Search

Showing posts with label অসভ্য কান্ড. Show all posts
Showing posts with label অসভ্য কান্ড. Show all posts

Friday, April 3, 2026

মীরজাফর, সেকাল-একাল!

 


ভারত মীর জাফরের বংশধরের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে; নাতি-পুতি, পুতি-তস্য পুতি, তা প্রায় ১৫০ জনের অধিক!

Wednesday, March 18, 2026

রূপলাল হাউস বনাম 'জামাল হাউস'!

 

বলা হয়ে থাকে 'রূপলাল হাউজ' পূর্বে এমন ছিল। চোখ কপালে উঠার মত একটা স্থাপনা! 'গানাবাজানা', নাচানাচি, হাউকাউ তখন তো হরদম লেগেই থাকত। এখনও হাউকাউ লেগে থাকে তবে পিয়াজ-মরিচ-রসুনের দরদামে!

Saturday, February 7, 2026

পুলিশ: সেকাল—একাল!


পুলিশের কী অপরূপ দেহভঙ্গি!

Thursday, August 21, 2025

শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা!

আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যখন হাত নেড়ে-নেড়ে বলেন, 'আমার নিজেরই তো দেশ চালাবার অভিজ্ঞতা নেই অন্য উপদেষ্টাদের আর কী বলব...'! তখন আর কথা চলে না।

তাই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কী যোগ্যতায় এই পদে আছেন সেই আলোচনায় যাওয়া বাতুলতা মাত্র!

Thursday, December 26, 2024

ইতর এবং ইতর বানাবার কারখানা!

এই ছোট্ট ভিডিও ক্লিপে আমরা একটা ইতরকে দেখলাম। ইতর এই উপস্থাপকের নাম জয়-ফয় কিছু একটা। পূর্বে বিভিন্ন লোকজনকে নিয়ে ইতরামি করেছে আমরা অনেকটা হালকা চালে বলার চেষ্টা করেছি, 'ফাজিল একটা'। 

Friday, September 30, 2022

সাম্বা-ধিক!

 

লেখক: Anupam Shaikat Shanto (https://www.facebook.com/anupam.shanto)

 "আমাদের হরেক রকম টিভি চ্যানেল আমাদের সাফ জয়ী কন্যাদের লাইন দিয়ে ডাকছে। সাক্ষাৎকার নিচ্ছে। সেখানে এই বাচ্চামেয়েদের হরেক কিসিমের প্রশ্ন করছে। সবচেয়ে বেশি কিম্ভুত প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে সানজিদা। তার কিছু নমুনা:

Sunday, May 15, 2022

মিশরের সভ্যতা বনাম আমাদের অসভ্যতা!

হালে ৩০০০ বছর পুরনো মিশরের মমির গলার স্বর কেমন হতে পারে এর একটা নমুনা দাঁড় করিয়েছেন বিজ্ঞানিরা:

 

Friday, July 10, 2020

অপরাধ- ছোট আর বড়!

ইনি দাবী করেছেন এই  স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করছেন। ঘটনাটা বরিশালের। এই শিক্ষক যদি, আবারও বলি যদি নুরুল হক না-ও হয়ে থাকেন কিন্তু ঘটনাটা সত্য।

Sunday, July 5, 2020

ঢোল-পেট একাকার!

আগেও বলেছি আবারও বলি, কে বলেছে যে নগ্ন গাত্রই অশ্লীল! যেমনটা কেউ পাবে গিয়ে দুধ চাইলে তাও অশ্লীল।
আমাদের অনন্ত জলিল নামের মানুষটার অভিনয় নিয়ে এখানে আলোচনা করতে বসিনি। কারণ এই বিষয়ে তিনি আলোচনার উর্ধ্বে! আমার এক ডাক্তার বন্ধু চমৎকার বলেছিলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন কৌতুকময় অভিনয় দেখতে পাওয়া বিরল। বলে কী, হুঁকরে কান্নার দৃশ্যতেও যদি কেউ হেসে গড়িয়ে পড়ে তাহলে তো মুশকিল।

Sunday, May 10, 2020

একালের ডাকাত!

আগে চোরাবেটা চুরি করত, ভয়ে-ভয়ে। আদুল গায়ে বিস্তর তেল-টেল মেখে। ধরা পড়লে খালি গা চুপচুপে তেলের কল্যাণে যদি বাঁচা যায়। ডাকাতরা অবশ্য এইসবের ধার ধারত না তবে লোকজন হারে-রেরে-রে-রেরে করে তেড়ে আসলে 'উক্কা দৌড়'। যারা খানদানি তাদের কথা সামান্য আলাদা। মানির মান বলে কথা-তারা  পালিয়ে যাওয়ার পূর্বে দু-চারটা ফাঁকা গুলি ফুটিয়ে যেত।

সেসব সেকালের কথা। এখনকার নিয়ম অনেকখানি আলাদা।

Sunday, January 12, 2020

দলবাজ এবং 'পাবলিকবাজ'!

সিভিল সার্জন

Monday, July 16, 2018

ধন্যবাদ, মতি ভাইয়া!

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল- আমাদের মেয়েদের বিজয়ের ছবি দেখে ভাল লাগছে। জাগো বাংলাদেশ!
অবশেষে, প্রথম পাতায় মেয়েরা জায়গা পেল এই জন্য আমি মতিউর রহমান বাচ্চু, আমাদের মতি ভাইয়াকে ধন্যবাদ জানাই।

গতকালকের পত্রিকায়ও

Sunday, June 10, 2018

হুজুগে বঙ্গাল!

আমাদের মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমাকে নিয়ে পাকিস্তানি মিডিয়ায় যে কুৎসিত রসিকতা করা হয়েছিল

Sunday, April 22, 2018

ক্ষমতার দবদবা !

Saturday, March 31, 2018

এমন ডাক্তার কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি!

আমি আগেও লিখেছিলাম এই ডাক্তার মহোদয় অপারেশনের নাম করে যে গুচ্ছের টাকা নেন তা অবশ্য আমাদের দেশে বিরল না কিন্তু তিনি যে ভঙ্গিতে নিজেকে বাজারে মেলে ধরেন তা লজ্জাবতি গাছ ব্যতীত বিরল [১]! এই দেশের মতান্তরে এই গ্রহের (!) সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক যার বইয়ের বিজ্ঞাপন দিতে-দিতে প্রকাশক ফতুর সেই লেখকের বই না-পড়াটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বৈকি [২]
আমাদের দেশের চালু দৈনিকগুলোয় নিয়ম করে এই ডাক্তার কাম লেখক মহোদয়ের বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপাবেন প্রকাশক কিন্তু বিজ্ঞাপনে তার প্রকাশনীর কোনও উল্লেখ থাকে না, আজব! কিন্তু ডাক্তার সাহেবের ‘ইডেন মাল্টি কেয়ার হসপিটালের’ নাম ফলাও করে থাকে। আহা, বড় বেকুব আমাগো এই প্রকাশক!

এই লেখক মহোদয়ের বই না-পড়ার হতাশা লাঘব হল এক ডাক্তার বন্ধুর কল্যাণে। যেদিন অধ্যাপক ডা. এ. কে.এম ফজলুল হক লেখক মহোদয়ের বই হাতে পেলুম সেদিন এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে এলো। অমায়িক আনন্দে। কিতাবখানা হচ্ছে ‘বৃহদন্ত্র … ও পাইলস’। যাই হোক, অধ্যাপক ফজলুল হকের লেখা ‘বৃহদন্ত্র … ও পাইলস’ নামক কিতাব থেকে খানিকটা তুলে ধরি। তিনি লিখেছেন, “…আমি বিগত নয় বছরে বৃহদন্ত্র ও … রোগাক্রান্ত ২৯,৬৩৫ রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি যে, এদের ১৮% পাইলসে ভুগছেন…”। (পৃ: ২৯)

‘মারিছে এবং খারিছে’- বিরাট গবেষণা করিছে! ঝড় নাই বৃষ্টি নাই, আপিস কামাই নাই, ছুটিছাটা নাই ৯ বছর ধরে কেবল ইয়ের গবেষণা। এর জন্য আবশ্যক গড়ে প্রতি দিন ৯ জন রোগি! সেটা অবশ্য সমস্যা না। কিন্তু…। এদিকে আবার ৩৩ নং পৃষ্ঠায় এই লেখকই লিখেছেন, “লেখক বিগত নয় বছরে ২৯,৬৩৫ জন …রোগিদের উপর গবেষণা করে দেখেছেন যে, …”। এখানে এসে অবশ্য বলার ভঙ্গি বদলে গেল।
আমরা আবারও ৬০ পৃষ্ঠায় পাই লেখক লিখেছেন, “বিগত ৯ বৎসরে …২৯,৬৩৫ জন রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি যে…”।

আবারও-এর পর কি লেখার নিয়ম? আবারও আবার? আচ্ছা! তো, ৭৫ পৃষ্ঠায় ‘আবারও আবার’ লেখক লিখেছেন, “লেখক বিগত নয় বছর … সমস্যায় আক্রান্ত ২৯৬৩৫ জন রোগির উপর গবেষণা করে দেখেছেন…”। গবেষণা এতই মারাত্মক যে আমরা ৭৮ পৃষ্ঠায় ‘আবারও আবার আবার’ দেখব লেখক মহোদয় লিখেছেন, "…বিগত নয় বছরে ২৯,৬৩৫ জন রোগীর উপর গবেষণা করে দেখেছি…”।
ডাক্তার কাম লেখক মহোদয়ের গবেষণা চলতে থাকুক এবার দোয়া প্রসঙ্গে যাই। ৬৪ নং পৃষ্ঠায় ডাক্তার সাহেব লিখেছেন, “অনেকে বলেন, স্যার টয়লেটে এখন এত আরাম পাচ্ছি যে তখনই আপনার জন্য দোয়া করি”। আমরা ভাগ্যহীন তাই দোয়ার বিস্তারিত জানতে পারলুম না।

দেখো দিকি কান্ড, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অতি উঁচু মানের এই কিতাবের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষাকাতর হয়ে ভূত ব্যাটা কেবল ঝামেলা পাকায়। ভূত ছাপাখানায় গিয়ে অক্ষর এলোমেলো করে দেয় বলেই আমরা ৪৭ পৃষ্ঠায় দেখি ‘মাংসপি’ ঝুলে আছে তো আছেই। ৫৪ পৃষ্ঠায় ‘মাংসপি’ কেটে ১০৩ পৃষ্ঠায় ‘মাংসপি’ বেড়ে যায়। ‘মাংসপি’ বেড়ে-বেড়ে মাংসপিন্ডে রূপান্তরিত হোক ততক্ষণে আমরা ডাক্তার সাহেবের ‘জুলাফ’ নামের জিনিসটা দিয়ে গলা ভেজাই।
‘জুলাফ’ জিনিসটা কি এটা জানার জন্য আমাদের মত ডডনং পাঠককে জোলাপ খেয়ে টয়লেটে গিয়ে ডাক্তার সাহেবের জন্য নগদে দোয়া করতে হবে। এই মহান কিতাবে ‘ফুসফুসজ্জ’ টাইপের অজস্র শব্দ খুঁজে বের করে এখানে লিখে শব্দের অপচয় করাটা সমীচীন হবে না। এই কিতাবে আমরা ডাক্তার সাহেবের ইস্তারি সাহেবা এবং তার পুত্রধনের ছবিও দেখতে পাই। একজন পাঠক হিসাবে এটা দেখাটা আমাদের জন্য খুবই জরুরি হয়ে পড়ে বটে। এই মহান কিতাবখানা আবার একজন সম্পাদনাও করেছেন তিনি হচ্ছেন ডা. সজল আশফাক!
তো, কালে কালে পুত্র ডাঙ্গর হয়, ডাক্তার হয়। তখন আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা আবশ্যক হয়ে পড়ে। উপায় কী? আহা, এ এমন কী! এখন যে আমাদের ডাক্তার ফজলুল হক সাহেব নিয়ম করে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বইয়ের যে বিজ্ঞাপন দেন ওখানে তার ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন তার পুত্রধনের ছবি এবং লেখা থাকে সম্পাদনায়: ডাঃ আসিফ আলমাস হক। এবং যথারীতি ডাক্তার সাহেবের 'ইডেন মাল্টি-কেয়ার হাসপাতালের' বিজ্ঞাপন।
এত্তো-এত্তো মানুষ ডাক্তার সাহেবের পেছনে লাগলে বেচারা ডাক্তারের লেখক না-হয়ে উপায় কী!

একজন ডাক্তার এভাবে চাল করে বিজ্ঞাপন দেওয়ায় আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটছে কিনা এটা একজন আইনজ্ঞ ভাল বলতে পারবেন কিন্তু একজন ডাক্তার,অতি শিক্ষিত একজন মানুষ এতোটা লাজহীন হন কেমন করে? এ এক বিস্ময়!

সহায়ক সূত্র:
২. ডাগদর কাম ল্যাকক: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html

Thursday, March 22, 2018

খসে পড়ে একেক করে...!

রামুর প্রবীণ শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মাকে তাঁরই ছাত্র সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার সংবাদ পুরনো। এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মহোদয় কিরিটি, কুয়াশা, মাসুদ রানাকেও ছাড়িয়ে এটাও প্রমাণ করে দিলেন এই প্রবীণ শিক্ষক ১৯৭১ সালে দেশবিরোধী ছিলেন [১]। ব্যস, এরপর আর কথা চলে না।

একজন আইনপ্রণেতা হয়তো নিজ শিক্ষকের গায়ে হাত তুলতে পারেন কিন্তু এখনও যেহেতু আইন আকারে এটা পাশ হয়নি তাই আমরা, বিশেষ করে আমি আগের নিয়মেই চলব। নিজ শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা তো কল্পনার অতীত তাঁর চোখে চোখ রাখাই যে দায়। সামনে পড়ে গেলে হৃদপিন্ডের ড্রাম কী আমি বাজাই, শ্লা!

যাই হোক, দেশের অনেক বড়-বড় খবরের মাঝে এই খবরটা চাপা পড়ে গেল! এই সংসদ সদস্য মহোদয়ের অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি একরামুল হুদা মহোদয় আদালতে এই প্রবীণ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করে দিয়েছেন। ওরি বাবা, ‘মানি সাংসদের গেল মান আর একরামুল স্যারের উধাও কান’!

যাই হোক, কেউ মান খোয়ালে মানহানির মামলা করবে এবং যথারীতি ন্যায়ালয় মান ফিরিয়ে দেবে এতে কোনও সমস্যা নেই। এমনিতে আদালত আমাদের বিচার পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল! এই নিয়ে আমার বিশেষ গাত্রদাহও নেই। কিন্তু আমি ভয়ে-ভয়ে আছি। নিজ ছাত্রের হাতে মার খাওয়া অভাগা এই প্রবীণ শিক্ষক যদি এই ১০০ কোটি টাকার মামলা হেরে বসেন তাহলে তো সর্বনাশ এই টাকা শোধ করবেন কেমন করে? ১০০ কোটি! হাজার না, লাখ না, কোটিও না একদম ১০০ কোটি! আহা, টাকার অংকটা কম হলে নাহয় চেষ্টা করা যেত। আচ্ছা ধরা যাক, খোলা বাজারে মাস্টার মশাইকে পার্ট-বাই-পার্ট বিক্রি করে দেওয়া হলো। মাস্টার মশাইয়ের কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলি, দাঁত কিন্তু… ওহো সবই তো দুর্বল পার্টস কোটি টাকা বাজারদর হবে কী! আরে, সব মিলিয়ে কোটি টাকা হলে আমি নিজেই বুঝি বসে থাকতাম, পাগল। কবে নিজের পার্টসগুলো বিক্রি করে টাকা ক্যাশ করে ফেলতাম।
কিন্তু মাস্টার মশাই থেকে ১০০ কোটি টাকা আদায়ের উপায় কী! আমি তো কোনও উপায় দেখছি না কারও মাথায় কোনও উপায় খেললে সে ভিন্ন কথা…।

সহায়ক সূত্র:
১. পিতা, তোমার নগ্নতায়...: http://www.ali-mahmed.com/2018/01/blog-post_19.html

Saturday, February 6, 2016

‘ডাগদর কাম ল্যাকক’।

শ্রীলংকায় জন্ম নেওয়া স্যার স্ট্যানলি ডেভিডসনের ‘মেডিসিন’ কিতাবখানা কয় কোটি বিক্রি হয়েছিল জানি না তবে বাংলায় জন্ম নেওয়া অধ্যাপক এ কে এম ডা. ফজলুল হকের এই কিতাবখানা ৫০ কোটির কম বিক্রি হয়েছে বলে অন্তত আমি বিশ্বাস করি না!
অনেকেই অবিশ্বাসে মাথা নাড়ছেন এটা আমি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমি আঁক কষে বলে দিতে পারি।

২৩ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। প্রত্যেকে মাথাপিছু ৪-৫টা করে এই কিতাব ক্রয় করলে ৫০ কোটি কী খুব একটা বড় অংক, একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু না। কামানের গোলার ন্যায় কেউ-কেউ এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেবেন ডা. ফজলুল হকের এই কিতাব কেন প্রত্যেকে ৫ কপি করিয়া খরিদ করিবে?

আহা, এও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি! একটা থাকবে স্টাডিতে সাজিয়ে রাখার জন্য। আরেকটা শোয়ার ঘরে। এই কপিখানা পেটের উপর পা রেখে, না-না, ভুল বললাম; পেট ভাসিয়ে দেওয়ালের উপর পা রেখে পড়ার জন্য। অন্যটা সঙ্গের ঝোলায় সর্বদা থাকবে, বাসে-ট্রামে-যানজটে পড়ার জন্য।
বইটার নাম যেহেতু ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ তাই টাট্টিখানায় একটা বই থাকবে না তা কী হয়! আরেকটা বই কেউ ‘হুদাহুদি’ কিনলে আটকাচ্ছে কে? এই কারণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মহোদয় ‘উস্কানি কিতাব’ ক্রয় করার অপরাধে সিপাহি লেলিয়ে দেবেন এমনটা শত্রুও বলবে না।
এমনিতে এই সমস্ত বইকে বই বলার নিয়ম নেই সম্ভবত, গ্রন্থ বলাটাই সমীচীন।
এই ডাগদর সাহেবের ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ গ্রন্থখানার বিজ্ঞাপন আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোতে বছরজুড়ে প্রকাশিত হয় ডাগদর সাহেবের ছবি-মোবারক, কালো গোঁফসহ। দিনের-পর-দিন নিয়ম করে যে-হারে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় এতে করে এই ধারণাটা দোষের হবে না যে এপার-ওপার বাংলা মিলিয়ে এমন বইয়ের বিক্রির রেকর্ড অন্য আর কারও নাই।

এমনিতে বছরজুড়ে দূরের কথা হাতে গোনা কয়েক প্রকাশনী ব্যতীত অন্যরা ফেব্রুয়ারির বইমেলা ব্যতীত বই প্রকাশ করেন না! বইমেলা এলেই বই ছাপার হিড়িক শুরু হয় এবং তথাকথিত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকগণ অমার্যাদার সঙ্গে নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেরাই দেন [১]। ওরে, এটা তো কথাসাহিত্যিকদের বেলায় ইনি তো কথাসাহিত্যিক নন যে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দেবেন।
অবশ্য ডাগদর সাহেবের লেখা চটি টাইপের এই জিনিষ কোন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে এটা আমি বিস্তর চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি। নিজের চেম্বার নামের টাকার খনির বিজ্ঞাপনের ভাল একটা উপায় বের করেছেন যাহোক!
(এই ডাগদর সাহেবকে নিয়ে পূর্বেও লিখেছিলাম [২]। এমন বিচিত্র ডাগদর আমাদের দেশে বিরল)

সহায়ক সূত্র:
১. সবই পেশা কিন্তু…: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_12.html
২. হর্স-মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html

Tuesday, August 18, 2015

প্রবীর সিকদার এবং শ্মশান...!

প্রবীর সিকদারের অসাধারণ একটা লেখা আছে, “বাংলাদেশ শুধুই আমার বাবার কবরস্থান![১]। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবীর সিকদারের পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। তাঁর বাবাকে খুন করে ঠিক কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল এটা তাঁর জানা নেই বিধায় তিনি সমগ্র বাংলাদেশকেই বাবার কবরস্থান হিসাবে সশ্রদ্ধচিত্তে কল্পনা করে থাকেন। তাঁর সন্তানকেও তিনি বলেও দিয়েছিলেন, 'তোমার চারপাশে যতো বড় বাংলাদেশ তার পুরোটাই তোমারই দাদুর কবরস্থান; কখনোই যেন দাদুর কবরস্থানের অমর্যাদা না হয়...।"

সম্ভবত প্রবীর সিকদার শেষ শয্যাকে বিভক্ত করতে চাননি বিধায় শ্মশানের স্থলে কবরস্থান লিখেছিলেন। পরম মমতায়, তীব্র আবেগে যে বাংলাদেশকে তিনি তাঁর বাবার কবরস্থান হিসাবে দেখে আসছিলেন সেই বাংলাদেশ যে কালে কালে সত্যি সত্যি শ্মশান হয়ে উঠবে এটা সম্ভবত তাঁর কল্পনাতেও ছিল না।

আফসোস, এই দেশে এখন কেবলই ‘পাইপমানুষ’! ‘পাইপমানুষ’ হতে পারলে কোনও সমস্যা নেই। পাইপের একদিকে (যাকে মুখ নামে আমরা চিনি) সুস্বাদু বর্জ্য (যার চালু নাম খাবার) ঢালো পাইপের অন্যপাশে দিয়ে বেরুবে দুর্গন্ধময় বর্জ্য। আহা, পাইপের আবার মস্তিষ্ক কী! অবশ্য যাদের এখনও মস্তিষ্ক রেকটামের সঙ্গে জড়াজড়ি হয়নি তারা কালের প্রভাবে এখন পুরোপুরি ‘জম্বি’। এরা বিচিত্র এক প্রাণী, না জীবিত না মৃত!

তো, প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আলোকিত একজন মানুষ (!) সহকারী সরকারী কৌঁসুলি স্বপন পাল। প্রবীর সিকদারের একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে তিনি মনে করছেন একজন মন্ত্রী বাহাদুরের বিরুদ্ধে উক্ত স্ট্যাটাসখানায় মাননীয় মন্ত্রী বাহাদুরের মানহানি ঘটেছে তাই সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেছেন ফরিদপুরের বিচারিক আদালতে। এবং ফরিদপুরের কোনও আইনজীবী প্রবীর সিকদারে পক্ষে দাঁড়াবেন না কারণ এই বারের গঠনতন্ত্রে বলা আছে (ভাগ্যিস, গঠনতন্ত্রে এটা বলা নেই যে কেউ ঋণ পরিশোধ করতে না-পারলে তার শরীরের মাংস কেটে নেওয়া যাবে। তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত) কোনও আইনজীবী মামলা করলে অন্য আইনজীবীরা ওই মামলার আসামীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না।

একজন দাগী আসামীও তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার অধিকার রাখেন। এটা তার নাগরিক অধিকার। একটা রাষ্ট্রের এই ক্ষমতা থাকা সমীচীন না যে তার কোনও নাগরিককে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এই গ্রহের নিকৃষ্টতম মানুষটারও আছে।
আদালতের কাছে প্রবীর সিকদারের এটা জানাবার সুযোগ হলো না তিনি কেন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রাণনাশের শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন! অবশ্য “...ফরিদপুরের সন্তান প্রবীরের পক্ষে আগের দিন আদালতে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালেও রিমান্ডের বিরোধিতা করে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী নান্নু। তিনি বলেন, “প্রবীর সিকদার একজন খ্যাতিমান সাংবাদিকই নন, তিনি শহীদ পরিবারের সন্তান। আমরা আদালতকে বলেছি একজন পঙ্গু মানুষকে রিমান্ড না দিয়ে জামিন মঞ্জুর করার। কিন্তু আদালত না তা নাকচ করেছে। ..."  
(http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1012756.bdnews
ছবি ঋণ: http://www.dailyfaridpurkantho.com/?p=24538
এদিকে বিচারিক হাকিম প্রবীর সিকদারকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দিয়েছেন পুলিশ আবার ১০ দিনের রিমান্ডও চেয়েছিল কিন্তু দয়াবান বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আলবত-আলবত, রিমান্ডটা অতি জরুরি যে। আদালতে মামলা শুরু হওয়ার পূর্বেই প্রবীর সিকদারের ক্রাচের সঙ্গে আমরা হাতকড়া দেখেছি কিন্তু তাঁর ক্রাচের ফাঁপা অংশের ভেতরটা দেখার সুযোগ পাইনি। ক্রাচ নামের তাঁর এই ভয়ংকর অস্ত্রটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা আবশ্যক।
মাত্র একটা পা নিয়ে দেশ কাঁপিয়ে দেয় লিমন নামের ছেলেটি। যেখানে গোটা রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তি তার একটা পাকে থামাতে হিমশিম খেয়ে যায় সেখানে এখন এসে যোগ দিয়েছেন প্রবীর সিকদার এক পা নিয়ে! যুদ্ধাপরাধিরা তার এক পা উড়িয়ে দিয়েছে তাতে কী তাঁর অন্য পাটা তো অবশিষ্ট আছে।

বড় বিচিত্র এই দেশ, এখানে লেখার জন্য কেউ কল্লা উড়িয়ে দিয়ে আবার ঘটা করে লেখেও, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ একটাকে জাহান্নামে পাঠানো হলো”। এরা কাউকে জাহান্নামে পাঠালো নাকি নিজেরাই জাহান্নামে গেল এর উত্তর আমাদের মত সাধারণ মানুষের জানা নেই। কিন্তু এদের জানা আছে! এরা তুচ্ছ, সামান্য সৃষ্টি থেকে অসামান্য অসীম ক্ষমতাধর স্রষ্টা হয়ে উঠে যে। তো, এই দেশেই কেউ আবার লেখার জন্য হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে কয়েদখানায় আটকে রাখে।

প্রবীর সিকদার যে লেখাটা লিখেছিলেন, "...চারটা পায়ে একটা কুত্তা আমার আছে দুই আর দুইটা পা থাকতো যদি আমিও কুকুর হই।" আহা, দুইটা পা তো আমাদের জন্য, আর দুইটা পা থাকতো যদি আমরাও কুকুর হই। প্রবীর সিকদার কী লেখাটা খানিকটা সংশোধন করে লিখবেন, আর তিনটা পা থাকতো যদি...।

সূত্র:
১. বাংলাদেশ শুধুই আমার বাবার কবরস্থান!: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_4.html

Thursday, April 9, 2015

পাজি-অসভ্য-ইতর-দানব-খুনি!

অনেকের কাছে ধর্মটা হচ্ছে কাঁচের বাসন। হাত থেকে ফসকে গেল তো ভেঙ্গে খানখান হয়ে গেল। লেখার উত্তর লেখা দিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এদের নাই তাই এরা ঝাঁপিয়ে পড়েন চাপাতি নিয়ে। যারা ধর্মের নামে আইন নিজ হাতে তুলে নিচ্ছেন, প্রকাশ্যে রাস্তায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মানবদেহ ফালা ফালা করছেন তাদেরকে দ্রুত আদালতে বিচার করাটা আবশ্যক। এরা খুনি- খুনির প্রতি প্রচলিত আইন যে আচরণ করে থাকে সেই আইনই এদের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে। রাষ্ট্র কখনও নিজ হাতে কাউকে আইন তুলে নিতে দিতে পারে না। প্রচলিত আইন যদি তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে তাও অতি দ্রুত কার্যকর করাটাও জরুরি। এই নিয়ে কোনও প্রকারের দ্বিমত নাই। একটি বিষবৃক্ষ নির্মূল হলো। সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

এখান পর্যন্ত লেখাটা বড়ই সরল এবার খানিকটা গরল কথা বলি। কখনও বিষবৃক্ষ গাছ আপনাআপনি হয় কখনও বা কেউ সযতনে পরিচর্যা করে লাগায়। সুদীপ্ত সুজয়-এর বদৌলতে আমার এটা দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে। কতিপয় ইতরবিশেষ একটা ইভেন্ট চালু করেছে। ইভেন্টটির নাম, ‘নবীজির উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি সপ্তাহ’। শিরোনাম দেখে অনেকে আপ্লুত হবেন, বাহ, নবীজীর প্রতি কী তমিজ! কিন্তু আসল ঘটনা তা না। এই ইভেন্ট খুলে অতি কুৎসিতসব কথাবার্তা, ততোধিক কুৎসিত গালাগালি করা হচ্ছে। কোনও তথ্য-উপাত্তের বালাই নাই, কোনও যুক্তি নাই!

এই তাহলে জ্ঞানের চর্চা, মুক্তমনের চর্চা? মুক্ত মানে অবাধ, স্বাধীন যা-খুশি বলার অধিকার? কারও মৃত্যুশয্যায় তাকে নিয়ে রঙ্গ করার অধিকার- কোনও ভাবগম্ভীর পরিবেশে, জরুরি আলোচনায় ‘ধুমমাচা দে’ গান গাওয়ার অধিকার? তাহলে এই সমস্ত অসভ্যদের জন্য সভ্যতার সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে হবে। এদেরকে কারা-কারা মুক্তমনা বললেন এ নিয়ে আমার কাতরতা নাই কারণ আমার কাছে এরা স্রেফ ‘ইতরবিশেষ তথাকথিত মুক্তমনা’।
বেচারা ভলতেয়ার, "I do not agree with what you have to say, but I'll defend to the death your right to say it." এটা বলেও তিনি এদের কাছে মুক্তমনা হতে পারলেন না।

তো, এরা যদি ভেবে থাকে আমরা এই সব ইতরবিশেষ মুক্তমনাদের এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য ‘শাবাসি’ দেব তাহলে ভুল করবেন। আমরা চাইব এই সব ইতরদেরকেও যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় নিয়ে আসতে। কারণ এরা দানব বানাবার মেশিন! এরা ঠান্ডা মাথায় একটা খেলা খেলছে। ভযংকর এক খেলা। কোটি-কোটি মানুষের বিশ্বাস-আবেগকে পদদলিত করার খেলা! এরাই তারা, যারা রামুতে বৌদ্ধমূর্তি গুঁড়িয়ে লুঙ্গির কাছা মেরে নাচের মুদ্রায় দাঁড়িয়ে ছিল।

আচ্ছা, এবার অন্য প্রসঙ্গ। কারও প্রিয়মানুষকে, কারও মাকে নিয়ে কেউ কুৎসিত কথা বললে তার প্রতিক্রিয়াটা কেমন হবে? এখানে যে জেনেভা কনেভনশন কপচানো পন্ডশ্রম এটা ওই মার সন্তানটাকে কে বোঝাবে! এটা জেনেও যে আইন কিন্তু তাকে, তার আবেগকে ক্ষমা করবে না এবং ঠিকই তার প্রাণটাকেও নষ্ট করে ফেলবে, তারপরও। তখন সে একটা খুনি! কিন্তু তার মত ছাপোষা একজন মানুষ, মানুষ থেকে খুনিতে রূপান্তর; ফ্রানজ কাফকার ‘মেটামরফোসিস’- গ্রেগর সামসার আরশোলায় রূপান্তরকেও হার মানায়।
এ যেন অকল্পনীয় রূপান্তর! কিন্তু এই রূপান্তরের পেছনে যুক্তি কী! কেন সে তার মৃত মার জন্য হিংস্র কুকুরের ন্যায় লড়বে? পুরনো ক-খানা হাড়ে এমন কী আছে যা তাকে লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য করবে! হয় মরবে নয়তো মেরে ফেলবে। কেন? আসলে এর কোনও উত্তর হয় না। কিন্তু তাকে খুনি বানাবার এই দুঃসাধ্য কর্মকান্ডটা করল কারা?

ওরাই, যারা ভয়ংকর দানব- খুনি বানাবার একেকটা চলমান মেশিন। এই দানবরা নাস্তিক কি আস্তিক, এটা মূখ্য বিষয় না, বিষয়টা হচ্ছে এরা অপরাধি। নাস্তিক হওয়াটা কোনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ না এবং কে নাস্তিক হবেন এটা তার নিজস্ব বিবেচনা। কিন্ত এই সব ইতরামি অবশ্যই শাস্তিযোগ্য অপরাধ । অতি শীঘ্রই এই ইতরদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসাটা আবশ্যক। সেটা কোনও ধর্মের ব্যক্তিত্বকে নিয়ে করুক বা অন্য কাউকে। ‘রামজীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি সপ্তাহ’ নিয়ে ইভেন্ট চালু করলেও আমার বক্তব্য হুবহু একই থাকবে। “তপস্যা করার অপরাধে রামচন্দ্র খড়গ দিয়ে ‘শম্বুক’ নামক এক শূদ্র তাপসের শিরোচ্ছেদ করেন” (শম্বুক শূদ্র হওয়ার অপরাধে) -বাল্মীকির রামায়ন। এটা বললে আমি ধৈর্য ধরে শুনব কারণ এর পেছনে তথ্য আছে কিন্তু রামকে নিয়ে ইতরতা করলে আমি ধৈর্যহারা হবো।

মুক্তমনার আভিধানিক অর্থ কি এটা নিয়ে অভিধানে-অভিধানে চালাচালি-খোজাখুঁজি-খোলাখুলি চলতে থাকুক। আমি আমার সাধারণ জ্ঞানে বুঝি, জ্ঞান হচ্ছে সরলরেখা আর জ্ঞানহীনতা হচ্ছে বৃত্ত। মুক্তমনের লোকজনেরা কোনও বৃত্তে আটকে থাকবেন না- কেবল এগিয়ে যাবেন। তাঁর হাঁটার রাস্তায় কাকের কর্কশ রব যেমন থাকবে তেমনি সুকন্ঠী পাখির সুরেলা বোলও। হাস যেমন ঘোলা জল থেকে তার খাবার পানিটা বের করে নেয় তেমনি তিনিও সমস্ত অন্ধকার থেকে আলোকে বের করে নিয়ে আসবেন।

আমি পূর্বেও বিভিন্ন লেখায় স্পষ্ট করে বলেছি, আমি কোনও বিশেষ ধর্মের অবমাননা বুঝি না আমি বুঝি সমস্ত ধর্মের অবমাননা। মধ্যরাতে ওয়াজের নামে আট-দশটা চোঙ্গা লাগিয়ে যখন হিন্দু ধর্মের ব্যক্তিত্বদের মুন্ডুপাত করা হয় তখন সেটাও ধর্মের অবমাননা। আরজ আলী মাতুব্বর ঘোর নাস্তিক ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মের বিপক্ষে প্রচুর লেখা রেখে গেছেন কিন্তু তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে কেউ এটা দেখাতে পারবেন না যে তিনি কোনও ধর্ম নিয়ে কুৎসিত কথা বলেছেন বা গালাগালি করেছেন অথবা অযথা ছোট করার চেষ্টা করেছেন। যেটাই বলেছেন তার যুক্তি দিয়ে বলেছেন কারও আপত্তি থাকলে যুক্তি খন্ডন করুক তাতে কোনও সমস্যা নাই।

গোল্ডা মায়ারের চমৎকার একটা কথা আছে, ‘নিজ হাতে হত্যা করা এবং হত্যা করার নির্দেশ দেওয়ার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নাই’। আমি এর সঙ্গে যোগ করি, হত্যা করা বা হত্যা করার জন্য প্ররোচিত করার মধ্যেও খুব একটা তফাত নাই।

Thursday, March 19, 2015

হাঙ্গর!

গতকালের লেখাটা নিয়ে [১] কেউ-কেউ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমি বিব্রত হব এটা ভেবে একজন ইনবক্সে তার শ্লেষভরা বক্তব্য উগরে দিয়েছেন, ‘শুভ, আপনি দেখি ধান ভানতে শীবের গীত গাওয়া শুরু করে দিয়েছেন’!
আমার খুব একটা আহত হওয়ার কিছু ছিল না কারণ আমরা সেই শুরু থেকেই ব্লগস্ফিয়ারে লেখালেখি শুরু করেছি- এটা তিনি দাবী নিয়ে আমাকে লিখতেই পারেন।

যাই হোক, আমি লেখাটায় যেটা বলতে চেয়েছিলাম, এই প্রজন্ম তীব্র অসহিষ্ণু হওয়ার এটাও একটা কারণ যে ভারতের উপর তীব্র ক্ষোভ আছে ভারতের বিভিন্ন প্রকারের দাদাগিরি করার জন্য। ওরে, এদের যে আবার দাদা-দাদাগিরি বলে ফেললাম। প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় যে- গোবর খেয়ে প্রায়শ্চিত্ত করব কিনা বুঝতে পারছি না।
অন্য এক লেখায় এদেরকে ‘দাদা’ বলায় একজন আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বলেছিলেন, ‘আপনি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছেন’। কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! তাই ঠিক করেছি এখন থেকে এদেরকে দাদার বদলে হাঙ্গর বলব।

তো, গতকালের লেখাটায় এই প্রজন্মের ক্ষোভের কথা বলতে গিয়ে আমি হাঙ্গরের যৎসামান্য কর্মকান্ডই তুলে ধরেছিলাম। হাঙ্গর নৈতিক কর্মকান্ড করল নাকি অনৈতিক সেটা হাঙ্গরকে কে বোঝাতে যাবে! একজন শিক্ষকের বোঝাবার-শিক্ষাদানের জন্য যে পরিবেশ প্রয়োজন তা এখানে কোথায়! শিক্ষক বেচারার হাঙ্গরের পেটে শুয়ে শিক্ষাদান করাটা নিশ্চয়ই আরামপ্রদ কিছু না। আহা, ধর্মের বাণী শোনাতে চাচ্ছে বুঝি কেউ। বেশ-বেশ, ধর্মপুস্তক এবং তিনি দুজনেই পাশাপাশি থাকবেন কিন্তু স্থান ওই হাঙ্গরের পেট।

হাঙ্গর যখন খেলা করে সেটাও অতি ভীতিকর। তেমনি ভারত যখন খেলে সেখানে ভীতিকর না থাকলেও অন্তত অপ্রীতিকর কিছু একটা যে থাকবে, থাকবেই এ তো বিচিত্র কিছু না।এতে করে নির্দোষ-নির্মল খেলা কতটা গুয়ে মাখামাখি হবে এতে কী আসে যায়? যার খানিকটা নমুনা আজ আমরা দেখেছি।
ভারত-বাংলাদেশ ইনিংসে আম্পায়ার আলিম দার ও ইয়ান গৌল্ডের রুবেলের করা বলকে কোমরের উপর ছিল বলে নো-বল বলে রোহিতের আউটকে নাকচ করে দেওয়া। অথচ ছবিতে আমরা পরিষ্কার দেখছি বলটা কোমরের নীচেই ছিল।
সুরেশ রায়নার এলবিডব্লিউ ছাড়াও বাউন্ডারি সীমানায় শিখর ধাওয়ানের নেওয়া ক্যাচটিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহকে আউট দেওয়া হয়। অথচ আমরা ছবিতে পরিষ্কার দেখছি শিখর ধাওয়ানের সীমানার দড়িতে কেবল পা-ই লাগেনি তার প্রায় সমস্ত শরীরই বাইরে।
(ভিডিও ঋণ: আহমাদ রনি। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা)
গ্যালারিতেও যদি ভারতের জার্সি গায়ে কেউ বলটা লুফে নেয় সেটাও আউট দেওয়াটা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না। বাহে, ‘কাভি নেহি’ বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন না- হাঙ্গরের সঙ্গে খেলায় সবই সম্ভব...।

সূত্র:
১. মওকা-সুযোগ-সুযোগসন্ধানী: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/blog-post_18.html