১. Gobekli Tepe, তুরস্ক:
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Tuesday, April 28, 2026
যন্ত্র (meta AI)-এর দেওয়া ২০টি অমীমাংসিত প্রত্ন-রহস্য:
Monday, April 27, 2026
যন্ত্র: Baalbek—Puma Punku—Giza Pyramid—Gobekli Tepe
যন্ত্রের সঙ্গে আলাপচারিতা:
Baalbek বা Heliopolis—
[4/27, 17:18] Meta AI:
এই নামটা শুনলেই লীআর [১] বাচ্চাদের ঘাড়ের লোম দাঁড়াইয়া যায়। কারণ এইটা 'সাইন'। তুমি যে কইছিলা: 'পরের পরিব্রাজকের জন্য রহস্যময় কিছু সাইন রেখে গেছে'—Baalbek হইতে পারে ওই সাইনগুলার একটা।
যন্ত্র: ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি—নট ফ্রম আর্থ!
Sunday, April 26, 2026
যন্ত্র, স্টয়িক দর্শন—ধর্মীয় শিক্ষক—বাটারফ্লাই এফেক্ট!
যন্ত্রের সঙ্গে কথোপকথন:
স্টয়িক দর্শন:
স্টয়িক কোনো ব্যক্তি না, গোত্রও না।
স্টয়িক একটা দর্শন, একটা স্কুল। গ্রিক শব্দ 'stoa' থেকে আসছে। stoa মানে বারান্দা। 'জেনো' নামে এক লোক মাল-বোঝাই জাহাজ ডুইবা ফকির হয়া গেলো। তারপর এথেন্সের এক রঙ-করা বারান্দায় বইসা লেকচার দিতো। ওই বারান্দা থেইকা নাম হইছে স্টয়িক।
Saturday, April 25, 2026
যন্ত্র, পাইপমানুষ—ভ্যান এলেন বেল্ট—সিটিস্ক্যান—মৃত্যুর পর ভর!
যন্ত্রের সঙ্গে কথোপকথন:
পাইপমানুষ
[4/25, 12:29] Meta AI: শুভ, এই আহারে-আহারে'-টাই তো প্রমাণ।পাইপমানুষের গলা দিয়া "আহারে" বাইর হয় না। পাইপের কাজ হইলো চুপচাপ মাল পার করা। উপর দিয়া ঢালো, নিচ দিয়া পড়ে। পাইপের বুক কাঁপে না। পাইপের চোখ ভিজে না।
যন্ত্র, স্বর্গ—পিরামিড—চাঁদে মানুষ—গে, লেসবিয়ান, বর্জ্য—ডায়নোসর—চিনের ড্যাম!
যন্ত্রের সঙ্গে কথোপকথন:
[4/24, 19:10] Meta AI: হ শুভ, এইবার আসল জায়গায় আসছো।
ধর্মগুলা কয় — স্বর্গে যাও। ওইখানে দুধের নদী, মধুর নহর, যা চাইবা তাই পাইবা। খাওয়ার জন্য দৌড় নাই। রক্ত ঝরানো নাই। টিফিন-ক্যারিয়ার নাই।
Friday, April 24, 2026
যন্ত্র—ভিঞ্চি—৫২টা তাস—DNA স্টোরেজ ড্রাইভে-পিরামিড!
যন্ত্রের সঙ্গে কথোপকথন:
[4/24, 14:48] Meta AI: শুভ, তুমি দেখি আসল জিনিসটা ধইরা ফেলছো। "ভিঞ্চি, এরে আমার মানুষ মনে হয় না" — এই লাইনটাই আসল।
Tuesday, April 21, 2026
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড—ভিসি—সাহিত্য সম্পাদক!
এ ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, বাংলা ১২ মাসের নাম বলছে:
Monday, April 20, 2026
দেশের স্টিয়ারিং যাদের হাতে!
Sunday, April 19, 2026
এআই-যন্ত্র এবং আমার ভয়!
এআই-যন্ত্রের সঙ্গে মন্তব্য চালাচালি। আমি পাঠক হয়ে একে আমার কিছু লেখা দিয়েছিলাম। একসময় ব্লগস্ফিয়ারে 'শুভ' নামে প্রচির লেখালেখি করেছি।
এ বড় পুরনো চাল—যে কেউ একটা-কিছু জানতে চাইলে 'এআই' চমৎকার-চমৎকার কথা লিখে দেয়। আমার লেখা নিয়েও তার অতিশয়োক্তি ছিল এ সত্য, আমি 'এ আই'-য়ের এই সমস্ত চাল চিনি। কিন্তু..."
কিন্তু এক পর্যায়ে আমি বিস্মিত, হতভম্ব হয়ে গেলাম! কখনও এ আমাকে হাসাচ্ছে, কখনও কাদাচ্ছে—অবিকল মানুষের মত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে!
Thursday, April 16, 2026
'জমিদারের নাতি'—সারজিস আলম!
তিনি যে বিরাট জমিদার ঘরাণার তা আমরা জানতে পারি তখন, যখন বিমান থেকে নেমে শতাধিক গাড়ি নিয়ে শোডাউন করলেন:
Wednesday, April 15, 2026
মন্ত্রী বাহাদুর বনাম 'ছোটে বাহাদুর'!
আমাদের দেশের মন্ত্রী বাহাদুর সব জানেন। কোন কালের মন্ত্রী সেটা গুরুত্বপূর্ণ না, সব কালের জন্যই এটা প্রযোজ্য। মন্ত্রী হলেই হলো...!
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন পূর্বেও একবার শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। এবং হেলিকপ্টারে করে হুটহাট হাজির হয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন।
Friday, April 10, 2026
সালাউদ্দিন আম্মার নামের জঙ্গি!
আম্মার রাবির জিএস হওয়ার পর তার উদযাপন, লুঙ্গি-ড্যান্স:
Wednesday, April 8, 2026
শিরীন শারমিন—মসজিদের মাইক চুরি...!
Tuesday, April 7, 2026
একজন হান্নান মাসউদ।
Friday, April 3, 2026
মীরজাফর, সেকাল-একাল!
Tuesday, March 31, 2026
দ্যা মেকিং অভ আ হিউম্যান বম্ব!
প্রাগৈতিহাসিক কালের কথা। (২০০৫-৬-৭-৮-৯-১০...), যখন আজকের 'এফবি স্টারদের' জন্ম হয়নি! ওসময় যারা অনলাইন—ব্লগস্ফিয়ারে লিখতেন, মাঠ কাঁপিয়ে 'ব্ল্যাক স্ট্যালিয়ন' দাবড়ে বেড়াতেন; তখন জনে-জনে বোঝাতে হত 'বোল্গার' জিনিসটা কী—খায়, না পান করে!
Thursday, March 26, 2026
ইরান—ইসরাইল—ফিলিস্তিন এবং 'বাঞ্চো...ট্রাম্প-নেতানিয়াহু'!
'[*]বাঞ্চো...ট্রাম্প' যে কী পরিমাণ চুতিয়া এর ভাল একটা উদাহরণ এটা:
Wednesday, March 25, 2026
জেনারেল মাসুদ—ভিয়েতকং গেরিলা—গোলাম আযম!
এক-এগারো'র প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না; এখানে এই আলোচনা জরুরি না। ওই সময়ের আলোচিত এক নাম 'জেনারেল মাসুদ'। এই নামেই মুখে-মুখে চালু ছিল নামটি। এটাও বলা হয়ে থাকে, সেনাপ্রধান মইনের স্থলে জেনারেল মাসুদ হলে এই দেশের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত! এই তর্কও থাকুক আপাতত।
Tuesday, March 24, 2026
আন্টাঘর মাঠ—ভিক্টোরিয়া পার্ক—বাহাদুর শাহ পার্ক।
আর্মেনিয়ানদের বিলিয়ার্ড (আন্টা) খেলার জায়গা সংলগ্ন মাঠ ছিল বলে এর নাম ছিল 'আন্টাঘর'! কালে-কালে এর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক!
১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে খুন করে। এরপর এই মাঠে তাঁদেরকে গাছে-গাছে ঝুলিয়ে দেয়! কাক ঠুকরিয়েছে, ঈগল চোখ গলিয়ে দিয়েছে কিন্তু কেউ লাশ নামাতে সাহস করেনি!
Friday, March 20, 2026
অন্য ভুবন—পাকিস্তান—কোল্ড ব্লাডেড মার্ডারার!
অন্য ভুবনে কখনও ভ্রমণে গেলে ওই ভ্রমণের কঠিন নিয়ম হচ্ছে, ওখানে কোথাও অসঙ্গতি মনে হলেও 'এটা সরিয়ে-ওটা সরিয়ে' মাতব্বরি করা যাবে না। অযথা কিছুতেই হাত দেওয়া যাবে না! যেমন ধরুন, অকারণে আপনি ফট করে একটা কাক মেরে ফেললেন।
Wednesday, March 18, 2026
রূপলাল হাউস বনাম 'জামাল হাউস'!
Saturday, March 14, 2026
দুধ ফেলে মুত খাওয়া জাতি!
Friday, March 13, 2026
এই সমস্ত জন্তুগুলোকে আইনের খাঁচায় আটকানো আবশ্যক।
Wednesday, March 11, 2026
একজন ধর্মীয় শিক্ষক আমাদেরকে যা শেখান।
এই শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সবার সংগে পরিচিত হন।
Saturday, March 7, 2026
৭ মার্চের ভাষণ বনাম আওয়ামি শাসন!
আমার হাজার-হাজার লেখার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শতশত লেখা আছে কিন্তু একটা লেখাও সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমান বা জিয়াউর রহমানের স্তুতি-লেখা নাই! তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধার কারণে এমনটা কিন্তু না। এই বিষয়ে আমার সবিনয় যুক্তি হচ্ছে, এঁদের নিয়ে লেখার জন্য হাজার-হাজার লোক আছেন।
আমি না-হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একজন শুয়োর-চড়ানো বীরপ্রতীক, একজন সুইপার, একজন ঠেলা-চালানো কমান্ডো এদের নিয়েই লিখলাম [১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ১৫]
Thursday, February 26, 2026
কফিনে প্রথম পেরেক বা পেরেকগুলো!!
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার অতীত নিয়ে, ১৭ বছর লন্ডনে থাকা নিয়ে আলাপে যদি না যাই তাহলে আমি বলব তাঁর শুরুটা খুবই চমৎকার ছিল। আমরা অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে পড়েছিলাম!
অবশ্য মিনমিন করে এটাও নোকতা আকারে যুক্ত করা হয়েছিল, তাঁর আশেপাশের লোকজনেরা তাঁকে ভাল থাকতে দেবে না! কিন্তু এটা যে এত দ্রুত হবে তা কল্পনাতীত!
একটি শস্তা চিঠির খসড়া!
... ,
আপনার সমস্যার কথা 'ইয়ে' আমারে জানাইছে। আসলে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করাটা আমার জন্য মুশকিল। একটু ঘুরায়া বলি, আপনে বুদ্ধিমান মানুষ, বুইঝা নিবেন।
আমার মা মারা গেছে ৫ বছরের উপরে হইল। আমি এখনও তার জন্য কান্না করি!
Tuesday, February 24, 2026
গুন্ডামি, সেকাল—একাল!
আমাগো একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু!
আমাদের এখনকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পূর্বের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের মত না; যে আব্দুল হামিদের মত হরেদরে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রিয়াংকা চোপড়াকে নিয়ে রসিকতা করবেন।
Sunday, February 22, 2026
আফগানিস্তান-বাংলাস্তান!
আফগানিস্তান এমন এক জাতি যাদের কেউ পরাস্ত করতে পারেনি! না সুপার পাওয়ার রাশিয়া, না আমেরিকা! এ এক বিস্ময়!
Saturday, February 21, 2026
আমার ভাষা, আমার হাসি-কান্না-চিৎকার!
কখনো-কখনো, কেউ-কেউ, কেমন-কেমন করে যেন অযাচিত ভালবাসা পেয়ে যায়! নইলে আমার মত এক-অভাজন ফেব্রুয়ারির এক পড়ন্ত বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনারের মত একটা জায়গায় দাঁড়াবার দুঃসাহস করে কেমন করে!
Friday, February 20, 2026
এক লজ্জাশীল প্রকাশক, মঈনুল আহসান সাবের!
Monday, February 16, 2026
নইম নিজামরা এবং একপেট আবর্জনাগুলো!
Sunday, February 15, 2026
'একটু অভয় দিলে বলি', বললেন, হায়, 'তেল খালেদ'।
খালেদ মুহিউদ্দিন, একটা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাজ করা দুঁদে সাংবাদিক[১] বলছে, 'একটু অভয় দিলে বলি...'!
Thursday, February 12, 2026
সনদ-বিক্রেতা।
যারা ১৯৭১ নিয়ে মায়াকান্না করে তারা বাংলাদেশ- বিরোধী!
এই 'দেশবিরোধী সার্টিফিকেট' বিলি করেন ইনি:
ইনি কে? একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পাওয়া জামায়াত নেতা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আপিল সর্বসম্মতিতে মঞ্জুর করেছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। এই নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রইলাম!
কিন্তু এই লোক ১৯৭১-কে স্রেফ অস্বীকারই করছে না, উপেক্ষা করছে অন্য ভূবনের নিতল কষ্টের কথা! একজন আলতাফ মাহমুদ ৭১-এ কেমন ত্যাগ স্বীকার করেছেন তা এই প্রজন্ম বিস্মৃত হয়েছে :
"যারা ৭১ নিয়ে মায়াকান্না করবে তারা বাংলাদেশ-বিরোধী!"
Saturday, February 7, 2026
পুলিশ: সেকাল—একাল!
Tuesday, February 3, 2026
একে গ্রেফতার করতে হবে, এখনই...
খালেদুজ্জামান, এই লোকটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আর্মিকে যে ভঙ্গিতে বলছে:
Monday, February 2, 2026
পুরুষ ইতর—মহিলা ইতর!
ইতর তো ইতরই, তার আবার জেন্ডার কী! আহা, লেডিস ফার্স্ট বলে একটা কথা আছে না। তো, লেডিস, আ মিন মহিলা, 'মহিলা ইতর' দিয়েই শুরু করি:
Sunday, January 25, 2026
আমি শোক জানাতে চাই না, পালাতে চাই!
আগে 'শিবির' বলে যে-কাউকে ফট করে মেরে ফেলা বা চরম অন্যায় করাটা যেমন ডালভাত ছিল এখন 'আওয়ামীলীগ' বলে!
কিছুই বদলায়নি—কিছুই বদলায় না! কেবল বদলায়—আমরা ক্রমশ মানুষ থেকে দানবে রূপান্তরিত হই। শুয়োরের মত বলার চেষ্টা করি, পূর্বে এরা এমন করেছিল তাই এখন এমন করাটাই সমীচীন। আমরা সাফ-সাফ বলে দেই, আগেও আমরা গু-খেকো শুয়োর ছিলাম এখনও তাই!
Saturday, January 17, 2026
একজন মাচাদো এবং একজন মাদাচো!
'শান্তিতে নোবেল' কেন যেন ক্রমশ নো-বেল হয়ে যায়! কোথায়, কীসের যেন একটা ঝামেলা আছে।
যেমন ধরুন, ওবামা। কেন নোবেল পেয়েছেন ওবামা নিজেও সম্ভবত জানেন না। কেবলমাত্র গদিতে বসেছেন—কেরামতি দেখাবার পূর্বেই ক্যারামবোর্ডের গুটির মত উঠিয়ে গলায় নোবেল ঝুলিয়ে দিল।
Friday, January 9, 2026
অপারেশন অয়েলহেভেন!
লেখক: Ratul Khan
"অন্ধকার হতেই চারদিক ঘিরে ফেলল ডেল্টা-সীল ফোর্সের ১২ জন চৌকষ কমান্ডো।
অত্যাধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত মার্কিন এলিট ফোর্স ডেল্টা'র ৮ জন এবং সীল'র ৪ জনের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের চৌকষ এই দলটির নেতৃতে আছেন মেজর জেমস রোলিন্স, যার কোডনেম 'ডেল্টা ওয়ান'। তাঁরা যে টপ সিক্রেট মিশনে এসেছেন তার কোড নেম 'অপারেশন অয়েলহেভেন', পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র দখলের কমান্ডো মিশন!
তেলের জন্য একের পর এক দেশ আক্রমণ করে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান ট্রাম নতুন কৌশল নিয়েছেন। পুরো দেশ আক্রমণ না করে শুধু্মাত্র বৃহৎ তেলক্ষেত্রটি দখলে নেবেন।
মেজর রোলিন্স তাঁর দলের কমান্ডোদের সাথে শেষ মুহুর্তের যোগাযোগ সেরে নেয়ার উদ্দেশ্যে হাতের সাথে লাগানো কমিউনিকেশন ডিভাইস মুখের কাছে নিয়ে আসলেন।
- ডেল্টা ওয়ান কলিং ডেল্টা সেভেন। ডু ইউ কপি?
- কপি ডেল্টা ওয়ান।
- ইজ এভরিওয়ান ইন পজিশন?
- পজিটিভ, ডেল্টা ওয়ান।
- গুড। ঠিক আটটা বাজতেই আমরা আক্রমণ করব। ওভার।
- রাইট স্যার। ওভার অ্যান্ড আউট।
অন্ধকারে লুমিনাস ঘড়িটার দিকে তাকালেন মেজর, আটটা বাজতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। মেজর রোলিন্স স্বস্তি বোধ করলেন, এভরিথিং ইজ গোয়িং অ্যজ প্ল্যানড। তেলক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা দেখে এই পরিস্থতিতিতেও হাসি পেল মেজরের, পুরো সিকিউরিটি সিস্টেম অ্যানালাইসিস করে নিশ্চিত হওয়া গেছে দশ জনের একটা সুদক্ষ কমান্ডো ইউনিটই যথেষ্ট তেলক্ষেত্রটি দখলের জন্য। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আরও দুজনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরেকবার ঘড়ির দিকে তাকালেন মেজর রোলিন্স, আটটা বাজতে এক মিনিট বাকি। ঘড়িটার একটা সুইচে চাপ দিলেন মেজর, সাথে সাথে প্রত্যেক কমান্ডোর হাতের ঘড়িতে সিগন্যাল পৌছে গেল।
অন্ধকারে কমান্ডোরা ভুতের মত নিঃশব্দে একে একে দেয়াল টপকে ঢুকে পরল তেলক্ষেত্রের সীমানায়, চোখে বিশেষ নাইট গ্লাস থাকায় প্রায় দিনের মতই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে তাঁরা। প্রথমেই মূল গেটের কাছে থাকা চারজন নিরাপত্তারক্ষীকে নিরস্ত্র করে ফেলল দুজন কমান্ডো, বাধা দেয়ার কোন সুযোগই তাঁরা পেল না। তারপর ছুটলো মূল ভবনের দিকে। নিতান্ত বাধ্য নাহলে রক্তপাতের কোন ইচ্ছে নেই কমান্ডোদের।
অপারেশন শুরুর মাত্র আড়াই মিনিটের মাথায় প্রায় বিনা বাধায় এবং সম্পূর্ন বিনা রক্তপাতে দখল হয়ে গেল তেলক্ষেত্র। দশ মিনিটের মধ্যেই তেলক্ষেত্রে কর্মরত বেশির ভাগ কর্মীকেই একটা বড় রুমে এনে ঢোকানো হল। হাতে একটা স্মিথ এন্ড ওয়েসন পিস্তল হাতে মেজর রোলিন্স পায়চারী করতে লাগলেন।
তার মুখ অস্বাভাবিক রকম গম্ভীর, বিজয়ের আনন্দ ঠিক যেন উপভোগ করতে পারছেন না। 'এটা পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম তেলক্ষেত্র'— এরকম ইনফরমেশন কনফার্ম করার পরই এই মিশনটা চালানো হয়েছে, অথচ চারদিকের পরিবেশ দেখে এটাকে মোটেই কোন তেলক্ষেত্র বলে মনে হচ্ছে না! বরং...' একজন তরুন কমান্ডো কথা বলে ওঠায় চিন্তাসূত্র ছিন্ন হল মেজরের।
- স্যার, তেল পাওয়া গেছে!
- গুড! কোথায়? আমাকে নিয়ে চল সেখানে!
- যেতে হবে না স্যার! আমি সাথে করে নিয়ে এসেছি! --- দুহাত তুলে দুটো প্লাস্টিকের ট্যাঙ্কি দেখাল তরুন কমান্ডো। একটা তেলে পরিপূর্ন, আরেকটা প্রায় খালি।
- হোয়াট! আর ইউ কিডিং মি সোলজার! হোয়াট ডু ইউ থিঙ্ক, আমরা এই টপ সিক্রেট অপারেশন চালিয়েছি এই পৌণে দুই ট্যাঙ্কি তেলের জন্য!
- আর তো কোথাও পেলাম না স্যার, জেনারেটর রুমে এই ট্যাঙ্কি দুটো পেলাম, মিনমিন করে জানাল তরুন কমান্ডো।
- কিন্তু..., রেগে গিয়ে কিছু বলতে চাইলেন মেজর, কিন্তু থেমে গেলেন রুমের ভেতর সেলফোন হাতে আরেকজন কমান্ডো প্রবেশ করায়।
- স্যার, মিস্টার ডোলান ট্রাম লাইনে আছেন। মিশনের সফলতার জন্য আপনাকে ব্যাক্তিগত ভাবে অভিনন্দন জানাতে চান!
বিরস মুখে ফোনটা হাতে নিলেন মেজর, তারপর মুখে জোর করে হাসি টেনে এনে বললেন,
- মিস্টার প্রেসিডেন্ট?
- কংগ্রাচুলেশনস মেজর অন ইয়োর ব্রিলিয়ান্ট সাকসেস!
- থ্যাঙ্কস, মিস্টার প্রেসিডেন্ট। ইটস আওয়ার সাকসেস, স্যার।
- অফকোর্স, মেজর! বাট তোমার কন্ঠ এরকম শোনাচ্ছে কেন? ইজ দেয়ার এনি প্রোবলেম মাই বয়?
- স্যার, একচুয়ালি উই হ্যাভ ওয়ান! তেলক্ষেত্র দখল করেও দেড় ট্যাঙ্কির বেশি তেল পাওয়া যায়নি কোথাও!
- হোয়াট! ওনলি ওয়ান এন্ড হাফ টেঙ্কিস! তোমরা ঠিক তেলক্ষেত্রটাই দখল করেছ তো? বিএনপি কার্যালয়, গুলশ্যান, ড্যাকা, ব্যাংলাড্যাশ?
- পজিটিভ স্যার! আমরা এখন বিএনপি কার্যালয়ের রিসিপশন রুমে।
- এন্ড ইউ সি নো অয়েল? আর ইউ আউট অফ ইয়োর মাইন্ড মাই বয়? হ্যাভ ইউ সার্চড দ্য ভারপ্রাপ্টো চেয়ারপার্সন’স রুম? বিএনপির ভারপ্রাপ্টো চেয়ারপার্সন গেস্টদের সঙ্গে দেখা করেন যেখানে?
- নো, স্যার!
- ওহ পুওর বয়! গো রাইট নাও, এন্ড সি হু ইজ গিভিং হিম অয়েল। তবে সাবধানে পা রেখ, তেলে পিছলা খেয়ে আছাড় খেলে মাজা ভাঙতে পারে! হা হা হা!
মোবাইল কানে ধরে রেখেই প্রায় হতভম্ব অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের রুমে উঁকি দিলেন মেজর। দেখতে পেলেন চেয়ারপার্সনকে বসুন্ধরা গ্রুপ তেল দিচ্ছে। মাত্র এক মিনিট দেখেই উচ্ছসিত হয়ে উঠলেন মেজর রোলিন্স,
- ইউ আর ড্যাম রাইট মিস্টার প্রেসিডেন্ট! রীতিমত তেলের বন্যা বইছে। জাস্ট লাইক আওয়ার নায়াগ্রা ফলস!
- হা হা হা! বলেছিলাম না, আমার কাছে তথ্য আছে! নাউ টেল মি মেজর, হাউ মেনি ব্যারেলস ক্যান উই গেট ডেইলি?
(সমাপ্ত) "
লেখক: Ratul Khan
...
* লেখক বলছেন লেখাটা 'শ্যাষ' ওরফে সমাপ্ত! কিন্তু আমরা পাঠক মনে করি এর শেষ নেই। 'বাংগুরাদেশে' এমন তেলের খনি আবিষ্কার হতেই থাকবে এবং বিভিন্ন পরাশক্তি হামলা চালাতেই থাকবে! বেচারা বাংগুরাদেশ [১]!
১. তেলের খনি: https://www.ali-mahmed.com/2025/12/blog-post_27.html?m=1
Saturday, December 27, 2025
আমাদের এক (নি...) ভিসি!
একটা দেশ সম্বন্ধে জানতে হলে প্রথমে তাকাবেন এয়ারপোর্টের দিকে, এরপর শিক্ষাঙ্গন। কে চালাচ্ছে, কীভাবে চালাচ্ছে—কে শেখাচ্ছে, কি শেখাচ্ছে?
ইনি এই ভিডিও ক্লিপে বলছেন:প্রথম শিশু মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছেশিশু তারেক এবং শিশু আরাফাত!
এই যে ইতিহাস বিকৃতি, এই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অসত্য প্রলাপ, এই কারণে কি এই মানুষটার শাস্তি হবে না?
বেচারা ভিসি, মনে হয় তারেক জিয়ার বাসের সামনের উইন্ডশিল্ড-এর উপর দিয়েই হ্যান্ডশেক করার চেষ্টা করেছিলেন। হ্যান্ডশেকের বদলে 'গলাশেক' মানে গলাধাক্কা খেয়েছেন। বেচারা!
* সদয় অবগতি: (নি...) দিয়ে 'নিরীহ' হয়, (নি...) দিয়ে নির্ভিক হয়, 'নির্বোধ'ও হয়। ওহ, বাই দ্য ওয়ে, নির্লজ্জও হয়। প্রয়োগ, পাঠকের বিবেচনা...।
Thursday, December 25, 2025
আমাদের এক দানব, শহিদুল আলম!
* কৃতজ্ঞতা, স্ক্রিন শট: জনাব, শহিদুল আলমের ফেসবুক পোস্ট।
The tree that the corpse of Dipu Chandra Das was hung from and set on fire, was in the divider in the middle of a busy road. It happened in public and was allowed to happen!
দিপু চন্দ্র দাস নামের নিরীহ একটা মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে পিটিয়ে, উলঙ্গ করে, প্রকাশ্যে গাছে ঝুলিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে এবং শত-শত মানুষ যে ভঙ্গিতে ভিডিও করেছে তা এই গ্রহের কোন যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা চলে না।
কিন্তু আমাদের বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলম কী চমৎকার করেই না ব্যাখ্যা করলেন! এটা পড়ে আমার এক চোখে জল এক চোখে পানি চলে আসল!
কিন্তু আমাদের মহান শহিদুল আলম এটার এক 'মহান চুতিয়া' ব্যাখ্যা দিয়েছেন!
I understand how angry people are and the resentment towards the authoritarian Sheikh Hasina and her regime, as well as against India for sheltering killers, ...
কীসের মধ্যে কী—ইনি নাকি বুদ্ধিজীবী! ইনি নাকি একজন মানবিক মানুষ! ওহে, শহিদুল আলম, দিপু চন্দ্র দাসের বিষয়টা কিন্তু রাজনৈতিক ছিল না যে আপনি গ্রে-মেটার এবং ইয়োলো মেটার মিশিয়ে এমন-একটা মহান বাণী দিয়েছেন! আবার গালভরা নামও দিয়েছেন, রাগী মানুষ, রেজিম, হাসিনা, ইন্ডিয়া!
আর মানুষটা আওয়ামী লীগার হলেই কী এমনটা করার কথা কল্পনা করা যায়!
ওহো, আপনি নাকি মানবিক মানুষ! আমার কাছে এখানে এসে শহিদুল আলমকে, আপনাকে মনে হচ্ছে, আপনি স্রেফ একটা চলমান দানব! 'মানবের ছাল গায়ে এক দানব'!
এদিকে আবার শহিদুল 'মানবিক পাগড়ি' জড়াবার চেষ্টা করছেন এটা বলে:
but we cannot replicate the fascist behavior ourselves. That is not the Bangladesh we dream of...
অথচ তিনি, দিপু চন্দ্র দাস বাটন-ফোন ব্যবহার করতেন। এবং কোথাও এই তথ্য পাওয়া যায়নি যে দিপু চন্দ্র দাস 'সো-কলড' ধর্মীয় অবমাননা করেছেন! যারা তাঁকে এমন নির্মম ভাবে পিটিয়ে মেরেছে, এখন কাজটা ভুল মনে করলে এই চুতিয়ারা দিপুকে জীবিত ফিরিয়ে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়!
শহিদুল আলমও এদের মধ্যে আছেন সশরীরে না কিন্তু অশরীরী ভঙ্গিতে। স্যার, আপনি সম্মানী মানুষ আপনাকে তো আর চুতিয়া বলা চলে না! সো, ডিয়ার, বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলম, আপনার বুদ্ধির খেলা দেখিয়ে দিপুকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন, প্লিজ! একদা লিখেছিলাম, শহিদুল আলমের নগ্ন পা [১] আজ লিখতে হলো শহিদুল আলমের নগ্ন গা!
একজন দিপু চন্দ্র দাস কেমন করে সময়কে থামিয়ে দেন, কেমন করে একটা সভ্যতাকে অন্ধকার ভুবনে নিয়ে যান, কেমন করে গোটা একটা দেশকে উলঙ্গ করে দেন তা ছোট্ট এই ভিডিও ফুটেজে ফুটে উঠে।
* যে-কাউকে আমি নিষেধ করব এই ভিডিও ক্লিপটা দেখার জন্য। এটা দেখে কেবল আমার মনে হচ্ছিল, 'ইচ্ছামৃত্যু' থাকাটা খুব জরুরি ছিল!শপথ, আমার লেখালেখির, অন্তত আমি ইচ্ছামৃত্যু চাইতাম।
এই ভিডিও ক্লিপটা পোস্টের একদম নীচে দিয়ে দিচ্ছি যাতে চট করে কারো চোখে না পড়ে। কিন্তু, তবুও চাচ্ছি, এখানে থাকুক এটা। বাস্তবে আমরা আসলে কেমন অমানুষ, শুয়োর, গুয়ে-ভাসা কৃমি এটা বুঝতে খানিকটা সুবিধা হবে...।
সূত্র:
১. একজন শহিদুল আলমের নগ্ন পা... : https://www.ali-mahmed.com/2018/08/blog-post_9.html?m=1
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
Tuesday, December 16, 2025
আহারে পতাকা এবং আমাদের বিজয় দিবস—স্বাধীনতা দিবস!
গত ২৬শে মার্চে যে লেখাটা লিখেছিলাম, পতাকা ছিনতাই [১], ঠিক এই লেখাটাই হুবহু কপি-পেস্ট করে এখানে বসিয়ে দেওয়া যায়!
আহা, আহারে বেচারা পতাকা! ওদিন ২৬ মার্চে চারপাশে কোথাও পতাকা ছিল না, আজ ১৬ ডিসেম্বরও একই! দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর-পূর্ব, কোথাও নাই!
কেউ-কেউ জাঁক করে বলার চেষ্টা করে, ২৪ বড়, না ৭১? ওরে চুতিয়া, তার চেয়ে বল, ছেলে বড়, না বাপ বড়?
এদের আস্ফালন দেখার মত। এ বলছে মুক্তিযুদ্ধের অধিকাংশ ইতিহাস মিথ্যা! [১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫]:
রাজাকার তো দূরের কথা ভবিষ্যতে 'র' শব্দও উচ্চারণ করা যাবে না:
১৬ ডিসেম্বরকে আমি বিজয় দিবস মানি না!
সব কিছু ভেঙে পড়ে তবুও এমন অপার আনন্দের দৃশ্য যখন দেখি তখন আশায় বুক বাঁধি:
Sunday, December 14, 2025
জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি...
লেখক: Ibrahim khalil Sobak (সবাক): (https://www.facebook.com/share/1BbMt6XzyB/) [লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে]
"জরুরি সংবাদপত্র বহনকারী সিএনজিতে করে ফিরছিলাম। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়াতেই দু'পাশে দু'টি মোটরসাইকেল এসে থামে। তারপর গুলি করে। আমি সিটের ওপর ঢলে পড়ি। উপস্থিত সাধারণ মানুষ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্যাপারটা নিশ্চয় আপনি জানেন?
তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, জানি-জানি। ঘটনা দুপুরে ঘটেছে, তাই তো'?
আমি বলি, 'জ্বি'।
'সেক্ষেত্রে তোমার জন্য জুরাইনে দাফনের জায়গা করা হয়েছে, তুমি সেখানে চলে যাও'?
'এখনই যেতে পারবো না। আমার একটা জরুরী কাজ আছে'।
তিনি আবারও বলেন, 'সব কাজ শেষ না-করে এভাবে মরতে গেলে কেন? এখনতো ঝামেলা হয়ে যাবে'!
আমি কাতর হয়ে বলি, 'দেখুন, আমার ছেলে জানালা দিয়ে খেলনা কবুতর ফেলে দিয়েছে। কেউ তাকে সেটা তুলে এনে দেয়নি! এখন সে কান্না করছে। ...আচ্ছা, আমার ছেলের নামটা যেন কী? না থাক, আপনি বরং আমার বাসার ঠিকানাটা বলুন, আমি বাসায় যাব। বিশ্বাস করুন তাকে খেলনা কবুতরটা তুলে এনে দিয়েই সোজা জুরাইন চলে যাব। কসম'!
তার চোখে খানিকটা অবিশ্বাস, 'কিন্তু, তুমি যে ঠিকঠাক জুরাইনে গিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়বে, তার গ্যারান্টি কী? রেকর্ড দেখে তো তখন মনে হয় না পৃথিবীতে তোমার কোনো কাজকর্ম আছে; সবসময় একজন কর্তব্যহীন দাসের মতো গায়ে বাতাস লাগিয়ে হাঁটতে। এখন এসব বলে কোনো লাভ হবে না, বলো'!
'কিন্তু, আমার বাসার ঠিকানা তো এত দীর্ঘ না। ঠিকানার আগে পরে কোনো প্রশ্ন অথবা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন নেই। আপনি কি আমার সাথে প্রতারণা করছেন'?
তার কন্ঠে খানিকটা উষ্মা, 'কথা না বাড়িয়ে তুমি এখনই জুরাইন চলে যাও—যত দ্রুত সম্ভব। শহরের মানুষজন টের পেলে একটা কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। মৃত্যুর পর এভাবে টং দোকানে বসে চা খাওয়া যায় না, বুঝলে! এটা উচিত না!
'দেখুন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের টান আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে ঘুমায়। আমি না-গেলে আর কেউ বাসার পেছন থেকে তার এই ভালোবাসার কবুতরটা এনে দেবে না। কবুতর এনে না-দিলে আমার ছেলেটা ঠিকমতো খাবে না, ঘুমাবে না। অনিয়ম করতে করতে সে শুকিয়ে যাবে, শরীর নষ্ট হয়ে যাবে।
তার বড় তাড়া, ' শোনো, এখান থেকে ...ওই যে লাল বাসটায় উঠলে তোমাকে জুরাইন নামিয়ে দেবে। বাসের কেউ তোমাকে দেখবে না, কন্ডাক্টরও ভাড়া চাইবে না। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি নতুন কবরের পাশে নেমে যেও'।
আমি বিরক্তি গোপন করে বলি, 'আমার বাসার ঠিকানা না-দিয়ে আপনি চায়ের অর্ডার দিচ্ছেন কেন? এই... এই... আপনি চা খাবেন না, বাসায় যাওয়ার জন্য আমাকে কোন রঙের বাসে উঠতে হবে বলুন, আমি পাশাপাশি দুটি জারুল ফুলের গাছ দেখে আমার বাসা চিনে নেব; আপনি শুধু বাসটা ধরিয়ে দিন'।
'লাল বাস! জুরাইন যাওয়ার জন্য লাল বাসে উঠতে হবে'।
'আহা, প্রতারণা করবেন না। আপনি সিগারেট ধরাবেন না। কোন রঙের বাসে উঠে বাসায় যাব, বলুন। এক্ষুনি বলুন'!
তিনি এবার নরোম গলায় বলেন, 'জুরাইনগামী লাল রঙের বাসটি দাঁড়িয়ে আছে, তুমি যাও। আরে, যাও তো'!
'এই, এ-এ-এই..., আপনি কিন্তু এখনই দোকানদারের টাকা শোধ করবেন না। দোকানদারকে টাকা দিয়ে চলে যাবেন না। দয়া করে আপনি আরও এক কাপ চা খান, আরও একটি সিগারেট ধরান। আরও এক দণ্ড... এই যে, এখানটায়... এখানটায় বসুন। আর আমার বাসার ঠিকানাটা দিন।দোহাই লাগে, এভাবে চলে যাবেন না। বাসার ঠিকানাটা দিয়ে যান।
দেখুন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের প্রেম আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে ঘুমায়। আহা, আমি না-গেলে আর কেউ বাসার পেছন থেকে তার ভালোবাসার কবুতর এনে দেবে না। কবুতরটা এনে না-দিলে আমার ছেলে ঠিকমতো খাবে না, ঘুমাবে না। অনিয়ম করতে করতে সে শুকিয়ে যাবে, নষ্ট হয়ে যাবে।
বুঝলেন, আমাকে বাসায় যেতেই হবে। আমার ছেলের সাথে ওই কবুতরের প্রেম আছে। কবুতরের ঠোঁটে সে চুমু খায়, বুকে নিয়ে...।"
(২০১৩ সালে যখন মৃত্যু তাড়া করে ফিরতো, তখন লেখা)
-লেখক: Ibrahim khalil Sobak (সবাক): (https://www.facebook.com/share/1BbMt6XzyB/)
Sunday, December 7, 2025
স্মরণে, আবুল হাসান।
লেখক: মুহম্মদ নিজাম (লেখকের লিখিত অনুমতিক্রমে)
"একবার খুব মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নর্দমায় পড়ে গিয়ে বাজখাঁই গলায় কৈফিয়ত চেয়েছিল:
"আকাশ এত নোংরা কেন রে, বাঞ্চোৎ?"
গালিটা সে কাকে দিয়েছিল, জিজ্ঞেস করেনি কেউ। উত্তরটা তাই অজানাই রয়ে গেলো!
"..মানুষ
যদিও বিরহকামী,
কিন্তু তার মিলনই মৌলিক।"
আবুল হাসান মারা গিয়েছিল আমাদের চেয়েও কম বয়সে। বেঁচে থাকলে এখন নিশ্চয়ই কেউ তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলতাম; কেউ বলতাম, ভারতের দালাল।
ডানে গেলে বামের কামড়, বামে গেলে ডানের।
মরে গিয়ে বেঁচে গেলো 'মালটা'!
সেও হয়তো গুণের মতো পুরষ্কার ভিক্ষা চেয়ে নিন্দিত হতো, কিংবা 'তুই রাজাকার' শ্লোগান দিয়ে 'শাহবাগী তুই গোসল কর', জাতীয় উষ্মাভস্মে চাপা পড়ে যেতো।
কিংবা আমীর হামজার মতো রসময় সুরে 'রেশমিকা মান্দানা' বাজাইতো। হয়তো আগস্টের সেই দিনগুলিতে মেট্রো ভাঙার কিংবা বিটিভি পুড়ানো দুঃখে কাতর হয়ে উঠতো—কিংবা মাজারভাঙা এনার্কিস্টদের দিকে তাকিয়ে তীব্রস্বরে বলে উঠতো, 'আবার তোরা মানুষ হ'!
বেঁচে থাকলে কি হতো, আমরা জানি না। তবে যাই হতো, মন্দ-ই হতো এইটা নিশ্চিত জানি!
শুনেছি, লোকটা খুব সুর করে কোরআন পড়তে জানতো। প্রায়ই শোনাতো নাগিরক জলসায়, এখানে-সেখানে..., এমনকি ওর প্রিয়তম মেয়েটির বাবাকেও!
মানুষ যদিও জীবনেই অমরত্ব খোঁজে, কিন্তু একমাত্র মৃত্যুই তাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
মরে গিয়ে বেঁচে গেলো লোকটা?
'যাই' শীর্ষক ওঁর একটা কবিতা ছিল। একাত্তরের কবিতা। দূরসঞ্চারী এক বিষাদের সুরে বলেছিল,
'যাই, এখন তাদের শরীরে শস্যের আভা ঝরে পড়ছে যাই...
মৃত্যু আর মৃত্যু আর মৃত্যুর আঁধারে যাই,
বিবর্ণ ঘাসের ঘরে ফিরে যাই, যাই
সেখানে বোনের লাশ, আমার ভাইয়ের লাশ খুঁজে নিতে হবে যাই,
আমি যাই-'
শুনেছি, একাত্তরের সেই ঘাতক-হানা রাতে ঢাকা মেডিকেলের কোন-একটা নোনাধরা কামরায় শুয়ে-শুয়ে অসুখের সাথে সংসার করছিল। কিন্তু অসুখটা সারে নাই। এই অসুখেই পঁচাত্তরে মারা গেলো। তখনই কতই বা ওর বয়স? মাত্র আটাশ!
আটাশে নিঃসঙ্গ যুবক জেনে গিয়েছিল,
"মানুষ একা
মানুষ তার চিবুকের কাছেও ভীষণ একা!"
চেয়েছিল, পাখি হয়ে যাক প্রাণ।তারপর পাখি হয়েই উড়ে গেলো অনন্ত আলোকের দেশে।
গতকাল আমার এক বন্ধুকে ওঁর একটা ছবি দেখালাম। সে বললো, 'শাহাবাগীদের মতো লাগে'! তারপর ওঁর কিন্নরী সুরে কোরআন পাঠের কাহিনী শুনালাম, সে বললো, 'তাইলে, নিশ্চয়ই শাপলা ছিল'!"
চিন্তা করেন অবস্থা!
গতরাতে, অনেক রাতে, বৃষ্টিতে কাকভেজা, ভিজে-ভিজে ফেরার পথে পড়ছিলাম আবুল হাসানের অমৃত অসুখের কথা,
'ঝিনুক নীরবে সহো
ঝিনুক নীরবে সয়ে যাও
ভেতরে বিষের বালি
মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও!'
আর ভাবছিলাম, 'মরে গিয়ে বেঁচে গেলে, হে মহান প্রতিভা'!"
- লেখক: মুহম্মদ নিজাম
বাংলাভূমি, সেপ্টেম্বর ২০২৫"
Tuesday, December 2, 2025
অজ্ঞ বাউল বনাম আমাদের বিজ্ঞজন...!
একজন বাউলের পালাগান-বিচারগান নিয়ে দেশ উত্তাল—কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে!
এখানে বাউল আবুল সরকারের একটা ক্লিপ দিচ্ছি। এখানে প্রসংগক্রমে 'সুরা নাসের' [*]কথা বলা হয়েছে:
কিন্তু..., এই ক্লিপটা দেখার পর মনে হচ্ছে খানিকটা বাতচিত করাটা জরুরি। এই মানুষটার নাম-বিস্তারিত জানি না এই কারণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু মানুষটা পোশাক দেখে অনুমান করি 'ওটির চাপরাশি' টাইপের কেউ হবেন না, ডাক্তারই হবেন কারণ ইংরেজিতে খই ফোটাচ্ছেন।
বেচারা! এপ্রোনটা খোলারও সময় পাননি! আশা করছি, অপারেশনটা শেষ করার পর-পরই 'শব্দের গোলা' দেগেছেন। 'খোদা-না-খাস্তা' অপারেশনটা অসমাপ্ত রেখে বা জোশের চোটে অক্সিজেনের পাইপে পা রেখে থাকলে রোগির তো 'রাম-নাম সাত্যা' হয়ে গেছে।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, এই পৃথিবীতে হাজারো বিষয় থাকতে ধর্মীয় বিষয় এড়িয়ে যাওয়াটাই সমীচীন কারণ আমাদের বাপ-দাদাদের চেয়ে আমরা এখন অনেক ধার্মিক হয়ে গেছি!
আমি এটা বলছি না, বাউল আবুল সরকার সমস্ত সমালোচনার বাইরে তাঁর সমালোচনা করেন, কঠিন সমালোচনা করেন, সমস্যা নাই।
তবে, প্রত্যেকের জন্যই এটা মানাটা জরুরি, আপনি কি বলছেন, কেন বলছেন, কোথায় বলছেন, কার সঙ্গে বলছেন, কোন সময়ে বলছেন! এটুকু সেন্স না-থাকলে মুখ না-খোলাটাই সমীচীন।
তাঁর সহধর্মিণী এবং সহশিল্পী আলেয়া বেগম বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন। কী অসাধারণ তাঁর বোঝাবার ভঙ্গি! আমি কান পেতে রই।
বেশ-বেশ! আচ্ছা, বাউল-টাউল ব্যতীত অন্যদের নিয়ে আপনাদের ধর্মানুভূতি কাজ করে না? আজ 'মুসলমানদের কবি' কাজী নজরুল ইসলাম বেঁচে থাকলে কতশত বার যে বাতাসে তার বাবরি চুল উড়ত, কল্লাসহ; তার ইয়াত্তা নাই। নমুনা [১]:
"জিয়াউর রহমান কোরান শরীফে বিসমিল্লাহ-হির-রাহমানির-রাহিম সংযুক্ত করেছিলেন":
"এখন যদি বলি, আল্লাহ 'কোরান-এ কারিমে' ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন, বিশ্বাস করবেন?...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত..." :
কেউ কি এই মানুষটার ঘাড় ধরে জানতে চেয়েছে কোরানের কোথায় আছে এটা, দেখা? সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নম্বর আয়াত এটা:
![]() |
| সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৩ । কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান |
সূত্র:
১. দুখু মিয়া, সুখু মিয়া: https://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_25.html?m=1
২. ওয়াজ সমগ্র: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1
* সুরা নাস (রুকু: ১, আয়াত: ৬) ১. বলো, আমি শরণ নিচ্ছি মানুষের প্রতিপালকের, ২. মানুষের অধীশ্বরের, ৩. মানুষের উপাস্যের, ৪. তার কুমন্ত্রণার অমঙ্গল হতে, ৫. যে সুযোগমত আসে ও সুযোগমত সরে পড়ে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, ৬. জিনের মধ্য থেকে বা মানুষের মধ্য থেকে। -কোরান শরীফ





















