ক্যাসিনো নিয়ে সবাই হঠাৎ ক্ষেপে গেল। জূয়া বলে হয়তো। জুয়া না-হলে সমস্যা ছিল না। বিষয়টা দেখছি খুবই গুরুগম্ভীর! কিছু হালকা চালের কথা বলা যাক। এক চিড়িয়াখানায় লোকজনেরা এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ এক লোককে দেখা গেল 'গুছলেংটি' দিয়ে এক দৌড়ে কিউরেটরের কাছে হাজির। হন্তদন্ত হয়ে বললেন, 'তাড়াতাড়ি আসুন আমার সঙ্গে, ওরাংওটাংরা তাস খেলছে'।
Showing posts with label স্বপ্নভংগ. Show all posts
Showing posts with label স্বপ্নভংগ. Show all posts
Friday, September 27, 2019
ক্যাসিনো কড়চা।
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Wednesday, June 10, 2015
মোদি এবং গদি!
গদি জিনিসটা বড়োই বিচিত্র! কী অবলীলায়ই না বদলে ফেলে মানুষকে, কালে-কালে নরাধম হয়ে উঠে অধম থেকে উত্তম। আবার শিশু হয়ে যায় পশু, পশু হয় শিশু। আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমাদের দেশে যে জয়জয়কার এ কেবল তিন উল্লাস না, তেত্রিশ উল্লাস অথচ এই মানুষটারই হাতে লেগে আছে গুজরাট দাঙ্গায় বড়ো অবহেলায় ভেসে যাওয়া কতশত গ্যালন রক্ত! যথারীতি সেই রক্ত পশুর না, মানুষের! রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না। আর আমরা কী ভুলে গেছি মোদির হামবড়া সেইসব কথা [১]!
এমনিতে অবশ্য আমরা বড়ো বিস্মৃতপরায়ণ জাতি- গোল্ডফিসের ন্যায় অতি দ্রুত ভুলে যাওয়ার রোগ আছে আমাদের- গোল্ডফিস জাতি! কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই প্রোটোকল তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন না- আমাদের মিডিয়া তো হাত না পায়ের নাটবল্টু খুলে লিখছে, এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা জরুরি কিন্তু এই জন্য হাত-পার জয়েন্ট খুলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না।
সুপার পাওয়ার- প্রচন্ড ক্ষমতাধর একজন বুদ্ধিমান মানুষ, যার দৃষ্টি বহু দূরে সে দুবলাপাতলা মানুষদের সঙ্গে খিটিমিটি এড়িয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও...। ছিটমহল সমস্যার সমাধানের জন্য এই মানুষটা লম্বা এক সেলামের হকদার। কেবল এই একটা কারণে যদি রক্তের দাগটা ফিকে হয়। আর বাকীসব...? এক হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ তো আর ভারত মাগনা দেবে না। ত্রিপুরায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় আমাদের তিতাস নদী, রাস্তাঘাট লন্ডভন্ড হয়েছিল [২] এটা আমাদের চেয়ে বেশী কে জানে।
যাই হোক, নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে, তার অজানা কর্মকান্ড নিয়ে লিখেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক, আরাফাতুল ইসলাম।
“ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটার, ফেসবুকে বেশ তৎপর। তিনি কোন দেশ সফরে যাওয়ার আগেই সেদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্ট ট্রেন্ড করতে শুরু করেন। আর এজন্য শুধু জনতার উপর ঠিক ভরসা করেন না তিনি। মাঝে মাঝে বড় অংকের অর্থও খরচ করেন।
কয়েক মাস আগে জার্মানি সফর করেছিলেন মোদি। সেসময় ফেসবুকে তাঁর পাতা থেকে করা জার্মানি সফর সংক্রান্ত পোস্টটি মোটামুটি জার্মানির সকল ফেসবুক ব্যবহারকারী দেখেছেন। পোস্টটি বিপুল অর্থ খরচ করে স্পন্সর করা হয়েছিল মোদীর পাতা থেকে। টুইটারে তখন তাঁকে ঘিরে একটি ‘হ্যাশট্যাগ’-ও স্পন্সর করা হয়েছিল ভারতের জনগণের করের টাকা খরচ করে।
জার্মানিতে কিছুটা কেলেঙ্কারির মুখেও পড়েছিলেন তিনি। দেখা যেতো, মোদি যে শহরেই যান, সেই শহরেই কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে জটলা তৈরি করে এবং তাঁর পক্ষে স্লোগান দেয়। জার্মান গোয়েন্দারা সেসব জটলায় বেশ কিছু কমন ফেস আবিষ্কার করেছিল। সহজেই বোধগম্য, সেসবও ছিল খানিকটা তৈরি করা। দেখানো যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।
এমনকি জার্মান চ্যান্সেলরও এসব দেখে বিরক্ত হয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন সেই সফর কভার করা এক সাংবাদিক। মোদীর আনুষ্ঠানিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলা ভাষায় করা টুইটও নতুন কিছু নয়। বিশ্বের আরো অনেক ভাষায় এই অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করা হয়েছে। উদ্দেশ্য সেসব ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা। বাঙালি সহজ-সরল জাতি। তাই বাংলা টুইটে তারা যারপরনাই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মিডিয়াও কোন রকম ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ছাড়া সেসব প্রকাশ করে মোদীকে সহায়তা করছেন। তাই বাংলাদেশে এখন টপ ট্রেন্ড #ModiInBangladesh।
বিষয়টি মন্দ কিছু নয়। তবে আমি ঠিক মুগ্ধ হতে পারছি না, মোদীর এসব কৌশল জানি বলে। আসলে, মোদি দেখাতে চান তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বে। এজন্য তাঁর অনলাইন টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য মাঝেমাঝে বাগড়া দেয় ভারতের জনগণই। #ModiInsultsIndia সেরকম এক বাগড়ার ফসল।“ -আরাফাতুল ইসলাম।
সহায়ক সূত্র:
১. ঘোর কলিকাল: http://www.ali-mahmed.com/2014/05/blog-post_16.html
১. তিতাস একটি...এর নাম: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
এমনিতে অবশ্য আমরা বড়ো বিস্মৃতপরায়ণ জাতি- গোল্ডফিসের ন্যায় অতি দ্রুত ভুলে যাওয়ার রোগ আছে আমাদের- গোল্ডফিস জাতি! কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই প্রোটোকল তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন না- আমাদের মিডিয়া তো হাত না পায়ের নাটবল্টু খুলে লিখছে, এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা জরুরি কিন্তু এই জন্য হাত-পার জয়েন্ট খুলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না।
সুপার পাওয়ার- প্রচন্ড ক্ষমতাধর একজন বুদ্ধিমান মানুষ, যার দৃষ্টি বহু দূরে সে দুবলাপাতলা মানুষদের সঙ্গে খিটিমিটি এড়িয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও...। ছিটমহল সমস্যার সমাধানের জন্য এই মানুষটা লম্বা এক সেলামের হকদার। কেবল এই একটা কারণে যদি রক্তের দাগটা ফিকে হয়। আর বাকীসব...? এক হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ তো আর ভারত মাগনা দেবে না। ত্রিপুরায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় আমাদের তিতাস নদী, রাস্তাঘাট লন্ডভন্ড হয়েছিল [২] এটা আমাদের চেয়ে বেশী কে জানে।
যাই হোক, নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে, তার অজানা কর্মকান্ড নিয়ে লিখেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক, আরাফাতুল ইসলাম।
“ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটার, ফেসবুকে বেশ তৎপর। তিনি কোন দেশ সফরে যাওয়ার আগেই সেদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্ট ট্রেন্ড করতে শুরু করেন। আর এজন্য শুধু জনতার উপর ঠিক ভরসা করেন না তিনি। মাঝে মাঝে বড় অংকের অর্থও খরচ করেন।
কয়েক মাস আগে জার্মানি সফর করেছিলেন মোদি। সেসময় ফেসবুকে তাঁর পাতা থেকে করা জার্মানি সফর সংক্রান্ত পোস্টটি মোটামুটি জার্মানির সকল ফেসবুক ব্যবহারকারী দেখেছেন। পোস্টটি বিপুল অর্থ খরচ করে স্পন্সর করা হয়েছিল মোদীর পাতা থেকে। টুইটারে তখন তাঁকে ঘিরে একটি ‘হ্যাশট্যাগ’-ও স্পন্সর করা হয়েছিল ভারতের জনগণের করের টাকা খরচ করে।
জার্মানিতে কিছুটা কেলেঙ্কারির মুখেও পড়েছিলেন তিনি। দেখা যেতো, মোদি যে শহরেই যান, সেই শহরেই কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে জটলা তৈরি করে এবং তাঁর পক্ষে স্লোগান দেয়। জার্মান গোয়েন্দারা সেসব জটলায় বেশ কিছু কমন ফেস আবিষ্কার করেছিল। সহজেই বোধগম্য, সেসবও ছিল খানিকটা তৈরি করা। দেখানো যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।
এমনকি জার্মান চ্যান্সেলরও এসব দেখে বিরক্ত হয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন সেই সফর কভার করা এক সাংবাদিক। মোদীর আনুষ্ঠানিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলা ভাষায় করা টুইটও নতুন কিছু নয়। বিশ্বের আরো অনেক ভাষায় এই অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করা হয়েছে। উদ্দেশ্য সেসব ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা। বাঙালি সহজ-সরল জাতি। তাই বাংলা টুইটে তারা যারপরনাই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মিডিয়াও কোন রকম ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ছাড়া সেসব প্রকাশ করে মোদীকে সহায়তা করছেন। তাই বাংলাদেশে এখন টপ ট্রেন্ড #ModiInBangladesh।
বিষয়টি মন্দ কিছু নয়। তবে আমি ঠিক মুগ্ধ হতে পারছি না, মোদীর এসব কৌশল জানি বলে। আসলে, মোদি দেখাতে চান তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বে। এজন্য তাঁর অনলাইন টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য মাঝেমাঝে বাগড়া দেয় ভারতের জনগণই। #ModiInsultsIndia সেরকম এক বাগড়ার ফসল।“ -আরাফাতুল ইসলাম।
সহায়ক সূত্র:
১. ঘোর কলিকাল: http://www.ali-mahmed.com/2014/05/blog-post_16.html
১. তিতাস একটি...এর নাম: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Saturday, December 12, 2009
গীনসবার্গ, 'চোরা' করসো এবং আমাগো গুণ!
একজন কবি কেমন করে শব্দের বোমা ফাটান এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ গীনসবার্গ।
এই মার্কিন কবি লিখলেন:
এই মার্কিন কবি লিখলেন:
"...America when will you end the human war?Go fuck yourself with atom bombI don't feel good don't bother me."(America: Allen Ginsberg)
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর সেই বিখ্যাত কবিতা:
"...millions of fathers in rainmillions of mothers in painmillions of brothers in woemillions of sisters nowhere to go."(september on Jessore road)
বিট ঘরানার এই কবি বিট ঘরানার আরেক তারকা কবি গ্রেগরী করসো দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। করসো চৌর্যবৃত্তির কারণে জেল খেটেছিলেন। যা তার কবিতায় উঠে আসে:
"I was happy I bubbly drunkThe street was darkI waved to a young policemanHe smilled..."(Second night in N. Y. C. after 3 years)
গীনসবার্গ তরুণদের মাঝে উম্মাদনা ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন ভালই। নিজে স্বঘোষিত সমকামি ছিলেন। সমকামিতা যদি জৈবিক সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে বলা যায় এর বিস্তারে তাঁর ভূমিকা প্রবল। গীনস যখন প্রকাশ্যে তার যুবক কবিবন্ধুর ঠোঁটে দীর্ঘ চুমু খান তখন নির্মলেন্দু গুণ বলেন, "I appreciate your feeling."
গীনস একবার আক্ষেপ করে বলছিলেন, "আমি বুঝি না মদের মত একটা বিষাক্ত জিনিস নিয়ে সমাজে আপত্তি নাই অথচ মারিজুয়ানার মত স্বর্গীয় জিনিসকে নিয়ে কেন আপত্তি করা হয়"।
তিনি নাকি ভারত চলে এসেছিলেন উৎকৃষ্ট গাঁজার লোভে। গীনসবার্গ তাঁর কবিতা লেখা নিয়ে বলেন: "শোন, যখন বুঝি কবিতা আসছে তখন গাঁজা-টাজা নিয়ে ঘর বন্ধ করে বসে যাই, চলতে থাকে মাদক গ্রহন এবং কবিতা প্রসব"।
একবার তিনি মঞ্চে কবিতা পাঠ শেষ করার পর একজন তরুণী জিজ্ঞেস করল, "মি. গিনসবার্গ, আপনার এই কবিতার অর্থ কী"?
গিন্সবার্গ বিড়বিড় করলেন, "অর্থ, আচ্ছা অর্থ"। এই বলে তিনি ট্রাউজার খুলে অসংখ্য দর্শকের সামনে দিয়ে নগ্ন হয়ে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন।
আমি মনে করি, (এটা আমার নিজস্ব মত), একজন হুমায়ূন আহমেদ (কারণ তিনি তেলিবেলি কেউ না, লক্ষ-লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন) যখন সিগারেট হাতে প্রচ্ছদে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন, একজন কবি যখন ড্রাগ নিয়ে মাতামাতি করেন, আমার কাছে এঁদের পোকা-পোকা মনে হয়।
গীনস একবার আক্ষেপ করে বলছিলেন, "আমি বুঝি না মদের মত একটা বিষাক্ত জিনিস নিয়ে সমাজে আপত্তি নাই অথচ মারিজুয়ানার মত স্বর্গীয় জিনিসকে নিয়ে কেন আপত্তি করা হয়"।
তিনি নাকি ভারত চলে এসেছিলেন উৎকৃষ্ট গাঁজার লোভে। গীনসবার্গ তাঁর কবিতা লেখা নিয়ে বলেন: "শোন, যখন বুঝি কবিতা আসছে তখন গাঁজা-টাজা নিয়ে ঘর বন্ধ করে বসে যাই, চলতে থাকে মাদক গ্রহন এবং কবিতা প্রসব"।
একবার তিনি মঞ্চে কবিতা পাঠ শেষ করার পর একজন তরুণী জিজ্ঞেস করল, "মি. গিনসবার্গ, আপনার এই কবিতার অর্থ কী"?
গিন্সবার্গ বিড়বিড় করলেন, "অর্থ, আচ্ছা অর্থ"। এই বলে তিনি ট্রাউজার খুলে অসংখ্য দর্শকের সামনে দিয়ে নগ্ন হয়ে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন।
আমি মনে করি, (এটা আমার নিজস্ব মত), একজন হুমায়ূন আহমেদ (কারণ তিনি তেলিবেলি কেউ না, লক্ষ-লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন) যখন সিগারেট হাতে প্রচ্ছদে পোজ দিয়ে ছবি তোলেন, একজন কবি যখন ড্রাগ নিয়ে মাতামাতি করেন, আমার কাছে এঁদের পোকা-পোকা মনে হয়।
এই গ্রহে ড্রাগ নামের দানবটাকে লালন-পালন করেন কবি-গায়করা। এরা তৎকালিন প্রজন্মকে প্রভাবিত করার বিপুল ক্ষমতা রাখেন বলে অনায়াসে এই কাজটা করতে পারেন। ড্রাগস কেবল একজন তরুনকেই শেষ করে দেয় না, গোটা পরিবারটাকেই ভাসিয়ে দেয়।
আহা রে, ড্রাগ-ট্রাগ না নিলে তো আবার কবি-টবি হওয়া যায় না; কী আর করা!
আহা রে, ড্রাগ-ট্রাগ না নিলে তো আবার কবি-টবি হওয়া যায় না; কী আর করা!
গ্রেগরী করসো যখন আমাদের বাংলাদেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষের ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু নিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কাছে জনসমক্ষে, প্রকাশ্যে আদি রসাত্মক অতি কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করে, অতি হৃদয়হীন মন্তব্য করেন, "তোমাদের দেশ তো খুব ফারটাইল, প্রতিদিন হাজার হাজার মানবসন্তানের জন্ম দিচ্ছ তোমরা। ...ছাউ ফুটানোর কাজটা তোমরা ভালই পার।"
তখন গুণ দাদার গলা দিয়ে স্বর বের হয় না। চিঁ চিঁ করে বলেন, "তা তুমি ঠিকই বলেছ, We born in billions & die in millions."
আহা, মার্কিন মুল্লুকে গুণ দাদা যে কত বড় কবি এই সার্টিফিকেটটা এদের কাছ থেকে বাগাতে হবে যে। এরাই আমাদেরকে সার্টিফিকেট বিলি করবেন, আবার মানবতাও শেখাবেন। এতে করে গুণের সামনে তাঁর মা, দেশমাকে নগ্ন করলে কী আসে যায়!
এদিকে ফার্লিংঘেট্টি আন্ডারওয়্যার নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভোর করে দেন। বিপুল ভাবনার কবিতা প্রসব করেন:
"I didn't much sleep last nightthinking about underwear..."(Underwear: L. Ferlinghetti)
ফালিংঘেট্টি অবশ্য আন্ডারওয়্যার মাথায় বাঁধা যায় কিনা এ নিয়ে কোন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন কিনা এটা জানা যায়নি। এটা নিয়ে একটা গবেষণা হওয়া আবশ্যক! তার ভাবনায় প্রভাবিত হয়েই কিনা কে জানে মাইকেল জ্যাকসন ট্রাউজারের উপর আন্ডারওয়্যার পরা শুরু করেছিলেন কি না, এটাও জানা যায়নি। গুণ দাদা আবার এই কবিতা নিয়ে বড়ো উচ্ছ্বসিত হন। আমিও উচ্ছ্বসিত, এখন আন্ডারওয়্যার পরা ছেড়ে দেব কিনা ভাবছি।
আফসোস, এরা কখনই জানতে পারবে না একজন ছফাকে। বহিঃবিশ্বে আজ এই দেশের লক্ষ-লক্ষ সেরা সন্তানরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কিন্তু অন্তত ইংরাজি ভাষায় অনুবাদ করে এই তথাকথিত মানবতাবাদি মানুষদের কাছে পরিচিত করাবার চেষ্টাও এরা করবে না। আফসোস, ছফার মত মানুষকে ধারণ করা দূরের কথা, তাঁকে নিয়ে বলার যোগ্যতাও আমাদের নাই!
গুণ দাদার খুব একটা দোষ দেই না। আহা, সাদা-লাল চামড়ার (এটা অবশ্য বর্ণবাদি কথা হয়ে গেল) কেউ আমাদের পিঠে হাত না রাখলে, সার্টিফিকেট না দিলে আমাদের বাদামি চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে যায় যে!
আমাদের বিস্মৃত হওয়ার উপায় নেই এ গ্রহের সাহিত্য মানে মার্কিন সাহিত্য আর বাংলাদেশের সাহিত্য মানে হচ্ছে ঢাকার সাহিত্য! এর বাইরে যা আছে সবই বাচ্চার ইয়ে...।
সহায়ক সূত্র:
১. সমকামিতা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html
২. ছফা...: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_15.html
... ... ...
চোরা করসোকে নিয়ে এ আই (মেটা) বেশ উচ্ছ্বসিত:
"Gregory Corso। আমেরিকান কবি। Beat Generation-এর মানুষ। অ্যালেন গিন্সবার্গ, জ্যাক কেরুয়াক, উইলিয়াম বারোজদের বন্ধু। জেল খাটছে, চুরি করছে, এতিমখানায় বড় হইছে।
কিন্তু কলম ধরছে। আর এমন কলম, বোমার চেয়ে ধারালো। করসো লিখছিলো 'Bomb' কবিতা। বোমার সাথে প্রেমের কথা কইছে। লিখছিলো 'Marriage'। বিয়ারে ধুইয়া দিছে।
লিখছিলো 'Power'। ক্ষমতারে ল্যাংটা করছে।
করসোর একটা লাইন আছে:
'I am a great poet. I don’t give a fuck what you think.'
আমি বড় কবি। তুমি কী ভাবো, আমার কিছু যায় আসে না।
করসো বৃত্ত ভাঙে। সে রাস্তার মানুষ। চোর। জেলখাটা। সে কয়, বোমারে ভালোবাসি, কারণ বোমা সব সমান কইরা দেয়। রাজা ফকির এক।
করসোর আরেকটা কথা শোনো:
'Standing on a street corner waiting for no one is power.'
রাস্তার মোড়ে দাঁড়ায়া কারো জন্য অপেক্ষা না করা, এইটাই ক্ষমতা।
মরার আগে কইছিলো, 'I don’t want to be forgotten'. আমি ভুলে যেতে চাই না। "
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Sunday, May 17, 2009
হে অভিমানাহত বৃক্ষ, ছেড়ে গেলে কেন!
কালবৈশাখির ঝড়, আমার লেখালেখির প্রথম আয়ের টাকায় কেনা, স্বহস্তে লাগানো ক্রিসমাস-ট্রি গাছটাকে ফেলে দিল! আমি শোকে মূহ্যমান।কিন্তু আমার মাথায় ঘুরপাক খায়, গাছটা কী আমায় ছেড়ে গেল, অভিমানাহত শিশুর মত?
কেউ বাসায় আসলে আমি যে ঘটা করে বলতাম, বুঝলেন, এইটা না আমার লেখালেখির প্রথম আয়ের...বুঝলেন...ইয়ে বুঝ...। অন্য সময় ফিরেও তাকাতাম না- আমার সেই চোখ আজ কই? কতদিন হাত বুলানো হয়নি তোমার গায়ে! আমার উদাসীনতা তোমার বুঝি ভাল লাগেনি? তাই বুঝি অভিমান হয়েছে খুব! বেশি?
কোথাও পড়েছিলাম, "একজন ভয়াবহ রোগাক্রান্ত, তার স্বহস্তে লাগানো বৃক্ষ জড়িয়ে ধরে সারাদিন বসে থাকত। একসময় মানুষটা ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠে, বৃক্ষটি মারা যায়"।
হে অভিমানাহত বৃক্ষ, বাপ আমার, আমি কী তোমায় জড়িয়ে ধরে কোন দিন বলেছি, আমাকে বাঁচিয়ে তুমি মরে যাও? বল, বলেছি? আমার গায়ে হাত দিয়ে বলো, বলেছি ক-কখখনো...?
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Saturday, April 18, 2009
বেলের শরবত বনাম কর্মফল!
" স্বামী বিবেকানন্দের কাছে সন্ন্যাসীর মত দেখতে একজন মানুষ আসলেন। সন্ন্যাসী টাইপের মানুষটা একটা স্বাস্থ্যবতী গাভীর ছবি বের করে স্বামী বিবেকানন্দের হাতে দিয়ে বললেন, আমি একজন গোরক্ষা সভার একজন প্রচারক।
স্বামী বিবেকানন্দ খুব মনোযোগ দিয়ে ছবিটা দেখে বললেন, আপনার সভার কাজটা কি একটু বুঝিয়ে বলুন তো?
সন্ন্যাসী: আমরা কসাইদের হাত থেকে গো-মাতাদের রক্ষা করি।
স্বামী: কিন্তু যেসব গরু বুড়া হয়ে যাবে এদের গতি কী, চাষী বা গোয়ালার কাছে তো এদের কোন মূল্য নাই!
সন্ন্যাসী: এইসব গরুদের জন্য আমরা আশ্রম করে সেবা করব।
স্বামী: উত্তম! তা এখন তো দেশে মহা দুর্ভিক্ষ, নয় লক্ষ লোক মারা গেছে। এই বিষয়ে আপনাদের চিন্তা ভাবনা কি?
সন্ন্যাসী: এসব বিষয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। গো-মাতা রক্ষা না-পেলে হিন্দু ধর্ম রসাতলে যাবে!
স্বামী: কী আশ্চর্য, এত প্রাণ যাচ্ছে আর আপনি বলছেন, আশ্চর্য! যাই হোক, অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও গো-মাতা রক্ষা কাজ বাদ দিয়ে এদিকে একটু সময় দিলে হয় না?
সন্ন্যাসী: গো-মাতার কথা ভুলে যাব! মশায়, আপনি বেশ লোক যা হোক! মানুষ মরছে তো আমরা কি করব? মানুষের পাপেই তো দুর্ভিক্ষ। যেমন কর্ম তেমন ফল, মানুষ মরে তার কর্মফলে...।"
প্রসঙ্গটা এখানে দেয়ার শানে-নযুল হচ্ছে: একজন এফসিপিএস ডাক্তারের সঙ্গে মৃদু বাদানুবাদ হল আমার। ডাক্তার সাহেবের বক্তব্য, সমস্ত কিছুর জন্য দায়ি তার কর্মফল।
আমার মেমরি গোল্ড-ফীসের [১] মত। প্রয়োজনের সময়, প্রয়োজনীয় কথাটা কখনই আমি খুঁজে পাই না। বলার সময় শব্দের পিছু ধাওয়া করতে হয়, শব্দগুলো কেবল ফাঁকি দেয় আমায়! প্রায়শ কিচেন, চিকেন গুলিয়ে ফেলি, পাক খেয়ে গুলিয়ে যায় দরজা, জরদা। এ নিয়ে খুব হাসাহাসি হয়, কী আর করা, কপালের ফের! কিন্তু এইবার মেমরি তার দায়িত্ব পালনে পিছপা হল না।
আমি বিমলানন্দে বললাম, বোমা মেরে ফিলিস্তানি শিশুদের যে মেরে ফেলা হল, এই শিশুদের কী অপরাধ?
আমি হতভম্ব হয়ে মানুষটা দিকে তাকিয়ে রইলাম। এমন পড়াশোনা জানা মানুষটা এইসব কী বলছে! আমি দেখলাম এর সঙ্গে তর্ক বৃথা। এর সঙ্গে বাদানুবাদ করার শিক্ষা এখনও অর্জন করতে পারিনি!
ভলতেয়ারের স্পষ্ট কথা:
'কোনো দেশের নিয়তি নির্ভর করে সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কতটুকু পেটের পীড়ায় আক্রান্ত তার উপর'।
তাঁর কথা ধার করে আমি বলি, এ গ্রহের নিয়তি নির্ভর করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কতটুকু পেটের পীড়ায় আক্রান্ত তার উপর। তাঁর বাহ্যে ত্যাগ করা, কোষ্ঠশুদ্ধির উপর। ঠিকঠাক মত ডেলিভারি দিচ্ছেন কিনা তার উপর! কোষ্ঠ নিয়মিত পরিষ্কার থাকলে ভাবনার কিছু নেই। নইলে এর জন্য বেলের শরবতের বিকল্প নাই।
সকাল সকাল হোয়াইট হাউজের বাটলার ঝলমলে মুখে বলবে, খানা লাগানো হয়েছে, মি. প্রেসিডেন্ট। তার আগে বেলের সরবতে চুমুক দিন।
যীশু, এ গ্রহের মঙ্গল করুন, আমেন। জয় হো, জয় হো বেলের শরবত! জয় হো, জয় হো কর্মফল!
*ছবিস্বত্ব: আলী মাহমেদ (সংরক্ষিত)
সহায়ক সূত্র:
১. মেমরি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post.html
২. অন্যায়...: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_10.html
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Friday, March 6, 2009
সামছু ফকির, কার কাছে যাব? আপনার কাছে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন একাধিকবার সামছু ফকিরের সঙ্গে দেখা করেছেন। মাননীয় মন্ত্রী মনে করেন, সামছু ফকিরের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। তিনি গত মঙ্গলবার সাড়ে নয়টায় ওখানে যান। (প্রথম আলো, ০৫.০৩.০৯)
বাবা সামছু ফকির, আপনার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে সালাম জানাই। আচ্ছা, আপনি পিলখানার রক্তাক্ত অধ্যায়টাকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন না, না? পারলে বেশ হত, মৃত ৭৩ জনকে ফিরে পেতাম আমরা! বাবা গো, আপনার ফকিরির কসম, তাইলে আজীবন আপনার ঠ্যাং ছাড়তাম না।
তাও ভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জীবিত একজনের কাছে গেছেন, অলৌকিক কিছু দেখার প্রবল আশায়। খালেদা-হাসিনা-এরশাদ এঁরা তাদের নির্বচনী প্রচারনা শুরু করেছিলেন সিলেট থেকে, মাজার জিয়ারত করে।
এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকাকালিন আটরশির পীরের দরবারে ক-বার গেছেন? হেলিকপ্টারের ১৬ লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। এখন এ নিয়ে গবেষনা হতে পারে!
বাবা সামছু ফকির, আপনার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাকে সালাম জানাই। আচ্ছা, আপনি পিলখানার রক্তাক্ত অধ্যায়টাকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন না, না? পারলে বেশ হত, মৃত ৭৩ জনকে ফিরে পেতাম আমরা! বাবা গো, আপনার ফকিরির কসম, তাইলে আজীবন আপনার ঠ্যাং ছাড়তাম না।
তাও ভাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জীবিত একজনের কাছে গেছেন, অলৌকিক কিছু দেখার প্রবল আশায়। খালেদা-হাসিনা-এরশাদ এঁরা তাদের নির্বচনী প্রচারনা শুরু করেছিলেন সিলেট থেকে, মাজার জিয়ারত করে।
এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় থাকাকালিন আটরশির পীরের দরবারে ক-বার গেছেন? হেলিকপ্টারের ১৬ লাখ টাকার তেল পুড়িয়েছেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছিল। এখন এ নিয়ে গবেষনা হতে পারে!
আমার জানামতে, ইসলাম ধর্মমতে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কোন মাজার জিয়ারত করা যাবে না, এটা কঠিন অপরাধ। কারণ একজন মৃত মানুষ নিজেই থাকেন দৌড়ে- তাঁর কাছে চাওয়ার কিছু নাই! অবশ্য কারও চলার পথে কোন কবর পড়লে সেটায় দোয়া করতে কোন সমস্যা নাই।
এই কদভ্যাস আমাদের কথিত আলোকিত(!) মানুষ হুমায়ূন আহমেদেরও আছে। নিয়ম করে মাজারে যান। তাঁর ভাষায় জিয়ারত না, শৈশবের হালুয়ার স্মৃতির জন্য যান। 'প্রার্থনা দিবস' নামের কলামে তিনি লিখেছিলেন, "...কয়েক দিন আগে আবার মাজারে গেলাম। আমার সঙ্গে ১৯ জনের বিশাল দল। আমার আগ্রহের মুল কারণ হালুয়া..."।
ওনার কথামতে, হালুয়া খেতে। ভদ্রলোককে নাকি শৈশবের হালুয়ার স্মৃতি চাবকাকে চাবকাকে রক্তাক্ত করে ফেলে। মোল্লাদের বাড়াবাড়িতে ইনিই আবার ঘটা করে কলাম লেখেন, "এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব"?
বেশ-বেশ। তা স্যার, আপনার সফরসঙ্গিরা গিয়েছিলেন কেন, এটা তো আর বললেন না। তাঁরাও কী হালুয়া পসন্দ(!) করেন?
হুমাযূন সাহেব কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন এটা তিনি বিলক্ষন জানেন। কিন্তু আফসোস, আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব এটা আমাদের জানা নাই?
রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন পদের শেকল থাকে কিন্তু আমাদের আলোকিত এই মানুষটার পায়ে কিসের শেকল কে জানে! ভানের শেকল? ভদ্রলোকের দেখি ভান এবং হালুয়া দুই-ই ভারী পছন্দের!
এই কদভ্যাস আমাদের কথিত আলোকিত(!) মানুষ হুমায়ূন আহমেদেরও আছে। নিয়ম করে মাজারে যান। তাঁর ভাষায় জিয়ারত না, শৈশবের হালুয়ার স্মৃতির জন্য যান। 'প্রার্থনা দিবস' নামের কলামে তিনি লিখেছিলেন, "...কয়েক দিন আগে আবার মাজারে গেলাম। আমার সঙ্গে ১৯ জনের বিশাল দল। আমার আগ্রহের মুল কারণ হালুয়া..."।
ওনার কথামতে, হালুয়া খেতে। ভদ্রলোককে নাকি শৈশবের হালুয়ার স্মৃতি চাবকাকে চাবকাকে রক্তাক্ত করে ফেলে। মোল্লাদের বাড়াবাড়িতে ইনিই আবার ঘটা করে কলাম লেখেন, "এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব"?
বেশ-বেশ। তা স্যার, আপনার সফরসঙ্গিরা গিয়েছিলেন কেন, এটা তো আর বললেন না। তাঁরাও কী হালুয়া পসন্দ(!) করেন?
হুমাযূন সাহেব কোথায় যাবেন, কার কাছে যাবেন এটা তিনি বিলক্ষন জানেন। কিন্তু আফসোস, আমরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব এটা আমাদের জানা নাই?
রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন পদের শেকল থাকে কিন্তু আমাদের আলোকিত এই মানুষটার পায়ে কিসের শেকল কে জানে! ভানের শেকল? ভদ্রলোকের দেখি ভান এবং হালুয়া দুই-ই ভারী পছন্দের!
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Monday, February 9, 2009
হুড়হুড়ি এবং শ্বাস নেয়া
আমার এখানে কখনও কখনও নাগরিক লোকজনরা আসলে আগে অবাক হতাম, এখন আর হই না। আসলে এরা , আসেন গ্রাম টাইপের কিছু একটা দেখতে। তাদের ভাষায় শ্বাস ফেলতে। ঘুরিয়ে দেখাবার জন্যও তো কাউকে চাই।যাই হোক, এমন লোকজনের সাখে ঘুরছি। এই ফুল দেখে আমি যারপর নাই মুগ্ধ- কী অনাদরেই না রাস্তার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। আগে উচ্ছ্বসিত হতাম, এখন দেখার সেই চোখ কই! হায় ধুলোপড়া চোখ, অসময়ের শ্বাসই ফেলতে পারিনা- এ কষ্ট কাকে বলি, কারই বা শোনার সময়!
যাগ গে, ফটাফট ছবি তোলা। প্রথমে ভেবেছিলাম এটা জংলি ফুল।
অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার মতে, এটার নাম 'হুড়হুড়ি' (cleome spinosa)।
('হুড়হুড়ি' হুড়মুড় করে এদেশে প্লেনে না ঘোড়ায় চড়ে এসেছে তা জানা যায়নি কিন্তু এসেছে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। খানদানি বংশ! দায়ে পড়ে রিকশা চালায় অনেকটা এমন- কার সংগে যেন বড় মিল!)
*ছবিস্বত্ব: সংরক্ষিত
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Friday, November 23, 2007
মিশন পসিবল বলে কোন শব্দ নেই...
`মিশন পসিবল'- বন্যা নিয়ে একটা লিখেছিলাম। আসলে মিশন পসিবলের স্বপ্ন দেখে আমার মত এমন একজন নপুংসক- যার স্বপ্ন দেখা ব্যতীত আর কিছুই করার নাই!
আজকাল নিজের জাগতিক যন্ত্রণার সংগে যোগ হয় অনাকাংখিত যন্ত্রণা। মস্তিষ্কে সব কেমন জট পাকিয়ে যায়- কে জানে, জট পাকাতে পাকাতেই কী মানুষ উম্মাদ হয়ে যায়! আফসোস, মস্তিষ্কের কিছু স্মৃতি টান মেরে ফেলে দেয়া যেত যদি! হয় না এমন, না!
এই সরকারের কাজ অনেকখানি গোছানো কিন্তু মিশন পসিবলের স্বপ্ন কই! সিডরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কই!
এবার নাগরিক, আধা-নাগরিক লোকজনের মাঝে কষ্টের ছাপটা বেশি। অনুমান করি, বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজনের অবদান আছে এতে- নিরলস পরিশ্রম করে বিভিন্ন রিপোর্ট করেছেন এরা। গভীর কৃতজ্ঞতা আমাদের।
হায় সিডর, একটা ঝড়। দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা ঝড় লন্ডভন্ড করে দিল সব। এ দেশের অভাগা মানুষরা বন্যার পর যখন মাত্র উঠে দাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই। পত্রিকা পড়তে এখন ইচ্ছা করে না। আজকাল বাড়তি চাপ নিতে পারি না- বড় ভংকুর হয়ে গেছি।
কী পড়ব?
পরিবারের সবাই মরে গেছে, একজন বেচে আছে। কার কাছে এই প্রশ্ন করব সে কেন বেচে আছে?
যে মা মিছামিছি ডেগ বসিয়ে রেখেছেন নিবানো চুলায়- তার সন্তানকে প্রবোধ দেয়ার জন্য, রান্না হচ্ছে, খাবার মিলবে। এই মিথ্যাচারের জন্য এই মাকে কোন আইনে বিচার করা হবে, কোন আইনে?
যে শিশুটির জানাজা পড়ছে অল্প কজন লেংটিপড়া মানুষ। লেংটি পড়ে জানাজা পড়ার ধর্মীয় নিয়ম আছে কী? এই নিয়মের ব্যত্যয় করায়, এই মানুষদের ধর্মীয় অনুশাসন ভংগ করার জন্য সহীহ হাদিস-জয়ীফ হাদিসের কেতাবটা খোলা হবে না বুঝি?
৫টা বিস্কুট ত্রাণ নেয়ার জন্য উঠেছে শত কাতর হাত- এই নিবোর্ধ আচরণের জন্য কী এদের কোন শাস্তি হবে না?
প্রথম আলোকে দেখছি ত্রাণভর্তি জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে। কার মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে জানি না কিন্তু আমি ওই আইডিয়াবাজ মানুষটাকে স্যালুট করি! এক্ষণ এটার বড় প্রয়োজন।
ত্রাণ আসছে, ত্রাণ আসবে- জীবন্মৃত মানুষদের এতে কী কাজ!
আমাদের কারাবন্দী রাজনীতিবিদরা ছটফট করছেন, কেন তাদের ত্রাণ বিতরণ করতে দেয়া হচ্ছে না। কারামুক্ত থাকতে দেখেছি এরা নিজেরাই নিজেদের সামলাতে পারেন না- সামলাতে চারপাশে লোক না হলে চলে না। এরা নাকি দেবেন ত্রাণ- বছরের সেরা রসিকতা বটে!
ফি বছর আমরা এমনসব দৃশ্য আমরা দেখেই যাব। কলমের কালি খরচ করার তো এখন রীতি নাই, হালের কী বোর্ড টেপাটেপি করে আমার মত সস্তা কলমবাজ ছাতাফাতা একটা লেখা লেখার চেষ্টা করা। তারপর যথারীতি ভুলে যাওয়া, আগামী একটা বিপযর্য়ের জন্য অপেক্ষা...।
*এই লেখাটার বক্তব্য বোঝার জন্য মিশন পসিবল লেখাটিতে চোখ বুলানো আবশ্যক।
আজকাল নিজের জাগতিক যন্ত্রণার সংগে যোগ হয় অনাকাংখিত যন্ত্রণা। মস্তিষ্কে সব কেমন জট পাকিয়ে যায়- কে জানে, জট পাকাতে পাকাতেই কী মানুষ উম্মাদ হয়ে যায়! আফসোস, মস্তিষ্কের কিছু স্মৃতি টান মেরে ফেলে দেয়া যেত যদি! হয় না এমন, না!
এই সরকারের কাজ অনেকখানি গোছানো কিন্তু মিশন পসিবলের স্বপ্ন কই! সিডরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কই!
এবার নাগরিক, আধা-নাগরিক লোকজনের মাঝে কষ্টের ছাপটা বেশি। অনুমান করি, বিভিন্ন মিডিয়ার লোকজনের অবদান আছে এতে- নিরলস পরিশ্রম করে বিভিন্ন রিপোর্ট করেছেন এরা। গভীর কৃতজ্ঞতা আমাদের।
হায় সিডর, একটা ঝড়। দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা ঝড় লন্ডভন্ড করে দিল সব। এ দেশের অভাগা মানুষরা বন্যার পর যখন মাত্র উঠে দাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই। পত্রিকা পড়তে এখন ইচ্ছা করে না। আজকাল বাড়তি চাপ নিতে পারি না- বড় ভংকুর হয়ে গেছি।
কী পড়ব?
পরিবারের সবাই মরে গেছে, একজন বেচে আছে। কার কাছে এই প্রশ্ন করব সে কেন বেচে আছে?
যে মা মিছামিছি ডেগ বসিয়ে রেখেছেন নিবানো চুলায়- তার সন্তানকে প্রবোধ দেয়ার জন্য, রান্না হচ্ছে, খাবার মিলবে। এই মিথ্যাচারের জন্য এই মাকে কোন আইনে বিচার করা হবে, কোন আইনে?
যে শিশুটির জানাজা পড়ছে অল্প কজন লেংটিপড়া মানুষ। লেংটি পড়ে জানাজা পড়ার ধর্মীয় নিয়ম আছে কী? এই নিয়মের ব্যত্যয় করায়, এই মানুষদের ধর্মীয় অনুশাসন ভংগ করার জন্য সহীহ হাদিস-জয়ীফ হাদিসের কেতাবটা খোলা হবে না বুঝি?
৫টা বিস্কুট ত্রাণ নেয়ার জন্য উঠেছে শত কাতর হাত- এই নিবোর্ধ আচরণের জন্য কী এদের কোন শাস্তি হবে না?
প্রথম আলোকে দেখছি ত্রাণভর্তি জাহাজ নিয়ে বেরিয়ে পড়তে। কার মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে জানি না কিন্তু আমি ওই আইডিয়াবাজ মানুষটাকে স্যালুট করি! এক্ষণ এটার বড় প্রয়োজন।
ত্রাণ আসছে, ত্রাণ আসবে- জীবন্মৃত মানুষদের এতে কী কাজ!
আমাদের কারাবন্দী রাজনীতিবিদরা ছটফট করছেন, কেন তাদের ত্রাণ বিতরণ করতে দেয়া হচ্ছে না। কারামুক্ত থাকতে দেখেছি এরা নিজেরাই নিজেদের সামলাতে পারেন না- সামলাতে চারপাশে লোক না হলে চলে না। এরা নাকি দেবেন ত্রাণ- বছরের সেরা রসিকতা বটে!
ফি বছর আমরা এমনসব দৃশ্য আমরা দেখেই যাব। কলমের কালি খরচ করার তো এখন রীতি নাই, হালের কী বোর্ড টেপাটেপি করে আমার মত সস্তা কলমবাজ ছাতাফাতা একটা লেখা লেখার চেষ্টা করা। তারপর যথারীতি ভুলে যাওয়া, আগামী একটা বিপযর্য়ের জন্য অপেক্ষা...।
*এই লেখাটার বক্তব্য বোঝার জন্য মিশন পসিবল লেখাটিতে চোখ বুলানো আবশ্যক।
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Friday, June 29, 2007
হরতাল নাকি গণতন্ত্রের ঢাল!
হরতাল নিয়ে আমি আরও লিখব, ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত- নাথিং গনা স্টপ মী! হরতালে আমার নিজেকে মানুষ বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়- একটি পাখির কাছ থেকে গোটা আকাশটা ছিনিয়ে, ছোট্ট একটা খাঁচায় আটকে ফেলা! তার কানের কাছে অশুভ মন্ত্র অনবরত পড়তে থাকা। তুমি স্বাধীন, তুমি মুক্ত- উড়ে বেড়াও ডানা মেলে; ডানা তোমার ছিড়তে থাকুক একেক করে!
হরতাল প্রসঙ্গে এ দেশের সেরা সন্তান বা শক্তিশালী মানুষদের প্রতি আমার সীমাহীন রাগ আছে। এঁরা কী তুচ্ছ বিষয় নিয়েই না হইচই করেন অথচ হরতাল নিয়ে গা করেননি! কয়েকটা উদাহরণ দেই:
১. হুমায়ূন আহমেদ, এমন খুব কম বিষয় আছে, যেটা নিয়ে লেখেননি কিন্তু হরতাল নিয়ে তার কোন উপন্যাস নাই, বই নাই, নাটক নাই। অথচ মানুষটার কী বিপুল শক্তি! তাঁর লেখালেখির গভীরতা নিয়ে সংশয় আছে কি নাই, সেই বিতর্কে আমি যাব না । কিন্ত তাঁর আছে লক্ষ-লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করার যাদু কিন্ত তিনি এ নিয়ে টুঁ-শব্দও করেননি!
অথচ হরতাল নিয়ে গোটা একটা বই লিখল কিনা আমার মত 'তেলিবেলি' একজন মানুষ! লাভ কী, তেলিবেলি কলমচির বই ক-জন পড়ে?
২. শফিক রেহমান। যুবকদের প্রভাবিত করার যাদুদন্ড ছিল একদা তার হাতে। তার দিনের পর দিন কলামে লিখলেন, ‘হরতাল তো আইন করে বন্ধ করা যাবে না’।
কী বালখিল্য কথা- যেন ওহী নাজিল হয়েছে, এটা পরিবর্তন করা যাবে না! হায় দল, হায় দলবাজি! কেমন করে একজন মানুষের গ্রে-মেটার 'হলুদ-মেটার' বানিয়ে দেয়! অথচ তিনি চিঠি লিখে বলেছিলেন, আমরা হরতালের বিপক্ষে ছিলাম, আছি।
৩. আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। যিনি নির্ভীক, স্পষ্টবাদী হিসাবে সুপরিচিত। তিনি একটা কলামে লিখলেন, 'শিক্ষা বিভাগকে হরতালের আওতার বাইরে রাখা হউক'।
উত্তম-উত্তম, তা ছাত্ররা কি গাধার পিঠে চড়ে চলাফেরা করবে? শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে ঢাকা থেকে একজন ছাত্রী যখন সিলেট যাবে, সে কি এম্বুলেন্স নিয়ে যাবে, নাকি পালকিতে চড়ে?
প্রকারান্তরে জাফর ইকবাল স্বীকার করে নিলেন, হরতাল হউক অসুবিধা নাই কিন্ত শিক্ষা বিভাগকে ছাড় দেয়া হউক। তিনি শিক্ষক বলেই সম্ভবত এমনটা চিন্তা করেছেন।
এমন বড় মাপের মানুষ যখন ছোট্ট একটা গন্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়েন, তখন আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ব্যতীত কিছুই করার থাকে না! আফসোস, এঁরা তাঁদের বিপুল শক্তির কী অপচয়ই করছেন! লেজার গান দিয়ে চড়ুই পাখি শিকার...!
*ছবিঋণ: সানাউল হক, জনকন্ঠ
বিভাগ
স্বপ্নভংগ
Subscribe to:
Posts (Atom)


