আগে চোর বলতেই চোখে ভেসে উঠত পাতলা-দুবলা কালো-কালো তেলমাখা একটা শরীর। কিন্তু সেই দিন এখন আর নাই। এখনকার চোরগুলো দেখলে বোঝা কার সাধ্য, চেহারা-ছবি দেখে মেয়ের বাবারা আনন্দের সঙ্গেই সানাই বাজাবেন। ভাগ্যিস ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা বাবাজি ছিল...।
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
Showing posts with label চোর. Show all posts
Showing posts with label চোর. Show all posts
Monday, September 23, 2019
চোর, সেকাল-একাল।
বিভাগ
চোর
Saturday, January 30, 2016
হানিফ সংকেত- অন্ধতমিস্র, আঁধারের শিক্ষক!
হানিফ সংকেত নামের মানুষটা ফজলে লোহানির হাত ধরে এই আলোকিত ভুবনে এসেছিলেন। ফজলে লোহানি অজানার দেশে চলে যাওয়ার পর এই মানুষটাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমশ একলা-একলি এক আলোকচ্ছটায় রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এরপর তো ইতিহাস!
কায়দাদুরস্ত হানিফ সংকেত তাঁর ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে বছরের-পর-বছর ধরে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, এখনও! কালে-কালে তিনি নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠলেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ অভূতপূর্ব! এই প্রজন্মের একটা স্যালুট তিনি পাওনা হন এতে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু এই করে করে বছরের-পর-বছর কেমন করে পার করে দিলেন এটা দেখে স্যালুটটা ফিরিয়ে নেওয়াটা দোষের হবে বলে মনে করি না।
এমনিতে হেন কোনও অসঙ্গতি নেই যা নিয়ে কটাক্ষ করা তাঁর অনুষ্ঠানে উঠে আসে না। এন্তার অসঙ্গতি নিয়ে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেন। ফাঁকে-ফাঁকে নাচ-গান তো আছেই। এটা ফ্রি, ডাল ফ্রি (আগের আমলের)।
এমনিতে হেন কোনও অসঙ্গতি নেই যা নিয়ে কটাক্ষ করা তাঁর অনুষ্ঠানে উঠে আসে না। এন্তার অসঙ্গতি নিয়ে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেন। ফাঁকে-ফাঁকে নাচ-গান তো আছেই। এটা ফ্রি, ডাল ফ্রি (আগের আমলের)।
কত বছর পূর্বে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ‘হোটেল সালাদিয়া’ নামের এই গানটা শোনা হয়েছিল মনে নেই। বহু বছর পর Download Free24-এর কল্যাণে গানটির খোঁজ পাওয়া গেল, কৃতজ্ঞতা।
যথারীতি হানিফ সংকেত জানাচ্ছেন গানটা লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু এবং গেয়েছেন সান্টু। রিন্টু-সান্টু, সান্টু-রিন্টু, সান্টু-সান্টু-সান্টু, রিন্টু-রিন্টু-রিন্টু 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে আমরা রিন্টু এবং সান্টুর নামই শুনে এসেছি। ভাগ্যিস এই ধরায় সান্টু-রিন্টু এসেছিল নইলে সর্বনাশ হয়ে যেত!
এ আরেক একলসেঁড়ে-অসামাজিক ভাবনা! হানিফ সংকেতের অভিধানে এই দেশে রিন্টু এবং সান্টু ব্যতীত গায়ক, গীতিকার নাই! সবাই বানের জলে ভেসে গেছে? বা হিমালয় পর্বতে চলে গেছে বাথরুম করার জন্য। আফসোস, বড়ই আফসোস- এই দেশ কবে পরিবারতন্ত্র-স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে আসবে কে জানে! যাই হোক, আমরা হোটেল সালাদিয়া গানটা শুনি:
যথারীতি হানিফ সংকেত জানাচ্ছেন গানটা লিখেছেন লিটন অধিকারী রিন্টু এবং গেয়েছেন সান্টু। রিন্টু-সান্টু, সান্টু-রিন্টু, সান্টু-সান্টু-সান্টু, রিন্টু-রিন্টু-রিন্টু 'ইত্যাদি' অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে আমরা রিন্টু এবং সান্টুর নামই শুনে এসেছি। ভাগ্যিস এই ধরায় সান্টু-রিন্টু এসেছিল নইলে সর্বনাশ হয়ে যেত!
এ আরেক একলসেঁড়ে-অসামাজিক ভাবনা! হানিফ সংকেতের অভিধানে এই দেশে রিন্টু এবং সান্টু ব্যতীত গায়ক, গীতিকার নাই! সবাই বানের জলে ভেসে গেছে? বা হিমালয় পর্বতে চলে গেছে বাথরুম করার জন্য। আফসোস, বড়ই আফসোস- এই দেশ কবে পরিবারতন্ত্র-স্বজনপ্রীতি থেকে বেরিয়ে আসবে কে জানে! যাই হোক, আমরা হোটেল সালাদিয়া গানটা শুনি:
সূত্র: Download Free24 (https://www.youtube.com/watch?v=yzMzyWzIGCo)
বেশ-বেশ, কেটে গেলে মুগ্ধতার রেশ, এখন আমরা তাহলে ইগলসের অসাধারণ অসম্ভব বিখ্যাত ‘হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া’ গানটার কথা আলোচনায় নিয়ে আসি। যে-গানটি কোটি-কোটি শ্রোতাকে এমনই আলোড়িত করেছিল যে এই গান নিয়ে গুজবের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা এমন ডালই না মেলেছিল যে সেখানে রোদ ঢোকারও উপায় ছিল না। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। তারচেয়ে বরং গানটা শোনা যাক:
হায়, এরা তো ভাল করে চুরি করাও শেখেনি! বটে রে, এহেন চৌর্যবৃত্তির জন্য আবার সুরকার গায়কেরও প্রয়োজন দেখা দেয়? যে মানুষটা ক্ষণে ক্ষণে নীতিকথা কপচান সেই মানুষটাই যখন ‘দিন দাহাড়ে’, এর বাংলা হবে দিন-দুপুরে চোখ ধাঁধানো আলোয় আয়োজন করে বছরের-পর-বছর ধরে এমনতরো কর্মকান্ড চালিয়ে যান তখন বুকের গভীর থেকে বেদনা পাক খেয়ে উঠে, এই দেশে আমাদের দাঁড়াবার জায়গার বড়ো অভাব...!
*কেবল হানিফ সংকেতই না এমনতরো ‘চুরি-চামারি’ চলেই আসছে এমন না। যেমন আরেকজন জাকারিয়া স্বপন [১]।
হানিফ সংকেত, জাকারিয়া স্বপন এরা যে
বিষবৃক্ষ রোপণ করেন যথারীতি সেই গাছে ফল ধরে পেকে টসটস করে। এরাই তৈরি করছেন নষ্ট
এক প্রজন্ম। তখন আর চুরির বালাই থাকে না জন্ম নেয় একেকটা আস্ত ডাকাত। কচু গাছ কাটতে-কাটতে ডাকাত!
অন্যদের কাছে কালো-কালো,
দুবলাপাতলা-লিকলিকে হলেও আমার লেখা আমার কাছে সন্তানসম। আমার নিজের সন্তানদের পরিচয় দিতে
হবে এই চোর-ডাকাতদের কাছে [২]? মরণ!
সহায়ক সূত্র:
সহায়ক সূত্র:
১. ডিয়ার, তোমাকে কী ডাকাত বলতে পারি: https://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html
বিভাগ
চোর
Saturday, March 7, 2015
“ভূতের মুখে রাম নাম”!
ওই লেখাটায় [১] আমি লিখেছিলাম:
“...আমি দিব্যচক্ষুতে দেখতে পাচ্ছি, জনাব, জাকারিয়া স্বপন বিভিন্ন মঞ্চ আলো করে বসে আছেন। সেই আলোয় চকচক করছে তার পরনের পোশাক-আশাক। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাঁ করে আছে এই প্রজন্ম। এরা অতি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছে জাকারিয়া স্বপনের মধুবাক্য! তিনি জলদগম্ভীর কন্ঠে বলে যাচ্ছেন বিভিন্ন নীতিবাক্যের কথা। তিনি আউড়ে যাচ্ছেন ওয়েবসংক্রান্ত বিভিন্ন ইথিকস নিয়ে, কপিরাইট নিয়ে...।”
বাস্তবে এটা দেখতে খুব একটা সময় লাগেনি! মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে আবারও পরিস্থিতি উত্তাল! জাকারিয়া স্বপন মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন তার লেখা সুবিশাল লেখাটায়। সেটা তিনি করতেই পারেন। খুব খেটেখুটে যে লেখাটা তিনি লিখেছেন এবং লেখাটা সুখপাঠ্যও বটে। কেউ-কেউ তাকে উকিল বলছেন আমি সেপথ মাড়াচ্ছি না। মোস্তফা জব্বরের পক্ষে যুক্তিগুলো শুনলে মন্দ হয় না কিন্তু সুখের বদলে আমার অসুখ বোধ হচ্ছে।
কারণ লেখাটা যে জাকারিয়া স্বপন লিখেছেন! ‘রিদমিক’ কেমন করে মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের সঙ্গে মিলে যায়, প্যাটেন্ট-ট্যাটেন্ট, কপিরাইট এই সব নিয়ে। তার এই লেখাটা পড়ে আমি খ-বাষ্প, জমে গেছি কারণ তার মত একটা মানুষ কেমন করে বুক চিতিয়ে এমন একটা লেখা লিখে আমাদেরকে নসিহত দেন!
জাকারিয়া স্বপন নিজে কী করছেন। তিনি যে 'প্রিয় ডট কমের' কর্ণধার সেই প্রিয় ডট কমে প্রকাশ করছেন অন্যের লেখা হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ! কেবল অন্যের লেখা হুবহু ছাপিয়েই দিচ্ছেন না সূত্রটা পর্যন্ত উল্লেখ করছেন না। আমাদেরকে বোঝাবার চেষ্টা করছেন ওই লেখাগুলো তার নিজের। তিনি বা তার প্রতিনিধিরা বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বাঘ-কুমির থেকে গা বাঁচিয়ে সেই সব দুর্ধর্ষ লেখা-প্রতিবেদন আমাদেরকে্উপহার দিচ্ছেন।
কিন্তু আমরা সবিস্ময়ে লক্ষ করেছি কিছু ছবিতে এপির ছাপও মারা। আমরা জানি, এপির মত আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে টাকা খরচ করে কিনতে হয়, আনুষ্ঠানিক চুক্তি থাকতে হয়।
এ সত্য, এই দেশের অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়া একদা বিদেশী সংস্থার কনটেন্ট নিজেদের মত করে ছাপিয়ে দিত। সঙ্গে দয়া করে লিখে দিত, ‘ওযেব-সাইট অবলম্বনে’। এই নিয়ে বিস্তর হইচই হতো। পরে এদের অনেকেই সচেতন হয়েছে। এখন লেখার সোর্স উল্লেখ করেন। এও মন্দের ভাল যাক বাবা, অন্তত অন্যের ঋণ তো স্বীকার করানো গেল।
এও সত্য, অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপিয়ে দেয় এমন অনেকেই আছে সেইসব আউলা-ঝাউলা, এলেবেলে সাইটগুলো নিয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না কিন্তু প্রিয় ডট কম যখন কাজটা করে তখন নড়েচড়ে না-বসে উপায় থাকে না।
আর জাকারিয়া স্বপন যেটা করছেন সচরাচর সেটাকে চুরি বলারই নিয়ম। কিন্তু তিনি যে ভঙ্গিতে দিনের-পর-দিন, মাসের-পর -মাস ধরে অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছেন যেটাকে চুরি বলাটা অন্যায় হবে, স্রেফ ডাকাতি। কারণ দিনদুপুরে কেউ যখন অন্যের সম্পদ নিয়ে যায় তখন সেটাকে কোনও প্রকারেই চুরি বলাটা সমীচীন না।
জাকারিয়া স্বপনের ডাকাতি নিয়ে পূর্বে লিখেছিলাম [১, ২]। এমন অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেইসব উল্লেখ করাটায় আলস্য বোধ করছি এবং সেটা হবে শব্দের অপচয়! জাকারিয় স্বপন যে লেখাটা লিখেছেন [৩] সেটায় তিনি উল্লেখ করেছেন,
“...অভ্র/রিদ্মিকের উচিৎ ছিল নিজেদের মতো আগানো। এভাবে অনুমতি ছাড়া অন্যের কী-বোর্ড (যা নিয়ে এতো বিতর্ক হয়েছে) নিয়ে বিপ্লব ঘটানোর আগে আরো চিন্তা করার প্রয়োজন ছিল।...
... হয়তো বিজয় অন্য কোনও কি-বোর্ড থেকে কিছু সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু সরকার তো বিজয়কে নিজস্ব একটি লে-আউট হিসেবে কপিরাইট দিয়েছে। আমরা কেন সেটাকে মানতে চাইছি না?...”
যে মানুষটা নিজেই অন্যের কন্টেন্ট, লেখা-ছবি, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ডাকাতির ব্যবসা করছেন সেই মানুষটাই বলছেন কপিরাইটের কথা! কী শেখাচ্ছেন এই প্রজন্মকে? ভূতের মুখে...!
সূত্র:
১. priyo.com: ডিয়ার, তোমাকে কি ডাকাত বলতে পারি?: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html
২. ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম...: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_5.html
৩. আবারো বিজয় বিতর্ক, কিছু প্রশ্ন-উত্তর: http://www.priyo.com/blog/2015/03/06/137233.html
“...আমি দিব্যচক্ষুতে দেখতে পাচ্ছি, জনাব, জাকারিয়া স্বপন বিভিন্ন মঞ্চ আলো করে বসে আছেন। সেই আলোয় চকচক করছে তার পরনের পোশাক-আশাক। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাঁ করে আছে এই প্রজন্ম। এরা অতি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছে জাকারিয়া স্বপনের মধুবাক্য! তিনি জলদগম্ভীর কন্ঠে বলে যাচ্ছেন বিভিন্ন নীতিবাক্যের কথা। তিনি আউড়ে যাচ্ছেন ওয়েবসংক্রান্ত বিভিন্ন ইথিকস নিয়ে, কপিরাইট নিয়ে...।”
বাস্তবে এটা দেখতে খুব একটা সময় লাগেনি! মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে আবারও পরিস্থিতি উত্তাল! জাকারিয়া স্বপন মোস্তফা জব্বারকে নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেছেন তার লেখা সুবিশাল লেখাটায়। সেটা তিনি করতেই পারেন। খুব খেটেখুটে যে লেখাটা তিনি লিখেছেন এবং লেখাটা সুখপাঠ্যও বটে। কেউ-কেউ তাকে উকিল বলছেন আমি সেপথ মাড়াচ্ছি না। মোস্তফা জব্বরের পক্ষে যুক্তিগুলো শুনলে মন্দ হয় না কিন্তু সুখের বদলে আমার অসুখ বোধ হচ্ছে।
কারণ লেখাটা যে জাকারিয়া স্বপন লিখেছেন! ‘রিদমিক’ কেমন করে মোস্তফা জব্বারের বিজয়ের সঙ্গে মিলে যায়, প্যাটেন্ট-ট্যাটেন্ট, কপিরাইট এই সব নিয়ে। তার এই লেখাটা পড়ে আমি খ-বাষ্প, জমে গেছি কারণ তার মত একটা মানুষ কেমন করে বুক চিতিয়ে এমন একটা লেখা লিখে আমাদেরকে নসিহত দেন!
জাকারিয়া স্বপন নিজে কী করছেন। তিনি যে 'প্রিয় ডট কমের' কর্ণধার সেই প্রিয় ডট কমে প্রকাশ করছেন অন্যের লেখা হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ! কেবল অন্যের লেখা হুবহু ছাপিয়েই দিচ্ছেন না সূত্রটা পর্যন্ত উল্লেখ করছেন না। আমাদেরকে বোঝাবার চেষ্টা করছেন ওই লেখাগুলো তার নিজের। তিনি বা তার প্রতিনিধিরা বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর বাঘ-কুমির থেকে গা বাঁচিয়ে সেই সব দুর্ধর্ষ লেখা-প্রতিবেদন আমাদেরকে্উপহার দিচ্ছেন।
কিন্তু আমরা সবিস্ময়ে লক্ষ করেছি কিছু ছবিতে এপির ছাপও মারা। আমরা জানি, এপির মত আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে টাকা খরচ করে কিনতে হয়, আনুষ্ঠানিক চুক্তি থাকতে হয়।
এ সত্য, এই দেশের অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়া একদা বিদেশী সংস্থার কনটেন্ট নিজেদের মত করে ছাপিয়ে দিত। সঙ্গে দয়া করে লিখে দিত, ‘ওযেব-সাইট অবলম্বনে’। এই নিয়ে বিস্তর হইচই হতো। পরে এদের অনেকেই সচেতন হয়েছে। এখন লেখার সোর্স উল্লেখ করেন। এও মন্দের ভাল যাক বাবা, অন্তত অন্যের ঋণ তো স্বীকার করানো গেল।
এও সত্য, অন্যের লেখা নিজের নামে ছাপিয়ে দেয় এমন অনেকেই আছে সেইসব আউলা-ঝাউলা, এলেবেলে সাইটগুলো নিয়ে আমরা খুব একটা মাথা ঘামাই না কিন্তু প্রিয় ডট কম যখন কাজটা করে তখন নড়েচড়ে না-বসে উপায় থাকে না।
আর জাকারিয়া স্বপন যেটা করছেন সচরাচর সেটাকে চুরি বলারই নিয়ম। কিন্তু তিনি যে ভঙ্গিতে দিনের-পর-দিন, মাসের-পর -মাস ধরে অন্যের লেখা নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছেন যেটাকে চুরি বলাটা অন্যায় হবে, স্রেফ ডাকাতি। কারণ দিনদুপুরে কেউ যখন অন্যের সম্পদ নিয়ে যায় তখন সেটাকে কোনও প্রকারেই চুরি বলাটা সমীচীন না।
জাকারিয়া স্বপনের ডাকাতি নিয়ে পূর্বে লিখেছিলাম [১, ২]। এমন অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সেইসব উল্লেখ করাটায় আলস্য বোধ করছি এবং সেটা হবে শব্দের অপচয়! জাকারিয় স্বপন যে লেখাটা লিখেছেন [৩] সেটায় তিনি উল্লেখ করেছেন,
“...অভ্র/রিদ্মিকের উচিৎ ছিল নিজেদের মতো আগানো। এভাবে অনুমতি ছাড়া অন্যের কী-বোর্ড (যা নিয়ে এতো বিতর্ক হয়েছে) নিয়ে বিপ্লব ঘটানোর আগে আরো চিন্তা করার প্রয়োজন ছিল।...
... হয়তো বিজয় অন্য কোনও কি-বোর্ড থেকে কিছু সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু সরকার তো বিজয়কে নিজস্ব একটি লে-আউট হিসেবে কপিরাইট দিয়েছে। আমরা কেন সেটাকে মানতে চাইছি না?...”
যে মানুষটা নিজেই অন্যের কন্টেন্ট, লেখা-ছবি, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ডাকাতির ব্যবসা করছেন সেই মানুষটাই বলছেন কপিরাইটের কথা! কী শেখাচ্ছেন এই প্রজন্মকে? ভূতের মুখে...!
সূত্র:
১. priyo.com: ডিয়ার, তোমাকে কি ডাকাত বলতে পারি?: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/priyocom.html
২. ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম...: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_5.html
৩. আবারো বিজয় বিতর্ক, কিছু প্রশ্ন-উত্তর: http://www.priyo.com/blog/2015/03/06/137233.html
বিভাগ
চোর
Monday, February 16, 2015
priyo.com: ডিয়ার, তোমাকে কি ডাকাত বলতে পারি?
আমি দিব্যচক্ষুতে দেখতে পাচ্ছি, জনাব, জাকারিয়া স্বপন বিভিন্ন মঞ্চ আলো করে বসে আছেন। সেই আলোয় চকচক করছে তার পরনের পোশাক-আশাক। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাঁ করে আছে এই প্রজন্ম। এরা অতি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করছে জাকারিয়া স্বপনের মধুবাক্য! তিনি জলদগম্ভীর কন্ঠে বলে যাচ্ছেন বিভিন্ন নীতিবাক্যের কথা। তিনি আউড়ে যাচ্ছেন ওয়েবসংক্রান্ত বিভিন্ন ইথিকস নিয়ে।
এই প্রজন্ম, সমীহের সঙ্গে তাকে আঙ্গুল দেখিয়ে নীচুস্বরে একজন অন্যজনকে বলছে, মামু জিনিস একটা, এক্কেবারে বস পাবলিক।
অল্প ক-দিন পূর্বেই আমি একটা লেখা লিখেছিলাম, ‘ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম- ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ’?’ [১] যেহেতু প্রিয় ডট কমের কর্ণধার জাকারিয়া স্বপন তাই আমার ক্ষীণ একটা আশা ছিল নাহ, এই মানুষটা এমনটা করতে পারেন না। অথচ এমন কর্মকান্ড করায় পূর্বে এই আমিই অনেককেই চোর বললেও এখানে এটা বলতে মন সায় দেয়নি। ওই যে বললাম সাইটটির কর্ণধার...।
কিন্তু আজ দেখছি আবারও! “প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ!” ডয়চে ভেলের অসাধারণ এই প্রতিবেদনটি [২] হুবহু ছাপিয়েছে প্রিয় ডট কম, দাঁড়িকমাসহ [৩]! এবং ভঙ্গিটা চোরের না স্রেফ ডাকাতের!
ডয়চে ভেলে এই প্রতিবেদনটি ছাপিয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ আর প্রিয় ডট কম ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। প্রতিবেদনের সঙ্গের ছবিগুলো জাকারিয়া স্বপন হয়তো চিনেবাদামের বিনিময়ে রয়টার থেকে কিনেছেন। হায়রে অর্বাচীন! রয়টারের ছবিগুলো ক্রপ করার কুবুদ্ধি জাকারিয়া স্বপনের মাথায় আসেনি।
যাই হোক, গত লেখায় এই সব নিয়ে বিশদ লিখেছি এখানে আর চর্বিতচর্বণ করি না। কেবল, একেক করে জাকারিয়া স্বপনের গায়ের চকচকে কাপড়গুলো খসেপড়া দেখি...।
সহায়ক সূত্র:
১. ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম- ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ’? : http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_5.html
২. প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (ডয়চে ভেলে): http://tinyurl.com/kgnbxqm
৩. প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (priyo.com): http://www.priyo.com/2015/02/13/133229.html
এই প্রজন্ম, সমীহের সঙ্গে তাকে আঙ্গুল দেখিয়ে নীচুস্বরে একজন অন্যজনকে বলছে, মামু জিনিস একটা, এক্কেবারে বস পাবলিক।
অল্প ক-দিন পূর্বেই আমি একটা লেখা লিখেছিলাম, ‘ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম- ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ’?’ [১] যেহেতু প্রিয় ডট কমের কর্ণধার জাকারিয়া স্বপন তাই আমার ক্ষীণ একটা আশা ছিল নাহ, এই মানুষটা এমনটা করতে পারেন না। অথচ এমন কর্মকান্ড করায় পূর্বে এই আমিই অনেককেই চোর বললেও এখানে এটা বলতে মন সায় দেয়নি। ওই যে বললাম সাইটটির কর্ণধার...।
কিন্তু আজ দেখছি আবারও! “প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ!” ডয়চে ভেলের অসাধারণ এই প্রতিবেদনটি [২] হুবহু ছাপিয়েছে প্রিয় ডট কম, দাঁড়িকমাসহ [৩]! এবং ভঙ্গিটা চোরের না স্রেফ ডাকাতের!
ডয়চে ভেলে এই প্রতিবেদনটি ছাপিয়েছে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ আর প্রিয় ডট কম ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। প্রতিবেদনের সঙ্গের ছবিগুলো জাকারিয়া স্বপন হয়তো চিনেবাদামের বিনিময়ে রয়টার থেকে কিনেছেন। হায়রে অর্বাচীন! রয়টারের ছবিগুলো ক্রপ করার কুবুদ্ধি জাকারিয়া স্বপনের মাথায় আসেনি।
যাই হোক, গত লেখায় এই সব নিয়ে বিশদ লিখেছি এখানে আর চর্বিতচর্বণ করি না। কেবল, একেক করে জাকারিয়া স্বপনের গায়ের চকচকে কাপড়গুলো খসেপড়া দেখি...।
সহায়ক সূত্র:
১. ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম- ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ’? : http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_5.html
২. প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (ডয়চে ভেলে): http://tinyurl.com/kgnbxqm
৩. প্রতিবাদ সত্ত্বেও চলছে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদ (priyo.com): http://www.priyo.com/2015/02/13/133229.html
বিভাগ
চোর
Thursday, February 5, 2015
ডয়চে ভেলে বনাম প্রিয় ডট কম- ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ’?
কখনও-কখনও আমরা যমজ মানুষ দেখে চমকে উঠি- আহা, প্রকৃতির এ কেমন খেলা! তেমনি কখনও-কখনও আমরা যমজ লেখা দেখেও চমকে উঠি- আহা, মানুষের এ কোন খেলা!
যেমনটা ডয়চে ভেলে [১] এবং প্রিয় ডট কমের [২] একটা লেখা দেখছি, “খালেদার ফোনালাপ: শিরোনামে ‘নাশকতা’ থাকলেও অডিওতে নেই।“ হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ। একটা বিন্দুরও কমতি নেই। মনে হচ্ছে ফটোকপিয়ার মেশিন আর কী! এটা অবশ্য অভূতপূর্ব না। এলেবেলে সাইটে কখনও-সখনও যে চোখে পড়ে না এমনটা না। কিন্তু এখানকার বিষয়টা ভিন্ন। কারণ ডয়চে ভেলে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া। এদিকে হালে প্রিয় ডট কমও জাতে উঠে গেছে।
সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির ‘ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল‘ নামের দুঁদে এক প্রতিষ্ঠান প্রিয় ডট কমে বিনিয়োগ করেছে। সোজা বাংলায় এরা ঝুলাঝুলি খেলা খেলছে। শুনতে পাই ফেনক্সের সঙ্গে প্রিয় ডট কমের চোখ ছানাবড়া হওয়ার মত নাকি ‘ট্যাকাটুকা’ দরদস্তুর হয়েছে। বেশ তো-ভাল তো, দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে এরা।
প্রিয় ডট কম থেকে আমরা আরও জানতে পারছি: [৩]
“... অনুষ্ঠানে শুধু এই বিনিয়োগের ঘোষণাই দেওয়া হয়নি, সেই সাথে ‘প্রিয়.কম’-এর একটি নতুন সেবার উদ্বোধনও করা হয়। এই সেবাকে নাম দেওয়া হয়েছে প্রিয় আনসার। এই সেবায় যেকোনো মানুষের যেকোনো ধরণের প্রশ্নের উত্তর করা হবে।
... এ বিষয়ে প্রিয় ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জাকারিয়া স্বপন বলেন, ‘আমরা শুধু মানুষকে সংবাদই জানাতে চাই না। মানুষের জীবনের প্রতিটা অংশ নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই। আর এরই অংশ হিসেবে আমাদের এই নতুন সেবা’।”
এদের সেবার নমুনা এমন, ‘ফেনক্স’ প্রিয় ডট কমের মাথায় ‘ছেনেহের’ হাত রাখার কারণে কিনা কে জানে প্রিয় ডট কম এখন আমাদেরকে জ্ঞান দিচ্ছে, ‘ডগি স্টাইল সেক্স কীভাবে করে?’ (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)
এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, যৌনতা নিয়ে জানার প্রয়োজন বোধ করলে আমি এই সংক্রান্ত বইপত্র বা এই সংক্রান্ত ওয়েব ঘাঁটাঘাঁটি করব, প্রিয় ডট কম না। যেমনটা যৌনতা সম্বন্ধে জানতে চাইলে ইমদাদুল হক মিলন বা তসলিমার লেখা পড়ে জানতে চাইব না। দ্যাটস ইট।
ওয়েল, যমজ মানুষ ওরফে যমজ লেখা প্রসঙ্গে ফিরে যাই। এখানে কেউ একজন ‘উদাসীন সাধু’ অন্যজন কপট চোর। কে সে? ডয়চে ভেলে প্রিয় ডট কম থেকে লেখা হুবহু ছাপিয়ে দিয়েছে এমনটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া চলে না। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের একটা বাক্য এমন, “বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, চার বছর আগে ঢাকায় বিএনপির একটি সমাবেশের...”।
এইখানে এসে ধোঁয়াশা অনেকখানি কেটে যায় যে মূল প্রতিবেদনটা ডয়চে ভেলের। কারণ প্রিয় ডট কম কোন দুঃখে ডয়চে ভেলে এবং ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনারের নাম অন্তত এই লেখায় আনবে।
ঘটনাটা মাছি মারা কেরানির বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। প্রিয় ডট কমের দুর্ধর্ষ লোকজনেরা কপি-পেস্ট করতে গিয়ে এটাও ছাপিয়ে দিয়েছে। আমি এটাও বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, যে প্রিয় ডট কম এই প্রতিবেদনের কোথাও এই লেখাটা যে ডয়চে ভেলের এর উল্লেখ করেনি।
যাই হোক, প্রিয় ডট কমকে ডয়চে ভেলে লেখাটা হুবহু প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছে কিনা এটা আমার জানা নাই বিধায় আমি নিশ্চিত মন্তব্য করা থেকে বিরত রইলাম। কিন্তু একজন পাঠক হিসাবে আমার কিছু বক্তব্য আছে। কে অনুমতি দিল, কি দিল না এতে আমার বয়েই গেছে। একজন পাঠক হিসাবে আমি কোনও প্রকারেই চাইব না হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ কোনও লেখা আলাদা আলাদা মিডিয়ায় পড়তে।
এটা সত্য মিডিয়ারা তাদের প্রয়োজনে ‘টংকা’ খরচ করে অনুমতি সাপেক্ষে নিজেদের মধ্যে ‘কনটেন্ট’ চালাচালি করে। তারপর নিজেদের মত করে লেখাটা সাজায় কিন্তু দাঁড়ি-কমাসহ ছাপিয়ে দেয় এমনটা অন্ততত আমার জানা নেই। তারপরও কথা থেকে যায়, উদ্বৃতির প্রয়োজনে অনুমতি না-নিয়ে হুবহু খানিক অংশ ছাপানো যাবে না এমনটা না। কিন্তু যেখান থেকে লেখাটা নেওয়া হয়েছে তা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং হাইপার-লিংক দিতে হবে।
যেমনটা আমি করেছি কেবল যথাযথ কারণে ডগি-স্টাইলের লিংকটা আমি এড়িয়ে গেছি।
এই ভুবনে কার সঙ্গে কার কেমন যোগসূত্র বা পূর্বে যেটা বলেছি অনুমতির বিষয়টা যেহেতু আমার জানা নেই তাই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, ডয়চে ভেলে এবং প্রিয় ডট কমের মধ্যে কোনও একটি প্রতিষ্ঠান অনৈতিক কাজটা করেছে। অনৈতিক কাজটা যে করেছে তাকে সোজা বাংলায় আমরা বলি, চোর, লেখা চোর। ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ, না ফাতেহা না দরুদ’?
এখানে এসে পর্যবেক্ষণে আরেকটা পালক যোগ করি। ডয়চে ভেলে লেখাটা ছাপিয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ আর প্রিয় ডট কম ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। অন্তত এখানে এসে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে ডয়চে ভেলের লেখাই প্রিয় ডট কম ছাপিয়েছে।
এটা আমার একটা পর্যবেক্ষণ মাত্র বাকীটা আমি বুদ্ধিমান পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।
সহায়ক সূত্র:
১. ডয়চে ভেলে, খালেদার ফোনালাপ...: http://tinyurl.com/pgrpjhl
২. প্রিয় ডট কম, খালেদার ফোনালাপ...: http://www.priyo.com/2015/02/03/131530.html
৩. প্রিয়.কমে বিনিয়োগ করছে সিলিকন ভ্যালির...: http://www.priyo.com/2014/11/24/1203102.html
যেমনটা ডয়চে ভেলে [১] এবং প্রিয় ডট কমের [২] একটা লেখা দেখছি, “খালেদার ফোনালাপ: শিরোনামে ‘নাশকতা’ থাকলেও অডিওতে নেই।“ হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ। একটা বিন্দুরও কমতি নেই। মনে হচ্ছে ফটোকপিয়ার মেশিন আর কী! এটা অবশ্য অভূতপূর্ব না। এলেবেলে সাইটে কখনও-সখনও যে চোখে পড়ে না এমনটা না। কিন্তু এখানকার বিষয়টা ভিন্ন। কারণ ডয়চে ভেলে একটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া। এদিকে হালে প্রিয় ডট কমও জাতে উঠে গেছে।
সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির ‘ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল‘ নামের দুঁদে এক প্রতিষ্ঠান প্রিয় ডট কমে বিনিয়োগ করেছে। সোজা বাংলায় এরা ঝুলাঝুলি খেলা খেলছে। শুনতে পাই ফেনক্সের সঙ্গে প্রিয় ডট কমের চোখ ছানাবড়া হওয়ার মত নাকি ‘ট্যাকাটুকা’ দরদস্তুর হয়েছে। বেশ তো-ভাল তো, দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে এরা।
প্রিয় ডট কম থেকে আমরা আরও জানতে পারছি: [৩]
“... অনুষ্ঠানে শুধু এই বিনিয়োগের ঘোষণাই দেওয়া হয়নি, সেই সাথে ‘প্রিয়.কম’-এর একটি নতুন সেবার উদ্বোধনও করা হয়। এই সেবাকে নাম দেওয়া হয়েছে প্রিয় আনসার। এই সেবায় যেকোনো মানুষের যেকোনো ধরণের প্রশ্নের উত্তর করা হবে।
... এ বিষয়ে প্রিয় ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জাকারিয়া স্বপন বলেন, ‘আমরা শুধু মানুষকে সংবাদই জানাতে চাই না। মানুষের জীবনের প্রতিটা অংশ নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই। আর এরই অংশ হিসেবে আমাদের এই নতুন সেবা’।”
এদের সেবার নমুনা এমন, ‘ফেনক্স’ প্রিয় ডট কমের মাথায় ‘ছেনেহের’ হাত রাখার কারণে কিনা কে জানে প্রিয় ডট কম এখন আমাদেরকে জ্ঞান দিচ্ছে, ‘ডগি স্টাইল সেক্স কীভাবে করে?’ (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)
এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, যৌনতা নিয়ে জানার প্রয়োজন বোধ করলে আমি এই সংক্রান্ত বইপত্র বা এই সংক্রান্ত ওয়েব ঘাঁটাঘাঁটি করব, প্রিয় ডট কম না। যেমনটা যৌনতা সম্বন্ধে জানতে চাইলে ইমদাদুল হক মিলন বা তসলিমার লেখা পড়ে জানতে চাইব না। দ্যাটস ইট।
ওয়েল, যমজ মানুষ ওরফে যমজ লেখা প্রসঙ্গে ফিরে যাই। এখানে কেউ একজন ‘উদাসীন সাধু’ অন্যজন কপট চোর। কে সে? ডয়চে ভেলে প্রিয় ডট কম থেকে লেখা হুবহু ছাপিয়ে দিয়েছে এমনটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া চলে না। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের একটা বাক্য এমন, “বাংলাদেশে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, চার বছর আগে ঢাকায় বিএনপির একটি সমাবেশের...”।
এইখানে এসে ধোঁয়াশা অনেকখানি কেটে যায় যে মূল প্রতিবেদনটা ডয়চে ভেলের। কারণ প্রিয় ডট কম কোন দুঃখে ডয়চে ভেলে এবং ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনারের নাম অন্তত এই লেখায় আনবে।
ঘটনাটা মাছি মারা কেরানির বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। প্রিয় ডট কমের দুর্ধর্ষ লোকজনেরা কপি-পেস্ট করতে গিয়ে এটাও ছাপিয়ে দিয়েছে। আমি এটাও বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, যে প্রিয় ডট কম এই প্রতিবেদনের কোথাও এই লেখাটা যে ডয়চে ভেলের এর উল্লেখ করেনি।
যাই হোক, প্রিয় ডট কমকে ডয়চে ভেলে লেখাটা হুবহু প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছে কিনা এটা আমার জানা নাই বিধায় আমি নিশ্চিত মন্তব্য করা থেকে বিরত রইলাম। কিন্তু একজন পাঠক হিসাবে আমার কিছু বক্তব্য আছে। কে অনুমতি দিল, কি দিল না এতে আমার বয়েই গেছে। একজন পাঠক হিসাবে আমি কোনও প্রকারেই চাইব না হুবহু, দাঁড়ি-কমাসহ কোনও লেখা আলাদা আলাদা মিডিয়ায় পড়তে।
এটা সত্য মিডিয়ারা তাদের প্রয়োজনে ‘টংকা’ খরচ করে অনুমতি সাপেক্ষে নিজেদের মধ্যে ‘কনটেন্ট’ চালাচালি করে। তারপর নিজেদের মত করে লেখাটা সাজায় কিন্তু দাঁড়ি-কমাসহ ছাপিয়ে দেয় এমনটা অন্ততত আমার জানা নেই। তারপরও কথা থেকে যায়, উদ্বৃতির প্রয়োজনে অনুমতি না-নিয়ে হুবহু খানিক অংশ ছাপানো যাবে না এমনটা না। কিন্তু যেখান থেকে লেখাটা নেওয়া হয়েছে তা সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং হাইপার-লিংক দিতে হবে।
যেমনটা আমি করেছি কেবল যথাযথ কারণে ডগি-স্টাইলের লিংকটা আমি এড়িয়ে গেছি।
এই ভুবনে কার সঙ্গে কার কেমন যোগসূত্র বা পূর্বে যেটা বলেছি অনুমতির বিষয়টা যেহেতু আমার জানা নেই তাই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না কিন্তু আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, ডয়চে ভেলে এবং প্রিয় ডট কমের মধ্যে কোনও একটি প্রতিষ্ঠান অনৈতিক কাজটা করেছে। অনৈতিক কাজটা যে করেছে তাকে সোজা বাংলায় আমরা বলি, চোর, লেখা চোর। ‘কৌন হে উয়ো মারদুদ, না ফাতেহা না দরুদ’?
এখানে এসে পর্যবেক্ষণে আরেকটা পালক যোগ করি। ডয়চে ভেলে লেখাটা ছাপিয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ আর প্রিয় ডট কম ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। অন্তত এখানে এসে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে ডয়চে ভেলের লেখাই প্রিয় ডট কম ছাপিয়েছে।
এটা আমার একটা পর্যবেক্ষণ মাত্র বাকীটা আমি বুদ্ধিমান পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।
সহায়ক সূত্র:
১. ডয়চে ভেলে, খালেদার ফোনালাপ...: http://tinyurl.com/pgrpjhl
২. প্রিয় ডট কম, খালেদার ফোনালাপ...: http://www.priyo.com/2015/02/03/131530.html
৩. প্রিয়.কমে বিনিয়োগ করছে সিলিকন ভ্যালির...: http://www.priyo.com/2014/11/24/1203102.html
বিভাগ
চোর
Thursday, June 19, 2014
গরু চোরেরও অধম!
চোর-চোট্টারও কিছু
তরীকা আছে। যেমন চোর নাকি
নিজের বাড়ির আশেপাশে চুরি করে না। আবার চুরি করতে না-পারলে ওই
বাড়িতে বাথরুম সেরে আসে। তবে চোরদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে গরু চোর। একেবারেই ইজ্জত
নাই! জেলখানার কয়েদিরা গরুচোরকে দু-চোখে দেখতে পারে না। ওখানে নাকি গরুচোরের কাজ
হচ্ছে এর-ওর পা টেপা, শরীর বানিয়ে দেওয়া।
ইমরান হোসেন মামুন নামের চোস্ত কাপড়পরা এই
মানুষটাকে দেখে আমার বিগলিত হওয়ার কথা কিন্তু বেদনার সঙ্গে বলি, একে আমার গরু চোরেরও
অধম মনে হচ্ছে। এই মানুষটা আবার ফ্রান্সে থাকেন। এই মানুষটার আগ্রহসমূহ হচ্ছে, ‘সৎ পথে থাকা’।
বেজায় পাজি এই লোকটা যে সৎ এটা অন্তত আমি স্বীকার যাই না। কারণ...। ১৯৭১ সালের ছবি নিয়ে
‘71photogun’ নামে একটা ওয়েবসাইট আছে আমার ( http://71photogun.blogspot.com )। এই লোকটা (গরু চোরেরও অধম) আমার ওই
ওয়েব সাইট থেকে হুবহু কপি-পেস্ট করে নিজের সাইটে চালিয়ে দিয়েছেন ( http://mihmsm.blogspot.com/2011/01/blog-post_4431.html)।
নীচে আবার ঘটা করে লিখেছেন, ‘লেখাটি পোস্ট করেছেন ইমরান হোসেন মামুন’।
বটে রে! মুক্তিযুদ্ধের ছবি
কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। কিন্তু এই মানুষটা আমার সাইট
থেকে দাঁড়ি, কমা, মন্তব্য সবই অবিকল ছাপিয়ে দিয়েছেন। আবার বুদ্ধি করে আমি যাদের ঋণ
স্বীকার করেছি তাদের নামও ছাঁটাই করে দিয়েছেন।রাগে আমার গা জ্বলে
যাচ্ছে।
একেকটা ছবি খুঁজতে দিনের-পর-দিন গেছে, রাতের-পর-রাত জেগে কাজগুলো করেছি আর
এই ব্যাটা পাজি, নচ্ছার,
গরুচোরেরও অধম এক নিমিষেই সব
নিজের বলে চালিয়ে দিলেন। ইচ্ছা করছে একে আট-দশটা গান্ধিপোকা বেটে খাইয়ে দেই! তাহলে খানিকটা আরাম পাওয়া যেত...!
বিভাগ
চোর
Subscribe to:
Posts (Atom)
