একটি বাংলা ওয়েব-সাইটে দীর্ঘদিন লেখালেখির সুবাদে একটা অন-লাইন সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল আমার মতো অগাবগা মানুষের। সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন, কৌশিক আহমেদ। মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং যারা প্রশ্ন করে আমার আলো-অন্ধকার বের করে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
অন লাইনে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
প্রশ্ন: আপনি নিজেকে প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেন?
উত্তর: আমি প্রায় অশিক্ষিত কেন বলেছি? আমার একাডেমিক শিক্ষার যে বহর এটা সর্দি মুছে ফেলে দেয়ার জিনিস- এমন একটা ডিগ্রি আজকাল একজন কেরানীরও থাকে! এস.এস.সি করেছি সায়েন্স নিয়ে, স্বপ্ন ছিল বিরাট বিজ্ঞানি হব। সায়েন্সে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় বলে এইচ.এস.সি-তে নিলাম কমার্স। ওয়াল্লা, কমার্সেও দেখি নিয়মিত ক্লাশ করতে হয়! কমার্স থেকে এইচ.এস.সি করে গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টস থেকে। আমি প্রশ্নের উত্তর তেমন করে শিখতাম না। মূল বিষয় পড়ে হাবিজাবি যা মনে আসত তাই পরীক্ষার খাতায় লিখে দিতাম। আমার আসলে গতবাঁধা একটা বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন পড়ে একটা চলনসই ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল- ব্যস, আর কিচ্ছু না! কিন্তু আজকাল এমন একটা সনদ থাকা না-থাকা সমান! আইন নিয়ে কিছুদিন ঝুলে রইলাম। ঝুলাঝুলিই সার, ভাল লাগল না।
প্রশ্ন: কি ধরনের বই পড়তে পছন্দ করেন?
উত্তর: পড়ার কোন আগামাথা নাই। আর সবচেয়ে বাজে অভ্যাস হচ্ছে, একসঙ্গে অনেকগুলো বই পড়া। অভ্যাস হয়ে গেছে। উদাহরণ দেই, এখন পড়ছি, মিলান কুন্ডেরার 'দ্য জোকস'। প্রথমে ভালই লাগছিল এখন আর ভাল লাগছে না। রুশোর 'কনফেশন'। জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলো' আগে পড়েছিলাম বিচ্ছিন্নভাবে, আবারও পড়ছি। আকুতাগাওয়ার গল্প, 'রাসোমন' গল্পটার এতো নাম, অথচ আমার একদম ভালো লাগেনি। কিন্ত এর পরের একটা গল্প অসাধারণ। নামটা মনে নাই! ওহ ভালো কথা, আরেকটা হচ্ছে, 'সোলেমানী তাবিজ'। কি ভাবে একজনকে বশ করা যায় এইসব। হা হা হা। না-না, কাউকে বশ করার জন্য না। অনেক সময় এইসব লেখার খুব কাজে লাগে!
আমার বুদ্ধিশুদ্ধির একটা মজার ঘটনা বলি, আপনার মতই একজন কোন এক বিচিত্র কারণে আমার লেখালেখির প্রতি অযাচিত মমতা দেখান। তো, হঠাৎ একদিন বললেন, আচ্ছা, আপনি শেষের কবিতা পড়েছেন, কেমন লেগেছে আপনার কাছে?
আমি খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত, বললাম, ভাইরে, আমি তো কবিতা খুব কম পড়ি। তিনি হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। সম্ভবত মনে মনে ভাবছিলেন, কেন, এই গর্দভের লেখা পড়ি! হা হা হা!
পরক্ষণেই আমার মনে পড়লো অমিত-লাবন্যর কথা। যে বইটা আমি কয়েকবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ করতে পারিনি, জানি না কেন আমার ভালো লাগেনি! রবি দাদার লোকজনরা আমাকে পেলে পিটিয়েই মেরে ফেলবেন। অথচ রবি দাদার ছোট গল্প আমার কাছে মনে হয় একেকটা মাস্টারপীস! আমার মনে হয়, ছোট গল্পে দাদা এমন কোন বিষয় নেই বাদ রেখেছেন। বারবার পড়তে ইচ্ছা করে।
আমার সমস্যাটা কি জানেন, একজন পছন্দের লেখক, তা তিনি যতো নামকরাই হোন না কেন। তাঁর সব লেখা ভাল লাগতেই হবে বা তিনি যা লিখেছেন সব পাতে দেয়ার মতো, এতে আমার আপত্তি প্রবল আপত্তি আছে!
প্রশ্ন: বেশীর ভাগ সময় কোথায় কাটান?
উত্তর: আমার নিজস্ব ছোট্ট একটা রুম আছে। হেনতেন সবই এটায় থাকে। এমনকি স্টাফ করা ব্যাঙও পাওয়া যাবে। তো, আমার গানশোনা, মুভি দেখা, বই পড়া প্রায় সবকিছুই এখানে। এমনিতে আমার বই পড়া হয় তিনবেলা খাওয়ার সময়। বদ অভ্যাস, এ নিয়ে বাসার সবাই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ থাকে। অনেক দিন দেখা গেছে টেবিলে তরকারীর একটা পদ রয়ে গেছে অথচ আমার খাওয়া শেষ! হা হা হা!
প্রশ্ন: আপনার কনকপুরুষের পর আর বই এখান থেকে ছাপা হয়নি?
উত্তর: আসলে প্রজাপতি প্রকাশনের যে উপন্যাসটার কথা বলছেন এটায় আমার কোন কৃতিত্ব নাই। এদের মার্কেটিং অসাধারণ। বই চলে এদের মার্কেটিং এবং এদের প্রকাশনার নামে। ইদানিং এদের আর আগের মতো সেই দবদবা নাই কারণ, এরা অন্য লেখককে অবমূল্যায়ন করা শুরু করেছেন। আত্মীয় স্বজনরাই লিখছেন! পরে ওখানে আর লেখা হয় নাই।
কিছু কারণ ছিল, একবার এদের অফিসে গেলাম। আমাকে অফিস সহকারী বললেন, কাজী স্যার ব্যস্ত, ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। আমি বসে আছি তো বসেই আছি। অফিসের সবাই গল্পগুজব করছে। নিজেকে একটা ফার্নিচার ফার্নিচার মনে হচ্ছিল, লাইক আ বেগার! পরে কাজীদাকে কঠিন একটা চিঠি দিয়েছিলাম। ওই অফিস সহকারী চিঠি লিখে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, তার নাকি আমার কথা মনে ছিল না! কিন্তু আর যাওয়া হয়নি।
আমার রয়েলটির কিছু টাকা এখনো এদের কাছে পাই। অনেকবার অনুরোধ করেছি, আমার টাকাটা ডাকে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু এদের এক গোঁ, স্বয়ং এসে নিয়ে যেতে হবে। আমিও রাগ করে বলে দিয়েছিলাম, যান, টাকাটা আপনাদেরকে দান করে দিলাম!
প্রশ্ন: আপনার নিজেকে কি ধরনের মানুষ মনে হয়…?
উত্তর: সত্যি বলি, আমার নিজেকে একজন পোকামানব মনে হয়!
প্রশ্ন: আপনার কোন কষ্টের স্মৃতি…?
উত্তর: অনেক। শুধু একটা শেয়ার করি। ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে আমার বাবা রাত ২টার পর মারা যান। আমার বয়স তখন ১৬। ওদিন কোন এক কারণে আমি ছাড়া তাঁর কাছে কেউ ছিল না। তাঁর যখন শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। পৃথিবীতে এতো বাতাস কিন্তু এক ফোঁটা বাতাসের জন্য মানুষটা কী আকুতি! আমি পাগলের মতো ডাক্তার, নার্সের জন্য ছুটাছুটি করছি। এ অভাগা দেশে যা হয় আর কি, কাউকে পাচ্ছিলাম না। একবার মনে হলো ছাদে গিয়ে লাফ দেই। আই ডোন্ট নো হোয়াই, এখন প্রায়শ আমার মনে হয়, কেন সে দিন লাফ দিলাম না? হয়তো আমি একজন ভীতু মানুষ বলে! আমি বাবার হাত ধরে আছি।
বাবা বারবার বলছিলেন, খোকা, বড়ো কষ্ট, আমাকে একটু অক্সিজেন দিতে বল! ইশ-শ, বললেই হলো! ১৬ বছরের এক কিশোরের কাছে এটা না চেয়ে তুমি অন্য কিছু চাইতে! আমার মুঠোর ভেতর ক্রমশ তাঁর হাত শীতল হয়ে আসে।
এক সময় ডাক্তার আমাকে নিশ্চিত করেন, এই মানুষটা আমার বাবা না, একটা লাশ! শুরু হয় প্রিয়মানুষের একটা লাশ নিয়ে ভোরের প্রতিক্ষা!
কিন্তু ভোর তো আর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না কিন্ত কেউ কেউ হাল ছেড়ে দেয়…।
Showing posts with label অন-লাইন সাক্ষাৎকার. Show all posts
Showing posts with label অন-লাইন সাক্ষাৎকার. Show all posts
Friday, June 29, 2007
অন লাইন প্রশ্ন: ৪
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ৩
প্রশ্ন: জীবনের মানে কি?
উত্তর: প্যারালাল ওয়ার্ল্ড,প্যারাডক্স এই টাইপের কিছু কঠিন শব্দ প্রয়োগ করতে পারলে সম্ভবত আপনার কাছেও ভালো লাগতো, আমিও খানিকটা স্বস্তি পেতাম।
সত্যি কথাটা হচ্ছে, আমি জানি না। জানার চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই! জীবনটা আমার কাছে মনে হয় চোখ ধাঁধানো একটা নিতল কুয়ার মতো। তীব্র আলোয় চোখ থাকার পরও তাকাতে পারছি না।
প্রশ্ন: আপনার লেখার স্টাইল…?
উত্তর: দেখুন, আমরা সবাই প্রকৃতির বিভিন্ন অংশ নিয়ে লিখি। একই জিনিস একেকজন একেকভাবে দেখি, লিখি!
আর আমার স্টাইল! হা হা হা! সহজ করে লেখা। এইসব লেখার আসলে আদৌ কোন গুরুত্ব নাই! লেখা হতে হবে কঠিন। আধামাধা বুঝব, আর বাকীটা বোঝার মনন নাই বলে হাল ছেড়ে দেব।
এই মন্তব্য বর্জিত ব্যক্তিগত একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি। আমি জানি অনেকে ভোঁতা দা নিয়ে রে রে করে তেড়ে আসবেন। সম্প্রতী শেষ করলাম, রুশোর ‘কনফেশনস’। আমার কাছে আহামরী কিছু মনে হয়নি। অন্তত না পড়লে হা হুতাশ করতে হবে এমন কিছু না!
রুশোর একটা মন্তব্য আছে এ রকম, ‘আমাকে বোঝা এতো সহজ না’। আসলেই যে মানুষটা মনে করেন, তাঁকে বোঝা এতো সহজ না, তাঁকে বোঝার মনন আমাদের কই? মহোদয় নিজেই নিজেকেই বোঝেন কি না এ নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।
প্রশ্ন: হিজাব, বোরকা নিয়ে আপনার মন্তব্য…?
উত্তর: দেখুন, এ প্রশ্নের উত্তর ভাল দিতে পারবেন মোল্লা-মৌলভীরা। যেহেতু আপনি আমাকে এ প্রশ্নটা করেছেন, আমার ব্যাখ্যাটা হচ্ছে: মূল বিষয়টা এসেছে পর্দা করা নিয়ে। কোরানের কোথাও এটা লেখা নাই মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে বরং খোলা রাখার কথা বলা আছে।
বেশ, মহিলারা গোটা শরীর হিজাব বোরকায় মুড়িয়ে ফেলছেন, হাতে দস্তানা পায়ে মোজা, চোখে কালো চশমা। ভাল-ভাল! কিন্ত তিনি তো আর অন্ধ না, তার বেলায় কী? আপনি জান বাঁচাতে পুলিশের কাছে গেলেন, পুলিশ থেকে আপনাকে বাঁচাবে কে? চোখ তো ঠিকই তার প্রয়োজনীয় উপাত্তগুলো মস্তিষ্কে পাঠাচ্ছে। এখন মস্তিষ্ক, এইসব উপাত্ত নিয়ে কি খেলা খেলবে, এটা তো আর আমাদের জানা নাই! ভদ্রমহিলা যে সুবেশী, সুঠাম পুরুষদের দেখতে পাচ্ছেন তার বেলায় কি হবে? হিজাব, বোরকা এভাবেই কি শুধু শরীরের পর্দা যথেষ্ঠ, শালীন পোশাক যথেষ্ঠ না?
আর শুধু শরীরের পর্দা কেন? একজন যে উম্মুক্ত জায়গায় কপকপ করে সাধ্যমতো খাবার খাচ্ছে- চারদিকে চেয়ে আছে না খাওয়া মানুষের দল, এখানে কি কোন পর্দার প্রয়োজন নাই? তাহলে রোজার শিক্ষা কোথায় গেল?
প্রশ্ন: রোজা রাখা…?
উত্তর: আমি মনে করি এই ধরনের প্রশ্ন ওপেন ফোরামে কাউকে না করাই সমীচীন। কারণ হচ্ছে, আমাদের সামাজিক পেক্ষাপটে, কেউ যদি রোজা না রাখে, সত্য বললে ওই মানুষটাকে বিব্রত হতে হবে। আর মিথ্যা বললে সৃষ্টিকর্তা বিব্রত হবেন। তাঁর থেকে মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হলো বলে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায়নি অথচ তারই সৃষ্টি মানুষকে ভয় পেয়েছে!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৪
উত্তর: প্যারালাল ওয়ার্ল্ড,প্যারাডক্স এই টাইপের কিছু কঠিন শব্দ প্রয়োগ করতে পারলে সম্ভবত আপনার কাছেও ভালো লাগতো, আমিও খানিকটা স্বস্তি পেতাম।
সত্যি কথাটা হচ্ছে, আমি জানি না। জানার চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই! জীবনটা আমার কাছে মনে হয় চোখ ধাঁধানো একটা নিতল কুয়ার মতো। তীব্র আলোয় চোখ থাকার পরও তাকাতে পারছি না।
প্রশ্ন: আপনার লেখার স্টাইল…?
উত্তর: দেখুন, আমরা সবাই প্রকৃতির বিভিন্ন অংশ নিয়ে লিখি। একই জিনিস একেকজন একেকভাবে দেখি, লিখি!
আর আমার স্টাইল! হা হা হা! সহজ করে লেখা। এইসব লেখার আসলে আদৌ কোন গুরুত্ব নাই! লেখা হতে হবে কঠিন। আধামাধা বুঝব, আর বাকীটা বোঝার মনন নাই বলে হাল ছেড়ে দেব।
এই মন্তব্য বর্জিত ব্যক্তিগত একটা প্রসঙ্গ শেয়ার করি। আমি জানি অনেকে ভোঁতা দা নিয়ে রে রে করে তেড়ে আসবেন। সম্প্রতী শেষ করলাম, রুশোর ‘কনফেশনস’। আমার কাছে আহামরী কিছু মনে হয়নি। অন্তত না পড়লে হা হুতাশ করতে হবে এমন কিছু না!
রুশোর একটা মন্তব্য আছে এ রকম, ‘আমাকে বোঝা এতো সহজ না’। আসলেই যে মানুষটা মনে করেন, তাঁকে বোঝা এতো সহজ না, তাঁকে বোঝার মনন আমাদের কই? মহোদয় নিজেই নিজেকেই বোঝেন কি না এ নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।
প্রশ্ন: হিজাব, বোরকা নিয়ে আপনার মন্তব্য…?
উত্তর: দেখুন, এ প্রশ্নের উত্তর ভাল দিতে পারবেন মোল্লা-মৌলভীরা। যেহেতু আপনি আমাকে এ প্রশ্নটা করেছেন, আমার ব্যাখ্যাটা হচ্ছে: মূল বিষয়টা এসেছে পর্দা করা নিয়ে। কোরানের কোথাও এটা লেখা নাই মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে বরং খোলা রাখার কথা বলা আছে।
বেশ, মহিলারা গোটা শরীর হিজাব বোরকায় মুড়িয়ে ফেলছেন, হাতে দস্তানা পায়ে মোজা, চোখে কালো চশমা। ভাল-ভাল! কিন্ত তিনি তো আর অন্ধ না, তার বেলায় কী? আপনি জান বাঁচাতে পুলিশের কাছে গেলেন, পুলিশ থেকে আপনাকে বাঁচাবে কে? চোখ তো ঠিকই তার প্রয়োজনীয় উপাত্তগুলো মস্তিষ্কে পাঠাচ্ছে। এখন মস্তিষ্ক, এইসব উপাত্ত নিয়ে কি খেলা খেলবে, এটা তো আর আমাদের জানা নাই! ভদ্রমহিলা যে সুবেশী, সুঠাম পুরুষদের দেখতে পাচ্ছেন তার বেলায় কি হবে? হিজাব, বোরকা এভাবেই কি শুধু শরীরের পর্দা যথেষ্ঠ, শালীন পোশাক যথেষ্ঠ না?
আর শুধু শরীরের পর্দা কেন? একজন যে উম্মুক্ত জায়গায় কপকপ করে সাধ্যমতো খাবার খাচ্ছে- চারদিকে চেয়ে আছে না খাওয়া মানুষের দল, এখানে কি কোন পর্দার প্রয়োজন নাই? তাহলে রোজার শিক্ষা কোথায় গেল?
প্রশ্ন: রোজা রাখা…?
উত্তর: আমি মনে করি এই ধরনের প্রশ্ন ওপেন ফোরামে কাউকে না করাই সমীচীন। কারণ হচ্ছে, আমাদের সামাজিক পেক্ষাপটে, কেউ যদি রোজা না রাখে, সত্য বললে ওই মানুষটাকে বিব্রত হতে হবে। আর মিথ্যা বললে সৃষ্টিকর্তা বিব্রত হবেন। তাঁর থেকে মানুষকে প্রাধান্য দেয়া হলো বলে। একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে ভয় পায়নি অথচ তারই সৃষ্টি মানুষকে ভয় পেয়েছে!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৪
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ২
প্রশ্ন ১: উত্তর আধুনিক সাহিত্য বলতে কি বোঝায়?
উত্তর: সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্ত এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!
আফ্রিকার জুলু জাতির সাহিত্য কি এটা হতে পারে না? কোন এক গোত্র অন্য গোত্রের পরাজিত বীরের মাংস চিবুতে চিবুতে বিরক্তি প্রকাশ করবে, কেন মাংসটা ভালো রকম রান্না হয়নি! তখন তার মনে এই ভাব খেলা করা কি দোষের? আচ্ছা, এটা কি রান্নার দোষ, নাকি ওই মানুষটার দোষ? মানুষটাকে যখন মারা হলো, তখন কি সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়েছিল, নাকি খানিকটা জমাট বেঁধে আটকে ছিল! নাকি...!
বা, কে জানে, এখানে হয়তো খাদকের কোন একটা মানবিক গুণ বেরিয়ে আসবে। এই লেখাটাই তো ওই দেশের কেউ অথবা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কেউ পড়বেন!
এমনিতে আমার অল্প জ্ঞানে সাহিত্য বলতে যা বুঝি: সাহিত্য বলুন আর যাই বলুন সবই প্রকৃতির নকল। একজন লেখক জাস্ট কল্পনার রঙ মিশিয়ে একটা ভার্চুয়াল জগত সৃষ্টি করে তার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখান, লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখেন। এরপর পাঠক তার মনন অনুসারে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান।
প্রশ্ন ২: শিশু নির্যাতন নিয়ে এত কথা হচ্ছে কিন্ত বাসায় বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে মানুষ তেমন সোচ্চার না। আপনার অভিমত কি?
উত্তর: আমরা প্রায় সবাই একেকটা মুখোশ পরে থাকি। লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, বিচিত্র রঙের মুখোশ। তো, আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্ত ওই একই কাজ নিজেরা করি অবলীলায়। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট।
প্রশ্ন ৩. নিজের বিষয়ে যতটুকু সচেতন, ভালবাসার মানুষের প্রতি ততটুকু সচেতন হওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: আসলে একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে নিজে! অন্য কারও সঙ্গে এই তুলনাটা অর্থহীন।
প্রশ্ন ৪. আপনার পড়াশুনার বিষয় কি ছিল?
উত্তর: আমার একাডেমিক পড়াশুনার কথা ধরলে আমি প্রায় মূর্খ। একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, আমি এস এস সি করি সায়েন্স নিয়ে। আমার ফ্যামেলীর ধারণা ছিল, আমি বিজ্ঞানী হবো। এইচ এস সি করতে গিয়ে দেখলাম, সায়েন্স নিয়ে পড়লে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় (তাইলে আউট বই পড়তে ভারী গোলমাল হয়ে যায় যে)! তো, নিলাম কমার্স।
গ্রাজুয়েশন করতে গিয়ে দেখলাম, অরি আল্লা, কমার্সেও কিছু ক্লাশ করা আবশ্যক। কি আর করা, নিলাম আর্টস! এটা আমার কাছে সহজ মনে হতো। এমন সব সাবজেক্ট বেছে নিলাম, মূল লেখা পড়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা কিছু লিখে দেয়া। সো, গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টসে। এল. এল, বিতে কিছুটা সময় ঝুলে রইলাম, যদি আইন পড়ে দেশ উদ্ধার করা যায়। ভালো লাগল না, একগাদা মিথ্যার বেসাতী। বাদ দিলাম।
পারিবারিক জটিলতার কথা যদি বাদও দেই, ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক হালটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরতে বাধ্য হওয়া। আসলে এমনিতেও প্রচলিত পড়ায় আমার মন ছিল না। মন পড়ে থাকত পাঠ্য বই বহির্ভূত ফালতু বই পড়ায়। মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘুরাবার কেউ ছিল না বলে এই বাড়তি সুবিধাটুকু। এমনিতেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে আমার ছিল তীব্র অনীহা, এখনও!
আরেকটা কারণ, আমি বড্ডো হোমসিক টাইপের মানুষ। পড়াশোনার কারণেও আমি নড়তে রাজি ছিলাম না। শেকড় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। যার ছাপ এখনও প্রবল। হায় হোমসিক, একজন মানুষকে কেমন করে ক্রমশ বানিয়ে দেয় গাধামানব!
প্রশ্ন ৫: বর্তমান জেনারেশনের রাজনীতি বিমুখিতার কারণ কি? এদের মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য কি করা উচিত?
উত্তর: আমাদের রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে গেছে, আমাদের সামনে কোন আইডল নাই, স্বপ্ন দেখাবার মতো মানুষ নাই!
এমনিতে আমি মনে করি, মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে ইয়াংদের আসার কোন বিকল্প নাই। কিন্ত এইসব বয়োবৃদ্ধদের রাজনীতিতে থাকা মানেই পাপেট শো। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই দেখবেন ১০/ ২০টা জটিল সব রোগ, পায়ে বিষ, মুত্রদ্বারে বিষ, গুহ্যদ্বারে বিষ। আর এ তো বাস্তব, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্রেনের সেল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন সেল অকার্যকর হওয়া শুরু করে। তাই বলে আমি কিন্তু চ্যাংড়াদের নিয়ে আসার কথা বলছি না, বলছিলাম থুত্থুড়ে বুড়াদের বাদ দেয়ার কথা। যিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না তিনি অন্যকে কি সামলাবেন!
প্রশ্ন ৬: আপনার নিজের প্রেমের কথা সুন্দর করে এড়িয়ে যান। সত্য করে বলবেন। আপনার প্রেমের লেখাগুলো পড়ে খুব জানতে ইচ্ছা করে।
উত্তর:ভাইরে, দিলেন তো একটা ভেজালে ফেলে। সত্যের মত বদমাশ আর নাই! বিস্তারিত তো শেয়ার করতে পারব না, খানিকটা বলি:
প্রেম-ট্রেম জানি না, একটা মেয়ে অসম্ভব পছন্দ করতাম। কিন্তু তার পরিবারের আপত্তি ছিল কারণটা হচ্ছে আমার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ওই মেয়েটার চেয়ে এক ক্লাশ কম ছিল।
একদিন মেয়েটা বলল, আমার ফ্যামেলি বলেছে, তোমার কোয়ালিফিকেশন...আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ..., আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমি সুখী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওই দিন আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। শিখলাম, পুঁথিগত বিদ্যার কী মূল্য! সার্টিফিকেট নামের কাগজই সব! ওই সময় নিজেকে বড়ো দীন-হীন মনে হচ্ছিল, নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন ধিক্কার। ইচ্ছা করছিল, ওই সময় পর্যন্ত যা শিখেছি, মস্তিষ্কের ওই অংশটুকু টান মেরে ফেল দেই। ক্ষমতায় থাকলে মস্তিষ্কটা ফরম্যাট করে ফেলতাম। মাথাটা একেবারে ফাঁকা, লাইক আ ব্লাংক ক্যাসেট।
পরিহাস, মেয়েটা মোটেও সুখী হতে পারেনি। অথচ আজ যে মেয়েটি আমার হাত ধরে আছে; প্রায়শ ভাবি, একে সম্ভবত বানানো হয়েছে আমাকে মমতার চাদরে ঘিরে রাখার জন্য।
ওয়েল, ওই মেয়েটির সঙ্গে এখনও মাঝে-মাঝে কথা হয়, ও লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে, বিচিত্রসব আবেঘন কথা বলে! পাগল, পানি কী আটকে রাখা যায়, না সময়! জীবনটা সিনেমা না- সিনেমায় রিটেক হয়, জীবনে হয় না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৩
উত্তর: সাহিত্য কি এটাই জানি না তা আবার উত্তর! উত্তর-পশ্চিম বুঝি না। প্রথমেই বলি সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্য বলতে আমি মোটা দাগে যা বুঝি সেটা হচ্ছে, সাহিত্যের জন্ম রিপোর্টিং এর গর্ভে। আমি দেখতে কুৎসিত এটা হচ্ছে রিপোর্টিং। কিন্ত এই যে আমি দেখতে কুৎসিত, এই নিয়ে আমার মনে বিভিন্ন ভাব খেলা করে বলে হেন সময় আমার মনটা এই রকম, তেন সময় আমার মনটা অন্য রকম। সো, রিপোর্টিং হচ্ছে রঅ, এতে কিছুই মেশাবার অবকাশ নাই। যে সুবিধাটুকু আছে সাহিত্যে!
আফ্রিকার জুলু জাতির সাহিত্য কি এটা হতে পারে না? কোন এক গোত্র অন্য গোত্রের পরাজিত বীরের মাংস চিবুতে চিবুতে বিরক্তি প্রকাশ করবে, কেন মাংসটা ভালো রকম রান্না হয়নি! তখন তার মনে এই ভাব খেলা করা কি দোষের? আচ্ছা, এটা কি রান্নার দোষ, নাকি ওই মানুষটার দোষ? মানুষটাকে যখন মারা হলো, তখন কি সমস্ত রক্ত ঝরে গিয়েছিল, নাকি খানিকটা জমাট বেঁধে আটকে ছিল! নাকি...!
বা, কে জানে, এখানে হয়তো খাদকের কোন একটা মানবিক গুণ বেরিয়ে আসবে। এই লেখাটাই তো ওই দেশের কেউ অথবা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের কেউ পড়বেন!
এমনিতে আমার অল্প জ্ঞানে সাহিত্য বলতে যা বুঝি: সাহিত্য বলুন আর যাই বলুন সবই প্রকৃতির নকল। একজন লেখক জাস্ট কল্পনার রঙ মিশিয়ে একটা ভার্চুয়াল জগত সৃষ্টি করে তার চোখ দিয়ে পাঠককে দেখান, লেখকের চোখ দিয়ে পাঠক দেখেন। এরপর পাঠক তার মনন অনুসারে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান।
প্রশ্ন ২: শিশু নির্যাতন নিয়ে এত কথা হচ্ছে কিন্ত বাসায় বাচ্চাদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে মানুষ তেমন সোচ্চার না। আপনার অভিমত কি?
উত্তর: আমরা প্রায় সবাই একেকটা মুখোশ পরে থাকি। লাল মুখোশ, নীল মুখোশ, বিচিত্র রঙের মুখোশ। তো, আমরা লম্বা লম্বা বাতচিত করি, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলি কিন্ত ওই একই কাজ নিজেরা করি অবলীলায়। আমি নিজেও এই দোষে দুষ্ট।
প্রশ্ন ৩. নিজের বিষয়ে যতটুকু সচেতন, ভালবাসার মানুষের প্রতি ততটুকু সচেতন হওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: আসলে একজন মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো, সে নিজে! অন্য কারও সঙ্গে এই তুলনাটা অর্থহীন।
প্রশ্ন ৪. আপনার পড়াশুনার বিষয় কি ছিল?
উত্তর: আমার একাডেমিক পড়াশুনার কথা ধরলে আমি প্রায় মূর্খ। একটু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি, আমি এস এস সি করি সায়েন্স নিয়ে। আমার ফ্যামেলীর ধারণা ছিল, আমি বিজ্ঞানী হবো। এইচ এস সি করতে গিয়ে দেখলাম, সায়েন্স নিয়ে পড়লে নিয়মিত ক্লাশ করতে হয় (তাইলে আউট বই পড়তে ভারী গোলমাল হয়ে যায় যে)! তো, নিলাম কমার্স।
গ্রাজুয়েশন করতে গিয়ে দেখলাম, অরি আল্লা, কমার্সেও কিছু ক্লাশ করা আবশ্যক। কি আর করা, নিলাম আর্টস! এটা আমার কাছে সহজ মনে হতো। এমন সব সাবজেক্ট বেছে নিলাম, মূল লেখা পড়ে বানিয়ে বানিয়ে একটা কিছু লিখে দেয়া। সো, গ্রাজুয়েশন করলাম আর্টসে। এল. এল, বিতে কিছুটা সময় ঝুলে রইলাম, যদি আইন পড়ে দেশ উদ্ধার করা যায়। ভালো লাগল না, একগাদা মিথ্যার বেসাতী। বাদ দিলাম।
পারিবারিক জটিলতার কথা যদি বাদও দেই, ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক হালটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরতে বাধ্য হওয়া। আসলে এমনিতেও প্রচলিত পড়ায় আমার মন ছিল না। মন পড়ে থাকত পাঠ্য বই বহির্ভূত ফালতু বই পড়ায়। মাথার উপর বনবন করে ছড়ি ঘুরাবার কেউ ছিল না বলে এই বাড়তি সুবিধাটুকু। এমনিতেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে আমার ছিল তীব্র অনীহা, এখনও!
আরেকটা কারণ, আমি বড্ডো হোমসিক টাইপের মানুষ। পড়াশোনার কারণেও আমি নড়তে রাজি ছিলাম না। শেকড় বেরিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশ। যার ছাপ এখনও প্রবল। হায় হোমসিক, একজন মানুষকে কেমন করে ক্রমশ বানিয়ে দেয় গাধামানব!
প্রশ্ন ৫: বর্তমান জেনারেশনের রাজনীতি বিমুখিতার কারণ কি? এদের মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে নিয়ে আসার জন্য কি করা উচিত?
উত্তর: আমাদের রাজনীতি এখন যে পর্যায়ে গেছে, আমাদের সামনে কোন আইডল নাই, স্বপ্ন দেখাবার মতো মানুষ নাই!
এমনিতে আমি মনে করি, মেইন স্ট্রীম রাজনীতিতে ইয়াংদের আসার কোন বিকল্প নাই। কিন্ত এইসব বয়োবৃদ্ধদের রাজনীতিতে থাকা মানেই পাপেট শো। এঁদের প্রায় প্রত্যেকেরই দেখবেন ১০/ ২০টা জটিল সব রোগ, পায়ে বিষ, মুত্রদ্বারে বিষ, গুহ্যদ্বারে বিষ। আর এ তো বাস্তব, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্রেনের সেল থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন সেল অকার্যকর হওয়া শুরু করে। তাই বলে আমি কিন্তু চ্যাংড়াদের নিয়ে আসার কথা বলছি না, বলছিলাম থুত্থুড়ে বুড়াদের বাদ দেয়ার কথা। যিনি নিজেকে সামলাতে পারেন না তিনি অন্যকে কি সামলাবেন!
প্রশ্ন ৬: আপনার নিজের প্রেমের কথা সুন্দর করে এড়িয়ে যান। সত্য করে বলবেন। আপনার প্রেমের লেখাগুলো পড়ে খুব জানতে ইচ্ছা করে।
উত্তর:ভাইরে, দিলেন তো একটা ভেজালে ফেলে। সত্যের মত বদমাশ আর নাই! বিস্তারিত তো শেয়ার করতে পারব না, খানিকটা বলি:
প্রেম-ট্রেম জানি না, একটা মেয়ে অসম্ভব পছন্দ করতাম। কিন্তু তার পরিবারের আপত্তি ছিল কারণটা হচ্ছে আমার একাডেমিক সার্টিফিকেট, ওই মেয়েটার চেয়ে এক ক্লাশ কম ছিল।
একদিন মেয়েটা বলল, আমার ফ্যামেলি বলেছে, তোমার কোয়ালিফিকেশন...আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমার ভবিষ্যৎ..., আমার ফ্যামেলি বলেছে, আমি সুখী...ইত্যাদি ইত্যাদি।
ওই দিন আমি জীবনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। শিখলাম, পুঁথিগত বিদ্যার কী মূল্য! সার্টিফিকেট নামের কাগজই সব! ওই সময় নিজেকে বড়ো দীন-হীন মনে হচ্ছিল, নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন ধিক্কার। ইচ্ছা করছিল, ওই সময় পর্যন্ত যা শিখেছি, মস্তিষ্কের ওই অংশটুকু টান মেরে ফেল দেই। ক্ষমতায় থাকলে মস্তিষ্কটা ফরম্যাট করে ফেলতাম। মাথাটা একেবারে ফাঁকা, লাইক আ ব্লাংক ক্যাসেট।
পরিহাস, মেয়েটা মোটেও সুখী হতে পারেনি। অথচ আজ যে মেয়েটি আমার হাত ধরে আছে; প্রায়শ ভাবি, একে সম্ভবত বানানো হয়েছে আমাকে মমতার চাদরে ঘিরে রাখার জন্য।
ওয়েল, ওই মেয়েটির সঙ্গে এখনও মাঝে-মাঝে কথা হয়, ও লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে, বিচিত্রসব আবেঘন কথা বলে! পাগল, পানি কী আটকে রাখা যায়, না সময়! জীবনটা সিনেমা না- সিনেমায় রিটেক হয়, জীবনে হয় না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ৩
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
অন লাইন প্রশ্ন: ১
একটি বাংলা ওয়েব-সাইটে দীর্ঘদিন লেখালেখির সুবাদে একটা অন-লাইন সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছিল আমার মতো অগাবগা মানুষের। সাক্ষাৎকারটির আয়োজন করেছিলেন, কৌশিক আহমেদ। মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং যারা প্রশ্ন করে আমার আলো-অন্ধকার বের করে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতিও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।
অন লাইনে আমাকে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
এক জনের প্রশ্ন ছিল নিম্নরূপ:
প্রশ্ন ১. আপনি জানেন না এমন কোন বিষয়, অথচ জানার প্রচন্ড আগ্রহ আছে?
উত্তর: ডার্কনেস! আমি যখন এই মহাবিশ্বে নিয়ে ভাবি তখন আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। যেন মনে হয়, আমি, অসীম একটা ক্যানভাসে একটা ন্যানো ডট! আর এখন তো আমরা জানতে পারছি, এই মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা। পৃথিবী সৃষ্টি বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে, ফাইন! বিগ ব্যাং এর থিওরি অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এক মহাবিস্ফোরনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এর পর থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে রহস্যময় শক্তি এই সম্প্রসারণ করছে, বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ডার্ক এনার্জি! বিজ্ঞানীরা এই ডার্ক এনার্জির রহস্য এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছেন মাত্র ৪ ভাগ!
জীবন হচ্ছে একটা লম্বা দৌড়, এই দৌড়ও এক সময় শেষ হয়। তারপর! তারপর!!
এই যে তারপর? এই সম্বন্ধে আমরা কতটুকুই আর জানি। আমার জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। তখনই ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়, নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ইচ্ছা করে দিগম্বর হয়ে বেরিয়ে পড়ি।
প্রশ্ন ২: আপনি জীবনে যা করতে চেয়েছেন কিন্ত হয়নি?
উত্তর: লেখক হতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি।
প্রশ্ন ৩: আপনার প্রেমিকার নাম?
উত্তর: (আংশিক পরিবর্তিত)। আমার একজন প্রেমিকা থাকলে, আমার প্রেমিকারও একজন প্রেমিক থাকা উচিৎ। এবং প্রেমিক হিসাবে সে যদি আমার নামই না জানে, তাইলে আমার প্রেমিকা বলতে কেউ ছিল এ দাবী করাটা কি সমীচীন হবে আমার!
প্রশ্ন ৪: আপনার জীবনে পাওয়া গ্রেট এসিসট্যান্স?
উত্তর: কলাগাছ না হয়ে মানুষ হওয়া এবং চলনসই একটা মস্তিষ্ক পাওয়া।
প্রশ্ন ৫: আপনি কোন ঘটনাটাকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চাইবেন?
উত্তর: উত্তরটা কনফ্লিক্ট করবে। কিন্ত অপশন থাকলে, বাবা মার আনন্দের ফসল নিরানন্দ অসফল, আমি। আমার জন্মটাকে আটকে দিতাম।
প্রশ্ন ৬: ডক্টর ফস্টাস নিশ্চয়ই পড়েছেন? তার মতো সুযোগ এলে আপনি কি জীবনকে বিক্রি করবেন?
উত্তর: না, ডক্টর ফস্টাস পড়িনি। কিন্ত, এখন আমি আমার এই তুচ্ছ জীবনটাকে কোন অবস্থাতেই বিক্রি করব না। কারণ আমার শেকড় ছড়িয়ে গেছে বহু দূর। আমি এখন নারকেল গাছ, শেকড় কোথায় জানি না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ২
অন লাইনে আমাকে আমাকে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আমি চেষ্টা করতাম সততার সঙ্গে দেয়ার জন্য এবং এটা করতে গিয়ে অবলীলায় উঠে আসত আমার অন্ধকার দিক, নির্বোধ আচরণ।
এক জনের প্রশ্ন ছিল নিম্নরূপ:
প্রশ্ন ১. আপনি জানেন না এমন কোন বিষয়, অথচ জানার প্রচন্ড আগ্রহ আছে?
উত্তর: ডার্কনেস! আমি যখন এই মহাবিশ্বে নিয়ে ভাবি তখন আমার ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়। যেন মনে হয়, আমি, অসীম একটা ক্যানভাসে একটা ন্যানো ডট! আর এখন তো আমরা জানতে পারছি, এই মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা। পৃথিবী সৃষ্টি বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে, ফাইন! বিগ ব্যাং এর থিওরি অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ বিলিয়ন বছর আগে এক মহাবিস্ফোরনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এর পর থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। যে রহস্যময় শক্তি এই সম্প্রসারণ করছে, বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ডার্ক এনার্জি! বিজ্ঞানীরা এই ডার্ক এনার্জির রহস্য এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছেন মাত্র ৪ ভাগ!
জীবন হচ্ছে একটা লম্বা দৌড়, এই দৌড়ও এক সময় শেষ হয়। তারপর! তারপর!!
এই যে তারপর? এই সম্বন্ধে আমরা কতটুকুই আর জানি। আমার জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। তখনই ব্রেনে শর্ট সার্কিট হয়ে যায়, নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ইচ্ছা করে দিগম্বর হয়ে বেরিয়ে পড়ি।
প্রশ্ন ২: আপনি জীবনে যা করতে চেয়েছেন কিন্ত হয়নি?
উত্তর: লেখক হতে চেয়েছিলাম। হতে পারিনি।
প্রশ্ন ৩: আপনার প্রেমিকার নাম?
উত্তর: (আংশিক পরিবর্তিত)। আমার একজন প্রেমিকা থাকলে, আমার প্রেমিকারও একজন প্রেমিক থাকা উচিৎ। এবং প্রেমিক হিসাবে সে যদি আমার নামই না জানে, তাইলে আমার প্রেমিকা বলতে কেউ ছিল এ দাবী করাটা কি সমীচীন হবে আমার!
প্রশ্ন ৪: আপনার জীবনে পাওয়া গ্রেট এসিসট্যান্স?
উত্তর: কলাগাছ না হয়ে মানুষ হওয়া এবং চলনসই একটা মস্তিষ্ক পাওয়া।
প্রশ্ন ৫: আপনি কোন ঘটনাটাকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চাইবেন?
উত্তর: উত্তরটা কনফ্লিক্ট করবে। কিন্ত অপশন থাকলে, বাবা মার আনন্দের ফসল নিরানন্দ অসফল, আমি। আমার জন্মটাকে আটকে দিতাম।
প্রশ্ন ৬: ডক্টর ফস্টাস নিশ্চয়ই পড়েছেন? তার মতো সুযোগ এলে আপনি কি জীবনকে বিক্রি করবেন?
উত্তর: না, ডক্টর ফস্টাস পড়িনি। কিন্ত, এখন আমি আমার এই তুচ্ছ জীবনটাকে কোন অবস্থাতেই বিক্রি করব না। কারণ আমার শেকড় ছড়িয়ে গেছে বহু দূর। আমি এখন নারকেল গাছ, শেকড় কোথায় জানি না!
*অন-লাইন সাক্ষাৎকার: ২
বিভাগ
অন-লাইন সাক্ষাৎকার
Subscribe to:
Posts (Atom)