Search

Friday, February 20, 2026

এক লজ্জাশীল প্রকাশক, মঈনুল আহসান সাবের!

প্রকাশক ঈশ্বরতুল্য! অন্তত একজন লেখকের চোখে। কারণ এই প্রকাশকই নির্ধারণ করে দেন কে লেখক, কে পাচক! 


আহারে, আকাশলোকের বাসিন্দা নেমে এসেছেন ধরায়! অমিয় চক্রবর্তীর কথা ধার করে বলতে হয়:

"...দেবতা তবুও ধরেছে মলিন ঝাঁটা/ স্পর্শ বাঁচিয়ে পুণ্যের পথে হাঁটা..."

এঁরা দেবতা-দেবতা! সাক্ষাৎ দেবতা! দয়ার শরীর—ধরায় আছেন বলে নইলে আকাশলোকে থাকতেন। ইনি আবার কেবল দেবতাই নন, পাখা লাগানো দেবতা—একজন লেখকও! ইদসংখ্যার আবেদন এই প্রজন্ম বুঝবে না—সম্ভবত তখন বিচিত্রায় 'পাথর সময়' ছাপা হয়েছিল মঈনুল আহসান সাবেরের!


এই স্ক্রিনশটটা হচ্ছে ওই সময়কার আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা, 'আমার আনন্দ-বেদনার অপকিচ্ছা: ৩' থেকে []। এটা পরে অন্য-এক প্রকাশক 'শুভ'র ব্লগিং' নামের বইয়ে ছাপিয়ে ছিলেন।
ওই প্রকাশক 'সামহোয়্যারইন ব্লগ'-এ অসংখ্য লেখার সঙ্গে এটাও ছাপলেন, 'একালের প্রলাপ' বইয়ে।
[] হুবহু ছাপলেন; কেবল মঈনুল আহসান সাবের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে—কাক কাকের মাংস খায় না এই নীতির কারণে সম্ভবত।

আমার জীবনের সমস্ত কর্মকান্ডই এলোমেলো। সবার লেখালেখি শুরু হয় কবিতা, নিদেনপক্ষে ছোটগল্প দিয়ে। আমার লেখালেখি শুরু হলো আস্ত-এক উপন্যাস দিয়ে। কেমন-কেমন করে সেটা বাংলা একাডেমির 'উত্তারাধিকার'-এ ছাপাও হয়ে গেল কিন্তু তখন পৃথিবীর সঙ্গে আমি একটু বেশিই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম—কোন প্রকাশক টাকা ব্যতীত ছাপাতে আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। ওইসব দিন, আহা! তখন মনে হচ্ছিল বাংলা বাজারের বদলে ঠাঠারি বাজারে চলে এসেছি।

তখনই দিব্য প্রকাশনীর মঈনুল আহসান সাবেরের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। লেখা প্রসংগে তখন তিনি কিছুই জানতে চাইলেন না, চাবানো-চাবানো ছোট্ট উত্তর ছিল:

আমরা (একজন লেখক কাম প্রকাশক) অথরের (লেখকের) ফিন্যান্স ছাড়া বই ছাপি না।

তো, একজন মননশীল লেখক এবং একজন সৃজনশীল প্রকাশক সাবের স্যারের কাছে সবিনয়ে বলি:

বই ছাপাতে লেখককে যদি আপনাকে টাকাই দিতে হয় তাহলে লজ্জা পাবেন না, স্যার; তারচেয়ে, ঠাঠারি বাজার ওরফে কাপ্তান বাজারে গিয়ে ইয়ের মাংস বিক্রি করেন। কথা দিচ্ছি, আপনার দোকান থেকে আস্ত-এক 'ইয়ের রান' কিনব। তবুও স্যার, লজ্জা পাবেন না! 

ওহ, আরেকটা কথা স্যার, কেবল নগ্ন গাত্রই অশ্লীল না—আপনার মত একজন লেখক অন্য লেখকের টাকায় বই ছাপিয়ে যেটা করেন  ওটাও এক প্রকার অশ্লীলতা। আর আপনার মত প্রকাশক মহোদয়গণ আমের সঙ্গে যে গুটিও খেয়ে ফেলেন মানে লেখকের রয়্যালটির টাকা না-দেওয়ার প্রবণতা এটাও এক ধরনের চোট্টামি [*]!

* চোট্টামির ভাল অর্থ আমি জানি না। সম্ভবত চুরি-চামারির সঙ্গে একটা যোগসূত্র আছে।

সূত্র: স্ক্রিনশট, ১: মঈনুল আহসান সাবের স্যারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া। স্যারের প্রতি ঋণ এবং কৃতজ্ঞতা।

স্ক্রিনশট, ২: একজন ফয়সাল আরেফিন দীপনhttps://www.ali-mahmed.com/2015/12/blog-post.html?m=1

স্ক্রিনশট, ৩: প্রকাশক: দ্বিতীয় ঈশ্বরhttps://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_15.html?m=1

...

আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি:


আজ দেখছি, লজ্জাশীল প্রকাশক মহোদয় ক্রাউড ফান্ডিং মিশনে নেমেছেন। কেন স্যার? কেন-কেন-কেন! আপনি-আপনারা না পয়সার বিনিময়ে 'লেখক বানাবার কারিগর'? তা ওইসব বেকুব লেখকদের আপনাকে দেওয়া বিপুল টাকা কোথায় গেল?
আহা, ভাল টাকা পেলে আপনি-আপনারা তো একটা চারপেয়েকেও লেখক বানিয়ে দেবেন-দেন। পাড়া জাগিয়ে, বাজার কাঁপিয়ে ওই চারপেয়েলেখক-এর বই প্রসব করবেন, 'আমি চার ঠ্যাং বলছি, হুক্কা-ঘেউ, হুক্কা-ঘেউ...'!
... ... ... 
আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি

ওরি বাবা, আমার তো এক চোখে জল অন্য চোখে পানি চলে এলো! যে লোক প্রকাশক হিসাবে একেবারেই নীতি বিবর্জিত সেই লোক কিনা—হাসি আর কাশি গুলিয়ে যাচ্ছে! 


No comments: