Search

Showing posts with label ডুমকফ. Show all posts
Showing posts with label ডুমকফ. Show all posts

Saturday, July 11, 2026

'এক ব্যাগ পিক্ষক': ব্রাত্য রাইসু!

এই গ্রহে কিছু মানুষ আছে এরা স্রেফ 'এটেনশন সিকার'! দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রয়োজন হলে দাঁত বের করে নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ করে ফেলবে। নমুনা:

ওই যে বললাম, 'নিজেই নিজের বস্ত্রহরণ'! রাইসু, তিনি আহমদ ছফা [*], সলিমুল্লাহ খান, এদের সঙ্গে নিজের নাম নিজেই ঢুকিয়ে দিয়েছেন! অন্যকে আর তকলীফ দেননি!
ওরে, আমাদের শিক্ষক, রে! ওরে, আমাদের দার্শনিক, রে!
(কাউকে-কাউকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আমি ভয়ে-ভয়ে থাকি—চুতিয়া লিখে না ফেলি! এটা না-লেখার জন্য আমি পাঠককের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছি! ভাগ্যিস, রাইসুকে 'চু...' লিখিনি! আল্লাহ মেহেরবান। তিনি আমাকে তিনি রক্ষা করেছেন!)
তো, ব্রাত্য রাইসু নিশ্চিত করছেন তিনি দেশ ও জাতির শিক্ষক, দার্শনিক! অন্যদের সঙ্গে তিনিও ঠিক করবেন, আমরা কী ভাবব, কী শিখব!

পূর্বেও বহুবার  বলেছি:
জ্ঞান হচ্ছে সরলরেখা। মানুষ শিখতে থাকবে এগুতে থাকবে—নাথিং গনা স্টপ! আর নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, বৃত্ত। যখন সে মনে করে আমার জানা শেষ, বে-সিন, ব্যস! ফুলস্টপ! সে আর এগুতে পারে না! তখন সরলরেখাটা আর সরল থাকে না বৃত্তে রূপ নেয়—মানুষটা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকে! আজীবন...।
এই দোষে দুষ্ট হুমায়ুন আজাদও []! আমি রাইসু স্যারকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম, 'এক ব্যাগ আহাম্মক'। কিন্তু একজন দেশ ও জাতির শিক্ষক, 'ধার্ষনিক'-কে (আগাম ক্ষমা প্রার্থনা, আমি প্রায়শ বানান ভুল করি) তো আর এটা বলা চলে না তাই 'এক ব্যাগ পিক্ষক'! ওহো, 'পিক্ষক' জিনিসটা কিন্তু অভিধানে পাবেন না। বিনয়ের সঙ্গে একটু বুঝিয়ে বলি। আগে রাইসু স্যারের 'অমড়' কবিতাটাও চোখ বুলিয়ে নিন।
ব্রাত্য রাইসুর 'অমড়' রচনা! 

অন্যদের কথা জানি না কিন্তু যে মানুষটার দোরা কাউয়ার সঙ্গে 'বিশেষ সখ্যতা'—যে উঁচুমানের মানুষটা দোরা কাউয়া এবং পাতি কাককে 'ইয়ে শেখাবার' জন্য পেয়ারা গাছের মগডালে উবু হয়ে বসে থাকেন—সেই মানুষটার কাছ থেকে দর্শন-শিক্ষা নেওয়ার ইচ্ছা অন্তত আমার নাই! তো, যারা গাছে-গাছে ঝুলাঝুলি করে পাখিদের এই সমস্ত কর্মকান্ড (রাইসু স্যার এটা আবিষ্কার করেছেন, এটা বিরল) গভীর পর্যবেক্ষণ করেন তাদেরকে 'পাখির শিক্ষক' বা 'পিক্ষক' বলে!

আহারে-আহারে, মানুষটা কেমন করে শিক্ষক থেকে 'পিক্ষক' ('পক্ষীর বিশেষ কর্মকান্ড বিশেষজ্ঞ') হয়ে গেলেন এ-এক বিস্ময়! আর এমন-এক জিনিস প্রসব করার পর তার আর প্রসববেদনার মধ্যে দিয়ে না-যাওয়াটাই সমীচীন হবে! কারণ একবার অমর হয়ে গেলে আর মরার সুযোগ নাই!
... ...  ... 
Uday Rahman, সুর নামের একটা লেখা এফবি-তে লিখেছিলেন। ওখানে হাজার-হাজার পাঠক লেখাটি পছন্দ করেছিলেন। আমি নিজেও লেখাটি পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা ছাড়িয়ে গিয়েছিল অন্য কারণে! সোস্যাল মিডিয়ায় সচরাচর পাঠক বড় লেখা পড়তে চান না।
কারণ ছোট-ছোট স্ট্যাটাস পড়ে-পড়ে আমাদের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে!  'সুর' লেখাটা সুবিশাল! ওই হিসাবেও এটা একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা! এই কারণে এই মানুষটা অসাধরণ একটা কাজ করে ফেলেছেন! এই প্রেক্ষিতে লেখার মান নিয়ে খুব-একটা আলোচনায় যাওয়াটা অসীমীচীন!
কারও কোন লেখা ভাল লাগলে আমি বিনয়ের সঙ্গে আমার সাইটে পাবলিশ করার অনুমতি চাই। অন্য-কোন কারণ নেই—স্রেফ ভাল লাগা! এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি []।
এফবি-তে 'সুর' লেখাটা ছাপা হওয়ার পর অনেক পন্ডিত এর ব্যবচ্ছেদ শুরু করেছিলেন। সে না-হয় গেল! এটা আমাদের বঙালদের অভ্যাস! গড়তে না পারি কিন্তু হাতুড়ি-বাটাল নিয়ে ভাস্কর্য ভাঙ্গতে নেমে পড়ি।
যাই হোক, এইসব আমাদের গা সওয়া! কিন্তু ব্রাত্য রাইসু, 'সুর' লেখার রেফারেন্সে একের-পর-এক স্ট্যাটাস প্রসব শুরু করলেন। স্যারের প্রসববেদনা বাংলা সাহিত্যের দন্ড কাঁপিয়ে দিল 
রাইসু স্যার অবশেষে নিজেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেন! দৌড়ে আমার সেই মানুষটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। যিনি নিজেকে প্রথম বলে দাবী করলেন কিন্তু বিচিত্র কারণে পেছনে আর কেউ ছিল না, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল একরাশ কাকের বিষ্ঠা...! 

ত্য রাই সু: https://www.ali-mahmed.com/2017/11/blog-post_30.html?m=1
২. এক বস্তা 'ডুমকফ': https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_572.html?m=1
৩. সুর: https://www.ali-mahmed.com/2026/07/blog-post_24.html?m=1

* এই 'পিক্ষক সাহেব' আবার আহমদ ছফাকে নিয়ে একটা লেখা দিয়েছেন:
রাইসু লিখেছেন,
আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার ১৯৯৬। প্রকাশিতব্য।
'প্রকাশিতব্য' মানে কী! এটা কী এখনও প্রকাশ হয়নি!
আহমদ ছফা জীবিত নাই। আপনার যা ইচ্ছা তা তাঁকে উল্লেখ করে ছাপিয়ে দিলেন, বাহ!
আর এটা ছফার সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ হয়ে থাকলেও এর সত্যতা কি? রাইসুর কাছে কি এটার অডিও-ভিডিও ক্লিপ আছে? থাকলে এই লেখার সঙ্গে অবশ্যই সূত্র দেয়া প্রয়োজন ছিল।
আর আমরা কথাচ্ছলে-গল্পচ্ছলে অনেক কথাই বলে থাকি মানুষ হিসাবে আপনি ছোটলোক-ইতর না-হলে (যার আরেক নাম 'কুটনা') তা জনে-জনে বলে বেড়াতে পারেন না। তাছাড়া সাক্ষাৎকার হয়ে থাকলে রাইসু কি আহমদ ছফাকে অবগত করেছিলেন যে, এখন থেকে আপনার কথা রেকর্ড করা হচ্ছে? 
একজন 'এটেনশন সিকার', যিনি চোখের পলক না-ফেলে অনর্গল মিথ্যা বলেন, 'শেন ওয়ার্ন কে, চিনি না', এমন-একজন মানুষের কথা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই...!  
 

Friday, June 19, 2026

এক বস্তা 'ডুমকফ' এবং একজন হুমায়ুন আজাদ!

আমার মতে, জ্ঞান হচ্ছে একটা সরলরেখা। আপনি শিখতে থাকবেন আর এগুতে থাকবেন—একটা সরলরেখা। থামাথামি নাই—নাথিং গনা স্টপ ইয়্যু!

আর, নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, আমি অনেক বড়—আমি জানি—অনেক জানি। তখন সরলরেখাটা ক্রমশ বৃত্তে রূপ নেয়। বে-সিন, ব্যস! ওই মানুষটা তখন অনবরত বৃত্তে ঘুরপাক খায়। এক বস্তা ডুমকফ—নির্বোধ!

আজকের কাগজ হুমায়ুন আজাদের একটা সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছিল। ১৯৯২ সালে।


কাগজ: আপনি একজন পাঠক হিসেবে আপনার সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে মূল্যায়ন করুণ।

হু. আজাদ (হুমায়ুন আজাদ):

আমি যদি হুমায়ুন আজাদের লেখার পাঠক হতাম তাহলে তার বই আগ্রহ সহকারে পড়তাম। আর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বলতাম, কবিতার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে আরো কবিতা লেখা উচিত ছিলো। সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো বাংলাদেশের সমালোচকদের মধ্যে দু'জনের একজন।

ভাষা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে ভালো। কিশোর সাহিত্যের ক্ষেত্রে বলতাম, তার লেখাই মননশীল হয়েছে। কলামের ক্ষেত্রেও 'ভাবতাম তার কলামই শ্রেষ্ঠ, যেমন ভাবেন অন্য পাঠকরা; নারীবাদী তার ক্ষেত্রে বলতাম, বাংলাদেশে নারীবাদের কোনো জননী নেই, জনক রয়েছে, সে হচ্ছে হুমায়ুন আজাদ।

কাগজ: লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করুন?

হু. আজাদ: লেখক হিসেবে এখন কিছু বলতে চাইনা। বলবো আরো পনেরো বছর পর।

(আজকের কাগজ ১২.১১.৯২)


সাপ্তাহিক বিচিন্তার সাথে সাক্ষাৎকারে দেন। ১৯৯২ সালে।

হু আ (হুমায়ুন আজাদ):

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশংকর বা বিভূতিভূষন- এদেরকে বিশ্বমাপের বা দ্বিতীয়-তৃতীয় মাপের বলেও মনে করি না।

মননশীলতার কথা যদি ধরা হয়, পাশ্চাত্যে বা পশ্চিমে আমার চেয়ে বেশি মননশীল কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না। ভাষা বিজ্ঞানের যে চর্চা আমি করেছি সেটা বিশ্বমাপের নয়, কিন্তু বাংলাদেশে যারা ভাষাবিজ্ঞানের চর্চা করছে, তাদের প্রায় সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন আমার কাজ। সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে আমি দুইজনকে গন্য করি। একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তি সৈয়দ আলী আহসান, আব্দুল মান্নান সৈয়দ। তাঁরা বেশ ভালো কাজ করেছেন। এঁদের চেয়ে ভালো কাজ বাংলাদেশেতো বটেই পশ্চিম বাংলায়ও হয়নি।

(বিচিন্তা ১৪/২/৯২)

* 'ডুমকফ' শব্দটা বাংলা অভিধানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। হুমায়ুন আজাদ স্যার জর্মন দেশে হিজরত করেছিলেন। ওই দেশে নির্বোধকে ডুমকফ বলে।



WhatsApp