Search

Thursday, April 22, 2010

পরম করুণাময়, এদের ক্ষমা করো

গতকালের প্রথম আলোর প্রতিবেদনে যে ভুলের মিছিল ছাপা হয়েছে, বিশেষ করে আমার নাম; আমি এই গোপন ইচ্ছা পোষণ করি না এরা ভুল স্বীকার করবেন। এই চল এরা চালু করেননি, মিডিয়াঈশ্বর বলে কথা! এদের এই ভাবনা কখনও আসবে না, পত্রিকায় সব সময়ের জন্য প্রথম পাতায় এক কলাম এক ইঞ্চির একটা বক্স থাকবে যেখানে নিয়মিত ভুল স্বীকার করা হবে। 
কিন্তু এর প্রতিবেদক তাঁর ভুল স্বীকার করে মন্তব্য করেছেন। তাঁকে অজস্র ধন্যবাদ। আমি মুগ্ধ তাঁর ভুল স্বীকার করার সাহস দেখে।

ক-দিন আগে আমি নিজেও বড় ধরনের একটা ভুল করেছি। এই লজ্জা কোথায় রাখি, কাকে বলি! 

গতকালের প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে ২টা মন্তব্য আছে। বিভিন্ন কারণে ওই মন্তব্য এখানে কোট করতে ইচ্ছা করছে না। 
দু-জনই মন্তব্য করেছেন, কবি দাউদ হায়দারকে নিয়ে আমার এই লেখাটার সূত্র ধরে। এরা দুজনই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই লেখাটার মাধ্যমে আমি দাউদ হায়দারের প্রতি গ্যালন গ্যালন ... দিচ্ছি। 

কেন? কারণ তিনি আমার পক্ষে 'দ্য ববস'-এর এই সম্মানটাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন।
মূল বক্তব্য, তিনি ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যুক্ত। ডয়েচে ভেলের 'দ্য ববস' প্রতিযোগীতাটাকে দাউদ হায়দার আমার পক্ষে প্রভাবিত করেছেন, এই কারণে তাঁর প্রতি আমার গদগদে বিনীত নিবেদন এই লেখায়।
হা ঈশ্বর!

দাউদ হায়দারকে নিয়ে এর পূর্বে আমি লিখেছিলাম, দাউদ হায়দার, তোমার কাছে খোলা চিঠি। ওটা লেখা হয়েছিল মার্চ ১১, ২০১০। ওখানে একটা বাক্য ছিল এমন, 'তুমি যেখানে থাকো...'। ওই লেখাটা লেখার সময় আমি নিশ্চিত ছিলাম না, দাউদ হায়দার কি জার্মানিতেই? ঠিক হাতের নাগালে প্রয়োজনীয় উপাত্ত না থাকলে আমি পারতপক্ষে লিখতে চাই না কারণ আমার ভয়াবহ রকমের বাজে স্মৃতি। তাই লিখলাম, 'তুমি যেখানে থাকো'। আমার তখন মনে হচ্ছিল, কবি জার্মানি নাকি দুম করে সাইবেরিয়া চলে গেছেন? কিছুই তো জানি না, গেলে লিখে বিপদ হয়ে যাব।

তারও আগে দাউদ হায়দারকে নিয়ে লিখেছিলাম, দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে। ওই লেখাটা লেখা হয়েছিল, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯। তাঁকে নিয়ে আরও কিছু লেখা আমি লিখেছি এই মুহূর্তে লিংক দিতে পারছি না বলে আমি দুঃখিত।

বেশ-বেশ।  'দ্য ববস' এর এই সম্মানটা বাগাবার জন্য আমি ১ বছর পূর্বেই ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। এবং তখন থেকেই ডয়েচে ভেলেকে বাংলা ভাষা যোগ করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের দিয়ে লবিং করিয়েছি, মানুষটা হতে পারেন ক্লিনটন। আমি নিজের কাজে নিজেই মুগ্ধ! তাহলে 'দ্য ববস'-এ বাংলা ভাষা যোগ করার জন্য আমাকে আরেকটা সম্মান দেয়া উচিত। কবে পাচ্ছি এটা?      

এই অতি জ্ঞানীদের(!) কল্যাণেই আমার জানা হলো, দাউদ হায়দার ডয়েচে ভেলের সঙ্গে যুক্ত। লাল সালাম জিনিসটা কি এটা আমার ভালো জানা নাই কিন্তু সবাই লিখে আমি বাদ থাকি কেন? দাউদ হায়দার, আপনাকে আমার লাল সালাম। তিনি এর হকদার- মানুষটা এমন শক্তিধর একজন, তাঁকে এটা না বলে উপায় কী! তিনি বিচারকদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন, যেমন রাখেন যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও! 

যাগ গে, অনেকটা সময় ব্লগিং এর সুবাদে এইসব অতি জ্ঞানীদের(!) সম্বন্ধে জানা হয়ে গেছে, এই নিয়ে আমি কাতর না।

তবলার ঠুকঠাক শেষ, এবার গলা ছেড়ে গান গাওয়ার পালা। আজ আমার ব্যাক্তিগত কাজে আমি তখন কোর্ট-রুমে । ক্লান্তি, উদ্বেগ, অসহনীয় সময়টা পার করছি সেল ফোনে এটা-ওটা দেখে। একজন একটা মেইল পাঠালেন, প্রথম আলোতে এই মন্তব্যের সূত্র ধরে। আমি গা করিনি। কারণ আমার ধারণা হলো, এটা 'প্রথম আলো ব্লগ'-এর ওই লেখার রেশ ধরে মন্তব্য। এই নিয়ে মাথা ঘামাবার প্রয়োজন পড়ে না কারণ কমিউনিটি ব্লগে সবার হাতেই একটা করে ক্ষুর থাকে- কেউ আপেল কেটে খায়, কেউ অন্যের গলায় পোঁচ দেয়। যে গালিটা আমরা বাসায় দিতে পারি না সেটা এখানে এসে দেই, দিয়ে হালকা হই, এ নতুন কিছু না!

পরে কম্পিউটারে বিস্তারিত দেখে আমি হতভম্ব। এটা প্রথম আলো পত্রিকার 'কম্পিউটার প্রতিদিন'-এ ছাপা এই প্রতিবেদনের মন্তব্য। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে দাউদ হায়দারকে নিয়ে আমার লেখার কী সম্পর্ক? গভীর অন্ধকারে যাই না কেবল অন্ধকার নিয়েই কথা বলি। 
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, কেউ এমনটা মন্তব্য করলেন, ব্যস, প্রথম আলো সঙ্গে সঙ্গে ছাপিয়ে দিল? এতো উদার কবে থেকে হলেন এরা? মানলাম প্রথম আলোর মনটা বড়ো ন-রো-ম! কিন্তু এরা কী একবারও দেখলেন না এই প্রতিবেদনের সঙ্গে এই মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত?
পার্বত্য চট্টগ্রামের হানাহানি সংক্রান্ত খবরে কেউ যদি মন্তব্য করে, বারাক ওবামা এবং মতিউর রহমান একই ব্যক্তি, এটা কি ছাপা হবে? এটা যিনি দেখেন তার হার্ডডিস্ক নামের মস্তিষ্ক নিমিষেই চালু হবে। মানুষটা তখন বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ফালা ফালা করে দেখবে যে বারাক ওবামা যখন শপথ নিচ্ছিলেন তখন মতিউর রহমান জেনারেলদের সঙ্গে মিটিং করছিলেন। অতএব ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, বারাক ওবামা এবং মতিউর রহমান একই ব্যক্তি নন। ভুল করে ছাপা হয়ে গেলেও ডিলিট নামের একটা অপশন থাকে।

আমাকে খাটো করতে গিয়ে এই দেশের অভাগা সন্তান দাউদ হায়দারের প্রতি যে আরেকটা ভয়াবহ অন্যায় করা হলো এই প্রেক্ষিতে আমি বলি, হে পরম করুণাময় এদের ক্ষমা করো। 
আমি জানি না এঁরা আধ জবাই পশু দেখেছেন কি না? এদের যেন কোন দিন দাউদ হায়দারের মত অন্য ভুবনের যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়। এই মানুষটা যখন দেশ ছেড়েছিলেন তখন তাঁর বয়স কত হবে, উনিশ-কুড়ি।
আমার স্পষ্ট বক্তব্য, একটা রাষ্ট্র তার সন্তানকে কারাগারে আটকে রাখতে পারে, মেরে ফেলতে পারে কিন্তু এমন শাস্তি দিতে পারে না। এটা দাউদ হায়দার, না তসলিমা নাসরিন তাতে কিছুই যায় আসে না।

আমার মত অতি সামান্য একজন মানুষ দাউদ হায়দারকে নিয়ে লেখার কারণে  আপনারা কাকে রক্তাক্ত করছেন?
আমি তো এই সব লেখা দাউদ হায়দারের জন্য লিখছি না, লিখছি নিজের জন্য। আমি যখন চোখ বন্ধ করে দাউদ হায়দারের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করি, তখন পাগল-পাগল লাগে। আজ আমি পরম করুণাময়ের কাছে চাইব, দয়া করো, আমাকে এখনই মৃত্যু দাও, দাউদ হায়দারের এই অন্য ভুবনের শাস্তি দিয়ো না।

প্রথম আলো নামের মিডিয়া ঈশ্বরের হাতে আছে ব্রক্ষ্ণাস্ত্র। কখনো দেখলাম না এই অভাগা মানুষটার জন্য ঝাপ দিতে। কেন? আপনারা ভেবেছেন এটা তো আমাদের সমস্যা না। আপনার হয়তো বিস্মৃত হয়েছেন, আরিফুর রহমানের কার্টুন নিয়ে? আপনাদের পাশে তখন কিন্তু অনেকেই দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আজ আপনারা গোটা দেশবাসীকে শপথ করাবার সুযোগ পাচ্ছেন। আমাদের লম্বা লম্বা জ্ঞান দিচ্ছেন।

আমার পছন্দের একটা লেখা দিয়ে শেষ করি, 
"...First they came for the jews. I was silent. I was not a jew. Then they came for the communists. I was silent. I was not a communist. Then they came for the trade unionists. I was silent. I was not a trade unionist. then they came for me. There was no one left to speak for me". (Martin Niemoller)

Tuesday, April 20, 2010

জয়তু প্রথম আলো, ক্ষণে ক্ষলে জ্ঞান ঢালো

আজকের প্রথম আলোয় 'কম্পিউটার প্রতিদিন' বিভাগে বেস্ট অব ব্লগসে সেরা বাংলা ব্লগ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। 

প্রথম আলো লিখেছে, "...বাংলা ব্লগের জন্য সেরা ব্লগের পুরস্কার জিতেছেন ব্লগার আলী আহমেদ...।"
লেখাটা পড়ে আমার মাথায় হাত! হায়-হায়, তাহলে কী ডয়েচে ভেলে আমাকে বাদ দিয়ে আলী আহমেদ নামের ব্যাটাকে দিয়ে দিয়েছে? জানেন, আমার না বুক ভেঙ্গে আসছিল। কেন-কেন-কেন, এই অন্যায় এরা কেন করল?
ভাগ্যিস, পাশে ওয়েব সাইটটার নাম ছাপা হয়েছিল নইলে ডয়েচে ভেলের সঙ্গে আমার খুনাখুনি হয়ে যেত।

আমরা ছাপার অক্ষরে যা দেখি তাই বিশ্বাস করি। এই আমরার মধ্যে আমি নিজেই বা বাদ থাকি কেমন করে! বাংলাদেশ পুলিশের রিমান্ডে নেয়া ছাগলও যেমন স্বীকার করে সেই বোমাবাজ, তেমনি প্রথম আলোর কল্যাণে আমি আজ থেকে স্বীকার গেলুম আমার নাম আলী মাহমেদ না, আলী আহমেদ। এখন থেকে জপ করব আমার নাম আলী আহমেদ, আমার নাম আলী আহমেদ।

প্রথম আলো আরও লিখেছে, "...বাংলা ভাষার আলী আহমেদের ব্লগটি ব্যবহারকারীদের ভোটে মাধ্যমে নির্বাচিত তালিকায় বিজয়ী হয়েছে...।"
ভাল-ভাল!  ওহে প্রথম আলো, বিচারকদের ভোটে কে গেল?

এদিকে ডয়েচে ভেলে যে বলছে, বিচারকদের ভোটেও আমাদের প্রথম আলোর 'তথাকথিত আলী আহমেদের ব্লগটি' বিজয়ী হয়েছে!
কাকে ছেড়ে কাকে রাখি- এখন আমি কার কথা বিশ্বাস করব? আমরা তো আবার ছাপার অক্ষরে যা দেখি তাই বিশ্বাস করি, প্রথম আলোকে বিশ্বাস না করে কোন গতি নাই! এ তো সবাই জানে, আমাদের মহান সংসদের একেকজন সংসদ সদস্য পত্রিকার খবর দেখিয়ে মৃদৃ স্বরে(!) কথা বলতে থাকেন। আপনারা কি কখনো দেখেছেন, কোন ওয়েব সাইটের কথা আলোচনা হতে? আমাদের মন্ত্রী বাহাদুররা সফটওয়্যার ওরফে নরমতারের (!) প্রতি আগ্রহ বোধ করেন না। 
ডয়েচে ভেলে বললেই হল, এটা কি কোন পত্রিকা নাকি!

এই প্রতিবেদনে আরও কিছু চমক আছে। প্রথম আলো- এখন এদের নিয়ে কালি, হালের কী-বোর্ড চাপাচাপি করতে বড়ো ক্লান্তি লাগে। 
আহ, প্রথম আলো, একটা চলমান জ্ঞানের ভান্ডার, কাত হলেই জ্ঞান গড়িয়ে পড়বে! এরা নিজেদের ব্যতীত গোটা দেশবাসীকে শপথ করান। এরা নিজেরা কখনও ভুল করেন না, করলেও স্বীকার করার চল নাই। এই সব এদের জানিয়েও লাভ নাই। 
গত বছর প্রথম আলোর একটা লেখায় ভুল ধরিয়ে, তথ্য-প্রমাণসহ মেইল করেছিলাম। সেই মেইলের উত্তর আজো পাওয়া যায়নি। সময় পেরিয়ে যায়নি, এখনো আশায় আছি। অনেকে এদের মেইলের উত্তরের জন্য আমার অপেক্ষা দেখে বিস্তর হাসাহাসি করেন।  মুখ ফুটে বলেই বসেন, বাপু রে, মিডিয়া ঈশ্বর এবং ঈশ্বরের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই- কেউই ভক্তদের প্রশ্নের উত্তর দিলে আগ্রহ বোধ করেন না।

আমি এদের কথা বিশ্বাস করি না। এরা হয়তো প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করেন, কবুতরের পায়ে বেঁধে মেইল পাঠান। হতে পারে না এমন রাস্তায় কেউ ধরে সেই কবুতরটা খেয়ে ফেলেছে। বেশ পারে! তাই বলে প্রথম আলোকে দায়ী করা চলে না।          

দাউদ হায়দার, তোমাকে, আবারো...


অ কবি, তোমাকে তুমি তুমি করে বলছি বলে আমাকে দুর্বিনীত ভাবছ না তো আবার? আহা, তুমি যে আমাদের লোক গো! তুমি কবি মানুষ, এটা বুঝবে না বুঝি?

তোমাকে নিয়ে যে শেষ লেখাটা লিখেছিলাম:

"কবি তুমি যেখানে থাকো ওখানে বাংলাদেশ হাই-কমিশনারের অফিস নেই? থাকলে, ওটার সামনে গিয়ে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দাও। কি, সাহসে কুলাচ্ছে না? যে হাত কবিতা লিখতে পারে সেই হাত বুঝি নিজের গলা চেপে ধরতে পারে না, না?"
ওই লেখাটার শেষের এই অংশটা পড়ে, দেখো আবার কোনো পাগলামী করে বসো না যেন! খবরদার কিন্তু খবরদার, কবি! তোমরা তো আবার কবি-মানুষ, অতি আবেগী, তোমাদের বিশ্বাস কী, বলো! একটা ভজকট করে ফেললে, তখন?
কবি, তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে কচ্ছপের মত, বছরের পর বছর ধরে। ফিরতে হবে 'দেশমা'-র কাছে।

এই অংশটুকু রাগ করে লিখেছিলাম, বুঝলে কবি, রাগ হবে না বুঝি? আহা, তুমি আমাদের যে কী ক্ষতি করেছ, এখনও করছো... এটা যদি জানতে তুমি! তোমার কারণে আমরা ১৫ কোটি মানুষ যে নগ্ন হয়ে পড়ি, লুকিয়ে রাখা উদরের আবর্জনা-সব বেরিয়ে পড়ে! আমাদের একপেট আবর্জনা প্রকৃতি চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে, আর খানিকটা আমরা রাখি চকচকে কাপড়ে। নইলে কি হতো ভাবো দিকি?
 
আমি তো শিউরে উঠি, এই ঢেকে রাখার বিষয়টা না-থাকলে! ঈশ-শ, চোখ বন্ধ করে ফেলি! তাহলে এ গ্রহের সবচেয়ে রূপবতী মানবীর সঙ্গে তখন কী আর তাড়কা রাক্ষসীর ফারাক থাকত? নাকি আমার মত ছলিমুল্লা-কলিমুল্লার সঙ্গে এ গ্রহের সবচেয়ে সুদর্শন যুবকের?
তো, যেটা বলছিলাম, তোমার কারণে আমরা যে নগ্ন হয়ে পড়ি। আমরা মানে গোটা দেশ, স্রেফ নগ্ন! এটা কি একটা কাজের কাজ হলো, কবি? বুকে হাত দিয়ে বলো তো দিকি।
আর এই আমরাই আবার বলি গণতন্ত্রের কথা, বলি, বাকস্বাধীনতার কথা!  বলি দেশে গণতন্ত্রে চারা পুইশাকের ন্যায় লকলক বেড়ে উঠছে!

আচ্ছা কবি, বাংলাদেশে ঝুম বৃষ্টি হলে তোমার বুঝি খুব মন খারাপ হয়, না? তোমার কি এখনও ইচ্ছা করে বর্ষার পানিতে কাগজের নৌকা ভাসাতে? আচ্ছা, জার্মানির চাঁদটা কি তোমার বাড়ির ছাদের চাঁদটার মতই, সত্যি বলছ তো? নাকি জার্মানির গির্জার ঘন্টার সঙ্গে তোমার শ্রবণযন্ত্রের সখ্যতা হয়ে গেছে?
না-না, এ আমি বিশ্বাস করি না, এতে আমার কী আসে যায়, ছাই!আহা, তুমি যে এখনও ভুলতে পারোনি, না? তাই কি তুমি লেখো:
"...যদি কেউ গল্পচ্ছলে, আড্ডায়
হঠাৎ উচ্চারণ
করে ফেলে আসা স্বদেশের নাম
ভাবি, ছায়াঘেরা-শান্ত-নিবিড়
আরিফপুর-দোহারপাড়া গ্রাম
এখনো কি আগের মতোন?
ইছামতি নদীট কি বহমান
নাকি, ধুধু বালুচর...?"

কবি, আরিফপুর-দোহারপাড়া গ্রামের বাতাস পাঠাব কি তোমার জন্য? মনটা যখন বিষণ্ণ হবে জাস্ট ক্যানটা খুলে বুক ভরে শ্বাস নেবে। নাকি দেশ থেকে একটা কুয়াশার চাদর পাঠাব?
দেশের খানিকটা মাটি আছে তো তোমার কাছে, নাকি শেষ হয়ে গেছে? খানিকটা পানি ছিটিয়ে দিলেই তো মাটির সোঁদা গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে ঘরময়। তখন অনায়াসে তুমি লিখতে থাকবে কবিতার পর কবিতা।
আরে বলো কী! কী বললে, তুমি কবিতা লিখবে না! হে-হে-হে, লিখবে না মানে, কবিতা তোমায় ঘাড় ধরিয়ে লেখাবে।

জানো কবি, প্রায়শ নিজের অতি ক্ষুদ্র ক্ষমতা নিয়ে বড়ো কষ্ট হয়। আমার যদি ক্ষমতা থাকত তোমাকে কেমন চমকে দিতাম বলি। তোমাকে গোটা একটা প্লেনে উঠিয়ে দিতাম। সেই প্লেন কোথায় যাবে এটা তোমাকে জানতে দেয়া হতো না। প্লেন ছাড়ার পর তুমি চোখ বড়-বড় করে বকতে থাকতে, আরে, ঘটনা কি-ঘটনা কি, প্লেনের আর সব যাত্রি কই! 
প্লেনে তোমার সেবায় নিয়োজিত লোকজনরা তোমাকে খাতিরের চুড়ান্ত করবে কিন্তু এরা মুখে কুলুপ এঁটে রাখবে। তুমি মাথা কুটে মরে গেলেও এরা কেউ তোমায় কিচ্ছু বলবে না।
 
যখন তুমি প্লেন থেকে বের হবে তখন তোমার চোখ ছানাবড়া। ওয়াল্লা, এটা দেখি ঢাকা বিমানবন্দর! তোমার এত ভাবাভাবির সময় কোথায়! তোমাকে নিয়ে গাড়ি ঝড়ের গতিতে ছুটছে, সামনে পেছনে প্যাঁ-পোঁ করে বাজছে নিরাপত্তা গাড়ির সাইরেন। আশেপাশের লোকজন হাঁ করে তাকিয়ে আছে, 'এইডারে তো 'বিআইবি'র লাহান লাগে না। আরে, ই মানুডা কেডা'!
 
গাড়ি থেকে তুমি নেমে আরও অবাক হবে, বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে থাকবে। পুরোদস্তর সামরিক পোশাক পরা লোকজন অতি নম্র গলায় তোমায় বলবে: স্যার, মি. প্রেসিডেন্ট আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন। 
তুমি যখন বঙ্গভবনের দরবার হলে ঢুকবে, এই দেশের সমস্ত রথী-মহারথী তোমার সম্মানে উঠে দাঁড়াবে। তোমার প্রতি ভয়াবহ অন্যায়ের জন্য সবার মাথা নীচু হয়ে থাকবে।

স্বয়ং প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে বলবেন, জনাব, দাউদ হায়দার, অতীতে আপনার প্রতি যে ভয়াবহ অন্যায় করা হয়েছে তা তো আর ফিরিয়ে দিতে পারব না কিন্তু এই জন্য, অতীতের এই অন্যায়ের জন্য আপনার কাছে গভীর পরিতাপ-দুঃখ প্রকাশ করি। দয়া করে আমাদের মার্জনা করুন।
 
আর কেউ বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবে না কারণ এই অনুষ্ঠান যে দ্রুত শেষ করতে হবে কেন না কবি যে এবারের বইমেলা উদ্বোধন করবেন। কবি কেন?
আহা, "মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর না- বইমেলা উদ্বোধন করবেন একজন লেখক, কোনো রাজনিতীবিদ না"। 
তাই আগের নিয়ম পাল্টে এবার বইমেলা একজন লেখক উদ্বোধন করবেন। কে উদ্বোধন করবেন? কে আবার, তুমি! এ সত্য, এমন না যে তোমার চেয়ে বড় মাপের কোনো লেখক এই দেশে নাই কিন্তু ওদিন যে তোমার জন্মদিন। তোমার জন্য এরচেয়ে বড়ো উপহার আর কী হতে পারে? তাছাড়া তোমার প্রতি করা অতীতের অপরাধ খানিকটা লাঘবের চেষ্টা করতে হবে না বুঝি!

জানি-জানি কবি, তুমি আমার স্বপ্নের রাশ টেনে ধরতে চাইছ। কিন্তু এই সুযোগ আমি তোমাকে দেব না। তোমরা এমন কেন, আমাদেরকে স্বপ্নটাও আমাদের মত করে দেখতে দাও না? এই দেশে তাই কী স্বপ্নবাজের বড্ডো অভাব?

জানো কবি, এই দেশে ড. ইউনূস এবং ফজলে আবেদ এদের কাছে আছে ব্রক্ষ্ণাস্ত্র, কী ক্ষমতাই না এঁদের! তুমি ফট করে আবার বলে বসো না যেন, এঁরা একটু চেষ্টা করতেন যদি। তোমাকে বুঝতে হবে এঁরা ব্যবসায়ী। 

আসো কবি, আমরা একটা খেলা খেলি। খেলবে? আমার কাছে এখন আছে সামান্য একটা গুলতি। কুশীলব কেবল মাত্র ৪ জন! বাংলাদেশ সরকার, ডয়েচে ভেলে, তুমি এবং আমি। প্রয়োজনে ডয়েচে ভেলেকে হাতেপায়ে ধরে, নতজানু হয়ে রাজি করাবো। কাতর হয়ে বলব, আপনাদের অপমান করছি না কেবল আমাদের দেশের এই অভাগা সন্তানকে তাঁর দেশমার কাছে ফিরতে দিন। 
আচ্ছা কবি, আমি যদি আমার এই প্রাপ্তিটা ছেড়ে দেই বাংলাদেশ সরকার কি তোমাকে এই দেশে আসতে দেবে, থাকতে দেবে? সরকার রাজী হবে! হবে না, না? 
 
হা হা হা, কবি, এটা পুরুষদের খেলা। ডুয়েলের মত কিছু মরনখেলা খেলতে হয় চোখের দিকে চোখ রেখে, সরকার নামের প্রশাসনযন্ত্রের এই ক্ষমতাটাই নাই!। আফসোস, সবাই এমন খেলাটা খেলতে রাজি হয় না, বড়ই আফসোস!
সরকারের এই অক্ষমতার জন্য নিরুপায় আমাদের দিনের-পর-দিন নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে, কিচ্ছু করার নেই। কপাল...!

সহায়ক সূত্র:
১. দাউদ হায়দার:: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_7633.html  
২. দেশ-মা: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_9329.html
৩. বাতাস...: http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post.html
৪. মাটি...: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_15.html
৫. বইমেলা: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_30.html
৬. একুশে ফ্রেব্রুয়ারি: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_21.html 
৭. ড. ইউনূস: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
৮.  ফজলে আবেদ: http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_02.html  

Monday, April 19, 2010

The Ghost Day

Bukin was in deep slumber. However, he was forced to be awakened. All different kinds of tricks had been applied as an effort to interrupt his sleep. His tiny bed had been shaken vigorously. His room temperature was changed into extreme heat and extreme cold to make him uncomfortable and tremendous banging noise was made, but when every single attempt resulted in a massive failure, his bed was turned upside down as the last strategy to wake him up.
 
Finally Bukin woke up yawning aloud, which sounded similar to Tarzan’s ape like yell. With his swooning vision he noticed a bizarre shaped figure. It was like a structure of a skeleton. To his amusement he realized that it was a headless body! But not entirely though, the head was tucked under its arm!
‘What sort of weird thing are you’? Bukin snarled as he felt very irritated.
Astonished by the fact that Bukin was not in panic at all; the ghost thought, ‘Isn’t that an odd question? Is he considering me as a lifeless funny object? His freaking appearance ought to scare the boy out of his wit…pity that he is bravely interrogating him on the contrary!’
 
‘Well I am an ill-tempered ghost, so to speak’, the ghost said in a hissing voice.
‘Frankly speaking, you really need a lot harder practice to be spooky enough for me. I am fade up with your sarcastic attitude. You are simply a pathetic ghost, nothing more than that. You have ruined my sleep for no reason. Now leave me alone and go away!’
The ghost felt strong resentment. He expected the kid to be scared to death. He had practiced for ages to keep the skull intact under his arm in an attractive way. But now he is in the depth of disappointment, discovering that the boy was not startling in fear. What a shameful situation for a ghost, he thought regretfully. He would rather embrace death than accepting dishonor for the ghosts. But tragically enough, he could not die twice as he was already living as a ghost.
 
The ghost said in an ornery tone, ‘I certainly have no intention to interrupt your nap just to make a joke in the middle of the night. I am doing it to discuss a serious issue with you. Today is The Ghost Day.’
The ghost’s statement did not have much impact on Bukin’s mind. Feeling extremely drowsy Bukin was only half listening to the ghost, he replied in a funny way which did not make any sense at all. The ghost was at the verge of tears (lamenting the fact that he did not have eyes otherwise he could burst into cry) and felt miserable than ever at Bukin’s puzzling response.
 
Bukin’s dizziness faded away as he saw the ghost in despair and he sympathetically said to the ghost, ‘I am so sorry for not paying much attention. Never heard of a ghost day, does that exists for real? How do you celebrate the day?’
‘We become very malicious on the ghost day and cause harm to human. We try to bring mischief to people’s life, as a matter of fact I threw out all of toys.’
Bukin seemed to feel little shocked by the loss of his exotic toys but then he decided to let it go. He spoke firmly, ‘Good job. Let the poor children get my toys. I have loads of them, often thought to give my toys away but mom won’t let me. I feel for the kids who are in poverty and misery.’ He sounded sad and mournful.  The ghost felt extremely guilty for what he did and wanted to cheer up Bukin. So he danced and sang a song which made Bukin delightful. He felt a great affection for the ghost. But his happiness did not last long as his mind got occupied with another thought.
 
Bukin asked in a mixture of discouraged and muffled tone, ‘Shall I become a ghost after my death?’
The ghost had an intense reaction and gave a hysterical shriek, ‘No…oo, never. It will never happen to you. Only those turn into a ghost who does a lot of evil act in their life time’.
‘Were you corrupted then?’ Bukin asked in disbelief.
The Ghost sighed and answered in exasperation, ‘Yes, I used to rip people off by taking bribe when I was alive’. 
‘What is bribe anyway?’
‘Well, this is none of your business because you are not grown up enough to learn about all these nasty things.’
Bukin kept pleading as his curiosity was intense, ‘But I want to know, please’.
The ghost still remained silent.
Then Bukin said impatiently, ‘Please don’t stop telling it, let me know’.
There was a pause.
 
The ghost pondered for a long time, and then he replied to Bukin in a trembling voice, ‘I want you to ask your father all about his misdeeds and he can explain it to you better. Let’s say good bye to each other now. I wish you a life full of bliss. My heart is burning with pain because I have to tell you something terrible before I leave; your father is going to join the other ghosts because his time is nearby.’

**English translation by: Tithi, Canada**

কালের কন্ঠ: আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করি

দৈনিক কালের কন্ঠ'-কে নিয়ে একটা লেখায় আমি লিখেছিলাম, "...এই খবরটায় লতিফুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ছাপিয়ে দেয়া হয়েছে..."।
এখানে আমার অজান্তেই ক্ষমার অযোগ্য একটা ভুল হয়ে গেছে। যে নাম্বারটা ছাপানো হয়েছিল সেটা থেকে আসলে ফোন করা হয়েছিল, রিসিভ না। বাক্যের ব্যাখ্যার অর্থ বুঝতে আমার সমস্যা হয়েছিল। এর দায় পুরোটাই আমার উপরই বর্তায়।

'গ্লোবাল ভয়েসেস'- এ যে সাক্ষাৎকার দিয়েছি, তাঁদের সীমাবদ্ধতার কারণে সর্বত্র এটা খানিকটা কাটছাঁট করে ছাপা হয়েছে। কিন্তু পূর্ণ সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গটার উল্লেখ আছে।  

আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কালের কন্ঠের পুরো টিমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি। এবং যেসব সহৃদয় পাঠক সাক্ষাৎকারের এই অংশটুকু পড়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন তাঁদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা।
পোস্ট দেয়ার সময় তথ্য-উপাত্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয় কিন্তু তারপরও ভুল হয়ে গেছে! বুড়া শেয়াল যখন ফাঁদে পড়ে তখন মৃত্যু চিন্তা থেকে লজ্জায় অস্থির থাকে। আমার তেমনি মনে হচ্ছে।  
একজন আমার এই ভুলটা ধরিয়ে দিতে সহায়ক হয়েছেন। মানুষটার প্রতি কৃতজ্ঞতা। 

কালের কন্ঠের মালিক এবং সম্পাদক, নীতিগত কারনে এঁরা আমার অপছন্দের মানুষ। কিন্তু এই পত্রিকায় এখন এক ঝাঁক দুর্ধর্ষ মানুষ জড়ো হয়েছেন। এঁদের কাছে আমি কি ছোট্ট একটা আবেদন রাখতে পারি? আমাদের দেশে পত্রিকাওয়ালাদের ভুল স্বীকার করার চল নাই। আপনারা কি প্রথম পাতায় এক কলাম এক ইঞ্চির একটা বক্স রাখবেন? যেখানে প্রতিদিন যে কোন ধরনের ভুল, অসঙ্গতি স্বীকার করা হবে।
কোন কোন পত্রিকায় কখনো কখনো ভেতরের পাতায় ছোট্ট করে ভুল স্বীকার করা হয়, এটা করা না করা প্রায় সমান। যেমন অর্থহীন অন্ধকারে কোন রূপবতীর হাসি!    

Sunday, April 18, 2010

ব্লগিং-এর নামে বনের মোষ তাড়ানো এবং কৈফিয়ত

কেউ কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেন, কি করেন আপনি? আমি খানিকটা ভাবনায় পড়ে যাই, আকাশ-পাতাল হাতড়াতে থাকি। অনেক ভেবে-টেবে বলি, এই আর কি, নেটে লেখালেখি করি।  মানুষটা তখন তাচ্ছিল্যের একটা ভঙ্গি করেন, মুখে বলেন, অ। এরা তখন মনে মনে কি বলেন তা খানিকটা অনুমান করতে পারি, এখানে শেয়ার করতে চাচ্ছি না।

যারা কম শিক্ষিত তারা ফট করে বলে বসেন, আপনে সাব্বাদিক? না উত্তরটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। 
এই প্রসঙ্গে বিশদে যাই না। আমার না-বলা অনেক কথা এখানে বলা হয়ে গেছে।

এই দেশের তথ্যভান্ডার, জাতির বিবেক আমাদের দৈনিকগুলো এবং এর সঙ্গে জড়িত মানুষদের মননশীলতার উপর আমার আস্থার অভাব নাই। এরা জানেন না এমন কিছুই নাই, ভুল করার প্রশ্নই আসে না। যেমন সবজান্তার এই দলে আছেন দেশের মন্ত্রী এবং রাতের টকশোর বুদ্ধিজীবীগণ! অধিকাংশ জাতীয় দৈনিকগুলো কেবল তথ্যের টান পড়লেই ইন্টারনেটে হাত বাড়ান। 
ইন্টারনেটের যে কোথাও থেকে গণিমতের মাল বিবেচনা করে যে কোন তথ্য নিয়ে নেন। কোন কোন পত্রিকা দয়ার্দ্র  হয়ে দয়া করে লিখে দেন, 'ওয়েবসাইট অবলম্বনে'। গণিমতের মাল বলে কথা! আপনাদের কাছে বিনীত ভঙ্গিতে বলি, গণিমতের মালও চক্ষু লজ্জার খাতিরে হালাল করার চেষ্টা করা হয়, বিভিন্ন উপায়ে, বিবাহ করে। আপনারা যে ওয়েব সাইট থেকে তথ্য নেবেন ওই ওয়েব সাইটের নাম যদি উল্লেখ করেন তাহলে আমরা নেটবাসীর লোকজনরা বেঁচে যাই।

আজ একজন ফোন করে জানালেন, 'দ্য ববস'-এর এই প্রতিযোগিতার খবর দৈনিক 'নয়া দিগন্তে' ছাপা হয়েছে। আমার জানামতে অন্য কোন প্রধান দৈনিকে এই খবর আসেনি। সেটা সমস্যা না কারণটা পূর্বেই বলেছি, ব্লগিং নামের লেখালেখির প্রতি চলমান তথ্যভান্ডারদের আছে সীমাহীন তাচ্ছিল্য। 
তাছাড়া কিছু জাতীয় দৈনিক নিয়ে লেখালেখি করেছি, হয়তো বা গাত্রদাহের খানিক কারণ থাকতেও পারে। 

যাগ গে, এই সব আমার আলোচ্য বিষয় না। কিন্তু কেন কেবল নয়াদিগন্তেই বিশদ আকারে এটা ছাপা হলো কেন এটার জবাব আমি কেমন করে দেব? এখন আমি অনেকটা ভয়ে ভয়েও আছি। যতটুকু জানি, 'নয়া দিগন্ত'-এর সঙ্গে জামাত কানেকশন আছে। এখন কেউ এর সঙ্গে আমারও কানেকশন খুঁজে বের করেন তাহলে বিপদে পড়ে যাব। কারণ আমার মুক্তিযুদ্ধের কোন সার্টিফিকেট নাই, বয়সে কুলায় না! 
এখন যে আমার অনেক জবাবদিহি, অনেক দায়িত্ব, জর্মন হিটলারের বিচারের দায়িত্বও আমার উপর বর্তায়। হিটলারকে হন্যে হয়ে খুঁজছি, ব্যাটাকে হাতের নাগালে পেলেই হয়।    

মোঃ মোস্তফা কামাল: আমি দুঃখিত, লজ্জিত

The BOBs আয়োজিত "Special Topic Award Climate Change" এই বিভাগে "Bangladesh Banchlei Bishwa Bachbe" এই সাইটটি প্রতিযোগিতা করেছে। 

নিজের লেখালেখির সাইট ব্যতীত অন্য সাইটে আমার তেমন সময় দেয়া হয়ে উঠে না। একদিন অন্যান্য বিভাগের ব্লগগুলো দেখে আমি চমকে উঠলাম, "Bangladesh Banchlei Bishwa Bachbe" এই ব্লগটি এবং স্পেনের "Ecoplaneta" ব্লগটি পাঠকের ভোটে, অনুপাতে সমান সমান। পরে অবশ্য ক্রমশ পার্থক্যটা বেড়েছে।

এই দুইটা ব্লগের মন্তব্য ভিজিটরের সংখ্যা বিচার করলে মন্তব্যের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল "Bangladesh Banchlei Bishwa Bachbe" এই সাইটটি। 
Bangladesh Banchlei Bishwa Bachbe এই সাইটির প্রথম না হওয়ার কোন কারণ আমি দেখি না। অনেকটা সময় এই দু্ইটা ব্লগের ভোটের অনুপাত প্রায় কাছাকাছি ছিল। তাহলে?

আমি মনে করি, আমরা এই দেশের লোকজনরা যদি আরও খানিকটা চেষ্টা করতাম তাহলে এই ব্লগসাইটটি অবশ্যই প্রথম হতো। এই নিপাট মানুষটাকে নিয়ে কোথাও প্রচারণা আমার চোখে পড়েনি।

আজ আমার নিজেকে চাবকাতে ইচ্ছা করছে, আমি নিজে কী করেছি? কেন এই বাংলাদেশী সাইটটার জন্য অন্য দেশের লোকজনের মত ঝাপিয়ে পড়লাম না, কেন এটাকে কচ্ছপের মত কামড় দিয়ে ধরলাম না?

আমরা বিভিন্ন কমিউনিটি ব্লগে লেখালেখির সুবাদে একে-ওকে ধরাধরির যে সুবিধা ভোগ করি; অনুমান করি, প্রায় একা একা এই মানুষটি সেই সুবিধাটুকু পাননি। তারপরও এই মানুষটা হেমিংওয়ের সেই বুড়ো সান্তিয়াগোর মত লড়ে গেছেন। 
আমার লজ্জিত হাত উঠিয়ে বলি, স্যালুট, ম্যান।


Saturday, April 17, 2010

দেশমা এবং তাঁর খুনি সন্তানটা

খুব ছোটবেলায় রাশিয়ান একটা গল্প পড়েছিলাম, লেখকের নাম আজ আর মনে নেই। এই গল্পটার খানিকটা অন্য একটা লেখায়ও ব্যবহার করেছিলাম। মূল গল্পটা এমন।  তেমন কিছুই মনে নেই, নিজের মত করে বলি:
"কুয়োতলায় সব মা-রা বসে গল্পগুজব করছেন। প্রত্যেকের মা-র সন্তানরা পাশেই খেলা করছিল। এদের প্রত্যেকেরই নিজেদের সন্তানদের নিয়ে অহংকারের শেষ নেই। কারও সন্তান ডিগবাজি খাচ্ছে, কারও সন্তান বুক-ডন করে দিচ্ছে। 

এদের মধ্যে একজন মা চুপ করে বসে ছিলেন। সবাই বলল, কি গো, তোমার সন্তান-ছাওয়ালরে ডাকলা না!
মা-টা বিমর্ষ মুখে বললেল, আমার বাবুটার তো বলার মত কোন গুণ নাই। 
বলেই তিনি দু-হাতে দুটা বালতি উঠিয়ে হাঁটতে লাগলেন। কোত্থেকে যেন ওই মা-টার দুর্বল, কালো-লিকলিকে সন্তানটা ধুলো উড়াতে উড়াতে এলো। মার হাত থেকে ভারী বালতি ছিনিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল, মা, তুই পাগল হইছস, তুই এইটা নিতে গিয়া হাত-পা ভাঙ্গবি। তুই আরেকদিন এমুন করলে আমার মরা মুখ দেখবি।"

আসলে এমন গল্প পড়ে আমার বুকের ভেতর থেকে হাহাকার বেরিয়ে আসে, আহা, এমন একটা গল্প যদি আমি লিখতে পারতাম! লিখতে না পারলেও চেষ্টা করতে দোষ কী?
একজন মা-দেশমা। এই মাটা বড্ডো দুখি, বড়ো অসহায়। গ্রাম্য এই মাটার শরীরটা শস্তা-খাটো কাপড়ে কী আর ঢাকে, কাপড় সামলাতে সামলাতেই বেচারির দিন যায়! তবুও মাটা কাউকে কিচ্ছু বলে না, কিচ্ছু জানতে দেয় না। কেবল ভেজা-বড়ো বড়ো চোখ করে তার সন্তানদের জন্য মমতার কলস উপুড় করে দেয়।
 
তাঁর সন্তানদের মধ্যে একটা সন্তান, ছোটটা- অপদার্থ, দুর্বল, কালো লিকলিকে। সবাই তাকে বড়ো তাচ্ছিল্য করে। সেই বোকাসোকাটার আবার নিরিবিলিতে থাকতেই বড়ো পছন্দ করে, গাছের নীচে বসে এটা-সেটা কতো কিছু ভাবে, ছাই!  মার জন্য ওর ভারী মায়া কিন্তু বেচারা, কী করবে মার জন্য? ওর সেই সামর্থ্য কই?
অন্য ভাইরা ধাঁ ধাঁ করে তালগাছ হয়ে যাছে- কত্তো কত্তো জিনিস ওদের কাছে, অর্থ-সম্পদ-শিক্ষা-বুদ্ধি, কী নেই?

শয়তান এবং মানুষকে এই ছোট্ট গ্রহে নামিয়ে দিয়ে তিনি তাঁর অনন্ত ভ্রমনে আছেন। শয়তানেরর সুখের শেষ নেই, মানুষের পেছনে লেগে থাকাই তার কাজ। শয়তান তো শয়তানই, তার আকারের অভাব কি। একদিন সাধুর রূপ ধারণ করে সে ওই দুখি মাটার সন্তানদের কাছে এসে একেকজনের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলল, লোভ দেখাল।
শয়তান বড়ো সন্তানকে বলল, বর হিসাবে তোমার ঝুলিতে  আমি আরও শিক্ষা দেব। কেবল তুমি আজীবন এটা বলে আসবে, তুমি জারজ সন্তান।
বড় সন্তান বলল, আমি নিজেকেই তো এটা বলব, সমস্যা কি!

শয়তার মধ্যম সন্তানের কাছে গিয়ে একই কথাটা অন্য রকম করে পাড়ল, তুমি নিজেকে জারজ সন্তান বলে স্বীকার করলে আমি তোমাকে অনেক সম্পদ দেব, রাজী?
মধ্যম সন্তান বলল, হুঁ, নিজেকেই তো বলব, এ আর কঠিন কী!
আফসোস, এরা কেউই ভেবে দেখল না, এটা বলা মানেই হচ্ছে প্রকারান্তরে নিজের মাকে বেশ্যা বলে স্বীকার করে নেয়া।
 

শয়তান গেল সেই ছোট সন্তানটা কাছে। শয়তানের সেই একই বক্তব্য।
সেই সন্তানটা সাধুরূপি শয়তানের চোখে চোখ রেখে বলল, কি বলছেন আপনি! এইটা বললে আমার মাকে গালি দেয়া হয়। সাধু মানুষ আপনি, প্রথমবার না বুঝে বলছেন, মাফ করে দিলাম। আরেকবার আমার মারে গালি দিলে আপনাকে আমি খুন করে ফেলব। ঈশ্বরও আপনাকে বাঁচাতে পারবেন না, স্রেফ খুন হয়ে যাবেন।       

Friday, April 16, 2010

The BOBs-এ আমার সাইটটির 'সেরা বাংলা ব্লগ পুরষ্কার'

গ্লোবাল ভয়েসেস-এর সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম, আমি পেছনের কাতারের মানুষ, সামনে চলে এলে সব কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। নিরিবিলিতে থাকা মানুষগুলো যখন হইচই-এর মধ্যে চলে আসে তখন এদের সব গুলিয়ে যায়!

'ডয়েচে ভেলের' সাক্ষাৎকারে আমি আন্তরিকতার সঙ্গেই বলেছিলাম, যেখানে আমি চলে এসেছি কিন্তু এমন অনেক ব্লগার আছেন যারা হয়তো কোন কারণে এখান পর্যন্ত আসতে পারেনি। কিন্তু এঁদের লেখার হাত, ভাবনার প্রসারতা এতোটাই শক্তিশালী- আমার ক্ষমতা থাকলে এঁদের হাত সোনা দিয়ে বাঁধাই করে দিতাম।
আফসোস, এই দেশের অনেক শক্তিশালী লেখক এটা কল্পনাও করতে পারবেন না ব্লগিঙের কী শক্তি!  

যাই হোক, আমি অভিভূত, হতভম্ব! কেবল এই জন্য না যে The BOBs-এ 'সেরা বাংলা ব্লগ পুরষ্কার'-এ  আমার এই সাইটটি প্রথম হয়ে গেছে। অবশ্যই এর জন্য আছে গভীর আনন্দের পাশাপাশি জুরিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

আমার নিজের আনন্দকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অন্য ভাষার লোকজনের কাছে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ এই শব্দটা বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, এই আনন্দ কোথায় রাখি? বাংলা ভাষার প্রতি এই যৎসামান্য ঋণ শোধের চেষ্টা- এমন দিনে মরতেও সুখ, নাই-বা হলো জ্যোৎস্না রাত!

কিন্তু আমাকে যেটা নাড়িয়ে দিয়েছে সেটা হচ্ছে ব্যবহারকারীর ভোট। একজন দু-জন মানুষ না, অসংখ্য মানুষ আমার মত একজন দলছুট মানুষের প্রতি যে অযাচিত মমতা-ভালবাসা দেখিয়েছেন এই মমতা আমি ফেরত দেই কেমন করে!

এরা আমাকে মমতার ব্রক্ষ্মাস্ত্রে কোনঠাসা করে ফেলেছেন, ব্রক্ষ্মাস্ত্র নাকি একবার ছুঁড়লে ফেরত যাওয়ার কোন উপায় নেই। এই মমতা ফেরত দেয়ারও কোন উপায় আমার জানা নেই, জানা থাকলে ভালো হতো। 

Wednesday, April 14, 2010

যারা ভাল ইংরাজি জানেন না তারা শূলে চড়বেন

আমার এই সাইটটাতে কখনও কখনও অন্য ভাষার লোকজন দুম করে ঢুকে পড়েন। ঢুকেই দেখেন সব হিজিবিজি-হিজিবিজি! বেচারাদের এতো দায় পড়েনি বাংলা ভাষার চর্চা করবেন। অধিকাংশই এ গ্রহে বাংলাদেশ নামের কোন দেশ আছে এটাই জানেন না। জানলেও বাংলাদেশের লোকজন নেট ব্যবহার করেন, আবার ব্লগিং-এর নামে লেখালেখি করেন এটা বিশ্বাসই করেন না।
একটা উদাহরণ দেই, আমার এক চীনা বন্ধু আছেন। তিনি মন্তব্য চালাচালির ফাঁকে একদিন দুম করে জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি করো'?
আমি আকাশ-পাতাল হাতড়াতে লাগলাম, কি করি-কি করি? অনেক ভেবে-টেবে বললাম: আমি একটা ওয়েবসাইটে লেখালেখি করি।
তার পরের প্রশ্নটা ছিল, 'তুমি আবার নেটে কি লেখ! সত্যি তোমার ওয়েবসাইট আছে'?
একে লিংক দিয়ে লাভ কী, এ তো কিছুই বুঝবে না! অবশ্য আমার খুব রাগ হয়েছিল, মহিলা মানুষ বলে বেশি কিছু বলিনি।

তো, একবার মনে হলো, আমার এই সব ছাইপাশ লেখা অন্য কিছু ভাষায় অনুবাদ করার চেষ্টা করি। ইংরাজি জানা ব্যতীত অন্য লোকজন পাব কোথায়? লজ্জার মাথা খেয়ে বিভিন্ন মানুষকে ধরাধরি করি। ইংরাজি হলেই তো হবে না কীসব নেটিভ ইংরাজির হ্যাপা আছে!
পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে একজনকে বলায় তিনি বললেন, 'আপনি নিজেই কেন ইংরাজিতে অনুবাদ করে ফেলেন না'?
আমি বললাম: বাপু রে, দু-পাতা ইংরাজি পড়তে পারি বলে অনুবাদ করে ফেলব, এতোই সোজা! বাংলাটাই ভালো জানি না তাও আবার অন্য ভাষা!
মানুষটা আমার অনুরোধ রাখলেন না। এতে সমস্যা ছিল না, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এবারের বইমেলায় অল্পবয়সী কিছু ছেলেপেলেদের সঙ্গে কথা বলছি। এরা সদ্য বিভিন্ন সাইটে লেখালেখি করছে। কার কাছে যেন আমার কথা শুনেছে, ঝলমলে মুখে এটা-ওটা জানতে চাইছে। এরিমধ্যে এই মানুষটা ওখানে এসে হাজির হলেন। তিনি ফট করে বলে বসলেন, 'আচ্ছা, ইয়ে, আপনি ইংরাজি ভালো জানেন না, না'?
আমি বেদনাহত হয়ে মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ এতোটা হৃদয়হীন হয় কেমন করে! অন্য কিছু না কেবল এখানে ছেলে-পেলেদের সামনে আমাকে অপদস্ত করা, লজ্জা দেয়া। ছেলেরা আগ্রহ করে আমার সঙ্গে কথা বলছে এটা হয়তো মানুষটার কাছে ভালো লাগেনি, কেমন করে আমাকে নীচু দেখানো যায় এটাই হচ্ছে আসল কথা। সোজা অংক, এই সব ছেলেদেরকে বুঝিয়ে দেয়া আমি ছদুরুদ্দিন-মদুরুদ্দিন টাইপের একটা মানুষ। এটা সত্য হলেও এদের কাছে বলার আদৌ প্রয়োজন কী!
আমি রাগ চেপে ছোট্ট করে উত্তর দিলাম, 'না, ইংরাজি ভালো জানি না, এতে কী আমার জেল-ফাঁসি হবে!
এখানেই বিষয়টা শেষ হয়ে গেলে চুকে যেত। কিন্তু তিনি আবারও বললেন, 'এমন ভাবে বলছেন যেন
ভালো ইংরাজি না-জানাটা বিরাট একটা কাজ'।
আমি প্রচন্ড ক্রুদ্ধ হলাম। অতি শিক্ষিত একটা ছেলে- বাইরে পড়াশোনা করেছে, এ এই সব কি বলছে! এটা তো স্কুলপড়ুয়া ছোকরাদের ঝগড়া করার ভঙ্গি! রেগে গেলে এমনিতে আমার কথা জড়িয়ে যায় কিন্তু প্রচন্ড রেগে গেলে ঠান্ডা মাথায় গুছিয়ে বলতে পারি। চাক-চাক বরফি কাটার মত!
আমি পলক না-ফেলে মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, 'ছি ছি মা বোভু'।
মানুষটা ভেবাচেকা খেয়ে বললেন, 'এইটা আবার কি বললেন'?
আমি মানুষটার চোখ থেকে চোখ না-সরিয়ে আবারও বললাম, 'বিছো মাবে'। বোঝেন নাই! প্রথমে আপনাকে সোহেলি ভাষায় বলেছিলাম, তুমি খারাপ। আফসোস, আপনি দেখি সোহেলি ভাষা জানেন না, পরে লিংগালা ভাষায় বললাম, তুমি খারাপ। আশ্চর্য, আপনি দেখি লিংগালা ভাষাও জানেন না! এটা একটা কাজ হলো, দুঃখজনক!
মানুষটা এইবার খানিকটা রেগে গেলেন, 'আমার কি ঠেকা পড়েছে জংলিদের ভাষা জানার'?
 
আমি একটিবারের জন্যও মানুষটার চোখ থেকে চোখ সরাইনি। স্থির চোখে এইবার বললাম, তাহলে ফরাসি ভাষায় বলি, 'ভু মভে'। বুঝেন নাই? ঘটনা কী, ফরাসি ভাষা তো আর জংলিদের ভাষা না। শোনেন, প্রতিদিন আপনি ফরাসি ভাষায় জপ করবেন 'জো নো ছে পা' এটার বাংলা হলো, আমি কিচ্ছু জানি না। ঘুম থেকে উঠেই অনবরত বকে যাবেন, জো নো ছে পা-জো নো ছে পা, আমি কিচ্ছু জানি না-আমি কিচ্ছু জানি না।
পাশের ছেলেগুলো হাসি গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। এরপর থেকে এই অতি শিক্ষিত মানুষটা আমার কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকত। আমারও মানুষটাকে ট্রাক-ট্রাক লাগত। ট্রাকের কাছ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকারই নিয়ম।
 
পরে অবশ্য সাদিক আলম এবং তিথি- এঁরা কিছু লেখা অনুবাদ [] করে দিয়েছিলেন। কিছু অনুবাদ হয়েছিল অপূর্ব, কিছু অনুবাদ মূল লেখাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
আমাদের দেশটা অদ্ভুত! এখানে ফটাফট করে ইংরাজি বললে বিনা বাক্যে শিক্ষিত ধরে নেয়া হয়। এ লজ্জা কোথায় রাখি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ [] নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক  শুদ্ধ বাংলা বলতে পারেন না! একবার তাঁর একটা ভাষণের সময় কাগজ-কলম নিয়ে বসেছিলাম। এই মানুষটা ৫ মিনিটের মধ্যে একুশটা অশুদ্ধ বাংলা বলেছিলেন! পরে হাল ছেড়ে দিয়ে হিসাব কষা বন্ধ করে দিয়ে ছিলাম।
কার কাছে এই কষ্টটা বলি, এই দেশের অধিকাংশ আইন এখনো ব্রিটিশদের করা। রাষ্ট্রীয় কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ৭৫০টি আইনের মধ্যে মাত্র ৯৭টি আইন বাংলায়, বাকীসব ইংরাজিতে! আমরা আবার লম্বা-লম্বা বাতচিত করি, ভাষা আন্দোলন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে- ছাতাফাতা! 
এই দেশের বুদ্ধিজীবী নামের বুদ্ধির ঢেঁকিদের বুদ্ধির তারিফ না করে উপায় কী! বুদ্ধিজীবী খোকারা দেশি মার শাড়ির আঁচল ছেড়ে বিদেশি মার স্কার্ট ধরে টানাটানি করেন। এঁদের কাছ থেকে এই প্রজন্ম যা শেখার তাই শিখবে এ আর নতুন কী! বিনয়ের সঙ্গে বলি, ইংরাজি শিক্ষা বন্ধ করে দেয়া হোক আমি এই অর্বাচীন কথা বলতে চাচ্ছি না- বাপ নীচে বসে থাকবে আর পোলা চেয়ারে এই ভঙ্গিটা কেবল চাচ্ছি না, ব্যস। বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাবার জন্য ইংরাজি শিখতে হবে কিন্তু মার ভাষা বাদ দিয়ে না!
দুশো বছরের ইংরেজ প্রভুর গোলামের বাচ্চাদের চিৎকার, শীৎকারে বড়ো অতিষ্ট হয়ে পড়ি। 'পহেলা বোশেখে' এরা পান্তা খেয়ে [৩] দেশ উদ্ধার করে।
"আমরা বাংলা গিয়েছি ভুলি,
আমরা শিখেছি বিলেতি বুলি, ...
আমরা সাহেবি রকমে হাঁটি
স্পীচ দেই ইংরাজি খাঁটি
কিন্তু বিপদেতে দেই বাঙালিরই মত
চম্পট পরিপাটি।"
(বিলাত ফের্তা, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
এই দেশের সাহিত্য যেমন ঢাকাসাহিত্য, তেমনি এই গ্রহের সাহিত্য মানে হচ্ছে ইংরাজি সাহিত্য, প্রকারান্তরে আমেরিকা-বৃটেনের সাহিত্য! কেউ ইংরাজি সাহিত্য রচনা না করলে বা ইংরাজিতে অনুবাদ না হলে তার অবস্থা দাঁড়াবে আমাদের দেশের একজন তেলিবেলি লেখকের মত।
ধরা যাক, গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের কথা। জে. এস. বার্নষ্টাইন তাঁর 'নো ওয়ান রাইটস টু দ্য কর্ণেল' [৪] ইংরাজিতে অনুবাদ না করলে মার্কেজ নামের কলম্বিয়ান এই লেখক সেই তিমিরেই পড়ে থাকতেন। তাঁর নামটাও বিশ্ববাসী জানত না। 
Franze Kafka-এর  The Metamorphosis লেখাটা ইংরাজিতে ছাপা না হলে, David Wyllie ইংরাজিতে অনুবাদ না-করলে 'গ্রেগর' নামের চরিত্রটির অদ্ভুত রূপান্তর আমরা জানতেই পারতাম না। কী অসাধারণ একটা লেখা"
"...One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin..." (Metamorphosis/ Franz Kafka)
গ্রেগরের পোকাসুলভ আচরণ, তার যন্ত্রণা, তার করুণ মৃত্যু।
"...'Dead?' said Mrs. Samsa and looked questioningly at the cleaning women."
আহ, তার মার কী সেই নির্দয় উক্তি, 'মরে গেছে'?
"...'Well,' said Mr. Samsa, 'now we can give thanks to God.' He crossed himself,"
গ্রেগরের বাবার হাঁপ ছাড়া অতি নিষ্ঠুর সংলাপ, 'যাক, ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ'।
 
'OF MICE AND MEN' (John Steinback), জর্জ যখন তার অসম্ভব প্রিয়, অসহায়-একরকম মাথায় খাটো বন্ধু লেনিকে গুলি করে আমি তখন চোখ বন্ধ করে ফেলি। কিন্তু চোখ বন্ধ করে ফেললেই যেমন প্রলয় থেমে থাকে না তেমনি জর্জের গুলিও।
এঁদের এই সব লেখার শক্তি দেখে হতভম্ব হয়ে যেতে হয়।
এঁদের এই সব লেখার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের যোগ্যতার অভাব নেই আমাদের বাংলার এই সব লেখকদের।
পেছনের কাতারে পড়ে থাকা বাংলার সেইসব অভাগা লেখকরা। আহারে-আহারে, তাঁদের একেকটা হাত সোনাপানির প্রলেপে মাখা -তারাশঙ্করের 'পঞ্চগ্রাম', বিভূতিভূষণের 'আরণ্যক' খাঁটি সোনা ফেলে দেই কেমন করে?
Paulo Coelho-এর 'The Alchemist পড়িনি কিন্তু তার 'eleven minutes' পড়ে আমার মনেই হয়নি এটা না-পড়লে দুঃখের শ্বাস ফেলতে হত বা জীবনটা বৃথা যেত! অথচ PAULO COELHO-কে নিয়ে কী মাতামাতি!
George Bernard Shaw-এর 'YOU NEVER CAN TELL' এমন আহামরি কোন লেখা না! বার্নাড শ-কে আমরা মাথায় তুলে রাখব কিন্তু শ সাহেব লিখেছেন বলেই তাঁর সব লেখায় লাফিয়ে ছাদে মাথা ঠুকে ফেলার কোন কারণ নাই।
অথচ একজন মনোজ বসুর 'নিশিকুটুম্ব' এই সব লেখাকে অনায়াসে পেছনে ফেলে দেবে এতে অন্তত আমার কোন সন্দেহ নেই। আহারে, এই লেখাটা পড়ে আমার সাহেবের মত চোর হতে ইচ্ছা হয়েছিল!

'THREE MEN IN A BOAT', Jerome K. Jerome বা 'CARRY ON JEEVES'/ 'THANK YOU JEEVES'/ P. G. Woodhouse) অথবা 'DON QUIXOTE'/ Cervantes) [৫] এদের দুর্ধর্ষ হিউমারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। কিন্তু এঁরা একজন শিবরাম, একজন ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সামনে দাঁড়াতেই পারবেন না। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, এদেরকে শুইয়ে দেওয়ার জন্য ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় একাই যথেষ্ঠ।
"...একবার, দুইবার, তিনবার বিষম বল প্রয়োগ করিয়া বাঘ পলাইতে চেষ্টা করিল। ...কিন্তু দৈবের ঘটনা একবার দেখ! এত টানাটানিতেও বাঘের লাঙ্গুল ছিঁড়িয়া গেল না। তবে এক অসম্ভব ঘটনা ঘটিল। প্রাণের দায়ে ঘোরতর বলে বাঘ শেষকালে যেমন এক হ্যাচকা টান মারিল, আর চামড়া হইতে তাহার আস্ত শরীর বাহির হইয়া পড়িল। অস্থি-মাংসের দগদগে গোটা শরীর, কিন্তু উপরে চর্ম্ম নাই! পাকা আমের নীচের দিকটা সবলে টিপিয়া ধরিলে যেরূপ আঁটিটা হড়াৎ করিয়া বাহির হইয়া পড়ে, বাঘের ছাল হইতে শরীরটি সেইরূপ বাহির হইয়া পড়িল...।" 
ত্রৈলোক্যনাথের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কেবল সারভান্তিসের সঙ্গে। বা শিবরাম! শিবরামের বড় লেখাটাকে ছোট করে বলি:
দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!
কী অসাধারণ এক গল্প! ভুবনেশ্বরের সেই গল্প ভেড়িয়ে বা নেকড়ে?
"...লাফ দিতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বাবা বললেন, 'দাঁড়া, আমার পায়ের জুতাগুলো একেবারে নতুন, ভেবেছিলাম কমসেকম দশবছর পরবো', একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন, 'দেখিস তুই এগুলো আবার পরিস না যেন, মরা মানুষের জুতা পরতে নেই। তুই জুতাজোড়া বেচে দিস কারো কাছে'। জুতাজোড়া খুলে গাড়ির ভেতরে ছুঁড়ে মারলেন বাবা। তারপর লাফ দিয়ে পড়লেন গাড়ির পেছন-পেছন দৌড়ুতে থাকা নেকড়েগুলোর একেবারে মাঝখানে...।"
(অনুবাদ: মোসতাকীম রাহি)

কিন্তু ওই যে বললাম, এ গ্রহের সাহিত্য মানেই ''ইংরাজি সাহিত্য'। বেশ এটা না-হয় মেনে নেয় গেল। কিন্তু আমরা কেন বিস্মৃত হতে পারছি না পৃথিবীতে অসংখ্য ভাষার অনেক কিছুই আমরা জানি না, কেবল জানি ইংরাজির জন্য 'চাড্ডি'-আন্ডারওয়্যার (এই শব্দটার জন্য আমার দিকে ভুরু কুঁচকে লাভ নাই L. Ferlinghetti [৬] নামের কবি Underwear নিয়ে জমাটি কবিতা লিখতে পারবেন আর আমি উচ্চারণ করলে মাথা কাটা যাবে এটা কেমন কথা!) পর্যন্ত খুলে দিতে। 
আসলে আমরা কেমন করে ভুলি, ঘোড়ার এক পাশে উবু হয়ে থাকতাম আমরা, ইংরেজ সাহেব-মেম আমাদের পিঠে পা রেখে ঘোড়ায় চড়তেন। প্রভুদের মায়া আমরা এখনও কাটাতে পারিনি, অভ্যাস বলে কথা!

*আজ বছরের প্রথম দিনে আমি প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করব, উদাহরণ ব্যতীত, বাংলা লেখার সময় ইংরাজি শব্দ না লিখতে। তাই বলে আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মত সফটওয়্যারের বাংলা 'নরোমতার' করার অপচেষ্টা করব না। যেমন চেষ্টা করব না চেয়ারের বদলে কেদারা লিখতে। কিন্তু অহেতুক ইংরাজি শব্দ না-লিখতে চেষ্টা করব। এহো, আমি তো আর লিখি না লিখে ৩টাকা দামের কলম- আমার তিন টাকা দামের কলমের কাছে এটুকুই চাওয়া...।
**এই বেলা আপনাদের কানে কানে একটা কথা বলি, কাউকে বলবেন না যেন :) অন্য ভাষা দূরের কথা আসলে আমি বাংলা ভাষাটাই ভাল জানি না। ফরাসি-লিংগালা-সোহেলি ভাষার ভ-ও জানি না। ওই সময় কঙ্গোর উপর একটা বই পড়ছিলাম। ওখানে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত লোকজনদেরকে বাধ্যতামূলক কয়েকটা ভাষার কিছু-কিছু শব্দ শিখতে হয়। ওদের সঙ্গে সঙ্গে আমিও দু-চারটা শিখে ফেলেছিলুম আর কী! এটা কেবল বিশ্বাস করে আপনাদেরই বললুম কিন্তু... :D

***এই লেখায় এক জায়গায় আমি লিখেছিলাম, '...একজন মানুষ এতোটা হৃদয়হীন হন কেমন করে'! ফেসবুকে এই লেখাটাই পোস্ট করলে, ওখানে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য আকারে বলেন, Debasish Chakrabarty:
"Ami to ekjon bhison pondit manusher kotha porechi jinni kono ek somoy e rokom kore chilen.
...You will be surprised that he is none other than Dr. Sahidullah. Once Abu Zafar Samsuddin, who was then serving as the head of the translation, was going to Karachi for a seminar.
His paper was 'problems of translations'. On 21-03-1964 he went to airport lounge and found Dr. Sahidullah and Dr. Enamul Hoque. They were not only famous for their erudition, but were 'murubbi' in age. So Abu Zafar Samsuddin set with sufficient hesitation with them. Suddenly Dr. Sahidullah pointed samsuddin and told Dr. Enamul Hoque now-a-days he (samsuddin) translates from GREEK.
Dr. Enamul Hoque asked samsuddin 'Do u know Greek'?
Samsuddin replied 'no no. I know nothing'.
Abu Zafar Samsuddin wrote that dr. sahidullah knew very well that he does not know greek -he is not a linguist. Still, why he-a personality of his stature- attacked Samsuddin saheb without any reason?"
source: ATMA SMRITI-Abu zafar samsuddin, p.323 sahityo prakash. P.S. I can't say whether the incident is true or false. This disclaimer is added.)
 
সহায়ক সূত্র:
১. অনুবাদ...: http://www.ali-mahmed.com/search/label/in%20plain%20english
২. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_06.html
৩. পান্তা...:
৪. রাইটস টু কর্ণেল...: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_31.html 
৫. DON QUIXOTE: http://www.ali-mahmed.com/2009/11/blog-post_13.html
৬. Underwear..: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html 

এসো, এসো হে পান্তাখেকো

আবার বৈশাখ চলে এসেছে। পান্তাভাত খাওয়ার ধুম পড়ে যাবে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর পোয়াবারো! স্যালাইনের বিক্রির টার্গেট ছাড়িয়ে যাবে। রেকর্ড ভঙ্গ!

আহারে, একবার শিল্পীরা পান্তা খেতে গিয়ে কী নাকালই না হলেন! এরা এসেছিলেন নাচাগানা করতে। কোথায় নাচ, কোথায় গান? সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো। বিষয় কি, বিষয় আর কী! সকাল-সকাল পান্তা খেতে হবে যে। রান্না করা গরম ভাতকে তড়িঘড়ি করে ঠান্ডা করতে হবে, সময় কোথায়? বরফকল থেকে বরফের চাঁই এনে দাও ঢেলে ধোঁয়াওঠা গরম ভাতে। বরফকলের ওই বরফ ছিল আমাদের মহান ঢাকার দূষিত পানি। ফল যা হওয়ার তাই হলো।

আমি বলি কি, পান্তাভাতের সঙ্গে একটা করে ওরস্যালাইনও দেয়া হোক। সব মুশকিল আসান।  সারা বছর ফটাফট ইংরাজি বলা বাচ্চাগুলো বাংলা অক্ষর দেখে কী সোন্দর করেই না বলে, মম, এটা কি বোং-লা? এরা পান্তা খেয়ে 'বঙ্গাল' হবে! শ্লা!
আমি বুঝি না পান্তা খাওয়ার মানেটা! পিঠা-পুলি হলে নাহয় মেনে নেয় গেল। নববর্ষে নব্য বঙ্গালদের পান্তা খাওয়াটা আমার কাছে একটা চরম রসিকতা মনে হয়। আমাদের দেশের বড়ো দুখি মানুষরা, যাদের চুলা তিনবেলা জ্বলে না তাঁরা পান্তা খান। রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত পানি দিয়ে রেখে দেন, সকালে এটাই খেয়ে কাজে বেরিয়ে পড়েন।    
 
এটা পুরনো লেখা, রিপোস্ট করছি এই কারণে একই কাহিনী নিয়ে বারবার লিখে আমার দুর্বল মস্তিষ্ক নামের হার্ডডিস্কে বাড়তি চাপ নেয়ার কোন গোপন ইচ্ছা আমার নাই। নিয়ম করে আমরা পান্তাভাত খাওয়ার একটা নাটক করব। ফি বছর একই নাটক নিয়ে লেখার কোন অর্থ হয় না। কালির অপচয় (আমি এখন কলম দিয়ে লিখি না, এই ভুল ধরার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে)!

"ইনি এস, বি। টাকা চালাচালি যারা করেন তাদের অধিকাংশই এই ভদ্রলোককে এক ডাকে চেনেন। এস, বি সাহেবের পোশাকি নাম শাহাবুদ্দিন ভূঞা। ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু কুৎসিত রসিকতা করেছিল এস, বি নিয়ে। শালার ব্যাটা বলেছিলেন। ফাজিল বন্ধুকে শান্তি দিয়েছিলেন, কঠিন শাস্তি, তার বউকে ভাগিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। বয়সটা ছিল দশচক্রে ভগবান ভূত। বয়সের সেই দবদবা এখন আর কই! শরীর অশক্ত- মন দলদলে। 
এখন মনে হচ্ছে, আহ, জীবনটা এতো ছোট, কী দ্রুতই না সময় গড়িয়ে যাচ্ছে! কী অসম্ভব ক্ষমতা তাঁর, টাকার বস্তায় শুয়ে আছেন বললে ভুল হবে চাপা পড়ে আছেন। এ দেশের আট-দশজন পরিবারের সমস্ত মাসের খরচ চলে যে টাকায় এরচে’ বেশী ফাইভ স্টার হোটেলে একজনের একবেলার খাবারের মূল্য পরিশোধ করেন। এর কোনো অর্থ হয়, শিট, বুলশিট।
 

ওঁর অফিসের রিভলবিং চেয়ারের তোয়ালের দামই ৩৮০০ টাকা, ব্যাংকক থেকে আনিয়েছেন। এ দেশে যিনি যত বড় স্যার তাঁর চেয়ারের পেছনের তোয়ালে তত দামী ! সোনার দেশের সোনার সন্তানেরা টয়লেটের জিনিস অফিসে সাজিয়ে রাখেন। কী বুদ্ধিমান সব বুদ্ধিজীবী! খোদা না করুন কোন এক দিন টয়লেটের ওই জিনিস...।

এস, বি সাহেবের কেমন চাপা কষ্ট হচ্ছে। আহা নিঃস্ব-দুঃখীদের জীবন পাল্টে দিতে পারলে বেশ হতো। এটা কি করে সম্ভব ? কখনও এসব নিয়ে ভাবেননি। আজ ভেবে কূল পাচ্ছেন না। ইয়েস, এই তো সেদিন টেলিভিশনে নাটক দেখছিলেন। কি যেন নাম নাটকটার, হিমু না ভিমু? ধনীর এক দুলাল দূর্ভাগাদের জীবন কাছ থেকে দেখার জন্যে আলগা দাড়ি লাগিয়ে সুয়েরেজ পাইপের ভেতরে গিয়ে বসে থাকে। নিশিতে দিব্যি দুই ঠ্যাং উপরে তুলে আরামে ঘুমুতে যায়। ওয়াও, কী সোন্দর-কী সোন্দর! এমন অতিমানব হতে পারলে মন্দ হতো না- এ বয়সে কি এতোটা সইবে? প্রাণটা হু হু করছে। একটা কিছু করতেই হবে।
 

তীব্র ইচ্ছা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন। ১৩১০ গ্রাম ওজন বিশিষ্ট মস্তিষ্কে প্রবল চাপ পড়ছে। মনে হচ্ছে সদ্যজাত শিশুর ৩৮০  গ্রাম মস্তিষ্ক হয়ে গেছে, ব্রেন প্রায় ড্রেন। অবশেষে স্থির সিদ্ধান্তে পৌছলেন পান্তাভাত খাবেন। এই ডিশটা নাকি গরীব-টরীবরা হরদম খেয়েই যাচ্ছে। এদের খাবার খেয়ে এদের বেদনা উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন। তার সমস্ত পরামর্শকদের নিষেধ উপেক্ষা করলেন। জিনিসটা খাবেন, খাবেনই। ছাড়াছাড়ি নাই।

কী কুৎসিত, বাসার তিনজন বাবুর্চীর কারো এটার রন্ধন প্রণালী জানা নেই। তিনি ইংরেজীতে খুব নরম একটা গালি দিলেন, যার আদ্যাক্ষর এফ। প্রচুর টাকা কবুল করে অং বং চং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে শেফ ভাগিয়ে আনা হল। চীনা 

বাবুর্চীকে বললেন, তুমি কি ফাক কারিতে জানো? 
চীনা সাহেব কি বুঝলেন কে জানে, লজ্জায় লাল-নীল হয়ে গেলেন। ভুল বুঝেছেন বুঝতে পেরে স্বস্তির শ্বাস ফেলে জানালেন রেসিপি এনে দিলে জিনিসটা রান্না করতে পারবেন। অসংখ্য দুর্লভ রান্নার বই চিবিয়ে সবার গলদ্ঘর্ম অবস্থা। কোথাও এ জিনিসের বর্ণনা নেই। একজন বলল, কেকা ফেরদৌসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে। ওনাকে পাওয়া গেল না, তিনি মহা আত্মীয়ের চ্যানেল ব্যতীত অন্য কোথাও কালো চশমা পরা মুখ দেখান না।
 

এস, বি সাহেবের এক উপদেষ্টা চট করে এ সমস্যার সমাধান করলেন। এক হাভাতেকে ধরে আনা হলো। সাহেব বাবুর্চীর ক্ষীণ সন্দেহ হলো এই চলমান এক্স-রে প্রিন্ট কি কথা বলতে পারবে ? ইতস্তত করে বললেন, ‘টুমি খি ফাক কারিতে ঝানো ফান্টাভাট ?’
হাভাতে চোখ চকচকে করে বলল, ‘জ্বে না, ফান্টা কুনু সুময় খাই নাইক্কা। নাম হুনছি, চোক্কো দেখছি, সূর্যের লাহান অয়। নাল।’
এস, বি সাহেব অনতিদূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার বমি ভাব হচ্ছে। হারামজাদার শরীর থেকে বিকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। গা কেমন গুলাচ্ছে, নি:শ্বাস বন্ধ করে রেখেছেন। নি:শ্বাস সর্তকতার সঙ্গে ছেড়ে বললেন, ‘না না, তুমি যা ভাবছো তা না। পান্তাভাত খাও তো?’
হাভাতে ভারি অবাক হল, ‘ইডা কেমুন কতা, পান্তাভাত দাদায় খাইছে বাপেও খাইছে, আমি খাই, আমগো পোলাও খায়, হের পোলাও খাইব।’
 

এস, বি বিরক্ত, আরে হা...এ দেখি অবিকল রাজনীতিবিদদের মত কথা বলছে। বাপ দেশ চালাইছে, আমিও চালাই, আমার পুলাও চালাইব। এস, বির রাগি গলা: খামোশ, ফড়ফড় করবে না। এখন বলো এটা কি করে রান্না করতে হয়?
হাভাতে: ইডা কেমতে রান্ধন লাগে আমাগো জানা নাই।
এস, বি: কামন কঙ্কাল বডি, খাচ্ছ অথচ রাঁধতে জানো না!
হাভাতে : আইজকার ভাত পানি দিয়া থুয়া দিমু, কাইল হেই পানিভাত খামু।
এস, বি: এই বিশেষ পানি কোত্থেকে আনো?
হাভাতে: কি কন বুঝি না। বালা পানি বেবার করি। আমগো ডোবাডা আছে না, দেহেন নাই? ওই যে লাইন ধইর‌্যা টাট্টি বানায়া রাখছে। হের তলে থিক্যা।
 

এস, বি সাহেব শিউরে উঠলেন। মনে হচ্ছে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। টলে উঠতে গিয়ে সামলে নিলেন। এ সমস্যারও সমাধান হলো। পানির বদলে মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করা হবে। 
বুভুক্ষুটার খাওয়া আট মিলিমিটার সুপারফাস্ট ক্যামকর্ডার ভিডিও মুভি ক্যামেরায় বিভিন্ন এঙ্গেলে ছবি নেয়া হয়েছে। তিনি চাচ্ছেন অবিকল ভঙ্গিটা। পান্তাভাত কাটা চামুচ দিয়ে মুখ বন্ধ করে খেলে তো হবে না। গ্রোগ্রাসে গপাগপ করে গিলতে হবে। সিনামা পাড়া থেকে একজন দুর্দান্ত অভিনেতাকে আনা হয়েছে। ইনি এখনো ষাট বছর বয়সে চুটিয়ে কলেজ ছাত্রের অভনয় করেন। তিনমনি এই অভিনেতা একমন ওজন বিশিষ্ট পেটটা ভাসিয়ে আদুল গায়ে পা ছড়িয়ে বসেছেন। ভিডিও ক্যাসেট দেখে দেখে খাওয়ার ভঙ্গিটা রপ্ত করছেন এবং এস, বি সাহেবকে শেখাচ্ছেন।
 

ক’জন ডাক্তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। এদের প্রত্যেকেরই আছে নিজ পেশায় অভাবনীয় সুনাম এবং নামের পেছনে এ.বি.সি.ডি ওয়াই, জেড কাড়ি কাড়ি বিজাতীয় অক্ষর। দুটা এম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, একটা বিকল হলে অন্যটা কাজে লাগানো হবে। হাতের নাগালে ওরাল স্যালাইন, আই ভি ফ্লুইড রাখা হয়েছে। ফুড পয়জনিং হলে অন্য ব্যবস্থা।
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, অতি প্রত্যুষে এস, বি সাহেব পান্তাভাত খাবেন। নতুন একটা সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে আরম্ভ হবে অন্য রকম একটা দিন। রাতেই তিনি মা’র পা ছুঁয়ে সালাম করলেন: মা, দোয়া করো আমার জন্যে। আমি পান্তাভাত খেতে যাচ্ছি।
এস, বি সাহেবের মা কী অবাকই না হলেন! আহা, কতো দিন, কতো দিন পর তার সন্তান গাঢ় স্বরে তাঁর কাছে আসল, তাঁকে ডাকল, আহা, কী গভীর মমতায় তাকে ছুঁয়েছে: খোকা-খোকা, অ খোকা, পা-পান্তা ভা-ত কি বলছিস ছাইপাশ, এটা খাবি কেন, কি কষ্ট তোর!
ও তুমি বুঝবে না, মা। সমস্তটা জীবন হেলাফেলা করে কাটিয়েছি। এবার মানব সেবা করতে চাই।
মার বিস্ময়ের শেষ নেই, এটা খেলে মানব সেবা হবে? খেতেই যদি হয় তোর বদলে অন্য কেউ খাবে, তুই কেন? তোর সব কাজই তো অন্যরা করে। এটাই নিয়ম।
 

এস, বি সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অজান্তেই মা বড়ো ভুল বলেননি। তার বাবা হওয়ার ক্ষমতা নেই অথচ ছেলেটা আরিজোনায় পড়াশুনা করছে।
মনখারাপ করা শ্বাস ফেলে বললেন, তা হয় না মা। এ মহান কাজটা আমায় করতেই হবে। সকাল সকাল তোমার ঘুম ভাঙ্গাতে চাই না বলেই এখন আসলাম। এইবার বিদায় দাও।
এস, বি সাহেব বেরিয়ে যেতে যেতে ভাঙ্গা অস্ফুট গলায় গাইলেন: একবার বিদায় দে মা পান্তা ভাত খেয়ে আসি। আঁ আঁ আঁ আঁ।

তিনি ভোরের অপেক্ষা করছেন। কী অসহ্য অপার্থিব একটা ভোরের প্রতীক্ষা। কিন্তু ভোর তো আর হয় না, মনে হচ্ছে প্রিয় মানুষের লাশ সামনে নিয়ে বসে আছেন। ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না। কেউ কেউ ভোরের প্রতীক্ষা করে করে শেষ প্রহরে হাল ছেড়ে দেয়, এ ভুবন থেকে অন্যভুবনে যাত্রা করে। তিনি হাল ছাড়বেন না। পান্তা খাবেন, খাবেনই- ছাড়াছাড়ি নাই।"

Tuesday, April 13, 2010

সাক্ষাৎকার: সামহোয়্যার এবং অতঃপর...

গ্লোবাল ভয়েসে সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছে কাটছাঁট করে, জায়গার সমস্যা এবং বিবিধ কারণে, উপায় ছিল না। সাক্ষাৎকারটির পুরোটা ছাপা হয়েছে সামহোয়্যারের এখানে

সাক্ষাৎকারে একটা প্রশ্ন ছিল এমন:
প্রশ্ন: আপনি কমিউনিটি প্লাটফর্মের ব্লগিং দিয়ে শুরু করেছিলেন- এখন স্বতন্ত্র সাইটে লিখছেন। এর সুবিধা- অসুবিধা সম্পর্কে আমাদের জানাবেন।
উত্তরটা ছিল, খানিকটা এখানে তুলে দিচ্ছি:

"কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে যিনি লেখালেখি করেন তিনি কিন্তু থাকেন পুরোপুরি অরক্ষিত- আঘাতটা আসতে পারে যে কোন দিক থেকে এটা জেনেশুনেই একজন এখানে লেখালেখি করেন; কিন্তু একটা কথা মনে রাখলে আমাদের সবার জন্যই মঙ্গল, যুদ্ধেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, একজন বেশ্যারও কিছু অধিকার থাকে। কমিউনিটি প্লাটফর্মে আমাদের সহনশীলতারও বড়ো অভাব, আমরা একে অন্যকে সহ্য করতে পারি না।"

প্রশ্নের উত্তরে আমি যেটা বলেছিলাম, "যুদ্ধেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়..."। 
বিস্তারিত বলি, ভীমকে আমি বড়ো যোদ্ধা বলে স্বীকার করি না কারণ তিনি যুদ্ধের নিয়ম ভেঙ্গে দুর্যোধনের কোমরের নীচে আঘাত করেছিলেন। এই কাজ করার জন্য প্ররোচনাকারী শ্রীকৃষ্ণের গৌরবও খাটো হয়! এ অন্যায়!(মহাভারত)
রামের মত একজন অতি বড়ো বীর যখন বিন্দুমাত্র সতর্ক না করে সুগ্রীবের ভাই বালী-কে প্রাণনাশী অস্ত্র ছুঁড়ে মারেন তখন তিনি সাধারণ একজন যোদ্ধার ভূমিকায় চলে আসেন! (রামায়ন)

সামহোয়্যারের ওই পোস্টে একজন পাঠকের একটা মন্তব্য আছে, "শুভ কে? আজাইরা প্রতিযোগীতা।"

এখানে আমার খানিকটা বলার আছে। ধরা যাক, যে পাঠক এই মন্তব্যটা করেছেন তিনি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর(!), ছদ্মবেশে আছেন আর কী! তবুও তিনি এই মন্তব্যটা করতে পারেন না কারণ পোস্টটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (!) পড়ে থাকলে জানার কথা ওখানে আমি দীর্ঘ সময় লেখালেখি করেছি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (!) না হয়ে থাকলেও একটু বলার আছে। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত, এই নিকটার অনেক পূর্ব থেকেই আমি এখানে লিখতাম। ন্যূনতম সম্মানটা কেন থাকবে না? একজন মানুষের কাছ থেকে মানুষের আচরণ কেন আমি আশা করতে পারবো না?

এখন আসব পরের কথায়। 'আজাইরা প্রতিযোগিতা'। বড় একটা প্ল্যাটফর্মে এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে এবং এই প্রথম বাংলা ভাষা এখানে যোগ হয়েছে। যে কোন ভাবেই হোক বাংলাদেশের নাম আসবে এটা কি কম পাওয়া? এক্ষণ যদি আমাকে বলা হয় আপনি এখান থেকে সরে গেলে বাংলাদেশের নামটা আরও বিপুল আকারে আসবে। আমি দ্বিতীয়বার ভাবনা না, এখান থেকে সরে যাব। 
আমি কায়মনে চাইব, বাংলাদেশ নামের অভাগা দেশটার নাম যেন পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে। সাদা বান্দরগুলো যেন বলতে না পারে 'ভেংলাডেশ' কি ইন্ডিয়ার প্রভিন্স?
আমি স্বপ্ন দেখি, এই গ্রহে লোকজন বাংলাদেশকে কেবল তাচ্ছিল্যের চোখে না দেখে সমীহের চোখে দেখছে? আমাদের দেশের পচে যাওয়া রাজনীতিবিদরাই কেবল এই দেশের সন্তান না, রাগিব হাসানের মত এমন অনেক মানুষ আছেন যারা বুক দিয়ে আগলে রাখেন এই দেশের পতাকা। 
একজন রাগিব হাসান যখন গুগলে যোগ দেন তখন বাংলাদেশের পক্ষে যে অসাধারণ কাজটা হয় সেটা আমরা শত-শত মানুষ মিলেও করতে পারি না!
এই প্রতিযোগীতায় কিছু আরবি ব্লগ দেখে আমার মাথা খারাপের মত হয়ে গেল, ওদের হাজার-হাজার মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছে। আর কিচ্ছু না, ওদের দেশের গন্ধটা ছড়িয়ে দিতে হবে পৃথিবীময়!

কোথাও আমি লিখেছিলাম, মানুষের বাচ্চা মানুষের দুধ খাবে, পশুর না। ওই লেখার সঙ্গে যোগ করি, মানুষের মাথায় মানুষের মগজ থাকবে, পশুর না। 

Monday, April 12, 2010

সাক্ষাৎকার: গ্লোবাল ভয়েসেস

the BOBs নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম ইতিপূর্বে। এই ভোটাভুটি পর্ব এখনো চালু আছে, এটা এ মাসের ১৪ তারিখ পযর্ন্ত চলবে। বর্তমানে এই পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে

লোকজনের এই যে আমার প্রতি অযাচিত মমতা- আমার পক্ষে কী সম্ভব প্রত্যেকের গা ছুঁয়ে বলি, এতো মায়া কোথায় রাখি! 

আপনারা অতিরিক্ত মমতা দিয়ে আমার অভ্যাসটা খারাপ দিচ্ছেন, পরে বাড়তি মায়া পাওয়ার কাতরতা পেয়ে বসবে!

এই প্রতিযোগীতার রেশ ধরে 'গ্লোবাল ভয়েসেস' একটা সাক্ষাৎকার নেয়। এঁরা অবশ্য বলছেন সাক্ষাৎকার। আমি মনে করি, সাক্ষাৎকার একটা কঠিন জিনিস, কঠিন-কঠিন কথাবার্তা বলারই নিয়ম। সুরিয়লিজম, মেটামরফোসিস ইত্যাদি অতি উঁচুমার্গের বিষয় নিয়ে।

আমি নিশ্চিত ছিলাম, আমার লেখার মতই হালকা চালের এই সাক্ষাৎকার এঁরা ছাপাবেন না, স্থান হবে ময়লা ফেলার ঝুড়িতে । সম্ভবত এঁদের মনটা অসম্ভব নরোম বলেই সাক্ষাৎকারটা ছাপা হয়েছে,  এখানে।  

Saturday, April 10, 2010

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়: নিজের চামড়া নিজের, না?

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দৈনিক কালের কন্ঠের (০৯.০৪.১০) শিলালিপিতে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
”...আমি একটা জিনিসই ভয় পাই, সেটা হচ্ছে ধর্মীয় সমালোচনা। আমার মনের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে অনেক বক্তব্য আছে। কিন্তু সব সময় এটা লিখে প্রকাশ করি না। তার কারণ হচ্ছে, আমি একটা জিনিসকে খুব ঘৃণা করি- দাঙ্গা। আমার লেখার কারণে যদি কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়, তবে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে। আমি চাই না আমার লেখার কারণে একটাও নিরীহ প্রাণ নষ্ট হোক...”।
 

অতি মানবিক কথা- একজন বড় মাপের লেখকের যথার্থ ভাবনা। আমি নতজানু হই। কবির কাছে নীলপদ্মের অভাব নাই তবুও কবি আমি আপনাকে দিলাম আমাদের দেশি সমস্ত পদ্ম।
কিন্তু একটা কিন্তু...সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দাদা, আপনি হয়তো এখন বয়সের কারণে বিস্মৃত হয়েছেন,
আমরা কিন্তু ভুলিনি। আপনারা তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ বইটা নিয়ে বেদম নাচানাচি করেছিলেন, ভুলে গেছেন? দাদা, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ বইটা কি পাতে দেয়ার মত? 
তাহলে? আপনারা এই বইটা নিয়ে যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন এমন সৌভাগ্য কি খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কপালেও জুটেছিল? ’লজ্জা’ বইটা নিয়ে আপনারা কারা কারা প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এটা না বলে কারা কারা এই দলে ছিলেন না এটা বললে সহজ হয়!
 

এই কাজটা আপনারা করেছেন জেনেশুনে। আনন্দবাজার গং, এই অতি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি অর্থের জন্য যা করেছে তা মাংস কেটে নেয়ে ইহুদি বেনিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। যতটুকু জানি আনন্দবাজার গং, এদের সঙ্গে আপনি জড়াজড়ি করে আছেন, আপনার বড়ো গলায় গলায় ভাব।
আপনি বলবেন আমিই তো এখানকার একমাত্র অথরটি না। বেশ, কিন্তু আপনি কি প্রতিবাদ করেছিলেন, দাদা? আটকাবার প্রচেষ্টা কি ছিল আপনার? প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ দায় কি আপনি এড়াতে পারেন?  না, পারেন না।

আপনাকে কি আমি সবিনয়ে গোল্ডা মায়ারের সেই বিখ্যাত কথাটা মনে করিয়ে দেব, "কাউকে নিজ হাতে হত্যা করা এবং হত্যা করার জন্য মদদ-সিদ্ধান্ত দেয়ার মধ্যে কোন তফাত নাই"।

বাবরী মসজিদ ইস্যুতে যখন দুই দেশ উত্তাল ঠিক এমন একটা সময়ে আপনারা দাদারা ভারতে তসলিমা নাসরিন ’লজ্জা’ বইটা প্রকাশ করলেন। একজন লেখকের হাতের কলম শত-শত মারণাস্ত্রেও চেয়ে শক্তিশালী এর নমুনা আমরা দেখলাম তসলিমার কল্যাণে! তসলিমার হাতের সাধারণ অস্ত্রটা ভয়াবহ এক অস্ত্রে পরিণত হল আপনাদের, আনন্দবাজার গংদের বদৌলতে। 

আনন্দবাজার তসলিমাকে ঘটা করে পুরষ্কার দিল। আনন্দবাজার গং তসলিমার 'লজ্জা' বইটা ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করল। এর পেছনে আনন্দবাজার গং এমন মেধা খরচ করল যে সেই বইটার লক্ষ-লক্ষ কপি বিক্রি হলো। চারদিকে আগুন লেগেই ছিল বইটা প্রকাশ করে কেবল আগুনটা উসকে দেয়ার অপেক্ষায় ছিল। 
"কংগ্রেসের গৌহাটি সম্মেলনের প্রতিবেদনে তসলিমা নাসরিনের 'লজ্জা' বইটার বিবরণ পাতার পর পাতা জুড়ে দেয়া হলো। যা অভূতপূর্ব! বিজেপি দিল্লির লালালাজ শহরে তসলিমার ছবি বিলবোর্ড আকারে ঝুলিয়ে দিল"। (আহমদ ছফা) 
ঝাসির বদলে বাঙ্গাল কী রানি!।

আপনারা এই সব কেন করলেন? আমাদের দেশে গুরুতর অন্যায় হয়েছে এটার জন্যই তো? হ্যাঁ, আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে বলি, বিনম্র লজ্জায় বলি, আমাদের দেশে তখন গুরুতর না, ভয়াবহসব অন্যায় হয়েছিল। অন্য দেশের একটা ভয়ংকর অন্যায়ের কারণে কেন বাংলাদেশের মন্দিরের একটা ইটও খুলে ফেলা হবে এ প্রশ্ন আমাদেরও। 

একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ, তখন কক্সবাজারে আগুনে পুড়িয়ে ছয়টি শিশুকে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছিল শিশুগুলো হিন্দু ছিল এ অপরাধে। তৎকালীন সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল এই অন্যায়গুলো রোধ করতে। প্রকৃতি যেমন শোধ নেয় তেমনি জনগণও হয়তো এর শোধ নিয়েছে। আমি অভিশাপ দেই, এই অন্যায় নরক অবধি তাড়া করুক এদের।

কিন্তু দাদা, আমি আমাদের অপরাধ লাঘব করতে চাচ্ছি না, কেবল আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, আপনাদের দেশে কি মুসলমানদেরকেও কচুকাটা করা হয়নি? আপনারা না বলে আমাদের চেয়ে বহু বছর এগিয়ে আছেন সমঅধিকার, সহনশীলতা, গণতন্ত্র এই সব বিষয়ে।  তাহলে? আপনারা কী করলেন!

আচ্ছা, আপনারা যে ঈদের জামাতে শুয়োরের পাল ছেড়ে দিয়েছিলেন কাজটা কি ঠিক হয়েছিল, দাদা? আপনাকে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দিতে হবে না শুয়োর জিনিসটা যেখানে মুসলমানরা দু-চোক্ষে দেখতে পারে না সেখানে তাদের প্রার্থনা করার সময় আপনারা শুয়োরের পাল ছেড়ে দেবেন, এই কাজটা কেমন হলো, দাদা! 

তসলিমা নাসরিনের ’লজ্জা’ নামের আবর্জনা কতটা সাহিত্যের কাতারে পড়ে সেটা এখন আমার আলোচ্য বিষয় না, তিনি একজন লেখক হয়েও ওই সময়টাতে 'লজ্জা' বইটা প্রকাশ করে দাঙ্গা-হাঙ্গামার বারুদে আগুন ধরাতে সহায়তা করেছিলেন এতে অন্তত আমার কোনো সন্দেহ নাই। 
তিনি অবলীলায় যে কাজটা করেছিলেন, বাবরী মসজিদ ইস্যুতে ভারতীয় পাজি হিন্দুদের (যারা বাবরী মসজিদ নিয়ে মারমার-কাটকাট করছিলেন) সীমাহীন অপরাধ ঢাকার জন্য 'লজ্জা' নামের ভয়ংকর একটা হাতিয়ার তাদের তুলে দিয়েছিলেন। 
এতে করে দাবার চাল পাল্টে গিয়েছিল। বিশ্ব যেখানে ভারতীয় পাজি হিন্দুদের ছি ছি করতো সেখানে সোনার মেয়ে তসলিমার কারণে বাংলাদেশকে নিয়ে ছি ছি করা শুরু করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। মূল আলোটা সরে গিয়েছিল।

কই দাদা, তখন দেখি আপনি মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন, রা কাড়েননি! কী দাদা, নিজের চামড়া নিজের, অন্যের চামড়া অন্যের, না? আপনার ভাবখানা এমন চামড়া দিয়ে ঢোল বানাতে হলে আমিই কেন, কি বলেন? 

এটা আমি বিশ্বাস করি, আপনি একজন নিপাট ভদ্রলোক তাই দাদা, বিচারের ভারটা আপনার হাতেই ছেড়ে দিলুম।

*www.newsagency24.com চোরের এক আস্তানার নাম: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151517933607335?notif_t=like           
WhatsApp