপাপ কেটে যেত।

রায়ের পর রসুর মৃত্যুদন্ড হবে নাকি বেকসুর খালাস, সে তো পরের কথা। কিন্তু কোন উকিল রসুর পক্ষে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষনা দিয়েছেন। এটা এঁরা কোন যুক্তিতে সিদ্ধান্ত নিলেন? কোন আইনের কেতাবে এটা লেখা আছে,
এঁরাই ভাল বলতে পারবেন! রসুকে এখনও আদালত গিল্টি বলে রায় দেয়নি।

ভাগ্যিস, রসু খ্রিস্টান না, খ্রিষ্টান হলে পাল্টা মামলা করতে পারতেন।
পাভেল মির্চা। রুমানিয়ার এক আদালত, একজনের খুনের দায়ে পাভেল মির্চার ২০ বছরের সাজা হয়েছিল। কিন্তু ভদ্রলোক বেঁকে বসলেন, পাল্টা মামলা করলেন।
তিনি একা এই সাজা ভোগ করতে রাজি নন। তার এককথা, এই খুনের জন্য আমি একা দায়ি নই, সমান দায়ি ঈশ্বরও।
পাভেল মির্চার বক্তব্য, ব্যাপ্টিজমের সময় ঈশ্বরের সঙ্গে অন্য খ্রিষ্টানদের মতই আমারও চুক্তি হয়েছিল, তিনি আমাকে সমস্ত অশুভ কাজ থেকে বিরত রাখবেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। শয়তান জয়ী হয়েছে। ঈশ্বর আমার সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করেছেন বিধায় ঈশ্বরের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের মামলা করেছি।

ভয়াবহ সমস্যা দেখা দিল। বাদী মামলা করলে বিবাদীকে জানাতে হয়, সমন জারী করতে হয়। উকিলরা বিবাদী ঈশ্বরের নামে নোটিশ জারী করতে পারছিলেন না। তাদের বক্তব্য, অনেক চেষ্টা করেও আমরা ইশ্বরের আবাসিক ঠিকানা খুঁজে পেলাম না বিধায় সমন জারী করা গেল না।
আফসোস, ঠিকানা না-থাকার কারণে সমন জারী করা না গেলে, তাঁর-ইশ্বরের বিচার করা যাবে কেমন করে?
অতএব মামলা ডিসমিস।

*ছবিঋণ: প্রথম আলো

Wednesday, July 23, 2008

এইডস, বাঁচতে হলে জানতে হবে।

এই 'ভদ্দরনোক' একজন যাদুকর ছিলেন। 
হুডিনি, কপারফিল্ড, জুয়েল আইচ এর কাছে নস্যি! ইনি দিব্যি ঘুরে বেড়াতেন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে , প্রাইভেট কোর্ট বসিয়ে যাকে খুশি তাকে বিচার করতেন। কর্মকান্ডগুলো করতেন মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে কিন্তু কেউ তাঁকে দেখতে পেত না!

এই যেমন, তাঁর একমুখ আউলা-ঝাউলা দাড়ি। দাড়ি দূরের কথা, দাড়ি যেখানে গজিয়েছিল, মুখ-মুখমন্ডল; সেই মুখমন্ডল লেগে থাকত যে শরীরে, সেই শরীর! আর ওই গোটা শরীর নিয়ে দিব্যি দাবড়ে বেড়িয়েছেন দেশময় কিন্তু এই দেশের চৌকশ পুলিশ বাহিনী তার শরীর দূরে থাক দাড়িটিও খুঁজে পেত না। গোপন কেশের কথা না-হয় নাই বললাম...।
এটা আসলে যাদু, স্রেফ যাদু।

ইনি আমাদের বঙ্গাল ভাই। আপনারা চাইলে নিজ দায়িত্বে বাংলা ভাইও বলতে পারেন। তবে ইনাকে একবার আটকানো হয়ছিল। এই বঙ্গাল ভাইয়ের জেলখানায় বিভিন্ন মহাপুরুষদের সঙ্গে উঠা-বসা ছিল, উঠ-বস না (রিমেম্বার, আপনারা উঠবস শুনে আবার অন্য কিছু ভাবলেন না, বাট আ য়্যাম নট শিয়্যুর। 'হৈলেও হৈতারে'।)।
যাই হোক, জেল থেকে বেরিয়ে তিনি চিন্তা করলেন কি পেশা বেছে নেবেন? লেখক হয়ে লাভ নাই, লেখালেখি করে এই দেশে ভাত দূরের কথা রুটিও মেলে না। ফাও গালি মেলে!

শোনা কথা, একটা ওয়েব-সাইটে নাকি এসেছিলেন চাকরির জন্য। ওই ওয়েব-সাইটটা চালান আবার একজন বিদেশী। প্রথমে সবাই ধারণা করেছিল তিনি বিদেশী হয়ে এসেছেন আমাদের বাংলা উদ্ধার করতে, ত্রাণকর্তা। ক্রমশ সবার ভুল ভাঙ্গল!
ওই ব্লগাধিপতির সঙ্গে কথাবার্তা ছিল নিম্নরূপ-
বঙ্গাল ভাই: হা-ডু-ডু, হালু-হালু, আপনে ভালু?
ওই ব্লগাধিপতি: কথা নাম্বার এক, আমি হা-ডু-ডু খেলা পারি না। কথা নাম্বার দুই, আমি হালু-আলু খাই না। আর আমি ভালু না। আমার শরীরে আপনার মত লোমও নাই যে...।
বঙ্গাল ভাই: 'আচ্ছা-আচ্ছা'। আলু না, পুছ করলাম ভালু আছেন কিনা?
ব্লগাধিপতি: আপনি এভাবে বাংলা বলছেন কেন? হয় শুদ্ধ করে বাংলা বলেন নইলে ইংরাজি।
বঙ্গাল ভাই (উষ্মা নিয়ে): ইংরাজী মুরতাদের ভাষা, মুরতাদের ভাষা বললে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয়। এস্তেঞ্জার পর শিরীষ কাগজ ব্যবহার করতে হয়। এইটা বড় কষ্ট, তাই আমি মুরতাদের ভাষায় কথা বলি না। যাক, বাংলা যখন বুঝতে পারেন, বাঁচলাম। একটা চাকরি চাইছিলাম।
ব্লগাধিপতি (বিস্মিত হয়ে): এখানে আপনি কী চাকরি করবেন?
বঙ্গাল ভাই: আমার নাম শোনেন নাই, আমি বঙ্গালভাই। পাবলিকদের ছহীহ বংলা শিখাব।
ব্লগাধিপতি: দু:খিত, আমার এই সাইটে বাংলা জানা লোকদের অভাব নাই।

এরপর... বঙ্গাল ভাই যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গিয়েছিলেন, বোমা মেরে এই ওয়েব-সাইটের সমস্ত নরমতার (সফটওয়্যার মুরতাদের ভাষা বলে তিনি এটা উচ্চারণ করেননি) এলোমেলো করে দেবেন।
অবশেষে নিরুপায় বঙ্গালভাই পীর হয়ে গেলেন, পীর হতে নাকি কোন যোগ্যতা লাগে না—কোন পরীক্ষাও দিতে হয় না! কী মজা!
তো, পীর হয়ে প্রতি নিঃশ্বাসে হাক মাওলা-হাক মাওলা বলেন! লোকজনের সব সমস্যার সমাধান দেন!
সবচেয়ে বেশি নামডাক হলো, বঙ্গাল হুজুরের দোয়ায় শতশত সন্তান প্রত্যাশী মহিলার (পুরুষদের হওয়ার নিয়ম নাই) সন্তান হল। সিস্টেমটা কী জানা যায়নি কিন্তু হুজুরের দোয়া বিফলে যায় কমই! আর বাচ্চাগুলোও মাশাল্লাহ! বাচ্চাগুলোর চেহারাও হয় বঙ্গাল হুজুরের মত, বঙ্গানুরানি!

কী কারণে জানা যায়নি হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাইয়ের মনে একদিন ভয় ঢুকল। আল্লার ভয় না, এইডসের ভয়! সম্ভবত কারও কাছে শুনেছিলেন এইডস হলে বাঁচার উপায় নাই। বাঁচতে হলে জানতে হবে। পীর সাহেবরা আপামর জনতার সব রোগের চিকিত্সা করেন কিন্তু নিজের চিকিত্সা করান ডাক্তার দিয়ে! বঙ্গাল হুজুরেরও ডাক্তারের কাছে না-গিয়ে উপায়ই বা কী! বাঁচতে হলে জানতে হবে।

ডাক্তার: আপনি কি কোন নেশায় আসক্ত? সুঁই ব্যবহার করেন?
বঙ্গাল ভাই: ('হামোশ' কুতুয়া বলতে গিয়ে রাগ চেপে) নাহ, আমার কেবল একটাই নেশা। চার্জারে বোমা রাখা আর সুযোগ পেলে তা ফাটিয়ে দেয়া।
ডাক্তার (বিভ্রান্ত চোখে) : নিজের রেকটা...(সেন্সর) ফাটালে বেঁচে থাকেন কেমন করে!
বঙ্গাল ভাই (অমায়িক হেসে): আরে, না-না, ওখানে রাখি কিন্তু ফাটাই অন্যখানে। আমার বিষয়টা একটু 'গোফনিয়'। কাছে আসেন কানে-কানে বলি।
ডাক্তার (ভয়ে-ভয়ে) : কে জানে এর চার্জারের বোমাটা না এক্ষুনি ফেটে যায়।
সব শুনে ডাক্তার সাহেব বঙ্গাল ভাইকে বললেন, আপনি কনড...ব্যবহার করেন, যেটা প্রত্যেক দায়িত্ববান পুরুষ বিশেষ সময়ে ব্যবহার করে, এইডস থেকে বাঁচার এটাই উপায়।

হুজুরেআলা বঙ্গাল ভাই অপার আনন্দে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ফিরে এলেন এবং কনড... ব্যবহার করে এখন দস্তরমতো দায়িত্ববান পুরুষ! বাঁচতে হলে জানতে হয়।

কিন্তু হায়! বিকট একটা সমস্যা দেখা দিল, ;‘দায়িত্ববান পুরুষ’ বঙ্গাল ভাই হুজুরের দোয়া এখন আর কাজ করে না, মহিলাদের সন্তান হওয়া বন্ধ হয়ে গেল। কেন বন্ধ হয়ে গেল এই বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে লাভ নাই। কারণ...

*সত্যর চেয়ে পাজি আর নাই। কখনও বাস্তব কল্পনাকেও হার মানায়! ভারতের একটি উপাসনালয়ের ধর্মগুরুরা অবিকল এমন একটা সমস্যায় পড়েছিলেন। বিশাল একটা গোত্রকে আহত করা সমীচীন মনে করিনি বলে স্থান-কাল-পাত্র উল্লেখ করলাম না।

**অংশবিশেষ ছাপা হয়েছিল শুভ'র ব্লগিং বইয়ে।