Search

Sunday, August 2, 2009

এ কষ্ট কোথায় রাখি ?


আমার দীর্ঘ দিনের সুতীব্র ইচ্ছা ছিল, মুক্তিযোদ্ধা, সুরুয মিয়ার (তাঁর প্রতি সালাম) পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলি, জানার চেষ্টা করি এই দেশের সেরা সন্তান সুরুয মিয়ার সম্বন্ধে। কেন মানুষটা ঠিক ১৬ ডিসেম্বর ভোরেই নিজেকে মেরে ফেললেন- আত্মহত্যা করলেন?

ইচ্ছা এবং বাস্তবতায় অনেক তফাত। আমি ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার টাইপের মানুষ। নিজের খেয়ে মনের বাঘ তাড়াই। কতশত সীমাবদ্ধতা! একটা ভাল ক্যামেরা নাই, লজিস্টিক সাপোর্ট নাই, পকেটে যথেষ্ঠ ময়লা কাগজ নাই...।

দেরিতে হলেও, অবশেষে মুখোমুখি হই, মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়ার পরিবারের সঙ্গে। শ্বাস চেপে দেখি, যেখানটায় তিনি ফাঁসি লাগিয়েছিলেন। সেই পেয়ারা গাছটা! পরবর্তীতে ভয়ে গাছটা কেটে ফেলা হয়েছে। আমার গা ছমছম করে, আপ্রাণ চেষ্টায় ভয় চেপে রাখি।
তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। কখনও ছবি তুলতে গিয়ে হাত কেঁপে যাচ্ছিল, কখনও দুর্দান্ত রাগে ইচ্ছা করছিল, কাউকে এক কোপে দু-টুকরা করে ফেলি। আবার কখন যে গাল ভিজে গেছে জানি না। বিষ-পিপড়া কখন পায়ে কামড় দিয়েছে টেরটিও পাইনি। পরে তীব্র ব্যথা কাবু করে ফেলেছিল। তবুও তীব্র ভাললাগায় মাখামাখি হয়ে থাকি।

তাঁর স্ত্রীর কথোপকথনের ভাষারীতি সামান্য পরিবর্তন করে প্রায় হুবহু তুলে দেই:

"মানুষটা গলায় ফাঁস দিব এইটা স্বপ্নেও ভাবি নাই। সারাদিন সারারাত পেটের যন্ত্রণায় চিল্লাইত, হাঁটত, দৌড়াইত। মানুডার চিকিৎসা করাইতে কোন বাকি রাখি নাই। বাড়ির অর্ধেকটাই বেইচা আগরতলা (ভারত) নিছি। পরে টাকা শ্যাষ হইলে ওষুধ কিনতে পারতাম না। তহন হের পেটের যন্ত্রণা আরও বাড়ছিল। সারারাত দৌড়াইত, চিল্লাইত। একদিন রাইতে রুটি বানায়া দিছি। রাইত ১২টা হইব, জাইগা দেখি, মানুডা রুডি খায় নাই, বিড়ির বান্ডিল ছুইয়াও দেহে নাই, হের হাতের লাডি পইরা রইছে। খুঁজতে খুঁজতে পেয়ারা গাছে গিয়া দেহি, মাগগো...। মানুডা ঝুলতাছে।

এই বুইড়া মানুডার লাশ ১২ ঘন্টা গাছে ঝুইল্যা ছিল। কেউ নামায় নাই, নামাইতে দেয় নাই। চেয়্যারমেন, মেম্বার হগলের হাতে-পায়ে ধইরাও কুনু লাভ হয় নাই। আমার সোয়ামি করত আম্লিগ, আমার সোয়ামির ভাতা বন্ধ কইরা দিছিল যে ইশকুল মাস্টার, বিএনপির তোতা মিয়া, হে একটু চেষ্টা করলেই হইত কিন্তুক হে থানাত ফোন কইরা কইল, লাশ যেন নামান না হয়। ইউএনও অফিসে গেলে হেরা কইল, চেয়্যারমেন মেম্বারের কাছে যাও। ইতা কইরা মানুডা ঝুলতাছিল, কেউ আগায়া আসে নাই।
মামুন ডাক্তার এই ভালা মানুডার লিগা আমার বুইড়া মানুষটারে কাডাকাডি (পোস্ট-মর্টেম)করে নাই।

দাফন লইয়াও অনেক ঝামেলা হইছিল। হেষে হের দাফন হইল। দাফনের পর মিলাদের লিগা সরকার থিক্যা দশ হাজার টেকা দিছিল। এক টেকাও পাই নাই, এই টেকা মাইরা দিছে। আমার সোয়ামির, মুক্তিযুদ্ধার কাগজগুলা কে নিয়া গেল কইতামাও পারতাম না।
আমার এক পুত থাইকাও নাই, হে বউ লইয়া আলগা হইছে। আরেকটা চিটাগাং-এ ছুড একটা চাকরি করে, ঠিকমত টেকা-পয়সা দিতে পারে নাই। দেহার আমার কেউ নাই। খালি সোহরাব সাম্বাদিকরে টুক্কুর কইরা ফোন করলে টাক্কুর কইরা আয়া পড়ে। পুলাডা কী ভালা, আমার মাতার চুলের সমান হেতে আয়ু পাক।"

*ভাল ক্যামেরা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ সেলফোনে এটা ধারণ করা হয়েছে। ছবি এসেছে যাচ্ছেতাই- তবুও আমার আনন্দের শেষ নাই! অন্তত, এই ভদ্রমহিলার বেদনা-অকৃত্রিম অভিব্যক্তি ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। ধারণকৃত অংশ অনেক বড়ো, আমার নেটের যা স্পীড তাতে পুরোটা আপলোড করা প্রায় অসম্ভব। কাটছাঁট করে যতটুকু দেয়া সম্ভব হলো এতেই আমার সম্তুষ্ট থাকা ব্যতীত উপায় কী!

**জনাব, মো. সোহরাব হোসেন এবং জনাব, দুলাল চন্দ্র ঘোষ সহায়তা না-করলে এই অসাধারণ কাজটা করা আমার পক্ষে সম্ভব হত না। তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

Saturday, August 1, 2009

খোদেজা: ৪

নিশির প্রচন্ড ক্ষুধা বোধ হচ্ছে। এতটা সময় পেরিয়ে গেছে, আশ্চর্য!
নিশি ডাকল, সোহাগ, এই সোহাগ।
উত্তর নেই। আশ্চর্য, গেল কই! ও তো কখনও না বলে ঘরের বাইরে যায় না। অনিচ্ছায় উঠে সোহাগকে পেল বারান্দার গ্রিল ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে। চোখ আকাশে। কতক্ষণ ধরে এ এভাবে দাঁড়িয়ে আছে? এইটুকুন ছেলে কী দেখে আকাশে? ওর দাঁড়াবার ভঙ্গিতে কি যেন একটা আছে, বুকটা কেমন করে উঠে।

কি করিস, সোহাগ?
কিসছু না, আপা।
এভাবে কি দেখিস?
সোহাগ উত্তর দিল না। চোখ কেমন ভেজা। এ কাঁদছিল নাকি?
নিশি কোমলস্বরে বলল, সোহাগ, সারাদিন জানালা দিয়া কি দেখিস?
কিসছু না আফা, এমনই।
আহা, বল না, বলতে তো দোষ নাই। আমার কাছে তোর লজ্জা কী! বাড়ির কথা মনে পড়ছে?
সোহাগ কেঁদে না ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে, ন-না। তয় আমার ভইনের কথা মনে পড়তাছে। আফা, ফাপর লাগে।
ক-ক্কি, কি বললি বুঝলাম না। ফাপর কি!
মন পুড়ে আফা। কেমুন কেমুন লাগে। বুঝাইতে পারুম না গো, আফা।
সেটা বল, মন খারাপ লাগে। কেন রে?
আমার গেরামের কথা মনে অয়, আমার ভইনডা-।
সোহাগ, তোর বোন তোর চেয়ে বড়ো, না ছোট?
ছোড আফা।
তোর বোনের বয়স কত রে?
হেইডা তো জানি না। বড় ঢলডার সুময় হইছিল।
কি কস, বুঝি না। ঢল কি।
ফানি গো আফা, ফানি। যেইদিকে দুই চোক যায় হেই দিকে ফানি।
ফানি নারে গাধা, বল পানি।
শুদ্দু ভাষা কইতে ফারি না, আফা। ফাপড় লাগে।
ভালা মুসিবত। ইয়ে তোর বোন তোর থেকে কত ছোট রে?
তা ক্যামনে কই! মইদ্যে এক ভাই মইরা গেল। তয়, আমরা পিট্টাপিট্টির মতন আছিলাম। আফা, হের কতা মনে হইলে বুকে ফাপড় লাগে। দম আটকায়া আসে।

নিশি অনুমান করল, সোহাগের বয়স আট-দশ হলে এর বোনের বয়স ছয়-সাত হবে। গ্রামে তো লম্বা সময় গ্যাপ দিয়ে বাচ্চা নেয়ার কথা কেউ ভাবে না। ফি বছর বাচ্চা হয়।
তোর বোনের নাম কি, সোহাগ?
খোদেজা। আফা, হে না এমুন পাগলি, হি হি হি, হে হাসের লগে কথা কয়।
কি বলিস!
হ আফা। হের মেলা হাস। আফা, আমি নিজের চোককে দেখছি ছিনি কয়া ডাক দিলে ল্যাংড়া হাসটা আগাইয়া আসে। খোদেজারে ঠুক্কুর দেয়।
চিনি কি!
আফা, নাম গো, হাসটা নাম। হের একেটডা হাসের একেক নাম। ছিনি, লবন, মিঠাই।
বলিস কী!
মিছা কইলে আমারে য্যান বক্কিলা খায়।
বক্কিলা কি?
সোহাগ ভাবনায় তলিয়ে গিয়েছিল, বক্কিলা শব্দটার অর্থ এর জানা নাই। কে জানে, ভয়ংকর কিছু একটা হবে। যেটা নাম বলে সোহাগের বয়সের শিশুরা কঠিন শপথ করে। অজানা ভয়ে থরথর করে কাঁপে!
নিশির বুকের কোন এক গহীন থেকে একটা বেদনা পাক খেয়ে উঠে। এই শিশুটির অজানা বেদনাগুলো আজ বড়ো স্পষ্ট হয়ে উঠে। নিশিরা সময়মতো বাচ্চা নিলে কে জানে এর বয়সী একটা শিশু থাকত তাদের!

নিশি কথা ঘুরাবার জন্য বলল, তুই ভাত খেয়ে নিয়েছিস তো?
ভুক নাই।
আরে পাগল, বলিস কী! এত বেলা হলো তুই এখনও খাস নাই কেন! আমারও ক্ষিধা লেগেছে, আয় একসাথে খাই।
আপা, ভাইজান আইব না?
নিশি মনখারাপ করা শ্বাস ফেলল, না। কেন যেন নিশির এক্ষণ পা ছড়িয়ে খুব করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। সোহাগের জন্য নাকি নিজের জন্য, কে জানে!

Friday, July 24, 2009

ডাকতর সাহেব যাহা বলিলেন!

আমরা সবাই একপেট আবর্জনা নিয়ে ঘুরে বেড়াই। প্রকৃতি খানিকটা ঢেকে রাখে, খানিকটা আমরা। আমাদের কী আপ্রাণ চেষ্টাই না থাকে ঝাঁ-চকচকে কাপড় মুড়িয়ে, পেটের সমস্ত আবর্জনা ঢেকে-ঢুকে রাখা। একপেট আবর্জনা উম্মুক্ত থাকলে সালমান খান আর আমার মধ্যে বা মিস ওয়ার্ল্ড আর জরিনার মধ্যে তফাৎ কী থাকত!

এটা হচ্ছে মোটা দাগের চিন্তা। সূক্ষ দাগের চিন্তা-ভাবনার ভুবন অন্য রকম। মানুষ শিক্ষার পোশাক-খোলসে তার আচরণের আবর্জনা ঢেকে রাখে। নইলে আমার মতো সামান্য লেখাপড়া জানা মানুষ এবং একজন ডক্টরের মধ্যে পাথ্যর্ক থাকত না। কষ্ট করে মানুষ আর 'নেকাপড়া' করতে চাইত না। আহারে, কেউ কেউ পোশাক পরেও নগ্ন হয়ে পড়েন। এদের দেখে কী মায়াই নাহয়!

এটিএন বাংলা নামের স্যাটেলাইট টিভি চ্যালেল ১৩ বছরে পা দিচ্ছে। ভাল খবর।
সালটা মনে নাই, এটিএন বাংলার সঙ্গে আমি প্রথম পরিচিত হই বিজ্ঞাপন দেখার সুবাদে। সিগারেট-বিড়ির বিজ্ঞাপন, ভয়াবহ বাজেসব ঝাকানাকা টাইপের স্থূল বিজ্ঞাপন! দেখলেই বমি করে দিতে ইচ্ছা হয়, এমন।

যাই হোক, ১৩ বছরে পা দেয়া উপলক্ষে দৈনিকগুলোয় পুরো পাতা জুড়ে ঢাউস বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে (১৫.০৭.০৯)। এই বিজ্ঞাপনের ভেতর আরেক বিজ্ঞাপন "অসম্ভব জয়ের নেশায়" এই টিভির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান সাহেবের বেশ কিছু বাতচিত আছে। ভাল কথা, ওনার নামের আগে এই যে ড. এটার মানে কি? ডক্টর নাকি? বেশ-বেশ।
তো, ওনার বাতচিতের কিছু নমুনা দেয়া যাক:
"...এ জীবনে অনেক কিছু করেছি...গার্মেন্টস শিল্পের প্রথম উদ্যোক্তাদের একজন আমি।...চালু করেছি দেশের প্রথম স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলা...চলচিত্র প্রযোজনা, মিউজিক স্টুডিও সবই করেছি। বিমান পরিবহন ও ইলেকট্রনিক্স নানা ব্যবসায় আমার হাতের ছাপ পড়েছে...বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান এমন অনেক মানুষও আমার হাতে তৈরি...।"
এই একটা বিষয়ে অন্তত আমার কোন দ্বিমত নাই। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ ইভা রহমান। ইনি নাকি একজন বিরাট গাতক (গাতকের গ-টা কি ঘ-র মতো দেখাচ্ছে, দয়া করে আবার ঘাতক পড়ে বসবেন না যেন)। যাই হোক, তাকে তৈরি করেছেন
ড. মাহফুজুর রহমান এবং ইভা রহমান বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান না এটায় আপনাদের অমত থাকলেও, অন্তত আমার নাই।

Thursday, July 23, 2009

মওদুদী: যখন বৃষ্টি তখন ছাতা

মওদুদী সাহেব বলেন:
"...আজ নারীর রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার প্রশ্নেই কেবল ইসলামের দোহাই দেয়া কেন?
...এর পরে আমি আসল বিষয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভংগী আপনাদের সামনে পেশ করছি:
১. দেশে এক জবরদস্তীমুলক অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবসা চালু রয়েছে, তা আমাদের ধর্ম, চরিত্র, তাহজীব তামাদ্দুন, অর্থনীতির পক্ষে অত্যন্ত মারাত্মক।
২. এ ধরনের শাসন ব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পরিবর্তন করার জন্য আগামী নির্বাচনে খোদার দেয়া এক মহা সুযোগ পাচ্ছি।
৩. দেশে মুহতারমা ফাতিমা জিন্নাহ ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তিত্ব নেই যাকে কেন্দ্র করে দেশের বিরাট সংখ্যক লোক একত্রিত হতে পারে...।
৪. মুহতারিমা ফাতেমা জিন্নার প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সাধারণ জনতা তার সমর্থনে কোমর বেঁথে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
৫. তাঁর পরিবর্তে অপর কোন ব্যক্তিকে দাঁড় করানো কিংবা এই নির্বাচন সংগ্রামে নিরপেক্ষ থাকার মানে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে সাহায্য করা।

...বরং আমি তো বলব, একজন নারীকে রাষ্ট্রপ্রধান বানানো যদি এক আনা দোষের হয়, তাহলে তার মোকাবিলায় বর্তমান অত্যাচারী ও জালেম শাসনকে বাঁচিয়ে রাখলে কমপক্ষে দশগুণ বেশী গুনাহ হবে।

...আসলে ইসলামের সাধারণ নিয়মের মধ্যে আমরা কোন পরিবর্তই করছি না, সংশোধন করছি।

...ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার জন্য কেবল পুরুষ হওয়াই একমাত্র শর্ত? ...না সেই সঙ্গে আরো অনেক কয়টি শর্ত আছে?
কোন এক বিশেষ সময়ে আমাদের সামনে যদি দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনকে গ্রহন করার প্রশ্ন দেখা দেয়...আর তাদের একজনের মধ্যে কেবল নারী হওয়া ছাড়া অন্য কোন আপত্তিকর জিনিস না থাকে...ইসলাম জ্ঞানসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কি আমাদিগকে নারীকে গ্রহন না করে সেই পুরুষকেই গ্রহন করার জন্য বলতে পারে?

...আপনার ভোট পূর্ন দৃঢ়তার সঙ্গে- মুহতারিমা ফাতিমা জিন্নাহর নামে ব্যবহার করুন...।

আমি খোদার নিকট দোয়া করি, তিনি যেন আমাদিগকে রক্ষা করেন, আমীন।
" 

*(সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ/ দলিলপত্র: দ্বিতীয় খন্ড, পটভুমি: ১৯৫৮-১৯৭১/ পৃষ্ঠা নং:২৪২, ২৪৩/ ২৯শে নভেম্বর পল্টন ময়দানে মওদুদীর প্রদত্ত বক্তৃতা থেকে, ১৯৬৪)

**মওদুদী কেমন হিংস্র, চালবাজ ছিলেন এটা বলছেন তার ছেলে, অকপটে: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_5646.html

Tuesday, July 21, 2009

এতো স্টার আমরা কোথায় রাখিব?

এক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হৃদয় খান নামের এক বালক-গাতক প্লাস সুরকারের সাক্ষ্যাকার দেখছিলাম বালক বললাম এই জন্য, বালিকা উপস্থাপিকা তাকে তুমি তুমি করে বলছিলেন। এটা এদের কে শেখাবে? এখন উপস্থাপিকা হওয়ার জন্যও বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না! তেলতেলে চেহারা থাকলেই হয়! এবং অশুদ্ধ ভাষায় বাংলা বলার কায়দা 

গাতক সাহেবের যে ঘানগুলো(!) শুনলামকোনটারই কথা মনে রাখার মত কিছু ছিল না, না সুর! হাওয়ায় ভেসে মিলিয়ে যায় এমন ঘান(!)... এই হয়েছে এক জ্বালা! একটা গানের ক্যাসেট বের করেই একজন স্টার বনে যান ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পোজ দিয়ে, জড়িয়ে জড়িয়ে কথা বলা শুরু করেন, অর্ধেক কথা পেটে, অর্ধেক মুখে স্টার বলে কথা! 

এই গাতক মহোদয় না শিখেছেন বাংলা ভাষাটা, না শিখেছেন সহবত-ম্যানার আসলে না বলে বলছিলেন, আছোলে, আছোলে আমি... বেচারাকে খুব একটা দোষ দেই না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পর্যন্ত বাংলা ভাষাটা শুদ্ধ করে বলতে পারেন না আমাদের এক্স অধ্যাপক কাম পেরসিডেন্ট(!) ইয়াজউদ্দিন সাহেব এর একটা প্রকট নমুনা! প্রকট না লিখে কট লিখতে পারলে  আরাম পেতাম। জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণের ৫ মিনিটের মাথায় ২২টা ভুল-অশুদ্ধ শব্দ নোট করেছিলাম।


তো, গাতক সাহেব পুরো অনুষ্ঠানে ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসে ছিলেন ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে না এমন কোন কথা নাই কিন্তু উনার কেডসের তলা দেখা যাচ্ছিল কে বোঝাবে এই বালককে, জেন্টেলম্যান নর্ম বলে কিছু বিষয় আছে, ঠ্যাং-এর উপর ঠ্যাং তুলে বসা যাবে কিন্তু জুতার তলা দেখা যাওয়াটা বৈসাদৃশ্য! ভাগ্যিস, জুতার তলায় গোবর বা ইয়ে ছিল না তাহলে সর্বনাশ হয়ে যেত!
...

*আজ ২৮ নভেম্বর, ২০০৯: 'দেশ টিভি'তে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গানের এক অনুষ্ঠান শুরু হলমিনিট পাঁচেক ধরে উপস্থাপিকা এক ঘাতকের(!)গুণগান গাইলেনযেভাবে তিনি বলছিলেন, আমি ভাবছিলাম, এই দেশে এমন গানের ভুবনের আকাশের স্টারটা কে? হা ঈশ্বর, এ দেখি হৃদয় খান নামের ওই ছোকরাই। এই ছোকরা তো এখনও বসাই শেখেনি! অনেকক্ষণ লাগিয়ে তার গাওয়া গানগুলো শোনার বোঝার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম লাইভ অনুষ্ঠান, এরিমধ্যে বাপ্পা মজুমদার ফোন করে লম্বা লম্বা শাবাসি দিলেনআসলে বাপ্পা, পুতুলের মত উপস্থাপিকারাই হচ্ছেন নাটের গুরু- এদের কারণেই হৃদয় খানের মত অপদার্থরা স্টার হয়ে বসে থাকেন, ফাঁকতালে আমরা ঝলসে যাই।

Monday, July 20, 2009

কাম ব্যাক পিটার, কাম ব্যাক পল

একজন এক্স-শাসক।

এই দুর্ধর্ষ শাসক অক্লান্ত পরিশ্রমী ছিলেন। একজন অন্য রকম যোদ্ধা। 
শরীরের একটা অংশ বহুল ব্যবহারে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। বিশেষ একটা যুদ্ধ করতে করতে তিনি শরীরের বিশেষ ওই অর্গান বা শরীরের অতি আবশ্যক-প্রয়োজনীয় অংশকে প্রায় নষ্ট করে ফেলেছিলেন। 

খুব দ্রুত সেই বিশেষ অর্গান রিপ্লেসমেন্টের প্রয়োজন হলো। সমস্যা হলো, এটা এমন একটা অর্গান যা তাঁর প্রিয়পাত্ররাও দান করতে রাজী হলেন না।

ভাগ্যক্রমে একটা পাওয়া গেল, তাও যা তা অবস্থা! এক ভদ্রমহিলা ক্রদ্ধ হয়ে তার স্বামীর ওই অর্গান এক কোপে কেটে গ্যাস বেলুনে উড়িয়ে দিয়েছিলেন (এটা আমেরিকার ঘটনা) ভদ্রমহিলার স্বামী ওটা আর খুঁজে পাননি। 

কী ভাগ্য ওই গ্যাস বেলুনটা শাসকের দেশে এসে অর্গানসহ গাছে ঝুলতে থাকে। এক ডাক্তার মোটা অংকের টাকা কবুল করে, ঝুঁকি নিয়ে শাসকের সফল অপারেশন করলেন কিন্তু এ-ও জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটার মেয়াদ আমি লিখে দিয়েছি, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আপনি এটা রিপ্লেস করে নতুন একটা অর্গান লাগাবেন। 

শাসক মহা খুশী। তার ভালবাসা-বাসির মানুষরাও আনন্দে আটখান। তারা জনে জনে বলে বেড়াতে লাগলেন, তাঁকে (শাসককে) যতোটা বুড়া মনে হয় আসলে তিনি ততোটা বুড়া নন। 
কিন্তু হা কপাল! ভ্রাম্যমান আদালতের এক ত্যাঁদোড় অফিসার মেয়াদ না থাকার কারণে অর্গানটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। অবশ্য জরিমানা করা হয়েছিল কিনা এটা জানা যায়নি! কিন্তু নিশ্চয়ই এটা পরবর্তীতে জায়গামত আবার শাসকের কাছে চলে এসেছিল।
 

লাভ কী! এই দেশে মেয়াদউত্তীর্ণ বলে কিছু নাই। কবিতায় পিটার, পল যেমন ফিরে ফিরে আসে, ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলা জিনিস রন্ধনশালায়ও শোভাবর্ধন করে তেমনি কিছু মানুষও ক্ষমতায় ফিরে আসেন, বারবার!

Friday, July 17, 2009

ইমদাদুল হকের ঢোল এবং নিউক্লিয়ার বোমা নিয়ে গোল

ইমদাদুল হক মিলনের প্রথম আলোয় 'সাকুরা ফুলের দেশে' লেখাটা পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম একজন মানুষ কেমন করে নিজের সম্বন্ধে এমন নির্লজ্জের মত লিখতে পারেন? তিনি লিখেছেন,
"জাপানি রাষ্ট্রদূত ভদ্রলোক আমার বক্তব্য শুনে এতটা মুগ্ধ হলেন, আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার সময় উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন, আরে, তোমার তো...প্রাইজ পাওয়া উচিৎ।"
এই ...টা নোবেল প্রাইজ কিনা কে জানে? হলে তো সর্বনাশ। এতো নোবেল আমরা রাখব কোথায়?
ওনার লেখার মান বোঝার জন্য যথেষ্ঠ মনন অবশ্য আমাদের মত সাধারণ পাঠকদের নাই। যুগটা হচ্ছে বড়ো তেলতেলে! 'এসেছিলে তবুও আসো নাই' মিলন সাহেবের এই লেখাটা ছাপাবার যোগ্যতা কী এই প্রশ্ন করা বাতুলতা মাত্র।

আরেক জায়গায় লিখেছেন, "আমাকে দেখে বেশ একটা সাড়া পড়ল দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে। একজনও বাঙালি নেই, সবাই জাপানি। আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভালো রকম ব্যগ্র দেখলাম তাদের।"
হা ঈশ্বর, এটা সত্যি বলেই ধরে নিচ্ছি। কিন্তু নিজের কথা এমন করে না লিখলে কী একটা আসমান নড়বড়ে হয়ে যেত?

যাই হোক, মিলন সাহেব ওই লেখায় হিরোশিমায় বোমা ফেলা নিয়ে হা বিতং করে লিখেছেন, অবশ্য তা তথ্যবহুল। এখানে একটা প্রসঙ্গ এসেছে। "'এনোলা গে'-র কো পাইলট রবার্ট লুই বোমা ফেলার পর আপন মনে বলে উঠলেন, 'হায় ঈশ্বর, আমরা এ কী করলাম'!"

জাফর ইকবাল তাঁর 'আমেরিকা' বইয়ে লিখেন, "ছোট থাকতে শুনেছিলাম, যে পাইলট বোমা ফেলেছিল সে পেছনে তাকিয়ে যখন ধ্বংসলীলা দেখেছে হাহাকার করে বলেছে, 'এ আমি কি করেছি'! শুধু তাই না, তার বেসে ফিরে এসে সে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে। এই গল্পটি সত্যি নয়, যে টিমটি অত্যন্ত সুচারুরূপে তাদের দায়িত্ব পালন করে এসেছে তাদের ভিতরে পুরো ব্যাপারটা নিয়ে এতটুকু অপরাধবোধ নেই।

বোমা ফেলার নাটের গুরু, প্রধান দু-জনের মন্তব্য এখানে উইকি থেকে তুলে দিচ্ছি:
Colonel Paul W. Tibbets, Jr. – Pilot and Aircraft commander(Enola Gay)
Tibbets expressed no regret regarding the decision to drop the bomb. In a 1975 interview he said: "I'm proud that I was able to start with nothing, plan it, and have it work as perfectly as it did... I sleep clearly every night."In March 2005, he stated, "If you give me the same circumstances, I'd do it again."
(http://en.wikipedia.org/wiki/Paul_Tibbets)

Captain Robert A. Lewis – Co-pilot; Enola Gay's assigned aircraft commander
"...Robert Lewis described Enola Gay's flight and the dropping of the bomb on Hiroshima. When asked if he remembered his reaction on that fateful day, he remarked:
(In the official log) "I wrote down the words, 'My God, what have we done?"
Many years later, when questioned about his role in WWII, Lewis commented, 'I would rather be remembered for being a member of RPHS Championship Football Team than for being the co-pilot of that plane.'"
(http://en.wikipedia.org/wiki/Robert_A._Lewis)

তোমার জন্য এলিজি

আ-।
ক্ক-।
আহা-।
কথাটা-।
আরে কী মুশকিল, আমাকে আমার কথাটা বলতে দেবে, নাকি! প্লিজ, কথাটা শেষ করি।
আমি তোমার বেদনাটা বুঝি না এমন না, বুঝি। তোমার তীব্র অভিমান হওয়ারই কথা। তোমার জায়গায় আমি হলে স্রেফ খুন করে ফেলতাম। খুন করার নিয়ম না থাকলে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলতাম। আহা, মোটা একটা ডাল ফেলে দিলে আটকাচ্ছে কে!

তোমাকে যখন নিয়ে আসি, কতটুকু হবে তুমি? উমম, এক হাত লম্বা। কালে কালে তুমি আমার মাথা ছাড়িয়ে গেলে, ছাড়িয়ে গেলে আশেপাশের সবকিছু! তোমার পাশে দাঁড়ালে কী হাস্যকরই না লাগত আমাকে!

তুমি কিন্তু আমার কষ্টটা কখনই স্পর্শ করতে পারবে না। তোমার কী- তোমার তো আর চুল কাটাতে হয় না, বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে হয় না। এসবের জন্য ময়লা কাগজগুলোর মূল্য তুমি কি বুঝবে। যেটা বোঝ না সেটা নিয়ে কথা বলতে এসো না। জীবনটা সিনেমা না, বুঝলে? এখানে রিটেকের কোন অপশন নাই।

এমনিতে তুমি কী দিয়েছ এটা বলে কি শেষ করা যাবে! কয়টা বলব? গোটা ছাদ জুড়ে থাকত তোমার কোমল ছায়া। সূর্যের তীব্র আলো ছুতে পারত না । চাদিফাটা গরমে টেরটিও পেতাম না। ভয়ংকর ঝড়ে সবাই যখন ভয়ে কাবু, তুমি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে, ভয় পালিয়ে যেতে দিশা পেত না। তোমার হাজার-হাজার শুকনো পাতা কুড়িয়ে কত মানুষের রাবনের চুলো জ্বলেছে বছর ধরে।

তুমি আমার সন্তানসম, সন্তান তো না। তোমার জন্য আমি তো আমার সন্তানদের প্রতি অন্যায় করতে পারি না। পারি বাডি? আমার বুঝি ইচ্ছা করে না আমার সন্তানদের ভালো-মন্দ কিনে দিতে?

বাহ বেশ তো, কেবল আমার নিষ্ঠুরতাই দেখলে, নিজে কী? কেন তোমার মনে নাই, তোমার সাইজের আরেকজনকে একই দিনে তোমার পাশে লাগিয়েছিলাম। অথচ ও এখনও কত লিকলিকে! তুমি তাকে বাড়তে দাওনি। বুকে হাত দিয়ে বলো তো, এটা কী অন্যায় না?

জানো, মায়া বড়ো অদ্ভুত জিনিস। কাঠের একটা টেবিলে দিনের পর দির বসে কাজ করলে টেবিলটার প্রতি মায়া পড়ে যায়। আর তুমি সন্তান না হলেও সন্তানসম তো বটে। মন খারাপ করে নারে ব্যাটা।

বনভয়েজ-বিদায়!
















তুমি মরে গেছ, আমি বেঁচে আছি। একদিন আমিও মরে যাব। তুমি তো জানো, এ ভুবনে কিছুই ধ্বংস হয়ে যায় না। কোন না কোন ভাবে পার্টিকেলগুলো থেকেই যায়। আমিও যখন তোমার মত মরে যাবো, কে জানে, হয়তোবা কোথাও না কোথাও আমাদের দেখা হবে, আবারও। অন্য কোথাও, অন্য কোন ভুবনে। জানি না, জানি না আমি...।

Wednesday, July 15, 2009

মুচির জন্য শোক, সুদখোরের জন্য উল্লাস

মি. বাটা যখন মারা যান তখন অনেকেই শোক প্রকাশ করেছিলেন, "সাবচে বাড়া মুচি মার গিয়া" (অনেক বড় মুচি মারা গেল)। বাটা সাহেবের প্রতি আমারও আলগা মমত্ব বোধ থাকার কারণ ছিল এই, তাঁর সহযোদ্ধা আমার আবার লাংগোটিয়া দোস্ত ছিল
সবচে বড় সুদখোরকে যখন নোবেল ধরিয়ে দেয়া হলো তখন অনেকেই উল্লসিত হলেন। হিংসুকরা বলে বেড়াতে লাগল, ক্লিনটন, হিলারী ক্লিনটনকে শুটকির ভর্তা খাইয়ে লবিং করিয়েছিলেন। আর নরওয়ে নাকি 'অন দ্য ওয়ে' হয়েই ছিল।
বটি! বাহে, আপনারা এই সহজ হিসাবটা কষেন না কেন? হিসাবটা সহজ। কোটি-কোটি শিশুর প্রাণ বাঁচালো ওর-স্যালাইনের আবিষ্কার, তারচে যে লাগামছাড়া সুদের ব্যবসা বড়ো এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ কোথায়!
কোটি-কোটি মানুষ হাসতে হাসতে সৃষ্টিছাড়া সুদ দিতে থাকবে, তুচ্ছ প্রাণ নষ্ট হবে এ আর কী!

যাই হোক, নোবেল পাওয়াটা চাট্টিখানি কথা না। গুন্টার গ্রাস যখন এই দেশে আসলেন তখন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'নোবেল হচ্ছে এক বস্তা টাট্টি'। আসলে তিনি হুবহু এটা বলেছিলেন,
'নোবেল হচ্ছে এক বস্তা গু'। গু শব্দটায় অনেকের বমন উদ্রেক হয় বিধায় শব্দটা আমি বদলে দিলাম। তো, এই ভদ্রলোককে যখন এই জিনিস দেয়া হলো তখন বউকে বগলদাবা করে প্রায় সবগুলো দাঁত বের করে ফটোসেশন করলেন। নোবেল বলে কথা!

সুদখোর সাহেব নোবেল পাওয়ার পর জনগণের উল্লাস ছাপিয়ে গিয়েছিল জনদরদীদের 'কুল্লাস'! এ নিয়ে সংসদে তুমুল বচসা হচ্ছিল। হাইকাউ এ কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না! স্পিকার দমাদম হাতুড়ী পেটাচ্ছেন, কিসের কী। মাইক বন্ধ করেও কোন তারতম্য হলো না। সংসদ সদস্যরা খালি গলায় যে গলাবাজী করছেন, মাইক না থাকলেও কী আসে যায়!
সমস্যাটার উদ্ভব হয়েছে নোবেলটা আসলে কোন দল (কোন্দল না) পেয়েছে, এইটা নিয়ে? সব দলই দাবী করছে এটা তাদের কৃতিত্ব! কোন ভাবেই এ বিতর্কের মিমাংসা হলো না!

সবচেয়ে বেশী হইচই করছিলেন দুইটা প্রধান দল। এরাই বহু বছর ধরে দেশটার চাকা ঘুরাচ্ছেন বনবন করে! এঁরা না থাকলে এ দেশের হাল সম্ভবত ঈশ্বরও ধরতেন না!
স্পিকার প্রথম দলের প্রধানকে বললেন পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য বলার জন্য।
ওই দলের প্রধান বললেন, চিলকন্ঠে, ‘এই অর্ডার আমি মানতে পারুম না, দাঁড়াইতে পারুম না, আমার পায়ে বিষ (ব্যথা)। তো, আমার বক্তব্য হইল, তাইনে যে নুবেলডা পাইছে, এইটা আমাদের আমলে পাইছে। এইটার কেরতিত্ব আমাদের। জান দিমু কিন্তু আমরা এই নুবেলের এক কুনাও দিমু না।’

দ্বিতীয় দলের প্রধান মুহাহা করে হেসে বললেন, ‘তাইলে আমিও পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়ামু না, মিডল অভ অর্ডারে বইসা কমু। আমি পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার অনেকগুলা ডিগ্রি। আমি এই নুবেলটা নিতে রাজী হই নাই বইলাই এইটা হেই মিয়ারে দেয়া হইছে। কার আমলে? এইটা কি আকথা কুকথা। আমাদের আমলেই এই পরতিষ্ঠানটা কলাগাছের মতো হওয়া শুরু করছিল। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়া দিমু কিন্তু নুবেল ছাড়ুম না। এইটা আমরাই পাইছি।'

তৃতীয় দলের প্রধান বললেন, ‘হাক মাওলা। আমিই তাইনেরে বুদ্ধি দেই, আপনে কিন্তু হাইফাই মহিলাদের সুদে টেকা পয়সা ধার দিয়েন না, ফেরত পাইবেন না। হে হে,
হাইফাই মহিলাদের বিষয়ে আমার চেয়ে ভাল আর কে জানে। বন্দুক চালানের পাশাপাশি ওইডাও চালানো ভালা কইরা রপ্ত করছিলাম। চামড়ার নল...(সেন্সর)। হাক মাওলা।’

চতুর্থ দলের প্রধান, ‘ নাসারাদের কুনু কিছু আমরা বেবহার করি, নেইও না; ধর্মে নিষেধ আছে। কিন্ত আমাগো ম্যাডাম যখন কইছে, তাইলে ঠিকাছে। এইটা আমাগোই কেরতিত্ব। জাযাকুল্লাহ খায়ের!’

এই বিতর্ক তখন শেষ হয়নি।
একদল এখন আর সংসদে যাচ্ছে না। গেলে, কে জানে, আবারও না এই বিতর্কটা শুরু হয়ে যায়...।

Sunday, July 5, 2009

আমি কোথাও যেতে চাই না


ছেড়ে যাওয়া ট্রেন দেখলে আমার কেবলি মনে হয়, কোথাও যেন আমার যাওয়ার ছিল। বুকের ভেতর অন্য রকম, অজানা একটা চাপা কষ্ট হয়। কিন্তু ট্রেনে চেপে বসলে আমার কোথাও যাওয়ার ইচ্ছাটা বেমালুম উবে যায়। কেবল মনে হয়, আমি তো কোথাও যেতে চাই না, কোথাও না। অন্তত ঝুপঝুপ বৃষ্টিতে আমি কোথাও যেতে চাই না।

ঝুম বৃষ্টিতে আমি মরতেও চাই না। চাই না বৃষ্টিতে আমার শব ভিজুক। ধপধপে দুধ-সাদা কাপড়টায় বিচ্ছিরি দাগ লাগুক এটা মোটেও কাম্য নয়। এটাও কাম্য না ধর্মীয় অনুশাসন পালনে ব্যস্ত লোকজন বিরক্তিভরে গর্তে উঠে আসা পানিতে আমায় ছুঁড়ে দিক।

"যেদিন মরব আমি, সেদিন কী বার হবে
বলা মুশকিল।
শুক্রবার? বুধবার? শনিবার? নাকি রবিবার?
যে বারই হোক,
সেদিন বর্ষায় যেন না ভেজে শহর, যেন ঘিনঘিনে কাদা
না জমে গলির মোড়ে। সেদিন ভাসলে পথ-ঘাট,
পূণ্যবান শবানুগামীরা বড়ো বিরক্ত হবেন।"
(শামসুর রাহমান/ নিজ বাসভূমে)

Tuesday, June 30, 2009

হোজ্জা এস্টাইল(!)

আচ্ছা বলুন তো, গাধার পিঠে চড়ে কেউ কোথাও রওয়ানা হলে আগে কে পৌঁছবে? আহা, সিম্পল উত্তর, গাধা। গাধার মাথাটাই তো সামনে থাকবে, নাকি আমার মাথা?

হোজ্জা সাহেবের গাধাও আগে পৌঁছত, অন্য কারণে। তিনি নিজস্ব স্টাইলে চলতেন, নিজের বুদ্ধিতে। গাধার পিঠে বসতেন সিংহাসনে বসার ভঙ্গিতে, জাঁক করে! ফল যা হওয়ার তাই হতো। কোথাও রওয়ানা হলে গাধা আগে পৌঁছত, সিংহাসনচ্যুত হয়ে কুঁইকুই করে হোজ্জা সাহেব অনেক, অনেক পরে।
এই তথ্য লিপিবদ্ধাকারে কোথাও পাওয়া যাবে না। কারণ যে ভদ্রলোক প্রত্যক্ষদর্শী তিনি হোজ্জার গাধার নিচে পড়ে অক্কা যান। লিখে জানিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। আহা বেচারা, মরে আর বাঁচেননি!

আমাদের সরকার বাহাদুর সম্ভবত হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' অনুসরণ করেন। 'ডে লাই সেভিং' নামের যে জিনিস এরা চালু করেছেন এর যথার্থতা নিয়ে কুতর্ক করার অবকাশ এখন আর নাই। চালু হয়ে গেলে এটা থামাবার যো কার? যে দেশের অধিকাংশ মানুষ ছাতার আড়ালে টাট্টি করেন, তাঁদের এই জিনিস হজম করতে সময় লাগবে বৈকি!
অবশ্য আমজনতার যেটা লাভ হয়েছে তা হচ্ছে লোডসেডিং আরও তীব্র হয়েছে!

বিচিত্রসব ঘটনা ঘটেছে। সিলেটের একজন ১৯ জুন রাত ১১টা থেকে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সমস্ত রাত ঠায় বসেছিলেন কখন ঘড়ির কাঁটা নিজে নিজে সরবে।
আরেকজন জনে জনে জিজ্ঞেস করছিলেন, এক ঘন্টা পূর্বে সূর্যকে উঠতে বাধ্য করা হবে কেমন করে?

অনেক শিক্ষিত মানুষ ট্রেন মিস করেছেন। কেউ ইসকুলে গিয়ে দেখেছেন, তালা ঝুলছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি।

সরকার বাহাদুর ২২ জুন তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে জানিয়েছেন, "দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় আগের পাঠদান সময়সূচি বর্তমান ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবে।"

এটা ১৯ জুনের পূর্ব থেকে প্রচার করলে, যে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা এগিয়ে দেয়ার পর, ট্রেনের সময়সূচি, অফিস, স্কুল-কলেজ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পূর্বের সময়েই থাকবে। তাহলে লোকজন 'এপ্রিলফুল'-এর ন্যায় 'জুনফুল' হতো না। কিন্ডার গার্টেন পড়ুয়া ছোট-ছোট শিশুদেরকে তাদের বাবা-মার হতভম্ব মুখ সকাল-সকাল দেখতে হতো না।
সরকার বাহাদুর যাও জানালেন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে ২২ জুন। ২২ জুন না জানালেও ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না। যারা হোজ্জা সাহেবের 'এস্টাইল' মেনে চলেন তাদের এতো কিছু জানাবার দায় কী!

Sunday, June 28, 2009

বিস্মিত হতেও ভুলে যাই!

প্রকৃতি প্রায়শ তার সন্তানকে হতবাক করে দিয়ে অলক্ষ্যে হাসি গোপন করে। ভাগ্যিস, হাসিটা আমরা দেখতে পাই না। প্রকৃতি এবং হায়েনা, এদের অদৃশ্য হাসি নিয়ে বিতর্কটা চলেই আসছে।

গত বছর মে ফ্লাওয়ার গাছটা কোথায় ছুঁড়ে মেরেছিলাম মনেও ছিল না।
ঠিক-ঠিক ৩১ মে। এ বছরের (২০০৯) মে মাসের শেষ দিন। আগুন-লাল মে ফ্লাওয়ারটা দেখে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। অরি আল্লা, গত বছরের ছুঁড়ে ফেলা গাছটা আমার অজান্তেই দীর্ঘ এক বছর দিব্যি বেঁচে ছিল! কেবল বেঁচেই ছিল না, তার সমস্ত সৌন্দর্য-রূপ নিয়ে আমাকে অন্য জগতের এক চাবুক মেরে আচ্ছা করে চাবকাল! কী আর করা- কিছু চাবুক খেয়েও সুখ!
'বার্ডস অভ প্যারাডাইস', এটাও আমায় কম হতভম্ব করেনি!
..............

প্রকৃতি কখনও কখনও তার কুৎসিত রূপ দিয়েও তার সন্তানকে চমকে দেয়!

Friday, June 26, 2009

উইপেন অলওয়েজ উইপেন!

 
আজকাল জঙ্গি ভাইদের নিয়ে বড়ো যন্ত্রণা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনা। এক জঙ্গিকে আদালতে জবানবন্দী দিতে বলা হলে, তার স্পষ্ট বক্তব্য, আমি কোন মহিলার (জজ) কাছে জবানবন্দী দেব না। কারণ মহিলাদের জজ হিসাবে মানি না। ধর্মীয়মতে, মহিলাদের বাইরে কাজ করার অনুমতি নাই এবং পর্দা করা হয় নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি। 
জটিলতা এড়াবার জন্য একজন পুরুষ জজের সামনে তাকে হাজির করা হলে সে তার জবানবন্দী প্রদান করে।

তো, এক জঙ্গি ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তার স্পষ্ট বক্তব্য: আমি মানবসৃষ্ট আইন মানি না, আদালত মানি না।
পুরূষ জজ সাহেব: কোন অসুবিধা নাই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আপনি ফাঁসি মেনে নিলেই হবে।
জঙ্গি ভাই (তাচ্ছিল্য করে): ফাঁসি তো আর বোমার খোসা না, বললেন আর ফাঁসি হয়ে গেল! আর ফাঁসির ভয় দেখাইয়েন না, ইয়া শায়খ বলে ঝুলে পড়ব, কিসসু হবে না। ফাঁসির দড়ি ফুলের মালা হয়ে যাবে।
পুরুষ জজ সাহেব: বোমার খোসা না, বলুন বাদামের খোসা!
জঙ্গি ভাই: চীনা বাদাম এসেছে চীন থেকে, মুরতাদ দেশের মুরতাদ বাদাম। এটা উচ্চারণ করলে এস্তেঞ্জার পরে হারপিক দিয়ে কুলি করতে হয়।

পুরুষ জজ সাহেব: আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, বোমাবাজি করে মানুষ হত্যা।
জঙ্গি ভাই ( চোখে শিশুর সারল্য, দাড়িতে হাত বুলিয়ে অমায়িক হাসি): কোন প্রমাণ আছে?
পুরূষ জজ সাহেব: অবশ্যই প্রমাণ আছে, আপনার রেকটামে লুকিয়ে রাখা চার্জার থেকে বোমা উদ্ধার হয়েছে।
জঙ্গি ভাই(চোখ বড়বড় করে): মারহাবা মারহাবা, চার্জারে বোমা থাকলে, এই-ই প্রমাণ যে আমি বোমা ফাটিয়ে মানুষ খুন করেছি?
পুরুষ জজ সাহেব: আপনাকে খুনি প্রমাণের জন্য এইটুকুই যথেষ্ঠ।
জঙ্গি ভাই এদিক ওদিক তাকাচ্ছেন দেখে জজ সাহেব বললেন: লাভ নাই, কোন উকিল আপনাকে ডিফেন্ড করবে না।
জঙ্গি ভাই (ভয়ে-ভয়ে): আরে না, আমার চার্জারে এখনো একটা বোমা রয়ে গেছে কিনা, খালাশ করা প্রয়োজন! ইয়ে, আপনাদের টাট্টিখানা কই?
জজ সাহেব(আতঙ্কিত চোখে): সর্বনাশ, এইসব কি বলছেন!

জঙ্গি ভাই: হে হে হে, ভয় পাইছেন! শোনেন, আমার নামে নারী নির্যাতনের শাস্তিটাও দিয়ে দেন।
পুরুষ জজ সাহেব( অবাক হয়ে): নারী নির্যাতনের মামলা তো এটা না।
জঙ্গি ভাই: না তো কি হয়েছে? বোমা বহন করলেই যদি মানুষ খুন করা প্রমাণ হয়। তাহলে তো আমি নারী নির্যাতনেরও একটা ভয়ংকর অস্ত্র...(সেন্সর) বহন করছি। যদিও র‌্যাব ধরার সময় থেতলে বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে- বাট, উইপেন অলওয়েজ উইপেন!

Wednesday, June 24, 2009

গাছটার কেবলই কান্না পায়।

এই গাছটা কেটে ফেলেছিল কেউ চাল করে।
জজ-কোর্টের চত্বরে চা-র এই দোকানটা চলবে জব্বর, গাছটা না-থাকলে সুবিধে হয় যে বড়! এই বুদ্ধির তারিফ না করে উপায় কী!
 
দেখো দিকি কান্ড- পাতাশূন্য হয়েও গাছটা দিব্যি বেঁচে আছে! এখন কী মায়ায়ই না ছড়িয়ে পড়েছে সদ্য গজানো এর কচি-কচি পাতা।
 
আহারে-আহারে, চকচকে পাতাগুলোয় আগুনগরম চা ছুঁড়ে মারে কেউ-কেউ।গাছটার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। গাছটা কিচ্ছু বলে না।
 
কেউ ডালে ময়লা একটা দড়ি ঝুলিয়ে দেয়। তুলতুলে নরোম ডাল-পাতা চাপা পড়ে থাকে। গাছটার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। কিন্তু গাছটা কিচ্ছু বলে না।
কেউবা পান খেয়ে চুন মোছার জন্য পাতা ছিঁড়ে ফেলে অবলীলায়। গাছটার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। তবুও গাছটা কিচ্ছু বলে না।
চা-র চামচ খুঁজে না পেয়ে চা-দোকানদার একট শুকনো ডাল ভেঙ্গে বেদম নাড়ায়। গাছটার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। উঁহু, তাও গাছটা কিচ্ছু বলে না।

কালো কোটের উকিল আসে। নাক ঝেড়ে সময় নিয়ে গাছে মোছার চেষ্টা করে। ফুড়ুৎ-ফুড়ুৎ শব্দে চা খায়। অন্যমনস্ক হয়ে পাতা ছেঁড়ে, অযথাই। মনে মনে ভাবে: মক্কেলটাকে আজ চটকাতে হবে। ওর ফৌজদারী মামলায় জামিন হবে না, এটা বললেই হাত উপুড় করে 'টংকা' না-দিয়ে বাছাধন যাবেটা কোথায়? হারামজাদাটা আজ আসলেই হয়...।
গাছটার যে এমন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, শত অত্যাচারেও গাছটা কিচ্ছু বলে না। আহা, নিদেনপক্ষে একটা ডাল ফেলে কারও-না-কারও মাথা ফাটিয়ে ফেললেও তো খানিকটা ক্ষোভ লাঘব হয়। সে তাও করে না!

একদিন। বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে মামলার তদ্বিরে আসে একজন মানুষ। মানুষটাকে দেখে ঠিক মামলাবাজ মনে হয় না। ভারী চশমার পেছনে এর চোখগুলো যেন কেমন! মানুষটা সিগারেট ধরিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। চুকচুক করে সময় নিয়ে চা খায়। লোকজনের চোখ বাঁচিয়ে হাত বাড়িয়ে আলতো করে গাছটার চকচকে পাতা ছোঁয়। ইশ-শ, কী যে নরোম মানুষটার হাতের স্পর্শ! অজান্তেই গাছটার গা কাঁপে! কাঁপতেই থাকে! পাতাগুলোর উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই যেন- তিরতির করে কাঁপে, চোখে দেখা যায় না এমন। অবাক-এক-কান্ড হে! গাছটার দমবন্ধ ভাবটা এখন আর নেই!
 
মানুষটাও অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে অদ্ভুত সবুজ চকচকে পাতাগুলোর পানে। মানুষটার চোখগুলো যেন কেমন- অবিকল মাছের মত, পলকই পড়ে না! পাগলাটে টাইপের এই মানুষটার খুব ইচ্ছা করে গাছটাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে। শোনো কথা, এ যে এক অসম্ভব পাগলামী ভাবনা আর কী!

গাছটার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, আবারও। গাছটা কিচ্ছু বলে না। অনড় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এখন গাছটার কান্না পায়। কেবলই কান্না পায়, পাগলাটে এই মানুষটার সঙ্গে যেতে না পেরে...।

Complaint for your sudden leaving

To leave like this, is not fun, you understand? 

My whisper on father's day:
"Will I ever come back to this earth
Once my being leave this mortal body?
If I ever come back,
May I comeback in some solitary winter night
Beside the death bed of a beloved
Carrying gifts of love in my hand." -(Jibonanando Das)
See, everyone, people of literature wishes to come back! Its you, only you, who never wish to come back.
Is it fair? He is slow poisoning himself in the excuse of becoming a trash writer. Your child is spoiling his life in smoking day and night. Shouldn't you come and drag me by my ear lobe. Where are you? Aren't you a man!

Today I am reminded of a giant bodhi tree. Today I realize the absence of a elder who even if bed ridded wouldn't feel the lack of home here. When I wish to leave everything like a surrendered soldier, at that very how point in my life, how much I miss you. You will never understand that. You don’t have that capacity.

I learned to walk holding your fingers. But before long you let go off my finger. What kind of judgment of yours is this? But believe me, I loved your way of teaching. I remember you as my teacher than as father. Your showed me the life as a friend. How beautiful were your actions!

You asked me sit and study with the cobbler’s son. Trust me, at first I hated it. Why me! But you had a noble purpose behind it. See today I can boast in saying that my childhood friend was the son of a cobbler. A lot of my sweet childhood memories I owe to him. How can I repay those loans. Actually I don’t have the capacity to payback.

These days I constantly have to fight with the bad and good within, the animal and the innocent child inside me. See, the way I can sometime defeat the animal, that credit goes to you! But until today I haven't become a robot, perhaps it was necessary. Isn't that a huge loss? Anyways.

You left, fine! But I never liked how you bade goodbye. That was such an injustice. I was only 16 or 17 when you admitted into Hospital (Midford). I was beside your bed that day as you felt a little better. Around 2 in the night you couldn't breathe! Ah, the world is full of oxygen, yet your grasped your son's hand out of the pain to breath a drop. You whispered, "Son, such pain! Please get some oxygen!"

I ran from this end to other end of the hospital. This rotten country. Nowhere to be found anyone in need. This small town kid had no authority. At one point I felt like if I could jump from the 4th level. Even these days I think, why I didn't. Ah! useless attachments.

Some says during our life and death- doctors touch us. At one point the doctor touched you and announced that you are nothing but a corpse from then on. After that the rituals.
I am alone. Holding the cold hand of my father's dead body, sitting, awaiting for the morning to arrive.
From every direction of Dhaka, from every mosque the call for prayer was arriving. The feeling of a totally another world. How bloodless white your face looked. Your eyes that could touch infinity were frozen. How stupid I was. Weren't you laughing seeing my stupidity? I tried to warm up your hand, if I could transfer some heat to your body...

What an endless night. The night of waiting with the corpse of a beloved one. As if the morning was never to come. Actually morning comes, nobody can stop it. Yet some start their return journey without waiting for the morning.
Translated by, Sadiq Alam (http://mysticsaint.blogspot.com)

... ... ...

"On the floor beneath the window of a small, dusky room lay my father, remarkably long and all dressed in white; the toes of his bare feet were strangely widespread, and the fingers of his gentle hands, now quietly crossed on his breast, were likewise distorted.
The dark discs of copper coins closed his laughing eyes, his kind face had become livid, and I was terrified by the glint of his set teeth."
-M. Gorky, Childhood
Translated by Margaret Wettlin

1. বাবা দিবসে তোমায় চুপিচুপি বলি: https://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_21.html?m=1

Sunday, June 21, 2009

বাবা দিবসে তোমায় চুপিচুপি বলি...

ভাবছ, বিরাট একটা কাজ করে ফেলেছ, তাই না! কিন্তু এভাবে দুম করে চলে যাওয়া কোন কাজের কাজ না, বুঝলে!
"একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব
আবার কি ফিরে আসব না পৃথিবীতে?
আবার যেন ফিরে আসি
কোনো এক শীতের রাতে
একটা হিম কমলালেবুর করূণ মাংস নিয়ে
কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে।"
(জীবনানন্দ দাশ)
দেখলে-দেখলে, সবারই, গল্প-কবিতার লোকজনেরও কী ইচ্ছাই না করে ফিরে আসতে! কেবল করে না তোমার! কী, ঠিক বলিনি? কালেভদ্রেও ফিরে আসতে ইচ্ছা করে না বুঝি তোমার, এই কাজটা করতে বড্ড বাঁধে তোমার, না?
আচ্ছা ফাদার, কাজটা কী ঠিক হচ্ছে, বলো! সিগারেট ফুঁকে ফুঁকে তোমার সন্তানের বুকটা ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে, তোমার কী উচিৎ না ফিরে এসে আচ্ছা করে কানটা মলে দিতে? এই এলাকার সবাই জানে লেখালেখির নাম করে তোমার সন্তান উচ্ছন্নে গেল, অথচ বাপ হয়ে তুমি জানো না? আশ্চর্য, তুমি একটা কেমন মানুষ! আসলে তুমি, তুমি একটা, তুমি একটা পাগলু...!

জানো, আজ আমার কেবল মনে হয় তোমার মত একটা বটবৃক্ষের কথা। আজ এবেলায় এসে তোমার এই অভাবটা বুঝতে পারি হাড়ে-হাড়ে। কেবল মনে হয়, হোক না একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ, বিছানায় পড়ে থাকলেও আমার একটা নিরাশ্রয়ের ছাদের অভাব বোধ হতো না। পাপা জানো, জীবন যুদ্ধে পরাজিত একজন সৈনিকের মতো হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে যখন, তখন আমার কাছে তোমার খানিকটা স্পর্শ কতটা যে জরুরী এটা তুমি কখনই বুঝবে না, কক্ষনই না। আসলে এটা বোঝার মত ক্ষমতাই নাই তোমার!

তোমার আঙ্গুল ধরে-ধরে কেবলই শিখছিলাম। এরিমধ্যে আঙ্গুল ছেড়ে দেয়াটা কোন ধরনের বিচার হলো, বলো দিকি? তোমার কী মনে হয়? ইশ, বিরাট একটা কাজ হয়েছে! আপনি বাবা বিরাট একটা কাজের লোক হয়েছেন!
তবে বিশ্বাস করো, তোমার শেখাবার পদ্ধতি আমায় বড্ডো টানত। তোমাকে যতটা না বাবারূপে মনে রাখব তারচে’ অনেক বেশি মনে রাখব শিক্ষকরূপে। জীবনটাকে চেনাতে, বন্ধুর মতো! আহা, কী অপরূপ সব কর্মকান্ড তোমার!
মুচির ছেলের সঙ্গে আমায় একসঙ্গে পড়তে হবে। বিশ্বাস করো, ওইসময়, প্রথমদিকে, এটা আমার একেবারেই ভালো লাগত না। বাবা, তোমার কানে-কানে বলি, কাউকে বলবে না কিন্তু, ওসময় ক্ষেপে গিয়ে তোমায় পচা কথাও বলতাম। কেন রে বাপু, এই অনাচার আমার উপর চাপিয়ে দেয়া! তোমার ভাল লাগলে ওর বাবা মুচির সঙ্গে 'ল্যাকাপড়া' করো না তোমায় আটকাচ্ছে কে- আমাকে নিয়ে বাপু কেন টানাটানি! কিন্তু তখন তোমার সাত্বিক ইচ্ছাই ছিল প্রধান।
অথচ দেখো দিকি কান্ড, আজ আমি কেমন সগর্বে বলতে পারি, অহংকার নিয়ে লিখতে পারি আমার শৈশবের বন্ধু একজন মুচির সন্তান ছিল। এতে যে আমার কোন লাজ নেই। থাকবে কেন! আমার শৈশবের অনেকখানি আমার সেই বন্ধুর কাছে ঋণী। কেমন করে আমি তাঁর ঋণ শোধ করি? আসলে এইসব ঋণ শোধ করার ক্ষমতাই-বা কই আমার!

আজ আমায় অবিরাম যুঝতে হয় আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কু এবং সু নামের পশু এবং শিশুটির সঙ্গে। এই দেখ না, আমি যে কালেভদ্রে পশুটাকে অনায়াসে পরাজিত করতে পারি, এটাও কিন্তু তোমারই অবদান!
তবে, কালে-কালে যন্ত্রমানব হওয়াটা বদলে যাওয়াটা যে অপরিহার্য ছিল- আজও আমি যে পুরাপুরি যন্ত্রমানব হতে পারিনি, এই একটা বিপুল ক্ষতি কিন্তু তুমি আমার করে দিয়েছ; যা হোক।
চলে গেলে, তা বেশ। কিন্তু তোমার বিদায় নেয়ার ভঙ্গিটা আমার পছন্দ হয়নি। এভাবে দুম করে কেউ চলে যায় বুঝি? দূর-দূর, ফালতু, স্রেফ ফালতু।

তুমি যখন মিডফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হলে তখন আমার বয়স কতো হবে আর, ষোল-সতেরো। ওই দিন তোমার শরীর খানিকটা ভালো থাকায় তোমার শয্যাপাশে কেবল আমিই ছিলাম। রাত দুইটা দিকে তোমার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হলো।
আহা, পৃথিবীতে এতো বাতাস অথচ তুমি একফোঁটা বাতাসের জন্যে কেমন নির্লজ্জের মত তোমার কিশোর সন্তানের হাত খামচে ধরে আছো। কী হাহাকার করা ভঙ্গিতেই না বলছিলে, 'খোকা, বড় কষ্ট! একটু অক্সিজেনের ব্যবস্থা কর'। এ্যাহ, বললেই হলো আর কী, কিশোরটি যেন অক্সিজেন বুকপকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়!

আমি পাগলের মতো হাসপাতালের এমাথা-ওমাথা ডাক্তার-নার্সের জন্যে ছুটাছুটি করছি। এ অভাগা দেশে যা হয়, কাউকে কী খুঁজে পাওয়া যায় শালার! মফস্বল থেকে আসা এই কিশোরটি কতটুকুই বা ক্ষমতা, চেনার শক্তি। এক সময় মনে হলো লাফ দেই চার তলা থেকে! আজও ভাবি ওদিন কেন লাফ দিলাম না? হায়রে মানুষ, প্রাণের কী মায়া!

জন্ম এবং মৃত্যুর সময় নাকি ডাক্তার আমাদের স্পর্শ করেন! ডাক্তার একসময় তোমাকে বড়ো অবহেলাভরে ছুঁয়ে জানালেন, আজ থেকে এটা একটা লাশ! এরপর লাশ উঠাও, লাশ নামাও। এই-এই, এই লাশের সঙ্গে গার্জেন কে?
আমি একা। বরফঠান্ডা বাবা নামের লাশটার হাত ধরে বসে আছি, ভোরের অপেক্ষায়। ঢাকার সমস্ত মসজিদ থেকে একযোগে আজান ভেসে আসছে। অপার্থিব, অন্য ভুবনের এক অনুভূতি! কী রক্তশূণ্য-পান্ডুর তোমার মুখ। তোমার অতলস্পর্শী চোখটা কেমন স্থির!
জানো বাবা, কী বোকাই না ছিলাম আমি, আমার বোকামী দেখে তুমি খুব হাসছিলে তখন, না? তোমার ঠান্ডা, আড়ষ্ট হাতটা অহেতুক ঘষছিলাম, অলৌকিক-বিচিত্র কোন উপায়ে যদি আমার শরীরের খানিকটা উত্তাপ তোমার শরীরে ছড়িয়ে দেয়া যায়। যদি যায়, আহা, যদি যায়...!

এক কিশোরের জন্য কী দীর্ঘ একটা রাত! প্রিয়মানুষের শব নিয়ে ভোরের অপেক্ষা। দেখা অদেখা হয়- ভোর তো আর হয় না! আসলে ভোর হয়, ভোরকে কেউ আটকাতে পারে না। কিন্তু তোমার মত কেউ-কেউ ভোরের অপেক্ষায় হাল ছেড়ে অন্য ভুবনে যাত্রা করে...।

Saturday, June 20, 2009

ছফা-বৃক্ষ: ২

এই মরিচ গাছটা কেমন করে এখানে হলো এ নিয়ে আমার বিস্ময়ের শেষ নাই। শ্যাওলাপড়া ইটের ফাঁকে কেমন করে গাছও হয়, তরতাজা হয়ে বেঁচেও উঠে! দেখো দিকি কান্ড, আবার ঢাউস-ঢাউস মরিচও ধরেছে।

ছফার স্পর্শ পেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা থ্যাতলানো বেগুন গাছ দিব্যি বেঁচে উঠে।
তাই আমি এর নাম দিয়েছি ছফা-বৃক্ষ। ইতিপূর্বে একটা কমলা গাছের নাম দিয়েছিলাম, ছফা-বৃক্ষতাই এটার নাম ছফা-বৃক্ষ: ২।

খাবার আগে হেলতে দুলতে যাই, একটা মরিচ পেড়ে নিয়ে আসি। সালুনসহ ধোঁয়াওঠা সাদা-সাদা ভাতের এককোনে চকচকে মরিচটা দেখেই মনটা ভালো হয়ে যায়। কচ করে কামড়, এরপর কচকচ-কচকচ। কী ঝাল রে বাবা- ছফার মতই ঝাল!

Thursday, June 18, 2009

প্রথম আলো এবং পাকস্থলী- সমার্থক!

পাকস্থলী ওরফে 'উদরের পাকাশয়' সব হজম করে ফেলে (কারও কারও পাকস্থলী লোহা, কাঁচও)। কিন্তু পাকস্থলীর বেচারার বড় কষ্ট, নিজেকে হজম করার কোন কায়দা তার জানা নাই। কেন নাই, এর ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের এই ব্যাখ্যার বিশদে গিয়ে এখানে কপচাবার খুব একটা আবশ্যকতা নাই।

শিরোনামে যেটা বলেছিলাম, পাকস্থলী এবং প্রথম আলো, এই দুইয়ে মুলত কোন পার্থক্য নাই। এরা জমজ ভাই- একই মায়ের গর্ভে ঘন্টা-মিনিট-সেকেন্ড ধরে এদের জন্ম। প্রথম আলোর 'বদলে যাও বদলে দাও' এর শিৎকারে (টাইপে ভুল হয়েছে, দয়া করে পড়বেন চিৎকারে) বাংলাদেশ মায় গোটা বিশ্ব অস্থির। ঝাড়ুসহ ঢাউস বিজ্ঞাপনও দেখলাম, এরা ঝেটিয়ে সমস্ত আবর্জনা সাফ করে ফেলবেন।

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে এরা নাকি ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। সবই সু-উদ্যোগ। কিন্তু ওই যে বললাম, এরা পাকস্থলী- সব হজম করবেন, নিজেদের হজম করবেন না। সবাইকে বদলে ফেলবেন, কিন্তু নিজেদের বদলাবেন না।

ভাষাসৈনিক গাজীউল হক (তাঁর প্রতি সালাম। এই অগ্নিপুরুষ সেখানে অন্তত সম্মানের সঙ্গে সমাসীন হোন এই প্রার্থনা) মারা গেছেন। আমি অবশ্য এঁদের মৃত্যুকে মৃত্যু বলে স্বীকার করি না। আমি বলি, এঁরা কেবল খোলস বদলান। তাঁর তিরোধানের এই খবরটা প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে পেছনের পৃষ্ঠায়। এটা কেন প্রথম পাতায় আসার যোগ্যতা রাখল না এটা আমার বোধগম্য হলো না। অথচ প্রথম পাতায় হাবিজাবি খবরের অভাব নাই! অন্তত দুমড়ানো গাড়ির যে পৃথুল ছবি ছাপা হয়েছে এটাকে খানিকটা ছোট করে দিলেও হত।

গাজীউল হকদের মত মানুষ তো আর গন্ডায়-গন্ডায় এই দেশে নাই। কে জানে, গাজীউল হকদের মত মানুষ না থাকলে হয়তোবা প্রথম আলোর নাম হত, 'পাহেলি রোশনি' বা 'পাহেলি উজালা'।
কে জানে, মতিউর রহমান এই 'পাহলি রোশনি'-র সম্পাদক হতে পারতেন কি না? হলেও, কোন একটা লেখা লেখার পূর্বে দরখাস্ত লিখতেন:
"মেরে মায়-বাপ (হে আমার প্রভু),
তাসলিম (সালাম)। মেরে ভেজামে (মস্তিষ্কে), নাহি-নাহি, মেরে দিমাগ (মাথা) কা আন্দার এক সোচ (ভাবনা) আয়া, আগার ইজাজাত (অনুমতি) হো তো ইয়ে ম্যায় লিখ ডালু।
ইয়ে মেরে গুজারিশ (প্রার্থনা) হ্যায়...।"
ইত্যাদি ইত্যাদি।

Wednesday, June 17, 2009

মানুষকাটা আলী

"২০১২ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ কর দিয়ে, কালো টাকা সাদা করলে দেশের কোন আইনেও এ নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না"।
আজকের খবরের কাগজে ঝরঝরে হিসাবটা দেখছি, ৫০ লাখ টাকা বৈধ আয় দেখালে কর দিতে হবে ১২ লাখ আর ৫০ লাখ টাকা অবৈধ আয় দেখিয়ে ফ্ল্যাট কিনলে দিতে হবে মাত্র ৮০ হাজার টাকা।

সরকার বাহাদুরের এই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই আমি স্বাগত জানাই। কেন? বুঝিয়ে বললে আপনারা একমত হলেও হতে পারেন।
কী যে ভালো লাগছে- থ্রি চিয়ার্স না, মাথার চুলের সমান চিয়ার্স! আলী নামের অখদ্যে-অবদ্যে, অপদার্থ মানুষটা এমন একটা দিনের অপেক্ষাতেই তো ছিল।

মাংস ব্যবসায়ীরা (আমি এঁদের কসাই বলতে চাই না। এটা বললে চোখের সামনে একজন অমানবিক একটা মানুষের ছবি ভেসে উঠে। এঁরা অন্য ব্যবসায়ীদের মতই সৎ ব্যবসায় জড়িত। এই দেশে এঁদের চেয়ে অনেক অমানবিক লোক চোখের সামনে ঘুরে বেড়ান।) যদি গরু-ছাগল-মহিষের সিনার মাংস, রানের মাংস, কলিজা, মগজ, চর্বি, হাড়; চাই-কি লেজও বিক্রি করতে পারেন, এতে কী কোন দোষ হয়?
তাহলে মানুষকাটা আলী ১০শতাংশ কর দিয়ে, জ্যান্ত মানুষ ধরে ধরে মানুষের কিডনি, লিভার, অন্ডকোষ (এটার রিপ্লেসমেন্ট শুরু হয়েছে কিনা এখনও শুনিনি, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই হবে) বিক্রি করলে কেন দোষ হবে? কেন-কেন-কেন হবে, হোয়াই! যুক্তি কী?
হ্যাঁ, আলী যদি মানুষের লেজ বিক্রি করার চেষ্টা করে সেটা অবশ্যই দোষের। কারণ আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, মানুষের লেজ হয় না। এটা করলে সে ধারা ৪২০-এর আওতায় পড়বে! পাগল, আলী আইন ভাঙ্গবে নাকি?

এফবিসিসিআই কালো টাকা সাদা করাকে ইতিবাচক বলেছে। তাদের এটা বলায় কেউ কেউ তাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন। যারা এফবিসিসিআই-এর সঙ্গে একমত না, তারা হয়তো গ্রাম অঞ্চলের এই চালু কথাটার সঙ্গে পরিচিত না, "ব্যবসায়ীরা গু থিক্যাও ট্যাকা কামুড় দিয়া লইয়া আসে"। যেসব সূক্ষরূচির পাঠকের গু শব্দটায় আপত্তি আছে তাঁরা দয়া করে গু-র স্থলে সু পড়ুন। তো, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই কালো টাকার পক্ষে অবস্থান নিলে আমি খুব একটা দোষ দেই না।

এফবিসিসিআই আরও বলেছে, "তিন বছরে দেশ খেকে কালো টাকা উঠে যাবে"। তারা আশা করছেন, তিন বছরে সমস্ত কালো টাকা সাদা হয়ে যাবে তাই আর এর প্রয়োজন দেখা দেবে না।

বটে! পেটকাটা রমজান, গালকাটা রব্বান তিন বছরে কালো টাকা সাদা করে না-হয় পেটকাটা রমজান থেকে রমজান সাহেব হলেন। ভালো। কিন্তু এই তিন বছরের মধ্যে বা পরবর্তিতে পাছাকাটা আনিস, বিচিকাটা দানিসের কালো টাকার কী গতি হবে?

ব্যবসায়িদের চিরকাল বুদ্ধিমান জেনে এসেছি, এরা যে এতোটা অপোগন্ড এটা আজ জানলাম।

Tuesday, June 16, 2009

ডে-লাইট সেভিং নামের কফিনের পেরেকটা!

অমরবাণী, "সুখে থাকলে ভূতে কিলায়"।
আমার তুচ্ছবাণী, "কিম্ভূতকিমাকার ভূত, তার সঙ্গে খেলি কুৎ কুৎ"। কেন রে বাওয়া, ভূতের সঙ্গে খেলতে যাওয়া! খেলায় হেরে গেলে ভূত যে মানবসৃষ্ট আইন মেনে চলবে এর নিশ্চয়তা কোথায়? পিঠে দুমদুম করে কিল মারার বদলে সে যদি কচকচ করে চিবিয়ে ফেলে এর দায় কে নেবে?

সরকার বাহাদুর ১৯ জুন মধ্যরাত থেকে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘন্টা এগিয়ে আনবেন। এতে নাকি দেশে ৫ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এটা ভাবলেই বুকটা আনন্দে ভরে উঠে।

আমাদের দেশের অঘটন-ঘটন-পটিয়সী আমলা নামের মহোদয়গণের অঙ্গুলিনির্দেশে এটা চালু হচ্ছে। এঁরা এটাও ঘটা করে জানাচ্ছেন, কোন কোন দেশে এটা চালু আছে। আমেরিকা, মঙ্গলগ্রহ, অতলস্পর্শ নিতল ইত্যাদি ইত্যাদি।
যে দেশের অধিকাংশ লোকজনকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তার জন্ম কত সালে? তখন একটা উত্তর কমন পড়ে, 'বড় তুফানডার সময় হইছিলাম' বা 'বড় ঢলডার (বন্যা) সময় হইছিলাম'। ওইসব দেশের সঙ্গে আমাদের তুলনা মন্দ না!
এই হয়েছে এক মুশকিল, কেউ কেউ অতুগ্র আগ্রহে হার্ড-কোর পর্ণ দেখে আসন রপ্ত করতে গিয়ে বাস্তবে হতাশ হন। কেন হতাশ হন এটা এদের কে বোঝাবে?

আবার এও বলা হচ্ছে স্কুল-কলেজের সময়সূচী পরিবর্তন হবে না। অদ্ভুতদর্শন এই ইযারকিটা ভাল হয়েছে, এক হাতে দুইটা ঘড়ি পরার চল চালু হবে। অদ্যাবধি পাগল ব্যতীত কেউ তো আর পরেনি!

আচ্ছা, পত্রিকায় দেখলাম, নামাজের সময় নির্ধারনের জন্য সরকারের দায়িত্বশীল লোকজন বায়তুল মোকাররমের খতিব এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বেশ। কিন্তু এতো সোজা- এই দেশের মসজিদ মাদ্রাসাগুলো কী এঁরা নিয়ন্ত্রণ করেন! কওমি মাদ্রাসা নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই দেশের কোন আইনের ধার ধারেন না। আমাদের সরকার বাহাদুর কী জানেন, কওমি মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত দূরঅস্ত, কোন প্রকার খেলা দূরের কথা, মাঠে যাওয়াই নিষেধ। সাইকেল চালালে, পত্রিকা পড়লে কঠিন শাস্তি পেতে হয়- কড়িকাঠে গামছা দিয়ে বেঁধে হুজুররা দল বেঁধে পেটান। তো, এমন একটা প্রতিষ্ঠান, কওমি মাদ্রাসা কী তাদের নামাজের সময়সূচি পরিবর্তন করবে? আমার আকর্ণবিস্তৃত হাসি- লেট সী!

গোটা দেশে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে এটা চোখ বুজে বলে দেয়া যায়। সাধারণ মানুষ তিতিবিরক্ত হবে, মুখনিঃসৃত যে বাণীগুলো বেরিয়ে আসবে, হারপিক দিয়ে কুলি করেও কূল পাওয়া যাবে না।
সাধারণ লোকজনদের ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে মাথাব্যথা নাই। নাকি দেশ কোন সুপার হাইওয়ের সঙ্গে দেশ যুক্ত হলো, কী হলো না। সাবমেরিন ক্যাবল কোন মাথামোটার কারণে অনেক বছর পর যুক্ত হলো, এইসবে তাঁদের কিছুই যায় আসে না। মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের মানুষ অতি জটিলতা পছন্দ করে না।
এর কিছু নমুনা আমরা দেখেছি, তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে তত্বাবধায়ক সরকারের অনেক ভাল কাজগুলো কমোডে ফ্লাশ হয়ে গেছে। কেবল দ্রব্যমূল্যের অগ্নিমূল্য এবং হাট-বাজার ভাংচুর, এই দুইটাই যথেষ্ঠ।
সেই যে এদের কফিনে পেরেকটা আটকালো আর খোলা গেল না।

আমার ধারণা, চৌকশ একজন মানুষ খানিকটা চেষ্টা করলেই সিস্টেম লস কমিয়ে, সততার সঙ্গে খানিকটা সমন্বয় করেই ৫ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারতেন। হুলস্থুল করে কফিনে পেরেক ঠোকার জন্য উদগ্রীব হওয়ার প্রয়োজন ছিল না।

Monday, June 15, 2009

অপাপবিদ্ধ শিশু যেথায় পাপবিদ্ধ!

দুগ্ধপোষ্য শিশু কি অপাপবিদ্ধ? সব শিশু নিশ্চয়ই না? বিশেষ করে যাদের বাবা-মা হতদরিদ্র। এমনই এক শিশু এক টুকরো সাদা কাপড় মুড়ে শুয়ে আছে বিশাল আকাশের নিচে, জানাজার অপেক্ষায়। বেঁচে থাকতে সে দৃষ্টিনন্দন ছিল না মোটেও- উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কুচকুচে কালো গায়ের রঙ, হাড় জিরজিরে, সরু পাটকাঠি পা। বেঁচে ছিল ১৪ দিন!

শিশুটির বাবা কাজের সন্ধানে গেছেন বহুদুর। জানেনও না, চমৎকার না হোক একটি সন্তানের জনক তিনি। তাদের ভালবাসা-বাসির প্রথম সন্তান। জননী মৃত সন্তানকে হাতছাড়া করতে চাচ্ছিলেন না। তার এক কথা, এর বাবা এক পলকের জন্যে হলেও একে দেখবে। অবুঝ জননী যুক্তি দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছিলেন না, এ অসম্ভব! সন্তানের বাবাকে খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে যে সময় গড়িয়ে যাবে ততক্ষণ লাশ ফেলে রাখা যাবে না। আর কার এতো দায় পড়েছে, হন্যে হয়ে খুঁজবে!

দয়ালু এক প্রতিবেশী অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে লাশ নিয়ে এসে গভীর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছে, নামাজ শেষ হলে জানাজা হবে। এক সময় নামাজ শেষ হলে কাতর গলায় বলল, ‘হুজুর, এর এট্টু জানাজা কইর‌্যা দেন।’
মুখ অসম্ভব অন্ধকার করে ফেললেন ইমাম সাহেব, লোকটাকে দেখে ব্রহ্মতালু জ্বলে উঠল। এ ত্যাদড় টাইপের- বেনামাজী, ধর্মকর্মে বিশেষ মন নেই। মানী লোকের মান দিতে জানে না। একদিন ডেকে এনে ধমক দিয়ে বলেছিলেন: কি জলিল মিয়া, মসজিদে দেহি না, নামাজ পড়ো না- বিষয়ডা কি?
বেয়াদবটা ঘাড় শক্ত করে বলেছিল: মুনির কাম করি, টেম(টাইম) পাই না।
চড় দিয়ে উল্টে ফেললে আরাম পেতেন। সামলে নিয়ে বলেছিলেন: দোজখে গেলে সময় পাবি?
হেইডা আফনে কেমনে কন, আমি দুজখে যামু! এই মসজিদের সেক্রেটারি মতিন সাব কি বেহেস্তে যাইব, হে তো এক নম্বর সুদখোর।

মসজিদের সেক্রেটারি মতিন সাহেব লোক হিসেবে এতটা খারাপ না। কুস্তিগিরের শরীর, একেবারে ঘাড়গর্দানে। বিশাল বেঢপ ভুঁড়ি চোখে না পড়ে উপায় নেই। মসজিদে নিয়মিত সামনের কাতারে দাঁড়ান। সুদ খান, এটা এখন কে না খায়? অবশ্য দরিদ্র মহিলারা এঁর সংসপর্শে এসে বিচিত্র অসুখ বাধিয়ে বসে। মতিন সাহেবের মত ভুঁড়ি গজায়- সুখের বিষয় অসুখটা এক সময় সেরে যায়।
ইমাম সাহেব এবার বললেন, ‘কার জানাজা?’
জলিল মিয়া বলল, ‘জ্বে, এই দুধের বাচ্চাডার।’
মতিন সাহেব এবার এগিয়ে এসে বললেন, ‘অই, তোর বাচ্চা নিহি।’
‘জ্বে-না, আমাগো পরতিবেশীর। এই ধরেন গিয়া দুই ঘর পর, ’বলল জলিল মিয়া, হড়বড় করে।
আগ বাড়িয়ে মসজিদের সেক্রেটারি মতিন সাহেব রাগ-রাগ গলায় বললেন, ‘তা হের বাপ কই? ফাজিলের দল সব, বাপ না আইস্যা লতায়-পাতার সমপর্ক আসছে।’
‘জ্বে, হের বাপরে পামু কই! হে তো তিন মাস বাড়ি ছাড়া। মজুর খাটতে গেছে। আহারে, জানেও না, পুলা হইয়া মইরাও গেছে।
‘মরবই তো, এমুন কাণ্ড জ্ঞান যে বাপের হের পুলা কি লাফাইবো!’
জলিল মিয়া হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে গিয়ে সামলে নিল, সময়টা ভাল না। ভাঙা গলায় বলল, ‘আল্লারওয়াস্তে দুধের বাচ্চাডার জানাজা দেন।’
মতিন সাহেব ঘৃণায় একগাদা থুথু ফেলে বললেন, ‘তুই কইলেই হইব? হুকুম দেস! খোঁজখবর নিতে হইব না, বাচ্চার বাপ নামাজ পড়ে? আহাম্মুক, বাপ বেনামাজী হইলে জানাজা হইবো কেমনে!’
জলিল মিয়া সব গুলিয়ে ফেলল। জড়িয়ে জড়িয়ে বলল, ‘ইডা আফনে কি কন! বাচ্চা তো ফেরেশতা, বাপের নামাজের লগে হের কি 'সমপর্ক'!’
মতিন সাহেব অসহ্য রাগে লাফিয়ে ওঠলেন, ‘ধর্ম শিখতে হইব তোর কাছে, তোর মত কাফেরের কাছে!’

এ মসজিদের ইমাম সাহেব মতিন সাহেবের সঙ্গে সায় দিলেন, তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে। মোয়াজ্জেন, চল্লিশ-পঞ্চাশজন মুসুল্লী কেউ টুঁ শব্দ করল না।

অনেক দেরিতে হলেও শিশুটির জানাজা হয়। সৌভাগ্য তার, পচনশীল দেহ বাড়তি এ সুবিধাটুকু নিয়ে জন্মেছিল। শিশুটি পাপ করার সময়ও নিশ্চয়ই পেয়েছিল, বারো লক্ষ ন হাজার ছশো সেকেণ্ড- চৌদ্দ দিন, কম সময় তো না!

*লেখাটি নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। ভোরের কাগজে কোন লেখা আটকালো না, এটা আটকে গেল। বিভাগীয় সম্পাদক সঞ্জীব দা অন্য দিকে তাকিয়ে বিব্রত ভঙ্গিতে বললেন, সম্পাদক সাহেব বলেছেন এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আপনি কি একটু সম্পাদক সাহেব, মতি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন।
আমার মাথায় ঢুকছিল না এটা কেমন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে! পত্রিকাটা তো ইনকিলাব টাইপের না যে এরা ধর্ম নামের সমস্ত অস্ত্র বাগিয়ে বসে আছেন! আমি সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ বোধ করলাম না। আমি তো এই পত্রিকার চাকুরে না, ফ্রিল্যান্স কলমচি। লেখাটা ওখানে আর ছাপা হয়নি। পরবর্তিতে ওখানে লেখার আগ্রহ কমে এলো।
তাছাড়া ঘটনাটা আমার নিজের চোখে দেখা। এটা নিয়ে লিখতে পারব না কেন? এটা তো আমার অধিকার।

হায় অধিকার! এই দেশে অধিকার ফলাতে গেলে
হাজার-লাখ পাঠকের বদলে কপালে জুটবে দু-চারজন পাঠক! রত্মেশ্বর হাজরা-র কবিতা ধার করে বলতে হয়:
"মৃত্যু ও মৃতের অধিকার নিয়ে সে
একবার সভাও ডেকেছিল ময়দানে
যদিও সেই সভায় সে নিজে ছাড়া উপস্থিত ছিল
বাতাস
বিকেল বেলার রোদ
মাঠের নির্জনতা
আর বিস্ময়-"

Saturday, June 13, 2009

ইমাম সাহেব- আমাদের বাতিওয়ালা

জ্বিনদের বাদশা সভাসদদের নিয়ে সিংহাসনে বসে আছেন। সিংহাসন মানে আগুনের গোলা আর কী! বাদশার মন বিশেষ ভালো নেই। লোকবল কমে গেছে। কাজ-কাম চলাতে যারপর নাই অসুবিধা হচ্ছে। পৃথিবীর পিরবৃন্দগণ বেশিরভাগ জিন আটকে রেখেছেন। যখন তখন হুকুম করে এদের জীবনটা ভাজা ভাজা করে ফেলছেন। এটা একটা কথা হল, ক্ষমতা থাকলেই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে হয় বুঝি! এ কেমন কথা, জিনদের আটকে হুকুম চালানো- এ্যাহ, পর হয়েছেন বলে এঁরা মাথা কিনে নিয়েছেন।

এমনিতে, জিনের বাদশাকে এক কথায় বলা চলে, জেন্টালম্যান। মানুষের জন্য এঁর রয়েছে গভীর মমতা। মানুষেরর সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর রাখেন। যেসব জিন মজা করার জন্য মানুষদের ভয় দেখায় এদের ধরে ধরে চটকনা দেন। দ্বিতীয়বার একই অন্যায় করলে নীল-ডাউন করিয়ে রাখেন। সোজা কথায়, মানুষের সুখে উল্লাসিত হন, দুঃখে কাতর হন।


সাদামাটা জীবনযাপন করেন, উল্লেখযোগ্য কোন রকম বদ-অভ্যাস নেই। আগে সিগারেট টানতেন, বহু কষ্টে ছেড়েছেন। বদ অভ্যাসের মধ্যে আছে শুধু পান, তাও জর্দা ছাড়া। চার-পাঁচটা পান মুখে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বললেন: কি-অ, পৃথিবীর খবর-টবর তো পাচ্ছি না বহুদিন ধরে। আমাদের গুপ্তচররা করছেটা কী!
প্রধানমন্ত্রী একটু নড করে বললেন: 'মি. লর্ড, রাশিয়া পতনের পর গুপ্তচরদের আর কোনো কাজ নাই। গর্দভ নাকি কি যেন নাম গাড়টার... ধ্যাৎ মনে পড়ছে না, কঠিন নাম। যাই হোক, গ্লাসনস্ত, পেরোস্ত্রোইকার ট্যাবলেট খেয়ে এমন কাজটাই করেছে পৃথিবীর ভারসাম্য একদিকে হেলে পড়েছে। সারা পৃথিবীর মাথায় আমেরিকা এখন বনবন করে ছড়ি ঘুরাচ্ছে'। এতোগুলো কথা একসঙ্গে বলে প্রধানমন্ত্রী হাঁপিয়ে গেছেন।
 

'তাহলে মানুষের খোঁজ-খবর পাবো কি করে', নীচের ঠোঁট কামড়ে বললেন বাদশা।
'জ্বী, চিন্তার কিছু নেই, অবশ্য আমাদের জার্নালিস্টারা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। এবার তাদের একটা আ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে পাঠানো হয়েছে- সেটা হলো, কারা সবচে কষ্টে আছে? এখন পর্যন্ত কেবল বাংলাদেশ থেকে রিপোর্ট এসেছে। ওখানে আমাদের তুখোড় জার্নালিস্টকে পাঠিয়েছিলাম, কারণ লোকগুলো মারাত্মক, এরা নাকি সোজা আঙ্গুলেও ঘি ওঠাতে ওস্তাদ'।
বাদশা ভারী গলায় বললেন, 'আহ, ইনিয়ে-বিনিয়ে এতো কথা না বলে কাজের কথা বলো'।
'ওই দেশে নিরন্তর সমস্যা, ওইসব কথা না বলে ছাতাফাতা মসজিদের ইমাম, মেয়াজ্জিনদের নিয়ে রিপোর্ট করেছে। গাধা আর কী'!
বাদশা কাতর হলেন, 'আহা-আহা, ওরকম করে বলে না। ও আমাদের দুঁদে জার্নালিস্ট। শুনি না কি রিপোর্ট এনেছে'?

প্রধানমন্ত্রী দরবারের এক কোনে রাখা বিশাল ডেকসেটে সাক্ষাৎকারের ক্যাসেটটা চালালেন। নির্দিষ্ট লয়ে স্পুল ঘুরতে লাগল।
খিচাখিচ খিচ খিচ ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো।

জিন জার্নালিস্ট(হড়বড় করে): যারা এ পৃথিবীতে আছেন বা পৃথিবীর বাইরে আছেন সবাইকে আমার শুভেচ্ছা। আমরা এ মুহূর্তে এখানকার জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে কথা বলবো, আস্লামুআলাইকুম হুজুর।
ইমাম সাহেব: ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহু। কে ভাই আপনি, আমার কাছে কি বিষয়?
জিন জার্নালিস্ট (হাসি): মাফ করবেন হুজুর, আমি কে এটা বলতে পারছি না। আমি এসেছি আপনার একটা সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য।
ইমাম সাহেব: সাক্ষাৎকার, এটা কী জিনিস?
জিন জার্নালিস্ট: ইয়ে, মানে কি করে বোঝাই। পত্রিকায় দেখেন না ছাপা হয়...।
ইমাম সাহেব: ইয়ে, আমি তো পত্রিকা পড়ি না। মাদ্রাসায় পড়াকালিন পত্রিকা পড়া নিষেধ ছিল।
জিন জার্নালিস্ট: অ, আচ্ছা। আপনারা পত্রিকা পড়েন না। তাহলে দিনদুনিয়ার খবর জানবেন কেমন করে?
ইমাম সাহেব: ভাইরে, আমার কাজ খবর না কবর নিয়া। নতুন কোন খবর জেনে তো লাভ নাই। সব খবর আগেই লেখা হয়ে গেছে।
জিন জার্নালিস্ট: বেশ-বেশ। তাহলে কোন সমস্যা নাই। তা সাক্ষাৎকার হচ্ছে, ধরেন, মানুষদের সুখ-দুঃখ জানা, এই আর কী।
ইমাম সাহেব (ঠান্ডা শ্বাস): কি হবে এসব জেনে, আমরা তো আর মানুষ না।

জিন জার্নালিস্ট: আচ্ছা আপনি কতো টাকা বেতন পান?
ইমাম সাহেব (কুপিত হয়ে): আস্তাক ফিরুল্লাহ, লাহলঅলা কুআতে ইল্লা বিল্লা... এসব কী বলছেন! আল্লার নামে নামাজ পড়াই, যা পাই এটাকে বেতন বলছেন কেন!
জিন জার্নালিস্ট (লজ্জিত গলা): মাফ করবেন জনাব, ঠিক কি বলতে হবে আমার জানা নাই। আপনি যদি দয়া করে...।
ইমাম সাহেব: উ-উ, মূল্যের বদলে বলা হয় হাদিয়া আর বেতনের বদলে হবে... হবে...।
জিন জার্নালিস্ট: সম্মানী বললে কেমন হয়?
ইমাম সাহেব: তা মন্দ হয় না। যা জানতে চাইছিলেন সম্মানী এখন পাচ্ছি ১৮০০ করে। আগে ১২০০ ছিল। কিছুদিন হলো বেড়েছে, অনেক দেনদরবার করে।


জিন জার্নালিস্ট মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, 'মাই জিনেরগড, বলেন কী! আমার জানামতে, বাংলাদেশের একজন মেথরও তো এই টাকায় সারা মাস কাজ করবে না! তা আপনার পরিবারের লোকসংখ্যা ক’জন?
ইমাম সাহেব (দীর্ঘ শ্বাস): এই ধরেন আমি, বাচ্চাদের মা, সাত বাচ্চা। আর আমার আম্মা। আব্বা বড়ো ভাইয়ের ভাগে পড়েছেন।
জিন জার্নালিস্ট (উঁচু স্বরে): জিনগড-জিনগড! চলে কি করে আপনার?
ইমাম সাহেব: চলে কই, চলে না। আর আমি তো চালাই না, আল্লাহপাক চালান।
জিন জার্নালিস্ট: তবু দয়া করে বলবেন, ১৮০০ টাকায় কিভাবে একমাস ম্যানেজ করেন?
ইমাম সাহেব (লজ্জিত গলা): আলাদা কিছু টাকা পাই। এই ধরেন কোথাও মিলাদ পড়ালাম, কোথাও পবিত্র কোরআন খতম হল, কেউ মারা গেল। ওদের জন্য দোয়া করি। ৫০/ ১০০ টাকা পাই । ও-হ্যাঁ, দাওয়াত থাকলে কোনোদিন ভালো খাবার-টাবার জোটে। ভাই, বলতে শরম লাগে, দাওয়াতে আমাদের খাওয়া দেখে লোকে হাসাহাসি করে। এরা কী জানে, পেট ভরে খেতে পাই না। আমার পরিবারে যে চাল লাগে এর অর্ধেক চাল কেনারও টাকা পাই না। আর শুধু চাল পানি দিয়ে তো চিবিয়ে খাওয়া যায় না।

জিন জার্নালিস্ট: আপনার সঙ্গে কথা বলে হুজুর আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। কি করব বলেন, দায়িত্ব তো। আচ্ছা, আপনার এতোগুলো সন্তান, জন্মনিয়ন্ত্রণ করেননি কেন?
ইমাম সাহেব: তওবা-তওবা! এদের পাঠিয়েছেন আল্লাহ, খাবার দেবার মালিকও উনিই। এমনিতে 'আযল' করি কিন্তু লাভ হয় না।
জিন জার্নালিস্ট: এবার আপনার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে একটু কথা বলি।
ইমাম সাহেব: এরা কি আর এখানে থাকে নাকি! আমার একার পেটই চলে না। সকালে নিজের পয়সায় নাস্তা করি। দুপুরে এক বাড়ি থেকে ভাত আসে। অর্ধেক খাই, অর্ধেক পানি দিয়ে রাতের জন্যে রেখে দেই। মাস ছ’মাসে একবার বাড়ি যাই, যৎসামান্য যা পারি দেই।


জিন জার্নালিস্ট: আপনি এই কন্টকিফলের বিচি চিবাচ্ছেন কেন?
ইমাম সাহেব: কন্টকিফল কি?
জিন জার্নালিস্ট: ওহ, সরি। কন্টকিফল হচ্ছে কাঁঠাল।
ইমাম সাহেব: রাতের খাবারে গন্ধ হয়ে গেছিল। খেতে পারিনি। ক্ষিধা লেগেছে। কিছু কাঁঠালের বিচি পোড়ানো ছিল, ওইটাই খাইতেছি।
জিন জার্নালিস্ট: আচ্ছা শেষ একটা প্রশ্ন, এ জীবন আপনার কেমন লাগে?
ইমাম সাহেব (অন্যরকম গলা): বড়ো কষ্ট জনাব, বড়ো কষ্ট। সারা পৃথিবীর লোক যা খুশি তা করতে পারবে, আমাদের পান থেকে চুন খসার উপায় নেই। আমাদের হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়েছে। আচ্ছা, পেট বাঁধেননি কোন আপনারা? একদিন রমজানে রাস্তায় মুড়ি বিক্রি করছিলাম। সবাই হাঁ হাঁ করে উঠল, হুজুর এ কাজ করে কি করে? সর্বনাশ! একটা ছেলেকে বাংলা পড়ালে আপনারা দিবেন কমসে কম পাঁচশ, হাজার আর আরবী পড়ালে ৫০ টাকা। একদিন তালি দেয়া পাঞ্জাবী পরে এলাম, লোকজন বলল ব্যাটা ভড়ং দেখায়। খেতে পাই না আর কাপড়। আপনাদের যেখানে দুই গজে সার্ট হয়ে যায় আমাদের পাঞ্জাবীতে লাগে চার গজ। তবু শোকর আল্লার কাছে। অন্যদের দেখে সবর করি, এ মসজিদে মোয়াজ্জিন পায় ১২০০ টাকা। তাকে দেখে সবর করি। শোকর-এ আলহামদুলিল্লাহ।

*আজ এই লেখাটি উৎসর্গ করি, মৌলভী আব্দুস সামাদকে- তিনি আমার আরবি শিক্ষক ছিলেন। মুলত লেখাটা তাঁর জীবনের ছায়া অবলম্বনে লেখা হয়েছিল। অসম্ভব সৎ একজন মানুষ ছিলেন। দেওবন্দ থেকে উঁচু ডিগ্রি নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর চেয়ে অনেক অনেক কম শিক্ষিত, অশিক্ষিত মৌলভীদের ওয়াজ মাহফিলে ডাক পড়ত, পড়ত না কেবল এই মানুষটার। কারণ ওয়াজ মাহফিলে ইনিয়ে-বিনিয়ে যেসব গরমাগরম ফুলকি বিচ্ছুরণ ঘটাতে হয় তা তিনি করতে চাইতেন না। মানুষটার ছিল জাতিধর্মনির্বিশেষে অসম্ভব মায়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে থাকার, খাওয়ার বড়ো কষ্ট- তিনি মারা গিয়েছিলেন বিনা চিকিৎসায়।
 

**এটা পুরনো লেখা। লেখাটা অনেক আগে একটা ওয়েবসাইটে দিয়েছিলাম। কিছু পাঠকের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র! একজন বললেন, 'ইমাম সাহেবরা আপনাকে পেলে কেঁদে দিত, বুক মিলাইত, কুলাকুলি করত'। তিনি এ-ও-তা বলে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়েছিলেন।

আমি যদি ভদ্র ভাষায় বলি তাহলে বলব, আমার লেখার মূল বক্তব্যটা বোঝাতে পারিনি। আর অভদ্র ভাষায় বললে, তারা আমার লেখার ধাঁচ-মূল সুরটা ধরতে পারেননি। আমাদের জন্মের সময় এই মানুষগুলো কাছে থাকেন, মৃত্যুর পরও কাছাকাছি।
সচরাচর ঔর্ধ্বদেহিক-অন্ত্যর্ষ্টি সম্বন্ধীয় কর্মকান্ডে এঁদের ব্যতীত উপায় কী! অথচ এঁদের আমরা কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। যে বেতনে একজন মেথরও কাজ করবে না সেই বেতন একজন ইমাম-ধর্মীয় নেতাকে দেয়ার ফলশ্রুতি অবশেষে কী দাঁড়াচ্ছে? কেন একজন মানুষকে অন্যায় করতে বাধ্য করা? আবার আবালের মতো আশা করে থাকি এঁরা আমাদের ধর্ম গুলে খাওয়াবেন। আমাদের এটা শেখানো হয়নি এদেরকে শিক্ষক বলার জন্য, ধর্মীয় শিক্ষক!

এরা মাদ্রাসা নামের যে কারখানা থেকে বের হন, ওইসব মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়-কী শেখানো হয়? সাইকেল চালানো যাবে না, কোনো ধরনের খেলাধুলা করা যাবে না, পত্রিকা পড়া যাবে না।
ভুল শিক্ষা, ধর্মীয় উস্কানি এবং অধিকাংশ হুজুর টাইপের মানুষরা থাকেন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। ফল যা হওয়ার তাই হয়। কোমলমতি শিশুদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। সাদা-শুভ্র হয়ে মানুষটা হয়ে যায় গ্রে- ক্রমশ 'গে'। একজন 'গে-মানুষ'। আর শিশুটির জগৎ এলোমেলো হয়ে যায়- রোপণ করা হয় একেকটা বিষবৃক্ষ। ঝাড়েবংশে কালে কালে বটবৃক্ষ হয়। চক্রাকারে এটা চলতেই থাকে। এ নিয়ে আমাদের দেশে কারও গা করার অবকাশ নাই।

মাদ্রাসায় ক-জন মেধাবি ছেলে ভর্তি হচ্ছে? একটা পরিবারের সবচে মেধাবি ছেলেটাকে সামর্থ্য থাকলে বৈদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয, নিদেনপক্ষে ঢাকায়। আর হাবাগোবা, ল্যাংড়া-লুলা সন্তানকে আল্লারওয়াস্তে মাদ্রাসায়। এ তো নিজেকেই সামলাতে পারে না, অন্যকে কী সামলাবে?

আমার প্রিয়মানুষ মারা গেলে চোখের পানি শুকিয়ে যায় কিন্তু হুজুরদের চোখের পানি দেখে মনে হয় ডিপ-টিউবওয়েল বসানো হয়েছে!
রাগের মাথায় কেউ তার বউকে তালাক বলে দিল- ব্যস, হুজুরদের এই তালাকের উসিলায় 'লাক' খুলে যায়। টাকার বিনিময়ে কোরান খতমের নামে একশ্বাসে এঁরা যা পড়েন তা কোন ভাষা, কটা অক্ষর সহীহ হয়? ধর্মের সর্বময়কর্তা, এরা নিজেরা তৈরি করে নেন নিজস্ব একরাশ ভুল ব্যাখ্যা। একটু আগে পেচ্ছাব করে মাটি ভিজিয়ে গেছেন একজন, ওখান থেকে মাটির ঢেলা উঠিয়ে কুলুপ করতে কোন সমস্যা নাই। একদা ফতোয়া আসবে যে যত বড় ঢেলা নিয়ে কুলুপ করবে সে তত বড় কাজের মানুষ। ভবিষ্যতে এটা দেখা বিচিত্র না ছোটখাটো টিবি নিয়ে লোকজন দৌড়াদৌড়ি করছে!
অবশ্য এখনকার হুজুরদের সেলফোন ব্যবহারে কোনো অনীহা নাই। যতটুকু জানি এটা মুরতাদরাই আবিষ্কার করেছে, কোন মুসলমান না।

ভাবলে গা কাঁপে, এইসব মানুষদের হাতে ধর্ম নামের ভয়ংকর অস্ত্র। ধর্মীয়-বক্তার যেমন যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না তেমনি ধর্ম নামের এই ভয়ংকর অস্ত্র চালাবার জন্য কোন ট্রেনিং-এর প্রযোজন হয় না। একেকজন চলমান কাশ্যপ- চলমান বিষের ভান্ডার! দিনের পর দিন, মাস, বছর আমরা এই বিষ সানন্দে পান করেই যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ, আমাদের সন্তানরাও পান করবে।
WhatsApp